মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় হরমুজ প্রণালি নিয়ে কঠোর অবস্থান জানিয়েছে ইরান। দেশটির দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের ‘আগ্রাসী নীতি’ বন্ধ এবং লেবাননে ইসরায়েলের হামলা থামলেই কেবল এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ আবার খুলে দেওয়া হবে।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খতিবজাদেহ এক সাক্ষাৎকারে জানান, সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে বিঘ্নিত করছে।
যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ করে তিনি কড়া বার্তা দেন। তিনি বলেন, একদিকে চাপ প্রয়োগ করা আর অন্যদিকে স্বাভাবিক পরিস্থিতি প্রত্যাশা—দুটি একসঙ্গে সম্ভব নয়। এ বিষয়ে ওয়াশিংটনকে ইতোমধ্যে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
খতিবজাদেহ আরও বলেন, ইরান আন্তর্জাতিক আইন মেনেই পদক্ষেপ নেবে এবং প্রয়োজন হলে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করবে। তবে সেটি নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্র বাস্তবে তাদের নীতি পরিবর্তন করে কিনা তার ওপর।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, জ্বালানি নিরাপত্তা ইরানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং হরমুজ প্রণালি এ ক্ষেত্রে কৌশলগতভাবে বড় ভূমিকা রাখে।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি ঘিরে এই পরিস্থিতি বৈশ্বিক বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
জাপানের রাজধানী টোকিও থেকে প্রায় এক ঘণ্টার দূরত্বে কানাগাওয়া প্রিফেকচারের উপকূলীয় শহর ফুজিসাওয়ায় একটি নতুন মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা ঘিরে তীব্র বিতর্ক দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের বিরোধিতা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তার এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি বাড়তে থাকা উদ্বেগ, সব মিলিয়ে বিষয়টি এখন জাপানে অভিবাসন, ধর্মীয় সহাবস্থান ও জাতীয় পরিচয় নিয়ে বৃহত্তর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিনের বাসিন্দা নোরিকো ইজুমিজাওয়া বলেন, নতুন মসজিদ নির্মাণের ফলে স্থানীয় সমাজের ভবিষ্যৎ কীভাবে বদলে যেতে পারে, তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। তার মতো আরও অনেক বাসিন্দার আশঙ্কা, বিদেশি জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এলাকার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশেও পরিবর্তন আসতে পারে। তবে তিনি স্বীকার করেন, ব্যক্তিগতভাবে মুসলিম প্রতিবেশীদের সঙ্গে তার কোনো নেতিবাচক অভিজ্ঞতা নেই। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিতর্কের পেছনে রয়েছে জাপানের দীর্ঘদিনের জনসংখ্যা সংকট। জন্মহার কমে যাওয়া এবং দ্রুত বয়স্ক জনগোষ্ঠী বৃদ্ধির কারণে দেশটি ক্রমেই বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। কিন্তু অভিবাসন এখনও জাপানে অত্যন্ত সংবেদনশীল রাজনৈতিক বিষয়। ফলে নতুন সংস্কৃতি, ধর্ম ও জীবনধারার মানুষের উপস্থিতি সমাজে নতুন ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। চলতি বছরের শুরুতে ফুজিসাওয়ায় প্রস্তাবিত মসজিদের বিরুদ্ধে কয়েক হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। বিরোধীদের একটি অংশের দাবি ছিল, পাশের শিন্তো মন্দিরের চেয়ে বড় মসজিদ নির্মাণ স্থানীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশ সরাসরি বিরোধিতার পরিবর্তে মসজিদ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি বাধ্যতামূলক ‘কমিউনিটি এগ্রিমেন্ট’ করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে যানজট, শব্দদূষণ বা অন্যান্য স্থানীয় উদ্বেগ নিয়ে সুস্পষ্ট নিয়ম নির্ধারণ করা যায়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মসজিদকে ঘিরে ঘৃণামূলক বক্তব্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন মসজিদে অপমানজনক ফোনকল ও ই-মেইল পাঠানোর ঘটনাও ঘটেছে। এর জবাবে মানবাধিকার ও বৈষম্যবিরোধী সংগঠনগুলো ‘ঘৃণা নয়’—এই বার্তা নিয়ে পাল্টা কর্মসূচি শুরু করেছে। ফুজিসাওয়ায় প্রস্তাবিত মসজিদের বিপরীতে একটি কফিশপ পরিচালনা করেন হিরোকি সুজুকা। তিনি বলেন, বিরোধ নয়, বরং একে অপরকে জানার মধ্যেই সমাধান রয়েছে। তার ভাষায়, “আমি মসজিদ নির্মাণের বিপক্ষে নই, আবার খুব জোরালো সমর্থকও নই। আগে আমাদের জানা দরকার ইসলাম কী, মুসলমানরা কেমন মানুষ এবং তারা কী ধরনের মূল্যবোধ ধারণ করেন। বোঝাপড়ার মধ্য দিয়েই সহাবস্থানের পথ তৈরি হতে পারে।” জাপানে প্রায় চার দশক ধরে বসবাস করছেন শ্রীলঙ্কার ব্যবসায়ী মোহামেদ মোহিদিন। ১৯৮৭ সালে ওসাকায় আসা এই মুসলিম ব্যবসায়ীর দাবি, আগে বিদেশিদের প্রতি স্থানীয়দের আচরণ তুলনামূলকভাবে আন্তরিক ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মুসলমানদের নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব স্পষ্টভাবে বেড়েছে। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই “জাপান ছেড়ে চলে যাও” বা “নিজের দেশে ফিরে যাও” ধরনের মন্তব্য দেখা যায়। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে মসজিদের সামনে গিয়ে অপমানজনক আচরণও করা হয়েছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, উত্তেজনার জবাব তারা ধৈর্য ও সৌজন্যের মাধ্যমেই দিতে চান। মোহিদিনের মতে, “জাপানের অধিকাংশ মানুষ ইসলাম সম্পর্কে খুব বেশি জানেন না। তাই আমাদেরও সমাজের সঙ্গে আরও বেশি যোগাযোগ বাড়াতে হবে এবং নিজেদের সম্পর্কে মানুষকে জানাতে হবে।” সাইতামা প্রিফেকচারের ইয়াশিও মসজিদের প্রতিনিধি শাকিল মোহামেদও একই ধরনের মত প্রকাশ করেছেন। পাকিস্তান থেকে জাপানে আসা এই প্রবীণ মুসলিম বলেন, জাপানে বসবাস করতে হলে দেশটির আইন, সামাজিক রীতি ও স্থানীয় সংস্কৃতিকে সম্মান জানানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার ভাষায়, “আবর্জনা আলাদা করে ফেলা, পার্কিং আইন মেনে চলা কিংবা মানুষকে হাসিমুখে শুভেচ্ছা জানানো, এসব ছোট ছোট বিষয়ও পারস্পরিক বিশ্বাস গড়ে তুলতে সাহায্য করে।” ফুজিসাওয়ার মসজিদ বিতর্ক তাই এখন শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নয়। এটি জাপানের পরিবর্তিত জনসংখ্যা, বিদেশি শ্রমিকের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি এবং বহুসাংস্কৃতিক সমাজ গঠনের পথে দেশটির সামনে থাকা চ্যালেঞ্জগুলোকেও নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে।
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে দীর্ঘদিন ধরে একাকী কারাবাসে (সলিটারি কনফাইনমেন্ট) রাখা হচ্ছে এমন অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে আদিয়ালা কারা কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট। একই সময়ে কারাগারে তার অবস্থার বিষয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইমরান খানের পরিবার ও আইনজীবীদের দাবি, তাকে দীর্ঘ সময় ধরে অন্য বন্দিদের থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা হচ্ছে এবং আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও স্বজন ও দলের নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। তারা অভিযোগ করেন, এই পরিস্থিতি তার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এদিকে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে আদিয়ালা জেল সুপারিনটেনডেন্ট, কারা বিভাগের মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন্স) এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নোটিশ জারি করেছে। আদালত জানতে চেয়েছে, ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে আদৌ একাকী কারাবাসে রাখা হয়েছে কি না। যদি রাখা হয়ে থাকে, তবে কোন আইনের আওতায়, কতদিন এবং কী কারণে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাইকোর্টের বিচারপতি খাদিম হুসেইন সোমরো তার পর্যবেক্ষণে বলেন, এ ধরনের গুরুতর অভিযোগ শুনানি ছাড়াই উপেক্ষা করা যায় না। আদালত কারা কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে। অন্যদিকে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে অতীতে দাবি করা হয়েছে, ইমরান খানকে আইন অনুযায়ী কারাগারে রাখা হয়েছে এবং তার সঙ্গে প্রচলিত বিধি অনুসারেই আচরণ করা হচ্ছে। তবে একাকী কারাবাসের অভিযোগ নিয়ে চূড়ান্ত কোনো বিচারিক সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাবন্দি ইমরান খান বর্তমানে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে রয়েছেন। দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় গোপন নথি-সংক্রান্ত একাধিক মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হলেও তিনি সব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন। তার দলও অভিযোগ করে আসছে, রাজনৈতিকভাবে তাকে নিষ্ক্রিয় রাখতেই এসব মামলা ও কারাবন্দিত্ব ব্যবহার করা হচ্ছে। অন্যদিকে পাকিস্তান সরকার বরাবরই বলছে, সব আইনি প্রক্রিয়া আদালতের অধীনেই পরিচালিত হচ্ছে।
হলিউড সুপারস্টার টম ক্রুজ ও অভিনেত্রী কেটি হোমসের একমাত্র কন্যাসন্তান সুরি ক্রুজ তার বাবার সঙ্গে সমস্ত আইনি ও সামাজিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন। ২০ বছর বয়সী সুরি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তার নামের শেষ থেকে বাবার বিখ্যাত 'ক্রুজ' পদবিটি বাদ দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি নিজের নাম পরিবর্তন করে 'সুরি নোয়েল' হিসেবে নতুন জীবন শুরু করেছেন। সংবাদমাধ্যম পেজ সিক্স-এর এক এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। পাবলিক রেকর্ড অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়া অঙ্গরাজ্যের পিটসবার্গে বসবাস করছেন সুরি। সেখানকার বিখ্যাত কার্নেগি মেলন বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিএমইউ) ভর্তি হওয়ার পর ২০২৪ সালের অক্টোবরে তিনি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী হিসেবে ভোটার তালিকায় নাম নিবন্ধন করেন। অ্যালেনি কাউন্টির সেই ভোটার তালিকায় তিনি নিজের নাম নিবন্ধিত করেছেন 'সুরি নোয়েল' হিসেবে। পেনসিলভেনিয়া আদালতের নিয়মানুসারে, ভোটার নিবন্ধনের জন্য অবশ্যই নাগরিকের বৈধ আইনি নাম ব্যবহার করতে হয়, যা নিশ্চিত করে যে সুরি আগেই তার নাম পরিবর্তন করেছেন। তবে অ্যালেনি কাউন্টির প্রশাসনিক নথিতে নাম পরিবর্তনের আলাদা কোনো আবেদন পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, পেনসিলভেনিয়ায় স্থানান্তরিত হওয়ার আগেই নিউইয়র্কে থাকাকালীন তিনি এই আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছিলেন। নিউইয়র্কের আইন অনুযায়ী, নাম পরিবর্তনের আবেদনগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বা আবেদনকারীর অনুরোধে প্রকাশ্যে না এনে গোপন রাখা যায়। সুরি নোয়েল নামটি সাম্প্রতিক সময়ে ব্যবহার করা শুরু করলেও, এর পেছনের কারণটি বেশ স্পষ্ট। 'নোয়েল' মূলত তার মা কেটি হোমসের মধ্যনাম (Middle Name)। বাবার পরিচয় ছেড়ে মায়ের মধ্যনামকে নিজের পদবি হিসেবে গ্রহণ করার ঘটনাকে তার মায়ের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার প্রকাশ হিসেবে দেখছেন বিনোদন জগতের সংশ্লিষ্টরা। গত ২০২৪ সালের জুনে লাগার্ডিয়া হাই স্কুল থেকে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার সময় অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক লিপলেটেও তিনি 'সুরি নোয়েল' নাম ব্যবহার করেছিলেন। সে সময় পেজ সিক্স-এর একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, বিখ্যাত বাবার সন্তান হিসেবে পাপারাত্জি ও সংবাদমাধ্যমের অতিরিক্ত নজরদারি এড়াতে এবং নিজের আলাদা একটি স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করতেই সুরি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। জীবনের একটি নতুন অধ্যায়ে পদার্পণের আগে তিনি নিজের মতো করে পথচলা শুরু করতে চেয়েছিলেন। ২০০৬ সালের এপ্রিলে জন্মগ্রহণ করেন সুরি। একই বছরের নভেম্বরে বেশ জমকালো আয়োজনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন টম ক্রুজ ও কেটি হোমস। তবে সেই সংসার দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ২০১২ সালের আগস্টে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। বিচ্ছেদের পর থেকে সুরি তার মা কেটি হোমসের কাছেই বড় হয়েছেন। টম ক্রুজ সায়েন্টোলজি ধর্মীয় বিশ্বাসের একজন কট্টর অনুসারী। বিচ্ছেদের পর থেকে সুরির শৈশব ও কৈশোরের বড় একটি সময় জুড়েই বাবার সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ বা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল না। বর্তমানে থিয়েটার ও অভিনয় জগতে নিজের ক্যারিয়ার গড়ছেন সুরি। হাই স্কুলে পড়ার সময় 'দ্য অ্যাডামস ফ্যামিলি: এ নিউ মিউজিক্যাল'-এ মরটিশিয়া অ্যাডামস চরিত্রে অভিনয় করে তিনি বেশ প্রশংসা কুড়ান। বর্তমানে তিনি কার্নেগি মেলন বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রামা স্কুলে মিউজিক্যাল থিয়েটার নিয়ে পড়াশোনা করছেন। সম্প্রতি তিনি পিটসবার্গের নিউ হ্যাজলেট থিয়েটারে 'কসমিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড' নামক এক রাতের একটি নাটকে 'অ্যাঞ্জেল' চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এছাড়া, কার্নেগি মেলনের সহপাঠীদের সঙ্গে নিয়ে উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের 'এ মিডসামার নাইট'স ড্রিম'-এর আধুনিক রূপান্তর 'মিডসামার!'-এ অভিনয় করছেন তিনি। আগামী মাসে স্কটল্যান্ডের বিখ্যাত ‘২০২৬ এডিনবরা ফেস্টিভ্যাল ফ্রিঞ্জ’-এ নাটকটি মঞ্চস্থ হওয়ার কথা রয়েছে। আইনিভাবে বাবার নাম বাদ দেওয়া ও যোগাযোগের দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে টম ক্রুজ কিংবা কেটি হোমসের প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।