পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তারেক রহমান। শনিবার (২১ মার্চ) রাজধানীর সরকারি বাসভবন যমুনা-য় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই ঈদে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি—আমরা যেন জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি।” তিনি আরও বলেন, জনগণ যে ধরনের দেশ দেখতে চায়, সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক সময়ের শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একইসঙ্গে প্রত্যাশিত দেশ গড়তে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রীর মতে, জাতীয় অগ্রগতি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য। তিনি দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
বাংলাদেশ পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, সবুজ অর্থনীতি এবং আত্মনির্ভরশীল শক্তি ব্যবস্থার দিকে ধীরে ধীরে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে ‘নবায়নযোগ্য সৌরবিদ্যুৎ অন-গ্রিড রুফটপ’ প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধে জাতীয় সংসদ ভবনের এক মেগাওয়াট রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার উদ্বোধন করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, বীর বিক্রম। এতে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এই উদ্যোগ কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্প নয়, এটি বাংলাদেশের টেকসই ভবিষ্যতের একটি প্রতীক। তিনি উল্লেখ করেন, সংসদ ভবনের ছাদে সৌরশক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে একটি বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, নেতৃত্ব শুধু নীতিতে নয়, বাস্তব কর্মকাণ্ডেও প্রতিফলিত হতে হবে। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি সম্প্রসারিত হচ্ছে, শিল্পায়ন বাড়ছে এবং বিদ্যুতের চাহিদাও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বর্ষণ, ঘূর্ণিঝড় ও নদীভাঙনের মতো প্রাকৃতিক ঝুঁকি দেশের বাস্তবতা। তাই টেকসই জ্বালানির দিকে অগ্রসর হওয়া এখন অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, বাংলাদেশে সৌরশক্তির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের ছাদ, শিল্পাঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি উপস্থিত ছিলেন।
প্রবাসীদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা সংবলিত ‘প্রবাসী কার্ড’ আগামী দুই মাসের মধ্যে চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। একই সঙ্গে প্রবাসীদের জন্য আধুনিক অ্যাপার্টমেন্টভিত্তিক আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। আজ শনিবার (১৬ মে) সিলেটের গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে অনুষ্ঠিত ‘গ্লোবালাইজিং সিলেট’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, প্রবাসীদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে আগামী দুই মাসের মধ্যে বিশেষ সুবিধাসম্পন্ন ‘প্রবাসী কার্ড’ প্রদান করা হবে। প্রবাসীদের রেমিট্যান্স ও বিনিয়োগ দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে, তাই তাদের জন্য নিরাপদ বিনিয়োগ ও আবাসনের সুযোগ তৈরি করা সরকারের অগ্রাধিকার। তিনি জানান, দেশে জমির সংকট বাড়তে থাকায় ভবিষ্যতে প্লটভিত্তিক প্রকল্পের পরিবর্তে অ্যাপার্টমেন্টভিত্তিক আধুনিক আবাসন গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব আবাসনে উন্নত সব নাগরিক সুবিধা থাকবে এবং এগুলো শুধু প্রবাসীরাই বরাদ্দ পাবেন। সিলেট থেকেই এই প্রকল্পের যাত্রা শুরু হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। মন্ত্রী আরও বলেন, প্রবাসীদের নতুন প্রজন্মকে দেশের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত প্রয়োজন। এতে তারা দেশে বিনিয়োগে আগ্রহী হবে এবং পারিবারিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধন আরও শক্তিশালী হবে। সেমিনারে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আধুনিকায়ন নিয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি জানান, বিমানবন্দরে প্রবাসীদের ভোগান্তি কমাতে পৃথক লাউঞ্জ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ইমিগ্রেশন এলাকায় জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে মেডিকেল ইউনিট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ প্রবাসীদের দ্রুত হাসপাতালে নিতে বিমানবন্দরে সার্বক্ষণিক বা স্থায়ী অ্যাম্বুলেন্স রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে। এ ছাড়া বিদেশে কোনো প্রবাসী মারা গেলে তাঁর মরদেহ সম্পূর্ণ বিনা খরচে দেশে এনে বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা সরকার চালু করেছে বলে জানান তিনি। অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরীসহ বিভিন্ন সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, প্রবাসী প্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
২৫ বৈশাখ (৮ মে শুক্রবার বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী। এ উপলক্ষে নতুন সাজে সাজানো হচ্ছে বিশ্বকবির স্মৃতিধন্য খুলনার ফুলতলা উপজেলার দক্ষিণডিহি রবীন্দ্র কমপ্লেক্স এবং রূপসা উপজেলার পিঠাভোগ গ্রামে রবীন্দ্র স্মৃতি সংগ্রহশালা। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তিনদিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজনের প্রতিপাদ্য ‘শান্তি ওমানবতার কবি রবীন্দ্রনাথ’। রবী ঠাকুরের জন্মজয়ন্তীকে স্মরণীয় করতে আয়োজন করা হচ্ছে তিনদিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা। থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানওলোকজ মেলা।যা শুরু হবে আগামী৮মে শুক্রবার। ফলে পিঠাভোগ ও দক্ষিণডিহিতে উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে। প্রতি বছরের মত অপেক্ষায় থাকা রবীন্দ্রভক্তদের পাশাপাশি উল্লেখিত দু’টি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। গত মঙ্গলবার সরেজমিনে পিঠাভোগে গিয়ে রবী ঠাকুরের জন্মজয়ন্তীর নানা আয়োজন চোখে পড়ে। এখানে উন্মুক্ত মঞ্চ রয়েছে। রয়েছে রবী ঠাকুরের আবক্ষ মূর্তি। একতলাবিশিষ্ট সংগ্রহশালা ভবনে পাঠকক্ষও আছে। রবী ঠাকুরের ছবি, বংশ তালিকা রয়েছে। বাইরে রবী ঠাকুরের বংশ তালিকা আছে। সেখানে দেখা যায়,কুশরী থেকে কলকাতার পরিবার ঠাকুর পদবি পেয়েছেন। এখানে কবির বর্তমান বংশধররা ‘কুশরী’ উপাধি নিয়ে আছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর রবীন্দ্রজয়ন্তীতে শান্তি নিকেতনের আদলে এখানেও আলপনা আঁকা হয়।রবীন্দ্র বিষয়ে আলোচনা, রবীন্দ্রনাথের সমাজ চিন্তা, কৃষি ভাবনা, গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন সম্পর্কিত বিষয়ভিত্তিক আলোচনাও অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া রবীন্দ্র প্রবন্ধ, রবীন্দ্র কবিতা,নৃত্য এবং নাটকের আয়োজন করা হয়। গ্রামীণ মেলা হয়।দূর দুরান্ত থেকে আসা বহু লোকের সমাগম হয় এখানে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পূর্ব পুরুষের আবাসভূমি রূপসার পিঠাভোগ এবং ফুলতলার দক্ষিণডিহিতে কবির শ্বশুরালয় হওয়ায়এঅঞ্চলের মানুষ গর্ববোধ করেন। খুলনা জেলা প্রশাসনের সূত্রে জানা গেছে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বংশধরের মধ্যে দ্বীননাথ কুশারীর অষ্টম পুরুষ তারানাথ কুশারী তৎকালীন খুলনার ভৈরব-তীরবর্তী রূপসা উপজেলার ঘাটভোগ ইউনিয়নের পিঠাভোগ গ্রামে বসতি স্থাপন করেন।তারানাথ কুশারীর দুই পুত্র রামগোপালও রামনাথ। রামগোপালের পুত্র জগন্নাথ কুশারীই ছিলেন ঠাকুর বংশের আদি পুরুষ। যিনি খুলনা জেলার ফুলতলার দক্ষিণডিহি নিবাসী শুকদেব রায় চৌধুরীর এক কন্যাকে বিয়ে করে পীরালি ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ভুক্ত হন। জগন্নাথ কুশারীর পরবর্তী বংশধর পঞ্চানন কুশারী। পারিবারিক মত-পার্থক্যের কারণে পঞ্চানন কুশারী খ্রিষ্টীয় সপ্তদশ শতাব্দীর শেষভাগে কলকাতা গ্রামের (কলকাতা ছিল একটি গ্রামের নাম) দক্ষিণে আদি গঙ্গার তীরে গোবিন্দপুরে বসতি স্থাপন করেন।যেহেতু তাঁরা ব্রাহ্মণ ছিলেন তাই জেল, মালো, কৈবর্ত প্রভৃতি নিম্নবর্ণের প্রতিবেশীরা তাঁদের ‘ঠাকুরমশাই’ বলে সম্বোধন করতেন। এভাবেই মহেশ্বরের পুত্র পঞ্চানন ‘কুশারী’ একসময় হয়ে যান জয়রাম ঠাকুর। পঞ্চানন থেকেই কলকাতার পাথুরিয়াঘাটা, জোড়াসাঁকোও কয়লাঘাটার ঠাকুর গোষ্ঠীর উৎপত্তি। পঞ্চানন ঠাকুরের অধস্তন সপ্তম পুরুষ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। নতুন সাজে সাজানো হচ্ছে পিঠাভোগ গ্রামে রবীন্দ্র স্মৃতি। অপরদিকে মহেশ্বর কুশারীর অপর সন্তান প্রিয়নাথ কুশারী পিঠাভোগ গ্রামে থেকে যান।যার সপ্তদশওঅষ্টাদশ বংশধর এখনো পিঠাভোগ গ্রামে বসবাস করছেন। সূত্র জানায়, রূপসার পিঠাভোগ গ্রামে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পূর্ব পুরুষের আবাসভূমিটি দীর্ঘ বছর পরিত্যক্ত ও অবৈধ দখলে চলে যায়। পরবর্তীতে ১৯৯৫ সালে সরকার আদি বাড়িটি উদ্ধার করে। ২০১১-১২ অর্থবছরে সাতটি বর্গে পরীক্ষামূলক প্রত্নতাত্ত্বিক খননকাজ পরিচালনা করা হয়।বর্তমানে এটি রবীন্দ্র স্মৃতি সংগ্রহশালা নামে জাতীয় প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। রবীন্দ্রনাথের পূর্ব পুরুষের বংশ লতিকার ২৪ নং বংশধরওরূপসা উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক রবীন্দ্রনাথের বাড়ি দেখ-ভালের দায়িত্বরত বরুন কুশারী বাসস’কে বলেন, বাংলাদেশের সেরা মেলা হয় রূপসার ঘাটভোগ ইউনিয়নের পিঠাভোগ রবী ঠাকুরের বসতভিটায়। প্রচুর লোক সমাগম হয়। কুঠিবাড়িতেও এমন লোকের সমাগম হয় না। এখানে রবী ঠাকুরের বই বিক্রি থেকে শুরু করে মনোহরী দোকানপাটসহ নানা পদের খাবারও বিক্রি হয়। রূপসার ঘাটভোগ এলাকার পিঠাভোগের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫তম পুরুষের পুত্রবধূ ছায়ারাণী বাসস’কে বলেন, রবী ঠাকুরেরএ ভিটায় প্রতিবছর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।অনুষ্ঠানে স্কুল,কলেজের ছেলে-মেয়েসহ বিভিন্ন জায়গার লোকজন আসে। বহু লোকের সমাগম হয়।দোকান বসে। দোকানীরা পাপড়, চা-পান আবার কেউ সাজ-সজ্জার পসরা সাজায়। এছাড়া এলাকার বধুরা লাল পাইড়ের হলুদ শাড়ি পড়ে সাজ-সজ্জা করে।রবী ঠাকুরের বসতভিটা রূপসায় হওয়ায় আমরা গর্বিত, বলেন তিনি। রূপসা এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হালিম বাসস’কে বলেন,এধরনের অনুষ্ঠান মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ায় এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণও আলোচনার মাধ্যমে সমাজকে সমৃদ্ধ করে। তিনি আরও বলেন,নোবেল বিজয়ী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা ভাষাও সাহিত্যকে আন্তর্জাতিক মর্যাদায় উন্নীত করেছেন এবং তাঁর পূর্ব পুরুষের ভিটা ঘাটভোগ ইউনিয়নের পিঠাভোগে অবস্থিত হওয়ায় রূপসাবাসীর জন্য গর্বের। রূপসার নৈহাটী নেহালপুর এলাকার বাসিন্দা সুখেন রায় বলেন, প্রতিবারের ন্যায় এবারও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের১৬৫তম জন্মজয়ন্তীর তিনদিনব্যাপী জাতীয় অনুষ্ঠান শুরু হবে আগামী ৮ মে শুক্রবার। ২০১৫সাল থেকে এ জাতীয় অনুষ্ঠান হয়। অপরদিকে, খুলনা শহর থেকে প্রায়২৮ কিলোমিটার পশ্চিমে ফুলতলা উপজেলার অন্তর্গত দক্ষিণডিহি গ্রামে বেণীমাধব রায় চৌধুরীর আদি বাড়ি।কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই রায় পরিবারের জামাতা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্বশুর ছিলেন জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের জমিদারি এস্টেটের বেতনভুক্ত কর্মচারী। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মামার বাড়িও একই গ্রামে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতা মহর্ষী দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর বিয়ে করেন দক্ষিণডিহির অধিবাসী রামনারায়ণ রায় চৌধুরীর কন্যা সারদা দেবীকে, যেটা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্বশুরবাড়ি থেকে মাত্র আধা কিলোমিটার দূরে।মামার বাড়ি ওতাঁর শ্বশুর ঠাকুর বাড়ির কর্মচারীর সুবাদে মৃণালিনী দেবীর সঙ্গে পরিচয় ঘটে। উল্লেখ্য, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আগের পাঁচ পুরুষও এই গ্রামে বিয়ে করেন।কারন, এলাকাতেই তখন ঠাকুর পরিবারের সমগোত্র পীরালি ব্রাহ্মণদের বসবাস ছিল। ১৮৮৩ সালে বেণীমাধব রায় চৌধুরীওদাক্ষায়নী দেবীর একমাত্র কন্যা ভবতারিণী দেবী ওরফে ফুলি ওরফে ফেলির সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিয়ে হয়।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মামা নিরাঞ্জন রায় চৌধুরীওহিরণ্ময় রায় চৌধুরীর মাধ্যমে কন্যাহ্বানে জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে তাঁদের বিয়ে হয়। ঠাকুর বাড়ির প্রথানুযায়ী বিয়ের পর ভবতারিণী দেবীর নাম রাখা হয় মৃণালিনী দেবী।বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী দক্ষিণডিহি এবং পিঠাভোগে আলাদা আলাদা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই সকল প্রস্তুতিও সম্পন্ন করা হয়েছে।