বিশ্ব

মধ্যপ্রাচ্যে সেনা ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করছে যুক্তরাষ্ট্র

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
অপারেশন এপিক ফিউরিতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের ডেকে একটি এফ/এ-১৮ই সুপার হর্নেট যুদ্ধবিমানকে নির্দেশনা দিচ্ছেন মার্কিন নৌবাহিনীর একজন নাবিক। ছবি: সংগৃহীত
অপারেশন এপিক ফিউরিতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের ডেকে একটি এফ/এ-১৮ই সুপার হর্নেট যুদ্ধবিমানকে নির্দেশনা দিচ্ছেন মার্কিন নৌবাহিনীর একজন নাবিক। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে উভচর যুদ্ধজাহাজ ও অতিরিক্ত কয়েক হাজার সেনা মোতায়েন করতে যাচ্ছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তিনজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তা, বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে শুক্রবার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী।

 

কর্মকর্তারা জানান, ইরানে সরাসরি সেনা পাঠানোর বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য অভিযানের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এই অঞ্চলে নতুন সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের উভচর নৌবহর ‘ইউএসএস বক্সার’ ও সঙ্গে থাকা মেরিন এক্সপিডিশনারি ইউনিটকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে। এই সময় খবরটি প্রকাশ্যে আসে যখন মার্কিন প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে তাদের অভিযান জোরদার করার জন্য অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, “আমি কোথাও কোনো সেনা পাঠাচ্ছি না। তবে পাঠালে, তা আমি সাংবাদিকদের জানাব না।”

 

সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নতুন সেনাদের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব এখনও স্পষ্ট নয়। একজন কর্মকর্তা জানান, তারা পূর্বনির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূল থেকে রওনা হয়েছেন।

 

এই মোতায়েন মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে থাকা ৫০ হাজার মার্কিন সেনার সঙ্গে যুক্ত হবে। ফলে মেরিন এক্সপিডিশনারি ইউনিটের সংখ্যা দাঁড়াবে দুইটি, যেখানে সাধারণত প্রতিটি ইউনিটে আড়াই হাজার সেনা থাকেন, যারা জাহাজ থেকে বিমান হামলা চালানো বা স্থলভাগে অভিযানে সক্ষম।

 

রয়টার্সের আগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের উপকূলে সেনা মোতায়েনের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা ও খারগ দ্বীপে মার্কিন উপস্থিতি বাড়ানোর কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। খারগ দ্বীপ থেকে ইরানের মোট রপ্তানি তেলের ৯০ শতাংশ প্রক্রিয়াজাত হয়।

 

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে সেনা পাঠানো ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, কারণ সাধারণ মার্কিন জনগণের মধ্যে সমর্থন খুবই কম। চলমান রয়টার্স/ইপসোস জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৬৫ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, ট্রাম্প ইরানে স্থলযুদ্ধের নির্দেশ দিতে পারেন, কিন্তু কেবল ৭ শতাংশই এ ধরনের সিদ্ধান্ত সমর্থন করছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Advertisement

বিশ্ব

View more
অস্ট্রিয়ার ইরান দূতাবাস। ছবি: সংগৃহীত
ইইউ প্রধানকে ‘ভণ্ড’ বলল অস্ট্রিয়ায় ইরান দূতাবাস

অস্ট্রিয়ায় অবস্থিত ইরানের দূতাবাস ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাসের সাম্প্রতিক বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছে এবং তার অবস্থানকে ‘ভণ্ডামিপূর্ণ’ বলে আখ্যা দিয়েছে।   হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে কালাসের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তেহরানের পক্ষ থেকে এই বক্তব্য আসে। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে আলোচনার সময় কালাস ওই প্রণালিতে অবাধ ও নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন এবং এ ক্ষেত্রে বিঘ্ন সৃষ্টির জন্য ইরানকে দায়ী করেন।   এর জবাবে ইরান দূতাবাস জানায়, ইইউ প্রধান ইরানের ‘আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ’ সমালোচনা করলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কথিত আগ্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ে নীরব রয়েছেন। দূতাবাসের দাবি, এই অবস্থান দ্বৈত মানদণ্ডেরই পরিচয় বহন করে।   আইনি বিষয়েও কালাসের বক্তব্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে তেহরান। দূতাবাস উল্লেখ করে, তিনি ইরানকে জাতিসংঘের সমুদ্র আইন বিষয়ক কনভেনশন মেনে চলার আহ্বান জানালেও দেশটি সেই চুক্তির সদস্য নয়।   এছাড়া কালাসের উপদেষ্টাদের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করা হয়েছে। দূতাবাসের মতে, সঠিক তথ্য ও পরামর্শের অভাবেই এমন বক্তব্য এসেছে। একই সঙ্গে ইরান দাবি করেছে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি মেনে চললেও তাদের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলো বারবার হামলার শিকার হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের ইঙ্গিত দেয়।   সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দৃষ্টিভঙ্গিকে একপাক্ষিক বলে অভিযোগ তুলেছে তেহরান।   সূত্র: আলজাজিরা।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0
গাজার জন্য গঠিত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের 'বোর্ড অব পিসে' সম্প্রতি যোগ দিয়েছে পাকিস্তান

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির দূতের ভূমিকায় পাকিস্তান, ভারত কি কোণঠাসা হচ্ছে?

ছবি: সংগৃহীত।

নিখোঁজ ক্রুকে ধরিয়ে দিলে ৬০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা ইরানের

ছবি: সংগৃহীত।

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের আঁচ, ভয়াবহ সংকটে ভারতের কনডম বাজার

ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ভারতে কনডম সংকট, দাম বাড়তে পারে ৫০%

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাব এবার সরাসরি পড়েছে ভারত-এর কনডম বাজারে। সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন, কাঁচামালের ঘাটতি এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে দেশটিতে কনডম সংকট তৈরি হয়েছে, যার ফলে খুচরা পর্যায়ে দাম প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।   খাত–সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি চাহিদা বৃদ্ধির কারণে নয়; বরং সমুদ্রপথে বাণিজ্য ব্যাহত হওয়া, পেট্রোকেমিক্যাল সরবরাহ কমে যাওয়া এবং উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় লুব্রিকেন্টের ঘাটতির সরাসরি ফল। বিশেষ করে সিলিকন তেল, যা কনডম উৎপাদনে অপরিহার্য, বর্তমানে সংকটে রয়েছে। পাশাপাশি কাঁচা ল্যাটেক্স সংরক্ষণে ব্যবহৃত অ্যামোনিয়ার দাম ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।   ভারতে প্রতিবছর ৪০০ কোটির বেশি কনডম উৎপাদিত হয়। এই খাতে HLL Lifecare Limited, Mankind Pharma এবং Cupid Limited-এর মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো সরবরাহ সংকটে পড়েছে। এর মধ্যে শুধু HLL Lifecare-ই বছরে প্রায় ২২১ কোটি কনডম উৎপাদন করে।   উৎপাদকদের মতে, পিভিসি ফয়েল, অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলসহ প্যাকেজিং উপকরণের দাম ও সরবরাহে অস্থিরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এর সঙ্গে পরিবহন ব্যবস্থার বিঘ্ন উৎপাদন ও সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।   বর্তমানে ভারতের কনডম বাজার মূলত উচ্চ উৎপাদন ও কম মুনাফার ওপর নির্ভরশীল, যাতে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জন্য এটি সাশ্রয়ী রাখা যায়। তবে চলমান সংকটে এই মডেলটি বড় চাপে পড়েছে। গত মার্চে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে জানানো হয়, জ্বালানি চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে দেশীয় পেট্রোকেমিক্যাল সরবরাহ ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হতে পারে, যা কাঁচামালের সংকট আরও বাড়াবে।   বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই সংকটের গুরুতর জনস্বাস্থ্যগত প্রভাব থাকতে পারে। পরিবার পরিকল্পনা ও যৌনবাহিত সংক্রমণ প্রতিরোধে কনডম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর ব্যবহার কমে গেলে দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে। ইতোমধ্যে বড় শহরগুলোতে এর প্রাথমিক প্রভাব দেখা যাচ্ছে। মুম্বাই ও দিল্লি-এর বিভিন্ন ওষুধের দোকানে কনডম সরবরাহে অনিয়মিততা লক্ষ্য করা গেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানে ভারি বৃষ্টিপাতে ২৫ জনের মৃত্যু, বিপর্যস্ত উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল

ছবি: সংগৃহীত

আদালতের যুগান্তকারী রায়: ফ্রান্সে মুসলিম মহাসমাবেশের ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাতিল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

প্রতিরক্ষায় বিপুল বরাদ্দ, জনকল্যাণে ছাঁটাই: ট্রাম্পের নতুন বাজেট প্রস্তাব ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে তোলপাড়

ছবি: সংগৃহীত
মহাকাশ থেকে আর্তেমিস ২-এর ক্যামেরায় ধরা পড়ল নীল গ্রহের অসামান্য দৃশ্য

দীর্ঘ ৫০ বছরের অপেক্ষা শেষে নাসা যখন আবারও মানুষকে চাঁদের কাছাকাছি নিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই অরিওন ক্যাপসুল থেকে পাঠানো পৃথিবীর কিছু মনোমুগ্ধকর ছবি বিশ্ববাসীকে নতুন করে শিহরিত করে তুলেছে। মহাকাশের নিকষ কালো অন্ধকারের বুকে আমাদের চিরচেনা নীল গ্রহের এই অপরূপ উজ্জ্বলতা যেন এক অলৌকিক ক্যানভাস। মহাকাশযানটির জানালা দিয়ে তোলা হাই-রেজোলিউশনের ছবিগুলোতে প্রশান্ত মহাসাগর এবং মেঘমালার নীল-সাদা ঘূর্ণন স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। মহাকাশচারীরা যখন এই দৃশ্য দেখছিলেন, তখন হয়তো কয়েক দিন আগেই ছেড়ে আসা নিজ গ্রহের জন্য তাঁদের মনে বিষণ্ণতা আর শিহরণ একসাথে খেলা করছিল। এই ছবিগুলো কেবল ইতিহাসের অংশই নয়, বরং গোটা বিশ্বের জন্য চন্দ্রাভিযানের এক জীবন্ত দলিলে পরিণত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ভোরে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে ওরিয়ন ক্যাপসুল নিয়ে চাঁদের উদ্দেশে পাড়ি দেয় দানবীয় রকেটটি। নাসা ও সিএসএ-র এই অভিযানে রয়েছেন রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কচ এবং জেরেমি হ্যানসেন। আগামী ১০ দিন ধরে মহাকাশযানটি প্রায় ৯৬০০ কিলোমিটার বেগে চাঁদকে প্রদক্ষিণ করবে এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাবে। যদিও এই অভিযানে চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণের পরিকল্পনা নেই, তবে এটি সফল হলে পরবর্তী 'আর্তেমিস ৩' অভিযানে মানুষ আবারও চাঁদের মাটিতে পা রাখবে। তবে এই যুগান্তকারী সাফল্য সত্ত্বেও মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে উৎসাহের ঘাটতি লক্ষ করা যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে অর্থনৈতিক সংকট এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার মতো দৈনন্দিন সমস্যাগুলো সাধারণ মানুষের কাছে মহাকাশ বিজ্ঞানের চেয়েও বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। তবুও বিজ্ঞানের জয়যাত্রায় আর্তেমিস ২-এর পাঠানো এই ছবিগুলো মানবজাতির জন্য এক অনন্য পাওনা।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

সাহারা থেকে ধেয়ে আসা লাল ধূলিঝড়ে লণ্ডভণ্ড গ্রিস; এবার অভিমুখ উত্তর আফ্রিকা!

ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধ থামাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ইরানের ৪ শর্ত!

ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘে চীন-রাশিয়া-ফ্রান্সের ভেটো; ইরান আক্রমণের ছক ভেস্তে গেল!

0 Comments