নিলামের প্রতিযোগিতা নয়, বিকল্প পথে বাড়ি কিনে মেলবোর্নের দম্পতির ৮০ হাজার ডলার সাশ্রয়
অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে নিলামে বাড়ি কেনার তীব্র প্রতিযোগিতা ও মানসিক চাপ এড়িয়ে নিজেদের নির্ধারিত বাজেটের চেয়ে ৮০ হাজার ডলার কমে নতুন বাড়ির চাবি বুঝে নিয়েছে একটি পরিবার। জেয়াকরন কারণান এবং শ্রী হরিণী বিনোদকুমার নামের ওই দম্পতি নিজেদের প্রথম বাড়ির জন্য প্রাথমিকভাবে আট লাখ ডলার বাজেট নির্ধারণ করেছিলেন। কিন্তু নিলামে অন্যান্য ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামাকে 'বাড়ির জন্য দৌড় প্রতিযোগিতা' আখ্যা দিয়ে তারা মেলবোর্নের ক্লাইড নর্থ এলাকায় সাত লাখ ২০ হাজার ডলার ব্যয়ে একটি 'হাউস-অ্যান্ড-ল্যান্ড' প্যাকেজ বেছে নেন।
শ্রী হরিণী জানান, নিলামের ওই প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতার জন্য তারা মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না। তাই তারা ওড়ানা এস্টেটে নিজেদের বাড়ি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন, যেখানে তাদের ১৮ মাস বয়সী ছেলে ইয়ালান অন্যান্য তরুণ পরিবারের শিশুদের সঙ্গে বেড়ে ওঠার সুযোগ পাবে।
এই এলাকাটি বেছে নেওয়ার অন্যতম কারণ ছিল এখানকার পার্ক এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহজলভ্যতা, বিশেষ করে স্থানীয় সরকারি স্কুলের পাশাপাশি মানসম্মত খ্রিষ্টান শিক্ষার সুযোগ। এছাড়া বাড়ির পেছনে পুরো অর্থ ব্যয় না করে ছেলের ভবিষ্যতের জন্য কিছু সঞ্চয় ধরে রাখাকেও তারা সমান গুরুত্ব দিয়েছেন।
বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে এই দম্পতি অস্ট্রেলিয়ার আলবানিজ সরকারের ৫ শতাংশ ডিপোজিট স্কিম ব্যবহার করেছেন। এর ফলে তাদেরকে প্রচলিত ২০ শতাংশ বা এক লাখ ৪৪ হাজার ডলার ডাউনপেমেন্ট দেওয়ার বদলে মাত্র ৩৬ হাজার ডলার জমা দিতে হয়েছে। যদিও ছোট ডিপোজিট দেওয়ার অর্থ হলো বড় অঙ্কের মর্টগেজ বা ঋণ নেওয়া, তবে এর ফলে পরিবারের অপ্রত্যাশিত খরচের জন্য তাদের হাতে একটি বড় অঙ্কের সঞ্চয় থেকে গেছে।
অবশ্য বাড়ি কেনার এই স্বপ্ন পূরণে তাদের বেশ কিছু ত্যাগও স্বীকার করতে হয়েছে; ছুটির দিনের ভ্রমণ স্থগিত করার পাশাপাশি দৈনন্দিন খরচ কমাতেও তারা অনেক বেশি হিসেবি হয়েছেন।
নিলামের তিক্ত অভিজ্ঞতার পর বাড়ি নির্মাণের এই প্রক্রিয়াটি তাদের জন্য ছিল বেশ আনন্দদায়ক এক চমক। জেয়াকরন জানান, পুরো প্রক্রিয়াটি এত দ্রুত শেষ হবে তা তারা ভাবতেই পারেননি। কোনো ধরনের বিলম্ব ছাড়াই মাত্র চার মাসে নির্মাণকাজ শেষ হয় এবং চুক্তিতে স্বাক্ষরের প্রায় ১০ মাসের মাথায় তারা কাঙ্ক্ষিত বাড়ির চাবি হাতে পান।
নিজেদের প্রথম বাড়ি কেনা অনেক বড় একটি পদক্ষেপ ছিল বলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এই দম্পতি। উল্লেখ্য, তাদের এই বাড়িটি ছিল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হোমবায়ার্স সেন্টারের মূল কোম্পানি 'এবিএন গ্রুপ'-এর সম্পন্ন করা এক লাখতম বাড়ি।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreযুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার জন্য স্টুডেন্ট ভিসায় আবেদনকারী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাবে এখন থেকে আগের চেয়ে বেশি অর্থ বা জীবনযাপনের খরচ থাকার প্রমাণ দেখাতে হবে। দেশটিতে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত শিক্ষাঋণের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য এই নতুন নিয়ম জারি করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গত ৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ইমিগ্রেশন রুলসের সংশোধনী অনুযায়ী, আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে নতুন এই শর্ত কার্যকর হবে। স্টাডি নাউ-এর তথ্য অনুযায়ী, কোর্স শুরুর তারিখ নয়, বরং ভিসার আবেদনের তারিখের ওপর ভিত্তি করে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ, ৩০ নভেম্বরের আগে আবেদন করলে পুরোনো নিয়মেই অর্থ দেখানোর সুযোগ থাকছে, তবে এরপর আবেদন করলে নতুন নিয়মে বর্ধিত অর্থ দেখাতে হবে। নতুন এই নিয়মের ফলে লন্ডনে পড়াশোনা করতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জীবনযাপনের খরচ হিসেবে মাসিক ১ হাজার ৫২৯ পাউন্ডের পরিবর্তে এখন থেকে ১ হাজার ৫৭০ পাউন্ড দেখাতে হবে। অন্যদিকে, লন্ডনের বাইরে পড়াশোনার ক্ষেত্রে এই অর্থের পরিমাণ মাসিক ১ হাজার ১৭১ পাউন্ড থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ২০৩ পাউন্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের কোর্সের মেয়াদ অনুযায়ী জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানোর পর্যাপ্ত অর্থ ব্যাংক হিসাবে দেখাতে হবে, যা সর্বোচ্চ ৯ মাসের জন্য হিসাব করা হয়। এর ফলে লন্ডনে ৯ মাস বা তার বেশি মেয়াদের কোর্সের জন্য এখন সর্বোচ্চ ১৪ হাজার ১৩০ পাউন্ড দেখাতে হবে, যা আগে ছিল ১৩ হাজার ৭৬১ পাউন্ড। আর লন্ডনের বাইরে একই মেয়াদের কোর্সের জন্য ১০ হাজার ৫৩৯ পাউন্ডের বদলে এখন ১০ হাজার ৮২৭ পাউন্ড দেখাতে হবে। জীবনযাত্রার ব্যয়ের পাশাপাশি প্রথম শিক্ষাবর্ষের বকেয়া টিউশন ফিও ব্যাংক হিসাবে দেখাতে হবে, যা শিক্ষার্থীর 'কনফার্মেশন অব অ্যাকসেপ্টেন্স ফর স্টাডিজ' (সিএএস) নথিতে উল্লেখ থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের আবাসনের জন্য অগ্রিম অর্থ জমা দিয়ে থাকলে তা জীবনযাত্রার ব্যয় হিসেবে দেখানো অর্থ থেকে বাদ দেওয়া যাবে, যার সর্বোচ্চ ছাড়ের সীমা এখন ১ হাজার ৫২৯ পাউন্ড থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৫৭০ পাউন্ড করা হয়েছে। ভিসার আবেদন করার আগে টানা অন্তত ২৮ দিন প্রয়োজনীয় অর্থ ব্যাংক হিসাবে জমা রাখার শর্তটি অপরিবর্তিত রয়েছে, তবে এই ২৮ দিনের শেষ দিনটি অবশ্যই আবেদনের আগের ৩১ দিনের মধ্যে হতে হবে। এছাড়া কোনো শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন করার আগে অন্তত ১২ মাস বৈধ অনুমতি নিয়ে যুক্তরাজ্যে বসবাস করে থাকলে, সাধারণত তাকে জীবনযাত্রার ব্যয় বহনের বাড়তি প্রমাণ দেখাতে হবে না।
নিলামের প্রতিযোগিতা নয়, বিকল্প পথে বাড়ি কিনে মেলবোর্নের দম্পতির ৮০ হাজার ডলার সাশ্রয়
ইনস্টাগ্রামের মতো রঙিন নয় প্রবাসী জীবন, বিদেশে স্থায়ী হওয়ার আগে বিশেষজ্ঞের ৭ পরামর্শ
পার্কিং নিয়ে বিরোধে ২২ সেকেন্ডে পাঁচ গুলি, একই পরিবারের তিনজনকে হত্যা
সুইজারল্যান্ডের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে (অ্যাসাইলাম সেন্টার) থাকা এক বাংলাদেশিকে চাঞ্চল্যকর এক হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে সে দেশের পুলিশ। রাইন নদী থেকে বুরুন্ডির নাগরিক এক ব্যক্তির খণ্ডবিখণ্ড মরদেহ উদ্ধারের পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। নিহত ওই ব্যক্তি আশ্রয়কেন্দ্রটিতে সন্দেহভাজন ওই বাংলাদেশির রুমমেট ছিলেন। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা গ্রেপ্তারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। নিহত ৩৩ বছর বয়সী ওই বুরুন্ডির নাগরিক গত ২৪ অক্টোবর থেকে নিখোঁজ ছিলেন। তার পরিচিতরা বিষয়টি পুলিশকে জানানোর পরদিন বাসেল শহরের কাছে স্টেইন এলাকার নদীতীরে একটি সন্দেহজনক ব্যাগ দেখতে পান তারা, যার ভেতরে মানুষের একটি কাটা পা ছিল। পরবর্তীতে পুলিশের ব্যাপক তল্লাশিতে আরও কয়েকটি ব্যাগ উদ্ধার হয়, যেগুলোতে মরদেহের অন্যান্য অংশ লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। সুইজারল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলীয় আর্গাউ ক্যান্টনের সরকারি কৌঁসুলির দপ্তর জানিয়েছে, হত্যার পর মরদেহটি টুকরো টুকরো করে কেটে আবর্জনা রাখার ব্যাগে ভরে রাইন নদী এবং এর তীরে ফেলে দেয়া হয়েছিল। এই ভয়ংকর ঘটনার পর পুলিশ ওই আশ্রয়কেন্দ্রটিতে জোর তল্লাশি চালায়। তদন্তে পাওয়া প্রমাণের ভিত্তিতে নিহত ব্যক্তির সঙ্গে একই কক্ষে বসবাস করা ৪৩ বছর বয়সী ওই বাংলাদেশির ওপর সন্দেহ জোরালো হয় এবং গত ২৭ অক্টোবর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, অপরাধের পেছনের প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সুনির্দিষ্ট বিবরণ জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কোনো রাজনৈতিক বা ধর্মীয় উদ্দেশ্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া, প্রাথমিক তদন্তের সময় গ্রেপ্তারকৃত
চাকরির প্রলোভনে ভারতে পাচার, পুনের যৌনপল্লি থেকে ৬ বাংলাদেশি নারী উদ্ধার
১৬ বছর বেতনসহ অসুস্থতার ছুটিতে শিক্ষিকা, অবশেষে স্কুবা ডাইভিং করতে গিয়ে ধরা
‘মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যাংক ডাকাতি’! বাইন্যান্স থেকে ৬৩০ কোটি ডলার চুরি উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারের
কানাডার টরন্টোতে একটি বিলাসবহুল বাড়িতে ঢুকে ব্যবসায়ী ডেভিড মর্টন ও তাঁর দুই মেয়েকে গুলি করেছে মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা। এ সময় তাঁর স্ত্রীকেও হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভোরে টরন্টোর অভিজাত ব্রাইডল পাথ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলায় একই পরিবারের চারজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুজনের আঘাত গুরুতর এবং দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক জটিলতার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিউইয়র্ক পোস্ট ও কানাডার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার শিকার ডেভিড মর্টন টরন্টোভিত্তিক ম্যাক গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। ৭৫ বছর বয়সী এই ব্যবসায়ী তাঁর স্ত্রী ডোরিয়ানা জোহিল মর্টন এবং দুই মেয়ে ম্যাগি ও ক্রিস্টিনা জোহিল মর্টনকে নিয়ে বাড়িটিতে বসবাস করেন। ম্যাক গ্রুপ মূলত রিয়েল এস্টেট, হসপিটালিটি ও করপোরেট হাউজিং খাতে ব্যবসা পরিচালনা করে। টরন্টোর অন্যতম ব্যয়বহুল আবাসিক এলাকায় তাঁদের বাড়িটি অবস্থিত। টরন্টো পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় ভোর ৩টা ৪৩ মিনিটের দিকে হাইড পার্ক সার্কেলের একটি বাড়িতে গোলাগুলির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তিনজন মুখোশধারী ব্যক্তি বাড়ির পেছনের দরজা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। তাদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র ও একটি হাতুড়ি ছিল। বাড়িতে ঢোকার পর তারা পরিবারের সদস্যদের মুখোমুখি হয় এবং মূল্যবান জিনিসপত্র দাবি করে। পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর ক্রিস্টি স্মিথ জানান, দুর্বৃত্তদের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের একপর্যায়ে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এ সময় হামলাকারীরা একাধিকবার গুলি চালায়। এতে ডেভিড মর্টন ও তাঁর দুই মেয়ে গুলিবিদ্ধ হন। অন্যদিকে তাঁর স্ত্রী ডোরিয়ানাকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়। ঘটনার সময় পরিবারের চার সদস্যই বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন। সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ডেভিড মর্টন ও তাঁর এক মেয়ের পায়ে গুলি লাগে। অপর মেয়ে বাহুর নিচের অংশে গুলিবিদ্ধ হন। হামলায় আহত চারজনকেই হাসপাতালে নেওয়া হয়। পুলিশ প্রথমে দুজনের আঘাত প্রাণঘাতী বলে জানালেও পরবর্তী আপডেটে তাঁদের আঘাত দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে উল্লেখ করে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে কোন দুজনের অবস্থা বেশি গুরুতর, সে বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানায়নি। হামলার পর তিন দুর্বৃত্ত একটি এসইউভি গাড়িতে করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পুলিশ এখনো তাদের পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি। হামলাকারীদের শারীরিক বর্ণনাও প্রকাশ করা হয়নি। বাড়ি থেকে কোনো অর্থ, গয়না কিংবা অন্য মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যাওয়া হয়েছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করতে পারেননি তদন্তকারীরা। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে ডাকাতির উদ্দেশ্যে বাড়িতে হামলা হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। তবে ডেভিড মর্টন কিংবা তাঁর পরিবারকে পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল, এমন কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য জানতে বাড়ির আশপাশের সিকিউরিটি ক্যামেরার ফুটেজ এবং অন্যান্য আলামত পরীক্ষা করা হচ্ছে। ঘটনার পর আশপাশের বাসিন্দাদের কাছেও তথ্য চেয়েছে পুলিশ। বিশেষ করে বাড়ির সিকিউরিটি ক্যামেরা, ডোরবেল ক্যামেরা কিংবা গাড়ির ড্যাশক্যামে সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তি বা গাড়ির ছবি ধরা পড়ে থাকলে তা তদন্তকারীদের কাছে জমা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ তদন্ত দল কাজ করছে। ব্রাইডল পাথ কানাডার অন্যতম ধনী ও অভিজাত আবাসিক এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানকার বড় বড় বাড়ির অনেকগুলোই উঁচু দেয়াল, নিরাপত্তাবেষ্টনী ও ব্যক্তিগত সিকিউরিটি ব্যবস্থার মধ্যে অবস্থিত। এমন একটি এলাকায় সশস্ত্র হামলার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। টরন্টো পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে শহরটিতে অন্তত ১১৯টি বাড়িতে অনুপ্রবেশ ও ডাকাতির ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৫ শতাংশের বেশি। বিশেষ করে দামি গাড়ি ও মূল্যবান সম্পদের সন্ধানে আবাসিক বাড়িতে অপরাধীদের প্রবেশের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। টরন্টোর মেয়র অলিভিয়া চাও এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, এমন সহিংসতা শুধু আক্রান্ত পরিবার নয়, পুরো এলাকার মানুষের নিরাপত্তাবোধকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। নিজ বাড়িতে নিরাপদে থাকার অধিকার প্রত্যেক মানুষের রয়েছে। হামলার পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি ও নজরদারি বাড়ানোর কথা জানানো হয়েছে। পুলিশের ইন্সপেক্টর ক্রিস্টি স্মিথও বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে তদন্তে সহায়তা করতে প্রত্যক্ষদর্শী ও আশপাশের বাসিন্দাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তারের ঘোষণা দেওয়া হয়নি। হামলার উদ্দেশ্য, দুর্বৃত্তদের পরিচয় এবং পরিবারের কোনো সদস্যকে আগে থেকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল কি না, এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। আহত পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসার পাশাপাশি পুরো ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
স্ত্রীকে হারানোর শোক ভুলতে পারেননি, কবর থেকে দেহাবশেষ এনে তৈরি করলেন জীবনাকৃতির অবয়ব
সৌদি আরবে ন্যূনতম বেতনের নতুন ঘোষণা, সর্বোচ্চ ৬ হাজার রিয়াল