ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সংঘাত আরও বাড়ানোর চেষ্টা করলে ইরান ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের কাছ থেকে ওয়াশিংটন এমন শিক্ষা পাবে, যা তারা কখনো ভুলতে পারবে না। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সমঝোতা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই।
শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে খামেনির নামে প্রচারিত একটি লিখিত বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলা তীব্র হওয়ার মধ্যেই তার এই বক্তব্য সামনে এল।
বিবৃতিতে খামেনি বলেন, গত মাসে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক যুক্তরাষ্ট্র বারবার লঙ্ঘন করেছে। এর মধ্য দিয়ে আবারও প্রমাণিত হয়েছে যে মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর মূল্যহীন ও বিশ্বাসযোগ্যতাহীন।
যুক্তরাষ্ট্রকে ‘মহাশয়তান’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, আধিপত্যবাদ ও আগ্রাসন দেশটির নীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।
খামেনি বলেন, “মার্কিন শত্রু যখন সংঘাত আরও উসকে দিয়ে বড় ধরনের মূল্য ও অপমানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন তাদের জানা উচিত, ইরানের জনগণ ও প্রতিরোধ ফ্রন্ট তাদের জন্য এমন শিক্ষা প্রস্তুত রেখেছে, যা তারা কখনো ভুলতে পারবে না।”
ইরান সমর্থিত বিভিন্ন আঞ্চলিক গোষ্ঠী ও মিত্র শক্তিকে তেহরান সাধারণত ‘প্রতিরোধ ফ্রন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করে থাকে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান জোরদার করেছে। তেহরানের অভিযোগ, মার্কিন হামলায় সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি সেতু, রেলপথ ও পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও মিত্র দেশগুলোর বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। বাহরাইন, কুয়েত ও কাতারসহ কয়েকটি দেশে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ভারত মহাসাগরের উত্তরাঞ্চলে অবস্থানরত একটি মার্কিন জাহাজেও হামলা চালানোর দাবি করেছে তেহরান।
কুয়েতের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরানের হামলায় দেশটির একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পানি বিশুদ্ধকরণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতির মধ্যে নাগরিকদের বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
খামেনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে যুক্তরাষ্ট্রের অবিশ্বস্ততা ও উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। চলমান সংঘাতের মধ্যে দেশ রক্ষায় নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখার পাশাপাশি ইরানের জনগণকে সতর্ক ও সক্রিয় থাকার আহ্বান জানান তিনি।
গত মাসে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এর লক্ষ্য ছিল সংঘাত নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতির পথ তৈরি করা। তবে পরে দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে সমঝোতা লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে। নতুন করে হামলা শুরু হওয়ায় সেই উদ্যোগ এখন কার্যত অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
জার্মানির রাজধানী বার্লিনে বার্ষিক ক্রিস্টোফার স্ট্রিট ডে (সিএসডি) বা এলজিবিটিকিউ প্রাইড উদ্যাপনের সময় একটি গাড়ি জনতার ভিড়ে ঢুকে পড়লে অন্তত একজন নিহত এবং অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটি ঘটার পরপরই উৎসবের বাকি কার্যক্রম বাতিল করা হয় এবং পুরো এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পুলিশ জানায়, হামলার পর চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য বার্লিনজুড়ে বড় ধরনের অভিযান শুরু হয়েছে। তদন্তকারীরা একজন ২১ বছর বয়সী সন্দেহভাজনের পরিচয় শনাক্ত করেছেন। তিনি সশস্ত্র ও বিপজ্জনক হতে পারেন বলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তবে হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি তদন্তকারীরা। হামলাটি বার্লিনের টিয়ারগার্টেন এলাকা ও ব্রান্ডেনবুর্গ গেটের কাছে ঘটে, যেখানে ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ এলজিবিটিকিউ সমাবেশে কয়েক লাখ মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। দুর্ঘটনার পর জরুরি সেবা কর্মীরা দ্রুত আহতদের হাসপাতালে পাঠান এবং পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ ম্যারৎস এবং বার্লিনের মেয়র কাই ভেগনার ঘটনাটির তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এটি স্বাধীনতা, বৈচিত্র্য এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ওপর আঘাত। অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তারা। পুলিশ ঘটনাস্থলের আশপাশ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য ও পেছনের কারণ উদ্ঘাটনে কাজ করছেন তদন্তকারীরা।
ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিমতীরের ‘তেল’ গ্রামে ইসরায়েলের অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের গুলিতে চার ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার পর এক চাঞ্চল্যকর পাল্টা আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। হত্যাকাণ্ডের পরপরই এক ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে দুই ইসরায়েলি সেনাকে গুলি করে হত্যা করে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর সমগ্র পশ্চিমতীরজুড়ে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং পাল্টা তাণ্ডব শুরু করে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। হত্যাকাণ্ড ও সংঘাতের পর রাতভর সমগ্র পশ্চিমতীরজুড়ে ব্যাপক অভিযান ও তাণ্ডব চালিয়েছে দখলদার বাহিনী। অভিযানের নামে বিভিন্ন এলাকা থেকে ইতোমধ্যে ৭০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়েছে। এর পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদের অজুহাতে আরও কয়েকশ সাধারণ মানুষকে চরম হেনস্তা ও হয়রানি করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, তেল গ্রামে অবৈধ সেটেলারদের সাথে সংঘাতের পর সেখান থেকেই ১১ জন ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং অন্তত ৮০ জনের বেশি মানুষকে ধরে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। অন্যদিকে, পশ্চিমতীরের জেনিন এলাকায় প্রায় ৩০০টিরও বেশি স্থানে একযোগে চিরুনি অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনাসদস্যরা। সেখান থেকেও বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, আটককৃত সকলেই আন্তর্জাতিক কিংবা স্থানীয়ভাবে 'ওয়ান্টেড' তালিকায় ছিল এবং সশস্ত্র সংগঠন হামাসসহ অন্যান্য স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠীর সঙ্গে তাদের প্রত্যক্ষ সংযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে তারা বিস্ফোরক দিয়ে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলেও দাবি করা হয়, তবে এই অভিযোগের সপক্ষে কোনো বাস্তব প্রমাণ বা তথ্য প্রকাশ করতে পারেনি দখলদার বাহিনী।
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান। শনিবার এক টেলিফোন আলাপে দুই নেতা লোহিত সাগর ও আরব উপসাগরের সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, ফোনালাপে দুই মন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যের সর্বশেষ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন এবং পারস্পরিক সমন্বয় ও পরামর্শ অব্যাহত রাখার ওপর বিশেষ জোর দেন। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা জোরদার করতে একটি শান্তিপূর্ণ ও গঠনমূলক সমাধানে পৌঁছানোর অংশ হিসেবে উত্তেজনা কমানো এবং আরব উপসাগর ও লোহিত সাগরে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়ে উভয় নেতাই একমত পোষণ করেছেন। মূলত লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে সাম্প্রতিক সময়ে হামলার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইয়েমেনের হুথি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় একটি সৌদি বাণিজ্যিক জাহাজ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে নিন্দার ঝড় ওঠে এবং বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়। উদ্ভূত এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মাঝেই সৌদি আরব ও পাকিস্তানের শীর্ষ কূটনীতিকদের এই আলোচনা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।