সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
শিক্ষা

যুক্তরাষ্ট্রের ২৮ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপের সুযোগ, জেনে নিন আবেদনের আগে জরুরি বিষয়গুলো

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ৩১, ২০২৬ ৩:৫
যুক্তরাষ্ট্রের ২৮ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপের সুযোগ
যুক্তরাষ্ট্রের ২৮ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপের সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাচেলর, মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ে উচ্চশিক্ষা নিতে আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপ ও আর্থিক সহায়তার সুযোগ রয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ২৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি তালিকা ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ থাকার দাবি করা হয়েছে। তবে তালিকাভুক্ত সব বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনটি শিক্ষাস্তরেই ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ পাওয়া যায়, এমন নিশ্চয়তা নেই। বিশ্ববিদ্যালয়, ডিগ্রি, বিভাগ এবং শিক্ষার্থীর যোগ্যতা অনুযায়ী আর্থিক সহায়তার সুযোগ ও শর্ত আলাদা হয়।

 

যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ বলতে সাধারণত টিউশন ফি মওকুফের পাশাপাশি জীবনযাপনের জন্য নির্দিষ্ট আর্থিক সহায়তাকে বোঝানো হয়। তবে সব স্কলারশিপে একই সুবিধা থাকে না। কোনো বিশ্ববিদ্যালয় শুধু টিউশন ফি মওকুফ করে, আবার কোনো প্রতিষ্ঠান আবাসন, খাবার, স্বাস্থ্যবিমা কিংবা অন্যান্য খরচের জন্যও সহায়তা দেয়। বিশেষ করে গবেষণাভিত্তিক পিএইচডি প্রোগ্রামে টিউশন সহায়তার পাশাপাশি স্টাইপেন্ড পাওয়ার সুযোগ তুলনামূলক বেশি।

যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আর্থিক সহায়তার সুযোগ রাখা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। বিশ্ববিদ্যালয়টির স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের পারিবারিক আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় সহায়তা দেওয়া হয়। তবে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন ভর্তি মূল্যায়নে বিবেচিত হতে পারে। অন্যদিকে বিভিন্ন পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত সময় পর্যন্ত আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে।

 

ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো এবং নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতেও স্নাতক ও গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষার জন্য বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সহায়তা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে যোগ্য শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনভিত্তিক সহায়তা, ফেলোশিপ কিংবা গবেষণা ও শিক্ষকতা সহকারীর দায়িত্বের মাধ্যমে অর্থায়ন পেতে পারেন। তবে মাস্টার্স পর্যায়ের সব প্রোগ্রাম একই ধরনের অর্থায়নের আওতায় পড়ে না।

যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া লস অ্যাঞ্জেলেস, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া সান ডিয়েগো, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া সান্তা বারবারা এবং ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন ম্যাডিসন উল্লেখযোগ্য। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে গবেষণাভিত্তিক স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য ফেলোশিপ, রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ এবং টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সুযোগ রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য অর্থায়নের পরিমাণ ও যোগ্যতা সংশ্লিষ্ট বিভাগের নীতির ওপর নির্ভর করে।

 

স্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক অ্যাট বাফেলো, সিরাকিউজ ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব অ্যারিজোনা, ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস অ্যামহার্স্ট এবং ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো বোল্ডারেও বিভিন্ন পর্যায়ে স্কলারশিপ ও গবেষণাভিত্তিক অর্থায়নের ব্যবস্থা রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মেধা, একাডেমিক ফলাফল এবং গবেষণার অভিজ্ঞতা বিবেচনায় সহায়তা দেওয়া হয়। তবে ভর্তি হওয়া সব শিক্ষার্থী স্বয়ংক্রিয়ভাবে এসব সুবিধা পান না।

যুক্তরাষ্ট্রের আরও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়, যেমন সাউদার্ন ইলিনয় ইউনিভার্সিটি কার্বনডেল, টেক্সাস এঅ্যান্ডএম ইউনিভার্সিটি কিংসভিল, টেক্সাস স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব আরকানসাস এবং ইউনিভার্সিটি অব সিনসিনাটিতে বিভাগভিত্তিক স্কলারশিপ ও অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সুযোগ থাকতে পারে। এসব প্রতিষ্ঠানে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিভাগের অর্থায়ন নীতি, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা এবং আবেদনের সময়সীমা যাচাই করা জরুরি।

 

একইভাবে আরকানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব নটর ডেম, ভার্জিনিয়া টেক, বেমিডজি স্টেট ইউনিভার্সিটি, বেইলর ইউনিভার্সিটি এবং ইস্ট টেনেসি স্টেট ইউনিভার্সিটিতেও বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম স্কলারশিপের তালিকায় থাকা মানেই সেখানে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পড়ার নিশ্চয়তা নয়।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ব্যাচেলর, মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ের অর্থায়নের পার্থক্য বোঝা। ব্যাচেলর পর্যায়ে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মেধাভিত্তিক বা প্রয়োজনভিত্তিক স্কলারশিপ দেয়। মাস্টার্স পর্যায়ে কিছু প্রোগ্রামে আংশিক স্কলারশিপ পাওয়া গেলেও সম্পূর্ণ অর্থায়ন তুলনামূলক সীমিত হতে পারে। অন্যদিকে পিএইচডি পর্যায়ে গবেষণা ও শিক্ষকতা সহকারীর দায়িত্বের মাধ্যমে টিউশন এবং জীবনযাপনের খরচের জন্য সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

 

আবেদনের ক্ষেত্রে সাধারণত একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার প্রমাণ, স্টেটমেন্ট অব পারপাস, রেকমেন্ডেশন লেটার এবং প্রয়োজন অনুযায়ী গবেষণার অভিজ্ঞতা বিবেচনা করা হয়। কিছু প্রোগ্রামে জিআরই বা অন্যান্য পরীক্ষার স্কোর প্রয়োজন হতে পারে, আবার অনেক প্রোগ্রামে এসব পরীক্ষার বাধ্যবাধকতা নেই। তাই প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের ভর্তি নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

স্কলারশিপের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আর্থিক সহায়তার মেয়াদ। কোনো প্রোগ্রামে এক বছরের জন্য সহায়তা দেওয়া হয়, আবার কিছু পিএইচডি প্রোগ্রামে নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে একাধিক বছরের অর্থায়নের ব্যবস্থা থাকে। অফার লেটারে টিউশন, স্টাইপেন্ড, স্বাস্থ্যবিমা, অতিরিক্ত ফি এবং অর্থায়নের মেয়াদ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে কি না, তা দেখে নেওয়া প্রয়োজন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ২৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় একই প্রতিষ্ঠানের নাম একাধিকবার এসেছে এবং কয়েকটি ক্রমিক নম্বর অনুপস্থিত রয়েছে। ফলে তালিকাটিকে ২৮টি পৃথক বিশ্ববিদ্যালয়ের যাচাইকৃত পূর্ণাঙ্গ তালিকা হিসেবে উপস্থাপন করা যথাযথ নয়। পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানের সব ব্যাচেলর, মাস্টার্স ও পিএইচডি প্রোগ্রামে ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ রয়েছে বলেও নিশ্চিত হওয়া যায় না।

 

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের চেয়ে নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের অর্থায়ন ব্যবস্থা যাচাই করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল অ্যাডমিশন, ফিন্যান্সিয়াল এইড এবং গ্র্যাজুয়েট ফান্ডিং বিভাগের তথ্য দেখে আবেদন করলে স্কলারশিপের প্রকৃত সুযোগ, শর্ত এবং সম্ভাব্য খরচ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া সম্ভব।

 


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

শিক্ষা

View more
যুক্তরাষ্ট্রের ২৮ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপের সুযোগ
যুক্তরাষ্ট্রের ২৮ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপের সুযোগ, জেনে নিন আবেদনের আগে জরুরি বিষয়গুলো

যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাচেলর, মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ে উচ্চশিক্ষা নিতে আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপ ও আর্থিক সহায়তার সুযোগ রয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ২৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি তালিকা ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ থাকার দাবি করা হয়েছে। তবে তালিকাভুক্ত সব বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনটি শিক্ষাস্তরেই ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ পাওয়া যায়, এমন নিশ্চয়তা নেই। বিশ্ববিদ্যালয়, ডিগ্রি, বিভাগ এবং শিক্ষার্থীর যোগ্যতা অনুযায়ী আর্থিক সহায়তার সুযোগ ও শর্ত আলাদা হয়।   যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ বলতে সাধারণত টিউশন ফি মওকুফের পাশাপাশি জীবনযাপনের জন্য নির্দিষ্ট আর্থিক সহায়তাকে বোঝানো হয়। তবে সব স্কলারশিপে একই সুবিধা থাকে না। কোনো বিশ্ববিদ্যালয় শুধু টিউশন ফি মওকুফ করে, আবার কোনো প্রতিষ্ঠান আবাসন, খাবার, স্বাস্থ্যবিমা কিংবা অন্যান্য খরচের জন্যও সহায়তা দেয়। বিশেষ করে গবেষণাভিত্তিক পিএইচডি প্রোগ্রামে টিউশন সহায়তার পাশাপাশি স্টাইপেন্ড পাওয়ার সুযোগ তুলনামূলক বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আর্থিক সহায়তার সুযোগ রাখা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। বিশ্ববিদ্যালয়টির স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের পারিবারিক আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় সহায়তা দেওয়া হয়। তবে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন ভর্তি মূল্যায়নে বিবেচিত হতে পারে। অন্যদিকে বিভিন্ন পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত সময় পর্যন্ত আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে।   ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো এবং নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতেও স্নাতক ও গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষার জন্য বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সহায়তা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে যোগ্য শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনভিত্তিক সহায়তা, ফেলোশিপ কিংবা গবেষণা ও শিক্ষকতা সহকারীর দায়িত্বের মাধ্যমে অর্থায়ন পেতে পারেন। তবে মাস্টার্স পর্যায়ের সব প্রোগ্রাম একই ধরনের অর্থায়নের আওতায় পড়ে না। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া লস অ্যাঞ্জেলেস, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া সান ডিয়েগো, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া সান্তা বারবারা এবং ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন ম্যাডিসন উল্লেখযোগ্য। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে গবেষণাভিত্তিক স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য ফেলোশিপ, রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ এবং টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সুযোগ রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য অর্থায়নের পরিমাণ ও যোগ্যতা সংশ্লিষ্ট বিভাগের নীতির ওপর নির্ভর করে।   স্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক অ্যাট বাফেলো, সিরাকিউজ ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব অ্যারিজোনা, ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস অ্যামহার্স্ট এবং ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো বোল্ডারেও বিভিন্ন পর্যায়ে স্কলারশিপ ও গবেষণাভিত্তিক অর্থায়নের ব্যবস্থা রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মেধা, একাডেমিক ফলাফল এবং গবেষণার অভিজ্ঞতা বিবেচনায় সহায়তা দেওয়া হয়। তবে ভর্তি হওয়া সব শিক্ষার্থী স্বয়ংক্রিয়ভাবে এসব সুবিধা পান না। যুক্তরাষ্ট্রের আরও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়, যেমন সাউদার্ন ইলিনয় ইউনিভার্সিটি কার্বনডেল, টেক্সাস এঅ্যান্ডএম ইউনিভার্সিটি কিংসভিল, টেক্সাস স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব আরকানসাস এবং ইউনিভার্সিটি অব সিনসিনাটিতে বিভাগভিত্তিক স্কলারশিপ ও অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সুযোগ থাকতে পারে। এসব প্রতিষ্ঠানে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিভাগের অর্থায়ন নীতি, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা এবং আবেদনের সময়সীমা যাচাই করা জরুরি।   একইভাবে আরকানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব নটর ডেম, ভার্জিনিয়া টেক, বেমিডজি স্টেট ইউনিভার্সিটি, বেইলর ইউনিভার্সিটি এবং ইস্ট টেনেসি স্টেট ইউনিভার্সিটিতেও বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম স্কলারশিপের তালিকায় থাকা মানেই সেখানে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পড়ার নিশ্চয়তা নয়। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ব্যাচেলর, মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ের অর্থায়নের পার্থক্য বোঝা। ব্যাচেলর পর্যায়ে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মেধাভিত্তিক বা প্রয়োজনভিত্তিক স্কলারশিপ দেয়। মাস্টার্স পর্যায়ে কিছু প্রোগ্রামে আংশিক স্কলারশিপ পাওয়া গেলেও সম্পূর্ণ অর্থায়ন তুলনামূলক সীমিত হতে পারে। অন্যদিকে পিএইচডি পর্যায়ে গবেষণা ও শিক্ষকতা সহকারীর দায়িত্বের মাধ্যমে টিউশন এবং জীবনযাপনের খরচের জন্য সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।   আবেদনের ক্ষেত্রে সাধারণত একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার প্রমাণ, স্টেটমেন্ট অব পারপাস, রেকমেন্ডেশন লেটার এবং প্রয়োজন অনুযায়ী গবেষণার অভিজ্ঞতা বিবেচনা করা হয়। কিছু প্রোগ্রামে জিআরই বা অন্যান্য পরীক্ষার স্কোর প্রয়োজন হতে পারে, আবার অনেক প্রোগ্রামে এসব পরীক্ষার বাধ্যবাধকতা নেই। তাই প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের ভর্তি নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। স্কলারশিপের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আর্থিক সহায়তার মেয়াদ। কোনো প্রোগ্রামে এক বছরের জন্য সহায়তা দেওয়া হয়, আবার কিছু পিএইচডি প্রোগ্রামে নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে একাধিক বছরের অর্থায়নের ব্যবস্থা থাকে। অফার লেটারে টিউশন, স্টাইপেন্ড, স্বাস্থ্যবিমা, অতিরিক্ত ফি এবং অর্থায়নের মেয়াদ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে কি না, তা দেখে নেওয়া প্রয়োজন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ২৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় একই প্রতিষ্ঠানের নাম একাধিকবার এসেছে এবং কয়েকটি ক্রমিক নম্বর অনুপস্থিত রয়েছে। ফলে তালিকাটিকে ২৮টি পৃথক বিশ্ববিদ্যালয়ের যাচাইকৃত পূর্ণাঙ্গ তালিকা হিসেবে উপস্থাপন করা যথাযথ নয়। পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানের সব ব্যাচেলর, মাস্টার্স ও পিএইচডি প্রোগ্রামে ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ রয়েছে বলেও নিশ্চিত হওয়া যায় না।   যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের চেয়ে নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের অর্থায়ন ব্যবস্থা যাচাই করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল অ্যাডমিশন, ফিন্যান্সিয়াল এইড এবং গ্র্যাজুয়েট ফান্ডিং বিভাগের তথ্য দেখে আবেদন করলে স্কলারশিপের প্রকৃত সুযোগ, শর্ত এবং সম্ভাব্য খরচ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া সম্ভব।  

প্রকাশ: অক্টোবর ৩১, ২০২৬ ৩:৫
জর্জ মেসন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরির জন্য প্রস্তুত করতে ৩৪টি বিশেষায়িত শিক্ষাক্রম চালু

জর্জ মেসন বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির প্রস্তুতিতে ৩৪ বিশেষ কোর্স, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সুযোগ

কলেজে ভর্তির আবেদনে লাগবে না কোনো ফি

কলেজে ভর্তির আবেদনে লাগবে না কোনো ফি, নিউইয়র্কে সুযোগ পাচ্ছেন হাজারো শিক্ষার্থী

যুক্তরাজ্যে বিদেশি স্নাতকদের ভিসার মেয়াদে পরিবর্তন

যুক্তরাজ্যের গ্র্যাজুয়েট ভিসায় বড় পরিবর্তন, নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পাবেন দুই বছর থাকার সুযোগ

একাধিক ডিগ্রির পরও নতুন শেখার পথে মিহিরকান্ত
পিএইচডি ও দুই মাস্টার্স ডিগ্রির পরও ৪১ বছর বয়সে এমবিএ করছেন ইন্টেলের কর্মকর্তা! লক্ষ্য এআইে দক্ষতা

উচ্চশিক্ষার একাধিক ডিগ্রি অর্জনের পরও শেখার আগ্রহে ভাটা পড়েনি মিহিরকান্ত উপাধ্যায়ের। যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইন্টেলের গ্লোবাল প্রোগ্রাম ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই পেশাজীবী ৪১ বছর বয়সে ভর্তি হয়েছেন হাইব্রিড এমবিএ প্রোগ্রামে। তাঁর লক্ষ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সম্পর্কে নতুন জ্ঞান অর্জন এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল করপোরেট দুনিয়ায় নিজের দক্ষতা প্রাসঙ্গিক রাখা।   পিএইচডি ও দুটি মাস্টার্স ডিগ্রি থাকার পরও নতুন করে এমবিএ করার সিদ্ধান্ত পেশাজীবীদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি খাতে কাজ করা ব্যক্তিদের জন্য সময়ের সঙ্গে দক্ষতা হালনাগাদ করার গুরুত্ব তাঁর এই সিদ্ধান্তে নতুন করে সামনে এসেছে। মিহিরকান্তের এই পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে এআইনির্ভর কর্মপরিবেশে নিজেকে প্রস্তুত রাখার পরিকল্পনা। প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাজের ধরন, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং ব্যবস্থাপনার কৌশল বদলে যাচ্ছে। ফলে শুধু পূর্বের শিক্ষাগত যোগ্যতা বা দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর না করে নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে শেখার প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। হাইব্রিড এমবিএ প্রোগ্রামে অনলাইন ও সরাসরি শিক্ষার সমন্বয় থাকে। কর্মজীবনের পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকায় এ ধরনের প্রোগ্রাম পেশাজীবীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। মিহিরকান্ত উপাধ্যায়ের সিদ্ধান্ত অনেকের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে। ক্যারিয়ারে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরও শেখার নতুন সুযোগ গ্রহণ করা যায়। বয়স কিংবা আগে অর্জিত ডিগ্রির সংখ্যা নতুন কিছু শেখার পথে বাধা হওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে এআইয়ের বিস্তারের কারণে প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনা, দুই ক্ষেত্রেই নতুন দক্ষতার চাহিদা তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রশিক্ষণ ও উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে নিজেদের প্রস্তুত রাখার গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। তবে তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা, এমবিএ প্রোগ্রামের নাম এবং ভর্তির সময় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ৪১ বছর বয়সে এমবিএ করার সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য এআই সম্পর্কে শেখা এবং পরিবর্তনশীল করপোরেট পরিবেশে নিজের দক্ষতা ধরে রাখা।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ৮:২২

কানাডার এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে লাগে না ফি! জেনে নিন সম্পূর্ণ তালিকা

ব্রেক্সিটের পর ইরাসমাসে ফিরছে যুক্তরাজ্য, নভেম্বরেই আবেদন করতে পারবেন শিক্ষার্থী ও প্রশিক্ষণার্থীরা

পড়াশোনা, চাকরি ও জীবনযাত্রার খরচ বিবেচনায় আমেরিকার সেরা পাঁচ কলেজ শহর নির্বাচিত

কম খরচে ভালো শিক্ষা ও চাকরির সুযোগ, আমেরিকার সেরা কলেজ শহরগুলোর তালিকা প্রকাশ

ট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী এস এম আশফাকুর রহমান
৫ কোটি টাকার ফেলোশিপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডির সুযোগ পেলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আশফাকুর

যুক্তরাষ্ট্রের সাইরাকিউজ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা সমমূল্যের ফেলোশিপ ও স্কলারশিপ সুবিধা নিয়ে পিএইচডি করার সুযোগ পেয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী এস এম আশফাকুর রহমান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির মর্যাদাপূর্ণ ম্যাক্সওয়েল স্কুল অব সিটিজেনশিপ অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের সমাজতত্ত্ব বিভাগে পিএইচডি করছেন। পাঁচ বছর মেয়াদি এই গবেষণা কার্যক্রমে তাঁর টিউশন ফি, ফেলোশিপ, অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ এবং হেলথ ইন্স্যুরেন্সসহ প্রতিবছর প্রায় ৮০ হাজার ৪৬০ মার্কিন ডলার সমমূল্যের আর্থিক সুবিধা থাকছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ বছরে প্রায় ৯৮ লাখ টাকা এবং পাঁচ বছরে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা।   সোমবার (২৬ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা যায়, সাইরাকিউজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাক্সওয়েল ফেলোশিপের আওতায় আশফাকুর রহমান এই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন। তবে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার পুরো অর্থ সরাসরি তাঁর হাতে দেওয়া হবে না। এই হিসাবের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি, গবেষণা সহায়তা, অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের বিপরীতে আর্থিক সুবিধা এবং স্বাস্থ্যবিমার ভর্তুকি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মূলত উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ব্যয় নির্বাহের জন্যই এই সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের আনুষ্ঠানিক শিক্ষার্থী তালিকাতেও তাঁর নাম পিএইচডি গবেষক হিসেবে রয়েছে।   আশফাকুর রহমানের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার যাত্রা শুরু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগ থেকে। সেখান থেকে তিনি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর মাস্টার্স থিসিসের বিষয় ছিল রোহিঙ্গা সংকট ও আধুনিক শাসনব্যবস্থা। সমাজের বিভিন্ন সমস্যা, মানুষের আচরণ এবং সামাজিক নীতির সঙ্গে বাস্তব জীবনের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণার আগ্রহ তৈরি হয় তাঁর। পরবর্তী সময়ে আরও উচ্চতর গবেষণার সুযোগ খুঁজতে ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর মিনেসোটা স্টেট ইউনিভার্সিটি, মানকাটোতে সমাজতত্ত্ব বিষয়ে দ্বিতীয় মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তি হন আশফাকুর রহমান। সেখানেও তিনি পূর্ণ অর্থায়নের স্কলারশিপ সুবিধা পান। পড়াশোনার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়টির সেন্টার ফর এক্সিলেন্স ইন স্কলারশিপ অ্যান্ড রিসার্চে গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট ও রিসার্চ কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজ করেন। এর আগে জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর কমিউনিকেশন প্রোগ্রামস এবং বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের গবেষণা কার্যক্রমের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। মিনেসোটা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়নকালে গবেষণায় একাধিক সাফল্য অর্জন করেন আশফাকুর রহমান। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মিডওয়েস্ট সোশিওলজিক্যাল সোসাইটি আয়োজিত সেরা গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী গবেষণাপত্র প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন তিনি। এ ছাড়া সোশিওলজিস্টস অব মিনেসোটার ক্যারোলিন রোজ রিসার্চ পেপার প্রতিযোগিতায়ও শীর্ষস্থান অর্জন করেন। তাঁর দ্বিতীয় মাস্টার্স থিসিস স্টেট সোসাইটি অন এজিং অব নিউইয়র্কের সেরা গবেষণাপত্রের স্বীকৃতি পায় বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ২০২৬ সালে সম্পন্ন করা তাঁর মাস্টার্স গবেষণার বিষয় ছিল তীব্র শীতের সময় একা বসবাসকারী প্রবীণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তায় সামাজিক যোগাযোগ ও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির ভূমিকা। গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের শীতপ্রবণ অঙ্গরাজ্যগুলোতে বসবাসকারী ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ১০০ জন ব্যক্তির তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এতে পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী ও পরিচিতজনের খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি আবহাওয়ার অ্যাপ, স্মার্ট ডিভাইস এবং জরুরি সতর্কবার্তার মতো প্রযুক্তির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়। মিনেসোটা স্টেট ইউনিভার্সিটির নিজস্ব গবেষণা সংগ্রহশালায় তাঁর এই গবেষণাপত্র সংরক্ষিত রয়েছে। গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগ দুটিই প্রবীণদের নিরাপত্তামূলক আচরণের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে এই দুই ধরনের সহায়তার ভূমিকা এক নয়। প্রযুক্তি দ্রুত প্রয়োজনীয় তথ্য পৌঁছে দিতে সাহায্য করে, অন্যদিকে পরিবারের সদস্য ও পরিচিতজনের সঙ্গে যোগাযোগ সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বাস্তব সহায়তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যঝুঁকি ও দুর্যোগ প্রস্তুতির ক্ষেত্রে উভয় ব্যবস্থার সমন্বিত ব্যবহার নিয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয় গবেষণায়। নতুন পিএইচডি গবেষণায় আশফাকুর রহমান প্রবীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পরিবেশগত সমাজবিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করতে চান। বিশেষ করে বয়স বাড়ার সঙ্গে মানুষের স্বাস্থ্যগত চাহিদা, সামাজিক বৈষম্য এবং প্রযুক্তির প্রভাব কীভাবে পরিবর্তিত হয়, তা তাঁর গবেষণার আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে। সাইরাকিউজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি প্রতিষ্ঠানটির পলিসি, প্লেস, পপুলেশন হেলথ অ্যান্ড এজিং প্রোগ্রামের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন। তাঁর একাডেমিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অধ্যাপক মার্ক এ গার্সিয়া। নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে আশফাকুর রহমান জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে অর্জিত গবেষণার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাতে চান তিনি। বিশেষ করে দেশের প্রবীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা, বার্ধক্যকালীন সামাজিক নিরাপত্তা, নীতিনির্ধারণ এবং কাঠামোগত বৈষম্য নিয়ে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণায় অবদান রাখার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চতর গবেষণা কার্যক্রমে তাঁর এই অগ্রযাত্রা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণার সুযোগ অর্জনের আরেকটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে। সূত্র: প্রথম আলো   

প্রকাশ: অক্টোবর ২৬, ২০২৬ ৩:৫
এইচএসসি-তে জিপিএ ২.৯৩ পাওয়ার পর নানা বাধা পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্সে পিএইচডিতে ভর্তির অফার পেয়েছেন রায়হান চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

এইচএসসিতে জিপিএ ২.৯৩ পেয়েও ৭ বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডির অফার পেলেন রায়হান

অস্কার ক্লেন মেডেল পেয়েছেন বাঙালি বিজ্ঞানী অশোক সেন

হকিংয়ের পাওয়া পুরস্কার এবার বাঙালির! পদার্থবিদ্যার অস্কার ক্লেন মেডেল অশোক সেনের

সুইডেনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্পূর্ণ টিউশন ফি ও মাসিক জীবনযাত্রার ভাতাসহ মাস্টার্স করার সুযোগ

বিনা টিউশন ফিতে সুইডেনে মাস্টার্স, সঙ্গে মাসে ১ লক্ষ ৮০  হাজার টাকা ভাতা!

0 Comments