চরম উত্তেজনা আর ধ্বংসযজ্ঞের খাদের কিনারা থেকে ফিরে এলো মধ্যপ্রাচ্য। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর অবশেষে দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা রক্তক্ষয়ী এই সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বড় ভূমিকা পালন করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে এই ঘোষণা আসে। উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ৭ এপ্রিল রাত ৮টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিলেন ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ তিনি হুমকি দিয়ে লিখেছিলেন, "আজ রাতেই একটি পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে।" এই হুমকির পর ইরানজুড়ে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, কিন্তু শেষ মুহূর্তে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় পরিস্থিতি শান্ত হয়।
যেসব শর্তে রাজি হলো ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র
পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরান ১০ দফার একটি প্রস্তাব পাঠায়, যা আলোচনার কার্যকর ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ইরানের মূল শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে:
ইরান ও তার মিত্রদের ওপর পুনরায় হামলা না করার নিশ্চয়তা।
হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা।
ইরানের ওপর থেকে সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আটকে থাকা সম্পদ ফেরত দেওয়া।
মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার।
লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা।
অন্যদিকে, ট্রাম্পের ১৫ দফা পরিকল্পনায় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। তেহরান প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করলেও কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে স্থায়ী শান্তির আহ্বান জানিয়েছেন। তবে সংশয় কাটছে না। ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা ইরানে যুদ্ধবিরতি সমর্থন করলেও লেবাননের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে না। আগামী ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে উভয়পক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে চূড়ান্ত কোনো চুক্তি হবে কি না, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
ইরানের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে লন্ডনের রাজপথ। গতকাল রাতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে জড়ো হয়ে কয়েক হাজার মানুষ এক জরুরি বিক্ষোভে অংশ নেন। এ সময় বিক্ষোভকারীদের কণ্ঠে ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি এবং ট্রাম্পবিরোধী স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানকে ‘পুরোপুরি ধ্বংস’ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরেই এই প্রতিবাদ সভার ডাক দেওয়া হয়। যদিও পরবর্তীতে তিনি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন, তবে তার পূর্ববর্তী আক্রমণাত্মক বক্তব্যের প্রতিবাদে লন্ডনে অবস্থানরত অধিকারকর্মী ও সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। ‘ইসলামিক হিউম্যান রাইটস কমিশন’ (IHRC) এই ‘হ্যান্ডস অফ ইরান’ (ইরান থেকে হাত সরাও) শীর্ষক বিক্ষোভের আয়োজন করে। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে তার ‘গণহত্যামূলক’ মানসিকতা প্রকাশ করেছেন। বিক্ষোভ সমাবেশের এক বিবৃতিতে বলা হয়, "গত সপ্তাহে ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে বারবার বোমা হামলার পর এখন পারমাণবিক হামলার প্রচ্ছন্ন হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যার লক্ষ্য একটি পুরো সভ্যতাকে নিশ্চিহ্ন করা। আমরা এই নির্লজ্জ অপরাধের মুখে নীরব থাকব না।" বিক্ষোভকারীরা ব্রিটিশ সরকারের কড়া সমালোচনা করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে দিয়ে যুক্তরাজ্য এই যুদ্ধাপরাধের অংশীদার হচ্ছে। তারা অবিলম্বে মার্কিন বোমারু বিমানের জন্য ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার নিষিদ্ধ করার দাবি জানান। উল্লেখ্য, ব্রিটিশ সরকার এখন পর্যন্ত শুধুমাত্র রক্ষণাত্মক বা আত্মরক্ষামূলক হামলার জন্য তাদের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে বলে দাবি করে আসছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ডাউনিং স্ট্রিটের প্রধান ফটকের সামনে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বিক্ষোভকারীরা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান এই চরম উত্তজনা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে, যার প্রভাব এখন সরাসরি ইউরোপের দেশগুলোতেও দৃশ্যমান হচ্ছে।
শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সংলাপ আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে পাকিস্তান। এ জন্য দুই দেশের প্রতিনিধিদলকে ইসলামাবাদে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। আগামী শুক্রবার এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পাকিস্তানের রাজধানীতে অনুষ্ঠেয় এই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিতে পারেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। অন্যদিকে, ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকতে পারেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। ইরানের বার্তা সংস্থা আইএসএনএ এ তথ্য জানিয়েছে। যুদ্ধবিরতিতে সম্মতির পর এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে অভিনন্দন জানান শেহবাজ শরিফ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় তিনি জানান, উভয় দেশ তাদের মিত্রদের সঙ্গে নিয়ে তাৎক্ষণিক কার্যকর একটি যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছেছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ পদক্ষেপকে তিনি আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান এবং দুই দেশের নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলমান উত্তেজনা নিরসনে এই উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও জানান, বাকি বিরোধ নিষ্পত্তি এবং একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। যুদ্ধবিরতিতে সম্মতির জন্য উভয় দেশের ভূয়সী প্রশংসাও করেন শেহবাজ শরিফ। তার ভাষায়, দুই পক্ষই পরিপক্বতা ও দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছে এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতার পথে এগোতে গঠনমূলক ভূমিকা রাখছে। পাকিস্তান আশা করছে, প্রস্তাবিত ‘ইসলামাবাদ সংলাপ’ সফল হলে তা দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং ভবিষ্যতে আরও ইতিবাচক অগ্রগতির পথ খুলে দেবে।
এক নিমেষেই শেষ হয়ে গেল একটি সাজানো গোছানো পরিবার। সোমবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের আপস্টেট অঞ্চলে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের বাবা-ছেলেসহ চারজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ঘড়ির কাঁটায় তখন সন্ধ্যা ৭টা; কলাম্বিয়া কাউন্টির ক্ল্যাভারাক এলাকায় স্টেট রুট ৯এইচ-এ যখন টয়োটা প্রিয়াস ও টয়োটা ক্রাউনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়, তখন কেউ কল্পনাও করতে পারেনি এই যাত্রাটিই হবে তাদের শেষ যাত্রা। ২৯ বছর বয়সী নাজমুল এম. রুবেল তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিউইয়র্ক সিটি থেকে আলবানির দিকে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ অজ্ঞাত কারণে তাদের গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি গাড়ির সাথে সজোরে ধাক্কা খায়। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান চালক নাজমুল রুবেল, তার ৬০ বছর বয়সী বাবা মোহাম্মদ হিরামন এবং ২৫ বছর বয়সী পারিবারিক বন্ধু ফাহিম হালিম। অন্য গাড়ির আরোহী জুলিয়া রিচি (৬২) নামের এক নারীও এই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। গাড়িতে থাকা ৩৩ বছর বয়সী রত্না আক্তার বর্তমানে হাসপাতালে স্থিতিশীল থাকলেও, সবার চোখ এখন মাত্র এক বছর বয়সী শিশু ইকরা আয়াতের দিকে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে আইসিইউতে যমে-মানুষে টানাটানি চলছে নিষ্পাপ এই শিশুটির। পরিবারের ছোট ছেলে মোহাম্মদ আজমুল রাব্বি কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, একটি ফোন কলেই তাদের পৃথিবী ওলটপালট হয়ে গেছে। এই শোক সহ্য করার মতো শক্তি তাদের নেই। কলাম্বিয়া কাউন্টি শেরিফ দপ্তর জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে নিবিড় তদন্ত চলছে। নিহতদের জানাজা আগামী ৮ এপ্রিল বুধবার জোহরের নামাজের পর ব্রঙ্কসের বাইতুল আমান ইসলামিক সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে।