বিদেশে মাস্টার্সে ভর্তির আগে বিশ্ববিদ্যালয় বাছাইয়ে ১৫ বিষয় জানা জরুরি, জানুন বিস্তারিত
বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে অনেক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাঙ্কিং দেখে আবেদন শুরু করেন। কিন্তু ভর্তির পর টিউশন ফি, স্কলারশিপ, থাকার খরচ কিংবা ভিসার আর্থিক শর্ত নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয় অনেককে। তাই যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে মাস্টার্স করতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় বাছাইয়ের আগে অন্তত ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যাচাই করা প্রয়োজন।
প্রথমেই দেখতে হবে পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের বিষয় অনুযায়ী মাস্টার্স প্রোগ্রাম রয়েছে কি না। শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম নয়, ডিগ্রির ধরন, ফুলটাইম বা পার্টটাইম সুবিধা, অনলাইন কিংবা ক্যাম্পাসে ক্লাসের ব্যবস্থা এবং আগের শিক্ষাগত যোগ্যতা গ্রহণযোগ্য কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, অ্যাডমিশন রিকোয়ারমেন্ট যাচাই করা জরুরি। ন্যূনতম সিজিপিএ, ব্যাচেলর ডিগ্রির বিষয়, প্রয়োজনীয় কোর্স ক্রেডিট, কাজের অভিজ্ঞতা এবং অতিরিক্ত কোনো কোর্স সম্পন্ন করার শর্ত রয়েছে কি না, তা দেখতে হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আইইএলটিএস বা অন্য ইংরেজি দক্ষতার পরীক্ষার স্কোর, পাসপোর্ট ও একাডেমিক ডকুমেন্টের শর্তও জানতে হবে।
চতুর্থ ও পঞ্চম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো টিউশন ফি এবং লিভিং কস্ট। প্রতি সেমিস্টার বা ক্রেডিটের খরচের পাশাপাশি পুরো ডিগ্রি শেষ করতে কত অর্থ প্রয়োজন, তার হিসাব করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান অনুযায়ী বাসাভাড়া, খাবার, যাতায়াত, হেলথ ইন্স্যুরেন্স ও অন্যান্য খরচও আলাদা হতে পারে।
ষষ্ঠত, স্কলারশিপ ও ফান্ডিংয়ের সুযোগ যাচাই করতে হবে। মেরিট স্কলারশিপ, টিউশন ওয়েভার, গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ, রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ এবং টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সুযোগ রয়েছে কি না, তা দেখতে হবে। স্কলারশিপের বিজ্ঞপ্তি থাকলেই প্রত্যেক শিক্ষার্থী তা পাবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই।
সপ্তম বিষয় অ্যাপ্লিকেশন ডেডলাইন। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, স্কলারশিপ এবং সাধারণ ভর্তির শেষ তারিখ আলাদা হতে পারে। অষ্টম ও নবম বিষয় হিসেবে গবেষণার সুযোগ এবং কোর্স কারিকুলাম যাচাই করতে হবে। বিশেষ করে গবেষণাভিত্তিক মাস্টার্সে আগ্রহীদের সংশ্লিষ্ট প্রফেসর, ল্যাব, গবেষণার বিষয় এবং থিসিসের সুযোগ সম্পর্কে জানতে হবে।
দশমত, বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক র্যাঙ্কিংয়ের পাশাপাশি নিজের বিষয়ের ডিপার্টমেন্ট কতটা শক্তিশালী, সেটিও বিবেচনা করতে হবে। একাদশ বিষয় হলো ডিগ্রি শেষে চাকরির সম্ভাবনা। ইন্টার্নশিপ, ক্যারিয়ার সার্ভিস, অ্যালামনাই নেটওয়ার্ক এবং সংশ্লিষ্ট ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ।
দ্বাদশ বিষয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান। শহরের নিরাপত্তা, আবহাওয়া, পাবলিক ট্রান্সপোর্টেশন, এয়ারপোর্ট এবং স্থানীয় কর্মসংস্থানের পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা নেওয়া প্রয়োজন। ত্রয়োদশ বিষয় স্টুডেন্ট ভিসা ও ইমিগ্রেশন রিকোয়ারমেন্ট। প্রয়োজনীয় ফাইন্যান্সিয়াল প্রুফ, হেলথ ইন্স্যুরেন্স, ভিসা প্রসেসিং এবং পড়াশোনা শেষে কাজের অনুমতির নিয়ম সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি সূত্র থেকে যাচাই করতে হবে।
চতুর্দশ বিষয় আবেদনের মোট খরচ। অ্যাপ্লিকেশন ফি ছাড়াও ইংরেজি দক্ষতার পরীক্ষা, ক্রেডেনশিয়াল ইভ্যালুয়েশন, ডকুমেন্ট অনুবাদ এবং ভিসাসংক্রান্ত খরচ থাকতে পারে।
সবশেষে নিজের প্রোফাইলের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামঞ্জস্য যাচাই করতে হবে। সিজিপিএ, ইংরেজি দক্ষতা, গবেষণার অভিজ্ঞতা, প্রকাশনা এবং চাকরির অভিজ্ঞতা বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সেফ, মডারেট ও অ্যাম্বিশাস ক্যাটাগরিতে ভাগ করে শর্টলিস্ট তৈরি করা যেতে পারে। তবে সেফ ক্যাটাগরির বিশ্ববিদ্যালয়েও ভর্তি নিশ্চিত নয়।
শিক্ষার্থীরা চাইলে একটি স্প্রেডশিটে ১৫ থেকে ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোগ্রাম, টিউশন ফি, স্কলারশিপ, ডেডলাইন, ইংরেজি দক্ষতার শর্ত ও অন্যান্য তথ্য পাশাপাশি রেখে তুলনা করতে পারেন। চূড়ান্ত আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় এবং গন্তব্য দেশের সরকারি ইমিগ্রেশন ওয়েবসাইট থেকে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
শিক্ষা
View moreবিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে অনেক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাঙ্কিং দেখে আবেদন শুরু করেন। কিন্তু ভর্তির পর টিউশন ফি, স্কলারশিপ, থাকার খরচ কিংবা ভিসার আর্থিক শর্ত নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয় অনেককে। তাই যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে মাস্টার্স করতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় বাছাইয়ের আগে অন্তত ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যাচাই করা প্রয়োজন। প্রথমেই দেখতে হবে পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের বিষয় অনুযায়ী মাস্টার্স প্রোগ্রাম রয়েছে কি না। শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম নয়, ডিগ্রির ধরন, ফুলটাইম বা পার্টটাইম সুবিধা, অনলাইন কিংবা ক্যাম্পাসে ক্লাসের ব্যবস্থা এবং আগের শিক্ষাগত যোগ্যতা গ্রহণযোগ্য কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, অ্যাডমিশন রিকোয়ারমেন্ট যাচাই করা জরুরি। ন্যূনতম সিজিপিএ, ব্যাচেলর ডিগ্রির বিষয়, প্রয়োজনীয় কোর্স ক্রেডিট, কাজের অভিজ্ঞতা এবং অতিরিক্ত কোনো কোর্স সম্পন্ন করার শর্ত রয়েছে কি না, তা দেখতে হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আইইএলটিএস বা অন্য ইংরেজি দক্ষতার পরীক্ষার স্কোর, পাসপোর্ট ও একাডেমিক ডকুমেন্টের শর্তও জানতে হবে। চতুর্থ ও পঞ্চম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো টিউশন ফি এবং লিভিং কস্ট। প্রতি সেমিস্টার বা ক্রেডিটের খরচের পাশাপাশি পুরো ডিগ্রি শেষ করতে কত অর্থ প্রয়োজন, তার হিসাব করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান অনুযায়ী বাসাভাড়া, খাবার, যাতায়াত, হেলথ ইন্স্যুরেন্স ও অন্যান্য খরচও আলাদা হতে পারে। ষষ্ঠত, স্কলারশিপ ও ফান্ডিংয়ের সুযোগ যাচাই করতে হবে। মেরিট স্কলারশিপ, টিউশন ওয়েভার, গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ, রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ এবং টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সুযোগ রয়েছে কি না, তা দেখতে হবে। স্কলারশিপের বিজ্ঞপ্তি থাকলেই প্রত্যেক শিক্ষার্থী তা পাবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই। সপ্তম বিষয় অ্যাপ্লিকেশন ডেডলাইন। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, স্কলারশিপ এবং সাধারণ ভর্তির শেষ তারিখ আলাদা হতে পারে। অষ্টম ও নবম বিষয় হিসেবে গবেষণার সুযোগ এবং কোর্স কারিকুলাম যাচাই করতে হবে। বিশেষ করে গবেষণাভিত্তিক মাস্টার্সে আগ্রহীদের সংশ্লিষ্ট প্রফেসর, ল্যাব, গবেষণার বিষয় এবং থিসিসের সুযোগ সম্পর্কে জানতে হবে। দশমত, বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক র্যাঙ্কিংয়ের পাশাপাশি নিজের বিষয়ের ডিপার্টমেন্ট কতটা শক্তিশালী, সেটিও বিবেচনা করতে হবে। একাদশ বিষয় হলো ডিগ্রি শেষে চাকরির সম্ভাবনা। ইন্টার্নশিপ, ক্যারিয়ার সার্ভিস, অ্যালামনাই নেটওয়ার্ক এবং সংশ্লিষ্ট ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ। দ্বাদশ বিষয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান। শহরের নিরাপত্তা, আবহাওয়া, পাবলিক ট্রান্সপোর্টেশন, এয়ারপোর্ট এবং স্থানীয় কর্মসংস্থানের পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা নেওয়া প্রয়োজন। ত্রয়োদশ বিষয় স্টুডেন্ট ভিসা ও ইমিগ্রেশন রিকোয়ারমেন্ট। প্রয়োজনীয় ফাইন্যান্সিয়াল প্রুফ, হেলথ ইন্স্যুরেন্স, ভিসা প্রসেসিং এবং পড়াশোনা শেষে কাজের অনুমতির নিয়ম সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি সূত্র থেকে যাচাই করতে হবে। চতুর্দশ বিষয় আবেদনের মোট খরচ। অ্যাপ্লিকেশন ফি ছাড়াও ইংরেজি দক্ষতার পরীক্ষা, ক্রেডেনশিয়াল ইভ্যালুয়েশন, ডকুমেন্ট অনুবাদ এবং ভিসাসংক্রান্ত খরচ থাকতে পারে। সবশেষে নিজের প্রোফাইলের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামঞ্জস্য যাচাই করতে হবে। সিজিপিএ, ইংরেজি দক্ষতা, গবেষণার অভিজ্ঞতা, প্রকাশনা এবং চাকরির অভিজ্ঞতা বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সেফ, মডারেট ও অ্যাম্বিশাস ক্যাটাগরিতে ভাগ করে শর্টলিস্ট তৈরি করা যেতে পারে। তবে সেফ ক্যাটাগরির বিশ্ববিদ্যালয়েও ভর্তি নিশ্চিত নয়। শিক্ষার্থীরা চাইলে একটি স্প্রেডশিটে ১৫ থেকে ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোগ্রাম, টিউশন ফি, স্কলারশিপ, ডেডলাইন, ইংরেজি দক্ষতার শর্ত ও অন্যান্য তথ্য পাশাপাশি রেখে তুলনা করতে পারেন। চূড়ান্ত আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় এবং গন্তব্য দেশের সরকারি ইমিগ্রেশন ওয়েবসাইট থেকে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
নিউইয়র্কে দুটি স্কুল বন্ধের পরিকল্পনা, অনিশ্চয়তায় শতাধিক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ
উচ্চশিক্ষায় স্কলারশিপ পেতে বিদেশি প্রফেসর খুঁজবেন রিসার্চ প্ল্যাটফর্মে, জেনে নিন বিস্তারিত
ইউরোপে বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ! মাসে ১ লক্ষ টাকার বেশি ভাতা
২০১৪ সালে দেশের তিনটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হয়ে আলোচনায় এসেছিলেন সামিন ইরতিজা নূর। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট), রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করেছিলেন তিনি। একই বছর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ভর্তি পরীক্ষায় সপ্তম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দশম হয়েছিলেন। এক দশকের বেশি সময় পর সেই মেধাবী শিক্ষার্থী এখন দেশের বিদ্যুৎ খাতে কর্মরত একজন প্রকৌশলী। বর্তমানে তিনি রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন সংস্থা পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসিতে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ভর্তি পরীক্ষায় অসাধারণ সাফল্যের পর উচ্চশিক্ষার জন্য বুয়েটকে বেছে নেন সামিন। ভর্তি হন তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগে। ২০১৯ সালে সেখান থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে কর্মজীবনের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট (আইবিএ) থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেন। প্রকৌশল শিক্ষার সঙ্গে ব্যবসায় প্রশাসনের জ্ঞান যুক্ত করে নিজের পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন তিনি। একসঙ্গে তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হওয়ার অভিজ্ঞতা সামিনের নিজের কাছেও ছিল বিস্ময়কর। ফলাফল প্রকাশের পর প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না এত বড় অর্জনের কথা। অল্প সময়ের মধ্যে তাঁর সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয় তাঁর কৃতিত্বের খবর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসতে থাকে অসংখ্য ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন থেকেও অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেতে শুরু করেন তিনি। সেই সময় অনেক শিক্ষার্থী তাঁর কাছে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি সম্পর্কে পরামর্শ চাইতেন। কীভাবে পড়াশোনার রুটিন তৈরি করতে হয়, প্রতিদিন কতক্ষণ পড়তে হয় কিংবা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় মনোযোগ ধরে রাখার উপায় কী, এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে হতো তাঁকে। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে অন্যদের সহায়তা করার সুযোগও পেয়েছিলেন সামিন। ভর্তি পরীক্ষার সময়কার একটি ঘটনা এখনো বিশেষভাবে মনে রেখেছেন তিনি। রুয়েটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হওয়ার পর বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা দিতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের রাস্তায় নিজের ছবি দেখতে পান। যে প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা দিতে এসেছেন, সেখানেই নিজের ছবি টাঙানো দেখে বিস্মিত হয়েছিলেন সামিন। ঘটনাটি তাঁর কাছে আনন্দের পাশাপাশি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে আছে। নিজের সাফল্যের পেছনে পরিবার ও শিক্ষকদের অবদানও গুরুত্বের সঙ্গে স্মরণ করেন সামিন। ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর বাবার আবেগ ও গর্ব, মায়ের আনন্দ এবং ছোট বোনের উচ্ছ্বাস তাঁর জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত। বিশেষভাবে মনে রেখেছেন গণিতের শিক্ষক উজ্জ্বল ভাইকে। রুয়েটের ভর্তি পরীক্ষার আগে ওই শিক্ষক তাঁকে প্রথম হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি নিতে উৎসাহ দিয়েছিলেন। ফল প্রকাশের পর তিনিই প্রথম ফোন করে সামিনকে অভিনন্দন জানান। তবে শিক্ষাজীবনের সেই সাফল্য যে কর্মজীবনেও সবকিছু সহজ করে দেবে, এমনটা মনে করেন না সামিন। তাঁর অভিজ্ঞতায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ভালো ফল কিংবা নামকরা প্রতিষ্ঠানের ডিগ্রি পেশাগত জীবনে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের নিশ্চয়তা দেয় না। কর্মক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা, দক্ষতা, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং সমস্যা সমাধানের সামর্থ্যই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে পেশাগত জীবনে প্রবেশের পর এই উপলব্ধি আরও স্পষ্ট হয়েছে তাঁর কাছে। অতীতের অর্জন একজন মানুষকে আত্মবিশ্বাস দিতে পারে, কিন্তু সেই অর্জনের ওপর নির্ভর করে থেমে থাকলে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। বরং নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং নিয়মিত নিজের দক্ষতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। বর্তমানে দেশের বিদ্যুৎ সঞ্চালনব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থেকে কাজ করছেন সামিন। ভবিষ্যতে প্রকৌশল, গবেষণা ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে আরও বড় পরিসরে অবদান রাখতে চান তিনি। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো নতুন প্রযুক্তিকে প্রকৌশল খাতে কাজে লাগানোর বিষয়ে তাঁর আগ্রহ রয়েছে। দেশের উন্নয়নে নিজের অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোই তাঁর অন্যতম লক্ষ্য। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া শিক্ষার্থীদের জন্যও সামিনের অভিজ্ঞতা থেকে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা রয়েছে। প্রতিযোগিতায় সবাই প্রথম হতে পারবে না, কিন্তু নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ চেষ্টা করা সম্ভব। প্রত্যাশিত ফল অর্জনের পর অতিরিক্ত আত্মতুষ্টিতে ভোগা যেমন ঠিক নয়, তেমনি কাঙ্ক্ষিত ফল না পেলে হতাশ হয়ে পড়াও উচিত নয়। একটি পরীক্ষার ফলাফল দিয়ে জীবনের সামগ্রিক সাফল্য নির্ধারিত হয় না। ২০১৪ সালে তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হয়ে যে তরুণ দেশজুড়ে পরিচিতি পেয়েছিলেন, এক দশকের বেশি সময় পর তাঁর পরিচয়ে যুক্ত হয়েছে নতুন অধ্যায়। বুয়েট থেকে প্রকৌশল ডিগ্রি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে এমবিএ এবং দেশের বিদ্যুৎ খাতে পেশাগত দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলেছেন সামিন ইরতিজা নূর। ভর্তি পরীক্ষার সেই সাফল্য তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হলেও এখন নিজের জ্ঞান ও দক্ষতা দিয়ে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। সূত্র: পাবলিকিয়ান
যুক্তরাষ্ট্রে পলিটিক্যাল সায়েন্স ও সোস্যাল সায়েন্সে পিএইচডি! আবেদন ও ফান্ডিং পাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা
সিজিপিএ কম হলেও বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ, ১৫০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা প্রকাশ
যুক্তরাষ্ট্রের ২৮ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপের সুযোগ, জেনে নিন আবেদনের আগে জরুরি বিষয়গুলো
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের জর্জ মেসন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরির জন্য প্রস্তুত করতে ৩৪টি বিশেষায়িত শিক্ষাক্রম চালু রয়েছে। এসব শিক্ষাক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা মূল ডিগ্রির পাশাপাশি ইন্টার্নশিপ, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ এবং কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থী এবং দেশটিতে বসবাসরত অভিবাসী পরিবারের সন্তানদের জন্যও এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। গত ১৪ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত এক ঘোষণায় জানানো হয়, সাতটি স্কুল ও কলেজের অধীনে বর্তমানে ৩৪টি কর্মমুখী মাইনর প্রোগ্রাম রয়েছে। এসব প্রোগ্রাম মূলত স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি করা হয়েছে, যাতে তাঁরা নিজেদের প্রধান বিষয়ের পাশাপাশি চাকরির বাজারে চাহিদা রয়েছে এমন অন্য একটি বিষয়ে বিশেষ দক্ষতা অর্জন করতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের শিক্ষাক্রমের সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পর্যায়ের ইন্টার্নশিপ কর্মসূচির ব্যবস্থাপক এলিজাবেথ লুন জানিয়েছেন, এসব শিক্ষাক্রম শিক্ষার্থীদের এমন ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দেয়, যা চাকরিদাতারা সাধারণত গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা স্নাতক শেষ করার আগেই কয়েকটি অতিরিক্ত কোর্স সম্পন্ন করে একটি কর্মমুখী মাইনর প্রোগ্রামের যোগ্যতা অর্জন করতে পারেন। ফলে মূল ডিগ্রির পাশাপাশি নির্দিষ্ট পেশার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কর্মমুখী শিক্ষাক্রমগুলোর মধ্যে রয়েছে পরিবেশবিষয়ক পরামর্শসেবা, সরকারি চুক্তি ব্যবস্থাপনা, অলাভজনক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, নেতৃত্ব উন্নয়ন এবং শিল্পকলা ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়। প্রতিটি প্রোগ্রামে সংশ্লিষ্ট পেশার সঙ্গে সম্পর্কিত অ্যাসাইনমেন্ট ও ইন্টার্নশিপভিত্তিক কোর্স অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের শুধু একাডেমিক জ্ঞানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে পরিচিত করা। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্যবিজ্ঞান, জ্বালানি এবং সরকারি প্রশাসনের মতো খাতে দক্ষ কর্মীর চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। ভার্জিনিয়ার শিক্ষা বিভাগের অর্থায়নে পরিচালিত ক্যারিয়ার অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশন রিসোর্স সেন্টারের চিহ্নিত চাহিদাসম্পন্ন পেশার সঙ্গে এসব শিক্ষাক্রমের সমন্বয় করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পেশাগুলোকে ১৭টি ক্যারিয়ার ক্লাস্টারে ভাগ করা হয়েছে, যার আওতায় রয়েছে ৮৩টি পৃথক ক্যারিয়ার পথ। চলতি বছরের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কর্মমুখী মাইনর প্রোগ্রাম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়। এর আওতায় শিক্ষকদের বিদ্যমান কোর্সে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ যুক্ত করা, নতুন কোর্স তৈরি এবং ইন্টার্নশিপের সুযোগ বাড়ানোর জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাবে, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের ব্যাপক আগ্রহের কারণে মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে এ ধরনের প্রোগ্রামের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। চলতি ফল সেমিস্টার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্স ক্যাটালগেও এসব কর্মমুখী মাইনর প্রোগ্রাম আলাদাভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই উদ্যোগের একটি উদাহরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব আর্টের অ্যাডভান্সড স্কাল্পচার কোর্স। অধ্যাপক জন ভন বার্গেন কোর্সটি নতুনভাবে সাজিয়েছেন, যাতে শিক্ষার্থীরা শিল্পকলা, ডিজাইন, নির্মাণপ্রযুক্তি এবং সৃজনশীল প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত পেশাগত দক্ষতা অর্জন করতে পারেন। এতে জীবনবৃত্তান্ত তৈরি, পেশাগত উপস্থাপনা প্রস্তুত এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পখাতের পেশাজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ রাখা হয়েছে। নতুনভাবে সাজানো কোর্সটি ২০২৭ সালের ফল সেমিস্টারে চালুর কথা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্যারিয়ার সার্ভিসেস বিভাগও শিক্ষার্থীদের চাকরি ও ইন্টার্নশিপ খুঁজতে সহায়তা করে। শিক্ষার্থীরা হ্যান্ডশেক নামের অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ক্যাম্পাসের চাকরি, পার্টটাইম কাজ, ইন্টার্নশিপ এবং ফুলটাইম চাকরির সুযোগ খুঁজতে পারেন। পাশাপাশি ক্যারিয়ার ফেয়ার, ইন্টারভিউ প্রস্তুতি, জীবনবৃত্তান্ত তৈরি এবং চাকরিদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহায়তা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারের সন্তানদের জন্য এ ধরনের শিক্ষাক্রম বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক হতে পারে। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রির পাশাপাশি নির্দিষ্ট পেশায় ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা অর্জন ভবিষ্যতে চাকরির আবেদন ও ইন্টারভিউতে কাজে আসতে পারে। একইভাবে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নিতে আগ্রহী শিক্ষার্থীরাও বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনের সময় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ইন্টার্নশিপ, ক্যারিয়ার সার্ভিস এবং কর্মমুখী কোর্সের সুযোগ বিবেচনা করতে পারেন। মূল ডিগ্রির পাশাপাশি সম্পন্ন করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। কোন শিক্ষার্থী কোন প্রোগ্রামে অংশ নিতে পারবেন, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট কোর্সের পূর্বশর্ত, একাডেমিক যোগ্যতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মের ওপর। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ইন্টার্নশিপে অংশগ্রহণের আগে ভিসা ও কাজের অনুমতিসংক্রান্ত নিয়মও বিবেচনা করতে হবে। বিশেষ করে এফ-১ স্টুডেন্ট ভিসাধারীদের ক্ষেত্রে পাঠ্যক্রমের অংশ হিসেবে ইন্টার্নশিপ করতে হলে পরিস্থিতি অনুযায়ী কারিকুলার প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং বা অন্য উপযুক্ত অনুমোদনের প্রয়োজন হতে পারে। তাই কোনো ইন্টার্নশিপ শুরুর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে পৌঁছাতে সহায়তা করাই এসব কর্মমুখী শিক্ষাক্রমের অন্যতম লক্ষ্য। তবে কোর্স সম্পন্ন করলেই চাকরি নিশ্চিত হবে, এমন কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি। আগ্রহী শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্ট বিভাগের একাডেমিক অ্যাডভাইজারের সঙ্গে যোগাযোগ করে কোর্সের যোগ্যতা, অতিরিক্ত ক্রেডিট এবং সম্ভাব্য খরচ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কলেজে ভর্তির আবেদনে লাগবে না কোনো ফি, নিউইয়র্কে সুযোগ পাচ্ছেন হাজারো শিক্ষার্থী
যুক্তরাজ্যের গ্র্যাজুয়েট ভিসায় বড় পরিবর্তন, নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পাবেন দুই বছর থাকার সুযোগ