সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

মুসলিম অধিকার সংগঠন সিএআইআরকে ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা, ফ্লোরিডায় কার্যক্রম স্থগিত

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: নভেম্বর ৭, ২০২৬ ১:৩২
নতুন আইনের জেরে ফ্লোরিডায় কার্যক্রম স্থগিত করেছে সিএআইআর। ছবি: সংগৃহীত
নতুন আইনের জেরে ফ্লোরিডায় কার্যক্রম স্থগিত করেছে সিএআইআর। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় কার্যক্রম স্থগিত করেছে দেশটির অন্যতম বৃহৎ মুসলিম নাগরিক অধিকার সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর)। অঙ্গরাজ্যটির নতুন আইনের আওতায় সংগঠনটিকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে চিহ্নিত করার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিসের প্রশাসনের পদক্ষেপকে ভিত্তিহীন ও অসাংবিধানিক বলে দাবি করেছে সিএআইআর। আদালতে প্রাথমিক আবেদন নাকচ হওয়ার পর সংগঠনটি রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছে।

 

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, চলতি বছরের এপ্রিলে ফ্লোরিডার রিপাবলিকান গভর্নর রন ডিস্যান্টিস একটি নতুন আইনে স্বাক্ষর করেন। ওই আইনে গভর্নর, অঙ্গরাজ্যের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাবিষয়ক প্রধান এবং মন্ত্রিসভাকে নির্দিষ্ট সংগঠনকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে চিহ্নিত করার ক্ষমতা দেওয়া হয়। পাশাপাশি এমন সংগঠনের পক্ষে প্রচার চালানোর অভিযোগে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বহিষ্কারের বিধান রাখা হয়েছে।

 

নতুন আইনের আওতায় ফ্লোরিডার কর্মকর্তারা সিএআইআরকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে চিহ্নিত করেন। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয় সংগঠনটি। তবে একজন ফেডারেল বিচারক অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের জন্য সিএআইআরের আবেদন নাকচ করেছেন।

 

আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, ফ্লোরিডার এই আইন নতুন ধরনের এবং সম্ভবত নজিরবিহীন। তবে সিএআইআর আদালতে দেখাতে পারেনি যে সংগঠনটিকে সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করার পদক্ষেপটি ফৌজদারি শাস্তির সমতুল্য। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছে সংগঠনটি।

 

সিএআইআর-ফ্লোরিডার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গভর্নর ডিস্যান্টিস ও অঙ্গরাজ্যের অন্য কর্মকর্তারা নজিরবিহীন নতুন আইন ব্যবহার করে সংগঠনটির বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন ও অসাংবিধানিক পদক্ষেপ নিয়েছেন। এ কারণেই ফ্লোরিডায় তাদের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।

 

সিএআইআর যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের নাগরিক অধিকার রক্ষা, ধর্মীয় বৈষম্য মোকাবিলা এবং মুসলিমবিদ্বেষী ঘটনার তথ্য সংগ্রহের কাজ করে থাকে। সংগঠনটির দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসনবিরোধী কঠোর পদক্ষেপ এবং ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনের বিরুদ্ধে সরকারি অবস্থানের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামবিদ্বেষ বেড়েছে।

 

অন্যদিকে আদালতের সিদ্ধান্ত এবং সিএআইআরের কার্যক্রম স্থগিতের ঘটনাকে স্বাগত জানিয়েছেন গভর্নর রন ডিস্যান্টিস ও ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমায়ার। আদালতের রায়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ডিস্যান্টিস সংক্ষেপে লেখেন, ‘ভালো জয়।’

 

ফ্লোরিডার নতুন আইন অনুযায়ী, কোনো সংগঠনকে সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করা হলে সেটি জোরপূর্বক বিলুপ্ত করা এবং অঙ্গরাজ্য সরকারের অর্থায়ন বন্ধ করার মতো ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি দেশীয় বা বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনের পক্ষে প্রচার চালানোর অভিযোগে শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারের বিধান রয়েছে।

 

তবে আইনটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার সংগঠন আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ) এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা পেন আমেরিকা।

 

পেন আমেরিকার মতে, এই আইন মানুষের মতপ্রকাশ, সংগঠিত হওয়া এবং নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বা সামাজিক মতামতের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার স্বাধীনতার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। সংগঠনটির আশঙ্কা, আইনি ঝুঁকি এড়াতে অনেকে বৈধ মতামত প্রকাশ থেকেও বিরত থাকতে পারেন।

 

অন্যদিকে গভর্নর ডিস্যান্টিস আইনটিকে উগ্রবাদ মোকাবিলার একটি কাঠামো হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর দাবি, শিক্ষাব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত করাও এই আইনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

 

রয়টার্স জানিয়েছে, এর আগে গত বছরের শেষ দিকে ডিস্যান্টিস একটি নির্বাহী আদেশে সিএআইআরকে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। পরে একজন বিচারক সেই আদেশ কার্যকরে বাধা দেন। এবার নতুন অঙ্গরাজ্য আইনের আওতায় সংগঠনটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

 

ফ্লোরিডায় সিএআইআরের কার্যক্রম স্থগিতের ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম অধিকার, ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক চলছে। নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, উগ্রবাদ মোকাবিলার নামে বৈধ রাজনৈতিক মতপ্রকাশও বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

 

সিএআইআর জানিয়েছে, তারা আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবে। ফলে সংগঠনটির ভবিষ্যৎ কার্যক্রম এবং ফ্লোরিডার নতুন আইনের প্রয়োগ নিয়ে আইনি লড়াই অব্যাহত থাকবে।

 

সূত্র: রয়টার্স


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
জৈবিক বাবার সঙ্গে নিষিদ্ধ সম্পর্কে জড়িয়ে দোষ স্বীকার, মাত্র এক বছরের সাজায় ক্ষুব্ধ পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

আমেরিকা

View more
আর্থিক সহায়তা পেতে যোগ্যতা যাচাই জরুরি
নতুন বছরে স্বাস্থ্যবিমার নিয়ম বদল, আর্থিক সহায়তা পেতে যোগ্যতা যাচাই জরুরি

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৭ সালের স্বাস্থ্যবিমার নিবন্ধন শুরু হয়েছে। আগামী বছরের চিকিৎসা সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আগ্রহীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন পরিকল্পনা বেছে নিতে অথবা বর্তমান বিমা নবায়ন করতে হবে। তবে এবার স্বাস্থ্যবিমার খরচ বৃদ্ধি এবং সরকারি আর্থিক সহায়তা পাওয়ার যোগ্যতায় পরিবর্তনের কারণে অনেক পরিবারের পরিকল্পনায় নতুন হিসাব যুক্ত হচ্ছে।   স্বাস্থ্যবিমার নিবন্ধন ২০২৬ সালের ১ নভেম্বর শুরু হয়েছে। অধিকাংশ অঙ্গরাজ্যে ২০২৭ সালের ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। তবে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে বিমার সুবিধা পেতে চাইলে ১৫ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে আবেদন বা পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে হবে। ১৬ ডিসেম্বর থেকে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে আবেদন করলে সাধারণত বিমার সুবিধা শুরু হবে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে।   স্বাস্থ্যবিমার খরচ নিয়েও নতুন হিসাব সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যনীতি নিয়ে গবেষণা করা সংস্থা কাইজার ফ্যামিলি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালে মূল বিবেচ্য রূপার স্তরের স্বাস্থ্যবিমার গড় মূল্য প্রায় ১৩ শতাংশ বাড়তে পারে। তবে এই হার সবার ক্ষেত্রে এক হবে না। অঙ্গরাজ্য, বয়স, আয়, পরিবারের সদস্যসংখ্যা, বিমার ধরন এবং সরকারি আর্থিক সহায়তার ওপর প্রকৃত খরচ নির্ভর করবে।   এবার অভিবাসীদের জন্য সরকারি আর্থিক সহায়তার নিয়মেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসছে। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নির্দিষ্ট কিছু অভিবাসী শ্রেণি ছাড়া অন্য অনেক বৈধ অভিবাসী স্বাস্থ্যবিমা কিনতে পারলেও সরকারি ভর্তুকি পাওয়ার যোগ্যতা হারাতে পারেন। নতুন নিয়মে গ্রিন কার্ডধারী, নির্দিষ্ট কিউবান ও হাইতিয়ান অভিবাসী এবং নির্দিষ্ট প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের নাগরিকেরা সহায়তার আওতায় থাকবেন। তবে শরণার্থী, আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তি এবং কাজের অনুমতিপ্রাপ্ত কিছু অভিবাসীর ক্ষেত্রে আগের মতো আর্থিক সহায়তা নাও পাওয়া যেতে পারে। তাই নিজের অভিবাসন অবস্থার ভিত্তিতে যোগ্যতা যাচাই করা জরুরি।   স্বাস্থ্যবিমা বাছাইয়ের সময় শুধু মাসিক খরচ দেখলেই হবে না। চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার খরচ, হাসপাতালে ভর্তি হলে নিজের পকেট থেকে কত টাকা দিতে হবে, প্রয়োজনীয় ওষুধ বিমার আওতায় আছে কি না এবং পছন্দের চিকিৎসক বা হাসপাতাল পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত কি না—এসব বিষয়ও যাচাই করতে হবে।   আয়, পরিবারের সদস্যসংখ্যা, ঠিকানা কিংবা অভিবাসন অবস্থার পরিবর্তন হলে আবেদনের তথ্য হালনাগাদ করা প্রয়োজন। ভুল তথ্যের কারণে সরকারি আর্থিক সহায়তার হিসাব পরিবর্তিত হতে পারে এবং পরে কর দেওয়ার সময় অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।   অন্যদিকে, যোগ্য ব্যক্তিরা বছরের যেকোনো সময় সরকারি চিকিৎসা সহায়তা কর্মসূচি এবং শিশুদের স্বাস্থ্যবিমার জন্য আবেদন করতে পারেন। বিয়ে, সন্তান জন্ম, চাকরি হারানো বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট জীবনঘটনার কারণে অনেক ক্ষেত্রে বিশেষ নিবন্ধনের সুযোগও পাওয়া যায়।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য তাই ২০২৭ সালের স্বাস্থ্যবিমার নিয়ম, আবেদনের শেষ সময় এবং আর্থিক সহায়তার যোগ্যতা আগেভাগে যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক পরিকল্পনা বেছে নিলে চিকিৎসার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং পরিবারের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা সহজ হতে পারে।

প্রকাশ: নভেম্বর ৮, ২০২৬ ১৪:৪২
যুক্তরাষ্ট্রে সংসার চালাতে দিশেহারা বহু পরিবার

বেতন আসার আগেই শেষ টাকা, যুক্তরাষ্ট্রে সংসার চালাতে দিশেহারা বহু পরিবার

চিকিৎসার অভাবে নিজেই মৃত্যুঝুঁকিতে

মালিককে বাঁচাতে দুই গুলি খেয়েছিল কুকুর, দুই বছর পর চিকিৎসার অভাবে নিজেই মৃত্যুঝুঁকিতে

ট্রাম্পের শুল্কনীতি বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা

ট্রাম্পের শুল্কনীতি বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা ডেমোক্র্যাট নেতা রিচার্ড নিলের

ভেসে থাকা ক্রুজকর্মীকে উদ্ধার করলেন দুই জেলে
ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে ৯ ঘণ্টা সাগরে ভেসে থাকা ক্রুজকর্মীকে উদ্ধার করলেন দুই জেলে

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরের প্রায় ২০ মাইল গভীরে পানিতে ভেসে থাকা এক ক্রুজ জাহাজের কর্মীকে উদ্ধার করেছেন দুই জেলে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) নিউপোর্ট বিচের কাছে এ ঘটনা ঘটে। শন নর্টন ও গ্র্যান্ট গ্যারেট নামের দুই জেলে মাছ ধরে ফেরার পথে ওই ব্যক্তিকে পানিতে দেখতে পান। পরে তাঁকে নিজেদের নৌকায় তুলে উদ্ধার করেন তাঁরা। প্রায় ৯ ঘণ্টা ধরে ওই ব্যক্তি পানিতে ছিলেন বলে ধারণা করছেন উদ্ধারকর্মীরা। তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং বেঁচে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড।   দুই জেলে ক্যাটালিনা দ্বীপের কাছে মারলিন মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। দুপুরের দিকে নিউপোর্ট বিচে ফেরার সময় তাঁদের নৌকার ক্যাপ্টেন দূরে পানিতে একজন মানুষকে ভাসতে দেখেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে তাঁরা মাছ ধরার সরঞ্জাম গুটিয়ে নৌকা থামান। এরপর নর্টন ও গ্যারেট দুজন মিলে ওই ব্যক্তির দুই হাত ধরে তাঁকে নৌকায় তুলে আনেন। উদ্ধারকারীরা জানান, তখন তিনি প্রচণ্ড আতঙ্কিত ও শারীরিকভাবে দুর্বল ছিলেন।   জ্ঞান ফিরে পাওয়ার পর ওই ব্যক্তি নিজেকে রয়্যাল ক্যারিবিয়ানের ‘ওভেশন অব দ্য সিজ’ নামের ১৪ ডেকের একটি প্রমোদতরির পিয়ানোবাদক হিসেবে পরিচয় দেন। তাঁকে উদ্ধারকারী নর্টন জানান, ওই ব্যক্তির মুখে প্রথম যে কথাটি শুনেছিলেন, তা হলো, তিনি ভেবেছিলেন আর বাঁচতে পারবেন না। তবে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তির নাম বা পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। রয়্যাল ক্যারিবিয়ানও তাঁর পরিচয় ও কর্মসংস্থানের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।   উদ্ধারের পর দুই জেলে জরুরি সামুদ্রিক বিপৎসংকেত পাঠান। খবর পেয়ে নিউপোর্ট বিচের লাইফগার্ড দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধারে সহায়তা করে। নিউপোর্ট বিচ লাইফগার্ডের ব্যাটালিয়ন প্রধান অ্যাডাম ইয়াসেন্ডার ধারণা, শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে তিনি জাহাজ থেকে পানিতে পড়ে থাকতে পারেন। তাঁকে উদ্ধারের সময় উপকূল থেকে দূরত্ব ছিল প্রায় ১৫ থেকে ২০ মাইল। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে কোস্ট গার্ড জানায়, তাঁর অবস্থা বিবেচনায় বেঁচে যাওয়ার আশা রয়েছে।   উদ্ধারকারী নর্টন জানিয়েছেন, ওই সময় সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা ছিল প্রায় ৭৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট। তাঁর ধারণা, পানির তুলনামূলক উষ্ণ তাপমাত্রা দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে সহায়ক হয়েছে। অন্য কোনো সময়ে বা পানির তাপমাত্রা কম থাকলে ওই ব্যক্তির বেঁচে থাকা কঠিন হতে পারত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   কীভাবে ওই ব্যক্তি প্রমোদতরি থেকে সাগরে পড়ে গেলেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। দুর্ঘটনাবশত পড়ে গিয়েছিলেন, নাকি অন্য কোনো ঘটনা ঘটেছিল, তা তদন্ত করে দেখছে যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ এবং ঘটনার বিস্তারিত জানতে রয়্যাল ক্যারিবিয়ানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে সংবাদমাধ্যমটি। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রকাশ: নভেম্বর ৮, ২০২৬ ১২:২৬
ডেমোক্র্যাটদের জয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আশা, ট্রাম্পের সতর্কবার্তাও থামাতে পারছে না অভিবাসীদের

ডেমোক্র্যাটদের জয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আশা, ট্রাম্পের সতর্কবার্তাও থামাতে পারছে না অভিবাসীদের

ঠিকাদারের প্রতারণার শিকার বাড়ির মালিকদের ক্ষতিপূরণ দিয়েছে ওয়াশিংটন সরকার। ছবি: সংগৃহীত

ওয়াশিংটনে বাড়ি সংস্কারের নামে প্রতারণা, ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ মালিক পেলেন ১ লাখ ১৫ হাজার ডলার

ইউএফসি প্রধান ডানা হোয়াইটকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি হওয়ার প্রস্তাব ট্রাম্পের

ইউএফসি প্রধান ডানা হোয়াইটকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি হওয়ার প্রস্তাব ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে নতুন বন্ধুত্ব তৈরি ও তা ধরে রাখার প্রবণতা দিন দিন কমছে। ছবি: সংগৃহীত
এক বছরেও নতুন বন্ধু তৈরি করেননি যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেকের বেশি মানুষ, বাড়ছে একাকিত্ব

যুক্তরাষ্ট্রে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে বন্ধুত্ব তৈরি ও ধরে রাখার প্রবণতা কমছে। নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, দেশটির অর্ধেকের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক গত এক বছরে একজন নতুন বন্ধুও তৈরি করতে পারেননি। গবেষকেরা এই পরিস্থিতিকে ‘ফ্রেন্ডশিপ রিসেশন’ বা বন্ধুত্বের মন্দা হিসেবে বর্ণনা করছেন। সামাজিক যোগাযোগের সুযোগ কমে যাওয়া, ব্যস্ত জীবনযাপন এবং কর্মক্ষেত্রে পরিবর্তনের কারণে মানুষের মধ্যে নতুন সম্পর্ক তৈরির প্রবণতা কমছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাম্বলের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, গত এক বছরে ৫২ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক নতুন কোনো বন্ধু তৈরি করতে পারেননি। ইউরোপে পরিচালিত ২০২৫ সালের একই জরিপে দেখা গেছে, ৬০ শতাংশ মানুষ নতুন বন্ধু তৈরি করতে চাইলেও তাঁদের ৫২ শতাংশের সেই অভিজ্ঞতা হয়নি।   যুক্তরাষ্ট্রে গত তিন দশকে ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সার্ভে সেন্টার অন আমেরিকান লাইফের এক গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানে ১২ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক জানিয়েছেন, তাঁদের এমন কেউ নেই যাঁর সঙ্গে ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে খোলামেলা কথা বলতে পারেন। ১৯৯০ সালে এই হার ছিল মাত্র ৩ শতাংশ। অর্থাৎ তিন দশকে এমন মানুষের সংখ্যা চার গুণ হয়েছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, শৈশব বা শিক্ষাজীবনের তুলনায় প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় বন্ধুত্ব তৈরি করা অনেক বেশি কঠিন। বিশেষ করে করোনাভাইরাস মহামারির পর দূরবর্তী কর্মব্যবস্থা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমনির্ভরতা এবং ব্যস্ত কর্মজীবনের কারণে মানুষের সরাসরি মেলামেশার সুযোগ কমেছে।   এই পরিস্থিতিতে একাকিত্ব কাটাতে কেউ কেউ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চ্যাটবটের সাহায্য নিচ্ছেন। বর্তমানে বিভিন্ন এআই অ্যাপ নিজেদের কথোপকথনের সঙ্গী এবং আবেগগত সহায়তাকারী হিসেবে তুলে ধরছে। সব সময় ব্যবহার করা যায় এবং সহজে কথা বলা যায়—এমন সুবিধার কারণে কিছু মানুষের কাছে এআই সঙ্গী হয়ে উঠছে।   ম্যানহাটন মেন্টাল হেলথের মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ স্টিভেন বুচওয়াল্ড জানিয়েছেন, প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় নতুন বন্ধুত্ব তৈরি করা স্বাভাবিকভাবেই কঠিন। নিয়মিত একই মানুষের সঙ্গে দেখা হওয়ার সুযোগ কমে গেলে সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রক্রিয়াও বাধাগ্রস্ত হয়।   একাকিত্ব শুধু মানসিক অস্বস্তির বিষয় নয়, এর শারীরিক স্বাস্থ্যগত প্রভাবও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সার্জন জেনারেল সামাজিক বিচ্ছিন্নতাকে জনস্বাস্থ্যের সংকট হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শক্তিশালী সামাজিক সম্পর্ক না থাকলে অকালমৃত্যুর ঝুঁকি ৬০ শতাংশের বেশি বাড়তে পারে।   বিশেষজ্ঞ বুচওয়াল্ডের মতে, দীর্ঘস্থায়ী একাকিত্বের কারণে মানসিক চাপ, ঘুমের সমস্যা এবং হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, একাকিত্বের সময় শরীরে কর্টিসল নামের স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বাড়ে। এর ফলে ঘুমের ব্যাঘাত, শরীরে প্রদাহ এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা থাকে।   এ ছাড়া বিভিন্ন গবেষণায় সামাজিক বিচ্ছিন্নতার সঙ্গে বিষণ্নতা, উদ্বেগ, হৃদ্‌রোগ এবং স্মৃতিভ্রংশের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। একটি সমন্বিত গবেষণায় দীর্ঘস্থায়ী একাকিত্বের কারণে মৃত্যুঝুঁকির প্রভাবকে প্রতিদিন ১৫টি সিগারেট ধূমপানের সমতুল্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।   একাকিত্বের সমস্যা শুধু সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ব্যস্ত কর্মজীবন, পারিবারিক দায়িত্ব এবং নিয়মিত কাজের চাপের মধ্যেও অনেক মানুষ নিজেকে একা অনুভব করছেন। এএআরপির গবেষণায় দেখা গেছে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকের সামাজিক যোগাযোগের পরিধি ছোট হয়ে আসছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, দূরবর্তী কর্মব্যবস্থার কারণে অফিসে সহকর্মীদের সঙ্গে স্বাভাবিক কথাবার্তা ও পরিচিত হওয়ার সুযোগ কমেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক মানুষের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তা সব সময় বাস্তব বন্ধুত্বের বিকল্প হয়ে উঠতে পারছে না।   স্টিভেন বুচওয়াল্ড বলেন, নতুন সম্পর্ক তৈরি ও ধরে রাখতে যে সময় ও প্রচেষ্টা প্রয়োজন, অনেক মানুষ সেটিকে গুরুত্ব দেন না। করোনাভাইরাস মহামারি এই পরিস্থিতিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। নিয়মিত অফিসে মধ্যাহ্নভোজ, শখের সংগঠন কিংবা সাপ্তাহিক ব্যায়ামের মতো সামাজিক কার্যক্রম কমে যাওয়ায় মানুষের পরিচিতির পরিধিও সংকুচিত হয়েছে।   তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স বাড়লেও নতুন বন্ধুত্ব তৈরি করা সম্ভব। এর জন্য প্রয়োজন নিয়মিত যোগাযোগ ও সচেতন উদ্যোগ। ব্যায়ামের ক্লাস, শখের সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ কিংবা বন্ধুত্ব তৈরির অ্যাপের মাধ্যমে নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।   বন্ধুত্ব তৈরির ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজকেও কার্যকর মাধ্যম হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। আশ্রয়কেন্দ্রে খাবার পরিবেশন, এলাকার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম কিংবা স্থানীয় অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে কাজ করার মাধ্যমে একই ধরনের আগ্রহ ও মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়া যায়।   এদিকে বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে সংখ্যার চেয়ে সম্পর্কের গভীরতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অনেক পরিচিত মানুষের পরিবর্তে এক বা দুটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও মানসিক চাপ কমাতে এবং জীবনযাত্রার সন্তুষ্টি বাড়াতে পারে। জার্নাল অব হ্যাপিনেস স্টাডিজে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা অল্প কয়েকটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে গুরুত্ব দিয়েছেন, তাঁদের জীবন নিয়ে সন্তুষ্টি বেশি এবং মানসিক চাপ তুলনামূলক কম ছিল।   এ কারণে মনোবিদেরা নতুন অনেক বন্ধুর পেছনে ছোটার পরিবর্তে আগে থেকে থাকা একটি বা দুটি সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার পরামর্শ দিচ্ছেন। নিয়মিত ফোন করা, একসঙ্গে কফি পান করার পরিকল্পনা কিংবা পুরোনো বন্ধুর খোঁজ নেওয়ার মতো ছোট উদ্যোগও সম্পর্ক ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে।   বন্ধুত্বের এই সংকটের মধ্যে ‘স্লো ফ্রেন্ডশিপ’ বা ধীরগতির বন্ধুত্ব ধারণাটিও জনপ্রিয় হচ্ছে। এর মূল ভাবনা হলো, অল্প সময়ে অনেক মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পরিবর্তে একই কয়েকজনের সঙ্গে নিয়মিত সময় কাটিয়ে গভীর সম্পর্ক তৈরি করা।   প্রতিবেদনে এক নারীর অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে, যিনি ভ্রমণের সময় একা খাবার খেতে গিয়ে নতুন বন্ধুত্বের সমস্যা নিয়ে কথা বলেছিলেন। দেশে ফিরে তিনি একটি বই পড়ার ক্লাবে যোগ দেন। প্রথম বৈঠকে অস্বস্তি বোধ করলেও নিয়মিত অংশ নিতে থাকেন। পরে সেই দলের নারীরাই তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়ে ওঠেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত দেখা করা, একই ধরনের আগ্রহের মানুষের সঙ্গে সময় কাটানো এবং ছোট ছোট যোগাযোগ বজায় রাখাই প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে বন্ধুত্ব গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ উপায়।   সূত্র: বেকা ব্লন্ডের প্রতিবেদন

প্রকাশ: নভেম্বর ৮, ২০২৬ ১১:৫৩
পাঁচ রাজ্যে অ্যাটর্নি জেনারেল পদে ডেমোক্র্যাটদের জয়, নতুন আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে ট্রাম্প প্রশাসন

পাঁচ রাজ্যে অ্যাটর্নি জেনারেল পদে ডেমোক্র্যাটদের জয়, নতুন আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে ট্রাম্প প্রশাসন

বানান ভুল ধরিয়ে দেওয়ার পর এআই শিক্ষকের রেগে যাওয়ার ভিডিও ভাইরাল। ছবি: সংগৃহীত

‘সেভেনটিন’ বানান জানে না এআই শিক্ষক, ভুল ধরিয়ে দিতেই রাগে ফোন কেটে দিল!

যুক্তরাষ্ট্রের শিশু-কিশোরদের মধ্যে মানসিক চাপ ও একাকিত্বের সময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চ্যাটবটের সাহায্য নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। ছবি: সংগৃহীত

বন্ধুর বদলে এআই চ্যাটবট, পড়াশোনার পাশাপাশি মানসিক সহায়তা নিচ্ছে ৫৭ শতাংশ শিশু

0 Comments