অনুতপ্ত না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হামলা চলবে: ইরানের কড়া হুঁশিয়ারি
মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের মুখপাত্র কর্নেল ইব্রাহিম জোলফাঘারি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের কথিত ‘অপরাধের জন্য অনুতপ্ত’ না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাবে ইরান।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে দেওয়া এক বক্তব্যে জোলফাঘারি বলেন, দক্ষিণ ইরানের সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরানি বাহিনী অঞ্চলটির বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
ইরানি এই সামরিক কর্মকর্তা দাবি করেন, এসব পাল্টা হামলায় মার্কিন সামরিক অবকাঠামো, স্থাপনা, অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে ‘উল্লেখযোগ্যসংখ্যক’ মার্কিন কমান্ডার ও সেনা নিহত বা আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এসব দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
জোলফাঘারি বলেন, “আমেরিকানদের বিরুদ্ধে এসব আক্রমণাত্মক অভিযান চলতে থাকবে, যতক্ষণ না তারা তাদের অপরাধের জন্য অনুতপ্ত হয়।”
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে সামরিক হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে তেহরানের পরবর্তী জবাব আরও “ভারী, বিস্তৃত ও ধ্বংসাত্মক” হবে। তাঁর বক্তব্যে দুই দেশের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
ইরানের এই সামরিক কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ও সহযোগী দেশগুলোকেও সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে সহযোগিতা করা যেকোনো দেশকে এর ‘বিপজ্জনক পরিণতি’ মেনে নিতে হবে।
এর আগে দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় মার্কিন হামলার খবর পাওয়া যায়। এর প্রতিক্রিয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক অবস্থানগুলো লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর সামনে আসে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া বক্তব্যে সামরিক অভিযানের পরিধি আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত রয়েছে। তবে হামলার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের সংখ্যা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। ফলে ইরানের কর্মকর্তার করা নিহত ও আহতের দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, পাল্টাপাল্টি হামলার পাশাপাশি একে অপরের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক যোগাযোগপথ থাকায় সংঘাতের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
সংবাদসূত্র: আলজাজিরা
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreতাইওয়ানে স্ত্রীর পরকীয়ার প্রমাণ সংগ্রহ করতে রোবট ভ্যাকুয়ামের ক্যামেরা ব্যবহার করে প্রায় ৫ লাখ নিউ তাইওয়ান ডলার ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন এক ব্যক্তি। কিন্তু একই ভিডিও গোপনে ধারণ করার দায়ে শেষ পর্যন্ত তাকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাইওয়ানের তাওইউয়ান জেলা আদালতের সাম্প্রতিক এক রায়ে এ তথ্য উঠে এসেছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালে ওই ব্যক্তির বিয়ে হয়। তাদের একটি ছুটির বাড়ি ছিল, যেখানে তারা মাঝেমধ্যে যেতেন। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ওই বাড়িতে অপরিচিত একটি টুথব্রাশ দেখতে পান তিনি। এতে স্ত্রীর প্রতি তার সন্দেহ তৈরি হয়। পরে বাড়ির পার্কিং এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে তিনি দেখতে পান, এক অপরিচিত ব্যক্তি তার স্ত্রীকে গাড়িতে করে সেখানে নিয়ে এসেছেন এবং রাতও কাটিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি পরকীয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। এর প্রায় তিন মাস পর ওই ব্যক্তি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ছুটির বাড়িতে থাকা রোবট ভ্যাকুয়ামটি দূর থেকে চালু করেন। ভ্যাকুয়ামটিতে ক্যামেরা ও যোগাযোগের সুবিধা ছিল। স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার উদ্দেশ্যে সেটি ব্যবহার করতে গিয়ে ক্যামেরার লাইভ ভিডিওতে তিনি স্ত্রীকে অন্য এক পুরুষের সঙ্গে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখতে পান। এরপর তিনি ভিডিও ধারণ শুরু করেন এবং সেটিকে স্ত্রীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করেন। স্ত্রী ও ওই পুরুষের বিরুদ্ধে করা দেওয়ানি মামলায় তিনি ২০ লাখ নিউ তাইওয়ান ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। আদালত তাদের সম্পর্ক সাধারণ বন্ধুত্বের সীমা ছাড়িয়ে গেছে বলে রায় দিয়ে দুজনকে যৌথভাবে ৫ লাখ নিউ তাইওয়ান ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে এরপরই মামলাটি ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। ভিডিও ধারণের ঘটনায় ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করেন তার স্ত্রী। তার অভিযোগ, ব্যক্তিগত ও অন্তরঙ্গ মুহূর্তে তার অনুমতি ছাড়াই ভিডিও ধারণ করে স্বামী তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার লঙ্ঘন করেছেন। স্বামী আদালতে যুক্তি দেন, স্ত্রীর পরকীয়ার প্রমাণ সংগ্রহের জন্যই তিনি ভিডিওটি ধারণ করেছিলেন এবং ওই ভিডিও দেওয়ানি মামলায় প্রমাণ হিসেবেও গ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু ফৌজদারি আদালত সেই যুক্তি গ্রহণ করেনি। আদালত জানায়, বিবাহিত সম্পর্কের দায়িত্ব থাকলেও তা একজন স্বামী বা স্ত্রীকে অন্যজনের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার লঙ্ঘনের অনুমতি দেয় না। স্ত্রী ওই সময় ব্যক্তিগত পরিবেশে ছিলেন এবং তাকে ভিডিও ধারণ করা হচ্ছে, এমনটা তিনি জানতেন বা এতে সম্মতি দিয়েছিলেন, এমন কোনো প্রমাণও আদালত পায়নি। ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণের দায়ে ওই ব্যক্তিকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে ১ লাখ ৫০ হাজার নিউ তাইওয়ান ডলার জরিমানা করা হয়েছে। তবে আদালতের রায় অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্তে কারাদণ্ডের পরিবর্তে জরিমানা পরিশোধের সুযোগ রয়েছে। রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগও রয়েছে।
অনুতপ্ত না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হামলা চলবে: ইরানের কড়া হুঁশিয়ারি
জীবন শুরু হওয়ার আগেই ইসরায়েলি বুলেট কেড়ে নিল ফিলিস্তিনি শিশুর নিষ্পাপ শৈশব
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলা, জবাবে ৪ মার্কিন ঘাঁটিতে তেহরানের পাল্টা হামলা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন। তিনি দাবি করেছেন, মিথ্যা বলাটা ইরানিদের ধর্মের একটি অংশ। তার এই মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একই সময়ে জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলার পর দেশটিকে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ক্যাপিটল হিলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ৫৪ বছর বয়সী মাইক জনসন এই মন্তব্য করেন। এ সময় তার পেছনে রিপাবলিকান দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। জনসন বলেন, ইরানিদের কোনোভাবেই বিশ্বাস করা যায় না। আমাদের হতাশার মূল কারণ হলো তাদের ওপর আস্থা রাখতে না পারা। তারা আলোচনার টেবিলে বসে এক কথা বলে, আর সেখান থেকে বেরিয়ে গিয়ে ঠিক তার উল্টো কাজটি করে। তিনি আরও যোগ করেন, তাদের কারও কারও ক্ষেত্রে এমনটা মনে হয় যে, যাদের সঙ্গে তাদের মতবিরোধ রয়েছে, তাদের কাছে মিথ্যা বলাটা যেন তাদের ধর্মেরই একটি অংশ। রিপাবলিকান নেতার এমন মন্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এক্সে থাকা নেটিজেনরা। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, এটি সেই পুরোনো কৌশল, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যা করছে, তার দায় অন্যের ঘাড়ে চাপানো হচ্ছে। তিনি আরও লেখেন, এই কৌশল বেশিদিন টিকবে না। যারা আপনার কথায় বিশ্বাস করছে, সত্যটা সামনে এলে তারাই সবচেয়ে বেশি হতাশ হবে। আরেকজন মন্তব্য করেছেন, স্পষ্টতই এটি মাইক জনসনের ধর্মের অংশ যে তিনি চাইলেই মিথ্যা বলতে পারেন। তিনি প্রতিবার কথা বলার সময় ভীতি প্রদর্শনের কৌশল ও মিথ্যার আশ্রয় নেন। আমেরিকানরা তাকে বিশ্বাস করতে পারে না। এদিকে এই উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত এখনই শেষ হচ্ছে না। সোমবার সকালে ফক্স নিউজের ট্রে ইংস্টের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই কথা জানান। মূলত জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে রাতভর হামলার বিষয়ে কথা বলছিলেন তিনি। লারাক দ্বীপে ইরানের রকেট লঞ্চারে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি হামলার পরই এই পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমরা তাদের ওপর কঠোর আঘাত হানতে যাচ্ছি। এর একটি মোক্ষম জবাব দেওয়া হবে। ট্রাম্প আরও জানান, ইরানের ছোড়া একটি ছাড়া বাকি সব কটি ক্ষেপণাস্ত্রই মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে আটকে দিয়েছে। যে ক্ষেপণাস্ত্রটি আটকানো যায়নি, সেটি কোনো গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুর দিকে যাচ্ছিল না বলে এটিকে আকাশসীমায় ঢুকতে দেওয়া হয়েছিল। রবিবার হরমুজ প্রণালীতে ইরানের রকেট লঞ্চারগুলোতে মার্কিন বাহিনীর হামলার পরই মূলত পাল্টা আক্রমণ চালায় ইরান। এর মাধ্যমে ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা থেমে থেমে যুদ্ধের এক মাসের বিরতির অবসান ঘটে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র টিম হকিন্স জানান, রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের সদস্যদের সামুদ্রিক মাইনসহ রকেট নিক্ষেপের প্রস্তুতি নিতে দেখা গিয়েছিল। গত সপ্তাহেই ওই প্রণালীর আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের রুট থেকে সামুদ্রিক মাইন অপসারণের কাজ শেষ করেছিল মার্কিন সামরিক বাহিনী। অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে রেভল্যুশনারি গার্ড জানিয়েছে, তাদের বেশ কয়েকজন যোদ্ধা ও দেশবাসী শহীদ ও আহত হয়েছেন। পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেখানো হয় যে, মার্কিন হামলার জবাবে জর্ডানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে ইরান। সূত্র: এওএল, হাফপোস্ট, রয়টার্স
এবারের গরমে জার্মানিতে ১৫ হাজার ৮০০ জনের মৃত্যু
ওমরা করতে গিয়ে মসজিদে নববীর সাউন্ড ঠিক করতে ১০ বছর কাটালেন প্রকৌশলী
যুদ্ধ ভুলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন সম্পর্ক চায় আফগানিস্তান
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে প্রায় ৬০ হাজার বাতের বারের বিল পরিশোধ করতে না পারায় ১৮ বছর বয়সী এক তরুণীর মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বার কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। ২৫ আগস্ট পিংকলাও এলাকার একটি হোস্ট বারে ঘটনাটি ঘটে। পরে মাথা ন্যাড়া করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয় এবং ঘটনার তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তরুণীটি বারে গিয়ে ২০০টির বেশি পানীয়ের অর্ডার করেছিলেন। এতে তার বিল দাঁড়ায় প্রায় ৬০ হাজার থাই বাত, যা প্রায় ১ হাজার ৮০০ মার্কিন ডলারের সমান। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করে বারে প্রবেশ করেছিলেন এবং বিল পরিশোধ না করেই বের হওয়ার চেষ্টা করেন। বার কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই তরুণীর কাছে বিল পরিশোধের মতো টাকা ছিল না। পুলিশের কাছে বিষয়টি না দিয়ে তার চুল বিক্রির মাধ্যমে বিলের একটি অংশ সমন্বয়ের জন্য একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করানো হয়। এরপর বারটির এক কর্মী ইলেকট্রিক ট্রিমার দিয়ে তার মাথার চুল পুরোপুরি কেটে দেন। চুলের মূল্য হিসেবে প্রায় ৩ হাজার বাত ধরা হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে তরুণীকে একটি চুক্তিতে সম্মতি দিতে দেখা যায় এবং পরে তার মাথার চুল কেটে ফেলা হয়। বার কর্তৃপক্ষের দাবি, কাটা চুল দান করার কথা ছিল। তবে তরুণীর বক্তব্য ভিন্ন। ২৮ আগস্ট তিনি তার মায়ের সঙ্গে থানায় গিয়ে বার কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। তার দাবি, ওই সময় তিনি মানসিক চাপে ছিলেন এবং প্রথমে ভেবেছিলেন শুধু কিছু চুল কাটা হবে। পুরো মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হবে, তা তিনি জানতেন না। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় তাকে ধরে ধাক্কা দেওয়া হয়েছিল। বার কর্তৃপক্ষ অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তরুণীর মা জানান, প্রথমে বারের বকেয়া বিল কিস্তিতে পরিশোধের বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। পরে চুল বিক্রি করে বিলের টাকা সমন্বয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়। তিনি ভেবেছিলেন মেয়ের চুল শুধু ছোট করে কাটা হবে। কিন্তু মেয়েকে পুরো মাথা ন্যাড়া অবস্থায় দেখে তিনি হতবাক হন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থাইল্যান্ডের সামাজিক উন্নয়ন ও মানব নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের কাছে তদন্তের অনুরোধ জানানো হয়েছে। সামাজিক সংগঠন Be One Foundation-এর প্রতিষ্ঠাতা চালিদা ফালামাতও ঘটনাটির সমালোচনা করেছেন। তার বক্তব্য, বকেয়া বিল বা প্রতারণার অভিযোগ থাকলে সেটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে সমাধান করা উচিত, কাউকে এভাবে শাস্তি দেওয়া উচিত নয়। পরে বার কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে এবং তরুণীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে সহায়তার বিষয়ে আলোচনা করার কথা জানানো হয়েছে। তরুণী ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করেছিলেন কি না, বকেয়া বিলের প্রকৃত পরিমাণ কত ছিল এবং মাথা ন্যাড়া করার সময় তিনি স্বেচ্ছায় সম্মতি দিয়েছিলেন কি না, এসব বিষয় এখন তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায়।
ছুরি দেখিয়ে নারীকে অপহরণ ও ধর্ষণ, ভারতীয় বংশোদ্ভূত ট্যাক্সিচালকের মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিল
বাড়ির ছাদ ভেদ করে ৪ কেজির ওজনের উল্কাপিণ্ড আঘাত করলো ঘুমিয়ে থাকা নারীর শরীরে