যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হয়েও মেক্সিকোয় ডিপোর্ট! ৪ মাসের লড়াই শেষে দেশে ফিরলেন টেক্সাসের তরুণ
যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া ২৫ বছর বয়সী ব্রায়ান হোসে মোরালেস গার্সিয়াকে মেক্সিকোয় ডিপোর্ট করার পর প্রায় চার মাসের আইনি লড়াই শেষে আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতে দেওয়া হয়েছে। টেক্সাসে একটি ট্রাফিক থামানোর ঘটনার পর তিনি অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হেফাজতে যান এবং পরে ৭ এপ্রিল তাকে মেক্সিকোয় পাঠানো হয়। পরে তার আইনজীবীরা তার যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের প্রমাণ সামনে এনে দেশে ফেরানোর জন্য আইনি পদক্ষেপ নেন।
মোরালেস গার্সিয়ার জন্ম ডেনভারে। তবে শৈশবের বড় একটি সময় তিনি মেক্সিকোয় কাটিয়েছেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে কাজের উদ্দেশ্যে তিনি আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফেরেন। যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সময় তিনি নির্মাণকাজসহ বিভিন্ন ধরনের কাজ করেন। পরে টেক্সাসে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র স্থাপনের কাজ করছিলেন তিনি।
এপ্রিল মাসে ফ্রেডেরিক্সবার্গের কাছে বসকে সঙ্গে নিয়ে একটি গাড়িতে করে কাজের উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় টেক্সাসের এক রাজ্য পুলিশ কর্মকর্তা তাদের গাড়ি থামান। অভিযোগ ছিল গাড়ির জানালার কাচে অতিরিক্ত কালো রং করা নিয়ে। আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় কোনো টিকিট দেওয়া হয়নি। এরপর মোরালেস গার্সিয়াকে কয়েকটি আটককেন্দ্রে নেওয়া হয় এবং অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রাখা হয়।
মোরালেস গার্সিয়া তখন নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বলে দাবি করেন এবং তার নাগরিকত্বের প্রমাণ দেখানোর কথা জানান। তার আইনজীবীর অভিযোগ, আটক থাকার সময় তাকে শারীরিকভাবে হয়রানি করা হয় এবং কারাগারে পাঠানোর হুমকি দেওয়া হয়। চার দিন বিভিন্ন হেফাজতকেন্দ্রে থাকার পর তাকে মেক্সিকোয় পাঠানো হয়। সরকারপক্ষ অবশ্য আদালতে দাবি করেছে, মোরালেস গার্সিয়া শুরুতে নিজেকে মেক্সিকোয় জন্ম নেওয়া ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন এবং স্বেচ্ছায় মেক্সিকোয় ফেরার কাগজপত্রে স্বাক্ষর করেছিলেন।
মেক্সিকোয় যাওয়ার পর তার আইনজীবীরা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের বিষয়টি সামনে এনে ফেডারেল আদালতে মামলা করেন। তারা যুক্তি দেন, মোরালেস গার্সিয়া ডেনভারে জন্মেছেন এবং তার কাছে যুক্তরাষ্ট্রের জন্মসনদ রয়েছে। অন্যদিকে সরকারপক্ষ মেক্সিকোর কিছু নথির কথা তুলে ধরে, যেখানে তার নামের বানান ও জন্মতারিখে পার্থক্য রয়েছে। এসব নথিতে তার জন্মস্থানও মেক্সিকোর জাকাতেকাস হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইনি প্রক্রিয়ার সময় দুই দেশের নথিতে থাকা তথ্যের এই পার্থক্য নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়। তার আইনজীবীদের দাবি, মেক্সিকোয় তার জন্ম নিবন্ধনের সময় তথ্যের ভুল হয়েছিল। কয়েক মাস ধরে নথিপত্র ও জন্মসংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের পর শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসার সুযোগ পান মোরালেস গার্সিয়া।
আগস্টের শেষ দিকে মেক্সিকোর আগুয়াসকালিয়েন্তেস থেকে বাসে করে তিনি সীমান্তের দিকে যান। ৩০ আগস্ট সীমান্তে পৌঁছানোর পর তার কলোরাডোর জন্মসনদ গ্রহণ করা হয় এবং তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। প্রায় পাঁচ মাস দেশের বাইরে থাকার পর তিনি আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফেরেন। দেশে ফেরার পর তার আইনজীবীরা তাকে একটি কফি শপে নিয়ে যান।
তবে দেশে ফিরলেও পুরো ঘটনার মানসিক চাপ কাটেনি বলে জানিয়েছেন মোরালেস গার্সিয়া। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে চেহারা ও ইংরেজিতে কথা বলতে না পারার কারণে বিচার করা হয়েছিল বলে তিনি মনে করেন। ভবিষ্যতে আবার কোনো পুলিশি তল্লাশির মুখে পড়লে একই ধরনের পরিস্থিতির আশঙ্কাও রয়েছে তার। এদিকে তাকে মেক্সিকোয় পাঠানোর ঘটনায় দায়বদ্ধতা নির্ধারণ ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে করা মামলাটি এখনও চলমান রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সংস্থাগুলো নিয়মিতভাবে কতজন নাগরিককে অভিবাসন ব্যবস্থার আওতায় আটক বা বহিষ্কার করেছে, তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করে না। সরকারি হিসাব পর্যালোচনা করে অতীতেও এমন ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের আটক ও বহিষ্কারের নজির পাওয়া গেছে। মোরালেস গার্সিয়ার ঘটনাটি সেই বিতর্ককে আবারও সামনে এনেছে।
সূত্র: ইউএসএ টুডে
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধার পূর্ণ অবসরের বয়স ২০২৬ সালে নতুন ধাপে পৌঁছেছে। সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ৬২ বছর বয়সে পৌঁছানো ব্যক্তিদের পূর্ণ অবসরের বয়স ৬৭ বছর। তবে এর অর্থ এই নয় যে ৬৭ বছরের আগে অবসর নেওয়া যাবে না। ৬২ বছর বয়স থেকেই সোশ্যাল সিকিউটি সুবিধা নেওয়া যায়, কিন্তু পূর্ণ অবসরের বয়সের আগে সুবিধা নিলে মাসিক অর্থ স্থায়ীভাবে কমে যায়। পূর্ণ অবসরের বয়স নির্ধারণ করা হয় একজন ব্যক্তির জন্মসাল অনুযায়ী। ১৯৪৩ থেকে ১৯৫৪ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের পূর্ণ অবসরের বয়স ৬৬ বছর। এরপর জন্মসাল অনুযায়ী বয়স ধাপে ধাপে বাড়তে থাকে। ১৯৫৫ সালে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের পূর্ণ অবসরের বয়স ৬৬ বছর ২ মাস, ১৯৫৬ সালে জন্ম নেওয়াদের ৬৬ বছর ৪ মাস এবং ১৯৫৭ সালে জন্ম নেওয়াদের ৬৬ বছর ৬ মাস। এই ধারাবাহিকতায় ১৯৫৮ সালে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের পূর্ণ অবসরের বয়স ৬৬ বছর ৮ মাস এবং ১৯৫৯ সালে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের ৬৬ বছর ১০ মাস। ১৯৬০ সালে বা তার পরে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে পূর্ণ অবসরের বয়স ৬৭ বছর। অর্থাৎ ২০২৬ সালে এই দীর্ঘদিনের ধাপে ধাপে বাড়ার প্রক্রিয়া ৬৭ বছর বয়সে এসে পৌঁছেছে। তবে ৬২ বছর বয়সে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা নেওয়ার সুযোগ এখনও রয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের হিসাবে, ১৯৬০ সালে বা তার পরে জন্ম নেওয়া কেউ ৬২ বছর বয়সে অবসর সুবিধা নেওয়া শুরু করলে পূর্ণ সুবিধার তুলনায় তার মাসিক অর্থ প্রায় ৩০ শতাংশ কমে যেতে পারে। উদাহরণ হিসেবে, পূর্ণ অবসরের বয়সে ১ হাজার ডলার পাওয়ার যোগ্য কেউ ৬২ বছর বয়সে সুবিধা নেওয়া শুরু করলে প্রায় ৭০০ ডলার পেতে পারেন। অন্যদিকে, পূর্ণ অবসরের বয়স পার হওয়ার পরও কেউ চাইলে সোশ্যাল সিকিউটি সুবিধা নেওয়া শুরু করতে পারেন। ৭০ বছর বয়স পর্যন্ত অপেক্ষা করলে বিলম্বিত অবসর সুবিধার কারণে মাসিক অর্থ বাড়ে। সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসন জানিয়েছে, পূর্ণ অবসরের বয়সের পর ৭০ বছর পর্যন্ত সুবিধা নেওয়া বিলম্বিত করলে মাসিক সুবিধার পরিমাণ বাড়তে থাকে। অবসরের বয়স নিয়ে এই পরিবর্তন আসলে ১৯৮৩ সালের সামাজিক নিরাপত্তা সংশোধনের মাধ্যমে শুরু হওয়া দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়ার অংশ। নির্দিষ্ট জন্মসালের মানুষের পূর্ণ অবসরের বয়স কয়েক ধাপে বাড়িয়ে ৬৭ বছরে নেওয়া হয়েছে। ফলে ২০২৬ সালের পরিবর্তনকে হঠাৎ করে সবার অবসরের বয়স বাড়িয়ে দেওয়ার নতুন সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা ঠিক নয়। ২০২৬ সালে সোশ্যাল সিকিউরিটি ব্যবস্থায় আরও কিছু অর্থনৈতিক পরিবর্তন কার্যকর হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জন্য জীবনযাত্রার ব্যয় সমন্বয় বা কোলা ২ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে সোশ্যাল সিকিউরিটি করের আওতাভুক্ত সর্বোচ্চ আয় ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ ডলারে উন্নীত হয়েছে। পূর্ণ অবসরের বয়সে পৌঁছানোর আগে যারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং একই সঙ্গে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা নিচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রেও আয়ের সীমা রয়েছে। ২০২৬ সালে পূর্ণ অবসরের বয়সের নিচে থাকা ব্যক্তিদের জন্য নির্দিষ্ট সীমার বেশি আয় হলে সুবিধার একটি অংশ কেটে রাখা হতে পারে। তবে পূর্ণ অবসরের বয়সে পৌঁছানোর পর পুরো বছর কাজ করলেও আয়ের ওপর এই সীমা থাকে না। সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা কখন নেওয়া শুরু করা হবে, তা তাই অবসর পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ৬২ বছর বয়সে সুবিধা নেওয়া শুরু করলে দ্রুত অর্থ পাওয়া যায়, কিন্তু মাসিক অর্থ কমে যায়। পূর্ণ অবসরের বয়স পর্যন্ত অপেক্ষা করলে পুরো সুবিধা পাওয়ার সুযোগ থাকে। আবার ৭০ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করলে মাসিক সুবিধা আরও বাড়তে পারে। ফলে প্রত্যেক ব্যক্তির জন্মসাল ও আর্থিক পরিস্থিতি অনুযায়ী সুবিধা নেওয়ার সময় নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: কেটিএলএ
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় নজিরবিহীন ফি বৃদ্ধির প্রস্তাব, খরচ ছাড়াতে পারে ২ লাখ ডলার
‘বিশুদ্ধ পানি কোনো সাংবিধানিক অধিকার নয়!’ ফেডারেল আদালতের গুরুত্বপূর্ণ রায়
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হয়েও মেক্সিকোয় ডিপোর্ট! ৪ মাসের লড়াই শেষে দেশে ফিরলেন টেক্সাসের তরুণ
যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে দরিদ্র মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসনের তীব্র সংকট তৈরি হলেও দেশটির বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার সাশ্রয়ী হিসেবে চিহ্নিত আবাসন ইউনিট খালি পড়ে আছে। অস্টিন, ডেনভার ও পোর্টল্যান্ডের মতো শহরে এমন পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে, যেখানে কম আয়ের মানুষের জন্য নির্ধারিত কিছু বাড়ি ভাড়াটে পাচ্ছে না। কারণ, এসব আবাসনের ভাড়া অনেক দরিদ্র মানুষের সামর্থ্যের বাইরে চলে গেছে। ফলে একদিকে সবচেয়ে কম আয়ের মানুষ বাসস্থানের জন্য সংগ্রাম করছেন, অন্যদিকে তাদের জন্য নির্ধারিত কিছু ইউনিট খালি থাকছে। টেক্সাসের অস্টিনে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা ম্যাথিউ ডেভিস নিজের একটি অ্যাপার্টমেন্ট চান। কিন্তু রক্তের প্লাজমা দান করে মাসে কয়েকশ ডলার আয় করা ডেভিসের জন্য মাসে ৪৫০ ডলারের একটি ছোট ঘরের ভাড়াও বহন করা কঠিন। ওই ছোট ঘরটিতে পানির সরবরাহ নেই এবং বাথরুমও যৌথভাবে ব্যবহার করতে হয়। অথচ অস্টিনে শহর কর্তৃপক্ষের হিসাবে সাশ্রয়ী আবাসন হিসেবে চিহ্নিত ৪ হাজার ৫০০টির বেশি ইউনিট খালি পড়ে আছে, যা মোট ইউনিটের প্রায় ১৬ শতাংশ। এই বৈষম্যের বড় কারণ হলো, যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অর্থায়ন পাওয়া নিম্নআয়ের আবাসনের বড় অংশ এমন মানুষের জন্য তৈরি হয়েছে, যাদের আয় সংশ্লিষ্ট এলাকার মধ্যম আয়ের অন্তত ৫০ শতাংশ বা তার বেশি। কিন্তু সবচেয়ে দরিদ্র মানুষের আয় তার চেয়ে অনেক কম। ফলে কাগজে-কলমে এসব বাড়ি সাশ্রয়ী হিসেবে বিবেচিত হলেও দেশের সবচেয়ে কম আয়ের মানুষের কাছে সেগুলো বাস্তবে সাশ্রয়ী নয়। কিছু শহরে এসব ইউনিটের ভাড়া বাজারদরের কাছাকাছি চলে আসায় খালি থাকার হারও বেড়েছে। ন্যাশনাল লো ইনকাম হাউজিং কোয়ালিশনের ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অত্যন্ত কম আয়ের ১ কোটি ১০ লাখ ভাড়াটে পরিবারের জন্য সাশ্রয়ী ও খালি থাকা ভাড়ার আবাসনের ঘাটতি ৭২ লাখ। অর্থাৎ প্রতি ১০০টি অত্যন্ত কম আয়ের ভাড়াটে পরিবারের বিপরীতে এমন আবাসন রয়েছে মাত্র ৩৫টি। এই শ্রেণির মানুষের আয় ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার নিচে অথবা তাদের এলাকার মধ্যম আয়ের ৩০ শতাংশের মধ্যে, যেটি বেশি। এই পরিবারগুলোর প্রায় তিন-চতুর্থাংশ তাদের আয়ের অর্ধেকের বেশি বাড়িভাড়া ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধে ব্যয় করে। ফলে খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচের জন্য তাদের হাতে খুব কম অর্থ থাকে। এর মধ্যে রয়েছেন কম বেতনের চাকরিজীবী, প্রবীণ এবং নির্দিষ্ট আয়ের ওপর নির্ভরশীল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও। সবচেয়ে কম আয়ের ভাড়াটেদের জন্য পর্যাপ্ত আবাসনের ঘাটতি যুক্তরাষ্ট্রের সব অঙ্গরাজ্য ও বড় মহানগর এলাকাতেই রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সাশ্রয়ী আবাসন তৈরিতে ব্যবহৃত ফেডারেল নিম্নআয়ের আবাসন কর সুবিধা কর্মসূচির আওতায় ২০২৪ সালে অর্থায়ন পাওয়া ইউনিটগুলোর মাত্র প্রায় ১২ শতাংশ অত্যন্ত কম আয়ের মানুষের জন্য নির্ধারিত ছিল। অধিকাংশ ইউনিট এমন মানুষের জন্য তৈরি হয়েছে, যাদের আয় সংশ্লিষ্ট এলাকার মধ্যম আয়ের অন্তত ৫০ শতাংশ। অস্টিনে উদাহরণ হিসেবে, একক ব্যক্তির ক্ষেত্রে এলাকার মধ্যম আয়ের ৫০ শতাংশ পর্যায়ের আয় প্রায় ৪৭ হাজার ডলার, যেখানে অত্যন্ত কম আয়ের একজনের আয় ২৮ হাজার ডলারের নিচে। বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ মনে করেন, সাশ্রয়ী আবাসন তৈরির বর্তমান ব্যবস্থা জটিল এবং ভাড়া ভাউচারের তুলনায় বেশি ব্যয়বহুল। অন্যদিকে কিছু আবাসন বিশেষজ্ঞের মতে, কর সুবিধার মাধ্যমে তৈরি আবাসন ও ভাড়া ভাউচার একসঙ্গে কাজ করতে পারে। তবে ভাড়া ভাউচারের ক্ষেত্রেও বড় ঘাটতি রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের হিসাবে, যোগ্য পরিবারগুলোর মাত্র চারটির মধ্যে একটি পরিবার ভাড়া ভাউচার পায় এবং অনেক ক্ষেত্রে অপেক্ষার তালিকায় থাকতে হয় বছরের পর বছর। অস্টিনে এলাকার মধ্যম আয়ের ৬০ শতাংশ পর্যায়ের মানুষের জন্য তৈরি সাশ্রয়ী আবাসনের ভাড়া বাজারদরের কাছাকাছি চলে এসেছে। ফলে কিছু মানুষ সামান্য বেশি ভাড়া দিয়ে বাজারদরের অ্যাপার্টমেন্টে উঠতে আগ্রহী হচ্ছেন, কারণ সেখানে আয় যাচাই ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে দ্রুত। বিপরীতে সাশ্রয়ী আবাসনের আবেদনকারীদের ব্যাংক হিসাব, বেতন, বিলসহ বিভিন্ন আর্থিক তথ্য যাচাই করা হয়। ডেনভারে ফেডারেল কর সুবিধা কর্মসূচির আওতায় এলাকার মধ্যম আয়ের ৬০ শতাংশ পর্যায়ের ইউনিটে খালি থাকার হার ১৩ শতাংশ এবং ৮০ শতাংশ পর্যায়ের ইউনিটে ২১ শতাংশ। পোর্টল্যান্ডে ১ হাজার ৭০০টির বেশি সাশ্রয়ী আবাসন ইউনিট খালি রয়েছে। সেখানে এসব ইউনিটের বড় অংশ এমন মানুষের জন্য নির্ধারিত, যাদের আয় এলাকার মধ্যম আয়ের ৬০ শতাংশ পর্যন্ত। অস্টিনে ২০১৮ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে অত্যন্ত কম আয়ের মানুষের জন্য ২০ হাজার আবাসন ইউনিট তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সাল পর্যন্ত তৈরি হয়েছে মাত্র ৫৪৩টি। বিপরীতে এলাকার মধ্যম আয়ের ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যায়ের মানুষের জন্য পরিকল্পিত ১৫ হাজার ইউনিটই নির্মাণ করা হয়েছে। শহরের আবাসন বিভাগ জানিয়েছে, সবচেয়ে কম আয়ের মানুষের জন্য আরও আবাসন তৈরির প্রয়োজন তারা স্বীকার করছে এবং ৩০ শতাংশ মধ্যম আয় পর্যায়ের মানুষের জন্য ইউনিটসহ প্রকল্পে অর্থায়নে অগ্রাধিকার দেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ম্যাথিউ ডেভিসের মতো মানুষের কাছে এই পরিস্থিতি অত্যন্ত হতাশাজনক। গাড়িতে এক বছর বসবাস করার পর অস্টিনের আশ্রয়কেন্দ্রে থাকার সুযোগ পাওয়া ডেভিস এমন একটি জায়গা চান, যেখানে রাতে দরজা বন্ধ করে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবেন। কিন্তু সবচেয়ে দরিদ্র মানুষের জন্য পর্যাপ্ত আবাসনের ঘাটতি এবং বিদ্যমান সাশ্রয়ী আবাসনের ভাড়া ও আবেদন প্রক্রিয়ার কারণে সেই সুযোগ পাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বুলেটিনে সুখবর, বাংলাদেশিদের কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অগ্রগতি
২০২৮ সালের ৪২তম ফোবানার আয়োজক মিশিগানের বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন
যুক্তরাষ্ট্রের ১০ শহরে সবচেয়ে দ্রুত কমছে বাড়ির দাম, ক্রেতাদের জন্য স্বস্তি
যুক্তরাষ্ট্রের সোশ্যাল সিকিউরিটি তহবিল ২০৩২ সালের মধ্যে শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কার মধ্যে কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা ট্যাক্স বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলছেন। দীর্ঘদিন ধরে ট্যাক্স বাড়ানোর বিরোধিতা করে আসা রিপাবলিকানদের মধ্যে এই অবস্থান পরিবর্তন এসেছে এমন এক সময়ে, যখন সোশ্যাল সিকিউরিটির ঘাটতি এত বড় ও জরুরি হয়ে উঠেছে যে শুধু ভবিষ্যৎ সুবিধা কমিয়ে সংকট মোকাবিলা করা কঠিন বলে মনে করছেন কয়েকজন আইনপ্রণেতা। কংগ্রেস ব্যবস্থা না নিলে ছয় বছরের মধ্যে লাখো সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাভোগীর অর্থপ্রদান ২২ শতাংশ কমে যেতে পারে। ওহাইওর রিপাবলিকান সিনেটর বার্নি মোরেনো ডেমোক্র্যাট সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেনের সঙ্গে যৌথভাবে বেতনভিত্তিক ট্যাক্সের সর্বোচ্চ সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন। এর ফলে উচ্চ আয়ের মানুষদের কর্মসূচিতে আরও বেশি অর্থ দিতে হবে। একই সময়ে প্রতিনিধি পরিষদের অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস কমিটির চেয়ারম্যান টম কোলও ট্যাক্সের হার এবং ট্যাক্সের আওতায় থাকা আয়ের পরিমাণ বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন। কোল বলেছেন, সোশ্যাল সিকিউরিটির সংকট সমাধানে বর্তমান আয়ের সীমা বা ট্যাক্সের হারের মধ্যেই আটকে থাকার প্রয়োজন নেই। তিনি ট্যাক্সের হার পরিবর্তন এবং ট্যাক্সের আওতায় থাকা আয়ের পরিমাণ বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনার পক্ষে। তার মতে, সোশ্যাল সিকিউরিটির সুবিধা কমানোর রাজনৈতিক ক্ষতি ট্যাক্স বাড়ানোর তুলনায় আরও বড় হতে পারে। তহবিল ব্যবস্থা ভেঙে পড়লে মানুষ নিজেদের প্রতারিত মনে করতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন। সোশ্যাল সিকিউরিটি যুক্তরাষ্ট্রের ৭ কোটির বেশি মানুষকে মাসিক নগদ সুবিধা দেয়। এটি দেশটির ৭ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের ফেডারেল বাজেটের সবচেয়ে বড় কর্মসূচি। চলতি বছর এই কর্মসূচিতে ১ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় হওয়ার কথা। কর্মীরা ৬২ বছর বয়স থেকে সুবিধা নেওয়া শুরু করতে পারেন, আর পূর্ণ অবসর গ্রহণের বয়স ৬৭ বছর। কর্মসূচিটি বেতনভিত্তিক ট্যাক্সের মাধ্যমে অর্থায়ন করা হয়। কর্মী ও নিয়োগকর্তা উভয়েই ৬ দশমিক ২ শতাংশ করে ট্যাক্স দেন। বছরের পর বছর বার্ষিক ট্যাক্স সংগ্রহ সুবিধা প্রদানের ব্যয়ের চেয়ে বেশি থাকায় সোশ্যাল সিকিউরিটি তহবিলে উদ্বৃত্ত জমেছিল। কিন্তু বেবি বুম প্রজন্ম অবসরে যাওয়ার পর হিসাব বদলে গেছে। এখন সোশ্যাল সিকিউরিটি যে পরিমাণ ট্যাক্স সংগ্রহ করছে, তার চেয়ে বেশি অর্থ সুবিধা হিসেবে দিচ্ছে। ফলে ঘাটতি পূরণে তহবিলের সঞ্চিত অর্থ ব্যবহার করতে হচ্ছে। বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, সোশ্যাল সিকিউরিটি তহবিল ২০৩২ সালে শেষ হয়ে যেতে পারে। এরপর কর্মসূচিটিকে শুধু তখনকার সময়ে সংগৃহীত ট্যাক্সের ওপর নির্ভর করতে হবে। কংগ্রেস কোনো ব্যবস্থা না নিলে গড়ে মাসিক সুবিধা প্রায় ৪৪০ ডলার কমে যেতে পারে বলে বাইপার্টিজান পলিসি সেন্টারের হিসাব। সংস্থাটির হিসাবে, ২০৩৩ সালেই ঘাটতি পূরণ করতে ৪৫৯ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ ব্যয় কমানো অথবা নতুন রাজস্বের প্রয়োজন হবে। পরবর্তী বছরগুলোতে এই প্রয়োজন আরও বাড়বে। মোরেনো ও ওয়ারেনের প্রস্তাবে উচ্চ আয়ের কর্মীদের পুরো আয়ের ওপর বেতনভিত্তিক সোশ্যাল সিকিউরিটি ট্যাক্স আরোপের কথা বলা হয়েছে। তাদের যুক্তি, মধ্যবিত্ত একজন নার্সের তুলনায় একজন ধনী করপোরেট আইনজীবী কেন নিজের আয়ের ছোট অংশে ট্যাক্স দেবেন, সেই প্রশ্নের সমাধান প্রয়োজন। তাদের উদ্ধৃত একটি সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ৬২ শতাংশ রিপাবলিকান বেতনভিত্তিক ট্যাক্সের সর্বোচ্চ সীমা তুলে দেওয়ার পক্ষে। দায়িত্বশীল ফেডারেল বাজেট কমিটির হিসাবে, উচ্চ আয়ের মানুষের জন্য ট্যাক্সের সীমা তুলে দিয়ে তাদের সুবিধা না বাড়ালে সোশ্যাল সিকিউরিটির ঘাটতির অর্ধেকেরও বেশি পূরণ করা সম্ভব হতে পারে। তবে জর্জ মেসন বিশ্ববিদ্যালয়ের মারকাটাস সেন্টারের গবেষক চার্লস ব্লাহাসসহ কয়েকজন এই পদ্ধতির বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তাদের মতে, এতে কর্মীদের দেওয়া ট্যাক্স এবং ভবিষ্যতে পাওয়া সুবিধার মধ্যকার ঐতিহাসিক সম্পর্ক দুর্বল হয়ে যেতে পারে। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে কেউ কেউ আরও বেশি ট্যাক্স আরোপের পক্ষে। রোড আইল্যান্ডের ডেমোক্র্যাট সিনেটর শেলডন হোয়াইটহাউস বেতনভিত্তিক ট্যাক্সের সীমা তুলে দেওয়ার পাশাপাশি ধনী পরিবারের বিনিয়োগ আয়ের ওপর ট্যাক্স আরোপ এবং ব্যবসার মালিকদের ব্যক্তিগত ট্যাক্স কমানোর সুযোগ থাকা একটি ফাঁক বন্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছেন। ২০২৩ সালের এক হিসাব অনুযায়ী, তার প্রস্তাব অন্তত ৭৫ বছর সোশ্যাল সিকিউরিটির পুরো অর্থায়ন নিশ্চিত করার মতো রাজস্ব আনতে পারে। পেনসিলভানিয়ার রিপাবলিকান প্রতিনিধি লয়েড কে. স্মাকারও সোশ্যাল সিকিউরিটির সমাধানে অতিরিক্ত ট্যাক্স রাজস্বের প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন। তিনি বেতনভিত্তিক ট্যাক্সের মাধ্যমে কর্মসূচিতে আসা অর্থের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার পাশাপাশি ধনীদের জন্য সুবিধা কমিয়ে এবং নিম্ন আয়ের অবসরপ্রাপ্তদের সুরক্ষিত রাখার জন্য আয়ভিত্তিক সুবিধা নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনার কথা বলেছেন। তবে রিপাবলিকানদের মধ্যে ট্যাক্স বাড়ানোর বিরোধিতা এখনো রয়েছে। আমেরিকানস ফর ট্যাক্স রিফর্মের প্রতিষ্ঠাতা গ্রোভার নরকুইস্ট মনে করেন, রিপাবলিকানদের ব্যয় কমানোর দাবিতেই থাকা উচিত। তার মতে, ট্যাক্স বাড়ানোর পক্ষে গেলে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ক্ষুব্ধ ভোটারদের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়তে পারেন রিপাবলিকানরা। সোশ্যাল সিকিউরিটি সংকট মোকাবিলায় ট্যাক্স বাড়ানোর ধারণা নতুন নয়। ১৯৮৩ সালে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান এবং ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার টিপ ও'নিল কর্মসূচিটিকে তৎকালীন দেউলিয়াত্বের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে বেতনভিত্তিক ট্যাক্স বাড়ানো এবং ধীরে ধীরে অবসর গ্রহণের বয়স বাড়ানোর মতো পদক্ষেপে একমত হয়েছিলেন। পরবর্তী সময়েও ট্যাক্সের সীমা বাড়ানো ও সুবিধা কমানোর বিভিন্ন প্রস্তাব সামনে এসেছে। সোশ্যাল সিকিউরিটি সংস্কারের আলোচনায় হোয়াইট হাউসের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। কোল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কর্মসূচিটির দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে ট্রাম্প কীভাবে প্রয়োজনীয় বিপুল অর্থ সংগ্রহ করা হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা জানাননি। তিনি বলেছেন, তার নেতৃত্বে সোশ্যাল সিকিউরিটির অর্থপ্রদানে কোনো কমতি হবে না। সূত্র: দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট
আইসল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ দেখিয়ে ট্রাম্পের পোস্ট, তলব মার্কিন রাষ্ট্রদূত
মৃত্যুর হুমকির পরও আইসিইতে আটক অভিবাসীদের ২৫০টি গাড়ি পরিবারের কাছে ফেরালেন ট্রাক চালক