সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

অস্ট্রিয়ায় ১৪ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থীদের হিজাব পরা নিষিদ্ধ, না মানলে জরিমানা ৮০০ ইউরো

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ২৩:৫৫
অস্ট্রিয়ার স্কুলে ১৪ বছরের কম বয়সী ছাত্রীদের হিজাব পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
অস্ট্রিয়ার স্কুলে ১৪ বছরের কম বয়সী ছাত্রীদের হিজাব পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর সঙ্গে অস্ট্রিয়ায় ১৪ বছরের কম বয়সী ছাত্রীদের স্কুলে হিজাব বা ইসলামি রীতিতে মাথা ঢাকার কাপড় পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি উভয় স্কুলেই এই নিয়ম প্রযোজ্য। আইনটি নিয়ে দেশটির মুসলিম সংগঠনগুলোর তীব্র আপত্তি রয়েছে এবং বিষয়টি সাংবিধানিক আদালত পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

অস্ট্রিয়ার সংশোধিত স্কুলশিক্ষা আইনের ৪৩এ ধারায় বলা হয়েছে, ১৪ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো ছাত্রী স্কুলে ইসলামি ঐতিহ্য অনুযায়ী মাথা আবৃত করে এমন হেডস্কার্ফ পরতে পারবে না। তবে স্কুলের বাইরে অনুষ্ঠিত শিক্ষা কার্যক্রম, বাড়িতে শিক্ষা এবং স্কুলের বাইরে আয়োজিত শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য নয়।

 

সরকারের ভাষ্য, আইনটির লক্ষ্য মুসলিম মেয়েদের স্বাধীনতা, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও সমতা নিশ্চিত করা এবং শিশুদের ওপর ধর্মীয় বা সামাজিক চাপ কমানো। ক্ষমতাসীন অস্ট্রিয়ান পিপলস পার্টি, সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ও নিওসের জোট সরকার এই আইন প্রণয়ন করে। পার্লামেন্টে এটি পাস হওয়ার সময় ডানপন্থি ফ্রিডম পার্টিও সমর্থন দেয়।

 

তবে দেশটির প্রধান মুসলিম সংগঠন ইসলামিক রিলিজিয়াস কমিউনিটি ইন অস্ট্রিয়া বা আইজিজিও এই নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করছে। সংগঠনটির মতে, আইনটি ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর অযৌক্তিক বিধিনিষেধ তৈরি করছে এবং বিশেষভাবে মুসলিম ছাত্রীদের লক্ষ্যবস্তু করছে। তারা মনে করে, শিশুদের সুরক্ষার কথা বলা হলেও এই পদক্ষেপ উল্টো সংশ্লিষ্ট ছাত্রীদের সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

 

আইজিজিও জানিয়েছে, নতুন আইনের কারণে কোনো ছাত্রী বা পরিবারের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হলে তারা আইনি সহায়তা দেবে। সংগঠনটি আইনটি সাংবিধানিক আদালতে চ্যালেঞ্জ করার প্রস্তুতিও নিচ্ছে।

 

এর আগে অস্ট্রিয়ায় স্কুলে মাথা ঢাকার কাপড় নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ আদালতের বাধার মুখে পড়েছিল। ২০২০ সালে দেশটির সাংবিধানিক আদালত ১০ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য আগের একটি নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে। আদালত তখন বলেছিল, ওই বিধান একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীর শিশুদের আলাদাভাবে প্রভাবিত করে এবং রাষ্ট্রের ধর্মীয় নিরপেক্ষতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

 

নতুন আইন নিয়ে আইজিজিওর করা আগের দুটি আবেদনও জুলাইয়ে আদালত গ্রহণ করেনি। তবে এর কারণ ছিল আইনটি তখনো কার্যকর না হওয়া। অস্ট্রিয়ার সাংবিধানিক আদালত জানায়, ১ সেপ্টেম্বর আইন কার্যকর হওয়ার আগে আবেদনকারীরা সরাসরি ওই আইনের আওতায় পড়ছিলেন না। ফলে তখন তাদের আবেদন করার আইনি যোগ্যতা তৈরি হয়নি।

 

আইন কার্যকর হওয়ার পর স্কুলগুলোতে নিয়ম ভাঙার ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রথমবার কোনো ছাত্রী হিজাব পরে স্কুলে এলে স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে তা খুলে ফেলতে বলবে এবং ছাত্রী ও তার অভিভাবকের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবে। পুনরায় নিয়ম ভাঙলে শিক্ষা কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে এবং আরও একটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। একাধিকবার নিয়ম ভাঙার পর শেষ পর্যায়ে অভিভাবকের ওপর ১৫০ থেকে ৮০০ ইউরো পর্যন্ত প্রশাসনিক জরিমানা আরোপ করা যেতে পারে। জরিমানা আদায় করা সম্ভব না হলে সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহের বিকল্প কারাদণ্ডের বিধানও রয়েছে।

 

নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যেও উদ্বেগ রয়েছে। সমালোচকদের বক্তব্য, শিক্ষকদের ওপর এমন একটি নিয়ম কার্যকর করার অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হলে তাদের মূল শিক্ষাদান কার্যক্রমে চাপ বাড়তে পারে। বিরোধী গ্রিন পার্টির রাজনীতিক সিগি মাউরারও শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত দায় চাপানোর সমালোচনা করেছেন।

 

অন্যদিকে শিক্ষা মন্ত্রী ক্রিস্টফ ভিডারকেয়ার স্বীকার করেছেন, আইনটি সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জে টিকে থাকবে কি না, তা নিয়ে শতভাগ নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়। তবে তার দাবি, আইনটি সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখতে সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় ব্যাপক পরামর্শ করেছে।

 

নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার আগেই ভিয়েনায় এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে একটি বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ১১ বছর বয়সী এক ছাত্রীর হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘আমার হিজাব, আমার পছন্দ’। আইনটির বিরোধীরা বলছেন, ধর্মীয় পোশাকের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে শিশু ও পরিবারের অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

 

অস্ট্রিয়ার নতুন শিক্ষাবর্ষ ৭ সেপ্টেম্বর ভিয়েনা, লোয়ার অস্ট্রিয়া ও বুর্গেনল্যান্ডে শুরু হয়েছে। দেশটির অন্যান্য অঞ্চলের স্কুলগুলো পরবর্তী সপ্তাহে খুলছে। ফলে নতুন আইনটি বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হয় এবং এর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য আইনি চ্যালেঞ্জে আদালতের অবস্থান কী হয়, তা এখন নজরে রয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স, দ্য নিউ অ্যারা


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
অস্ট্রিয়ার স্কুলে ১৪ বছরের কম বয়সী ছাত্রীদের হিজাব পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
অস্ট্রিয়ায় ১৪ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থীদের হিজাব পরা নিষিদ্ধ, না মানলে জরিমানা ৮০০ ইউরো

নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর সঙ্গে অস্ট্রিয়ায় ১৪ বছরের কম বয়সী ছাত্রীদের স্কুলে হিজাব বা ইসলামি রীতিতে মাথা ঢাকার কাপড় পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি উভয় স্কুলেই এই নিয়ম প্রযোজ্য। আইনটি নিয়ে দেশটির মুসলিম সংগঠনগুলোর তীব্র আপত্তি রয়েছে এবং বিষয়টি সাংবিধানিক আদালত পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   অস্ট্রিয়ার সংশোধিত স্কুলশিক্ষা আইনের ৪৩এ ধারায় বলা হয়েছে, ১৪ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো ছাত্রী স্কুলে ইসলামি ঐতিহ্য অনুযায়ী মাথা আবৃত করে এমন হেডস্কার্ফ পরতে পারবে না। তবে স্কুলের বাইরে অনুষ্ঠিত শিক্ষা কার্যক্রম, বাড়িতে শিক্ষা এবং স্কুলের বাইরে আয়োজিত শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য নয়।   সরকারের ভাষ্য, আইনটির লক্ষ্য মুসলিম মেয়েদের স্বাধীনতা, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও সমতা নিশ্চিত করা এবং শিশুদের ওপর ধর্মীয় বা সামাজিক চাপ কমানো। ক্ষমতাসীন অস্ট্রিয়ান পিপলস পার্টি, সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ও নিওসের জোট সরকার এই আইন প্রণয়ন করে। পার্লামেন্টে এটি পাস হওয়ার সময় ডানপন্থি ফ্রিডম পার্টিও সমর্থন দেয়।   তবে দেশটির প্রধান মুসলিম সংগঠন ইসলামিক রিলিজিয়াস কমিউনিটি ইন অস্ট্রিয়া বা আইজিজিও এই নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করছে। সংগঠনটির মতে, আইনটি ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর অযৌক্তিক বিধিনিষেধ তৈরি করছে এবং বিশেষভাবে মুসলিম ছাত্রীদের লক্ষ্যবস্তু করছে। তারা মনে করে, শিশুদের সুরক্ষার কথা বলা হলেও এই পদক্ষেপ উল্টো সংশ্লিষ্ট ছাত্রীদের সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।   আইজিজিও জানিয়েছে, নতুন আইনের কারণে কোনো ছাত্রী বা পরিবারের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হলে তারা আইনি সহায়তা দেবে। সংগঠনটি আইনটি সাংবিধানিক আদালতে চ্যালেঞ্জ করার প্রস্তুতিও নিচ্ছে।   এর আগে অস্ট্রিয়ায় স্কুলে মাথা ঢাকার কাপড় নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ আদালতের বাধার মুখে পড়েছিল। ২০২০ সালে দেশটির সাংবিধানিক আদালত ১০ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য আগের একটি নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে। আদালত তখন বলেছিল, ওই বিধান একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীর শিশুদের আলাদাভাবে প্রভাবিত করে এবং রাষ্ট্রের ধর্মীয় নিরপেক্ষতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।   নতুন আইন নিয়ে আইজিজিওর করা আগের দুটি আবেদনও জুলাইয়ে আদালত গ্রহণ করেনি। তবে এর কারণ ছিল আইনটি তখনো কার্যকর না হওয়া। অস্ট্রিয়ার সাংবিধানিক আদালত জানায়, ১ সেপ্টেম্বর আইন কার্যকর হওয়ার আগে আবেদনকারীরা সরাসরি ওই আইনের আওতায় পড়ছিলেন না। ফলে তখন তাদের আবেদন করার আইনি যোগ্যতা তৈরি হয়নি।   আইন কার্যকর হওয়ার পর স্কুলগুলোতে নিয়ম ভাঙার ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রথমবার কোনো ছাত্রী হিজাব পরে স্কুলে এলে স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে তা খুলে ফেলতে বলবে এবং ছাত্রী ও তার অভিভাবকের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবে। পুনরায় নিয়ম ভাঙলে শিক্ষা কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে এবং আরও একটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। একাধিকবার নিয়ম ভাঙার পর শেষ পর্যায়ে অভিভাবকের ওপর ১৫০ থেকে ৮০০ ইউরো পর্যন্ত প্রশাসনিক জরিমানা আরোপ করা যেতে পারে। জরিমানা আদায় করা সম্ভব না হলে সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহের বিকল্প কারাদণ্ডের বিধানও রয়েছে।   নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যেও উদ্বেগ রয়েছে। সমালোচকদের বক্তব্য, শিক্ষকদের ওপর এমন একটি নিয়ম কার্যকর করার অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হলে তাদের মূল শিক্ষাদান কার্যক্রমে চাপ বাড়তে পারে। বিরোধী গ্রিন পার্টির রাজনীতিক সিগি মাউরারও শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত দায় চাপানোর সমালোচনা করেছেন।   অন্যদিকে শিক্ষা মন্ত্রী ক্রিস্টফ ভিডারকেয়ার স্বীকার করেছেন, আইনটি সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জে টিকে থাকবে কি না, তা নিয়ে শতভাগ নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়। তবে তার দাবি, আইনটি সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখতে সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় ব্যাপক পরামর্শ করেছে।   নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার আগেই ভিয়েনায় এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে একটি বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ১১ বছর বয়সী এক ছাত্রীর হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘আমার হিজাব, আমার পছন্দ’। আইনটির বিরোধীরা বলছেন, ধর্মীয় পোশাকের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে শিশু ও পরিবারের অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।   অস্ট্রিয়ার নতুন শিক্ষাবর্ষ ৭ সেপ্টেম্বর ভিয়েনা, লোয়ার অস্ট্রিয়া ও বুর্গেনল্যান্ডে শুরু হয়েছে। দেশটির অন্যান্য অঞ্চলের স্কুলগুলো পরবর্তী সপ্তাহে খুলছে। ফলে নতুন আইনটি বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হয় এবং এর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য আইনি চ্যালেঞ্জে আদালতের অবস্থান কী হয়, তা এখন নজরে রয়েছে। সূত্র: রয়টার্স, দ্য নিউ অ্যারা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ২৩:৫৫
ইসরায়েলে বহুমাত্রিক হামলার প্রস্তুতি হিসেবে মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়াচ্ছে ইরান। ছবি: সংগৃহীত

হামাস, হিজবুল্লাহ ও হুথিদের নিয়ে একযোগে ইসরায়েলে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান

হিন্দু প্রতিনিধিদলের সফরের সময় নারী কর্মীদের সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে প্যারিস কর্তৃপক্ষ। ছবি: সংগৃহীত

হিন্দু প্রতিনিধি দল আসতেই নারী কর্মীদের সরে যেতে বলা হয়েছিল, আইফেল টাওয়ারে তদন্তের নির্দেশ

মাদক সরবরাহের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হ্যামিশ ক্রেগ লারনাখ। ছবি: সংগৃহীত

দেখতে শিশুসুলভ হওয়ায় ২০ বছর বয়সী মাদক বিক্রেতাকে কারাগারে পাঠালেন না বিচারক

যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার দাবি করেছে ইরান। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে প্রথমবার ডেস্ট্রয়ার-বিধ্বংসী ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে প্রথমবারের মতো ইরানে তৈরি নতুন একটি জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করার দাবি করেছে তেহরান। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ী বলেছেন, প্রায় ৪৮ ঘণ্টা আগে মার্কিন একটি যুদ্ধজাহাজের ওপর ওই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করা হয় এবং এর পর জাহাজটি সরে যায়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের এই নির্দিষ্ট দাবির সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি।   রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রেজায়ী বলেন, প্রথমবারের মতো একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বিরুদ্ধে ইরানের তৈরি জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রটি মার্কিন বাহিনীর জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করেছিল এবং জাহাজটি এলাকা ছেড়ে চলে যায়। তিনি অবশ্য কোন জাহাজকে লক্ষ্য করা হয়েছিল বা ঠিক কোথায় এই পরীক্ষা চালানো হয়েছে, তা জানাননি।   ইরানের এই দাবির পর যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার বিষয়ে মন্তব্য করেনি। তবে মার্কিন বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী এর আগে দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ওই দুটি যুদ্ধজাহাজ হামলা এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয় এবং কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়নি।   সেন্টকম আরও জানিয়েছে, ইরানের হামলার পর তারা তিনটি ইরানি তেলবাহী জাহাজ অচল করে দিয়েছে। মার্কিন বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাব হিসেবেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ফলে রেজায়ীর নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের দাবি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন হরমুজ প্রণালি ও আশপাশের জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে।   রেজায়ী একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়েও কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইরান শিগগিরই প্রণালির বাইরে একটি নতুন ‘নিষিদ্ধ বা সীমিত’ নৌ চলাচল অঞ্চল ঘোষণা করবে। ওই এলাকায় অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করা জাহাজকে ইরানের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হতে পারে। এতে বিমা পাওয়া ও পরবর্তী সময়ে সমুদ্রপথে চলাচলের ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।   হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহনে এই জলপথ ব্যবহৃত হয়। ফলে সেখানে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও সমুদ্রবাণিজ্যেও এর প্রভাব পড়তে পারে।   এর মধ্যেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার পরিচালনা পর্ষদে এমন একটি খসড়া প্রস্তাব তুলেছে, যাতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানোর পথ তৈরি হতে পারে। প্রস্তাবটির মূল লক্ষ্য ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আরও তথ্য দিতে এবং আইএইএ পরিদর্শকদের পূর্ণাঙ্গভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে চাপ দেওয়া।   আইএইএর মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি জানিয়েছেন, ইরান এখনো সংস্থাটিকে তার পারমাণবিক কর্মসূচি ও পারমাণবিক উপাদানের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও প্রবেশাধিকার দিচ্ছে না। তাঁর মতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর পূর্ণ নজরদারি পুনরায় চালু করা জরুরি।   তবে তেহরান এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় দেশটির পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সেখানে আইএইএর পরিদর্শন চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তাঁর দাবি, পশ্চিমা দেশগুলো রাজনৈতিক চাপ তৈরির জন্য আইএইএর পারমাণবিক ইস্যুকে ব্যবহার করছে।   বাঘাই আরও সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে নতুন কোনো প্রস্তাব পাস হলে তেহরান প্রয়োজনীয় পালটা পদক্ষেপ নেবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর তৈরি পরিস্থিতি বিবেচনায় না নিয়ে পরিদর্শন পুনরায় চালুর দাবি গ্রহণযোগ্য নয়।   এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি কূটনৈতিক চাপও বাড়ছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল, ইরানের তেল রপ্তানি এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের অবস্থান এখনও অনেক দূরে। সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও জাহাজকেন্দ্রিক পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।   তবে ইরানের দাবি অনুযায়ী নতুন জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রটি কোনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজে আঘাত করেছে কি না, কিংবা কোনো জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের এই নির্দিষ্ট দাবি স্বীকার করেনি। ফলে ঘটনাটি আপাতত ইরানের পক্ষ থেকে করা একটি সামরিক দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ২০:৫৬
নিহত রিয়া তালুকদার গোস্বামী ও তাঁর স্বামী রামানুজন গোস্বামী। ছবি: সংগৃহীত

ভারতে ফ্রিজে মিলল স্ত্রীর কাটা মাথা, পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ স্বামীর

প্রেমিকের নতুন বাইকের শখ পূরণ করতে ৯ ভরি স্বর্ণ চুরির অভিযোগ উঠেছে ১৯ বছর বয়সী এক কলেজছাত্রীর বিরুদ্ধে। ছবি: সংগৃহীত

প্রেমিককে নতুন বাইক কিনে দিতে স্বর্ণ চুরির অভিযোগ, কলেজছাত্রী গ্রেপ্তার

ইরানের মানচিত্রকে নিজের মুখের আদলের মতো করে তৈরি করা একটি ছবি ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

নিজের মুখের আদলে ইরানের মানচিত্র পোস্ট করলেন ট্রাম্প

উত্তর কোরিয়ার নৌবাহিনীতে যুক্ত হলো ৫ হাজার টনের নতুন যুদ্ধজাহাজ ‘ক্যাং কন’। ছবি: সংগৃহীত
পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থায় নতুন যুদ্ধজাহাজ ‘ক্যাং কন’, প্রতিরোধ জোরদার কিম জং উনের

উত্তর কোরিয়ার নৌবাহিনীতে যুক্ত হলো নতুন ৫ হাজার টনের ডেস্ট্রয়ার ‘ক্যাং কন’। দেশটির নেতা কিম জং উন বলেছেন, যুদ্ধজাহাজটি উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার অংশ হিসেবে কাজ করবে এবং শত্রুর বিরুদ্ধে ভয়াবহ পাল্টা হামলা চালানোর সক্ষমতা গড়ে তুলবে।   রোববার পূর্ব উপকূলের ওয়ানসান বন্দরে আয়োজিত কমিশনিং অনুষ্ঠানে কিম জং উন নতুন যুদ্ধজাহাজটি পরিদর্শন করেন। অনুষ্ঠানে তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী রি সল-জু ও মেয়ে কিম জু-এ। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ জানায়, জাহাজটি দেশটির পূর্ব সাগর বহরে যুক্ত করা হয়েছে।   কিম বলেন, নতুন প্রজন্মের এই ডেস্ট্রয়ারকে রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক পাল্টা-আঘাত ব্যবস্থার অংশ হিসেবে শত্রুর বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী প্রতিশোধমূলক হামলা চালাতে সক্ষম হতে হবে। একই সঙ্গে তিনি উত্তর কোরিয়ার নৌবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করে পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন বাহিনীতে রূপ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।   তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ক্যাং কন ডেস্ট্রয়ারে বর্তমানে পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে কি না, তা উত্তর কোরিয়ার প্রকাশিত তথ্যে নিশ্চিত করা হয়নি। রয়টার্সও জানিয়েছে, কেসিএনএ যুদ্ধজাহাজটি পারমাণবিক প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থার অংশ হবে বললেও এতে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করেনি।   ইয়োনহাপের তথ্য অনুযায়ী, ক্যাং কন উত্তর কোরিয়ার দ্বিতীয় ৫ হাজার টনের ডেস্ট্রয়ার। এর আগে একই শ্রেণির ‘চোয়ে হিয়ন’ নামের প্রথম যুদ্ধজাহাজটি নৌবাহিনীতে যুক্ত করা হয়। গত জুলাইয়ে ক্যাং কন থেকে কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন অস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণও চালানো হয়েছিল বলে উত্তর কোরিয়ার দাবি।   যুদ্ধজাহাজটির নির্মাণেও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছিল। গত বছরের মে মাসে প্রথমবার পানিতে নামানোর সময় এটি উল্টে যায়। পরে মেরামতের পর প্রায় এক মাসের মধ্যে আবার জাহাজটি পানিতে নামানো হয়।   উত্তর কোরিয়া সাম্প্রতিক সময়ে নৌবাহিনী আধুনিকায়নে জোর দিয়েছে। দেশটি পশ্চিম ও পূর্ব উভয় উপকূলে পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন নৌযান মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে। একই সঙ্গে ১০ হাজার টন শ্রেণির আরও বড় যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে পিয়ংইয়ং।   এদিকে নতুন যুদ্ধজাহাজটি নৌবাহিনীতে যুক্ত করার খবর এমন সময়ে এলো, যখন দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান ‘ফ্রিডম এজ’ নামে পাঁচ দিনের যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করেছে। উত্তর কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরেই এ ধরনের মহড়াকে নিজেদের বিরুদ্ধে সামরিক প্রস্তুতি হিসেবে সমালোচনা করে আসছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ৫:১৩
হরমুজ প্রণালির নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ করার প্রস্তাব  প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের

হরমুজ প্রণালির নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ করার প্রস্তাব প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের

ইরান যুদ্ধে নিহত মার্কিন সৈন্যদের আর্থিক সুবিধা দিতে অস্বীকৃতি পেন্টাগনের

ইরান যুদ্ধে নিহত মার্কিন সৈন্যদের আর্থিক সুবিধা দিতে অস্বীকৃতি পেন্টাগনের

যুদ্ধের খরচ মেটাতে পর্নোগ্রাফিকে বৈধ বৈধতা দিচ্ছে ইউক্রেন

যুদ্ধের খরচ মেটাতে পর্নোগ্রাফিকে বৈধ বৈধতা দিচ্ছে ইউক্রেন

0 Comments