সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

ক্যালিফোর্নিয়ার পানি সরবরাহ ব্যবস্থা হ্যাকের দাবি ইরানি হ্যাকারদের

Unknown প্রকাশ: জুন ১৩, ২০২৬ ২৩:০
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের কয়েকটি শহরের পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় অনুপ্রবেশের দাবি করেছে একটি ইরান-সমর্থিত হ্যাকার গোষ্ঠী। তবে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গোষ্ঠীটির দাবি নিয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন, কারণ তারা অতীতেও নিজেদের সক্ষমতা অতিরঞ্জিত করে দেখানোর অভিযোগে সমালোচিত হয়েছে।

 

‘হান্দালা’ নামে পরিচিত হ্যাকার গোষ্ঠীটি বৃহস্পতিবার দাবি করে, তারা ক্যালিফোর্নিয়ার বেকার্সফিল্ড, ভিসালিয়া এবং চিকো শহরের পানি ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু সিস্টেমে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছে। নিজেদের দাবির পক্ষে তারা কিছু নথি ও স্ক্রিনশটও প্রকাশ করেছে, যেখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের পানি বিলের তথ্য দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।

 

গোষ্ঠীটির বক্তব্য অনুযায়ী, সম্প্রতি ইরানের কিছু জলাধারে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবেই এই সাইবার অভিযান চালানো হয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা দাবি করে, ইরানের সিরিক অঞ্চলের পানির উৎস ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনার জবাব হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

 

তবে হ্যাকাররা একই সঙ্গে জানিয়েছে, তারা ক্যালিফোর্নিয়ার পানি সরবরাহ বন্ধ করেনি এবং আপাতত এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনাও নেই। তাদের ভাষ্য, এটি ছিল মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-কে উদ্দেশ্য করে দেওয়া একটি ‘সতর্কবার্তা’।

হান্দালা আরও দাবি করেছে, তারা অনুপ্রবেশের সময় প্রায় ৫ গিগাবাইট তথ্য সংগ্রহ করেছে। তবে এই দাবির সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

 

অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট পানি সরবরাহ প্রতিষ্ঠানগুলো হ্যাকারদের দাবি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। ক্যালিফোর্নিয়া ওয়াটার সার্ভিস (ক্যালওয়াটার) জানিয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ের নিরাপত্তা পরীক্ষায় তাদের তথ্যপ্রযুক্তি বা পানি উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো অনুপ্রবেশের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র বলেন, অভ্যন্তরীণ তথ্যপ্রযুক্তি ও পরিচালন নেটওয়ার্কে বিস্তারিত পরীক্ষা চালানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ইঙ্গিত মেলেনি। তবে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

 

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একাংশও হ্যাকারদের দাবিকে সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়নের পরামর্শ দিয়েছেন। সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান বিয়ন্ডট্রাস্টের প্রধান তথ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তা শন মালোন বলেন, হান্দালা অতীতেও নিজেদের সক্ষমতা নিয়ে অতিরঞ্জিত দাবি করেছে। তার মতে, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা অক্ষত রেখেছে বলে যে প্রচার চালানো হচ্ছে, সেটিও সম্ভবত মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব তৈরির কৌশলের অংশ।

 

তবে বিশেষজ্ঞরা একই সঙ্গে সতর্ক করেছেন, পানি সরবরাহ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বিদেশি প্রতিপক্ষ ও সাইবার অপরাধীদের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই আকর্ষণীয় লক্ষ্যবস্তু। তাই এমন দাবি সম্পূর্ণভাবে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।

ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। সাম্প্রতিক সামরিক ও কূটনৈতিক ঘটনাবলির কারণে দুই দেশের সম্পর্ক আবারও আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

 

এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে এবং দুই পক্ষ শিগগিরই একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই চুক্তির মাধ্যমে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, ক্যালিফোর্নিয়ার পানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে হ্যাকারদের এই দাবি সত্য হোক বা না হোক, ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে পানি, বিদ্যুৎ, পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার মতো খাতগুলো ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের সাইবার ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে তারা সতর্ক করছেন।

 

তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হ্যাকারদের দাবির সত্যতা নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। তবে ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক সাইবার সংঘাতের নতুন বাস্তবতা নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো করেছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
ইরাকের পবিত্র নগরী নাজাফে গরুর মাংসের নামে শূকরের মাংস বিক্রির ঘটনায় এক কসাইকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফে গরুর মাংস বলে শুকরের মাংস বিক্রি, কসাইয়ের ১০ বছরের কারাদণ্ড

ইরাকের পবিত্র নগরী নাজাফে গরুর মাংসের নামে শূকরের মাংস বিক্রির দায়ে এক কসাইকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দেশটির সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল জানিয়েছে, ওই কসাইয়ের কাছ থেকে ৭৫ কেজি শূকরের মাংস উদ্ধার করা হয়েছিল। তিনি মাংসটি গরুর মাংস হিসেবে বিক্রি করছিলেন বলে আদালতে বিষয়টি উঠে এসেছে।   সোমবার নাজাফের ফৌজদারি আদালত ওই ব্যক্তিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন। ইরাকের সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল এক বিবৃতিতে জানায়, মানবদেহের জন্য অনুপযোগী মাংস বিক্রির দায়ে তাকে এই সাজা দেওয়া হয়েছে।   আদালত ১৯৯৮ সালের একটি আইনের আওতায় এই রায় দিয়েছেন। ওই আইনে কুকুর, গাধা কিংবা অন্য কোনো প্রাণীর এমন মাংস বিক্রি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়, যা মানুষের খাওয়ার উপযোগী নয়। আদালতের রায়ে মূলত মাংসটি মানুষের খাদ্য হিসেবে অনুপযোগী হওয়ার বিষয়টিকেই আইনি ভিত্তি হিসেবে নেওয়া হয়েছে।   ইরাকে শূকরের মাংস বিক্রি নিষিদ্ধ করার জন্য সরাসরি কোনো আইন নেই। দেশটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও সেখানে খ্রিষ্টানসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করেন। তবে মুসলিমদের জন্য শূকরের মাংস খাওয়া ইসলামে নিষিদ্ধ হওয়ায় দেশটির সামাজিক ও ধর্মীয় বাস্তবতায় বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল।   নাজাফ ইরাকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় নগরী। শহরটিতে শিয়া মুসলিমদের অন্যতম পবিত্র স্থাপনা ইমাম আলীর মাজার অবস্থিত। প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখ লাখ মানুষ সেখানে ধর্মীয় সফরে আসেন। ফলে শহরের খাবারের মান ও নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয়দের পাশাপাশি দর্শনার্থীদেরও উদ্বেগ রয়েছে।   পুলিশ চলতি মাসে ওই কসাইকে গ্রেপ্তার করে। এরপর তার কাছে বিপুল পরিমাণ শূকরের মাংস পাওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, মাংসটি গরুর মাংস হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছিল।   ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ইরাকের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। কেউ কেউ খাদ্য নিরাপত্তা ও বাজারে মাংসের উৎস যাচাইয়ের বিষয়ে আরও কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন। আবার অনেকে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে রসিকতাও করেছেন এবং শূকরের ছবি বা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন।   নাজাফের বাসিন্দা আহমেদ আল-মানসুরি বার্তা সংস্থা এএফপিকে রসিকতা করে বলেছেন, গত কয়েক বছরে তিনি গরু বা খাসির মাংসের চেয়ে বেশি শূকরের মাংস খেয়ে থাকতে পারেন। তিনি জানান, নিয়মিত যে কসাইয়ের কাছ থেকে মাংস কিনতেন, সেখান থেকেই তিনি প্রতারিত হয়েছেন।   মানসুরির ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় তিনি ওই দোকান থেকে এক কেজি কিমা করা মাংস কিনেছিলেন। মাংসটির মান ভালো এবং বাজারদরের তুলনায় দাম কম হওয়ায় তিনি সেটিকে গরুর মাংস হিসেবেই ধরে নিয়েছিলেন। মাংস পছন্দ হওয়ায় তিনি পরে ওই কসাইয়ের দোকানে আরও নিয়মিত যাতায়াত শুরু করেন।   পরে কসাইকে শূকরের মাংস বিক্রির অভিযোগে গ্রেপ্তার করার খবর পেয়ে তিনি ও অন্য ক্রেতারা বিস্মিত হন। মানসুরি বলেন, তারা এতদিন যে মাংস কিনেছেন, সেটি আসলে কী ছিল তা জানতে পেরে বিষয়টি তাদের কাছে অপ্রত্যাশিত ছিল।   ঘটনাটি খাদ্য বিক্রির ক্ষেত্রে পণ্যের পরিচয় ও মান নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বও সামনে এনেছে। বিশেষ করে গরু, খাসি বা অন্যান্য মাংসের নামে ভিন্ন প্রাণীর মাংস বিক্রি করা হলে তা শুধু ধর্মীয় বিশ্বাসের বিষয় নয়, ভোক্তার সঙ্গে প্রতারণা এবং খাদ্য নিরাপত্তার প্রশ্নও তৈরি করে।   ইরাকি আদালতের এই রায় এমন এক সময়ে এলো, যখন নাজাফে ধর্মীয় পর্যটন ও তীর্থযাত্রীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। শহরের খাবারের বাজারে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ থেকে আসা মানুষেরও নির্ভরতা রয়েছে। তাই খাদ্যপণ্যের উৎস ও মান নিয়ে আস্থা বজায় রাখা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   সূত্র: দ্য নিউ আরব ও এএফপি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ২২:২৯
বুধের বুকে জয়নুল আবেদিনের নাম— ‘আবেদিন’ ক্রেটার

বুধ গ্রহের গায়ে বাংলাদেশের জয়নুল আবেদিনের নাম, মহাকাশে লেখা এক শিল্পীর পরিচয়

অটিজম ছেলের জন্য খুঁজলেন নিরাপদ আশ্রয়

মৃত্যুর আগে ১ হাজার প্রতিষ্ঠানে ছুটলেন বাবা, অটিজম ছেলের জন্য খুঁজলেন নিরাপদ আশ্রয়

সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারকে বিয়েতে রিজেক্ট করলেন নারী

এআই চাকরি কেড়ে নিতে পারে, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারকে বিয়েতে রিজেক্ট করলেন নারী

নেটওয়ার্ক ঠিকমতো না পাওয়ায় টেকনিশিয়ানকে টাওয়ারে বেঁধে রাখল গ্রামবাসী
নেটওয়ার্ক ঠিকমতো না পাওয়ায় টেকনিশিয়ানকে টাওয়ারে বেঁধে রাখল গ্রামবাসী

ভারতের উত্তর প্রদেশের ফতেহপুর জেলার হারদৌলি গ্রামে দীর্ঘদিনের ৫জি নেটওয়ার্ক সমস্যার জেরে এক টেলিকম টেকনিশিয়ানকে মোবাইল টাওয়ারের সঙ্গে বেঁধে রাখার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবারের এ ঘটনায় টেকনিশিয়ান আদিত্য ভান সিংকে প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রাখা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নেটওয়ার্ক সমস্যার অভিযোগ দেখতে ওই গ্রামে গিয়েছিলেন সিং। সেখানে স্থানীয় কয়েকজন তাকে ঘিরে ধরে এবং ৫জি সংযোগের দুরবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে। একপর্যায়ে তাকে টাওয়ারের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে।    স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এলাকায় প্রায় দুই বছর ধরে মোবাইল নেটওয়ার্কের সমস্যা চলছে। সেখানে একটি বেসরকারি টেলিকম টাওয়ার স্থাপিত থাকলেও ৫জি সেবা ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছিল না। অনেক সময় বিদ্যুৎ থাকা সত্ত্বেও নেটওয়ার্ক কাজ করত না বলে অভিযোগ করেন তারা। এতে ফোন কল ও ইন্টারনেট ব্যবহারে সমস্যায় পড়ছিলেন বাসিন্দারা।    পুলিশ জানিয়েছে, বাসিন্দাদের একটি অংশ ৫জি প্যাকেজের জন্য অর্থ দিলেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছিলেন না বলে অভিযোগ করেন। তাদের দাবি ছিল, টেলিকম কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে এসে সমস্যার সমাধান না করা পর্যন্ত টেকনিশিয়ানকে ছেড়ে দেওয়া হবে না। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই অবশ্য সিংকে ছেড়ে দেওয়া হয়।    পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, সিং প্রায় তিন মাস আগে ওই টেলিকম কোম্পানিতে যোগ দিয়েছিলেন এবং ওই টাওয়ারে সেটিই ছিল তার প্রথম সফর। স্থানীয়দের দাবি, এর আগে কয়েক মাস ধরে সেখানে কোম্পানির কোনো কর্মী আসেননি। ফতেহপুরের পুলিশ সুপার অভিমন্যু মাঙ্গলিকের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, নেটওয়ার্ক সমস্যা নিয়ে ক্ষোভ থেকেই স্থানীয়রা তাকে আটকে রেখেছিলেন।    ঘটনার পর সিংয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা করে। ঘটনাস্থলে থাকা সাতজনকে শনাক্ত করা হয় এবং তাদের মধ্যে ছয়জনকে বেআইনিভাবে আটকে রাখার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হলে তারা জামিনে মুক্তি পান। ঘটনাটি নিয়ে পুলিশের তদন্ত এখনো চলছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ৩:২৪
কলকাতা থেকে ২২ হাজার রুপিতে এমবিবিএস সনদ

কলকাতা থেকে ২২ হাজার রুপিতে এমবিবিএস সনদ, দেশে ভুয়া চিকিৎসকের ভয়াবহ চিত্র

৪.০ জিপিএতে ১২৬ কলেজে আবেদন

৪.০ জিপিএতে ১২৬ কলেজে আবেদন, সবগুলোতেই চান্স; বৃত্তি ৯০ লাখ ডলারের বেশি

মিশন শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে সম্পর্ক ছিন্ন করল সেনাসদস্য

“সে উধাও হয়ে আমাদের অসহায় করে গেছে”: মিশন শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে সম্পর্ক ছিন্ন করল সেনাসদস্য

ডিএনএ পরীক্ষায় আপন বোনের পরিচয় পাওয়ার পর মীনা গেলটিঙ্ক ও মিনাল তিজেনের পুনর্মিলন। ছবি: সংগৃহীত
৪০ বছর পর ডিএনএ পরীক্ষায় জানা গেল, এতদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু আসলে আপন দুই বোন

নেদারল্যান্ডসে বড় হওয়া দুই নারী মীনা গেলটিঙ্ক ও মিনাল তিজেনের বন্ধুত্বের শুরু কৈশোরে। প্রায় তিন দশক ধরে তারা একে অপরকে বন্ধু হিসেবে চিনেছেন, চেহারা ও স্বভাবের মিল দেখে মজা করে ‘বোন’ও ডাকতেন। কিন্তু তখন কেউ জানতেন না, সেই সম্পর্ক আসলে রক্তের সম্পর্ক।   ভারতীয় বংশোদ্ভূত মীনা ও মিনাল দুজনকেই আশির দশকের শুরুর দিকে মুম্বাইয়ের আলাদা দুটি এতিমখানা থেকে দত্তক নেওয়া হয়। পরে তারা নেদারল্যান্ডসের দুই ভিন্ন পরিবারে বড় হন। তাদের দত্তক পরিবারগুলোর বাড়িও ছিল একে অপরের থেকে মাত্র প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরে।   ১৯৯৬ সালে কিশোরী বয়সে দত্তক নেওয়া শিশুদের জন্য আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্রথম দেখা হয় মীনা ও মিনালের। প্রথম দেখাতেই দুজনের মধ্যে অদ্ভুত এক পরিচিতির অনুভূতি তৈরি হয়। তাদের সঙ্গে থাকা বন্ধুরাও চেহারার মিল দেখে অবাক হয়েছিলেন। মীনার ভাষায়, মিনালের নাক, হাসি ও নানা অঙ্গভঙ্গির সঙ্গে তার নিজের অদ্ভুত মিল ছিল।   সেই পরিচয় দ্রুত বন্ধুত্বে পরিণত হয়। দুজন পরস্পরের ঠিকানা ও ফোন নম্বর নেন এবং চিঠির মাধ্যমে যোগাযোগ রাখতেন। স্কুল, বন্ধু, গান, খেলাধুলা থেকে শুরু করে কৈশোরের নানা বিষয় নিয়ে তাদের কথা হতো। এমনকি নিজেদের মধ্যে মজা করে একে অপরকে ‘বোন’ বলেও সম্বোধন করতেন।   তবে প্রায় ১৫ বছর আগে তাদের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। মিনাল পরে ফ্রান্সে চলে যান। অন্যদিকে মীনা সন্তান ও পরিবার নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এর মধ্যে ২০১৭ সালে নিজের জৈবিক পরিবারের সন্ধানে মীনা একটি ডিএনএ পরীক্ষা করেছিলেন। তবে তখন কোনো মিল পাওয়া যায়নি। চলতি বছরের শুরুর দিকে ফোনের জায়গা খালি করতে তিনি সেই পরীক্ষার অ্যাপও মুছে ফেলেন।   এপ্রিল মাসে মিনালও একই উদ্দেশ্যে একটি ডিএনএ পরীক্ষা করেন। মে মাসের ২০ তারিখে তিনি ফেসবুকে মীনাকে একটি বার্তা পাঠান, ‘আমাকে মনে আছে?’ বার্তার সঙ্গে তিনি নিজের ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের একটি ছবি পাঠান। মীনা দ্রুত অ্যাপটি আবার ইনস্টল করেন। এরপর পরীক্ষার ফল দেখে তিনি হতবাক হয়ে যান। ফলাফলে মিনালকে তার ‘পূর্ণ বোন’ হিসেবে দেখানো হয়। অর্থাৎ তারা একই জৈবিক মা ও বাবার সন্তান।   রয়টার্সকে মীনা বলেন, ফলাফলটি দেখার পর তার মনে হয়েছিল, দীর্ঘদিন ধরে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না এমন একটি ধাঁধার টুকরো যেন হঠাৎ হাতে এসেছে। এতদিন যে অনুভূতি ব্যাখ্যা করতে পারতেন না, ডিএনএ পরীক্ষার ফল সেটিকেই সত্য প্রমাণ করেছে। অন্যদিকে মিনাল প্রথমে বুঝতেই পারেননি, ডিএনএ পরীক্ষায় পাওয়া ‘মীনা’ সেই কিশোরী বন্ধু, যার সঙ্গে প্রায় ৩০ বছর আগে তার পরিচয় হয়েছিল। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মীনার ছবি দেখে বিষয়টি পরিষ্কার হয়।   আগস্টে নেদারল্যান্ডসের স-হার্টোজেনবস শহরে ডিএনএ পরীক্ষার ফল জানার পর দুই বোনের প্রথম দেখা হয়। দীর্ঘদিন পর দেখা হওয়ার মুহূর্তটি ছিল আবেগঘন। কান্না, হাসি ও আলিঙ্গনের মধ্য দিয়ে তারা একে অপরকে স্বাগত জানান। তাদের পরিবারের সদস্যরাও সেই পুনর্মিলনে উপস্থিত ছিলেন। মীনা বর্তমানে ৪৩ বছর বয়সী এবং তিন সন্তানের মা। তিনি নেদারল্যান্ডসে থাকেন। মিনালের বয়স ৪৪ বছর। তিনি ফ্রান্সে সঙ্গী ও দুই ছেলেকে নিয়ে বসবাস করেন।   দুই বোনের মধ্যে যোগাযোগও এখন আবার নিয়মিত হয়েছে। তারা প্রায় প্রতিদিন কথা বলছেন এবং একে অপরের স্বামী বা সঙ্গী, সন্তান, ভাইবোন ও পরিবারের সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন। তাদের পরিবারের সদস্যরাও লক্ষ্য করছেন, দুজনের কথা বলার ধরন, হাঁটা ও মাথা নাড়ার ভঙ্গিতেও এখনও অনেক মিল রয়েছে।   মিনাল বলেন, জীবনে তিনি সবসময় ভালোবাসা ও যত্ন পেয়েছেন, কিন্তু কোথাও একটা একাকিত্বের অনুভূতি ছিল। নিজের জৈবিক পরিবারের কাউকে খুঁজে পাওয়ার আশা তার ছিল। ডিএনএ পরীক্ষায় মীনাকে খুঁজে পাওয়ার পর সেই অনুভূতিতে পরিবর্তন এসেছে।   প্রায় ৩০ বছর আগে যে দুই কিশোরী বন্ধুত্বের বন্ধনে যুক্ত হয়েছিল, তারা তখন জানত না তাদের সম্পর্ক আরও গভীর। এখন সেই পুরোনো বন্ধুত্বের নতুন অর্থ খুঁজে পেয়েছেন তারা। মিনালের ভাষায়, তারা বোন হওয়ার আগে বন্ধু ছিল, অথচ এতদিন তারা বোনই ছিল, শুধু সেটা জানত না।   সূত্র: বিবিসি ও রয়টার্স।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ২৩:২৬
সুইডেনে মুসলিমদের সমঅধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার দাবি জানিয়েছে ভিজন পার্টি। ছবি: সংগৃহীত

মুসলিমদের সমান অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিতের আহ্বান সুইডেনের ভিজন পার্টির

‘দ্য শাইনিং সোলো’ রিয়েলিটি শোতে ইউ সান। ছবি: সংগৃহীত

সিলিকন পুতুলের মতো চেহারা, কোরীয় রিয়েলিটি শো তারকার ত্বক নিয়ে নেটিজেনদের আলোচনা

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন অভিবাসন বিধিনিষেধের প্রস্তাব করেছে ফিনল্যান্ড সরকার। ছবি: সংগৃহীত

ফিনল্যান্ডে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়ম কঠোর করছে সরকার, স্পাউজ ভিসা ও নাগরিকত্ব পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা

0 Comments