সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

হরমোজ প্রণালিতে মাইন অপসারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্মতি চায় জার্মানি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৬, ২০২৬ ১৩:২৭
ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা
ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা

জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ভাদেফুল জানিয়েছেন, হরমোজ প্রণালিতে সম্ভাব্য মাইন অপসারণ কার্যক্রমে অংশ নিতে তার দেশ ইচ্ছুক। তবে সেখানে যেকোনো ধরনের নৌযান বা সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েনের ক্ষেত্রে অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান উভয় পক্ষের পূর্বসম্মতি থাকতে হবে।

 

জার্মান সম্প্রচারমাধ্যম 'এন-টিভি'কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভাদেফুল এ কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, জার্মানির মাইনসুইপার (মাইন অপসারণকারী) জাহাজ 'ফুলদা' এবং সরবরাহকারী জাহাজ 'মোসেল'কে ইতোমধ্যে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন করে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ হলে এই দুটি নৌযান হরমোজ প্রণালির দিকে অগ্রসর হতে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।

 

নিরাপত্তার বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতার কথা তুলে ধরে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "আমাদের নিশ্চিত হতে হবে যে, উভয় পক্ষই এ ধরনের একটি অভিযান চাইছে। যদি কোনো একটি পক্ষ, বিশেষ করে ইরান এতে রাজি না থাকে এবং শেষ পর্যন্ত আমাদের ওপর গুলি চালায়, তবে আমরা এমন পরিস্থিতিতে ওই এলাকায় প্রবেশ করতে পারি না।

 

নিশ্চিতভাবেই সেটি কোনো আদর্শ পরিস্থিতি হবে না।" মূলত মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মাঝে নিজেদের বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত সামরিক সংঘাত এড়াতেই বার্লিন এই কৌশলগত ও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
সৌদি আরবে ইরানি হা মলায় বিধ্বস্ত মার্কিন ঘাঁটি, ধ্বংস ২৭০ মিলিয়ন ডলারের গোয়েন্দা বিমান
সৌদি আরবে ইরানি হা মলায় বিধ্বস্ত মার্কিন ঘাঁটি, ধ্বংস ২৭০ মিলিয়ন ডলারের গোয়েন্দা বিমান

মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও সরঞ্জামাদির ওপর ইরান পরিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। মার্কিন গণমাধ্যম সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, সৌদি আরব এবং কুয়েতে কর্মরত মার্কিন সেনাসদস্যদের পাঠানো নতুন কিছু ছবিতে ধ্বংসপ্রাপ্ত বিমান, বিধ্বস্ত ক্যাম্প, ফাঁপা হয়ে যাওয়া ভবন ও পুড়ে যাওয়া যানবাহনের ভয়াবহ চিত্র ধরা পড়েছে।   এই ছবিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে হামলায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হওয়া ২৭০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের অত্যাধুনিক আমেরিকান ই-৩ সেন্ট্রি গোয়েন্দা বিমান। সে সময় মার্কিন বিমানবাহিনীর বহরে থাকা ১৬টি এধরনের বিমানের মধ্যে ছয়টিই ওই ঘাঁটিতে মোতায়েন ছিল।   এছাড়া কুয়েতের ক্যাম্প বুহরিং এবং ক্যাম্প আরিফজানে মার্কিন গ্রাউন্ড ট্রুপসদের ব্যবহৃত ট্রেইলার ও গাড়ি ধ্বংসের ছবিও সামনে এসেছে। উল্লেখ্য, ক্যাম্প আরিফজানের কয়েক মাইল দক্ষিণে অবস্থিত শুয়াইবা বন্দরেই যুদ্ধের শুরুর দিকে ইরানি ড্রোন হামলায় ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছিলেন।   নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন সেনাসদস্য গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ঘাঁটিতে হওয়া এই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথা আমেরিকান জনগণের কাছে গোপন রাখা হয়েছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, পরিস্থিতি এমন যে তারা চোখ বন্ধ করে কেবল মার খাচ্ছেন। ওই সেনাসদস্য মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সেই দাবিও দৃঢ়ভাবে খণ্ডন করেন, যেখানে বলা হয়েছিল যে মাত্র কয়েকটি ইরানি হামলা মার্কিন প্রতিরক্ষা ভেদ করতে পেরেছে।   হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, তারা আসলে ঘাঁটিগুলোর কোনো প্রতিরক্ষাই দিতে পারছেন না, বরং চোখের সামনে কেবল সেগুলো ধ্বংস হতে দেখছেন। এই বিস্ফোরক তথ্যের বিষয়ে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের কাছে মন্তব্য চাওয়া হলেও তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।   হামলার এই ভয়াবহ ছবিগুলো এমন এক সময়ে প্রকাশ্যে এলো, যার মাত্র দুদিন আগেই মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের ইন্সপেক্টর জেনারেলের কার্যালয় ইরান যুদ্ধের ব্যয়ের ওপর তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।   স্টেট ডিপার্টমেন্ট এবং ইউএসএআইডি-এর তথ্য সম্বলিত ওই প্রতিবেদনে দেখা যায়, এই সংঘাতে প্রায় ৬০টি বিমানসহ মোট সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংসের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন ডলারে। প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামতের খরচ বাদ দিয়েই যুদ্ধের প্রথম চার মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মোট ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৩.৪ বিলিয়ন ডলার।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১৩:৫৮
মহিলার ছদ্মবেশে পালানোর সময় গ্রেপ্তার সিরিয়াল কি লার, ৮০  খু নের স্বীকারোক্তি

মহিলার ছদ্মবেশে পালানোর সময় গ্রেপ্তার সিরিয়াল কি লার, ৮০ খু নের স্বীকারোক্তি

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নতুন ওয়ার্ক পারমিট, শ্রমিক আমদানি এবং শ্রম প্রকল্পের অনুমোদন স্থগিত করেছে লাওস। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশিদের নতুন ওয়ার্ক পারমিট ও শ্রম ভিসা অনুমোদন স্থগিত করল লাওস

ব্রাজিলের ৫৩ বছর বয়সী সুয়েলি প্রায় নয় বছর ধরে নিজের সঞ্চয়ের টাকা একটি বইয়ের ভেতর লুকিয়ে রেখেছিলেন। ছবি: সংগৃহীত

বইয়ের ভেতর ৯ বছর ধরে সঞ্চয়, পোকায় খেয়ে ফেলল ১ হাজার ৭৬০ ডলার

সৌদি আরবের জেদ্দায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কবার্তার পর তাড়াহুড়ো করে নিচে নামতে গিয়ে নিহত বাংলাদেশি প্রবাসী সৌরভ ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
সৌদিতে মিসাইল আতঙ্কে তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে প্রাণ গেল বাংলাদেশির

সৌদি আরবের জেদ্দায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কবার্তার পর দ্রুত ভবনের ছাদ থেকে নিচে নামতে গিয়ে সিঁড়িতে পড়ে সৌরভ ইসলাম নামে ২৫ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে বলে নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ ওই দিন জেদ্দাসহ কয়েকটি এলাকায় সম্ভাব্য বিপদের সতর্কতা জারি করেছিল, যা পরে তুলে নেওয়া হয়।    নিহত সৌরভ ইসলাম নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের মুছাপুর গ্রামের আমির ইসলাম ও রেনু বেগমের একমাত্র ছেলে। তিনি জেদ্দায় আলসাইম কোম্পানির অধীনে একটি ব্যাংকে অফিস সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। প্রায় পাঁচ বছর ধরে তিনি জেদ্দায় ছিলেন বলে স্বজনেরা জানিয়েছেন। এক বছর আগে ছুটি কাটিয়ে আবার সৌদি আরবে কর্মস্থলে ফিরে যান তিনি।    পরিবারের ভাষ্য, মঙ্গলবার ভোরে সৌরভ যে আবাসিক ভবনে থাকতেন, তার ছাদে অবস্থান করছিলেন। এ সময় জেদ্দায় সম্ভাব্য হামলার সতর্কবার্তা আসে। মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা পাওয়ার পর আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত নিচে নামার চেষ্টা করেন তিনি। সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় তার পায়ে তার বা রশি পেঁচিয়ে গেলে তিনি পড়ে যান বলে স্বজনেরা জানিয়েছেন। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত পান এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়।    পরে সকালে একই বাসায় থাকা অন্যরা সৌরভকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় সৌদি কর্তৃপক্ষের আইনগত প্রক্রিয়া চলছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।    ঘটনার দিন বিকেলে সৌদি আরবে থাকা সৌরভের এক সহকর্মী ফোন করে তার পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুর খবর জানান। খবরটি দেশে পৌঁছানোর পর নরসিংদীর রায়পুরার মুছাপুর গ্রামের বাড়িতে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়। বুধবার সকালে স্বজন ও স্থানীয়রা সৌরভের বাড়িতে জড়ো হন।    সৌরভের মা রেনু বেগম ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে শেষবারের মতো দেখার এবং নিজের হাতে দাফন করার সুযোগ চেয়েছেন। বাবা আমির ইসলামও ছেলের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।    রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা জানিয়েছেন, তারা ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। নিহতের স্বজনেরা যোগাযোগ করলে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সরকারি সহযোগিতা করা হবে বলে তিনি জানান।    সৌরভের মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে যে সতর্কবার্তাটি ছিল, সেটিও ওই দিনের আঞ্চলিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ১৫ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স জেদ্দা, মক্কা ও তাইফসহ কয়েকটি এলাকায় সম্ভাব্য বিপদের সতর্কতা জারি করে। এসব সতর্কতা অল্প সময়ের মধ্যেই তুলে নেওয়া হয়। একই সময়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, ইয়েমেন থেকে আগের দিন চালানো ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোন হামলায় দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ১৩ জন আহত হয়েছেন।    তবে জেদ্দার সতর্কবার্তার সময় সেখানে সরাসরি কোনো ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছিল কি না, তা সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করেনি। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেদ্দাসহ কয়েকটি এলাকায় সতর্কতা জারি হলেও ওই এলাকাগুলোতে কোনো প্রজেক্টাইল আঘাত করেছিল কি না সে বিষয়ে তখন কোনো নিশ্চিত তথ্য দেওয়া হয়নি। ফলে সৌরভ ঠিক কোন সতর্কবার্তা দেখে আতঙ্কিত হয়েছিলেন এবং সেটি তার মৃত্যুর সঙ্গে কীভাবে যুক্ত ছিল, সে বিষয়ে পরিবারের বর্ণনাই এখন পর্যন্ত প্রধান তথ্য।    সৌদি আরবে চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যেই জেদ্দার মতো বড় শহরেও এমন সতর্কতা জারি হওয়ায় সেখানে থাকা প্রবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সৌরভ ইসলামের মৃত্যু সেই আতঙ্কের মধ্যে ঘটে যাওয়া একটি দুর্ঘটনার ঘটনা হিসেবে সামনে এসেছে। পরিবারের এখন প্রধান দাবি, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে দেওয়া।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১১:৪৫
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কারাবন্দি অবস্থায় জীবনযাপন ও চিকিৎসা নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন তার দুই ছেলে। ছবি: সংগৃহীত

ইমরান খানের চিকিৎসা নিয়ে ছেলেদের অভিযোগ, সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত বিরোধের দাবি

সংযুক্ত আরব আমিরাতে রেসিডেন্স ও কাজের ভিসা বাতিল হওয়ায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন বাংলাদেশি প্রবাসীরা। ছবি: সংগৃহীত

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৪ হাজার ৮০০ বাংলাদেশির ভিসা বাতিল, অনিশ্চয়তায় প্রবাসীরা

১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা প্রথমবারের মতো এক লাখ ছাড়িয়েছে

জাপানে প্রথমবার লাখ ছাড়াল ১০০ বছর বয়সী মানুষের সংখ্যা, ৮৮ শতাংশ নারী

তুরস্কের ইস্তাম্বুলে বিক্ষোভ চলাকালে এক নারীকে আটক করে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ
এ ল জি বি টি কিউ+ কর্মীদের ধরপাকড়, তুরস্কে কয়েক ডজন গ্রে প্তার

তুরস্কে এ ল জি বি টি কিউ+ অধিকারকর্মী ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনার বিরুদ্ধে সরকারের সাম্প্রতিক অভিযানের মধ্যে কয়েক ডজন মানুষকে গ্রে প্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার ইস্তাম্বুলের প্রধান আদালতের বাইরে বিক্ষোভে জড়ো হওয়া ব্যক্তিদেরও আটক করা হয়। সপ্তাহান্তে স ম কা মী দের কয়েকটি বারে এবং অধিকারকর্মীদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে একদল এ ল জি বি টি কিউ+ কর্মীকে গ্রে প্তারের প্রতিবাদে মঙ্গলবারের বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছিল। আটক ব্যক্তিদের মুক্তির দাবিতে সেখানে বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেন। তুরস্ক সরকার এ ল জি বি টি কিউ+ সম্প্রদায়ের সদস্য ও অধিকারকর্মীদের বিরুদ্ধে যে অভিযান চালাচ্ছে, সেটিকে ‘মাই ফ্যামিলি ইজ সেফ’ বা ‘আমার পরিবার নিরাপদ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে তুলে ধরছে। সরকারের ভাষ্য, পরিবার ও পারিবারিক মূল্যবোধ রক্ষার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবারের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা ‘স্বাধীনতার সংগ্রাম দীর্ঘজীবী হোক’ বলে স্লোগান দেন এবং আটক অধিকারকর্মীদের মুক্তির দাবি জানান। কয়েকজন বিক্ষোভকারী ‘এ ল জি বি টি কিউ হওয়া কোনো অ প রা ধ নয়’ লেখা একটি ব্যানার মেলে ধরলে পুলিশ কয়েকজনকে গ্রে প্তার করে। এক বিক্ষোভকারী এএফপিকে বলেন, ‘আমরা এখন যা দেখছি, তা গভীরভাবে উদ্বেগজনক।’ অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, তুরস্কে এ ল জি বি টি কিউ+ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে অভিযান আরও বিস্তৃত হচ্ছে। গত এক সপ্তাহে দেশটির বিভিন্ন প্রদেশে অধিকার সংগঠনের কার্যালয়ে অভিযান, ওয়েবসাইট বন্ধ এবং গ্রে প্তারের ঘটনা ঘটেছে বলে তারা জানিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এক পোস্টে বলা হয়েছে, তুরস্কের কর্তৃপক্ষ এ ল জি বি টি কিউ+, গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনের কয়েক ডজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট ও ওয়েবসাইটে প্রবেশাধিকার বন্ধ বা সীমিত করেছে। তুরস্কে স ম কা মী সম্পর্ক আইনত অ প রা ধ নয়। তবে দেশটিতে এ ল জি বি টি কিউ+ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বৈষম্য ও বিরূপ মনোভাবের অভিযোগ রয়েছে। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান অতীতে এ ল জি বি টি কিউ+ মানুষদের ‘বি কৃ ত’ বলে মন্তব্য করেছেন এবং তাঁদের দেশের জন্মহার কমে যাওয়ার জন্য দায়ী করেছেন। তুরস্কে সাম্প্রতিক গ্রে প্তার ও অভিযানের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছেন ইউরোপ কাউন্সিলের মানবাধিকার কমিশনার মাইকেল ও'ফ্লাহার্টি। তিনি বলেন, তুরস্কজুড়ে এ ল জি বি টি আই অধিকারভিত্তিক নাগরিক সংগঠন এবং মানবাধিকার রক্ষাকর্মীদের লক্ষ্য করে ধারাবাহিক গ্রে প্তার, অভিযান এবং ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট বন্ধের খবর নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। ও'ফ্লাহার্টির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তুরস্কের বিচারমন্ত্রী জানিয়েছেন, ১৫টি প্রদেশে ১৬২ ব্যক্তি, ৯টি সংগঠন এবং ১৩টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কয়েকটি প্রধান সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয়ের সমন্বয়ে এই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ৬:৪৯
লিথুয়ানিয়ার আকাশে ড্রোন ভূপাতিত করল ন্যাটো, ডেনিশ হেলিকপ্টারে রুশ হা মলা

লিথুয়ানিয়ার আকাশে ড্রোন ভূপাতিত করল ন্যাটো, ডেনিশ হেলিকপ্টারে রুশ হা মলা

৫ লাখের বেশি ভুয়া জিমেইল অ্যাকাউন্ট দিয়ে বোমা হামলার হু মকি, তদন্তে বাংলাদেশে থাকা ক্রেতার তথ্য

৫ লাখের বেশি ভুয়া জিমেইল অ্যাকাউন্ট দিয়ে বোমা হামলার হু মকি, তদন্তে বাংলাদেশে থাকা ক্রেতার তথ্য

সৌদি-আমিরাতি দ্বন্দ্বের সুযোগে শক্তিশালী হুতিরা, হু মকিতে তেল সরবরাহ

সৌদি-আমিরাতি দ্বন্দ্বের সুযোগে শক্তিশালী হুতিরা, হু মকিতে তেল সরবরাহ

0 Comments