ধর্মীয় বিশ্বাসে জীবন বাঁচাতে রক্ত নিতে অস্বীকৃতি, তরুণের মৃত্যুর ২৩ দিন পর বদলাল নিয়ম
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসায় রক্ত নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে মারা গেছেন ২৬ বছর বয়সী এক তরুণ। আইজ্যাক ভালদেজ নামের ওই তরুণের মৃত্যুর মাত্র ২৩ দিন পর রক্ত গ্রহণসংক্রান্ত ৮১ বছরের পুরোনো নিয়মে বড় পরিবর্তন এনেছে তাঁর ধর্মীয় সংগঠন জেহোভাস উইটনেসেস। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অনুসারীরা চিকিৎসার প্রয়োজনে রক্তের বিভিন্ন উপাদান গ্রহণ করবেন কি না, তা নিজেরাই ঠিক করতে পারবেন। তবে সম্পূর্ণ রক্ত গ্রহণের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, চলতি বছরের আগস্টে টেক্সাসের ওয়াক্সাহাচি এলাকার বাসিন্দা আইজ্যাক স্থানীয় একটি লাইব্রেরিতে অবস্থান করার সময় মৃগীরোগের খিঁচুনিতে আক্রান্ত হন। এ সময় মাটিতে পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান তিনি। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ শনাক্ত করেন।
আইজ্যাক জেহোভাস উইটনেসেস ধর্মীয় সম্প্রদায়ের অনুসারী ছিলেন। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী রক্ত গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত জানাতে তিনি সঙ্গে একটি ‘নো ব্লাড’ কার্ড রাখতেন। হাসপাতালে চিকিৎসকেরা সেই কার্ড দেখতে পান। ফলে তাঁর চিকিৎসা জটিল হয়ে পড়ে। রক্ত গ্রহণসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রথমদিকে মস্তিষ্ক থেকে জমে থাকা তরল বের করার একটি চিকিৎসাপদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়নি।
পরে কিছুটা সুস্থ হয়ে আইজ্যাক জ্ঞান ফিরে পান এবং কথা বলতে শুরু করেন। সে সময়ও তিনি রক্ত গ্রহণ না করার নিজের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। তবে কিছুদিন পর তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে এবং তিনি কোমায় চলে যান। একজন নিউরোসার্জন পরিবারকে জানান, আইজ্যাকের জীবন বাঁচাতে জরুরি অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। কিন্তু সেই অস্ত্রোপচারে রক্ত দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
পরিবারের সদস্যরা আইজ্যাকের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় বিশ্বাস ও তাঁর নিজের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানোর সিদ্ধান্ত নেন। শেষ পর্যন্ত ২৬ আগস্ট লাইফ সাপোর্ট বন্ধ করার পর তাঁর মৃত্যু হয়।
আইজ্যাকের মৃত্যুর মাত্র ২৩ দিন পর জেহোভাস উইটনেসেসের গভর্নিং বডি রক্ত গ্রহণসংক্রান্ত নিয়মে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ঘোষণা দেয়। প্রায় ৮১ বছর ধরে প্রচলিত বিধান সংশোধন করে চিকিৎসায় রক্তের বিভিন্ন উপাদান গ্রহণের সিদ্ধান্ত অনুসারীদের ব্যক্তিগত বিবেচনার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্লাজমা, লোহিত রক্তকণিকা ও প্লাটিলেটের মতো রক্তের উপাদান চিকিৎসায় গ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে সম্পূর্ণ রক্ত গ্রহণের ওপর নিষেধাজ্ঞা এখনো বহাল রয়েছে।
আইজ্যাকের যমজ ভাই জ্যাকব ভালদেজ বিবিসিকে জানান, এই পরিবর্তন আরও আগে আনা হলে তাঁর ভাই হয়তো বেঁচে থাকতে পারতেন। ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃত্ব কেন এত দিন পর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
জ্যাকব বলেন, ভাইয়ের মৃত্যুর পর এমন সিদ্ধান্ত তাঁর পরিবারের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তিনি চান, অতীতে এই নিয়মের কারণে যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের কাছে সংগঠনের নেতৃত্ব জবাবদিহি করুক এবং সরাসরি ক্ষমা প্রার্থনা করুক।
জেহোভাস উইটনেসেসের রক্ত গ্রহণসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা চালু হয় ১৯৪৫ সালে। ধর্মীয় সংগঠনটির নেতৃত্ব বাইবেলের কিছু অংশের ব্যাখ্যার ভিত্তিতে অনুসারীদের রক্ত গ্রহণ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই সময় থেকে বহু অনুসারী চিকিৎসার প্রয়োজনে রক্ত গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত মেনে আসছেন।
তবে সংগঠনটির আন্তর্জাতিক মুখপাত্র পল গিলিস বিবিসিকে জানান, নতুন সিদ্ধান্ত মূল ধর্মীয় শিক্ষার পরিবর্তন নয়। তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বাইবেলে রক্ত থেকে বিরত থাকার কথা বলা হলেও চিকিৎসায় ব্যবহৃত রক্তের পৃথক উপাদান সম্পর্কে সরাসরি কিছু বলা হয়নি। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি এবং ধর্মীয় ব্যাখ্যা পুনর্বিবেচনার পর এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সম্পূর্ণ রক্ত গ্রহণের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলেও রক্তের বিভিন্ন উপাদান ব্যবহারের সিদ্ধান্ত এখন অনুসারীদের ব্যক্তিগত বিবেচনার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে নতুন সিদ্ধান্তের পরও অতীতের অভিজ্ঞতা নিয়ে অনেক অনুসারীর মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তাঁদের কেউ কেউ জানতে চাইছেন, চিকিৎসায় রক্ত গ্রহণের সুযোগ আরও আগে দেওয়া হলে কত মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব হতো।
তবে জেহোভাস উইটনেসেসের মুখপাত্র জানিয়েছেন, নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পরও কোনো অনুসারী ব্যক্তিগত বিশ্বাসের কারণে রক্ত গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। ফলে আইজ্যাকের ক্ষেত্রে নিয়ম পরিবর্তন আগে কার্যকর হলেও তিনি নিশ্চিতভাবে চিকিৎসা গ্রহণ করতেন কি না, তা বলা সম্ভব নয়।
বিবিসির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিশ্বজুড়ে জেহোভাস উইটনেসেস সম্প্রদায়ের অনুসারীর সংখ্যা আনুমানিক ৯০ লাখ। দীর্ঘদিনের রক্ত গ্রহণসংক্রান্ত নিয়ম পরিবর্তনের পর ধর্মীয় স্বাধীনতা, চিকিৎসার সিদ্ধান্ত এবং জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসার সুযোগ নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ২০ বছর বয়সী তরুণী কো-পাইলট নাথালিয়া গাদেলহা ফিলগেইরাসের শেষ মুহূর্তের সাহসিকতার কথা তুলে ধরেছেন তাঁর বাবা। দুর্ঘটনার আগে মেয়ের পাঠানো শেষ রেডিও বার্তাগুলো বারবার শুনছেন তিনি। মেয়েকে হারানোর গভীর শোকের মধ্যেও সংকটময় পরিস্থিতিতে তাঁর পেশাদারত্ব ও সাহসিকতা নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেছেন বাবা অ্যালান ফিলগেইরাস। একই সঙ্গে কম বয়সে এত বড় বিমান পরিচালনার যোগ্যতা নিয়ে ওঠা সমালোচনারও জবাব দিয়েছেন তিনি। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ফ্লোরিডার গ্রিনএকরস এলাকায় লিয়ারজেট বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নাথালিয়াসহ মোট নয়জন নিহত হন। দুর্ঘটনার পর শুক্রবার কোরাল গেবলসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মেয়ের শেষ মুহূর্তের কথা বলতে গিয়ে বারবার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অ্যালান। তিনি নিজেও একজন পাইলট এবং মেয়েকে বিমান চালানো শেখানোর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অ্যালান জানান, দুর্ঘটনার আগে নাথালিয়ার সঙ্গে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের কথোপকথনের রেকর্ডিং তিনি বারবার শুনেছেন। বিমানটি যখন দ্রুত নিচের দিকে নামছিল, তখনো নাথালিয়া শান্তভাবে পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য জানিয়ে যাচ্ছিলেন। বাবার ভাষায়, এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতেও তাঁর মেয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করেছেন। দুর্ঘটনার আগে বিমানটি বজ্রঝড়ের মধ্যে পড়ে। এ সময় বিমানে বরফ জমার বিষয়টি এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে জানান নাথালিয়া। প্রচণ্ড ঝাঁকুনিতে বিমানটি প্রায় ৭০০ ফুট পর্যন্ত ওপর-নিচে ওঠানামা করছিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। শেষ রেডিও বার্তায় নাথালিয়াকে জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করতে শোনা যায়। তিনি জানান, বিমানটি অতিরিক্ত গতিতে প্রতি মিনিটে প্রায় ২০ হাজার ফুট নিচে নামছে। এত দ্রুত বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছিল যে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত হয়ে পড়ে। তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় বিমানের নিয়ন্ত্রণে ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে ৫৫ বছর বয়সী ক্যাপ্টেন জেফ গ্রেগরি। সংবাদ সম্মেলনে অ্যালান বলেন, তিনি মেয়ের পাশে থাকতে চেয়েছিলেন, বিমানের ভেতরে থেকে তাঁকে সাহায্য করতে চেয়েছিলেন। মেয়ের সাহসিকতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, নাথালিয়া তাঁকে দেখিয়েছেন প্রকৃত বীরত্ব কাকে বলে। এমন পরিস্থিতিতে অভিজ্ঞ অনেক পাইলটও মানসিক স্থিরতা ধরে রাখতে পারেন না, অথচ তাঁর মেয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। মেয়েকে হারানোর কষ্ট প্রকাশ করে অ্যালান বলেন, পরিবারের কাছে এই মৃত্যু বুক থেকে হৃদয় ছিঁড়ে নেওয়ার মতো। এখন তাঁকে নতুন করে বেঁচে থাকার পথ খুঁজতে হবে। এদিকে দুর্ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নাথালিয়ার বয়স ও অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। মাত্র ২০ বছর বয়সে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন একটি বিজনেস জেটের কো-পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা তাঁর ছিল কি না, তা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। তবে পরিবার ও প্রশিক্ষকেরা এসব সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁদের দাবি, নাথালিয়া সম্পূর্ণ যোগ্যতার ভিত্তিতেই এই দায়িত্ব পেয়েছিলেন। তাঁর ১ হাজার ৩০০ ঘণ্টার বেশি বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা ছিল। পাশাপাশি কমার্শিয়াল পাইলট লাইসেন্স এবং লিয়ারজেট পরিচালনার প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সনদও অর্জন করেছিলেন তিনি। পরিবারের আইনজীবী স্টুয়ার্ট গ্রসম্যান জানান, সংবাদ সম্মেলনের উদ্দেশ্য শুধু নাথালিয়ার স্মৃতি ধরে রাখা নয়, তাঁর পেশাগত সুনামও রক্ষা করা। তিনি বলেন, নাথালিয়া প্রশিক্ষণের প্রতিটি পর্যায়ে অসাধারণ ফল করেছিলেন এবং বয়স কম হলেও কো-পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য পুরোপুরি যোগ্য ছিলেন। নাথালিয়ার প্রশিক্ষক ও মেন্টর ক্রিস কার্ক জানান, কঠোর পরিশ্রম, দীর্ঘ প্রশিক্ষণ এবং অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তিনি নিজের অবস্থান তৈরি করেছিলেন। গত মার্চে লিয়ারজেট ৬০ পরিচালনার দক্ষতা পরীক্ষায় তাঁর পারফরম্যান্স দেখে পরীক্ষক মনে করেছিলেন, নাথালিয়ার পাঁচ হাজার ঘণ্টার বেশি বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে। ক্রিস কার্কের মতে, দুর্ঘটনার আগে নাথালিয়ার শেষ রেডিও বার্তাগুলো তাঁর পেশাদারত্বের প্রমাণ। প্রচণ্ড সংকটের মধ্যেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানাতে পেরেছিলেন, যা দুর্ঘটনার তদন্তে সহায়ক হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড বা এনটিএসবি এখনো দুর্ঘটনার চূড়ান্ত কারণ নির্ধারণ করতে পারেনি। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, নিচে নামার সময় বিমানটির গতি নির্ধারিত নিরাপদ সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। দুর্ঘটনাস্থল থেকে কয়েক মাইল দূরে বিমানের লেজের অংশ পাওয়া গেছে। উদ্ধারকারীরা একটি ইঞ্জিনের অংশও উদ্ধার করেছেন। তবে ককপিট ভয়েস রেকর্ডার এখনো পাওয়া যায়নি। নাথালিয়ার বাবা জানান, মাত্র ১২ বছর বয়সে মেয়েকে প্রথম বিমানে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। পরে নিজেই তাঁকে বিমান চালানো শেখাতে সাহায্য করেন। পাইলট হিসেবে চাকরি পাওয়ার পর নাথালিয়া বাবাকে বলেছিলেন, নিজের সবচেয়ে পছন্দের কাজটি করার জন্য বেতন পাচ্ছেন, এটি তাঁর কাছে অবিশ্বাস্য আনন্দের বিষয়। দুর্ঘটনায় নিহত অন্যদের মধ্যে রয়েছেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা অ্যাডাম রবিনসন, তাঁর স্ত্রী হেলেন শার্প এবং তাঁদের দুই শিশু সন্তান। পরিবারের ন্যানি আনা মারিয়া রামিরেজ সেতিনাও নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া হন্ডুরাসের আরকা বুটিক হোটেলের মালিক র্যাচেল রিড ও চার্মি ফেরও দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তবে নাথালিয়ার পরিবারের কাছে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মেয়ের পেশাগত যোগ্যতা ও শেষ মুহূর্তের সাহসিকতার স্বীকৃতি নিশ্চিত করা। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)
ধর্মীয় বিশ্বাসে জীবন বাঁচাতে রক্ত নিতে অস্বীকৃতি, তরুণের মৃত্যুর ২৩ দিন পর বদলাল নিয়ম
প্রেসিডেন্টের স্ত্রী হলেও ছেলে ব্যারনই আমার প্রথম অগ্রাধিকার: মেলানিয়া ট্রাম্প
সাইবারট্রাককে বিদায় জানাচ্ছে টেসলা, নতুন পরিকল্পনা জানালেন ইলন মাস্ক
যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুতের বিল বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই দায়ী করছেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ডেটা সেন্টারগুলোকে। তবে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি ও ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ার নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে ভিন্ন তথ্য। গবেষকদের হিসাবে, গত পাঁচ বছরে আবাসিক বিদ্যুতের দাম যতটা বেড়েছে, তার মাত্র ৪ শতাংশ বৃদ্ধির জন্য দায়ী ডেটা সেন্টার। বরং প্রাকৃতিক গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি, পুরোনো বিদ্যুৎ গ্রিড সংস্কার এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামতের খরচ বিদ্যুতের দাম বাড়ার গুরুত্বপূর্ণ কারণ। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রে এআই প্রযুক্তির দ্রুত সম্প্রসারণের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডেটা সেন্টারের সংখ্যা। এসব স্থাপনায় বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রয়োজন হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার মধ্যে অনেকেই মনে করছেন, বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারের খরচ সাধারণ গ্রাহকদের বহন করতে হচ্ছে। তবে হার্ভার্ড ও পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, দেশজুড়ে আবাসিক বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধিতে ডেটা সেন্টারের প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম। গবেষণার অন্যতম লেখক ও পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের হোয়ার্টন স্কুলের অধ্যাপক সের্গেই নেতেসিন জানিয়েছেন, এই ফলাফল তাঁর কাছেও কিছুটা বিস্ময়কর ছিল। তাঁর মতে, এখন পর্যন্ত ডেটা সেন্টারের কারণে সাধারণ মানুষের বিদ্যুতের দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে, এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে শিল্পকারখানা ও বড় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে চিত্র কিছুটা আলাদা। গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে শিল্প খাতে বিদ্যুতের দাম যতটা বেড়েছে, তার প্রায় ১৫ শতাংশ বৃদ্ধির সঙ্গে ডেটা সেন্টারের সম্পর্ক রয়েছে। অর্থাৎ সাধারণ পরিবারের তুলনায় শিল্প খাতের বিদ্যুৎ খরচে এসব স্থাপনার প্রভাব বেশি। এর আগেও ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির গবেষণায় দেখা যায়, ২০১০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ডেটা সেন্টারের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে আবাসিক বিদ্যুতের গড় দাম বেড়েছে প্রায় ২ দশমিক ১ শতাংশ। অন্যদিকে ব্র্যাটল গ্রুপ ও লরেন্স বার্কলে ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির বিশ্লেষণে কিছু অঞ্চলে ডেটা সেন্টারের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহের খরচ কমার তথ্যও পাওয়া গেছে। গবেষকদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের বড় অংশের খরচ আসে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, ট্রান্সমিশন লাইন এবং বিতরণ অবকাঠামো থেকে। অনেক এলাকায় পুরোনো বিদ্যুৎ গ্রিড সংস্কার করতে বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বৃদ্ধি এবং দাবানল ও হারিকেনের মতো দুর্যোগের পর ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎব্যবস্থা পুনর্নির্মাণের খরচও গ্রাহকদের বিলের ওপর প্রভাব ফেলছে। তবে সব অঙ্গরাজ্যে পরিস্থিতি এক নয়। পেনসিলভানিয়া, ভার্জিনিয়া ও ওহাইওসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে বিদ্যুৎ গ্রিড পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান পিজেএমের আওতায় ডেটা সেন্টারের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। এর ফলে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন অবকাঠামো নির্মাণের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে মেরিল্যান্ডের মতো অঙ্গরাজ্যে ডেটা সেন্টারের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে আবাসিক বিদ্যুতের দামও আংশিকভাবে বেড়েছে। ব্র্যাটল গ্রুপের গবেষক রায়ান হ্লেডিক জানিয়েছেন, গবেষণার পদ্ধতি ও অঞ্চলভেদে ডেটা সেন্টারের কারণে বিদ্যুতের দাম কোথাও সামান্য বেড়েছে, আবার কোথাও কমেছে। তবে সামগ্রিকভাবে এখন পর্যন্ত এর প্রভাব প্রচলিত ধারণার তুলনায় অনেক কম। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণের বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিরোধিতা বাড়ছে। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ৪১টি স্থানীয় ভোটের মধ্যে ৪০টিতে ডেটা সেন্টার নির্মাণ সীমিত বা নিষিদ্ধ করার পক্ষে ফলাফল এসেছে। বিদ্যুতের দাম ছাড়াও শব্দদূষণ, পরিবেশের ক্ষতি এবং এআই প্রযুক্তির কারণে ভবিষ্যতে চাকরি কমে যাওয়ার আশঙ্কা এই বিরোধিতার পেছনে ভূমিকা রাখছে। গবেষকেরা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক বছরে ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ চাহিদা আরও দ্রুত বাড়তে পারে। নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলা না হলে ভবিষ্যতে আবাসিক গ্রাহকদের বিলেও এর প্রভাব বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শীতকালে হিটিং এবং গ্রীষ্মকালে এয়ার কন্ডিশনিংয়ের কারণে বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে গেলে পরিবারের মাসিক বাজেটে চাপ তৈরি হয়। নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে, বিদ্যুতের বিল বৃদ্ধির পেছনে শুধু ডেটা সেন্টার নয়, জ্বালানির দাম, পুরোনো অবকাঠামো ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো একাধিক কারণ কাজ করছে। সূত্র: দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট
২০২৭ সালের নতুন ট্যাক্স ব্র্যাকেট ঘোষণা আইআরএসের, বাড়ছে কর ছাড়ের সুবিধা
ক্যালিফোর্নিয়া ছেড়ে টেক্সাসে গিয়েও স্বস্তিতে নেই ইলন মাস্ক, ক্ষমতায় ডেমোক্র্যাটরা
ট্রাম্পকে হত্যার হুমকির অভিযোগে হোয়াইট হাউসের কাছে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার অভিবাসী
ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়ের জন্য ভোট না দেওয়া মার্কিনিদেরও দায়ী করলেন রিহানা, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়ের পেছনে শুধু তাঁকে ভোট দেওয়া সমর্থকেরাই নন, ভোটকেন্দ্রে না যাওয়া নাগরিকদেরও দায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বার্বাডোজের পপ তারকা রিহানা। তাঁর মতে, নির্বাচনে ভোট না দেওয়ার সিদ্ধান্তও রাজনৈতিক ফলাফলে প্রভাব ফেলে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া তাঁর একটি মন্তব্য ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। গত ২৭ অক্টোবর রাজনৈতিক ভাষ্যকার জয় রিডের একটি ভিডিওতে মন্তব্য করেন রিহানা। ভিডিওটি প্রকাশ করেছিল বিনোদনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম হলিউড আনলকড। সেখানে রিড সাংবাদিক চার্লস এম ব্লোর সঙ্গে আলোচনায় ট্রাম্পের দ্বিতীয়বার হোয়াইট হাউসে ফেরার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ যে রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করেছে, তার প্রতিফলনই ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তন। বিশেষ করে শ্বেতাঙ্গ মার্কিনিদের একটি বড় অংশ ট্রাম্পের এমন নেতৃত্বই চেয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। ভিডিওটির মন্তব্যের ঘরে এক ব্যবহারকারী ট্রাম্পকে ভোট দেওয়া ব্যক্তিদের নির্বাচনী ফলাফলের জন্য দায়ী করেন। ওই মন্তব্যের জবাবে রিহানা লেখেন, যারা একেবারেই ভোট দেননি, তাঁরাও এই ফলাফলের জন্য দায়ী। তাঁর এই বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভোটারদের অংশগ্রহণ এবং নির্বাচনে অনুপস্থিতির রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। কেউ তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন, আবার কেউ একজন বিদেশি নাগরিক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন নিয়ে মন্তব্য করার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, রিহানার জন্ম ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র বার্বাডোজে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন, ফলে মার্কিন নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকারও তাঁর নেই। তবে দেশটির রাজনীতি ও নির্বাচনে নাগরিকদের অংশগ্রহণ নিয়ে এর আগেও একাধিকবার কথা বলেছেন তিনি। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে ভোট দিতে না পারার বিষয়টি উল্লেখ করে মার্কিন নাগরিকদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন এই সংগীতশিল্পী। রিহানার সাম্প্রতিক মন্তব্যে মূলত নির্বাচনে অংশগ্রহণের গুরুত্বই উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্প ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিসকে পরাজিত করে দ্বিতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে ভোট না দেওয়া নাগরিকদের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যেও আলোচনা রয়েছে। তবে রিহানার মন্তব্যটি তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অবস্থান, নির্বাচনের ফলাফলের কারণ সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক বা গবেষণাভিত্তিক সিদ্ধান্ত নয়। সূত্র: রেভল্ট, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট।
ক্ষমতা ছাড়ার আগে ৫৪৮ বন্দির মৃত্যুদণ্ড বাতিলের উদ্যোগ নিলেন ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর
ক্যালিফোর্নিয়ার কংগ্রেস নির্বাচনে জয়ী আফগান বংশোদ্ভূত ডেমোক্র্যাট আয়েশা ওয়াহাব