পর্বতারোহীদের প্রস্রাবে গলছে এভারেস্টের বরফ! গবেষণায় উঠে এলো তথ্য
এভারেস্টের খুম্বু হিমবাহে পর্বতারোহীদের কর্মকাণ্ডের কারণে বরফ ও তুষার গলার পরিমাণ নিয়ে নতুন গবেষণায় চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, এভারেস্টের বেস ক্যাম্পে জ্বালানি পোড়ানোর তাপ এবং মানুষের প্রস্রাব থেকে স্থানান্তরিত তাপ মিলিয়ে এক মৌসুমে প্রায় ২ হাজার ৪৯২ টন বরফ ও তুষার গলে যেতে পারে। এর মধ্যে শুধু প্রস্রাবের তাপ থেকেই এক মৌসুমে প্রায় ১৫৪ টন বরফ গলার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে গবেষণায় বলা হয়েছে, এভারেস্টের হিমবাহ গলার প্রধান কারণ বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন।
গবেষণাটি নেপালের এভারেস্টের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত খুম্বু হিমবাহকে কেন্দ্র করে করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক একটি গবেষক দল এই এলাকার ওপর মানুষের কর্মকাণ্ডের প্রভাব বিশ্লেষণ করেছে। গবেষণার ফলাফল আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘রিজিওনাল এনভায়রনমেন্টাল চেঞ্জ’-এ প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকদের মধ্যে নেপালের ভূমি ব্যবস্থাপনা বিভাগের জ্যেষ্ঠ জরিপ কর্মকর্তা কিম লাল গৌতমও ছিলেন।
বসন্তের পর্বতারোহণ মৌসুমে এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে হাজার হাজার পর্বতারোহী, গাইড ও সহায়ক কর্মী জড়ো হন। বর্তমানে সেখানে শুধু পর্বতারোহণের প্রস্তুতির ব্যবস্থা নয়, ক্যাফে, উচ্চগতির ইন্টারনেট, বড় পর্দার টেলিভিশন, গরম পানির ঝরনা এবং তাঁবুর মেঝেতে গরম রাখার ব্যবস্থাও রয়েছে। ২০২৩ সালের বসন্ত মৌসুমে প্রায় ৫০ দিন ধরে বেস ক্যাম্পে প্রায় ১ হাজার ৬০০টি তাঁবু ব্যবহৃত হয়েছিল।
গবেষণায় দেখা গেছে, ওই সময়ে বেস ক্যাম্প পরিচালনায় ৮২৪টি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের সিলিন্ডার, ১৮ হাজার ৯৩৫ লিটার কেরোসিন এবং ৫ হাজার ১৩০ লিটার পেট্রল ব্যবহার করা হয়েছিল। রান্না, গরম রাখা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত জ্বালানি থেকে তৈরি তাপের সঙ্গে মানুষের প্রস্রাব থেকে স্থানান্তরিত তাপও হিসাবের মধ্যে নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে এই তাপীয় শক্তির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৮ লাখ ৪৯ হাজার ১৭৪ মেগাজুল। গবেষকদের হিসাবে, এই পরিমাণ তাপ ২ হাজার ৪৯২ টন বরফ ও তুষার গলানোর জন্য যথেষ্ট। হিসাবের সম্ভাব্য ত্রুটি বিবেচনায় এই পরিমাণ ১ হাজার ৯৬৪ থেকে ৩ হাজার ২০ টনের মধ্যে হতে পারে।
গবেষণায় মানুষের প্রস্রাবকে একটি উল্লেখযোগ্য তাপের উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। উচ্চতায় অবস্থান করার কারণে পানিশূন্যতা এড়াতে পর্বতারোহী ও গাইডরা প্রচুর পানি পান করেন। ফলে প্রতিদিন সম্মিলিতভাবে ৬ হাজার লিটারের বেশি প্রস্রাব তৈরি হতে পারে। কঠিন বর্জ্য সংরক্ষণ করে পাহাড় থেকে নিচে নামিয়ে নেওয়া হলেও বিপুল পরিমাণ প্রস্রাব সরাসরি হিমবাহের ওপর ফেলে দেওয়া হয়। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, শুধু প্রস্রাব থেকে স্থানান্তরিত তাপ এক মৌসুমে প্রায় ১৫৪ টন বরফ ও তুষার গলাতে পারে।
গবেষকরা আরও জানিয়েছেন, তাদের হিসাবের মধ্যে হেলিকপ্টার চলাচল, পর্বতারোহীদের শরীরের তাপ এবং মালপত্র বহনে ব্যবহৃত ইয়াকের মতো প্রাণীদের শরীর থেকে উৎপন্ন তাপ ধরা হয়নি। ফলে মানুষের কর্মকাণ্ড থেকে তৈরি মোট তাপের প্রভাব গবেষণায় হিসাব করা পরিমাণের চেয়েও বেশি হতে পারে।
এদিকে ১৯৯১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত উপগ্রহের মাধ্যমে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা বেস ক্যাম্প এলাকায় তাপমাত্রা বৃদ্ধির একটি প্রবণতাও দেখতে পেয়েছেন। তাদের হিসাবে, ওই এলাকায় ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা প্রতি বছর গড়ে ০ দশমিক ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস করে বেড়েছে, যা আশপাশের খুম্বু হিমবাহের ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধির হারের প্রায় দ্বিগুণ।
তবে গবেষকরা স্পষ্ট করেছেন, এভারেস্টের হিমবাহ গলার মূল কারণ বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন। একই সঙ্গে দ্রুত গলে যাওয়া হিমবাহের ওপর প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক মানুষকে এক জায়গায় জড়ো করে অতিরিক্ত তাপ তৈরি করা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয় বলেও তারা সতর্ক করেছেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় বেস ক্যাম্পকে হিমবাহের ওপর থেকে সরিয়ে কাছাকাছি কোনো স্থিতিশীল এলাকায় নেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছেন গবেষকরা।
গবেষণার হিসাব অনুযায়ী, মানুষের কর্মকাণ্ডের তাপের কারণে এক মৌসুমে যে পরিমাণ বরফ ও তুষার গলার সম্ভাবনা রয়েছে, তা প্রায় একটি অলিম্পিক আকারের সুইমিং পুল ভরার সমপরিমাণ পানিতে পরিণত হতে পারে। এর মধ্যে প্রস্রাব থেকে উৎপন্ন তাপের অবদান প্রায় ১৫৪ টন। ফলে এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে মানব কর্মকাণ্ডের পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreমিশরের এক ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আল-সাক্কার মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে গ্রাহকদের বকেয়া ঋণ মাফ করে দিয়েছেন এবং প্রকাশ্যে ঋণের কাগজ ও প্রমিসরি নোট পুড়িয়ে দিয়েছেন বলে একটি গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাল পোস্টে দাবি করা হয়, বাবার জন্য চলমান সদকায়ে জারিয়া হিসেবে তিনি এই ঋণ মাফের সিদ্ধান্ত নেন। তবে এই ঘটনার নির্দিষ্ট কোনো তারিখ, স্থান বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করে এমন নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। মিশরের উল্লেখযোগ্য সংবাদমাধ্যম কিংবা আন্তর্জাতিক কোনো বিশ্বস্ত সংবাদসূত্রেও ঘটনাটির স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। ভাইরাল গল্পে বলা হচ্ছে, মোহাম্মদ আল-সাক্কার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বেশ কয়েকজন গ্রাহকের কাছে পাওনা ছিল। তাঁর মৃত্যুর পর ছেলে সেই পাওনা আদায় না করে ঋণের কাগজপত্র পুড়িয়ে দেন। একই সঙ্গে বাবার জন্য এই কাজের সওয়াব অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন বলে পোস্টটিতে দাবি করা হয়েছে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও এর মূল ভিডিও বা পোস্টটি কে প্রথম প্রকাশ করেছিলেন, সেটিও নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে মানবিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে গল্পটি মানুষের নজর কাড়লেও এটিকে যাচাই করা সংবাদ হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগ নেই। এ ধরনের ভাইরাল মানবিক গল্পের ক্ষেত্রে মূল ভিডিও, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় এবং নির্ভরযোগ্য সংবাদসূত্রের মাধ্যমে তথ্য নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। মোহাম্মদ আল-সাক্কার ছেলে সত্যিই গ্রাহকদের ঋণ মাফ করে ঋণের কাগজ পুড়িয়ে দিয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার মতো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
প্যালেস্টাইনি শিশুদের সহায়তায় নতুন উদ্যোগে পিঙ্ক ফ্লয়েডের রজার ওয়াটার্স
মালয়েশিয়ায় বিমানবন্দরের টয়লেটে জীবিত নবজাতক উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২
পর্বতারোহীদের প্রস্রাবে গলছে এভারেস্টের বরফ! গবেষণায় উঠে এলো তথ্য
চীনা সরকারের হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি এজেন্ট হিসেবে কাজ করার দায়ে মার্কিন সাংবাদিক থমাস ওয়্যার পকেন টু-কে দুই বছরের ফেডারেল কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ৫১ বছর বয়সী পকেন এর আগে অভিযোগ স্বীকার করে নিয়েছিলেন এবং এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন না বলে তার আইনজীবী জানিয়েছেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পকেন চীনা সরকারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নির্দেশনায় কাজ করেন। তিনি চীনের স্টেট সিকিউরিটি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য তথ্য সংগ্রহ, সম্ভাব্য সূত্র খোঁজা এবং বিভিন্ন প্রতিবেদন তৈরিতে ভূমিকা রাখেন। এ কাজের জন্য তিনি অন্তত ১ লাখ ডলার পেয়েছেন বলে মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে। পকেন ২০১০ সালে চীনে চলে যান এবং সেখানে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেন। ২০২৪ সাল থেকে তিনি চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা শিনহুয়ার সম্পাদক হিসেবে কাজ করছিলেন। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, চীনে ‘ক্যাথি’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তির নির্দেশে পকেন যুক্তরাষ্ট্রে সম্ভাব্য তথ্যদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। তাকে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহে সক্ষম ব্যক্তিদের নিয়োগের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছিল। তবে তার আইনজীবী জানিয়েছেন, পকেন চীনকে কোনো শ্রেণিবদ্ধ বা গোপন মার্কিন তথ্য দেননি। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পকেনকে দুই বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি আরও ৩৬ মাসের তত্ত্বাবধানে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। ওই সময় তিনি বিদেশ ভ্রমণ করতে পারবেন না। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
নেপালে ভয়াবহ বন্যার সাতদিন পর ৪৫ দিনের শিশু জীবিত উদ্ধার
ইরানের পাশে পুতিন: ‘ক্ষুধার্ত হাঙরদের’ দাঁতভাঙা জবাব দেবে রাশিয়া
হরমুজ প্রণালির নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রাখার প্রস্তাব ট্রাম্পের
গত ২৬ আগস্ট নেপালে ভয়াবহ বন্যার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন ১৯ বছর বয়সী তরুণ বিনোদ। রাসুয়া জেলার একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে শ্রমিকের কাজ করতেন তিনি। ছেলের সন্ধানে চোখেমুখে ক্লান্তি ও বিষাদ নিয়ে মাইলের পর মাইল পাহাড়ি পথ হেঁটে চলেছেন প্রায় ৫০ বছর বয়সী টালকা সদা। সমতলভূমির জেলা সপ্তরীর বাসিন্দা সদার একমাত্র ছেলে বিনোদের সঙ্গে ওই জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে থাকা ১৭ থেকে ১৯ বছর বয়সী আরও চার তরুণের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। বাড়িতে শোকাহত স্ত্রীর কান্না ও নিজের বুক ফাটা হাহাকার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার করছেন এই বাবা। ছেলের খোঁজে বের হওয়ার জন্য চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়তে হয়েছে সদাকে। প্রতি ১০০ রুপিতে ২০ রুপি সুদের শর্তে মাত্র ২ হাজার নেপালি রুপি ধার করে ভাইয়ের সঙ্গে বাড়ি থেকে বের হয়েছেন তিনি। প্রথমে বাসে করে ৯ ঘণ্টার দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে তারা পৌঁছান রাজধানী কাঠমান্ডুতে। বন্যার পর অনেককে সেখানে বিমানে করে নেওয়া হয়েছিল বলে প্রথমে বিভিন্ন হাসপাতাল ও মর্গে বেঁচে যাওয়া মানুষ এবং লাশের তালিকায় ছেলেকে খুঁজেছেন সদা। মর্গের বাইরে রাখা বিকৃত ও শনাক্তকরণের অনুপযোগী লাশের ছবিগুলোর ভিড়েও তন্নতন্ন করে খুঁজেছেন সন্তানকে, তবে কোনো খোঁজ মেলেনি। কাঠমান্ডুতে সন্ধান না পেয়ে বিনোদের কর্মস্থলের নিকটবর্তী জেলা নুয়াকোটের দিকে হেঁটে রওনা দেন দুই ভাই। ভাঙাচোরা সড়ক দিয়ে টানা কয়েক ঘণ্টা হাঁটার পর ত্রিশূলী শহরে পৌঁছান তারা। বৃষ্টি থেকে বাঁচতে একটি কমলা রঙের পলিথিনকে রেইনকোট হিসেবে ব্যবহার করছেন সদা। ত্রিশূলীতে একটি লজে থাকতে গিয়ে ধার করা টাকার ১ হাজার ৫০০ রুপিই খরচ হয়ে যায়, বিনিময়ে জোটে কেবল এক বাটি ভাত। ক্ষুধা ও ক্লান্তির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অর্থ ফুরিয়ে যাওয়ার আতঙ্ক, যা তাদের বাড়ি ফেরা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। অসংখ্যবার ছেলের মুঠোফোনে কল করেও কোনো সাড়া পাননি সদা। চরম অসহায়ত্বের মাঝেও তিনি অলৌকিক কিছুর আশায় বুক বাঁধছেন, হয়তো ছেলে দৌড়ে কোথাও আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু পরক্ষণেই বাস্তবতার কঠিন ধাক্কায় ভেঙে পড়ছেন তিনি। অন্তত ছেলের কর্মস্থলে না পৌঁছানো পর্যন্ত হাল ছাড়তে রাজি নন এই বাবা। তাই জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের দিকে পুনরায় রওনা দেওয়ার সময় চরম ক্ষোভ ও হতাশায় তিনি চিৎকার করে জানান, কেউ সাহায্য না করলে বা জবাব না দিলে তিনি থানায় আগুন ধরিয়ে দেবেন। এক অসহায় বাবার এই হুঁশিয়ারি মূলত সন্তান হারানোর তীব্র যন্ত্রণারই বহিঃপ্রকাশ।
ছবি থেকে মোদিকে বাদ দিয়ে শাহবাজ শরিফকে ‘কেন্দ্রে’ বসাল পাকিস্তান, সম্পাদনা নিয়ে তুমুল বিতর্ক
ইতালিতে পর্যটকের হারানো ১০ হাজার ইউরো ফিরিয়ে দিয়ে সততার নজির গড়লেন বাংলাদেশি তরুণ