যুক্তরাষ্ট্রে আটক হওয়ার ঘটনার এক বছর পর পিএইচডি সম্পন্ন করে নিজ দেশ তুরস্কে ফিরছেন টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুমেইসা ওজতুর্ক। শুক্রবার তাঁর আইনজীবীরা এ তথ্য জানিয়েছেন।
রুমেইসা ওজতুর্ককে ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) আটক করে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রপত্রিকায় ইসরায়েল–গাজা যুদ্ধ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবস্থানের সমালোচনা করে একটি মতামতধর্মী নিবন্ধের সহলেখক ছিলেন।
পরবর্তীতে আদালতের এক বিচারক তাঁকে মুক্তি দেন। বিচারক বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে সহিংসতায় জড়িত থাকা বা সহিংসতার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কোনো প্রমাণ নেই।
এক বিবৃতিতে ওজতুর্ক বলেন, ‘১৩ বছরের অধ্যবসায়ের পর পিএইচডি সম্পন্ন করতে পেরে আমি গর্বিত। নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশে ফিরছি। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কারণে যে সময় হারিয়েছি, তা শুধু আমার নয়; যেসব শিশু ও তরুণদের জন্য কাজ করতে চাই, তাদেরও।’
তিনি আরও বলেন, ফিলিস্তিনি অধিকার নিয়ে মত প্রকাশ করায় তাঁকে যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে, তা ছিল অযৌক্তিক ও কষ্টদায়ক।
ওজতুর্কের মামলায় যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও তাঁর মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছে। এতে তাঁর বিরুদ্ধে চলমান ইমিগ্রেশন কার্যক্রম বাতিল করা হয়েছে এবং সরকার স্বীকার করেছে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে বৈধ অবস্থায় ছিলেন। বিষয়টি জানিয়েছে আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ)।
উল্লেখ্য, গত বছর ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থানের কারণে আটক হওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে তিনি অন্যতম। একই ঘটনায় আটক আরেক শিক্ষার্থী মাহমুদ খলিল এখনো আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
নিউইয়র্ক সিটি ও আশপাশের ট্রাই-স্টেট অঞ্চলে চলতি সপ্তাহজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বুধবার থেকে শহরে ‘এক্সট্রিম হিট ওয়ার্নিং’ (চরম তাপমাত্রার সতর্কতা) জারি করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সপ্তাহের বেশিরভাগ সময় অনুভূত তাপমাত্রা ৯০ থেকে ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের মধ্যে থাকতে পারে। বিশেষ করে বুধবার ও বৃহস্পতিবার গরমের তীব্রতা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি সতর্ক করে বলেছেন, “এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতি এবং শহরের প্রতিটি অংশ এর প্রভাব অনুভব করবে।” তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় শহরজুড়ে শতাধিক ‘কুলিং সেন্টার’ চালু করা হয়েছে। স্কুল, গ্রন্থাগার এবং জ্যাভিটস সেন্টারসহ বিভিন্ন স্থানে এসব কেন্দ্র খোলা থাকবে। পাশাপাশি নগরীর সুইমিং পুলগুলোর কার্যক্রমও বাড়তি সময় পর্যন্ত চালু রাখা হবে। এবার প্রথমবারের মতো নগর কর্তৃপক্ষ ১৫টি ‘কুলিং আউটরিচ ভ্যান’ মোতায়েন করছে। এসব ভ্যানে নার্স ও প্যারামেডিকরা থাকবেন এবং প্রয়োজনে বয়স্ক ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের খোঁজখবর নেবেন। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য কমিশনার ডা. জেমস ম্যাকডোনাল্ড বলেছেন, তাঁর দায়িত্বকালীন সময়ে এটি সবচেয়ে গুরুতর তাপজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকির ঘটনা হতে পারে। তিনি সবাইকে পর্যাপ্ত পানি পান, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্থানে অবস্থান এবং হিট স্ট্রোক বা হিট ইনজুরির লক্ষণ সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। শহরের স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর তাপজনিত কারণে ২১ জন নিউইয়র্কবাসীর মৃত্যু হয়েছিল। এর মধ্যে ১৯ জনই জুন মাসের তাপপ্রবাহের সময় মারা যান। অস্বাভাবিক গরমের কারণে নিউ জার্সির মনমাউথ কাউন্টিতে ৩ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য ‘মনমাউথএনজে ২৫০: দ্য কনসার্ট অ্যাট পার্কস্টেজ’ অনুষ্ঠানও স্থগিত করা হয়েছে। জননিরাপত্তার স্বার্থে অনুষ্ঠানটি আগামী ১৭ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং পোষা প্রাণীদের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার পাশাপাশি সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলা, পর্যাপ্ত পানি পান এবং অপ্রয়োজনীয় শারীরিক পরিশ্রম থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলের ছোট্ট গ্রাম হ্যামডেনে এক হৃদয়বিদারক অভিযানে একটি বাড়ি থেকে ১৬ জন শিশুকে উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শিশুদের অনেকেই গুরুতর শারীরিক সমস্যায় ভুগছিল এবং তাৎক্ষণিক চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল। এ ঘটনায় চারজন প্রাপ্তবয়স্ককে শিশুদের জীবন বিপন্ন করার গুরুতর অপরাধে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার পরিচালিত অভিযানে ওহাইও ব্যুরো অব ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন এবং ভিন্টন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সদস্যরা বাড়িটিতে প্রবেশ করে শিশুদের অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ও মানবেতর পরিবেশে বসবাস করতে দেখেন। উদ্ধার হওয়া শিশুদের বয়স দেড় বছর থেকে ১৮ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা এতটাই গুরুতর ছিল যে দুই শিশুকে হেলিকপ্টারে করে বিশেষায়িত ট্রমা সেন্টারে নেওয়া হয় এবং অন্যদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া চারজন হলেন গ্যারি সাইডার্স সিনিয়র, গ্যারি সাইডার্স জুনিয়র, এলিজাবেথ সাইডার্স এবং ক্রিস্টিনা সাইডার্স। তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর শারীরিক ক্ষতির অভিযোগসহ একাধিক ফেলনি শিশু নির্যাতন ও শিশুদের জীবন বিপন্ন করার মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওহাইওর অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যান্ডি উইলসন ঘটনাস্থলের পরিস্থিতিকে তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের অন্যতম ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, শিশুদের যে পরিবেশে রাখা হয়েছিল তা কল্পনারও বাইরে এবং তাদের জন্য দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা ছিল অত্যন্ত জরুরি। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে মানবপাচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। তবে ঘটনাটির প্রকৃত কারণ, শিশুদের সঙ্গে অভিযুক্তদের সম্পর্ক এবং তারা কতদিন ধরে ওই অবস্থায় ছিল—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বাড়িটিতে আরও একটি পৃথক তল্লাশিও চালানো হচ্ছে। ওহাইওর গভর্নর মাইক ডিওয়াইন এক বিবৃতিতে বলেন, শিশুদের এমন অবস্থার খবর অত্যন্ত মর্মান্তিক। তিনি শিশু সুরক্ষা বিভাগ, চিকিৎসাকর্মী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের সর্বোচ্চ সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। বর্তমানে চার অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করার প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে শিশুদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
যুদ্ধের অনিশ্চয়তা, মূল্যস্ফীতির চাপ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি খাতকে ঘিরে উদ্বেগ সত্ত্বেও ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার। বছরের শুরু থেকে দেশের প্রধান শেয়ার সূচকগুলো উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে এবং একাধিকবার নতুন রেকর্ড গড়েছে। বছরের শুরু থেকে স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওরস ৫০০ সূচক প্রায় ৯ দশমিক ৬ শতাংশ এবং প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক কম্পোজিট সূচক প্রায় ১২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে ডাও জোন্স শিল্প গড় সূচকও প্রায় ৮ দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে নতুন উচ্চতায় অবস্থান করছে। মার্চের শেষ দিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে কেন্দ্র করে শেয়ারবাজারে সাময়িক চাপ সৃষ্টি হলেও পরবর্তী সময়ে বাজার দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায়। বিশেষ করে অর্ধপরিবাহী চিপ ও স্মৃতিচিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের শক্তিশালী উত্থান বাজারকে নতুন গতি দেয়। মার্চের পর থেকে এ খাতের সূচক প্রায় ৮৮ শতাংশ বেড়েছে, যা এ সূচকের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ত্রৈমাসিক পারফরম্যান্স। তবে জুন মাসে প্রযুক্তি খাতে কিছুটা মন্দাভাব দেখা দেয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে অতিরিক্ত বিনিয়োগ এবং সেই বিনিয়োগ থেকে প্রত্যাশিত আয় কত দ্রুত আসবে—এ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওরস ৫০০ সূচক জুনে প্রায় ১ শতাংশ এবং নাসডাক কম্পোজিট সূচক প্রায় ২ দশমিক ৮ শতাংশ কমে যায়। বিশ্বের অন্যতম বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফটের শেয়ার জুন মাসে প্রায় ১৭ শতাংশ এবং সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওরাকলের শেয়ার প্রায় ৩৫ শতাংশ কমেছে। এরপরও পুরো ত্রৈমাসিক হিসেবে দুটি প্রধান সূচকের এটি ২০২০ সালের পর সবচেয়ে শক্তিশালী পারফরম্যান্স। অন্যদিকে প্রযুক্তি খাত থেকে অর্থ সরিয়ে আর্থিক, স্বাস্থ্যসেবা ও শিল্প খাতে বিনিয়োগ বাড়ায় ডাও জোন্স জুন মাসে প্রায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। মার্চের পর থেকে সূচকটির মোট প্রবৃদ্ধি প্রায় ১৩ শতাংশ, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ ত্রৈমাসিক অর্জন। এদিকে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে বিনিয়োগকারীদের নজর থাকবে বড় কোম্পানিগুলোর আর্থিক ফলাফল, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিনিয়োগের বাস্তব ফলাফলের দিকে। সাম্প্রতিক উত্থানের পর বাজারে কিছুটা মূল্য সংশোধনের সম্ভাবনা থাকলেও অনেক বিনিয়োগকারী সম্ভাব্য দরপতনকে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ হিসেবে দেখছেন। সব মিলিয়ে, যুদ্ধ, মূল্যস্ফীতি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার প্রত্যাশার তুলনায় দৃঢ় অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে এবং বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে চলেছে।