সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

মস্কোকে লক্ষ্য করে ব্যাপক ড্রোন হামলা, নিহত অন্তত ৫

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২২, ২০২৬ ৪:৫৪
ছবি: রয়টার্স
ছবি: রয়টার্স

রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর দিকে ধেয়ে আসা প্রায় ৬০টি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে রুশ কর্তৃপক্ষ। সোমবার ভোরে এসব ড্রোন প্রতিহত করা হয় বলে জানায় মস্কোর প্রশাসন। একই সময়ে ইউক্রেন ও রাশিয়ার পাল্টাপাল্টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

 

মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় জানান, শহরের দিকে আসা প্রায় ৬০টি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি বলেন, যেসব স্থানে ড্রোন ভূপাতিত হয়েছে সেখানে জরুরি সেবা পাঠানো হয়েছে। তবে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

 

ড্রোন হামলার কারণে মস্কোর প্রধান কয়েকটি বিমানবন্দর শেরেমেতিয়েভো, ডোমোদেদোভো, ভনুকোভো এবং ঝুকভস্কি সাময়িকভাবে ফ্লাইট স্থগিত করে। পরে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ সংস্থার পক্ষ থেকে সেগুলো পুনরায় চালুর কথা জানানো হয়।

 

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, সার্বিকভাবে রাতভর ৩০১টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে, যার মধ্যে ইউক্রেনের দখলকৃত অঞ্চল লক্ষ্য করে নিক্ষিপ্ত ড্রোনও রয়েছে।

 

এর আগে কয়েক দিন আগেই মস্কোর একটি তেল শোধনাগারে ড্রোন আঘাত হানে, যা ২০২২ সালে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর শহরটিতে অন্যতম বড় আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

 

অন্যদিকে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রুশ ড্রোন হামলায় একটি বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্যবস্তু হয়েছে এবং এতে একজন মিশরীয় ক্রু সদস্য নিহত হয়েছেন। ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলীয় সুমি অঞ্চলে পৃথক ড্রোন হামলায় একই পরিবারের তিনজনসহ অন্তত পাঁচজন নিহত হন।

 

সুমি অঞ্চলের প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী নিহতদের মধ্যে রয়েছে ১৩ বছর বয়সী এক শিশু, তার ৩৬ বছর বয়সী বাবা এবং ৭৩ বছর বয়সী দাদি। একই ঘটনায় শিশুটির মা ও দুই ভাইবোন আহত হয়েছেন। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝঝিয়া শহরে আরেকটি ড্রোন হামলায় একজন নারী নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় গভর্নর ইভান ফেদোরভ জানান।

 

অন্যদিকে রাশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়, রোববার রাতে দক্ষিণাঞ্চলীয় ওদেসা অঞ্চলে ইস্কান্দার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একজন নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন। হামলায় একটি কৃষি স্থাপনায় যানবাহন ও জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংকে আগুন ধরে যায়।

 

এছাড়া রাশিয়া-অধিকৃত ক্রিমিয়ার সেভাস্তোপল শহরে সব ধরনের উন্মুক্ত আকাশের অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ের আহ্বান জানানো হয়েছে। ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় ক্রিমিয়ায় জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হয়েছে বলে জানায় স্থানীয় প্রশাসন। সেখানে সাধারণ জ্বালানি বিক্রি সীমিত করে শুধুমাত্র সরকারি ও জরুরি পরিষেবার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

 

রুশ নিয়ন্ত্রিত কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, পালাউ ও বেলিজ পতাকাবাহী জাহাজও হামলার শিকার হয়েছে, তবে সেখানে কেউ হতাহত হয়নি। ইউক্রেনের নৌবাহিনী জানিয়েছে, তুরস্কের মালিকানাধীন একটি পণ্যবাহী জাহাজেও আঘাত হানা হয়েছে, যেখানে এক মিশরীয় ক্রু নিহত এবং কয়েকজন নাবিককে লাইফবোটে সরিয়ে নেওয়া হয়।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
ক্রুজ জাহাজের কেবিনের বারান্দা থেকে সাগরে ঝাঁপ
ক্রুজ জাহাজের কেবিনের বারান্দা থেকে সাগরে ঝাঁপ, মেক্সিকো উপকূলে তল্লাশি

মেক্সিকো উপকূলের কাছে কার্নিভাল প্যানোরামা ক্রুজ জাহাজ থেকে ৫৬ বছর বয়সী এক পুরুষ যাত্রী সাগরে পড়ে যাওয়ার পর তাকে উদ্ধারে তল্লাশি অভিযান চলছে। শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর, মেক্সিকোর পুয়ের্তো ভায়ার্তা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার লং বিচের দিকে ফেরার পথে ঘটনাটি ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড, মেক্সিকোর নৌবাহিনী এবং ওই এলাকায় থাকা বাণিজ্যিক জাহাজগুলো নিখোঁজ যাত্রীকে উদ্ধারে তল্লাশিতে অংশ নিচ্ছে।   যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, শনিবার বিকেলে আলামেডা রেসকিউ কো-অর্ডিনেশন সেন্টার ঘটনাটির খবর পায়। এরপর নিখোঁজ যাত্রীকে খুঁজে বের করতে উদ্ধার অভিযান সমন্বয় করা হয়। তল্লাশিতে সহায়তার জন্য একটি আকাশযানও মোতায়েন করা হয়েছে। মেক্সিকোর নৌবাহিনী এবং আশপাশে থাকা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে অনুসন্ধান অভিযানে যুক্ত করা হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ওই যাত্রীর সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি।   কার্নিভাল ক্রুজ লাইন জানিয়েছে, যাত্রী নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়ার পর জাহাজের ক্রুরা প্রথমে পুরো জাহাজে তল্লাশি চালান। পরে জাহাজের নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে নিশ্চিত হওয়া যায়, ওই ব্যক্তি জাহাজ থেকে সাগরে পড়ে গেছেন। এরপর বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয় এবং উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।   ঘটনার সময় কার্নিভাল প্যানোরামা পুয়ের্তো ভায়ার্তা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার লং বিচের দিকে ফিরছিল। এটি ছিল সাত রাতের মেক্সিকান রিভিয়েরা ক্রুজ ভ্রমণের শেষ পর্যায়। জাহাজটি ১৩ সেপ্টেম্বর লং বিচ থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। মেক্সিকোর পুয়ের্তো ভায়ার্তা ঘুরে এটি আবার ক্যালিফোর্নিয়ার দিকে ফিরছিল।   যাত্রী নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি জানার পর জাহাজের ভেতরেও ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। যাত্রীদের কিছু সময়ের জন্য নিজ নিজ কেবিনে অবস্থান করতে বলা হয়, যাতে ক্রুরা পুরো জাহাজে অনুসন্ধান চালিয়ে নিশ্চিত হতে পারেন যে নিখোঁজ ব্যক্তি জাহাজের অন্য কোথাও অবস্থান করছেন কি না। পরে নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে তিনি সাগরে পড়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।   নিখোঁজ হওয়ার পর কার্নিভাল প্যানোরামা কিছু সময়ের জন্য গতিপথ পরিবর্তন করে আশপাশের সমুদ্র এলাকায় তল্লাশি চালায়। পরে জাহাজটি আবার লং বিচের দিকে যাত্রা শুরু করে। একই সময়ে মেক্সিকোর নৌবাহিনী, যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড এবং আশপাশের বাণিজ্যিক জাহাজগুলো সম্ভাব্য এলাকায় অনুসন্ধান চালাতে থাকে।   কার্নিভাল ক্রুজ লাইন জানিয়েছে, নিখোঁজ যাত্রীর পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তবে তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তিনি কী কারণে সাগরে পড়ে গেলেন বা জাহাজ থেকে কীভাবে পানিতে গেলেন, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ বা ক্রুজ কোম্পানির পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি।   সমুদ্রের মাঝখানে কোনো ব্যক্তি জাহাজ থেকে পড়ে গেলে তাকে দ্রুত শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। সাগরের স্রোত, বাতাস এবং জাহাজের গতিপথের কারণে দুর্ঘটনার পর অল্প সময়ের মধ্যেই একজন নিখোঁজ ব্যক্তির অবস্থান অনেক দূরে সরে যেতে পারে। এ কারণেই এ ধরনের ঘটনায় আকাশযান, নৌযান এবং আশপাশের বাণিজ্যিক জাহাজকে একসঙ্গে তল্লাশিতে যুক্ত করা হয়।   নিখোঁজ ৫৬ বছর বয়সী যাত্রীর সন্ধানে মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ০:২৪
গাজায় যুদ্ধের বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়ে মঞ্চে অভিনয় করছেন একদল স্থানীয় শিল্পী

মঞ্চে অভিনয় নাকি বাস্তব জীবন! গাজার অভিনেতাদের কাছে দুটোই এক

মালিতে সেনাঘাঁটিতে হামলায় ৯৩ সেনাকে আটকের দাবি আল-কায়েদা-ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীর

মালিতে সেনাঘাঁটিতে হামলায় ৯৩ সেনাকে আটকের দাবি আল-কায়েদা-ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীর

মারামারির সময় মাথায় আঘাত করে স্ত্রীর নাক কামড়ে ছিঁড়ে নর্দমায় ফেলে দেন স্বামী

মারামারির সময় মাথায় আঘাত করে স্ত্রীর নাক কামড়ে ছিঁড়ে নর্দমায় ফেলে দেন স্বামী

গ্লাসগোতে বাংলাদেশি তরুণকে মারধরের অভিযোগ
গ্লাসগোতে বাংলাদেশি তরুণকে মারধরের অভিযোগ, নাকের হাড় স্থানচ্যুত

স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো সিটি সেন্টারে এক বাংলাদেশি তরুণকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে সাউচিহল স্ট্রিটের একটি সুপারশপের কাছে এ ঘটনা ঘটে। ২৭ বছর বয়সী ইফতেখার উল ইসলাম নামের ওই তরুণের দাবি, সিগারেট দিতে অস্বীকার করার পর এক ব্যক্তি তার ওপর হামলা চালান। পরে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার সময় তার নাকের হাড় স্থানচ্যুত হয়েছে বলে জানানো হয়।   ইফতেখারের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় তিনি সাউচিহল স্ট্রিটে একটি সুপারশপের কাছে দাঁড়িয়ে ধূমপান করছিলেন। এ সময় এক ব্যক্তি তার কাছে এসে একটি সিগারেট চান। অতিরিক্ত সিগারেট না থাকায় তিনি দিতে পারেননি। এরপর ওই ব্যক্তি তাকে পানীয় কিনে দেওয়ার কথা বলেন। ইফতেখার জানান, তার কাছে টাকা না থাকায় সেটিও দিতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।   ইফতেখারের দাবি, সেখান থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় ওই ব্যক্তি পেছন থেকে তার ব্যাগ ধরে ফেলেন এবং মাথা ও নাকে একাধিক ঘুষি মারেন। এতে তার নাক দিয়ে রক্ত পড়তে শুরু করে এবং তিনি মাথা ঘোরার মতো অনুভব করেন। তিনি সাহায্যের জন্য চিৎকার করলেও আশপাশের কেউ এগিয়ে আসেননি বলে জানান।   পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তার নাকের হাড় স্থানচ্যুত হয়েছে বলে জানান। ঘটনার পর হামলাকারী ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় বলে ইফতেখার জানিয়েছেন। ঘটনাস্থলে সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে বলেও তিনি জানান।   ইফতেখার ঘটনাটিকে বর্ণবাদী হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে হামলার পেছনে বর্ণবাদী উদ্দেশ্য ছিল কি না, সেটি এখনো পুলিশ তদন্ত করে নিশ্চিত করেনি। পুলিশ তদন্তের ফলের ভিত্তিতেই হামলার প্রকৃত কারণ ও ঘটনার পূর্ণ পরিস্থিতি নির্ধারণ করা হবে।   পুলিশ স্কটল্যান্ড জানিয়েছে, ১৬ সেপ্টেম্বর সকাল ৬টা ৫৫ মিনিটের দিকে গ্লাসগোর সাউচিহল স্ট্রিট এলাকায় এক ব্যক্তির ওপর হামলার খবর তারা পায়। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে।   ঘটনার পর গ্লাসগোর বাংলাদেশি কমিউনিটিতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা এবং হামলার ঘটনায় দ্রুত তদন্তের দাবি উঠেছে। তবে এখন পর্যন্ত হামলার ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তারের তথ্য প্রকাশ করেনি পুলিশ।   ইফতেখারের দেওয়া তথ্য, স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং পুলিশ স্কটল্যান্ডের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। তাই হামলাকারীর পরিচয়, উদ্দেশ্য কিংবা সম্ভাব্য বর্ণবাদী সংশ্লিষ্টতা নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ২:৪৪
করোনার টিকা কেলেঙ্কারি ১২০০ কোটি টাকা আজও ফেরত দেয়নি ভারত

করোনার টিকা কেলেঙ্কারি ১২০০ কোটি টাকা আজও ফেরত দেয়নি ভারত

রাত ১০টায় অসুস্থ স্বামীর ওষুধ পেয়ে ভারতের স্বাস্থ্যসেবার প্রশংসায় সাবেক ব্রিটিশ চিকিৎসক

রাত ১০টায় অসুস্থ স্বামীর ওষুধ পেয়ে ভারতের স্বাস্থ্যসেবার প্রশংসায় সাবেক ব্রিটিশ চিকিৎসক

পূর্বপুরুষের জিনের কারণে শিশুর গায়ের রং কালো

পূর্বপুরুষের জিনের কারণে শিশুর গায়ের রং কালো, দাবি শ্বেতাঙ্গ মায়ের! ডিএনএ টেস্টের পরও থামেনি বিতর্ক

সমুদ্রে আধিপত্য বাড়াতে বড় আকারের চালকবিহীন ড্রোন সাবমেরিন তৈরি করছে চীন। ছবি: সংগৃহীত
সমুদ্রে আধিপত্য বাড়াতে চীনের নতুন পদক্ষেপ, তৈরি হচ্ছে বিশ্বের প্রথম ড্রোন 'মাদারশিপ'

চীন এমন একটি বিশাল জাহাজ নির্মাণ করছে, যা বিশ্বের প্রথম বিশেষায়িত চালকবিহীন ডুবোযানের মাদারশিপ হতে পারে বলে ধারণা করছেন নৌ ও প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। সাংহাইয়ের হুডং-ঝোংহুয়া জাহাজ নির্মাণ কারখানায় নির্মাণাধীন জাহাজটির ছবি স্যাটেলাইটে ধরা পড়েছে। ছবিগুলো বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাহাজটির নকশা বড় আকারের চালকবিহীন ডুবোযান বহন, সমুদ্রে নামানো এবং পুনরায় জাহাজে তোলার উপযোগী।   নৌবিষয়ক বিশ্লেষক এইচ আই সাটনের নেতৃত্বে একাধিক স্যাটেলাইট ছবি পর্যালোচনা করে ধারণা করা হয়েছে, জাহাজটির সবচেয়ে সম্ভাব্য ব্যবহার বড় চালকবিহীন ডুবোযানের জন্য একটি বিশেষ মাদারশিপ হিসেবে কাজ করা। জাহাজটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২০০ থেকে ২০৫ মিটার, অর্থাৎ প্রায় ৬৫০ থেকে ৬৭০ ফুটের কাছাকাছি বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।   জাহাজটির পেছনের অংশে এমন একটি ব্যবস্থা দেখা গেছে, যা পানির নিচে থাকা যান নামানো ও তুলে আনার কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। এর সঙ্গে একটি বড় অভ্যন্তরীণ হ্যাঙ্গারও রয়েছে বলে স্যাটেলাইট ছবির বিশ্লেষণে ধারণা করা হয়েছে। নকশার বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য দেখে বিশেষজ্ঞদের অনুমান, জাহাজটি একই সঙ্গে কয়েকটি বড় চালকবিহীন ডুবোযান বহন করতে পারবে।   চীনের তৈরি বড় আকারের চালকবিহীন ডুবোযানগুলোকে ‘এক্সএক্সএলইউইউভি’ বা অতিবৃহৎ চালকবিহীন ডুবোযান বলা হচ্ছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এর অন্তত দুটি নকশা শনাক্ত হয়েছে, যেগুলোর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৫ ও ৪৫ মিটার। অর্থাৎ এগুলো সাধারণ ছোট আকারের পানির নিচের ড্রোনের তুলনায় অনেক বড়। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর বোয়িং অরকার মতো চালকবিহীন ডুবোযানের তুলনায়ও এগুলোর আকার উল্লেখযোগ্যভাবে বড়।   স্যাটেলাইট ছবির বিশ্লেষণে ধারণা করা হচ্ছে, নতুন জাহাজটির ভেতরের হ্যাঙ্গারে চারটি পর্যন্ত বড় ডুবোযান রাখা সম্ভব হতে পারে। প্রয়োজনে এর চেয়ে বেশি সংখ্যক ছোট আকারের চালকবিহীন ডুবোযানও বহন করা যেতে পারে। জাহাজটির পেছনের অংশে থাকা বিশেষ কাঠামো ব্যবহার করে এগুলো পানিতে নামানো ও আবার জাহাজে তোলা সম্ভব হতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন জাহাজ নির্মাণ করা হলে চীনের চালকবিহীন ডুবোযানগুলোকে উপকূলীয় ঘাঁটি বা স্থির ভাসমান প্ল্যাটফর্মের ওপর কম নির্ভরশীল করে তুলতে পারে। মাদারশিপ সমুদ্রে ডুবোযানগুলো নিয়ে গিয়ে নির্দিষ্ট এলাকায় নামাতে এবং প্রয়োজনে পরে তুলে আনতে পারবে। একই সঙ্গে জাহাজটি রক্ষণাবেক্ষণ ও সরবরাহের ঘাঁটি হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে।   চালকবিহীন ডুবোযানের অন্যতম সুবিধা হলো, এতে মানুষের জীবন ঝুঁকিতে না ফেলেই দীর্ঘ সময় ধরে সমুদ্রের নিচে বিভিন্ন ধরনের তথ্য সংগ্রহের কাজ করা সম্ভব। এগুলো অগভীর পানিতে প্রবেশ, অন্য জাহাজ ও সাবমেরিনের শব্দ বা শব্দগত বৈশিষ্ট্য সংগ্রহ এবং সমুদ্রের পরিবেশ পর্যবেক্ষণের মতো কাজ করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।   ভারতের তাকশশিলা ইনস্টিটিউশনের গবেষক আদিত্য রামানাথনের মতে, এ ধরনের ডুবোযান অন্য জাহাজ ও সাবমেরিনের শব্দের তথ্য সংগ্রহ করে ভবিষ্যতের জন্য বড় তথ্যভান্ডার তৈরি করতে পারে। এতে কোনো নির্দিষ্ট শব্দ শনাক্ত হলে সেটি কোন ধরনের জাহাজ বা ডুবোযানের সঙ্গে সম্পর্কিত, তা দ্রুত বোঝা সহজ হতে পারে।   তবে সামরিক ব্যবহারও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা। রামানাথনের মতে, চালকবিহীন ডুবোযান তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি ভবিষ্যতে সামরিক অভিযানে ব্যবহারের সক্ষমতাও রাখতে পারে। তবে বর্তমানে চীনের নির্মাণাধীন জাহাজ বা সংশ্লিষ্ট ডুবোযানগুলো ঠিক কী ধরনের অস্ত্র বা সামরিক সরঞ্জাম বহন করবে, তা নিশ্চিত নয়।   চীনের সামরিক বাহিনী এখনো নির্মাণাধীন জাহাজটির অস্তিত্ব বা উদ্দেশ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত কিংবা অস্বীকার করেনি। ফলে স্যাটেলাইট ছবির ভিত্তিতে করা বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নকে সম্ভাব্য বিশ্লেষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, নিশ্চিত সরকারি তথ্য হিসেবে নয়।   এই উন্নয়ন এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন দক্ষিণ চীন সাগর ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীন ও অন্যান্য দেশের মধ্যে সামরিক প্রতিযোগিতা বাড়ছে। দক্ষিণ চীন সাগরের বিস্তীর্ণ অংশের ওপর চীনের দাবির সঙ্গে ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, ব্রুনেই ও তাইওয়ানের দাবির বিরোধ রয়েছে। ২০১৬ সালে হেগের একটি সালিশি ট্রাইব্যুনাল চীনের বিস্তৃত সমুদ্রসীমার দাবির আইনগত ভিত্তি প্রত্যাখ্যান করেছিল। বেইজিং ওই রায় মেনে নেয়নি।   এদিকে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নৌ সক্ষমতা বাড়ানোর প্রতিযোগিতাও চলছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতের নৌযুদ্ধে চালকবিহীন ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। পানির নিচে দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে সক্ষম বড় ডুবোযান সেই সক্ষমতাকে আরও বিস্তৃত করতে পারে।   ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ারের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, নতুন জাহাজটি যদি সত্যিই বড় চালকবিহীন ডুবোযানের মাদারশিপ হয়, তাহলে এটি চীনের এসব ডুবোযানের কার্যক্রমের পরিসর বাড়াতে পারে। তবে একই সঙ্গে বড় মাদারশিপটি নিজে তুলনামূলকভাবে সহজে শনাক্তযোগ্য হওয়ায় এর নিরাপত্তা নিয়েও ঝুঁকি থাকবে।   বিশেষজ্ঞদের ধারণা, জাহাজটি নির্মাণ শেষ হওয়ার পর সমুদ্র পরীক্ষা ও অন্যান্য পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে আরও দুই থেকে তিন বছর সময় লাগতে পারে। এরপরই এর প্রকৃত সক্ষমতা ও ব্যবহার সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।   সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, নেভাল নিউজ, সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ২৩:৫২
জার্মানিতে ডানপন্থি দল এএফডির উত্থানে অভিবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। ছবি: সংগৃহীত

জার্মানিতে এএফডির উত্থান, দেশটিতে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় অভিবাসীরা

ফিলাডেলফিয়ায় কনসার্টে বক্তব্য দিচ্ছেন ব্রিটিশ সংগীতশিল্পী এড শিরান। ছবি: সংগৃহীত

'গাজায় ইসরায়েলের হামলা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়': মঞ্চে কেঁদে বললেন এড শিরান

আন্তর্জাতিক প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে তুরস্কের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান। ছবি: সংগৃহীত

তুরস্কে ৩ বিলিয়ন ডলারের আন্তর্জাতিক প্রতারণা চক্রের পর্দাফাঁস, গ্রেপ্তার ৯ ইসরায়েলি

0 Comments