মেক্সিকোয় মাদক কারবারিকে ছাড়তে ২০ লাখ ডলার ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ, বিচারক আটক
আন্তর্জাতিক মাদক পাচারচক্রের এক শীর্ষ সহযোগীকে কারাগার থেকে মুক্তি দিতে ২০ লাখ ডলার ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে মেক্সিকোর এক বিচারককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযুক্ত বিচারকের নাম লুইস বেনিতেজ আলকান্তারা। ৪৯ বছর বয়সী এই বিচারক মেক্সিকো সিটির একটি ফেডারেল আদালতে দায়িত্ব পালন করতেন। মার্কিন বিচার বিভাগের অভিযোগ, সাবেক কানাডিয়ান অলিম্পিক স্নোবোর্ডার ও অভিযুক্ত মাদকচক্রের প্রধান রায়ান ওয়েডিংয়ের অন্যতম সহযোগী অ্যান্ড্রু ক্লার্ককে মুক্তি দেওয়ার বিনিময়ে বিপুল অর্থ গ্রহণ করেছিলেন তিনি। গত রোববার (১ নভেম্বর) কলম্বিয়া থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বিচারক বেনিতেজের বিরুদ্ধে অপরাধীকে গ্রেপ্তার, বিচার ও শাস্তি থেকে রক্ষা করতে সহায়তার অভিযোগে নয়টি ফেডারেল অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, নিজের বিচারিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে আন্তর্জাতিক মাদক পাচারচক্রের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য অ্যান্ড্রু ক্লার্কের মুক্তির ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ ১৫ বছর করে কারাদণ্ড হতে পারে। বর্তমানে কলম্বিয়ায় আটক বিচারককে বিচারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণের আবেদন জানানোর প্রস্তুতি চলছে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের অক্টোবরে। সে সময় মেক্সিকোতে গ্রেপ্তার হন ৩৬ বছর বয়সী কানাডিয়ান নাগরিক অ্যান্ড্রু ক্লার্ক। তাঁর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচার, হত্যা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ ছিল। গ্রেপ্তারের পর ক্লার্ককে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রত্যর্পণের বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। সেই মামলার দায়িত্বে ছিলেন বিচারক বেনিতেজ। মার্কিন প্রসিকিউটরদের দাবি, মামলার শুনানি চলাকালে ক্লার্ক ও তাঁর সহযোগীরা বিচারককে ঘুষ দিয়ে মুক্তির ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা করেন।
আদালতের অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে প্রায় ২৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার স্থানান্তর করেন ক্লার্ক। এর মধ্যে বিচারক বেনিতেজকে প্রায় ২০ লাখ ডলার দেওয়ার সমঝোতা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি পুরো অর্থ পাওয়ার দিনই ক্লার্কের জামিন মঞ্জুর করে তাঁকে মুক্তির আদেশ দেন বিচারক। তবে কয়েক দিন পর আবারও গ্রেপ্তার হন ক্লার্ক। পরে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে মামলা চলছে।
এই ঘটনায় আলোচনায় এসেছে সাবেক অলিম্পিক স্নোবোর্ডার রায়ান ওয়েডিংয়ের নামও। কানাডার হয়ে ২০০২ সালের শীতকালীন অলিম্পিকে অংশ নেওয়া ওয়েডিংয়ের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, কলম্বিয়া ও কানাডাজুড়ে বিশাল কোকেন পাচার নেটওয়ার্ক পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। মার্কিন তদন্তকারীদের দাবি, তাঁর নেতৃত্বাধীন চক্রটি বিলিয়ন ডলারের মাদক কারবার পরিচালনা করত। অ্যান্ড্রু ক্লার্ক ছিলেন এই সংগঠনের দ্বিতীয় শীর্ষ ব্যক্তি। হত্যাকাণ্ড ও হত্যাচেষ্টার সঙ্গেও চক্রটির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। একসময় এফবিআইয়ের দশ মোস্ট ওয়ান্টেড পলাতকের তালিকায় থাকা ওয়েডিংকে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে মেক্সিকো থেকে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্রে আনা হয়। তিনি বর্তমানে ফেডারেল হেফাজতে রয়েছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে ২০২৭ সালের মার্চ ও অক্টোবরে পৃথক দুটি বিচার শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারীদের সহায়তা করতে সরকারি ক্ষমতা ব্যবহারকারী দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদেরও বিচারের মুখোমুখি করা হবে। এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় বিচারক বেনিতেজকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই, লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ, কানাডার রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ এবং কলম্বিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অংশ নিয়েছে। তবে বেনিতেজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচার এখনো শেষ হয়নি।
সংবাদসূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ , অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
অপরাধ
View moreকেনিয়ায় ধর্মীয় বিশ্বাসের নামে অনুসারীদের অনাহারে রেখে ১৯০ শিশুসহ ১৯১ জনকে হত্যার দায়ে ধর্মীয় নেতা পল ম্যাকেঞ্জিকে ২০০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দেশটির উপকূলীয় শহর মোম্বাসার হাইকোর্ট এই রায় ঘোষণা করেন। নিজেকে ধর্মীয় নেতা দাবি করা ম্যাকেঞ্জি অনুসারীদের বিশ্বাস করিয়েছিলেন, পৃথিবীর শেষ সময় ঘনিয়ে এসেছে এবং অনাহারে মারা গেলে তাঁরা যিশুর সঙ্গে স্বর্গে যেতে পারবেন। তাঁর নির্দেশে শিশুদের খাবার বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি অনুসারীদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল বলে আদালতে প্রমাণিত হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মোম্বাসা হাইকোর্টের বিচারপতি ডায়ানা কাভেদজা ম্যাকেঞ্জিকে অনাহারে হত্যার জন্য ১০০ বছর এবং সরাসরি হত্যাকাণ্ডে ভূমিকার জন্য আরও ১০০ বছরের কারাদণ্ড দেন। এর আগে গত ১৯ অক্টোবর ম্যাকেঞ্জি ও তাঁর ২৮ সহযোগীকে ১৯১টি হত্যার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। বিচারক জানান, ম্যাকেঞ্জি তাঁর অনুসারীদের প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিয়ে গিয়ে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অনাহারে থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই সংঘবদ্ধ কর্মকাণ্ডের মূল দায় তাঁর ওপর বর্তায়। তদন্তে উঠে এসেছে, ম্যাকেঞ্জি ‘গুড নিউজ ইন্টারন্যাশনাল চার্চ’ নামে একটি ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃত্ব দিতেন। তিনি অনুসারীদের বোঝাতেন, পৃথিবীর শেষ সময় আসন্ন এবং মৃত্যুর মাধ্যমে তাঁরা যিশুর সঙ্গে মিলিত হতে পারবেন। এই বিশ্বাস ছড়িয়ে কেনিয়ার উপকূলীয় কিলিফি কাউন্টির শাকাহোলা বনাঞ্চলে অনুসারীদের বসবাসের ব্যবস্থা করেন। সেখানে শিশুদের প্রথমে অনাহারে রাখা হতো। এরপর পর্যায়ক্রমে কিশোর-কিশোরী, নারী ও পুরুষদের একই প্রক্রিয়ায় মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হতো। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, কেউ খাবার খেতে চাইলে কিংবা পালানোর চেষ্টা করলে ম্যাকেঞ্জির সহযোগীরা তাঁদের মারধর ও ভয়ভীতি দেখাতেন। বেশ কয়েকজনকে শ্বাসরোধ ও শারীরিক নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যার প্রমাণও পাওয়া গেছে। ২০২৩ সালের এপ্রিলে কেনিয়ার পুলিশ শাকাহোলা বনাঞ্চলে গণকবরের সন্ধান পাওয়ার পর ভয়াবহ এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। তদন্তকারীরা বনের বিভিন্ন স্থানে অগভীর কবর থেকে একের পর এক মরদেহ উদ্ধার করতে থাকেন। কেনিয়ার জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের হিসাবে, ওই বনাঞ্চল থেকে শেষ পর্যন্ত ৪৪৮টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক শিশু ছিল। তবে শুক্রবারের রায়টি ১৯০ শিশু ও একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিকে হত্যার মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত। অন্য মৃত্যুর ঘটনাগুলো নিয়ে পৃথক তদন্ত ও আইনি কার্যক্রম রয়েছে। মামলার অন্যতম হৃদয়বিদারক ঘটনা হলো ছয় সন্তান হারানো বাবা স্টিফেন মুইতির অভিজ্ঞতা। তাঁর স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে ম্যাকেঞ্জির ধর্মীয় গোষ্ঠীতে যোগ দিয়েছিলেন। পরে ছয় সন্তানই সেখানে মারা যায়। রয়টার্সকে মুইতি জানান, সন্তানদের হারানোর শোক কোনো দিন কাটবে না। ম্যাকেঞ্জির কঠোর শাস্তি হলেও তাঁর সন্তানদের আর ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। অন্যদিকে ম্যাকেঞ্জির এক ছেলেও জানিয়েছেন, তাঁর বাবার ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে নিজেদের পরিবারের সদস্যরাও প্রাণ হারিয়েছেন। তিনি নিজে ওই বিশ্বাস থেকে সরে আসায় বেঁচে গেছেন। ম্যাকেঞ্জি অবশ্য আদালতে দাবি করেছিলেন, তিনি কাউকে জোর করে অনাহারে থাকতে বাধ্য করেননি। কিন্তু সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত তাঁর সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেন। একই ঘটনায় তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধেও হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরের আরেকটি এলাকায় ৫২ জনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ম্যাকেঞ্জির বিরুদ্ধে পৃথক মামলা রয়েছে। সেই অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন। ভয়াবহ এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কেনিয়া সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, আগেই সতর্কতামূলক তথ্য পাওয়া সত্ত্বেও যথাসময়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শুক্রবারের রায়ের পর তারা অপরাধীদের পাশাপাশি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ কর্মকর্তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। সংবাদসূত্র: রয়টার্স , অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস , কেনিয়ার ডিরেক্টরেট অব ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশনস।
মেক্সিকোয় মাদক কারবারিকে ছাড়তে ২০ লাখ ডলার ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ, বিচারক আটক
গালি দেয়ায় ৭ বছরের শিশুর মুখে সাবান ঢোকানোর চেষ্টায় ৩৪ বছর বয়সী ব্যক্তি গ্রেপ্তার
কিশোরীকে যৌন নিপীড়নের দায় স্বীকার করেও কারাদন্ড থেকে রেহাই পেলেন টিভি অনুষ্ঠানের শিক্ষক
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের আলবুকার্ক শহরে উচ্চ শব্দে গান বাজানোকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীদের মধ্যে বিরোধের জেরে গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরী। এ ঘটনায় ১০ বছর বয়সী এক শিশুর মাকে হত্যা মামলাসহ একাধিক অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া নারীর নাম এলাইনা গোমেজ-ভিলেদা। তাঁর বয়স ৪০ বছর। আলবুকার্ক পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩১ অক্টোবর এ ঘটনা ঘটে। নিহত কিশোরীর নাম কেইনারলেইন র্যাঙ্গেল। পুলিশের অভিযোগ, ঘটনার দিন উচ্চ শব্দে গান বাজানো নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে গোমেজ-ভিলেদা নিহত কিশোরীর মায়ের সঙ্গে শারীরিক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় কিশোরী কেইনারলেইন বিরোধ থামানোর চেষ্টা করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।অভিযোগ অনুযায়ী, এরপর গোমেজ-ভিলেদা তাঁর ১০ বছর বয়সী ছেলেকে একটি বন্দুক আনতে বলেন। শিশুটি বন্দুক নিয়ে ফিরে এলে গুলি ছোড়ে। সেই গুলিতে গুরুতর আহত হন কেইনারলেইন। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার পর গোমেজ-ভিলেদা ছেলেকে নিয়ে নিজেদের বাসায় ফিরে যান বলে পুলিশের অভিযোগ। তিনি স্বামীকে বার্তা পাঠিয়ে জানান, তাঁর মনে হচ্ছে তাঁকে এখনই কারাগারে যেতে হতে পারে। এরপর তিনি জরুরি নম্বর ৯১১-এ ফোন করে ঘটনাটি জানান।পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জরুরি ফোন চলাকালে নিহত কিশোরীর বাবা বলে ধারণা করা এক ব্যক্তি গোমেজ-ভিলেদার বাসার দরজা খোলার চেষ্টা করেন এবং একটি জানালা ভেঙে ফেলেন। এ সময় ওই নারী তাঁকে সরিয়ে দিতে গুলি ছোড়েন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার পর গোমেজ-ভিলেদাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, ষড়যন্ত্র করে হত্যা, শিশু নির্যাতন, অপ্রাপ্তবয়স্ককে অপরাধে প্ররোচিত করা, মারধর এবং চুরি করা আগ্নেয়াস্ত্র গ্রহণসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে।অন্যদিকে, গুলি চালানোর অভিযোগে থাকা ১০ বছর বয়সী শিশুটির বিরুদ্ধে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়নি। শিশুটির বয়স বিবেচনায় কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব, তা নিয়ে তদন্তকারীরা জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করছেন। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে একটি পারিবারিক ও প্রতিবেশী বিরোধ কীভাবে প্রাণঘাতী ঘটনায় রূপ নিতে পারে, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুলিশের অভিযোগগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।
ডেলাওয়্যারে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে বন্দুক হামলা, সংকটাপন্ন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মাহমুদুল; গুলিবিদ্ধ ৬
ডেলাওয়্যারে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে গুলিতে আহত ৬, আটক কিশোরের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলা
নিউইয়র্কে জগিংয়ের সময় ছুরিকাঘাতে তরুণী গুরুতর আহত, লাইফ সাপোর্টে
নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলিনে হ্যালোইন উৎসবের রাতে সাবওয়ে দুর্ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন। শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাত ৯টা ১৫ মিনিটের দিকে ব্রুকলিনের বার্গেন স্ট্রিট সাবওয়ে স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। জরুরি বিভাগে খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে একজনকে ঘটনাস্থলেই মৃত ঘোষণা করা হয় এবং আহত আরেকজনকে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। নিউইয়র্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ফক্স ৫ নিউইয়র্কের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্টেশনটির আইআরটি ইস্টার্ন পার্কওয়ে লাইনে ট্রেনের ধাক্কায় একজনের হতাহতের খবর পেয়ে নিউইয়র্ক সিটি ফায়ার ডিপার্টমেন্ট (এফডিএনওয়াই) জরুরি সাড়া দেয়। আহত দ্বিতীয় ব্যক্তির অবস্থা গুরুতর নয় বলে প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে কীভাবে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে, নিহত ও আহত ব্যক্তিরা একই ঘটনার শিকার কি না এবং তাঁরা কীভাবে ট্রেনের সংস্পর্শে এসেছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। নিহত ব্যক্তির পরিচয়ও আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি পুলিশ। ঘটনার পর স্টেশনটিতে কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং সাবওয়ে চলাচলে কোনো বিঘ্ন ঘটেছিল কি না, সে সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তদন্তের অগ্রগতি বা দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হলে নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে। নিউইয়র্কের সাবওয়ে প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। ফলে এ ধরনের দুর্ঘটনা নগরীর গণপরিবহনের নিরাপত্তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে বার্গেন স্ট্রিট স্টেশনের এই ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের অপেক্ষা রয়েছে।
খাবার পৌঁছে দেওয়া রোবটের সামনে দাঁড়িয়ে বারবার বাধা! ৭৮ বছর বয়সী সাবেক অধ্যাপক গ্রেপ্তার
ফ্লোরিডায় রাজনৈতিক সমাবেশে ট্রাম্পকে গুলি করার হুমকি দেয়ায় নারী গ্রেপ্তার