সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালিতে আমিরাতের জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ইরানকে দায়ী করে সৌদির কড়া বার্তা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৮, ২০২৬ ১০:১৭
হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি অ্যাডনকের জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি অ্যাডনকের জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি অ্যাডনকের একটি জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সৌদি আরব। রিয়াদ এ হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে অবিলম্বে এ ধরনের তৎপরতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।

 

শনিবার সংযুক্ত আরব আমিরাত জানায়, হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় অ্যাডনকের একটি জাহাজ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের শিকার হয়েছে। হামলায় কেউ হতাহত হননি এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তবে জাহাজটির নাম, কী ধরনের পণ্য বহন করছিল কিংবা কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। 

 

ঘটনার পর সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, হরমুজ প্রণালিতে আমিরাতের জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করার ঘটনার কঠোর নিন্দা জানায় সৌদি আরব। একই সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় ইরানকে অবিলম্বে এ ধরনের হামলা ও লঙ্ঘন বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়।

 

সৌদি আরব আরও বলেছে, ইরানের অব্যাহত হামলার ফলে যে পরিস্থিতি তৈরি হবে, তার পরিণতির দায় তেহরানকেই বহন করতে হবে।

 

সংযুক্ত আরব আমিরাতও হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছে। আমিরাতের অভিযোগ, ইরানের বিপ্লবী গার্ড হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলকে লক্ষ্যবস্তু করছে। তেহরানের এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ এবং গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে আবুধাবি। 

 

অ্যাডনকের তথ্যমতে, চলমান সংঘাত শুরুর পর থেকে তাদের জাহাজগুলো অন্তত ১৫টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। এসব ঘটনায় একজন নাবিক নিহত এবং আরও ২০ জন আহত হয়েছেন বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে। 

 

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে নতুন এই হামলা এমন সময় ঘটল, যখন ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের কারণে ওই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ইতোমধ্যে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ফলে সর্বশেষ ঘটনা উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক তেল পরিবহন নিয়েও নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

আন্তর্জাতিক

View more
পুরস্কার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির তথ্য দিতে ২ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

 ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারলে সর্বোচ্চ ২ কোটি মার্কিন ডলার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে তথ্যদাতার নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনে অন্যত্র পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ কর্মসূচির আওতায় এই পুরস্কারের ঘোষণা এসেছে। শুক্রবার, ৬ নভেম্বর এই উদ্যোগের কথা প্রকাশ্যে আসে এবং শনিবার মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডও বিষয়টি জানায়।   যুক্তরাষ্ট্রের এই পুরস্কার কর্মসূচিতে শুধু ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির শীর্ষ কর্মকর্তাদের তথ্য নয়, বরং দেশটির পারমাণবিক স্থাপনা, প্রযুক্তি, সরঞ্জাম, বিজ্ঞানী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত সরঞ্জাম ও ব্যক্তিদের চলাচল সম্পর্কেও তথ্য দিতে আহ্বান জানানো হয়েছে। অর্থাৎ, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের গোপন তথ্য সংগ্রহ করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পর্যবেক্ষণ এবং এ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে ব্যবহৃত সেন্ট্রিফিউজের উৎপাদন ও মজুত সম্পর্কে সংস্থাটির কাছে নিরবচ্ছিন্ন তথ্যের ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য।   এই পুরস্কার ঘোষণার বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগের বক্তব্যের কারণে। ট্রাম্প একাধিকবার দাবি করেছেন, মার্কিন সামরিক হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে। কিন্তু এখন সেই কর্মসূচির স্থাপনা, সরঞ্জাম ও সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীদের সম্পর্কে নতুন করে তথ্য সংগ্রহের জন্য ২ কোটি ডলারের পুরস্কার ঘোষণা করায় ওয়াশিংটনের কাছে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা সম্পর্কে কতটা তথ্য রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।   উল্লেখ্য, ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক পুরস্কার কর্মসূচি। ১৯৮৪ সালে চালু হওয়া এই কর্মসূচির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় সহায়ক তথ্যদাতাদের আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হয়। তবে সর্বোচ্চ ২ কোটি ডলারের পুরস্কার পেতে ঠিক কী ধরনের তথ্য দিতে হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো শর্ত বা বিস্তারিত মানদণ্ড প্রকাশ করা হয়নি।   সূত্র: মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস কর্মসূচি, ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড, ইউরোনিউজ, এএফপি ও এবিসি নিউজ।

প্রকাশ: নভেম্বর ৭, ২০২৬ ১৭:৫৮
সরকার গঠনের দায়িত্ব পাচ্ছেন বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকট

নেতানিয়াহুর বিদায়ের ঘণ্টা, ইসরায়েলে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব পাচ্ছেন বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকট

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার রাতভর হা মলা

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার রাতভর হা মলা, বিদ্যুৎ-পানি-হিটিং ব্যবস্থা বিপর্যস্ত

নির্বাচনের আগে ইরানে অভিযানের পরিকল্পনা  নেতানিয়াহুর

নির্বাচনের আগে ইরানে অভিযানের পরিকল্পনা নেতানিয়াহুর, যুক্তরাষ্ট্রের বাধায় ভেস্তে যাওয়ার দাবি

কানাডায় কপিল শর্মার ক্যাফেতে তৃতীয় দফায় হা মলা, চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার ২
কানাডায় কপিল শর্মার ক্যাফেতে তৃতীয় দফায় হা মলা, চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার ২

গত বছর কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশের সারে (Surrey) শহরে জনপ্রিয় ভারতীয় কমেডিয়ান কপিল শর্মার রেস্তোরাঁয় গোলাগুলির ঘটনায় দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (RCMP) গত শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রদীপ সিং ও সাভীর খান নামের ২২ বছর বয়সী ওই দুই সন্দেহভাজনকে গত ১ নভেম্বর গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   কপিল শর্মার রেস্তোরাঁয় চালানো হামলার পাশাপাশি অন্য আরেকটি বাড়িতে গোলাগুলির ঘটনার সঙ্গেও তারা জড়িত বলে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, এই দুটি হামলার ঘটনাই মূলত চাঁদাবাজির সঙ্গে সম্পর্কিত।   গত বছরের (২০২৫) ১৬ অক্টোবর সারে এলাকার ১২০ স্ট্রিটের ৮৪০০-ব্লকে অবস্থিত কপিল শর্মার ক্যাফেতে গুলি চালানোর খবর পায় পুলিশ। জুলাই মাসে উদ্বোধনের পর ক্যাফেটিতে এটি ছিল তৃতীয়বারের মতো হামলার ঘটনা। আরসিএমপি জানায়, ঘটনার সময় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ থাকলেও ভেতরে দুজন কর্মী ছিলেন, তবে সৌভাগ্যবশত তারা কেউ আহত হননি।   এর মাত্র কয়েকদিন আগে, ১২ অক্টোবর সারে এলাকারই একটি বাড়িতে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে, যেখানে একজন নারী আহত হয়েছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে এই দুটি ঘটনার মধ্যে সম্ভাব্য যোগসূত্র খুঁজে পাওয়ার পর ‘বিসি এক্সটর্শন টাস্ক ফোর্স’ (BC Extortion Task Force) উভয় ঘটনার তদন্তের দায়িত্বভার গ্রহণ করে।   গ্রেপ্তারকৃত প্রদীপ ও সাভীরের বিরুদ্ধে ১২ এবং ১৬ অক্টোবরের দুটি ঘটনাতেই আগ্নেয়াস্ত্রের বেপরোয়া ব্যবহারের (reckless discharge of a firearm) পৃথক অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশের লোয়ার মেইনল্যান্ড ডিস্ট্রিক্ট অপারেশনস অফিসার এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিস্ট্রিক্ট কমান্ডার চিফ সুপারিনটেনডেন্ট ডানকান পাউন্ড জানান, গত এক বছর ধরে ব্যাপক অনুসন্ধান, একাধিক বিচারিক অনুমোদন, তল্লাশি পরোয়ানা এবং প্রমাণের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণের ফলস্বরূপ এই গ্রেপ্তার ও অভিযোগ গঠন সম্ভব হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের জন্য এটি একটি স্পষ্ট বার্তা যে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরলসভাবে একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।

প্রকাশ: নভেম্বর ৭, ২০২৬ ১১:৩৯
লিবিয়ায় নাইকির পোশাক নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ফতোয়া

লিবিয়ায় নাইকির পোশাক নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ফতোয়া, নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করার ঘোষণা মুসলিম লেখিকার

দীপাবলির আগেই বিষাক্ত ধোঁয়াশায় দিল্লি

দীপাবলির আগেই বিষাক্ত ধোঁয়াশায় দিল্লি, বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বড় শহরের তালিকায় শীর্ষে

কিউবার সঙ্গে সম্পর্কের জেরে চীনা প্রতিষ্ঠানে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, প্রত্যাহারে বেইজিংয়ের আল্টিমেটাম

কিউবার সঙ্গে সম্পর্কের জেরে চীনা প্রতিষ্ঠানে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, প্রত্যাহারে বেইজিংয়ের আল্টিমেটাম

ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলা, যুদ্ধের উত্তেজনায় অস্থির মধ্যপ্রাচ্য; আলোচনার চেষ্টা কাতারের
ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলা, যুদ্ধের উত্তেজনায় অস্থির মধ্যপ্রাচ্য; আলোচনার চেষ্টা কাতারের

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত আরও বিপজ্জনক মোড় নিচ্ছে। একদিকে ইরানের সামরিক স্থাপনায় নতুন করে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, অন্যদিকে পাল্টা প্রতিরোধের হুঁশিয়ারি দিচ্ছে তেহরান। এর মধ্যেই যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে কাতারসহ কয়েকটি দেশ। ফলে সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি এখন বড় প্রশ্ন—শেষ পর্যন্ত আলোচনার মাধ্যমে কি সংকটের সমাধান সম্ভব হবে?   শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ইরানের কেশম দ্বীপের কাছে দেশটির একটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সীমিত সামরিক হামলা চালানোর কথা নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর ভাষায়, হামলাটি ছিল ছোট পরিসরের। ইরানের তৈরি করা একটি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অল্প সময়ের মধ্যেই ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত কেশম দ্বীপে বিস্ফোরণের খবরও জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম।   এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কে তথ্য দিতে পারলে সর্বোচ্চ দুই কোটি ডলার পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছে। পারমাণবিক স্থাপনা, সরঞ্জাম ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছে। ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপও তেহরানের ওপর চাপ বাড়ানোর অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   অন্যদিকে, ইরানও সামরিক প্রস্তুতি জোরদারের বার্তা দিচ্ছে। শনিবার ইরানের সামরিক বাহিনীর একজন মুখপাত্র দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরুর সময়ের তুলনায় বর্তমানে তাদের সামরিক সক্ষমতা আরও বেড়েছে। যেকোনো নতুন হামলার জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।   তবে যুদ্ধের পাশাপাশি চলছে সমঝোতার চেষ্টাও। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পরোক্ষ আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কাতারের মধ্যস্থতায় দুই দিনের একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ শিথিল, ইরানের কিছু জব্দ করা অর্থ ছাড় এবং পারমাণবিক স্থাপনায় আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের প্রবেশের বিষয় রয়েছে। তবে দুই পক্ষ এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছায়নি।   এই সংঘাতের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে আন্তর্জাতিক মহলে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবাহিত হয়। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে অস্থিরতা বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম, পরিবহন ব্যয় এবং খাদ্যপণ্যের দামও বেড়ে যেতে পারে। সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হতে পারে যুদ্ধকবলিত এলাকার সাধারণ মানুষকে। প্রাণহানি, বাস্তুচ্যুতি এবং শিশুদের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ আরও বড় মানবিক সংকট তৈরি করতে পারে।   সব মিলিয়ে, একদিকে সামরিক হামলা ও পাল্টা হুঁশিয়ারি, অন্যদিকে যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা দুই বিপরীতমুখী পরিস্থিতির মধ্যে দাঁড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্য। এখন দেখার বিষয়, আলোচনার পথ কতটা এগোয়, নাকি নতুন সামরিক পদক্ষেপ পুরো অঞ্চলকে আরও বড় সংঘাতের দিকে ঠেলে দেয়।

প্রকাশ: নভেম্বর ৭, ২০২৬ ৯:২০
ইয়েমেনে বেসামরিক এলাকায় বিমান হামলায় ২২ জন নিহত

ইয়েমেনে বেসামরিক এলাকায় বিমান হামলায় ২২ জন নিহত, সৌদিকে দায়ী করছে হুথিরা

ম্যান্ডেলার ১৮ বছরের কারাজীবনের স্মৃতিবিজড়িত কারাগার পরিদর্শন করলেন ড. ইউনূস

ম্যান্ডেলার ১৮ বছরের কারাজীবনের স্মৃতিবিজড়িত কারাগার পরিদর্শন করলেন ড. ইউনূস

দূষণে বিশ্বের শীর্ষে ভারতের দিল্লি

দূষণে বিশ্বের শীর্ষে ভারতের দিল্লি, দীপাবলির আগে বিপজ্জনক পরিস্থিতির আশংকা

0 Comments