গাড়ির এসি ঠান্ডা করছে না? শপে যাওয়ার আগে ৫ মিনিটে যা পরীক্ষা করবেন
নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় গরমের সময় গাড়ির এসি ঠিকমতো ঠান্ডা না করলে সরাসরি অটো মেরামতের দোকানে যাওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় নিজেই পরীক্ষা করে দেখা যায়। কেবিনের বাতাসের ফিল্টার, বাতাসের প্রবাহ, ফ্যান ও কনডেনসারের মতো সাধারণ বিষয়গুলো পরীক্ষা করলে সমস্যার প্রাথমিক কারণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। তবে রেফ্রিজারেন্ট কমে যাওয়া, কোথাও লিক থাকা কিংবা এসির যন্ত্রাংশে ত্রুটি থাকলে পেশাদার মেকানিকের সহায়তা নেওয়া প্রয়োজন।
প্রথমেই নিশ্চিত করুন, গাড়ির এসি চালু আছে কি না। অনেক গাড়িতে এসি এবং ভেতরের বাতাস পুনরায় ঘুরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা আলাদা থাকে। ভেতরের বাতাস পুনরায় ঘুরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা চালু থাকলে বাইরের গরম বাতাসের পরিবর্তে গাড়ির ভেতরের তুলনামূলক ঠান্ডা বাতাসই আবার এসি ব্যবস্থায় প্রবেশ করে। এরপর ফ্যানের বিভিন্ন গতিতে বাতাসের প্রবাহ পরীক্ষা করুন। ফ্যান চললেও বাতাস খুব কম বের হলে কেবিনের বাতাসের ফিল্টারে ধুলা বা ময়লা জমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রয়োজন হলে গাড়ির প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী এই ফিল্টার পরীক্ষা ও পরিবর্তন করা যেতে পারে।
এরপর গাড়ির ফ্যানগুলো ঠিকমতো কাজ করছে কি না খেয়াল করুন। গাড়ি পার্ক করা অবস্থায় এসি চালু করে প্রয়োজনীয় ফ্যান ঘুরছে কি না দূর থেকে দেখা যায়। বিশেষ করে গাড়ি চলার সময় এসি কিছুটা ঠান্ডা করলেও ট্রাফিক জ্যামে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় গরম হয়ে গেলে বাতাস চলাচল বা ফ্যানের সমস্যার সম্ভাবনা থাকতে পারে। তবে হুডের ভেতরের চলন্ত যন্ত্রাংশের কাছে হাত দেওয়া কিংবা বৈদ্যুতিক সংযোগ খুলে পরীক্ষা করা উচিত নয়।
গাড়ির সামনের কনডেনসারেও চোখ বুলিয়ে নিতে পারেন। রেডিয়েটরের সামনে থাকা এই অংশে পাতা, পোকামাকড় বা অতিরিক্ত ময়লা জমে গেলে বাতাস চলাচলে বাধা তৈরি হতে পারে। এতে এসির কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে। দৃশ্যমান ময়লা থাকলে গাড়ির প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা মেনে পরিষ্কার করা যেতে পারে। তবে কনডেনসারের মতো সংবেদনশীল অংশে অতিরিক্ত চাপের পানি ব্যবহার করা ঠিক নয়।
এসি ঠান্ডা না হওয়ার আরেকটি কারণ হতে পারে রেফ্রিজারেন্টের পরিমাণ কমে যাওয়া। তবে এসি ঠান্ডা করছে না মানেই রেফ্রিজারেন্ট কমে গেছে, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। কোথাও লিক থাকলে রেফ্রিজারেন্ট কমে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে শুধু নতুন করে রেফ্রিজারেন্ট যোগ করলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, লিক থাকলে সেটি শনাক্ত ও মেরামত করার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক পরিমাণ রেফ্রিজারেন্ট দিতে হয়।
তাই নিজের মতো করে রেফ্রিজারেন্ট কিনে গাড়ির এসিতে ব্যবহার করার আগে সতর্ক হওয়া জরুরি। গাড়িতে কোন ধরনের রেফ্রিজারেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে, সেটিও আগে নিশ্চিত করতে হবে। মোটরগাড়ির এসি ব্যবস্থায় রেফ্রিজারেন্ট নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে এবং এ ধরনের কাজের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও অনুমোদিত যন্ত্রপাতি থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
এসব প্রাথমিক পরীক্ষা করেও এসি ঠান্ডা না করলে অটো মেরামতের দোকানে গিয়ে সমস্যাটি পরীক্ষা করানো ভালো। মেকানিককে জানিয়ে দিন, কখন থেকে সমস্যা শুরু হয়েছে, বাতাসের চাপ কমেছে কি না, গাড়ি চলার সময় এবং জ্যামে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় এসি কেমন কাজ করছে এবং কেবিনের বাতাসের ফিল্টার সর্বশেষ কবে পরিবর্তন করা হয়েছে। এসব তথ্য সমস্যার কারণ শনাক্ত করতে সহায়তা করতে পারে।
মেরামতের দোকানে যাওয়ার আগে এসি পরীক্ষা করার খরচ কত, রেফ্রিজারেন্ট দেওয়ার খরচ আলাদা কি না এবং মেরামতের আগে লিখিত খরচের হিসাব পাওয়া যাবে কি না, তা জেনে নেওয়া ভালো। এতে অপ্রত্যাশিত খরচ এড়ানোর পাশাপাশি কী কাজ করা হবে সে বিষয়েও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়।
গরমের সময় গাড়ির এসি শুধু আরামের বিষয় নয়, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের জন্য অতিরিক্ত তাপ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, বন্ধ গাড়ির ভেতরের তাপমাত্রা দ্রুত বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। শিশুদের শরীরের তাপমাত্রাও প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় দ্রুত বাড়তে পারে। তাই কোনো শিশুকে পার্ক করা গাড়ির ভেতরে একা রেখে যাওয়া উচিত নয়।
সূত্র: আইবিএল ইন্টারন্যাশনাল
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
লাইফস্টাইল
View moreদীর্ঘ ২৩ বছর আলাদা থাকার পর অবশেষে বিবাহবিচ্ছেদের পর্যায়ে পৌঁছেছে ভারতের এক দম্পতির সম্পর্ক। বিচ্ছেদের নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে স্ত্রীকে নিজের পুরো গৃহস্থালি সম্পত্তি ভরণপোষণের জন্য দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন স্বামী। দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য সম্পর্ক কার্যত বিচ্ছিন্ন থাকার পর সম্পত্তি ও আর্থিক দায়দায়িত্বের প্রশ্ন সামনে আসায় ঘটনাটি আলোচনায় এসেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে এ ঘটনার কথা জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনের শিরোনাম অনুযায়ী, স্বামী ও স্ত্রী ২৩ বছর ধরে আলাদা বসবাস করছিলেন। এত দীর্ঘ সময় একসঙ্গে না থাকলেও তাঁদের বৈবাহিক সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক নিষ্পত্তি হয়নি। শেষ পর্যন্ত বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়ায় স্ত্রীর ভরণপোষণ ও সম্পত্তি হস্তান্তরের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এ ঘটনায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, স্বামী স্ত্রীর ভরণপোষণের জন্য নিজের পুরো গৃহস্থালি সম্পত্তি দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন। তবে প্রস্তাব দেওয়া এবং আদালতের নির্দেশে সম্পত্তি হস্তান্তর সম্পন্ন হওয়া এক বিষয় নয়। প্রস্তাবটি আদালত গ্রহণ করেছেন কি না কিংবা সম্পত্তি হস্তান্তরের বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। ভারতে বিবাহবিচ্ছেদের মামলায় ভরণপোষণ বা অ্যালিমনি একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিষয়। বিচ্ছেদের পর স্বামী বা স্ত্রীর আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আদালত সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী ভরণপোষণের নির্দেশ দিতে পারেন। এর পরিমাণ ও ধরন নির্ধারণের ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের আয়, সম্পত্তি, আর্থিক সামর্থ্য, প্রয়োজন এবং মামলার অন্যান্য প্রাসঙ্গিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া হয়। ভরণপোষণ সব সময় মাসিক অর্থ প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। প্রযোজ্য আইন ও পরিস্থিতি অনুযায়ী এককালীন অর্থ প্রদানের ব্যবস্থাও থাকতে পারে। কোনো দম্পতি নিজেদের মধ্যে সম্পত্তি বা আর্থিক নিষ্পত্তির বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছালে সেটিও আদালতের বিবেচনায় আসতে পারে। তবে প্রতিটি মামলার সিদ্ধান্ত নির্ভর করে নির্দিষ্ট তথ্য, আইনি বিধান এবং আদালতের মূল্যায়নের ওপর। দীর্ঘদিন আলাদা বসবাসের বিষয়টিও বিবাহবিচ্ছেদের মামলায় গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ভারতে দাম্পত্য সম্পর্ক দীর্ঘ সময় ধরে কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়লে আদালত সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি বিবেচনা করতে পারেন। তবে শুধু দীর্ঘদিন আলাদা থাকলেই সব ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায় না। বিচ্ছেদের জন্য প্রযোজ্য আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। ২৩ বছর আলাদা থাকা এই দম্পতির ঘটনায় সম্পত্তি দেওয়ার প্রস্তাবটি বিচ্ছেদের আর্থিক নিষ্পত্তির প্রশ্নকে সামনে এনেছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন একসঙ্গে বসবাস না করলেও বৈবাহিক সম্পর্ক আইনগতভাবে বহাল থাকলে ভরণপোষণ ও অন্যান্য আর্থিক অধিকার কীভাবে নির্ধারিত হবে, তা এ ধরনের মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। তবে আলোচিত মামলায় স্বামীর মোট সম্পত্তির পরিমাণ, প্রস্তাবিত সম্পত্তির প্রকৃতি এবং আদালতের চূড়ান্ত নির্দেশ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে স্ত্রী স্বামীর সব সম্পত্তির মালিকানা পেয়েছেন কিংবা আদালত তাঁকে পুরো সম্পত্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। দীর্ঘ ২৩ বছরের বিচ্ছিন্ন জীবন শেষে আনুষ্ঠানিক বিবাহবিচ্ছেদের এই ঘটনা আবারও দেখিয়েছে, দাম্পত্য সম্পর্কের সমাপ্তি শুধু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকতে পারে সম্পত্তির অধিকার, আর্থিক নিরাপত্তা এবং দীর্ঘমেয়াদি আইনি দায়দায়িত্বের প্রশ্ন। ট্যাগ: বিবাহবিচ্ছেদ, ভারত, স্বামী স্ত্রী, ভরণপোষণ, সম্পত্তি, আদালত, পারিবারিক আইন ফেসবুক হুক: ২৩ বছর ধরে আলাদা থাকতেন স্বামী-স্ত্রী। অবশেষে বিবাহবিচ্ছেদের সময় স্ত্রীকে নিজের পুরো গৃহস্থালি সম্পত্তি ভরণপোষণ হিসেবে দেওয়ার প্রস্তাব স্বামীর। দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর সম্পত্তি নিয়ে কী ঘটেছে? #DivorceCase #IndiaNews #Alimony #FamilyLaw #LegalNews ২৩ বছর আলাদা থাকার পর বিচ্ছেদ, স্ত্রীকে পুরো সম্পত্তি দেওয়ার নির্দেশ ভারতে দীর্ঘ ২৩ বছর আলাদা থাকার পর এক দম্পতির বিবাহবিচ্ছেদের অনুমতি দিয়েছেন পাটনা হাইকোর্ট। একই সঙ্গে স্ত্রীকে স্থায়ী ভরণপোষণ হিসেবে স্বামীর পুরো গৃহস্থালি সম্পত্তি হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বামী নিজেই এই প্রস্তাব দেন এবং স্ত্রী তাতে সম্মতি জানান। আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, আট সপ্তাহের মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তরের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের ৩০ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ অক্টোবর বিচারপতি বিবেক চৌধুরী ও বিচারপতি রানা বিক্রম সিংয়ের বেঞ্চ এ রায় দেন। আদালত পর্যবেক্ষণ করেন, স্বামী ও স্ত্রী দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে পৃথকভাবে বসবাস করছেন এবং তাঁদের মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্ক কার্যত শেষ হয়ে গেছে। দুজনের কেউই আবার একসঙ্গে সংসার করতে আগ্রহী নন। মামলার শুনানিতে আদালত জানতে পারেন, দীর্ঘদিন ধরে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে কোনো দাম্পত্য সম্পর্ক নেই। এত বছর আলাদা থাকার পর তাঁদের পুনরায় একসঙ্গে বসবাসের সম্ভাবনাও নেই। আদালতের মতে, উভয় পক্ষের আচরণ ও দীর্ঘ বিচ্ছিন্ন জীবন থেকে স্পষ্ট যে তাঁরা স্থায়ীভাবে দাম্পত্য সম্পর্কের অবসান ঘটিয়েছেন। আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করেন, স্বামী ও স্ত্রী পরস্পরকে দীর্ঘ সময় ধরে পরিত্যাগ করেছেন। টানা ২৩ বছরের এই বিচ্ছিন্নতাকে বিবাহবিচ্ছেদের যথেষ্ট ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে দীর্ঘ ও নিরবচ্ছিন্ন পরিত্যাগের কারণে স্বামীর বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন মঞ্জুর করেন হাইকোর্ট। এর আগে ২০২৫ সালে পারিবারিক আদালত একতরফাভাবে দেওয়া বিবাহবিচ্ছেদের একটি আদেশ বাতিল করে মামলাটি পুনরায় শুনানির জন্য চালু করেছিলেন। ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পাটনা হাইকোর্টে আপিল করেন স্বামী। আপিলের শুনানিতেই দীর্ঘ বিচ্ছিন্নতা এবং স্থায়ী ভরণপোষণের বিষয়টি সামনে আসে। মামলায় স্বামীর পক্ষে আইনজীবী ভোলা কুমার এবং স্ত্রীর পক্ষে আইনজীবী অনুপা নন্দ ঝা আদালতে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। শুনানিতে জানানো হয়, স্ত্রীর নিজস্ব কোনো আয়ের উৎস নেই। স্বামীর আইনজীবী জানান, স্ত্রী আগে স্বামীর বাড়িতে বসবাস করলেও পরে সেখান থেকে চলে গিয়ে পৃথক বাসস্থানে থাকতে শুরু করেন। স্ত্রীর আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে স্বামী নিজের পুরো গৃহস্থালি সম্পত্তি স্থায়ী ভরণপোষণ হিসেবে হস্তান্তরের প্রস্তাব দেন। স্ত্রীর আইনজীবী তাঁর পক্ষে এই প্রস্তাবে সম্মতি জানান। উভয় পক্ষের সম্মতির ভিত্তিতে আদালত বিবাহবিচ্ছেদের অনুমতি দেন এবং সম্পত্তি হস্তান্তরের নির্দেশ জারি করেন। হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী আট সপ্তাহের মধ্যে স্বামীকে প্রয়োজনীয় আইনি দলিল সম্পাদন করে সম্পত্তি স্ত্রীর নামে হস্তান্তর করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার জন্য উভয় পক্ষের আইনজীবীদেরও তাঁদের মক্কেলদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে বলা হয়েছে। আদালত স্পষ্ট করেছেন, এই সম্পত্তি হস্তান্তরই হবে স্ত্রীর স্থায়ী ভরণপোষণের পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি। অর্থাৎ উভয় পক্ষের সম্মতিতে নির্ধারিত সম্পত্তি হস্তান্তরের মাধ্যমেই মামলাটিতে স্থায়ী ভরণপোষণের বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে। ভারতে বিবাহবিচ্ছেদের মামলায় স্থায়ী ভরণপোষণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্বামী ও স্ত্রীর আর্থিক অবস্থা, আয়ের উৎস এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক পরিস্থিতি বিবেচনা করা হয়। তবে এই মামলায় আদালতের সিদ্ধান্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি ছিল উভয় পক্ষের সম্মতি। ফলে এই রায়কে সব বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে সম্পত্তি হস্তান্তরের সাধারণ নিয়ম হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। দীর্ঘ ২৩ বছরের বিচ্ছিন্ন জীবনের পর আদালতের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দম্পতির বৈবাহিক সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটেছে। একই সঙ্গে স্ত্রীর স্থায়ী ভরণপোষণের বিষয়েও একটি চূড়ান্ত ব্যবস্থা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান ধীরে ধীরে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চাইছে, আগে থেকেই যেসব লক্ষণ চিনবেন অভিভাবকেরা
মেয়ের বিয়ে দেখে যেতে পারবেন না, তাই মৃত্যুর আগে ১১ বছরের মেয়েকে কনে সাজালেন ক্যান্সার আক্রান্ত বাবা
ককপিটে ঘুমিয়ে পড়ার অভিজ্ঞতা ৭৭ শতাংশ পাইলটের, ক্লান্তি নিয়েও উড়ছেন অনেকে
তাঁর স্বামী অ্যালেক্স নিম্যান। শেষ পর্যন্ত ইতালিতে মাত্র ১১ হাজার ৫০০ ইউরো বা সে সময়ের হিসাবে ১৩ হাজার ১৫০ ডলারে একটি বাড়ি কিনে নতুন জীবন শুরু করেন তাঁরা। কয়েক দশক ধরে পরিত্যক্ত থাকা বাড়িটি বসবাসের উপযোগী করতে আরও প্রায় ১৪ হাজার থেকে ১৮ হাজার ডলার খরচ করেন এই মার্কিন দম্পতি। এখন ইতালিতেই মেয়েকে নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন তাঁরা। ওয়াশিংটনে জন্ম নেওয়া ক্যাসান্দ্রার বয়স ৩৩ বছর, আর তাঁর স্বামী অ্যালেক্সের বয়স ৩৪। ২০২০ সালে তাঁদের মেয়ের জন্মের সময় তাঁরা চেক প্রজাতন্ত্রে ক্যাসান্দ্রার দাদার সঙ্গে থাকছিলেন। এর আগে ইউরোপের বিভিন্ন জায়গায় ঘোরার সময় দাদার বাড়িকে অস্থায়ী ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করছিলেন তাঁরা। সন্তান জন্মের পর যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাবেন—বন্ধুদের কাছে এমন কথাই বলেছিলেন ক্যাসান্দ্রা। কিন্তু সন্তান জন্মের পর যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে গেলে বাড়ি কেনা এবং সন্তানের দেখাশোনার জন্য কতটা ব্যয় করতে হবে, তা হিসাব করে তাঁদের পরিকল্পনা বদলে যায়। ক্যাসান্দ্রার উপলব্ধি হয়, দেশে ফিরে গেলে জীবনযাপনের খরচ অনেক বেড়ে যেতে পারে। তাই ইউরোপেই থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা খুঁজতে শুরু করেন তাঁরা। ক্যাসান্দ্রা বলেন, সন্তান হলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাবেন—এমনটাই ভেবেছিলেন। কিন্তু বাড়ি কেনা ও শিশুর যত্নের খরচ সম্পর্কে জানার পর সেই সিদ্ধান্ত আর বাস্তবায়িত হয়নি। ইতালির বিভিন্ন শহরে বিদেশি ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে মাত্র এক ইউরোতে বাড়ি বিক্রির উদ্যোগের খবর তাঁদের নজরে আসে। জনসংখ্যা কমে যাওয়া শহর ও গ্রামগুলোতে নতুন বাসিন্দা আনা, পরিত্যক্ত বাড়ি সংস্কার করা এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে সচল করাই এ ধরনের উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। তবে এক ইউরোর বাড়ি কেনার বিজ্ঞাপন দেখলেই যে সত্যিকার অর্থে এত কম খরচে বাড়ির মালিক হওয়া যাবে, তা নয়। কোনো কোনো এলাকায় এক ইউরো কেবল প্রতীকী মূল্য। আবার কোথাও নিলামের মাধ্যমে দাম নির্ধারিত হয়, যা শেষ পর্যন্ত কয়েক হাজার ইউরোতে পৌঁছাতে পারে। বাড়ি কেনার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংস্কার শেষ করার শর্তও থাকতে পারে। তাই বাড়ি কেনার আগে প্রকৃত ব্যয় কত হতে পারে, তা যাচাই করতে চেয়েছিলেন ক্যাসান্দ্রা। তাঁদের লক্ষ্য ছিল বাড়ি কিনতে ২০ হাজার ইউরো বা সে সময়ের হিসাবে প্রায় ২৩ হাজার ৬২৭ ডলারের বেশি খরচ না করা। অনলাইনে বাড়ি খোঁজার পাশাপাশি নিজের চোখে সম্পত্তি দেখার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ইতালিতে বাড়ির সন্ধান ২০২১ সালে ইতালির আব্রুজ্জো ও তুসকানি অঞ্চলে বাড়ি দেখতে যান এই দম্পতি। সব মিলিয়ে ১৫টি বাড়ি ঘুরে দেখেন তাঁরা। শেষ পর্যন্ত আব্রুজ্জো অঞ্চলে দুই তলা, দুই শয়নকক্ষের একটি বাড়ি পছন্দ হয় তাঁদের। বাড়িটির আয়তন এক হাজার ৭৬ বর্গফুটের সামান্য কম। নিচতলার নিচে থাকা বেসমেন্টে আরেকটি শয়নকক্ষ এবং ওপরে একটি চিলেকোঠাও ছিল। বাড়ি সংস্কারে যে উল্লেখযোগ্য অর্থ খরচ হবে, তা শুরু থেকেই বুঝতে পেরেছিলেন তাঁরা। তাই বাড়ি বাছাইয়ের ক্ষেত্রে দামকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি বাড়ির টেরেস থেকে সুন্দর দৃশ্য দেখা যায় কি না, সেটিও ছিল ক্যাসান্দ্রার কাছে অপরিহার্য শর্ত। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিটি বাড়ির সুবিধা-অসুবিধা এবং দাম তুলনা করতে তিনি তালিকা তৈরি করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত আব্রুজ্জো অঞ্চলকে তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী মনে হয়। তখন এলাকার জীবনযাত্রা সম্পর্কে তাঁর বিশেষ ধারণা ছিল না; মূল বিবেচনা ছিল ভালো দামে বাড়ি কেনা এবং টেরেস থেকে সুন্দর দৃশ্য পাওয়া। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাড়িটির কেনাকাটা সম্পন্ন করেন তাঁরা। পুরো অর্থ নগদে পরিশোধ করায় কোনো বাড়ি কেনার ঋণ নিতে হয়নি। কয়েক দশক ধরে খালি পড়ে থাকা বাড়িটি তখন বসবাসের উপযোগী ছিল না। দেয়াল নতুন করে মেরামত করা, বৈদ্যুতিক সংযোগের কাজ, জানালা-দরজা পরিবর্তন এবং রান্নাঘর ও বাথরুম পুরোপুরি সংস্কারের প্রয়োজন ছিল। নিজেরাই করলেন বেশির ভাগ সংস্কার বাড়ির সংস্কার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে অ্যালেক্স নিজেই বেশির ভাগ কাজ করেন। তবে পানির সংযোগ ও পাইপলাইনের মতো কিছু কাজের জন্য পেশাদার কর্মী নিয়োগ করতে হয়। দম্পতির হিসাব অনুযায়ী, বাড়িটি সংস্কারে তাঁদের মোট ১২ হাজার থেকে ১৫ হাজার ইউরো খরচ হয়, যা প্রায় ১৪ হাজার ২০৭ থেকে ১৭ হাজার ৭৫৮ ডলারের সমান। সংস্কারের সময় টেরেসের আকার বাড়ানো হয়। নিচতলায় নতুন একটি বাথরুম তৈরি করা হয় এবং বেসমেন্টকে অতিথিদের থাকার উপযোগী করে সাজানো হয়। ২০২২ সালের শরৎকালে সংস্কারের বেশির ভাগ কাজ শেষ হয়। পরে ২০২৩ সালে বেসমেন্ট ও চিলেকোঠার কাজও নতুন করে করা হয়। বাড়ির অন্দরসজ্জায় প্রচলিত একটি নির্দিষ্ট ধরন অনুসরণ না করে নানা রকম নকশা ও রঙের সমন্বয় করেন ক্যাসান্দ্রা। পুরোনো আসবাব ও সাজসজ্জার সামগ্রী খুঁজতে বিভিন্ন ব্যবহৃত পণ্যের দোকান এবং খোলা বাজারে ঘুরেছেন তিনি। বাড়িতে প্রাকৃতিক উপকরণ, উষ্ণ ও শীতল রঙের মিশ্রণ এবং নানা রঙের ব্যবহারকে গুরুত্ব দেন। ক্যাসান্দ্রার মতে, বাড়িটি আকারে ছোট হওয়ায় তিনি একে প্রাণবন্ত ও আনন্দময় করে তুলতে চেয়েছিলেন। ঘরের প্রতিটি জিনিসের পেছনে তাঁর নিজস্ব ভাবনা রয়েছে। কোনো জিনিস কোথা থেকে সংগ্রহ করেছেন, সেটির সঙ্গে স্মৃতি জড়িয়ে থাকুক—এমনটাই ছিল তাঁর ইচ্ছা। ঋণ নেই, তবে রয়েছে নিয়মিত খরচ বাড়ির জন্য কোনো বন্ধকী ঋণ না থাকায় দম্পতির আর্থিক চাপ অনেকটাই কমেছে। ক্যাসান্দ্রার মতে, আয় কমে গেলে বা অর্থের টান পড়লেও অন্তত বাড়ির ঋণ পরিশোধ নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে হয় না। পরিবারের মাথা গোঁজার নিরাপদ জায়গা থাকায় তিনি আর্থিক স্বাধীনতা অনুভব করেন। তবে বাড়ির মালিক হওয়ার অর্থ এই নয় যে সেখানে বসবাসের জন্য আর কোনো খরচ নেই। তাঁদের হিসাব অনুযায়ী, ইন্টারনেটের জন্য মাসে ১২ ইউরো বা প্রায় ১৪ ডলার দিতে হয়। বছরে সম্পত্তি কর ৬১ ইউরো এবং আবর্জনা অপসারণের জন্য ২৮৬ ইউরো খরচ হয়। এ ছাড়া প্রতি দুই মাসে পানির বিল প্রায় ৯১ ইউরো এবং বিদ্যুতের বিল ২১৭ ইউরো। শীতকালে ঘর গরম রাখতে তাঁরা কাঠের গুঁড়া থেকে তৈরি জ্বালানির পেলেট ব্যবহার করেন। এ জন্য সপ্তাহে অতিরিক্ত প্রায় ৪২ ইউরো পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে, যা মাসে প্রায় ২০০ ডলারের সমান। ইতালিতে স্থায়ী হওয়ার পর ক্যাসান্দ্রা প্রযুক্তি খাতের চাকরি ছেড়ে ভ্রমণবিষয়ক ব্লগ ও নিউজলেটারের জন্য কনটেন্ট তৈরি শুরু করেন। পাশাপাশি অন্য একজন ভ্রমণবিষয়ক ব্লগারের কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বও পালন করছেন। অ্যালেক্স আগে কসাই হিসেবে কাজ করতেন। এখন তাঁদের দ্বিতীয় বাড়িটি পরিচালনা করেন, যেটি পর্যটকদের কাছে স্বল্পমেয়াদে ভাড়া দেওয়া হয়। দ্বিতীয় বাড়িও কিনেছেন তাঁরা ২০২৪ সালে ইতালিতে আরেকটি বাড়ি কেনেন এই দম্পতি। শহরের গ্রামীণ এলাকায় অবস্থিত একতলা বাড়িটিতে দুটি শয়নকক্ষ ও একটি বাথরুম রয়েছে। বাড়িটির সঙ্গে নিজস্ব জমি ও ব্যক্তিগত বাগানও আছে। এর দাম ছিল ১৭ হাজার ইউরো, যা প্রায় ২০ হাজার ৮৩ ডলারের সমান। এই দ্বিতীয় বাড়িটি তাঁরা পর্যটকদের কাছে ভাড়া দেন। সেখানে প্রতি রাতের ভাড়া সর্বোচ্চ ৮৫ ইউরো বা প্রায় ১০১ ডলার হতে পারে। তবে দ্বিতীয় বাড়িটি থাকার জন্য ব্যবহার না করে ভাড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। কারণ, ক্যাসান্দ্রার কাছে শহরের কেন্দ্রস্থলে থাকা বেশি পছন্দের। সেখান থেকে হেঁটেই দৈনন্দিন প্রয়োজনের বিভিন্ন জায়গায় যাওয়া যায়। এখনই ইতালি ছেড়ে যাওয়ার পরিকল্পনা নেই তাঁদের। মেয়ের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত স্পষ্ট হওয়ার পর হয়তো অন্য কোথাও যাওয়ার কথা ভাববেন। তবে সেটি অন্তত আগামী ১০ বছরের মধ্যে ঘটবে বলে মনে করেন না ক্যাসান্দ্রা। তিনি চান, মেয়ে স্থিতিশীল পরিবেশে বেড়ে উঠুক। দম্পতি সাধারণত বছরে একবার যুক্তরাষ্ট্রে যান। দেশটিকে তাঁরা নিজেদের বাড়ি হিসেবেই মনে করেন। কিন্তু প্রতিবার ফিরে গেলে আগের পরিচিত পরিবেশ যেন আরও অপরিচিত মনে হয় বলে জানান ক্যাসান্দ্রা। তাঁর শৈশবের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এখনকার অভিজ্ঞতা
জেরিরিগএভরিথিংয়ের পরীক্ষায় টিকল না আইফোন ডুয়ো, ধুলা ও চাপে বিকল স্ক্রিন
অফিসে ফিরতে বিদেশ থেকে যাত্রা, পৌঁছেই চাকরিচ্যুত হওয়ার দাবি কর্মীর
ব্রণের সমস্যা সারাতে মাসের পর মাস মুখ ধোননি ইনফ্লুয়েন্সার, জমেছে সবুজাভ স্তর
দুবাইয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক উদ্যোগ মেঙ্গো ইঞ্জিন গড়ে তুলেছে ভারতীয় বংশোদ্ভূত কিশোর জয়নম জৈন। ২০২৬ সালের জুনে প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে তার বয়স ১৪ বছর বলে উল্লেখ করা হয়। ছোট ব্যবসার বিপণন ও গ্রাহক যোগাযোগের কাজ সহজ করার লক্ষ্য নিয়ে তৈরি এই উদ্যোগের অফিস বুর্জ খলিফার ১৪১তম তলায় বলে সেসব প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। জয়নমের পরিবারের আদি নিবাস ভারতের পুনেতে। ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় পাঁচ বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে দুবাইয়ে যায় সে। ছোটবেলা থেকেই বাবার মাধ্যমে ব্যবসার পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায়। সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জয়নম জানিয়েছে, ছয় বছর বয়সে বাবার সঙ্গে প্রথম ব্যবসায়িক বৈঠকে গিয়েছিল সে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান শুরুর আগেই ছোট বোনের সঙ্গে ইউটিউবে ভিডিও তৈরি করত জয়নম। ইকোনমিক টাইমস জানিয়েছে, সাত বছর বয়সে শুরু করা সেই চ্যানেলে বিজ্ঞানভিত্তিক পরীক্ষার ভিডিও প্রকাশ করা হতো। প্রতিবেদনের হিসাবে, তিন মাসের মধ্যে চ্যানেলটি এক লাখের বেশি সাবস্ক্রাইবার পায়। পড়াশোনার ক্ষেত্রেও প্রচলিত সময়সূচির বাইরে এগোনোর চেষ্টা করে জয়নম। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১২ বছর বয়সে সে বিকল্প শিক্ষাপদ্ধতি নিয়ে খোঁজ শুরু করে। পরে জয়পুরের একটি স্কুলের সহায়তায় কেমব্রিজ আইজিসিএসই পরীক্ষায় অংশ নেয়। তার সাক্ষাৎকারের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, প্রায় ১০৫ দিনের প্রস্তুতি ও পরীক্ষার প্রক্রিয়া শেষে ১৩ বছর বয়সে দশম শ্রেণির সমমানের এই ধাপ সম্পন্ন করে সে। এরপর নিজের উদ্যোগে সময় দেওয়ার দিকে মনোযোগ দেয় জয়নম। মেঙ্গো ইঞ্জিনকে ব্যবসার জন্য সহায়ক একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তুলে ধরেছে সে। বিপণনের পরিকল্পনা, কনটেন্ট তৈরি, সম্ভাব্য ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ এবং গ্রাহকসেবার বিভিন্ন কাজ এক জায়গা থেকে পরিচালনায় সহায়তা করা এর লক্ষ্য। তবে উদ্যোগটি তখনো উন্নয়ন ও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে ছিল। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে জয়নমের বরাতে বলা হয়, প্রায় ১০০টি ব্যবসা সেবাটি ব্যবহারের অপেক্ষমাণ তালিকায় যোগ দিয়েছিল। এই সংখ্যা অর্থ পরিশোধকারী গ্রাহক বা প্রতিষ্ঠানের আয় নির্দেশ করে না। প্রযুক্তি শেখার জন্য আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের চেয়ে নিজে পরীক্ষা করার ওপর বেশি নির্ভর করেছে বলে জানিয়েছে জয়নম। এমিরেটস টোয়েন্টিফোর সেভেনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারের বরাতে ইকোনমিক টাইমস লিখেছে, বিভিন্ন পণ্য ব্যবহার, ইউটিউব দেখে শেখা এবং নতুন বিষয় নিয়ে কৌতূহল থেকেই তার শেখার বড় অংশ এসেছে।
সন্তানকে মানসিকভাবে শক্তিশালী করতে চান, অভিভাবকদের নীরবে যে পাঁচটি কাজ করা জরুরি
প্রায় ৮ লাখ পর্যটকের ভোটে ২০২৬ সালের সেরা ক্রুজ লাইনের তালিকায় শীর্ষে যারা