সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

ট্রাম্প সমর্থক স্ত্রীর স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে আইসিইর হাতে আটক ভেনেজুয়েলান অভিবাসী

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: জুন ১৩, ২০২৬ ২৩:৫০
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যে বসবাসকারী ভেনেজুয়েলান অভিবাসী ব্রায়ান হোসে রোহাস গালোফ্রে ভেবেছিলেন, স্ত্রীকে নিয়ে ফ্লোরিডার সমুদ্রসৈকত ঘুরবেন এবং সুযোগ পেলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এক নজর দেখবেন। কিন্তু সেই ভ্রমণই তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায়ে পরিণত হয়।

 

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে স্ত্রী সকোরো জারাগোসাকে নিয়ে উইসকনসিন থেকে মিয়ামির উদ্দেশে যাত্রা করেছিলেন রোহাস। তাদের পরিকল্পনা ছিল Trump National Doral হোটেলে থাকা এবং সেখানে অবস্থানরত প্রেসিডেন্ট Donald Trump-কে একবার দেখার চেষ্টা করা। কিন্তু হোটেলের নিরাপত্তা চৌকিতে তল্লাশির পরই তাদের জীবনের মোড় ঘুরে যায়।

 

রোহাসের ভাষ্য অনুযায়ী, গাড়ি তল্লাশির সময় নিরাপত্তাকর্মীরা একটি এয়ারসফট পিস্তল এবং একটি ধাতব গাঁজা পেষণযন্ত্র খুঁজে পান। এরপর স্থানীয় পুলিশ তাদের আটক করে। পরে বিষয়টি অভিবাসন কর্তৃপক্ষের নজরে গেলে রোহাসকে আইসিই (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) হেফাজতে নেওয়া হয়।

 

৩৪ বছর বয়সী রোহাস ২০২১ সালে ভেনেজুয়েলা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং আশ্রয়ের আবেদন করেন। মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনি বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি পান। উইসকনসিনের একটি ব্রেক ডিস্ক কারখানায় ঘণ্টায় ২৯ ডলার মজুরিতে কাজ করতেন এবং পরে সুপারভাইজার পদেও উন্নীত হন। ২০২৪ সালে তিনি মার্কিন নাগরিক সকোরো জারাগোসাকে বিয়ে করেন।

 

তবে মিয়ামির সেই ঘটনার পর পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে। রোহাস জানান, তার শরীরের উল্কি দেখে নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। তার বিরুদ্ধে ভেনেজুয়েলার কুখ্যাত অপরাধী চক্র ‘ট্রেন দে আরাগুয়া’র সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহ করা হয়। যদিও তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং দাবি করেন, তার উল্কিগুলো ব্যক্তিগত পছন্দের অংশ মাত্র।

 

এরপর প্রায় তিন মাস ফ্লোরিডার একটি আটক কেন্দ্রে কাটাতে হয় তাকে। এই সময়ে স্ত্রী ও সন্তানের সঙ্গে যোগাযোগও সীমিত ছিল। রোহাস বলেন, বন্দি অবস্থায় তিনি আশঙ্কা করছিলেন, তাকে এল সালভাদরে পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারে। কারণ তার সঙ্গে আটক থাকা অনেক ভেনেজুয়েলান নাগরিককে সেখানে স্থানান্তর করা হয়েছিল।

 

রোহাসের স্ত্রী সকোরো জারাগোসা, যিনি নিজেকে ট্রাম্প সমর্থক হিসেবে পরিচয় দেন, বলেন তিনি প্রেসিডেন্টকে এখনো সমর্থন করেন। তবে স্বামীর সঙ্গে যা ঘটেছে, সেটিকে তিনি অন্যায় বলে মনে করেন।

তার ভাষায়, “আমি মনে করি ট্রাম্প একজন ভালো প্রেসিডেন্ট। কিন্তু আমার পরিবারের সঙ্গে যা ঘটেছে, তা ন্যায্য হয়নি।”

 

অবশেষে ২০২৫ সালের এপ্রিলে একজন অভিবাসন বিচারক রোহাসকে ১৫ হাজার ডলারের জামিনে মুক্তির অনুমতি দেন। বিচারকের সিদ্ধান্তে ইঙ্গিত ছিল যে, তিনি রোহাসকে সমাজের জন্য হুমকি বা পালিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে দেখেননি। তবুও মুক্তি পেতে আরও কয়েক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হয় তাকে।

 

তবে কারামুক্তির পরও শেষ হয়নি তার দুর্ভোগ। হেফাজতে থাকার সময় তার কর্মসংস্থানের অনুমতিপত্রের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। নবায়ন হয়নি ড্রাইভিং লাইসেন্সও। আইনি লড়াই ও জামিনের খরচ মেটাতে পরিবারকে সঞ্চয় ভাঙতে হয়েছে। বিক্রি করতে হয়েছে বাড়ি ও গাড়ি। বর্তমানে তাদের ঋণের পরিমাণ ৮০ হাজার ডলারেরও বেশি বলে জানিয়েছেন রোহাস।

 

মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) রোহাসকে ‘অপরাধে অভিযুক্ত অবৈধ অভিবাসী’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে তার আইনজীবীরা আদালতের নথি দেখিয়ে দাবি করেছেন, রোহাসের বিরুদ্ধে কোনো গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার রেকর্ড নেই এবং তাকে মূলত অভিবাসন সংক্রান্ত অবস্থানের কারণেই আটক রাখা হয়েছিল।

 

বর্তমানে রোহাসের পরবর্তী অভিবাসন শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৮ সালে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আদালতগুলোতে ৩৩ লাখের বেশি মামলা ঝুলে থাকায় এমন দীর্ঘ অপেক্ষা এখন অস্বাভাবিক নয়।

 

এদিকে পরিবারের নতুন সদস্য হিসেবে একটি কন্যাশিশুর জন্ম হয়েছে। কিন্তু অর্থনৈতিক সংকট এতটাই গভীর যে সন্তানের জন্মের পরদিনই কাজে ফিরতে হয়েছিল জারাগোসাকে। তিনি বলেন, “আমাদের শিশুর জন্য কিছুই ছিল না। এই পুরো অভিজ্ঞতা আমাকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছে।”

 

রোহাস এখন বেশিরভাগ সময় পরিবারের সঙ্গেই কাটান। বাইরে গেলেও একা বের হতে চান না। কারণ তার আশঙ্কা, যেকোনো সময় আবারও তাকে আটক করা হতে পারে।

 

একসময় ট্রাম্পকে এক নজর দেখার স্বপ্ন নিয়ে শুরু হওয়া সফর আজ তাদের জীবনে গভীর আর্থিক ও মানসিক সংকটের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোহাসের কথায়, “আমি শুধু সঠিকভাবে কাজ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে আমার জীবনটাই বদলে গেছে।”


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ইবি-৫ বিনিয়োগ কর্মসূচিতে গ্রিন কার্ডের আবেদন
যুক্তরাষ্ট্রে ইবি-৫ বিনিয়োগকারী ভিসায় গ্রিন কার্ড, আবেদন থেকে স্থায়ী হওয়ার পুরো প্রক্রিয়া

বিনিয়োগের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পেতে বিদেশি নাগরিকদের জন্য ইবি-৫ অভিবাসী বিনিয়োগকারী কর্মসূচির আবেদন প্রক্রিয়া বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছে দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস)। এ কর্মসূচিতে আবেদন করতে কোন পর্যায়ে কোন ফরম জমা দিতে হবে, কীভাবে শর্তসাপেক্ষ স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়া যায় এবং পরবর্তী সময়ে সেই শর্ত তুলে নেওয়ার আবেদন করতে হয়—পুরো প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে ব্যাখ্যা করেছে সংস্থাটি। ইবি-৫ কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে বিনিয়োগের বিনিময়ে বিদেশি বিনিয়োগকারী এবং যোগ্য পরিবারের সদস্যরা গ্রিন কার্ড পাওয়ার সুযোগ পান। তবে শুধু বিনিয়োগ করলেই সরাসরি স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়া যায় না। আবেদনকারীকে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে একাধিক ধাপ সম্পন্ন করতে হয়। প্রথমে বিনিয়োগের ধরন অনুযায়ী আবেদন জমা দিতে হয়। এরপর ভিসা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হলে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত আবেদনকারীরা অবস্থান পরিবর্তনের আবেদন করতে পারেন, আর বিদেশে থাকা ব্যক্তিরা কনস্যুলার প্রক্রিয়ায় অভিবাসী ভিসার জন্য আবেদন করেন। প্রথম ধাপ: বিনিয়োগের ধরন অনুযায়ী আবেদন   ইবি-৫ প্রক্রিয়ার শুরুতে আবেদনকারীকে দুটি ফরমের মধ্যে একটি জমা দিতে হয়। নিজ উদ্যোগে বা স্বতন্ত্রভাবে বিনিয়োগ করলে জমা দিতে হবে ফরম আই-৫২৬ (ইমিগ্র্যান্ট পিটিশন বাই স্ট্যান্ডঅ্যালোন ইনভেস্টর)। আর ইউএসসিআইএস অনুমোদিত আঞ্চলিক কেন্দ্রের মাধ্যমে বিনিয়োগ করলে প্রয়োজন হবে ফরম আই-৫২৬ই (ইমিগ্র্যান্ট পিটিশন বাই রিজিওনাল সেন্টার ইনভেস্টর)।   অর্থাৎ, আবেদনকারী কোন পদ্ধতিতে যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ করছেন, তার ওপর নির্ভর করবে কোন ফরম ব্যবহার করতে হবে। দুটি ফরমের উদ্দেশ্য একই হলেও বিনিয়োগের কাঠামো আলাদা। স্বতন্ত্র বিনিয়োগকারীর আবেদন এবং আঞ্চলিক কেন্দ্রের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীর আবেদন আলাদাভাবে বিবেচনা করা হয়।   দ্বিতীয় ধাপ: যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান পরিবর্তন অথবা বিদেশ থেকে ভিসার আবেদন প্রাথমিক বিনিয়োগ আবেদন জমা দেওয়ার পরবর্তী ধাপ নির্ভর করবে আবেদনকারীর অবস্থান এবং অভিবাসী ভিসা পাওয়ার সুযোগের ওপর। যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে অবস্থান করছেন, তাঁদের জন্য রয়েছে ফরম আই-৪৮৫। এর মাধ্যমে তাঁরা স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে নিবন্ধন অথবা নিজেদের অভিবাসন অবস্থান পরিবর্তনের আবেদন করতে পারেন। তবে এ আবেদন জমা দেওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট ইবি-৫ শ্রেণিতে অভিবাসী ভিসা তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়ার সুযোগ থাকতে হবে। শর্ত পূরণ হলে আই-৫২৬ বা আই-৫২৬ই আবেদনের সঙ্গে একই সময়ে আই-৪৮৫ জমা দেওয়া যায়। প্রাথমিক আবেদন বিবেচনাধীন থাকলেও নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এ সুযোগ রয়েছে। আবার প্রাথমিক আবেদন অনুমোদনের পরও আই-৪৮৫ জমা দেওয়া যেতে পারে। অন্যদিকে, যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বসবাস করছেন এবং যাঁদের আই-৫২৬ বা আই-৫২৬ই আবেদন অনুমোদিত হয়েছে, তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মাধ্যমে ফরম ডিএস-২৬০ জমা দিতে পারেন। এটি অভিবাসী ভিসার আবেদন। এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ভিসা পেলে তাঁরা বিদেশ থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি চাইতে পারবেন।   তৃতীয় ধাপ: দুই বছরের শর্তসাপেক্ষ গ্রিন কার্ড   আই-৪৮৫ আবেদন অনুমোদিত হলে অথবা ডিএস-২৬০ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইবি-৫ অভিবাসী ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর বিনিয়োগকারী শর্তসাপেক্ষ স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পান। তাঁর যোগ্য পরিবারের সদস্যরাও এ সুবিধার আওতায় আসতে পারেন।   তবে এ পর্যায়ে গ্রিন কার্ডের মেয়াদ হয় দুই বছর। অর্থাৎ, প্রথমবার অনুমোদন পাওয়ার পরই বিনিয়োগকারী নিঃশর্ত স্থায়ী বাসিন্দা হয়ে যান না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্মসূচির শর্ত পূরণ করে পরবর্তী আবেদন জমা দিতে হয়। শেষ ধাপ: শর্ত তুলে নিতে আই-৮২৯ ফরম দুই বছরের শর্তসাপেক্ষ স্থায়ী বসবাসের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বিনিয়োগকারীকে ফরম আই-৮২৯ (পিটিশন বাই ইনভেস্টর টু রিমুভ কন্ডিশনস অন পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট স্ট্যাটাস) জমা দিতে হয়। দ্বিতীয়বার্ষিকী বা দুই বছর পূর্ণ হওয়ার ঠিক আগের ৯০ দিনের মধ্যে এ আবেদন করতে হবে।   ইউএসসিআইএস আবেদনটি অনুমোদন করলে বিনিয়োগকারীর স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা থেকে শর্ত তুলে নেওয়া হয়। একই আবেদনে অন্তর্ভুক্ত যোগ্য পরিবারের সদস্যদের ক্ষেত্রেও শর্ত প্রত্যাহার করা হয়। এর ফলে তাঁদের শর্তসাপেক্ষ গ্রিন কার্ড নিঃশর্ত স্থায়ী বসবাসের মর্যাদায় রূপ নেয়।   ইবি-৫ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে অর্থের প্রবাহ বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। এ কর্মসূচিতে বিনিয়োগকারীদের নতুন বাণিজ্যিক উদ্যোগে বিনিয়োগ করতে হয় এবং নির্ধারিত কর্মসংস্থান সৃষ্টির শর্তও পূরণ করতে হয়। তাই আবেদন করার আগে বিনিয়োগের ধরন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ভিসার প্রাপ্যতা এবং প্রতিটি ফরম জমা দেওয়ার সময়সীমা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি।   ইউএসসিআইএসের প্রকাশিত নির্দেশনায় আবেদন থেকে শুরু করে শর্তসাপেক্ষ গ্রিন কার্ড পাওয়া এবং পরবর্তী সময়ে শর্ত তুলে নেওয়ার প্রক্রিয়া তুলে ধরা হয়েছে। তবে এটি সবার জন্য একইভাবে প্রযোজ্য কোনো স্বয়ংক্রিয় অনুমোদন নয়। আবেদনকারীর বিনিয়োগের ধরন, অভিবাসন অবস্থা এবং ভিসা পাওয়ার সুযোগের ওপর নির্ভর করবে পরবর্তী পদক্ষেপ।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩০, ২০২৬ ৭:৪২
ডিভি লটারি নিয়ে নতুন আইনি অনিশ্চয়তা

ডিভি লটারি চালুর নির্দেশে স্থগিতাদেশ, ২০২৭ সালের গ্রিন কার্ড আবেদন নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা

যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই নিয়মিত খাবার খাওয়ার খরচ সামলাতে পারছেন না। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় না খেয়ে থাকছেন অনেকে, বিপাকে সাধারণ পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী প্রায় ৪৩ শতাংশ কিশোর-কিশোরী গত এক বছরে কোনো না কোনো জুয়ায় অংশ নিয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ৪৩ শতাংশ কিশোর জুয়ায় জড়িয়েছে, নতুন জরিপে উদ্বেগজনক তথ্য

যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে গড় ব্যালেন্স প্রায় ১৬ হাজার ৮৯১ ডলার হলেও মধ্যম ব্যালেন্স মাত্র ২ হাজার ৮০০ ডলার। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে চেকিং অ্যাকাউন্টে গড়ে ১৬ হাজার ৮৯১ ডলার, জেনে নিন বাস্তবতা

যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাংকের চেকিং অ্যাকাউন্টে একজন অ্যাকাউন্টধারীর গড় ব্যালেন্স প্রায় ১৬ হাজার ৮৯১ ডলার। তবে এই অঙ্ক দেখে সাধারণ মানুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এত টাকা রয়েছে বলে মনে করার সুযোগ নেই। বাস্তবে মধ্যম বা মিডিয়ান ব্যালেন্স মাত্র ২ হাজার ৮০০ ডলার। ফেডারেল রিজার্ভের তথ্য বিশ্লেষণ করে আর্থিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়ালেটহাব এই হিসাব প্রকাশ করেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই বিশাল পার্থক্য তুলে ধরা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের আর্থিক অবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র সামনে এনেছে।   ওয়ালেটহাবের বিশ্লেষণে ব্যবহৃত পরিসংখ্যানটি ২০২২ সালের ফেডারেল রিজার্ভের সার্ভে অব কনজিউমার ফাইন্যান্সেস থেকে নেওয়া। সেখানে দেখা যায়, চেকিং অ্যাকাউন্টে গড় ব্যালেন্স ১৬ হাজার ৮৯১ ডলার হলেও মিডিয়ান ব্যালেন্স মাত্র ২ হাজার ৮০০ ডলার। অর্থাৎ অর্ধেক অ্যাকাউন্টধারীর ব্যালেন্স এই পরিমাণের নিচে এবং বাকি অর্ধেকের ওপরে। তুলনামূলকভাবে বেশি অর্থ থাকা কিছু অ্যাকাউন্ট গড় হিসাবকে অনেক ওপরে নিয়ে গেছে। ফলে গড় ব্যালেন্স দিয়ে সাধারণ পরিবারের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা বোঝা কঠিন।   আয়ের ভিত্তিতে এই পার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ২০২২ সালের হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বনিম্ন আয়ের ২০ শতাংশ পরিবারের চেকিং অ্যাকাউন্টে মিডিয়ান ব্যালেন্স ছিল মাত্র ৩০০ ডলার। অন্যদিকে সর্বোচ্চ আয়ের ১০ শতাংশ পরিবারের ক্ষেত্রে এই অঙ্ক ছিল ২২ হাজার ডলার। অর্থাৎ আয়ের পার্থক্যের সঙ্গে ব্যাংকে জমা অর্থের পরিমাণেও বড় ব্যবধান রয়েছে। বিশেষ করে কম আয়ের পরিবারগুলোর জন্য হঠাৎ চিকিৎসা খরচ, গাড়ি মেরামত কিংবা অন্য কোনো জরুরি ব্যয় সামাল দেওয়া কঠিন হতে পারে।   তবে ফেডারেল রিজার্ভের সর্বশেষ ২০২৫ সালের জরিপে চেকিং অ্যাকাউন্টের পাশাপাশি সেভিংস, মানি মার্কেটসহ বিভিন্ন ধরনের ট্রানজ্যাকশন অ্যাকাউন্টের তথ্যও প্রকাশ করা হয়েছে। চলতি বছরের ৯ অক্টোবর প্রকাশিত ওই জরিপ অনুযায়ী, এসব অ্যাকাউন্টে মিডিয়ান ব্যালেন্স ছিল ৮ হাজার ২০০ ডলার। মূল্যস্ফীতি সমন্বয়ের পর ২০২২ সালের তুলনায় এই অঙ্ক প্রায় ৬ শতাংশ কমেছে। এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সব ধরনের ট্রানজ্যাকশন অ্যাকাউন্টের সম্মিলিত হিসাবকে শুধু চেকিং অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স হিসেবে দেখানো যাবে না।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিসহ অভিবাসী পরিবারগুলোর দৈনন্দিন আর্থিক ব্যবস্থাপনায় চেকিং অ্যাকাউন্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সাধারণত চাকরির পেচেক জমা, রেন্ট, মর্টগেজ, ইউটিলিটি বিল, গাড়ির কিস্তি এবং অন্যান্য নিয়মিত খরচ এই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ফলে মাসের শুরুতে অ্যাকাউন্টে যে পরিমাণ অর্থ থাকে, বিভিন্ন বিল পরিশোধের পর তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। এ কারণে একটি নির্দিষ্ট সময়ে অ্যাকাউন্টে থাকা অর্থ দিয়ে পরিবারের মোট সম্পদ বা সঞ্চয়ের পরিমাণ নির্ধারণ করা যায় না।   আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মতে, চেকিং অ্যাকাউন্টে কত টাকা রাখা উচিত, সেটি নির্ভর করে ব্যক্তির মাসিক খরচ, আয়ের নিয়মিততা এবং আর্থিক দায়বদ্ধতার ওপর। নিয়মিত বিল পরিশোধের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ রাখা জরুরি হলেও অতিরিক্ত অর্থ দীর্ঘদিন সাধারণ চেকিং অ্যাকাউন্টে রাখলে বেশি সুদ পাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে হাই ইয়েল্ড সেভিংস অ্যাকাউন্টে তুলনামূলক বেশি সুদ পাওয়া যায়। তবে অ্যাকাউন্টের শর্ত, ফি এবং প্রয়োজনের সময় টাকা তোলার সুবিধা বিবেচনা করাও গুরুত্বপূর্ণ।   সর্বশেষ পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট, যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে গড়ে কত টাকা রয়েছে, সেই সংখ্যা সাধারণ পরিবারের আর্থিক বাস্তবতার পুরো চিত্র তুলে ধরে না। বিশেষ করে গড় ব্যালেন্স ও মিডিয়ান ব্যালেন্সের বড় পার্থক্য দেখায়, কিছু পরিবারের হাতে বিপুল অর্থ থাকলেও অনেক পরিবার তুলনামূলক অল্প অর্থ নিয়ে দৈনন্দিন ব্যয় পরিচালনা করছে। তাই নিজের আর্থিক অবস্থার মূল্যায়নে জাতীয় গড়ের চেয়ে নিয়মিত আয়, মাসিক খরচ, ঋণ এবং জরুরি সঞ্চয়ের পরিমাণ বিবেচনা করাই বেশি কার্যকর।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩০, ২০২৬ ৪:৫৯
কারাগার থেকে জন্ম নেওয়া অরোরা স্কাই কাস্টনার মেধার জোরে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির সুযোগ পেয়ে নজর কেড়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

কারাগারে জন্ম নেওয়া তরুণী ১৮ বছর বয়সেই ফুল ফান্ডে হার্ভার্ডে ভর্তির অনন্য গল্প

বিশ্বভ্রমণের স্বপ্ন পূরণ করতে বাড়ি ও সম্পত্তি বিক্রি করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের পল ও লিন মন্টোয়া দম্পতি। ছবি: সংগৃহীত

সব সম্পত্তি বিক্রি করে বিশ্বভ্রমণে মার্কিন দম্পতি, মাঝপথে জাহাজ ছাড়ার নির্দেশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় মসজিদ সম্প্রসারণের সরকারি বৈঠকে আজানের রেকর্ডিং বাজানোর কারণে এক নারীকে সভাকক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়। ছবি: সংগৃহীত

ফ্লোরিডায় মসজিদ সম্প্রসারণ নিয়ে বৈঠকে আজান বাজানোয় নারীকে বের করে দিল পুলিশ

পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে দাম্পত্য সম্পর্কের ইতি টেনেছেন নিউইয়র্কপ্রবাসী সংগীতশিল্পী রোকসানা মির্জা ও মোহাম্মদ আজাদ। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে সংগীতশিল্পী রোকসানা মির্জা ও রিয়েলটর মোহাম্মদ আজাদের বিচ্ছেদ

নিউইয়র্কপ্রবাসী সংগীতশিল্পী রোকসানা মির্জা ও তাঁর স্বামী রিয়েলটর মোহাম্মদ আজাদ পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে তাঁদের দাম্পত্য সম্পর্কের ইতি টেনেছেন। বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দুজনই বলেছেন, ব্যক্তিগত জীবনে আলাদা পথে এগিয়ে গেলেও একে অপরের প্রতি সম্মান ও শুভকামনা বজায় থাকবে।   দাম্পত্য সম্পর্কের অবসান ঘটলেও বিষয়টি নিয়ে কোনো বিরোধ বা অভিযোগের কথা তাঁদের দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়নি। বরং পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতেই আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তাঁরা। সম্পর্কের ইতি টানার পরও পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছেন দুজন।   নিউইয়র্কের প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে রোকসানা মির্জা একজন সংগীতশিল্পী হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে মোহাম্মদ আজাদ রিয়েল এস্টেট পেশার সঙ্গে যুক্ত। ব্যক্তিগত জীবনের এই পরিবর্তনের কথা জানালেও বিচ্ছেদের পেছনের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   তাঁদের দাম্পত্য সম্পর্কের অবসান ঠিক কবে হয়েছে, সে বিষয়েও নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে দুজনের বক্তব্যে স্পষ্ট, আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্তটি পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতেই নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে নিজেদের জীবন আলাদাভাবে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি একে অপরের মঙ্গল কামনা করেছেন তাঁরা।   ব্যক্তিগত সম্পর্কের অবসানকে কেন্দ্র করে কোনো অভিযোগ বা বিতর্কের পরিবর্তে পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার বার্তাই দিয়েছেন রোকসানা মির্জা ও মোহাম্মদ আজাদ। তাঁদের বিচ্ছেদের বিষয়ে এর বাইরে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩০, ২০২৬ ১:৬
যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য সরকারি আর্থিক সহায়তার ফাফসা আবেদন শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে কলেজে পড়ার খরচ কমাতে সরকারি সহায়তার আবেদন শুরু, জেনে নিন আবেদনের নিয়ম

ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের প্রতিবাদ লিপিতে সই করেননি ন্যান্সি পেলোসিসহ ৪০ ডেমোক্র্যাট নেতা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

অভিবাসন জালিয়াতির তদন্ত, ইলহান ওমরের পক্ষে চিঠিতে সই করেননি দলের ৪০ আইনপ্রণেতা

যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষে অভিবাসনের বিভিন্ন আইনি পথ নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করবেন আইনজীবী রাজু মাহাজান। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

পড়াশোনা শেষে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার আইনি পথ নিয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ আয়োজন

0 Comments