পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ ভারত থেকে জ্বালানি আমদানির বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল এবং এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
তিনি আরও বলেন, ভারতে গ্রেফতার হওয়া শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামি ফয়সাল করিম ও আলমগীর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এখনো বাংলাদেশ কনস্যুলার অ্যাক্সেস পায়নি। তবে শিগগিরই এ বিষয়ে অগ্রগতি হবে বলে আশা করছে সরকার। তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার প্রক্রিয়ার আওতায় আনা সরকারের অগ্রাধিকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এছাড়া, ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অন্যান্যদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশের হাইকমিশনারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে সেখানে থাকা বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশটির সব কূটনৈতিক মিশন সার্বক্ষণিক কাজ করছে বলেও জানান তিনি। ইরানে অবস্থানরত দুই হাজারের বেশি বাংলাদেশি বর্তমানে নিরাপদ আছেন, তবে কেউ দেশে ফিরতে চাইলে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
ব্রিফিংয়ে তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে আসা ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে অন অ্যারাইভাল ভিসা চালুর অনুরোধ জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসেফ এস ওয়াই রামাদান। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ অনুরোধ জানান। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বৈঠকের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়। রাষ্ট্রদূত ইউসেফ এস ওয়াই রামাদান বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন। তাদের বাংলাদেশে আসার ক্ষেত্রে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করতে অন অ্যারাইভাল ভিসার ব্যবস্থা চালু করা হলে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার জন্য তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন। বৈঠকেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তিনি রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানোর অনুরোধ জানান, যাতে বিষয়টি নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরবর্তী প্রক্রিয়ায় এগিয়ে নেওয়া যায়। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ ও ফিলিস্তিনের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা ইস্যু সহজীকরণ এবং দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয় গুরুত্ব পায়। বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবির প্রতি বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে নীতিগত ও ঐতিহাসিকভাবে সমর্থন জানিয়ে আসছে। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আন্তর্জাতিক পরিসরে ফিলিস্তিনের পক্ষে জনমত গঠন ও কূটনৈতিক সমর্থন আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। ফিলিস্তিনের প্রতি বাংলাদেশের এই নৈতিক ও রাজনৈতিক সমর্থন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশকে নিয়ে অপপ্রচারের বিষয়ও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি প্রগতিশীল ও উদারপন্থী মুসলিম রাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেকোনো ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারণা বা অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, সাইবার অপরাধ ও অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা হবে। বাংলাদেশ ও ফিলিস্তিনের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে এসেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিবছর ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, ভিসা প্রক্রিয়া সহজ হলে দুই দেশের শিক্ষা সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হতে পারে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম চীন সফরকে ঘিরে দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখছে ভারতীয় গণমাধ্যম। বিশেষ করে মোংলা বন্দরের অর্থনৈতিক অঞ্চল, তিস্তা নদী প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততা এবং সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে নয়াদিল্লিতে বাড়ছে উদ্বেগ। ভারতের প্রভাবশালী দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাগেরহাটের মোংলা বন্দরের পাশে ১১০ একর জমিতে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলতে বাংলাদেশ ও চীন চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই জমি আগে ভারতের জন্য বরাদ্দ ছিল। তবে ২০২৫ সালে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার সেই বরাদ্দ বাতিল করে দেয়। এর ফলে মোংলাকে ঘিরে চীনের বিনিয়োগ বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগর অঞ্চলে বেইজিংয়ের কৌশলগত উপস্থিতি আরও জোরদার করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইন্ডিয়া টুডে এ বিষয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছে—ভারতের কি উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত? তাদের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এটি কেবল একটি অর্থনৈতিক প্রকল্প হারানোর বিষয় নয়, বরং ভারতের পূর্ব উপকূলের কাছাকাছি চীনের দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতির পথ খুলে দিতে পারে। এদিকে তিস্তা নদী প্রকল্পও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। চীন সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তিস্তা নদীর ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে চীনের সহায়তা চান। দ্য হিন্দু জানিয়েছে, তিস্তা নিয়ে ভারত-বাংলাদেশের বিরোধ দীর্ঘদিনের। শেখ হাসিনা সরকার ভারতের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করলেও বর্তমান সরকার অপেক্ষা না করে নিজস্ব পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে চায়। দ্য প্রিন্টের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, তিস্তা প্রকল্প ভারতের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর। কারণ এই নদী সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে এবং এর অবস্থান শিলিগুড়ি করিডোরের খুব কাছাকাছি—যা ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত। এই করিডোর ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের একমাত্র স্থল সংযোগ হওয়ায় সেখানে চীনের যেকোনো সম্পৃক্ততা নয়াদিল্লির জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। চীন সফরে দুই দেশের মধ্যে মোট ১৩টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি ও ইন্ডিয়া টুডে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও নদী ব্যবস্থাপনা—বিভিন্ন খাতে এসব চুক্তি হয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম ও মোংলায় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছায় দুই দেশ। এছাড়া চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর নিয়েও আলোচনা হয়েছে, যা আগের বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার (বিসিআইএম) করিডোরের একটি বিকল্প রূপ হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে ভারতীয় গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়েও নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ২৪টি চীনা জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা করছে। বাস্তবায়িত হলে পাকিস্তানের পর বাংলাদেশ হবে এই মডেলের দ্বিতীয় বিদেশি ব্যবহারকারী। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে ‘টু প্লাস টু’ সংলাপ চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে, যার মাধ্যমে পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা খাতে নিয়মিত যোগাযোগ জোরদার হতে পারে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বৈঠকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করেছেন। ভারতীয় গণমাধ্যম এই বক্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরেছে। আউটলুক ম্যাগাজিনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ভারতের উদ্বেগ মূলত অর্থনৈতিক নয়; বরং ভূগোল ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত। মোংলা বন্দর, তিস্তা প্রকল্প এবং সম্ভাব্য লালমনিরহাট বিমানঘাঁটিতে চীনের সম্পৃক্ততা ভারতের জন্য নতুন কৌশলগত বাস্তবতা তৈরি করতে পারে। তবে ভারতও কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে। ঢাকায় নিযুক্ত নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী পর্যটক ভিসা পুনরায় চালুর ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি নিরাপত্তা ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ এখন একটি ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে। একদিকে চীনের অর্থনৈতিক সহায়তা গ্রহণ, অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক সম্পর্ক বজায় রাখা—এই দ্বিমুখী কৌশলই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। সব মিলিয়ে, ভারতীয় গণমাধ্যমে তারেক রহমানের এই সফরকে কেবল দ্বিপাক্ষিক সফর হিসেবে নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে সম্ভাব্য বড় পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার (২৬ জুন) বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক গ্রেট হল অব দ্য পিপলে বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে আটটায় এ বৈঠক শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ের একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, আসন্ন বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরবেন। মাহদী আমিন জানান, বৈঠক শেষে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে অন্তত ১৫টি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা রয়েছে। এসব চুক্তি অবকাঠামো উন্নয়ন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ উন্নয়নসহ নানা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, এসব সমঝোতা চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং পারস্পরিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে।’ সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, সফরসূচির অংশ হিসেবে চীনের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদলের সম্মানে একটি রাষ্ট্রীয় ভোজের আয়োজন করবেন। উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, ‘উভয় দেশের শীর্ষ পর্যায়ের এই বৈঠকগুলোতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের জনগণের উন্নয়ন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন।’ কূটনৈতিক মহল মনে করছে, এই সফর দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে আরও গভীর করবে। বিশেষ করে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতেও সহযোগিতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখ্য, চীন দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি, যোগাযোগসহ বিভিন্ন খাতে দুই দেশের যৌথ উদ্যোগ ইতোমধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি এনেছে। আসন্ন এই বৈঠক সেই সহযোগিতাকে আরও বিস্তৃত করার পথ সুগম করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।