লং আইল্যান্ডের সংরক্ষিত এলাকায় ১৪ বছরের কিশোরীর সঙ্গে নগ্ন অবস্থায় যুবক আটক
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে একটি প্রকৃতি সংরক্ষণ এলাকায় গাড়ির ভেতর ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীর সঙ্গে নগ্ন অবস্থায় এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার রাত ৯টার পর রিভারসাইডের ডেভিড সারনফ প্রকৃতি সংরক্ষণ এলাকায় নিয়মিত টহলের সময় পুলিশ তাদের দেখতে পায়।
পুলিশের বরাতে জানা গেছে, আটক যুবকের নাম ভিক্টর এলিজাদে, বয়স ১৯ বছর। সাউদ্যাম্পটন টাউন পুলিশের এক কর্মকর্তা নিয়মিত টহলের সময় গাড়িটির কাছে গিয়ে ওই অবস্থায় তাদের দেখতে পান। পরে যুবককে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়।
এ ঘটনায় এলিজাদের বিরুদ্ধে শিশুর কল্যাণ বিপন্ন করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে তাকে হেফাজতে না রেখে পরে আদালতে হাজিরার নোটিশ দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে তাকে আদালতে হাজির হতে হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
পুলিশ জানিয়েছে, কিশোরী ও এলিজাদের মধ্যে যৌন নির্যাতনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তদন্তকারীরা বলেছেন, ওই কিশোরীকে এলিজাদে যৌন নির্যাতন করেছেন বা আগে এমন কোনো ঘটনা ঘটেছে—এমন কোনো ইঙ্গিতও তারা পাননি। এ কারণে বর্তমানে তদন্তটি বন্ধ করা হয়েছে।
তবে কিশোরী কীভাবে এলিজাদের সঙ্গে ওই প্রকৃতি সংরক্ষণ এলাকায় পৌঁছেছিল এবং গাড়িতে তাদের অবস্থানের পেছনে ঠিক কী পরিস্থিতি ছিল, সে বিষয়ে পুলিশ বিস্তারিত জানায়নি। কিশোরীর পরিচয়ও প্রকাশ করা হয়নি।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এলিজাদের এর আগেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে জটিলতা হয়েছিল। গত জুনে লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানোর অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে।
বর্তমান ঘটনায় অভিযোগ গুরুতর হলেও পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে যৌন নির্যাতনের প্রমাণ না পাওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে আপাতত তার বিরুদ্ধে শিশুর কল্যাণ বিপন্ন করার অভিযোগই রয়েছে এবং আদালতে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে মামলাটি এগোবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা এক মার্কিন নৌসেনা দেশে ফেরার পথে জানতে পারলেন, তার বাবাকে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ আটক করেছে। ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে নয় মাসেরও বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করা নৌসেনা জোশুয়া অ্যাভিলেস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাবার আটকের খবর প্রকাশ করেন। আটক ব্যক্তি লুইস ম্যানুয়েল অ্যাভিলেস রোয়া, ৪৮ বছর বয়সী নিকারাগুয়ার নাগরিক। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি জানিয়েছে, ২২ আগস্ট ফ্লোরিডার কী ওয়েস্টে একটি গাড়ি থামানোর সময় বর্ডার প্যাট্রোল তাকে আটক করে। কর্তৃপক্ষের দাবি, তিনি অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। পরে তাকে আইসিইর হেফাজতে নেওয়া হয় এবং তার বিরুদ্ধে রিমুভাল প্রসিডিংস চলছে। জোশুয়া অ্যাভিলেস জানান, তিনি নয় মাসেরও বেশি সময় ধরে সমুদ্রে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে দায়িত্ব পালন করছেন। ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে সমর্থন দিতে জাহাজটি মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন ছিল। দেশে ফেরার পথে বাবাকে আইসিই আটক করেছে জানতে পেরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের গভীর উদ্বেগের কথা জানান। জোশুয়া লেখেন, তার বাবা একজন পরিশ্রমী ও শান্ত স্বভাবের মানুষ। বাবার আটকের খবর পাওয়ার পর ১২ ঘণ্টার বেশি সময়ের শিফটে দায়িত্ব পালন চালিয়ে যাওয়া তার জন্য মানসিকভাবে অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে বলেও জানান তিনি। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, লুইস অ্যাভিলেস প্রায় ১৯ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। তার ড্রাইভার লাইসেন্স, সোশ্যাল সিকিউটি কার্ড এবং ওয়ার্ক পারমিট রয়েছে। পরিবারের দাবি, তারা তার গ্রিন কার্ডের জন্য ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা করছিল এবং অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিল। পরিবারের সদস্যরা আরও জানিয়েছেন, তার কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড সম্পর্কে তারা জানেন না। তার স্ত্রী আর্জেলিয়া অ্যাভিলেসের ভাষ্য, ঘটনার দিন লুইস গাড়ি মেরামতের জন্য মেকানিকের কাছে যাচ্ছিলেন। তখনই তাকে বর্ডার প্যাট্রোল আটক করে। তবে ডিএইচএস পরিবারের বক্তব্যের পাশাপাশি নিজেদের অবস্থানও স্পষ্ট করেছে। সংস্থাটি বলেছে, কোনো ব্যক্তির পরিবারের সদস্য মার্কিন সামরিক বাহিনীতে কাজ করলেই ইমিগ্রেশন আইন থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছাড় পাওয়া যায় না। ডিএইচএস এর মতে, কর্তৃপক্ষ কংগ্রেসের অনুমোদিত ইমিগ্রেশন আইন প্রয়োগ করছে। এদিকে জোশুয়া অ্যাভিলেস যে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে দায়িত্ব পালন করছেন, সেটিও সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক আলোচনায় এসেছে। ইরান যুদ্ধের সময় দীর্ঘ মেয়াদে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা এই বিমানবাহী রণতরী ২০০ দিনেরও বেশি সময় কোনো বন্দরে না থেমে সমুদ্রে ছিল, যা আধুনিক মার্কিন নৌবাহিনীর অন্যতম দীর্ঘ টানা সমুদ্রযাত্রার রেকর্ড তৈরি করেছে। দীর্ঘ মোতায়েন নিয়ে নৌসেনাদের পরিবার ও আইনপ্রণেতাদের মধ্যে উদ্বেগও তৈরি হয়েছিল। বর্তমানে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ফিরছে। আর সেই ফেরার সময়ই জোশুয়ার পরিবারের সামনে তৈরি হয়েছে নতুন এক অনিশ্চয়তা। দীর্ঘ নয় মাসের সামরিক দায়িত্ব শেষে দেশে ফিরতে থাকা এই নৌসেনা এখন বাবার সঙ্গে কবে দেখা করতে পারবেন, সেটিই পরিবারের বড় উদ্বেগ। লুইস অ্যাভিলেস আপাতত আইসিই হেফাজতে রয়েছেন এবং তার ইমিগ্রেশন মামলার পরবর্তী প্রক্রিয়ার ওপরই নির্ভর করছে তার ভবিষ্যৎ।
লং আইল্যান্ডের সংরক্ষিত এলাকায় ১৪ বছরের কিশোরীর সঙ্গে নগ্ন অবস্থায় যুবক আটক
ক্যালিফোর্নিয়ায় ক্লিফ থেকে সাগরে গাড়ি পড়ে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ১৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থীর মৃত্যু
বাড়ি কেনার চেয়ে ভাড়া থাকলেই মাসে সাশ্রয় $১,০০০, যুক্তরাষ্ট্রের যে ৭ শহর
যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন বা বর্তমানে আশ্রয় চাইছেন এমন বিদেশিদের সর্বোচ্চ ২ লাখ ব্যবসায়িক ও পর্যটন ভিসা বাতিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। স্টেট ডিপার্টমেন্টের নথি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে এটি হবে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একসঙ্গে সবচেয়ে বড় পরিসরে ভিসা বাতিলের ঘটনা। স্টেট ডিপার্টমেন্টের নথি অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ইস্যু করা B1 ও B2 ভিসাধারীদের মধ্যে যারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর আশ্রয়ের আবেদন করেছেন অথবা বর্তমানে আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে প্রক্রিয়ায় রয়েছেন, তাদের ভিসা পর্যালোচনা করে বাতিল করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ কার্যক্রমে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা DHS-এর সঙ্গে সমন্বয় করছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট। স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র টমি পিগট জানিয়েছেন, যারা স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর স্থায়ীভাবে থাকার জন্য আশ্রয়ের আবেদন করেছেন, তাদের ননইমিগ্র্যান্ট ভিসা শনাক্ত ও বাতিলের বিষয়ে DHS-এর সঙ্গে কাজ করা হচ্ছে। তবে ঠিক কতটি ভিসা বাতিল হবে, সে সংখ্যা এখনো চূড়ান্ত নয়। প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে চলবে এবং সংখ্যাটি পরিবর্তিত হতে পারে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। তবে এর আগে সিদ্ধান্তটি পরিবর্তন বা সংশোধন হতে পারে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য এই পদক্ষেপ আদালতে চ্যালেঞ্জ হওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে। B1 ভিসা সাধারণত ব্যবসায়িক সফরের জন্য দেওয়া হয়। আর B2 ভিসা পর্যটন, পরিবারের সঙ্গে দেখা করা বা চিকিৎসার মতো স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের কাজে ব্যবহৃত হয়। প্রস্তাবিত পদক্ষেপের আওতায় কতজন B1 বা B2 ভিসাধারী পড়বেন, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভিসা বাতিল হলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিপোর্ট করা হবে, এমন নয়। কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যাদের আশ্রয়ের মামলা বর্তমানে চলমান, তাদের ক্ষেত্রে ভিসার ধরন পরিবর্তিত হতে পারে এবং তারা ব্যবসা বা পর্যটনের উদ্দেশ্যে বৈধ ভিসাধারী হিসেবে তাদের আগের অবস্থান হারাতে পারেন। ট্রাম্প প্রশাসন দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ও ইমিগ্রেশন নীতিতে একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। ভিসা আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়া ইতিহাস যাচাই, নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা ইস্যু সীমিত করা এবং কিছু ক্ষেত্রে ভিসা বন্ডের মতো অতিরিক্ত শর্ত আরোপ করা হয়েছে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন, কিছু বিদেশি পর্যটন বা ব্যবসায়িক ভিসা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর আশ্রয়ের আবেদন করে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থানের সুযোগ নিচ্ছেন। ডেপুটি সেক্রেটারি অব স্টেট ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন ব্যবস্থার সমালোচনা করে বলেছেন, আশ্রয়ব্যবস্থা ইমিগ্রেশন আইন এড়িয়ে যাওয়ার পথ হওয়া উচিত নয়। স্টেট ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ মাসে বিভিন্ন কারণে প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার ভিসা বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে অপরাধে দোষী সাব্যস্ত বা অপরাধের অভিযোগ থাকা ব্যক্তিদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নীতির প্রকাশ্য সমালোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তির ভিসাও বাতিল করা হয়েছে। নতুন পরিকল্পনাটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বা আশ্রয়প্রক্রিয়ায় থাকা B1 ও B2 ভিসাধারীদের ঘিরে। স্টেট ডিপার্টমেন্টের নথি থেকে জানা যায়, ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস থেকে আশ্রয় আবেদনের তথ্য পাওয়ার পর বর্তমান B1 ও B2 ভিসাধারীদের বিষয়ে যাচাই শুরু করা হয়। তবে সর্বোচ্চ ২ লাখ ভিসা বাতিলের পরিকল্পনাটি এখনো চূড়ান্তভাবে কার্যকর হয়নি। সিদ্ধান্তটি ঘোষণা ও বাস্তবায়নের পর প্রকৃত সংখ্যা কত হবে এবং এর বিরুদ্ধে আদালতে কী ধরনের আইনি চ্যালেঞ্জ আসে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বছরে ১,২০০ বহিষ্কৃত অভিবাসী নিতে শুরু করেছে লাইবেরিয়া
ডেলাওয়ার ভ্যালিতে ড. কাজী খালিদ আশরাফকে সম্মাননা
ইরানের সঙ্গে সংঘাতের পর মধ্যপ্রাচ্যে ১৫টি ঘাঁটির প্রবেশাধিকার হারাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র: সাবেক মার্কিন জেনারেল
যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানায় ‘ব্রেন-ইটিং অ্যামিবা’ নামে পরিচিত নেগ্লেরিয়া ফাওলেরি তে আক্রান্ত হয়ে ৮ বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের ধারণা, লেকে সাঁতার কাটার সময়ই শিশুটি এই প্রাণঘাতী অ্যামিবার সংস্পর্শে আসে। মৃত শিশুটির নাম লিলিয়ান স্মার্ট। লুইজিয়ানার রাস্টন এলাকার এই শিশুটি নিজের অষ্টম জন্মদিন পালনের পরদিন মারা যায়। পরিবারের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। লুইজিয়ানা ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ জানিয়েছে, শিশুটির সংক্রমণ সম্ভবত লেক ক্লেইবোর্নে সাঁতার কাটার সময় হয়েছিল। রাস্টন শহর থেকে লেকটি প্রায় ৩০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। গত সপ্তাহে স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছিল, রাজ্যে একজন বাসিন্দা নেগ্লেরিয়া ফাওলেরিতে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে তখন রোগীর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। নেগ্লেরিয়া ফাওলেরি একটি ক্ষুদ্র অ্যামিবা, যা সাধারণত উষ্ণ মিঠা পানিতে বসবাস করে। দূষিত পানি নাক দিয়ে শরীরে প্রবেশ করলে এটি মস্তিষ্কে পৌঁছে প্রাইমারি অ্যামিবিক মেনিনগোএনসেফালাইটিস নামের গুরুতর সংক্রমণ ঘটাতে পারে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দূষিত পানি গিলে ফেললে এই সংক্রমণ হয় না। অ্যামিবাটি সাধারণত নাক দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে। এটি একজন মানুষ থেকে অন্য মানুষের মধ্যে ছড়ায়ও না। এই রোগ অত্যন্ত বিরল হলেও মৃত্যুঝুঁকি খুব বেশি। লুইজিয়ানা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৩৭ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রায় ১৮০টি নিশ্চিত সংক্রমণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগটি প্রাণঘাতী হয়েছে। অ্যামিবাটি সাধারণত ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি উষ্ণ মিঠা পানিতে বেশি সক্রিয় থাকে। তাই গরমের সময় উষ্ণ হ্রদ, নদী, পুকুর ও অন্যান্য প্রাকৃতিক মিঠা পানিতে ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে। সংক্রমণের শুরুতে তীব্র মাথাব্যথা, জ্বর, বমি বমি ভাব ও বমি হতে পারে। পরে ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, বিভ্রান্তি, খিঁচুনি ও অচেতনতার মতো গুরুতর উপসর্গ দেখা দিতে পারে। উপসর্গ দ্রুত বাড়তে পারে। লিলিয়ানের মৃত্যুতে তার পরিবার শোক প্রকাশ করেছে। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তার মস্তিষ্কে এত গুরুতর ক্ষতি হয়েছিল যে চিকিৎসার পরও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। লুইজিয়ানার এই ঘটনা আবারও উষ্ণ মিঠা পানিতে সাঁতার কাটার সময় সতর্ক থাকার বিষয়টি সামনে এনেছে। বিশেষ করে গরমের মৌসুমে প্রাকৃতিক জলাশয়ে নাক দিয়ে পানি প্রবেশের ঝুঁকি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।
ফোবানা নির্বাহী কমিটির সভাপতি পদে নির্বাচন করছেন মেরিল্যান্ডের কমিউনিটি লিডার মোহাম্মদ কাজল
ফ্লোরিডায় স্বামীর চোখের সামনেই বজ্রপাতে মা ও দুই বছরের কন্যার মৃত্যু