নিউইয়র্কে দুটি স্কুল বন্ধের পরিকল্পনা, অনিশ্চয়তায় শতাধিক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ
নিউইয়র্কে সরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীসংখ্যা কমে যাওয়ার প্রভাব এবার সরাসরি পড়তে যাচ্ছে হারলেম এলাকার দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর। শহরের শিক্ষা বিভাগ দুটি স্কুল বন্ধের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে চলতি শিক্ষাবর্ষ শেষে প্রতিষ্ঠান দুটি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি আপার ওয়েস্ট সাইডের আরেকটি মধ্যবিদ্যালয় অন্য ভবনে স্থানান্তরের পরিকল্পনাও সামনে এসেছে।
শিক্ষা বিষয়ক সংবাদমাধ্যম চকবিটের ২ নভেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্ধের প্রস্তাব পাওয়া স্কুল দুটি হলো স্কুল অব আর্থ এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড ডিসকভারি হারলেম এবং আরবান অ্যাসেম্বলি স্কুল ফর গ্লোবাল কমার্স। প্রথম প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে মাত্র ৪০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এটি নিউইয়র্ক সিটির সবচেয়ে ছোট মধ্যবিদ্যালয়। অন্যদিকে গ্লোবাল কমার্সে শিক্ষার্থী রয়েছে ১১২ জন। দুটি প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে ১৫২ জন শিক্ষার্থী এই প্রস্তাবের আওতায় পড়ছেন।
শিক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম স্কুলটির শিক্ষার্থীসংখ্যা ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের তুলনায় ৬৮ শতাংশ কমেছে। চলতি বছর ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে মাত্র ছয়জন। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ফলাফলও প্রত্যাশিত মানে পৌঁছাতে পারেনি। রাজ্য পরীক্ষায় মাত্র ২১ শতাংশ শিক্ষার্থী গণিত ও পাঠদক্ষতায় নির্ধারিত মান অর্জন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির পেছনে গত বছর শিক্ষার্থীপ্রতি প্রায় ৯৩ হাজার ডলার ব্যয় হয়েছে, যা শহরের গড় ব্যয়ের প্রায় চার গুণ।
অন্য স্কুলটির অবস্থাও ভালো নয়। আরবান অ্যাসেম্বলি স্কুল ফর গ্লোবাল কমার্সে গত কয়েক বছরে শিক্ষার্থীসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বর্তমানে সেখানে ১১২ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। একসময় সরবরাহব্যবস্থাপনা ও বিপণন বিষয়ে কারিগরি শিক্ষার সুযোগ থাকলেও পরে এসব কর্মসূচি বন্ধ করতে হয়েছে। পর্যাপ্ত শিক্ষক ও কর্মী না থাকায় স্কুল পরিচালনাতেও সমস্যা তৈরি হয়েছে।
তবে শুধু শিক্ষার্থীসংখ্যা ও আর্থিক হিসাব দিয়ে স্কুল বন্ধের বিষয়টি বিচার করতে নারাজ শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় কমিউনিটির অনেকে। কারণ এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ শিক্ষার্থী নিম্ন আয়ের পরিবার থেকে আসে। বিশেষ করে সিড হারলেমের প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থীর বিশেষ শিক্ষাসহায়তার প্রয়োজন রয়েছে। গ্লোবাল কমার্সের শিক্ষার্থীদের বড় অংশ কৃষ্ণাঙ্গ ও লাতিনো সম্প্রদায়ের। ফলে স্কুল দুটি বন্ধ হলে সবচেয়ে বেশি পরিবর্তনের মুখে পড়তে পারে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের শিশুরা।
স্কুল বন্ধের প্রস্তাব ঘোষণার পর শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবেগঘন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গ্লোবাল কমার্সের একজন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের কান্না ও তাঁদের সঙ্গে নিজের আবেগের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্যে বোঝা যায়, একটি স্কুল শুধু শ্রেণিকক্ষ নয়; এটি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও পরিবারের মধ্যে গড়ে ওঠা সম্পর্কেরও জায়গা।
এদিকে আপার ওয়েস্ট সাইডের দ্য সেন্টার স্কুল স্থানান্তরের প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছে। পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের এই প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে ওয়েস্ট ৮৪তম স্ট্রিটের একটি ভবনে অন্য একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সঙ্গে একই জায়গায় পরিচালিত হচ্ছে। সেখানে অতিরিক্ত ভিড় কমাতে স্কুলটিকে প্রায় দেড় মাইল উত্তরে ওয়েস্ট ১০৯তম স্ট্রিটের একটি ভবনে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে কর্তৃপক্ষ। সেখানে মঞ্চ ও অন্যান্য সুবিধা উন্নয়নের পরিকল্পনা থাকলেও নতুন ভবনের মঞ্চ আগের তুলনায় ছোট হবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা বিভাগ।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
শিক্ষা
View moreবিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন থাকলেও গবেষণার অভিজ্ঞতা না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী স্কলারশিপের আবেদন করতে দ্বিধায় পড়েন। তবে যুক্তরাজ্য, চীন, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ও জার্মানিতে এমন কয়েকটি আন্তর্জাতিক স্কলারশিপ রয়েছে, যেখানে আবেদন করার জন্য আগে থেকে গবেষণাপত্র প্রকাশ বা গবেষণার অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক নয়। এসব স্কলারশিপের মাধ্যমে টিউশন ফি, থাকা-খাওয়া, যাতায়াত এবং অন্যান্য খরচের জন্য আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। উচ্চশিক্ষাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান অ্যাম্বারের প্রকাশিত একটি তথ্যচিত্রে চিভনিং, ইয়েনচিং একাডেমি, ইরাসমাস মুন্ডাস, ডিএএডি ইপিওএস এবং ফুলব্রাইট নেহরু স্কলারশিপের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। তবে স্কলারশিপগুলোর যোগ্যতা, আবেদনের সময়সীমা ও আর্থিক সুবিধা এক নয়। বিশেষ করে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য কোন কর্মসূচি উন্মুক্ত, তা যাচাই করা জরুরি। যুক্তরাজ্যের চিভনিং স্কলারশিপ যুক্তরাজ্য সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত চিভনিং স্কলারশিপের মাধ্যমে দেশটির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বছরের মাস্টার্স করার সুযোগ রয়েছে। এই স্কলারশিপে সাধারণত টিউশন ফি, মাসিক ভাতা, যাতায়াত এবং ভিসাসংক্রান্ত নির্ধারিত খরচ বহন করা হয়। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাও এই স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারেন। চিভনিংয়ে গবেষণার অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক না হলেও নেতৃত্বের দক্ষতা, পেশাগত অভিজ্ঞতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ। আবেদনকারীর নির্ধারিত সময়ের কাজের অভিজ্ঞতাও থাকতে হয়। অ্যাম্বারের তথ্যচিত্রে ৭ নভেম্বর ২০২৬ আবেদনের শেষ সময় উল্লেখ করা হলেও নির্দিষ্ট আবেদনচক্রের সরকারি সময়সূচি যাচাই করেই আবেদন করতে হবে। চীনের ইয়েনচিং একাডেমি স্কলারশিপ চীনের পিকিং ইউনিভার্সিটির ইয়েনচিং একাডেমি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য চায়না স্টাডিজ বিষয়ে মাস্টার্স প্রোগ্রাম পরিচালনা করে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা টিউশন ফি, আবাসন, মাসিক ভাতা এবং নির্ধারিত যাতায়াত খরচের সহায়তা পান। এই প্রোগ্রামে বিভিন্ন একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ডের শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারেন। গবেষণার অভিজ্ঞতা না থাকলেও ভালো একাডেমিক ফলাফল, ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা, আগ্রহের বিষয় এবং আবেদনপত্রের মান গুরুত্বপূর্ণ। তথ্যচিত্রে ২০ জানুয়ারি ২০২৭ সময়সীমা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আবেদনকারীর ক্যাটাগরি অনুযায়ী ডেডলাইন আলাদা হতে পারে। ইরাসমাস মুন্ডাস জয়েন্ট মাস্টার্স ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত ইরাসমাস মুন্ডাস জয়েন্ট মাস্টার্স আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। এর বিশেষত্ব হলো, একই মাস্টার্স প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে একাধিক ইউরোপীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ পাওয়া যায়। নির্বাচিত স্কলারশিপপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা সাধারণত মাসিক ১ হাজার ৪০০ ইউরো পর্যন্ত সহায়তা পান। এই অর্থ জীবনযাপন, যাতায়াত ও অন্যান্য নির্ধারিত ব্যয় নির্বাহে সহায়ক। স্কলারশিপপ্রাপ্তদের কাছ থেকে সাধারণত প্রোগ্রামের অংশগ্রহণ ফি নেওয়া হয় না। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা যোগ্যতা অনুযায়ী বিভিন্ন ইরাসমাস মুন্ডাস প্রোগ্রামে আবেদন করতে পারেন। তবে প্রতিটি প্রোগ্রামের বিষয়, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও ডেডলাইন আলাদা। অনেক প্রোগ্রামের আবেদন বছরের শেষ দিকে শুরু হয়ে পরবর্তী বছরের প্রথম কয়েক মাস পর্যন্ত চলে। জার্মানির ডিএএডি ইপিওএস স্কলারশিপ জার্মানির ডিএএডি ইপিওএস স্কলারশিপ মূলত উন্নয়নশীল দেশের পেশাজীবীদের জন্য পরিচালিত হয়। উন্নয়নসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে জার্মান বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স ও নির্দিষ্ট উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ দেয় এই কর্মসূচি। এতে মাসিক ভাতা, হেলথ ইন্স্যুরেন্স, নির্ধারিত যাতায়াত খরচ এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অন্যান্য সহায়তা দেওয়া হয়। তবে সব কোর্সের টিউশন ফি ও আর্থিক সুবিধা এক নয়। বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই স্কলারশিপে সাধারণত সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে অন্তত দুই বছরের পেশাগত অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হয়। গবেষণার অভিজ্ঞতা না থাকলেও উপযুক্ত শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। আবেদনের শেষ সময় বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্স অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ফুলব্রাইট নেহরু স্কলারশিপ যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য ফুলব্রাইট নেহরু মাস্টার্স ফেলোশিপ ভারতের শিক্ষার্থীদের একটি পরিচিত স্কলারশিপ কর্মসূচি। এতে নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী টিউশন ফি, জীবনযাপনের খরচ, যাতায়াত এবং স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট সুবিধা দেওয়া হয়। তবে এই স্কলারশিপের একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে। ফুলব্রাইট নেহরু কর্মসূচি ভারতীয় নাগরিকদের জন্য নির্ধারিত। ফলে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা সরাসরি এই কর্মসূচিতে আবেদন করতে পারবেন না। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ফুলব্রাইটের পৃথক সুযোগ রয়েছে। সেগুলোর যোগ্যতা, বিষয় ও আবেদনপ্রক্রিয়া আলাদা। তাই যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহীদের বাংলাদেশ থেকে আবেদনযোগ্য ফুলব্রাইট কর্মসূচির ঘোষণা অনুসরণ করতে হবে। উচ্চশিক্ষা বিশেষজ্ঞদের সাধারণ পরামর্শ অনুযায়ী, স্কলারশিপ বাছাইয়ের ক্ষেত্রে শুধু আর্থিক সুবিধা দেখলেই হবে না। নিজের একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড, কাজের অভিজ্ঞতা, ইংরেজি ভাষার দক্ষতা, পছন্দের বিষয় এবং আবেদনযোগ্যতা মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। গবেষণার অভিজ্ঞতা না থাকলেও সুযোগ রয়েছে, তবে প্রতিটি স্কলারশিপে প্রতিযোগিতা ও নির্বাচনের শর্ত ভিন্ন। তবে প্রকাশিত তথ্যচিত্রটির দুটি গুরুত্বপূর্ণ ডেডলাইন সরকারি তথ্যের সঙ্গে মিলছে না। চিভনিংয়ের ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষের আবেদন ৬ অক্টোবর ২০২৬ শেষ হয়েছে। অন্যদিকে ইয়েনচিং একাডেমির ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে আন্তর্জাতিক আবেদনকারীদের শেষ সময় ৩০ নভেম্বর ২০২৬, বেইজিং সময় সকাল ৯টা। ইয়েনচিং একাডেমিতে আবেদন করার সুযোগ এখনো রয়েছে। ইরাসমাস মুন্ডাসের বিভিন্ন প্রোগ্রামেও আবেদন শুরু হচ্ছে। ফলে বিদেশে মাস্টার্স করতে আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এখন থেকেই প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট, একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, রেকমেন্ডেশন লেটার এবং স্টেটমেন্ট অব পারপাস প্রস্তুত করার সময়। যুক্তরাজ্যের চিভনিং, চীনের পিকিং ইউনিভার্সিটি, ইউরোপীয় কমিশন, জার্মানির ডিএএডি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফুলব্রাইট কর্মসূচির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গবেষণার অভিজ্ঞতা না থাকলেও উপযুক্ত যোগ্যতা ও প্রস্তুতির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক স্কলারশিপের জন্য প্রতিযোগিতা করা সম্ভব।
গাজা থেকে লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজে ফিলিস্তিনি তরুণী হায়ার স্বপ্নযাত্রা
বিদেশে মাস্টার্সে ভর্তির আগে বিশ্ববিদ্যালয় বাছাইয়ে ১৫ বিষয় জানা জরুরি, জানুন বিস্তারিত
নিউইয়র্কে দুটি স্কুল বন্ধের পরিকল্পনা, অনিশ্চয়তায় শতাধিক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ
যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মাস্টার্স ও পিএইচডি করতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ হলো নিজের গবেষণার আগ্রহের সঙ্গে মিল রয়েছে এমন প্রফেসর খুঁজে বের করা। বিশেষ করে গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষায় প্রফেসরের সঙ্গে যোগাযোগ বা কোল্ড ইমেইলিংয়ের আগে তাঁর গবেষণার বিষয়, সাম্প্রতিক প্রকাশনা এবং ল্যাবের কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরি। এ কাজে শিক্ষার্থীদের সহায়তা করতে পারে অন্তত ১০টি পরিচিত আন্তর্জাতিক গবেষণা প্ল্যাটফর্ম। উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করার সময় অনেক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাঙ্কিং ও স্কলারশিপের তথ্য খুঁজলেও সম্ভাব্য গবেষণা সুপারভাইজার নির্বাচনে যথেষ্ট গুরুত্ব দেন না। অথচ গবেষণার বিষয় ও প্রফেসরের কাজের মধ্যে মিল থাকলে যোগাযোগ আরও কার্যকর হতে পারে। তবে শুধু প্রফেসর খুঁজে পাওয়া বা ইমেইল পাঠানো মানেই ভর্তি কিংবা ফান্ডিং নিশ্চিত হওয়া নয়। গুগল স্কলার (Google Scholar) গবেষক ও তাঁদের প্রকাশিত গবেষণাপত্র খোঁজার অন্যতম পরিচিত মাধ্যম গুগল স্কলার। এখানে নিজের পছন্দের গবেষণার বিষয় লিখে সার্চ করলে সংশ্লিষ্ট গবেষণাপত্র ও লেখকদের তথ্য পাওয়া যায়। গবেষকের প্রোফাইল থাকলে তাঁর সাইটেশন সংখ্যা এবং এইচ-ইনডেক্সও দেখা যায়। এসব তথ্য গবেষণার প্রভাব সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে। তবে শুধু সাইটেশন দেখে প্রফেসর নির্বাচন করা উচিত নয়। রিসার্চগেট (ResearchGate) গবেষকদের মধ্যে যোগাযোগ ও গবেষণাপত্র বিনিময়ের একটি জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম রিসার্চগেট। এখানে অনেক গবেষক তাঁদের প্রকাশনা, প্রি-প্রিন্ট ও গবেষণাসংক্রান্ত তথ্য শেয়ার করেন। শিক্ষার্থীরা গবেষকদের অনুসরণ করতে পারেন এবং অনুমোদিত হলে গবেষণাপত্রের পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ সংগ্রহ করতে পারেন। লিঙ্কডইন (LinkedIn) লিঙ্কডইনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের পেশাগত কার্যক্রম অনুসরণ করা যায়। অনেক সময় প্রফেসররা নতুন গবেষণা প্রকল্প, ল্যাবের শূন্যপদ কিংবা শিক্ষার্থী নিয়োগের তথ্য প্রকাশ করেন। ফলে গবেষণার সুযোগ সম্পর্কে আপডেট পেতে এটি কার্যকর মাধ্যম। স্কোপাস (Scopus) স্কোপাস একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা ও সাইটেশন ডাটাবেজ। এখানে গবেষকদের প্রকাশনা, গবেষণার ক্ষেত্র এবং সহলেখকদের তথ্য পাওয়া যায়। নির্দিষ্ট বিষয়ে সক্রিয় গবেষকদের শনাক্ত করতে এটি সহায়ক। তবে সব তথ্য ব্যবহারের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সাবস্ক্রিপশন প্রয়োজন হতে পারে। ওয়েব অব সায়েন্স (Web of Science) গবেষণাপত্র ও সাইটেশন বিশ্লেষণের আরেকটি পরিচিত প্ল্যাটফর্ম ওয়েব অব সায়েন্স। নির্দিষ্ট গবেষণা ক্ষেত্রে প্রভাবশালী লেখক এবং তাঁদের প্রকাশনার তথ্য খুঁজতে এটি ব্যবহার করা যায়। উচ্চশিক্ষায় সম্ভাব্য সুপারভাইজার নির্বাচনের আগে গবেষণার ধারাবাহিকতা বুঝতে এসব তথ্য কাজে আসতে পারে। অ্যাকাডেমিয়া ডট এডু (Academia.edu) এই প্ল্যাটফর্মে গবেষকেরা নিজেদের গবেষণাপত্র ও একাডেমিক কাজ শেয়ার করেন। বিষয়ভিত্তিক অনুসন্ধানের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট গবেষকদের খুঁজে পাওয়া যায়। তবে এখানে থাকা সব গবেষণাপত্র পিয়ার-রিভিউড নয়। কিছু সুবিধা ব্যবহারের জন্য অর্থও দিতে হতে পারে। পাবমেড (PubMed) মেডিকেল, বায়োমেডিকেল, বায়োকেমিস্ট্রি ও লাইফ সায়েন্সের শিক্ষার্থীদের জন্য পাবমেড বিশেষভাবে কার্যকর। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিন পরিচালিত এই প্ল্যাটফর্মে চিকিৎসা ও জীববিজ্ঞানবিষয়ক বিপুলসংখ্যক গবেষণার তথ্য পাওয়া যায়। তবে সব গবেষণাপত্রের পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ বিনামূল্যে পাওয়া যায় না। আইইইই এক্সপ্লোর (IEEE Xplore) ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রনিক্স, কম্পিউটার সায়েন্স ও প্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের জন্য আইইইই এক্সপ্লোর গুরুত্বপূর্ণ। এখানে বিভিন্ন জার্নাল ও কনফারেন্সে প্রকাশিত গবেষণাপত্র পাওয়া যায়। এসব প্রকাশনার লেখকদের অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা নেওয়া সম্ভব। ওপেনঅ্যালেক্স (OpenAlex) ওপেনঅ্যালেক্স একটি উন্মুক্ত গবেষণা তথ্যভান্ডার। এতে গবেষণাপত্র, গবেষক, প্রতিষ্ঠান ও গবেষণার বিষয়গুলোর মধ্যে সম্পর্ক অনুসন্ধান করা যায়। বিনামূল্যে তথ্য অনুসন্ধানের সুযোগ থাকায় নির্দিষ্ট বিষয়ে সক্রিয় গবেষক শনাক্ত করতে এটি শিক্ষার্থীদের জন্য উপকারী। ডাইমেনশনস (Dimensions) ডাইমেনশনস প্ল্যাটফর্মে গবেষণাপত্রের পাশাপাশি বিভিন্ন গবেষণা প্রকল্প ও অনুদানের তথ্যও পাওয়া যায়। ফলে কোনো গবেষক কী ধরনের প্রকল্পে যুক্ত আছেন, সে সম্পর্কে ধারণা নেওয়া সম্ভব। তবে সব ফান্ডিং তথ্য উন্মুক্ত নয় এবং গবেষণা অনুদান থাকলেই সংশ্লিষ্ট ল্যাবে নতুন শিক্ষার্থী নেওয়া হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। প্রফেসরের সঙ্গে যোগাযোগের আগে যা করবেন এসব প্ল্যাটফর্ম থেকে সম্ভাব্য প্রফেসরের নাম সংগ্রহের পর সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে তাঁর প্রোফাইল যাচাই করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি ডিরেক্টরি, ডিপার্টমেন্টের ওয়েবসাইট এবং গবেষণা ল্যাবের পেজে প্রফেসরের বর্তমান পদবি, যোগাযোগের ইমেইল ও গবেষণার বিষয় পাওয়া যেতে পারে। কিছু প্রফেসর তাঁদের ওয়েবসাইটে নতুন মাস্টার্স বা পিএইচডি শিক্ষার্থী নেওয়ার বিষয়ে নির্দেশনা প্রকাশ করেন। তবে সবার ক্ষেত্রে এ ধরনের তথ্য থাকে না। তাই ইমেইল পাঠানোর আগে সাম্প্রতিক গবেষণাপত্র পড়া, নিজের গবেষণার আগ্রহের সঙ্গে মিল খুঁজে দেখা এবং সংক্ষিপ্তভাবে নিজের একাডেমিক যোগ্যতা তুলে ধরা প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের গবেষণা তথ্যভান্ডার ব্যবহারের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি নীতিমালা ও ফান্ডিংয়ের শর্তও যাচাই করা জরুরি। কারণ যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগভেদে মাস্টার্স এবং পিএইচডি ভর্তির প্রক্রিয়া আলাদা। কোথাও প্রফেসরের সঙ্গে আগাম যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ, আবার কোথাও কেন্দ্রীয় অ্যাডমিশন কমিটির মাধ্যমেই শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হয়।
ইউরোপে বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ! মাসে ১ লক্ষ টাকার বেশি ভাতা
তিন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম হওয়া বুয়েটের সামিন থেকে গেলেন দেশে, বর্তমানে বিদ্যুৎ খাতের প্রকৌশলী
যুক্তরাষ্ট্রে পলিটিক্যাল সায়েন্স ও সোস্যাল সায়েন্সে পিএইচডি! আবেদন ও ফান্ডিং পাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা
স্নাতক পর্যায়ে সিজিপিএ তুলনামূলক কম হওয়ায় বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন ছেড়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরেও যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনে সহায়তা করতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি তালিকা তৈরি করেছেন মুন মোদাক। ফল ২০২৬ সেশনকে সামনে রেখে তৈরি এই তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম, দেশ, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং সম্ভাব্য ভর্তির যোগ্যতা তুলে ধরা হয়েছে। তবে তালিকায় থাকা সব বিশ্ববিদ্যালয় কম সিজিপিএর শিক্ষার্থী গ্রহণ করে, এমন নয়। বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্সভেদে ভর্তির শর্ত আলাদা হতে পারে। বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশের প্রশ্ন, সিজিপিএ কম হলে বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া সম্ভব কি না। অনেকে জানতে চান, কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করলে সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি, আইইএলটিএসের কত স্কোর প্রয়োজন এবং নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গে কোন দেশের বিশ্ববিদ্যালয় বেশি উপযোগী। এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দেওয়ার উদ্দেশ্যে তালিকাটি তৈরি করা হয়েছে। তালিকার প্রস্তুতকারী মুন মোদাক নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে জানিয়েছেন, স্নাতক পর্যায়ে পড়ার সময় তাঁরও বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিয়ে নানা প্রশ্ন ছিল। শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়ার পরিকল্পনা না থাকলেও পরবর্তী সময়ে তিনি দেশের বাইরে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্পর্কে জানতে শুরু করেন। কোন দেশে ভালো সুযোগ রয়েছে, কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন করতে হয় এবং নিজের যোগ্যতার সঙ্গে উপযুক্ত প্রতিষ্ঠান খুঁজে বের করার পদ্ধতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের ধারণা দেওয়াই তাঁর উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ প্রকাশিত তালিকার প্রথম ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ই যুক্তরাজ্যের। এর মধ্যে রয়েছে ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ড, ইউনিভার্সিটি অব কেমব্রিজ, ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন, ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন, ইউনিভার্সিটি অব এডিনবরা, ইউনিভার্সিটি অব ম্যানচেস্টার, কিংস কলেজ লন্ডন, লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস, ইউনিভার্সিটি অব ব্রিস্টল এবং ইউনিভার্সিটি অব গ্লাসগো। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, প্রকৌশল, কম্পিউটার বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা, অর্থনীতি, সামাজিক বিজ্ঞান, মানবিক এবং প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। তালিকায় অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের জন্য স্নাতকে যুক্তরাজ্যের ২:১ সমমানের ফলাফল এবং আইইএলটিএসে সাধারণত ৬ দশমিক ৫ থেকে ৭ দশমিক ৫ স্কোরের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ ও ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের মতো অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক প্রতিষ্ঠানে শুধু ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা পূরণ করলেই ভর্তি নিশ্চিত হয় না। আবেদনকারীর একাডেমিক ফলাফল, নির্বাচিত বিষয়ের সঙ্গে পূর্ববর্তী শিক্ষার সামঞ্জস্য, গবেষণার অভিজ্ঞতা এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের অন্যান্য শর্তও গুরুত্বপূর্ণ। কানাডার ১০টি বিশ্ববিদ্যালয় তালিকার ১১ থেকে ২০ নম্বরে রয়েছে কানাডার ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়। এগুলো হলো ইউনিভার্সিটি অব টরন্টো, ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়া, ম্যাকগিল ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব আলবার্টা, ম্যাকমাস্টার ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব ওয়াটারলু, ইউনিভার্সিটি অব মন্ট্রিয়ল, কুইন্স ইউনিভার্সিটি, ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালগারি। কানাডার এসব প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার বিজ্ঞান, প্রকৌশল, চিকিৎসাবিজ্ঞান, কৃষি, ব্যবসায় শিক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, গণিত ও সামাজিক বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। প্রদত্ত তালিকায় কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে স্নাতকে ৩ দশমিক শূন্য সিজিপিএ অথবা বি-প্লাস গড় ফলাফলের কথা উল্লেখ রয়েছে। ইংরেজি ভাষার যোগ্যতার ক্ষেত্রে সাধারণভাবে আইইএলটিএস ৬ দশমিক ৫ অথবা টোফেলের নির্দিষ্ট স্কোর দেখানো হয়েছে। তবে এগুলো সব প্রোগ্রামের জন্য অভিন্ন যোগ্যতা নয়। বিশেষ করে গবেষণাভিত্তিক মাস্টার্স ও পিএইচডিতে বিভাগ, গবেষণা তত্ত্বাবধায়ক এবং অর্থায়নের সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সুইজারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়ামের বিশ্ববিদ্যালয় তালিকার ৪১ থেকে ৫০ নম্বরে সুইজারল্যান্ডের ইটিএইচ জুরিখ ও ইপিএফএল, নেদারল্যান্ডসের ডেলফট ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি, ওয়াগেনিঙ্গেন ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব আমস্টারডাম, ইউট্রেখট ইউনিভার্সিটি, লাইডেন ইউনিভার্সিটি ও ইউনিভার্সিটি অব গ্রোনিঙ্গেন রয়েছে। বেলজিয়ামের দুটি প্রতিষ্ঠান হলো কেইউ লুভেন ও ঘেন্ট ইউনিভার্সিটি। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রকৌশল, কম্পিউটার বিজ্ঞান, কৃষি, খাদ্যবিজ্ঞান, পরিবেশবিজ্ঞান, স্থাপত্য, আইন, অর্থনীতি এবং মানবিক বিষয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে। তালিকায় নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়ামের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আইইএলটিএস ৬ দশমিক ৫ উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে সুইজারল্যান্ডের কিছু প্রতিষ্ঠানে উচ্চ একাডেমিক ফলাফল ও নির্দিষ্ট ভাষাগত দক্ষতার প্রয়োজন হতে পারে। উত্তর ও পশ্চিম ইউরোপের বিশ্ববিদ্যালয় ডেনমার্কের ইউনিভার্সিটি অব কোপেনহেগেন ও আরহুস ইউনিভার্সিটি, সুইডেনের ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট, লুন্ড ইউনিভার্সিটি ও উপসালা ইউনিভার্সিটি, নরওয়ের ইউনিভার্সিটি অব অসলো এবং ফিনল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব হেলসিঙ্কি তালিকায় স্থান পেয়েছে। এ ছাড়া আয়ারল্যান্ডের ট্রিনিটি কলেজ ডাবলিন ও ইউনিভার্সিটি কলেজ ডাবলিন এবং ফ্রান্সের সরবোন ইউনিভার্সিটিও রয়েছে। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে জনস্বাস্থ্য, চিকিৎসাবিজ্ঞান, প্রকৌশল, কৃষি, আইন, শিক্ষা, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিষয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে। ইংরেজি মাধ্যমে পরিচালিত অনেক কোর্সে আইইএলটিএস গ্রহণ করা হলেও স্থানীয় ভাষায় পরিচালিত প্রোগ্রামে অতিরিক্ত ভাষাগত যোগ্যতা প্রয়োজন হতে পারে। চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে চীনের সিংহুয়া ইউনিভার্সিটি, পিকিং ইউনিভার্সিটি, ফুদান ইউনিভার্সিটি, ঝেজিয়াং ইউনিভার্সিটি এবং সাংহাই জিয়াও টং ইউনিভার্সিটির নাম রয়েছে। জাপানের ইউনিভার্সিটি অব টোকিও ও কিয়োটো ইউনিভার্সিটি এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও কাইস্টও তালিকাভুক্ত। এ ছাড়া ইউনিভার্সিটি অব হংকং রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রকৌশল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কম্পিউটার বিজ্ঞান, চিকিৎসাবিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা, অর্থনীতি ও প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনা করা যায়। চীন ও জাপানের কিছু প্রোগ্রামে ইংরেজির পাশাপাশি চীনা বা জাপানি ভাষার দক্ষতার প্রয়োজন হতে পারে। তবে ইংরেজি মাধ্যমে পরিচালিত প্রোগ্রামের জন্য পৃথক ভাষাগত শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ভারত ও মধ্যপ্রাচ্য তালিকায় সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুর ও নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি রয়েছে। মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি অব মালায়া এবং থাইল্যান্ডের চুলালংকর্ন ইউনিভার্সিটিও অন্তর্ভুক্ত। ভারতের আইআইটি বোম্বে, আইআইটি দিল্লি ও ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্সের নাম রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট প্রোগ্রামে ভর্তি পরীক্ষা অথবা অন্যান্য একাডেমিক যোগ্যতার প্রয়োজন হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সৌদি আরবের কিং আবদুল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বা কাওস্ট, ইসরায়েলের টেকনিয়ন ও তেল আবিব ইউনিভার্সিটি রয়েছে। বিশেষ করে কাওস্টের গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষা কর্মসূচি বিজ্ঞান ও প্রকৌশলে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের বিবেচনায় আসতে পারে। ইতালি, স্পেনসহ ইউরোপের আরও বিশ্ববিদ্যালয় তালিকার ৮১ থেকে ৯০ নম্বরে ইতালির ইউনিভার্সিটি অব বোলোনিয়া, পলিটেকনিকো দি মিলানো ও সাপিয়েঞ্জা ইউনিভার্সিটি অব রোম রয়েছে। স্পেনের ইউনিভার্সিটি অব বার্সেলোনা ও অটোনোমাস ইউনিভার্সিটি অব মাদ্রিদ, পর্তুগালের ইউনিভার্সিটি অব লিসবন, চেক প্রজাতন্ত্রের চার্লস ইউনিভার্সিটি, পোল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব ওয়ারশ, অস্ট্রিয়ার ইউনিভার্সিটি অব ভিয়েনা এবং হাঙ্গেরির ইওটভস লোরান্ড ইউনিভার্সিটিও স্থান পেয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে আইন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, প্রকৌশল, স্থাপত্য, সামাজিক বিজ্ঞান, গণিত ও মানবিক বিষয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে। ইংরেজি মাধ্যমে পরিচালিত কোর্সের পাশাপাশি অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানীয় ভাষার প্রোগ্রামও রয়েছে। নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় নিউজিল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব অকল্যান্ড ও ইউনিভার্সিটি অব ওটাগো, ব্রাজিলের ইউনিভার্সিটি অব সাও পাওলো, মেক্সিকোর ন্যাশনাল অটোনোমাস ইউনিভার্সিটি, আর্জেন্টিনার ইউনিভার্সিটি অব বুয়েনস আইরেস এবং চিলির পন্টিফিক্যাল ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি অব চিলি তালিকায় রয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার ইউনিভার্সিটি অব কেপটাউন ও ইউনিভার্সিটি অব দ্য উইটওয়াটারসরান্ডও অন্তর্ভুক্ত। এ ছাড়া তুরস্কের মিডল ইস্ট টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি এবং লেবাননের আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব বৈরুতের নাম রয়েছে। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান, চিকিৎসা, প্রকৌশল, কৃষি, ব্যবসায় শিক্ষা ও সামাজিক বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। তবে স্প্যানিশ, পর্তুগিজসহ স্থানীয় ভাষায় পরিচালিত কোর্সের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ভাষার দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ। আইইএলটিএস ৫ থেকে ৫.৫ স্কোরের শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাজ্যে বিকল্প পথ তালিকার একটি বিশেষ অংশে যুক্তরাজ্যের এমন ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম রয়েছে, যেগুলোর সঙ্গে আইইএলটিএস ৫ থেকে ৫ দশমিক ৫ স্কোরের শিক্ষার্থীদের সম্ভাব্য প্রস্তুতিমূলক শিক্ষাপথের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো ইউনিভার্সিটি অব বেডফোর্ডশায়ার, ইউনিভার্সিটি অব বোল্টন, ইউনিভার্সিটি অব স্টার্লিং, নিউক্যাসল ইউনিভার্সিটি, ব্যাঙ্গর ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব হার্টফোর্ডশায়ার, ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্ট লন্ডন, ইউনিভার্সিটি অব সান্ডারল্যান্ড, টিসাইড ইউনিভার্সিটি এবং ইউনিভার্সিটি অব ব্র্যাডফোর্ড। এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আইইএলটিএস ৫ বা ৫ দশমিক ৫ স্কোর থাকলেই এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল মাস্টার্স প্রোগ্রামে সরাসরি ভর্তি হওয়া যাবে, এমন নয়। তালিকায় কিছু প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ফাউন্ডেশন, ইন্টারন্যাশনাল ইয়ার ওয়ান, ইন্টারন্যাশনাল ইয়ার জিরো অথবা প্রি-সেশনাল ইংলিশ কোর্সের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব প্রস্তুতিমূলক কোর্সের যোগ্যতা, মেয়াদ, খরচ এবং পরবর্তী ডিগ্রি প্রোগ্রামে অগ্রসর হওয়ার শর্ত পৃথকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। বিশেষ করে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে আবেদনকারীদের নিশ্চিত হতে হবে, প্রস্তাবিত প্রস্তুতিমূলক কোর্সটি তাঁদের কাঙ্ক্ষিত ডিগ্রির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না। সিজিপিএ কম হলে কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন করবেন বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন করতে শুধু একটি তালিকার ওপর নির্ভর না করে নিজের একাডেমিক প্রোফাইল মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। স্নাতকের ফলাফল, পড়াশোনার বিষয়, ইংরেজি ভাষার দক্ষতা, গবেষণার অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ পেশাগত লক্ষ্য বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয় বাছাই করা উচিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ন্যূনতম ভর্তির যোগ্যতা পূরণ করা এবং বাস্তবে প্রতিযোগিতামূলক আবেদনকারী হওয়া এক বিষয় নয়। কোনো প্রতিষ্ঠানে ন্যূনতম সিজিপিএর শর্ত পূরণ করলেও অন্য আবেদনকারীদের তুলনায় সুযোগ কম থাকতে পারে। আবার কিছু প্রোগ্রামে গবেষণার অভিজ্ঞতা, কাজের অভিজ্ঞতা, শক্তিশালী স্টেটমেন্ট অব পারপাস, সুপারিশপত্র এবং পূর্ববর্তী শিক্ষার বিষয়ভিত্তিক সামঞ্জস্য আবেদনকে শক্তিশালী করতে পারে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি, জীবনযাত্রার ব্যয়, স্কলারশিপ, গবেষণা সহকারী হিসেবে কাজের সুযোগ এবং ভিসার শর্ত বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। বিশেষ করে যাঁরা সম্পূর্ণ অর্থায়ন নিয়ে পড়তে চান, তাঁদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিভাগের ফান্ডিং নীতি যাচাই করা জরুরি। উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনায় থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য তালিকাটি বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়ার একটি সহায়ক উপকরণ হতে পারে। তবে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিশিয়াল অ্যাডমিশন পেজ থেকে সর্বশেষ যোগ্যতা, আবেদনের সময়সীমা, ফি, স্কলারশিপ এবং ভাষাগত শর্ত নিশ্চিত করতে হবে। সিজিপিএ তুলনামূলক কম হলেও বিদেশে উচ্চশিক্ষার সম্ভাবনা একেবারে শেষ হয়ে যায় না। উপযুক্ত দেশ ও প্রোগ্রাম নির্বাচন, বাস্তবসম্মত বিশ্ববিদ্যালয় বাছাই এবং যথাযথ প্রস্তুতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের জন্য সম্ভাব্য সুযোগ খুঁজে নিতে পারেন। তবে সেই সুযোগ নির্ভর করবে নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রামের ভর্তি নীতির ওপর। সূত্র: মুন মোদাকের প্রকাশিত ‘ইউনিভার্সিটি লিস্ট আউটসাইড ইউএসএ।
যুক্তরাষ্ট্রের ২৮ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপের সুযোগ, জেনে নিন আবেদনের আগে জরুরি বিষয়গুলো
জর্জ মেসন বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির প্রস্তুতিতে ৩৪ বিশেষ কোর্স, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সুযোগ