সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

সৌদি প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি হোল্ডারদের জন্য নতুন নিয়ম: কাজের অনুমতিপত্র বাধ্যতামূলক, ফি নির্ধারণ ১০০ রিয়াল

নীলুফা নিশাত প্রকাশ: জুন ১৪, ২০২৬ ৪:৫৯
সৌদি প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি হোল্ডারদের জন্য নতুন নিয়ম
সৌদি প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি হোল্ডারদের জন্য নতুন নিয়ম

সৌদি আরবে বসবাসরত প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি (বিশেষ আবাসন সুবিধা) হোল্ডারদের জন্য নতুন করে কাজের অনুমতিপত্র বা ওয়ার্ক পারমিট নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সৌদি আরবের শ্রমবাজার ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘কিউয়া’ (Qiwa)-এর নতুন নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে দ্য ইকোনোমিক টাইমস।

 

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি হোল্ডারদের জন্য নির্ধারিত এই ওয়ার্ক পারমিটের ফি ধরা হয়েছে ১০০ সৌদি রিয়াল। সৌদি মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত কিউয়া প্ল্যাটফর্ম দেশটির শ্রমবাজার সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা ডিজিটালভাবে পরিচালনা করে থাকে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন, প্রশিক্ষণ চুক্তি, পদত্যাগ প্রক্রিয়া এবং ভিসা সংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।

 

কিউয়ার নতুন নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানের সাবস্ক্রিপশন ফি নির্ধারণ করা হবে কোম্পানির আকার এবং ইউনিফায়েড নম্বরের আওতায় নিবন্ধিত কর্মীর সংখ্যার ভিত্তিতে। অর্থাৎ বড় কোম্পানি ও বেশি কর্মী থাকা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ফি কাঠামো ভিন্ন হবে।

 

এছাড়া সৌদি সরকারের ‘তামহীর’ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় থাকা চুক্তিগুলো এখন থেকে অনলাইনে নিবন্ধন করা যাবে। তবে এসব প্রশিক্ষণ চুক্তি সৌদিকরণ নীতির হিসাব বা বিদ্যমান কর্মসংস্থান সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতার অংশ হিসেবে গণ্য হবে না বলে জানানো হয়েছে।

 

পেমেন্ট ব্যবস্থাতেও এসেছে আধুনিকায়ন। সেবা ফি পরিশোধ করা যাবে ব্যাংক কার্ড, সাদাদ পেমেন্ট সিস্টেম এবং কিউয়ার ডিজিটাল ওয়ালেটের মাধ্যমে।

 

পদত্যাগ সংক্রান্ত নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো নিয়োগকর্তা আবেদন গ্রহণ বা স্থগিত না করলে কর্মীরা পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার সাত দিনের মধ্যে তা প্রত্যাহার করতে পারবেন। তবে নোটিশ পিরিয়ডের শর্ত চাকরির চুক্তি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।

 

অন্যদিকে ভিসা সংক্রান্ত নিয়মেও কঠোরতা আনা হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, একবার ভিসা ইস্যু হওয়ার পর তার কোনো তথ্য সংশোধন করা যাবে না। কোনো ভুল তথ্য থাকলে সংশ্লিষ্ট ভিসা বাতিল করে নতুন করে আবেদন করতে হবে।

 

শ্রমবাজারে স্বচ্ছতা ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা আরও জোরদার করার অংশ হিসেবেই এসব পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের সীমিত সামরিক হামলার খবর জানিয়েছে মার্কিন কর্মকর্তারা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ইরানে আবারও হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র, ৩ মার্কিন ড্রোন ভূপাতিতের দাবি ইরানের

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপে সীমিত সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোরে দ্বীপটিতে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ার পর মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালির কাছে তিনটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তবে ড্রোন ভূপাতিতের দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএর বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে পাঁচটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। একই সময়ে হরমোজগান প্রদেশের উপকূলীয় শহর বন্দর লেঙ্গেহেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। কেশম দ্বীপের বাসিন্দারা আকাশে দুটি উড়োজাহাজ উড়তে দেখেছেন বলেও জানিয়েছে আইআরএনএ। বিস্ফোরণে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।   ইরানের সামরিক বাহিনীর দাবি, কেশম দ্বীপের দক্ষিণে ইলেকট্রনিক যুদ্ধপ্রযুক্তি ব্যবহার করে দুটি মার্কিন এমকিউএম-১৭০ গোয়েন্দা ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। এ ধরনের ড্রোন ইরানের হাতে জব্দের সংখ্যা চারটিতে পৌঁছেছে বলেও দাবি করেছে আইআরজিসি। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালির পূর্বদিকে একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন শনাক্ত করে নতুন আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করার কথা জানিয়েছে বাহিনীটি। সব মিলিয়ে তিনটি ড্রোন ভূপাতিতের দাবি করেছে তেহরান। তবে এসব ঘটনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে সীমিত ও প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এক কর্মকর্তা বলেছেন, ইরানের বাহিনী মার্কিন সামরিক সম্পদের দিকে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করায় এই হামলা চালানো হয়। তবে এটি বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর ইঙ্গিত নয় বলেও জানিয়েছেন তিনি। পেন্টাগন এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কাছে পাঠালেও তাদের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।   সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগও চলছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পরোক্ষ আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তাঁর ভাষায়, পরিস্থিতির সংবেদনশীলতা ও গুরুত্ব বিবেচনায় আলোচনা ও পরামর্শ চলছে নিবিড়ভাবে। এ ক্ষেত্রে কাতার ও পাকিস্তান সক্রিয় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।   যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি হতে পারে এবং তেহরান দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন। কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনায় সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৬ শতাংশের বেশি কমে যায় বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।   তবে আলোচনার পাশাপাশি সামরিক প্রস্তুতির কথাও জানাচ্ছে তেহরান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি বলেছেন, ইরান কূটনৈতিক সমাধান চাইলেও সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। নতুন করে হামলা হলে তার জবাব দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। ফলে একদিকে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে সমঝোতার চেষ্টা, অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি ঘিরে সামরিক তৎপরতা, দুই দেশের সম্পর্ককে অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্যে রেখেছে।   সূত্র: রয়টার্স, আনাদোলু এজেন্সি, এবিসি নিউজ।

প্রকাশ: নভেম্বর ২, ২০২৬ ২২:৫২
বাইন্যান্সে রেকর্ড পরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সি হ্যাকিংয়ের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের আনা অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে উত্তর কোরিয়া। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

বাইন্যান্স থেকে ৬০০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো চুরিতে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার উত্তর কোরিয়ার

কোরআন অবমাননার ঘটনায় স্যান্ডবার্গকে স্থগিত কারাদণ্ড ও জরিমানা করেছেন স্টকহোম জেলা আদালত। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

সুইডেনে কোরআন পোড়ানো ও অবমাননার দায়ে জেড স্যান্ডবার্গকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন আদালত

বিওয়াইডির কর্মীসংখ্যা ১০ লাখ ২০ হাজার ছাড়ানোর তথ্য জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ওয়াং চুয়ানফু। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

১০ লাখের বেশি কর্মী নিয়ে শীর্ষে চীনের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিওয়াইডি, পেছনে ফেলল টেসলা, টয়োটা ও ফোর্ডকে

রামায়ণের পৌরাণিক পুষ্পক বিমানকে টেসলার নতুন রোডস্টারের সঙ্গে তুলনা করেছেন রণবীর কাপুর। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
৫ হাজার বছর আগেই ভারতের উড়ন্ত গাড়ি ছিল, ইলন মাস্কের টেসলার সঙ্গে রামায়ণের পুষ্পক রথের তুলনা রণবীরের

আগামী ৫ নভেম্বর দীপাবলি উপলক্ষে মুক্তি পেতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা রামায়ণ। ছবিটির মুক্তির আগে প্রচারণার কাজে দারুণ ব্যস্ত সময় পার করছেন এর কলাকুশলীরা। সম্প্রতি স্টার টকস নামের একটি অনুষ্ঠানে বিশেষ সাক্ষাৎকারে অংশ নেন রণবীর কাপুর, রবি দুবে, রাকুল প্রীত সিং, যশ এবং পরিচালক নিতেশ তিওয়ারি। এই আলাপের সময় প্রাচীন মহাকাব্যকে পর্দায় তুলে আনার বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেন তারা। সেখানেই প্রাচীন ভারতের প্রযুক্তির সঙ্গে আধুনিক বিজ্ঞানের একটি দারুণ তুলনা টেনেছেন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা রণবীর কাপুর।   সাক্ষাৎকার চলাকালে অনুষ্ঠানের সঞ্চালক রামায়ণ যুগের অবিশ্বাস্য সব অস্ত্রের প্রশংসা করেন যা আধুনিক সৃষ্টিকেও হার মানাতে সক্ষম। পাশাপাশি তিনি অস্কারজয়ী স্টুডিও ডাবল নেগেটিভ বা ডিএনইজি এর করা দুর্দান্ত ভিএফএক্স কাজেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন। পরিচালক নিতেশ তিওয়ারি জানান, পৌরাণিক সেই সৃষ্টিগুলোকে পর্দায় নতুন করে ফুটিয়ে তোলা সত্যিই দারুণ এক অভিজ্ঞতা ছিল। এর সূত্র ধরেই রণবীর কাপুর বলেন, ইলন মাস্ক সম্প্রতি একটি উড়ন্ত গাড়ি আবিষ্কার করেছেন, তবে আমার মনে হয় ভারত ৫ হাজার বছর আগেই এই কাজ করে দেখিয়েছিল।   রণবীর মূলত টেসলার নতুন উড়ন্ত গাড়ির সঙ্গে রামায়ণে বর্ণিত পুষ্পক রথের তুলনা করেছেন। গত ১৫ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে স্পেসএক্সের রকেট ডেভেলপমেন্ট সেন্টারে টেসলা তাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত রোডস্টারের প্রদর্শন করে। প্রদর্শনীতে বৈদ্যুতিক এই সুপারকারটি বিশাল এক বাঁকানো র‍্যাম্পে উল্টো হয়ে শূন্যে ভেসে থাকে এবং নিরাপদে মাটিতে অবতরণ করে। টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক জানান গাড়িটির প্রযুক্তি সফলভাবে কাজ করেছে এবং ২০২৮ সাল থেকে এর উৎপাদন শুরু হবে।   অন্যদিকে হিন্দু পুরাণ অনুসারে পুষ্পক রথ হলো একটি জাদুকরী উড়ন্ত রাজপ্রাসাদ। রামায়ণ সিনেমার ট্রেইলারে বিশাল আকারের এই উড়ন্ত যানটি দর্শকদের নজর কেড়েছে। পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী স্বর্গের স্থপতি বিশ্বকর্মা ভগবান ব্রহ্মার জন্য এই রথটি তৈরি করেছিলেন। পরে ব্রহ্মা এটি সম্পদের দেবতা এবং রাবণের সৎ ভাই কুবেরকে উপহার দেন। কিন্তু রাবণ কুবেরকে পরাজিত করে পুষ্পক রথটি ছিনিয়ে নেন। মহাকাব্যে বলা হয়েছে, এই রথটি মনের গতিতে উড়তে পারত এবং যাত্রীর সংখ্যা অনুযায়ী নিজের আকার পরিবর্তন করতে পারত।   প্রাচীন ভারতীয় মহাকাব্য রামায়ণের ওপর ভিত্তি করে দুই পর্বের এই সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন নিতেশ তিওয়ারি। ছবিতে ভগবান রামের চরিত্রে অভিনয় করেছেন রণবীর কাপুর এবং সীতার চরিত্রে রয়েছেন সাই পল্লবী। রাবণের ভূমিকায় কন্নড় তারকা যশ, হনুমানের চরিত্রে সানি দেওল এবং লক্ষ্মণের চরিত্রে রবি দুবেকে দেখা যাবে। ছবির অন্যতম প্রযোজক যশ জানান, রামায়ণের এই নতুন উপস্থাপনটি বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটেও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। নমিত মালহোত্রা ও যশের প্রযোজনায় ছবিটিতে সুরারোপ করেছেন এ আর রহমান এবং হ্যান্স জিমার।

প্রকাশ: নভেম্বর ১, ২০২৬ ২১:২৮
ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছেন পারিশাদ কাভিয়ানি। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ইরানি নারীদের স্বাধীনতার দাবিতে সমর্থন না পেয়ে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলন ছাড়লেন কানাডীয় নারী

ইরানের দাবি, কেশম দ্বীপের আকাশে মার্কিন এমকিউএম-১৭০ ড্রোন আটক করা হয়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

কেশম দ্বীপে অক্ষত অবস্থায় মার্কিন গোয়েন্দা ড্রোন আটক করল ইরান

ইসলাম গ্রহণের আগে উইলিয়াম হেনরি কুইলিয়াম নামে পরিচিত ছিলেন আবদুল্লাহ কুইলিয়াম। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ইংল্যান্ডে লিভারপুল মসজিদ প্রতিষ্ঠা ও ৬০০ ব্রিটিশকে ইসলামে দীক্ষিত করেন আইনজীবী উইলিয়াম হেনরি

চীনের সবচেয়ে ধনী নারী ঝৌ ছুনফেই, তাঁর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৮ দশমিক ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
কারখানার শ্রমিক থেকে প্রযুক্তি সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা, চীনের শীর্ষ ধনী নারী ঝৌ কুনফেই

কিশোর বয়সে পড়াশোনা ছেড়ে কারখানায় কাজ শুরু করেছিলেন ঝৌ ছুনফেই। দিনে মজুরি পেতেন মাত্র ১ ডলার ২০ সেন্ট। সেই তিনিই এখন চীনের সবচেয়ে ধনী নারী। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান লেন্স টেকনোলজির প্রতিষ্ঠাতা ঝৌর বর্তমান সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ১২৭ বিলিয়ন ইউয়ান, যা প্রায় ১৮ দশমিক ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান। ৫৬ বছর বয়সী এই উদ্যোক্তা ১১ বছর পর আবারও চীনের শীর্ষ ধনী নারীর অবস্থান ফিরে পেয়েছেন।   ২৮ অক্টোবর প্রকাশিত হুরুন রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ‘রিচেস্ট উইমেন ইন চায়না ২০২৬’ তালিকায় শীর্ষস্থান পেয়েছেন ঝৌ। তালিকা অনুযায়ী, গত এক বছরে তাঁর সম্পদ বেড়েছে ১৫ শতাংশ। প্রায় ১২৪ বিলিয়ন ইউয়ান সম্পদের মালিক হানসোহ ফার্মাসিউটিক্যালের প্রতিষ্ঠাতা ঝং হুইজুয়ান রয়েছেন দ্বিতীয় স্থানে। এর আগে ২০১৫ সালেও চীনের সবচেয়ে ধনী নারী হয়েছিলেন ঝৌ। এবারের তালিকায় তাঁর সম্পদের হিসাব করা হয়েছে ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।   ১৯৭০ সালে চীনের হুনান প্রদেশের এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম ঝৌর। কৈশোরেই পড়াশোনা ছেড়ে কাজের সন্ধানে চলে যান শেনজেনে। সেখানে একটি কারখানায় ঘড়ির কাচ তৈরির কাজ নেন। প্রতিদিনের মজুরি ছিল প্রায় ১ ডলার ২০ সেন্ট। তবে কারখানায় কাজ করার পাশাপাশি কাচ প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ছাপার প্রযুক্তি সম্পর্কে দক্ষতা অর্জন করেন তিনি। ২৩ বছর বয়সে ১৯৯৩ সালে নিজের উদ্যোগে একটি ছোট কাচ প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা প্রতিষ্ঠা করেন। ধীরে ধীরে সেই উদ্যোগই বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানে রূপ নেয়।   পরবর্তী সময়ে তাঁর প্রতিষ্ঠিত লেন্স টেকনোলজি স্মার্টফোনের পর্দার কাচ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করে। ২০০৭ সালে অ্যাপলের প্রথম আইফোনের জন্য কাচের আবরণ সরবরাহের সুযোগ পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা দ্রুত সম্প্রসারিত হয়। ২০১১ সাল থেকে ২০১৪ সালের প্রথমার্ধ পর্যন্ত লেন্স টেকনোলজির মূল ব্যবসার আয়ের প্রায় অর্ধেক এসেছিল অ্যাপলের কাছ থেকে। ২০১৫ সালের মার্চে শেনজেনের শেয়ারবাজারে প্রতিষ্ঠানটির তালিকাভুক্তি ঝৌর সম্পদ ও ব্যবসায়িক অবস্থান আরও শক্তিশালী করে। সে বছরই প্রথমবার চীনের শীর্ষ ধনী নারীর খেতাব পান তিনি।   তবে তাঁর ব্যবসায়িক যাত্রা সব সময় মসৃণ ছিল না। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য বিরোধ এবং অ্যাপলের বিক্রি নিয়ে উদ্বেগের কারণে লেন্স টেকনোলজির শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। পরে প্রতিষ্ঠানটি স্মার্টফোনের বাইরেও ব্যবসা সম্প্রসারণ করে। বৈদ্যুতিক গাড়ির যন্ত্রাংশ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংশ্লিষ্ট হার্ডওয়্যার এবং রোবট তৈরির সরঞ্জাম উৎপাদনে যুক্ত হয় তারা। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে হংকংয়ের শেয়ারবাজারেও তালিকাভুক্ত হয় প্রতিষ্ঠানটি। নতুন প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের জন্য এই উদ্যোগ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয়।   ঝৌর ব্যবসায়িক প্রভাবের প্রতিফলন দেখা যায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও। ২০২৬ সালের মে মাসে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আয়োজিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্মানে রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় অংশ নেন তিনি। সেখানে তাঁর আসন ছিল অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক ও টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্কের মাঝখানে। প্রযুক্তি ও উৎপাদনশিল্পে তাঁর প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানের কারণে আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক মহলেও ঝৌ এখন পরিচিত নাম।   হুরুনের ২০২৬ সালের তালিকায় চীনের শীর্ষ ৫০ ধনী নারীর সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৯৩ ট্রিলিয়ন ইউয়ানে। তাঁদের মধ্যে ৬৫ শতাংশ নিজ উদ্যোগে সম্পদ গড়েছেন, আর ৩৫ শতাংশ উত্তরাধিকারসূত্রে সম্পদের মালিক হয়েছেন। তালিকা প্রকাশকারী প্রতিষ্ঠানটির মতে, চীনের উৎপাদনশিল্প, স্বাস্থ্যসেবা ও প্রযুক্তি খাত নারীদের বড় উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে ভূমিকা রাখছে।   সূত্র: হুরুন রিসার্চ ইনস্টিটিউট, দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট ও সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩১, ২০২৬ ২২:৫৮
যুক্তরাজ্যে সরকারি ভাতা জালিয়াতির দায়ে ৪০ মাসের কারাদণ্ড পাওয়া আতিখুর রহমান। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

নারী সেজে মাতৃত্বকালীন ভাতাসহ সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আতিকুরের কারাদণ্ড

মেক্সিকোর হিদালগো অঙ্গরাজ্যের স্কুলে ডে অব দ্য ডেড উৎসবে পোশাকে আগুন লেগে গুরুতর দগ্ধ হয়েছে ১২ বছরের ছাত্রী জাইরা ওসোরিও। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

স্কুলের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মোমবাতি থেকে ছাত্রীর পোশাকে আগুন, শরীরের ৪০ শতাংশ দগ্ধ

ভিলা ভি ওডিসিতে দীর্ঘদিন বসবাসের স্বপ্ন নিয়ে জাহাজে উঠেছিলেন জোয়েল গ্রেইফ। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ফ্লোরিডার বাড়ি ছেড়ে আজীবন বিলাসবহুল জাহাজে থাকার পরিকল্পনা, এক মাসেরও কম সময়ে ভেঙে গেল স্বপ্ন

0 Comments