সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

দুধের নল নাকের পরিবর্তে শিরায় দেওয়ায়, হাসপাতালে প্রাণ গেল চার মাসের শিশুর

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ৯:৩৫
ব্রাজিলের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ছবি: সংগৃহীত
ব্রাজিলের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ছবি: সংগৃহীত

ব্রাজিলের পারনামবুকো রাজ্যের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন চার মাসের এক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, শিশুটিকে খাওয়ানোর জন্য ব্যবহৃত দুধ ভুল করে নাকের নল দিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে ঘাড়ের শিরায় সংযুক্ত আইভি লাইনে দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় হাসপাতালের এক স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তবে শিশুটির মৃত্যুর চূড়ান্ত কারণ এখনো নিশ্চিত হয়নি।

 

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সান-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিশুটির নাম মিগেল অ্যাঞ্জেলো বারবোসা। ব্রঙ্কিওলাইটিসে আক্রান্ত হওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। এটি শ্বাসনালির ক্ষুদ্র শাখায় প্রদাহ সৃষ্টি করা একটি রোগ, যা শিশুদের শ্বাসকষ্টের কারণ হতে পারে।

 

পরিবারের অভিযোগ, গত ২০ অক্টোবর শিশুটির দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা তার এক খালা কিছুক্ষণের জন্য কক্ষ থেকে বাইরে যান। ফিরে এসে তিনি শিশুটিকে নীলচে হয়ে যেতে দেখেন। এ সময় দুধ দেওয়ার নলটি ভুলভাবে শিরায় সংযুক্ত ছিল বলে পরিবারের দাবি।

 

এরপর হাসপাতালের কর্মীরা শিশুটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে পুনরুজ্জীবনের চেষ্টা চালানো হলেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

 

পরিবারের আরও অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মী ভুলের কথা স্বীকার করে দায়িত্ব শেষ হওয়ার আগেই হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।

 

পুলিশ ২১ অক্টোবর ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু করেছে। তবে তদন্তে মামলা হত্যাকাণ্ড হিসেবে নথিভুক্ত হওয়া মানেই অভিযুক্ত ব্যক্তি অপরাধী প্রমাণিত হয়েছেন, এমন নয়।

 

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং রোগীর নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা দলকে ঘটনাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শিশুটির পরিবারের প্রতি শোক প্রকাশ করে তদন্তকারী কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে হাসপাতাল।

 

ফরেনসিক পরীক্ষার পর ২২ অক্টোবর শিশুটিকে দাফন করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৃত্যুর চূড়ান্ত কারণ নির্ধারণের জন্য আরও পরীক্ষার ফল প্রয়োজন। সে সময় ধারণা করা হয়েছিল, সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার ফল পেতে ৩০ দিন পর্যন্ত লাগতে পারে।

 

ঘটনাটি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবায় রোগীর নিরাপত্তা, বিশেষ করে শিশুদের খাওয়ানোর নল ও শিরায় ওষুধ বা তরল দেওয়ার ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। তবে শিশুটির মৃত্যু ঠিক কী কারণে হয়েছে, তা নিশ্চিত করতে ফরেনসিক প্রতিবেদন ও পুলিশের তদন্তের ফলের অপেক্ষা করতে হবে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
নেতানিয়াহুকে হটাতে বিরোধী জোটের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন আরব নেতারা
নেতানিয়াহুকে হটাতে বিরোধী জোটের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন আরব নেতারা

ইসরাইলের রাজনীতিতে এক নাটকীয় পটপরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন আরব ইসরাইলি নেতা আহমাদ তিবি। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তাঁর কট্টর ডানপন্থি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বিরোধী জোট 'চেঞ্জ ব্লক'-এর সঙ্গে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।   জয়েন্ট লিস্ট পার্লামেন্টারি ব্লকের প্রধান এবং নেসেট সদস্য আহমাদ তিবি এক বিবৃতিতে জানান, এবারের নির্বাচনে আরব ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ একটি ঐতিহাসিক অর্জন। আরব দলগুলোকে পাশ কাটিয়ে ইসরাইলে কোনো রাজনৈতিক পরিবর্তন সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিরোধীদের সঙ্গে তাদের এই জোটের প্রাথমিক লক্ষ্য হবে নেসেটের বর্তমান স্পিকার আমির ওহানাকে অপসারণ করা।   এই বিরোধী জোটে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের ইয়াশার পার্টি, ইয়ার লাপিদের ইয়েশ আতিদ এবং নাফতালি বেনেটের বেয়াখাদ-এর মতো দলগুলো রয়েছে।   ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেটের ১২০টি আসনের মধ্যে সরকার গঠনের জন্য ৬১টি আসন প্রয়োজন। সাম্প্রতিক নির্বাচনের প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট গণনার পর দেখা গেছে, নেতানিয়াহুর ডানপন্থি জোট ৫৩টি আসন পেতে যাচ্ছে, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার চেয়ে বেশ পিছিয়ে।   অন্যদিকে গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৪৮টি এবং আরবদের রাজনৈতিক দলগুলো ঐতিহাসিক সাফল্য পেয়ে মোট ১৯টি আসন (জয়েন্ট লিস্ট ১২টি ও ইউনাইটেড আরব লিস্ট ৭টি) পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আগামী ৪ নভেম্বর নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করা হবে। এবারের নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক আরব ভোটারের অংশগ্রহণ নেতানিয়াহু সরকারের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে।   গাজা ও পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর আগ্রাসন এবং ইসরাইলের অভ্যন্তরে আরবদের প্রতি দীর্ঘদিনের বৈষম্যই এই বিপুল ভোটদানের পেছনে মূল নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে।   নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে এই শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলার অন্যতম কারিগর বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকট একজন সাবেক সেনাপ্রধান। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর তিনি নেতানিয়াহুর জরুরি যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভায় যোগ দিলেও যুদ্ধ-পরবর্তী স্পষ্ট কৌশলের অভাবে ২০২৪ সালের জুনে পদত্যাগ করেন।   গাজা যুদ্ধে নিজের ২৫ বছর বয়সি ছেলে গাল এবং দুই ভাতিজাকে হারানোর ব্যক্তিগত শোক তাঁকে রাজনীতিতে আরও সক্রিয় করে তুলেছে। বর্তমানে নেতানিয়াহুর জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় এবং আরব দলগুলোর আসনসংখ্যা নির্ণায়ক হয়ে ওঠায়, ইসরাইলের নতুন সরকার গঠনের চাবিকাঠি এখন অনেকটাই আরব নেতাদের হাতে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ১০:৩২
ব্রাজিলের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ছবি: সংগৃহীত

দুধের নল নাকের পরিবর্তে শিরায় দেওয়ায়, হাসপাতালে প্রাণ গেল চার মাসের শিশুর

থারপারকারে অ্যাম্বুলেন্সে আগুনের ঘটনায় শোক ও উদ্বেগ

পাকিস্তানে অ্যাম্বুলেন্সে অক্সিজেন সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত ৯, প্রাণ গেছে অন্তঃসত্ত্বা নারীরও

একসঙ্গে প্রায় এক ডজন ক্ষে পণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া, সতর্ক দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান

একসঙ্গে প্রায় এক ডজন ক্ষে পণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া, সতর্ক দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান

৯ বছর ৪ মাসের সাজা পেলেন ৬৪ বছর বয়সী নারী
মদ-সিগারেটের প্রলোভনে কিশোরকে বারবার যৌন নি র্যাতন, ব্রিটিশ নারীর ৯ বছর ৪ মাসের কারাদণ্ড

ব্রিটেনে এক কিশোরকে মদ ও সিগারেটের প্রলোভন দেখিয়ে বারবার যৌন নি র্যাতনের দায়ে ট্রেসি ব্যানক্রফট নামের ৬৪ বছর বয়সী এক নারীকে ৯ বছর ৪ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাঁকে আজীবনের জন্য যৌন অপরাধীর নিবন্ধনে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ইয়র্ক ক্রাউন কোর্টে সাজা ঘোষণার সময় মামলার বিবরণ তুলে ধরা হয়। আদালতে জানানো হয়, ব্যানক্রফট প্রথমবার ওই কিশোরকে নি র্যাতনের আগে দুই গ্লাস কড়া রাম পান করিয়েছিলেন। এরপর তিনি কিশোরটিকে চুমু দেন। আকস্মিক এ ঘটনায় ভয় ও বিস্ময়ে কিশোরটি নিশ্চুপ হয়ে পড়ে। আদালতে দেওয়া বক্তব্যে ভুক্তভোগী জানায়, প্রথম ঘটনার পরও সে ওই নারীর হাতে অন্তত আরও ২০ বার যৌন নি র্যাতনের শিকার হয়েছে। তবে ব্যানক্রফট অন্তত নয়বার এ ধরনের অপরাধ করার কথা স্বীকার করেছেন। ২০২৩ সালে কিশোরটি পুলিশের কাছে অভিযোগ জানায়। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের মার্চে ব্যানক্রফটকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তাঁর বিরুদ্ধে আটটি যৌন অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। শুরুতে অভিযোগ অস্বীকার করলেও গত সেপ্টেম্বরে শিশুর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার তিনটি অভিযোগ স্বীকার করেন ব্যানক্রফট। মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আদালতে ভুক্তভোগী কিশোরের মায়ের দেওয়া বক্তব্যে বলা হয়, এ ঘটনার পর তাঁর ছেলে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সন্তানের ওপর এ ঘটনার প্রভাব নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী আদালতে জানান, মদে আসক্তি ব্যানক্রফটের আচরণকে প্রভাবিত করেছিল। নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি গভীরভাবে লজ্জিত বলেও আইনজীবী উল্লেখ করেন। সাজার বিষয়ে বিচারক সাইমন হিকি বলেন, ব্যানক্রফটের কর্মকাণ্ডে ভুক্তভোগীর অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। কিশোরকে প্রলুব্ধ করে যৌন নি র্যাতনের সুস্পষ্ট উপাদান এ মামলায় রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আদালতের রায় অনুযায়ী, কারাদণ্ডের পাশাপাশি ব্যানক্রফটকে আজীবন যৌন অপরাধীর নিবন্ধনে থাকতে হবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ৬:২৭
লিবিয়ার বেনগাজী শহরের গানফুদা আটককেন্দ্রে বন্দি থাকা আরও ১৭২ জন বাংলাদেশি

লিবিয়ার বন্দিদশা থেকে ফিরলেন আরও ১৭২ বাংলাদেশি, সহায়তায় সরকার ও আইওএম

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে ড্রোন ব্যবহার করে কারাগারে ৩৩ বছর বয়সী গ্যাটেন

ড্রোন দিয়ে টেক্সাসের কারাগারে মাদক পাচার, ৩৩ বছর বয়সী যুবকের ২৫ বছরের জেল

জিয়াউর রহমান (৩০) নামে এক বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত

ইতালিতে বাস-স্কুটার সংঘর্ষে প্রাণ গেল ফেনীর প্রবাসী জিয়াউর রহমানের

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
'আমার স্বামীকে ভোট দেন, নাহলে আমরা সবাই মারা যাব' ফাঁস হওয়া ফোনালাপে নেতানিয়াহুর স্ত্রী

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর একটি কথিত ফাঁস হওয়া ফোনালাপ ঘিরে দেশটির রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ আগে আলট্রা-অর্থোডক্স বা অতি রক্ষণশীল ইহুদি ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনতে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছিলেন তিনি। এ সময় সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ থেকে অব্যাহতি নিয়ে প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভের কথা শুনে তাঁকে বিরক্তি প্রকাশ করতে শোনা যায় বলে জানিয়েছে জর্ডানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়্যাল নিউজ।   ফাঁস হওয়া বলে দাবি করা ওই কথোপকথনে নেতানিয়াহুকে বলতে শোনা যায়, “আমাকে বলুন, তারা কি পাগল হয়ে গেছে? তারা কি বামপন্থি সরকার চায়?” প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক রাজনৈতিক কর্মীর সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলেন নেতানিয়াহু। ওই কর্মী তাঁকে জানান, সামরিক বাহিনীতে নিয়োগসংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় আলট্রা-অর্থোডক্স ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। ফলে তাঁদের ভোটকেন্দ্রে যেতে উৎসাহিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।   কথোপকথনের সময় নেতানিয়াহুর স্ত্রী সারা নেতানিয়াহুকেও পেছন থেকে চিৎকার করে বলতে শোনা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর কণ্ঠে শোনা যায়, “কিন্তু আমরা সবাই মারা যাব!” তবে রেকর্ডিংটির সত্যতা এবং কথোপকথনের পূর্ণ প্রেক্ষাপট স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।   ইসরায়েলের রাজনীতিতে আলট্রা-অর্থোডক্স ইহুদি সম্প্রদায়ের সমর্থন দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ। ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত অতি রক্ষণশীল ইহুদি পুরুষদের সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি দেশটিতে দীর্ঘদিনের বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। এই অব্যাহতি নিয়ে বিরোধের কারণে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে এবং নেতানিয়াহুর জোট সরকারের ঐক্য ধরে রাখার প্রচেষ্টাও জটিল হয়েছে। আলট্রা-অর্থোডক্স দলগুলোর সমর্থন তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এ সম্প্রদায়ের ভোটারদের অসন্তোষ বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।   ফাঁস হওয়া ফোনালাপের বক্তব্য সেই রাজনৈতিক চাপেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে রেকর্ডিংয়ের সত্যতা ও পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কথোপকথনটি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।  

প্রকাশ: অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ১:৩৭
ইসরায়েলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেয়ে আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে কারচুপির অভিযোগ নেতানিয়াহুর

ইসরায়েলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেয়ে আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে কারচুপির অভিযোগ নেতানিয়াহুর

স্পেনে দুই দ্রুতগতির ট্রেনের ভ য়াবহ সং ঘর্ষ, প্রাণহানি বেড়ে অন্তত ৬৪, আ হত ৮০ জনের বেশি

স্পেনে দুই দ্রুতগতির ট্রেনের ভ য়াবহ সং ঘর্ষ, প্রাণহানি বেড়ে অন্তত ৬৪, আ হত ৮০ জনের বেশি

আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যুক্তরাষ্ট্রে ফ্ল্যাভিও বলসোনারো, পেলেন মার্কিন ভিসা

আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যুক্তরাষ্ট্রে ফ্ল্যাভিও বলসোনারো, পেলেন মার্কিন ভিসা

0 Comments