ইউক্রেন

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে বেইজিংয়ে বৈঠকে মিলিত হলেন ভ্লাদিমির পুতিন ও শি জিনপিং | ছবি: ম্যাক্সিম শেমেটভ/রয়টার্স
শীর্ষ পর্যায়ে অনুমোদন নিয়ে চীনে রাশিয়ার গোপন সামরিক প্রশিক্ষণ, রয়টার্সের চাঞ্চল্যকর তথ্য

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝেই চীনের মাটিতে রুশ বাহিনীকে অত্যন্ত গোপন সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার একটি চুক্তিকে রাশিয়ার শীর্ষ পর্যায় থেকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। গত বছর অনুষ্ঠিত হওয়া এই বিশেষ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে রাশিয়া ও চীনের অন্তত চারজন জেনারেল সরাসরি যুক্ত ছিলেন। ইউরোপীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও রয়টার্সের হাতে আসা কিছু অত্যন্ত সংবেদনশীল সামরিক নথির বরাতে ১ জুলাই এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।     রয়টার্সের দেখা রাশিয়ার একটি অত্যন্ত গোপনীয় নথিতে সরাসরি উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৫ সালের আগস্টে তৎকালীন রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রেই বেলোসভ একটি বিশেষ ডিক্রি বা আদেশ জারি করেছিলেন। সেই আদেশ অনুযায়ী, রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় প্রশিক্ষণে অংশ নিতে চীনে পাড়ি জমায়। বেইজিং এই প্রশিক্ষণের বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করলেও এটি ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে চরম উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।   নথি অনুযায়ী, বেইজিংয়ের একটি সামরিক ঘাঁটিতে গত নভেম্বরে তিন সপ্তাহব্যাপী একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রশিক্ষণ কোর্স অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে রুশ সেনাদের মূলত তেজস্ক্রিয়তা, জৈবিক ও রাসায়নিক (রেডিওলজিক্যাল, বায়োলজিক্যাল অ্যান্ড কেমিক্যাল) যুদ্ধবিদ্যা এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। রয়টার্সের হাতে আসা কিছু ছবিতে দেখা গেছে, একজন চীনা প্রশিক্ষক রুশ সেনাদের সামনে একটি ডামি পারমাণবিক চুল্লি নিয়ে লেকচার দিচ্ছেন এবং রাসায়নিক রেকি করার কৌশল শেখাচ্ছেন।     গত মাসে প্রকাশিত অপর এক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে জানানো হয়, এই প্রক্রিয়ায় চীনের নানজিং ও বেংবু শহরের বিভিন্ন ঘাঁটিতে রাশিয়ার প্রায় ২০০ সামরিক কর্মীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে অনেকেই ইতিমধ্যে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে যোগ দিয়েছেন। এই পুরো প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের তদারকিতে রাশিয়ার স্থলবাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার-ইন-চিফ কর্নেল জেনারেল রুস্তম মুরাদভ এবং চীনের মেজর জেনারেল লি জিনসুনসহ উচ্চপদস্থ জেনারেলরা সরাসরি যুক্ত ছিলেন। তবে রুশ পার্লামেন্টের প্রতিরক্ষা কমিটির প্রধান আন্দ্রেই কার্তাপোলভ এই প্রতিবেদনটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।   এই ঘটনার পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস গত ১৫ জুন নিশ্চিত করেছেন যে ব্রাসেলস তাদের নিজস্ব চ্যানেলের মাধ্যমে এই গোপন প্রশিক্ষণের সত্যতা পেয়েছে। বর্তমানে এর আন্তর্জাতিক প্রভাব মূল্যায়ন করা হচ্ছে। বেইজিং নিজেকে ইউক্রেন যুদ্ধে নিরপেক্ষ এবং শান্তি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দাবি করলেও, ইউরোপীয় শক্তিগুলো এখন চীনকে রাশিয়ার যুদ্ধের অন্যতম বড় সহায়তাকারী হিসেবে দেখছে। ফলে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির এই দেশের বিরুদ্ধে ইইউ নতুন কোনো অর্থনৈতিক বা কূটনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দেবে কি না, তা নিয়ে পর্দার আড়ালে আলোচনা চলছে।   সূত্র: রয়টার্স

তাবাস্সুম জুন ৩০, ২০২৬ ১৪:০
নৃত্য পরিবেশনের ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধে থেমে গেল মাশার নাচের স্বপ্ন, তবু কিয়েভের বিদায় উৎসবে ভবিষ্যতের আশায় হাসল ইউক্রেনের তরুণ প্রজন্ম

মাত্র ১৫ বছর বয়সী মাশা পলস্কার কাছে স্কুলের বিদায় অনুষ্ঠান ছিল বহুদিনের প্রতীক্ষিত একটি দিন। সহপাঠীদের সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী ওয়াল্টজ নৃত্যে অংশ নিয়ে জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত তৈরি করার স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ সেই স্বপ্ন পূরণ হতে দেয়নি। যুদ্ধের বাস্তবতা তার কৈশোরের আনন্দ, স্বাভাবিক স্কুলজীবন এবং নাচের মঞ্চ—সবকিছুর ওপর গভীর ছাপ ফেলেছে।   তবুও কিয়েভের বিদায় অনুষ্ঠান বাতিল হয়নি। নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেই সীমিত পরিসরে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল যুদ্ধের অন্ধকার বাস্তবতার মাঝেও কিছুটা স্বস্তি ও আশার উপলক্ষ। উৎসবের পোশাকে সেজে সহপাঠীরা একে অপরের সঙ্গে ছবি তুলেছে, স্মৃতি ভাগাভাগি করেছে এবং ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানিয়েছে। অনেকের মুখে ছিল হাসি, তবে সেই হাসির আড়ালে লুকিয়ে ছিল দীর্ঘ যুদ্ধের ক্লান্তি ও অনিশ্চয়তা। মাশা জানান, নাচ তার সবচেয়ে প্রিয় শিল্প। বিদায় অনুষ্ঠানের ওয়াল্টজ পরিবেশনার জন্য তিনি দীর্ঘদিন প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু যুদ্ধের কারণে নিয়মিত অনুশীলন ব্যাহত হয়। বিমান হামলার সতর্কসংকেত, নিরাপত্তাজনিত বিধিনিষেধ এবং প্রতিনিয়ত বদলে যাওয়া পরিস্থিতির কারণে শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়নি।   ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক আগ্রাসনের পর ইউক্রেনের লাখো শিক্ষার্থীর জীবন বদলে যায়। বহু স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, অনেক শিক্ষার্থী নিজ শহর ছেড়ে অন্যত্র বা বিদেশে আশ্রয় নিয়েছে। কোথাও অনলাইন, কোথাও ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে ক্লাস চালিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হয়েছে। ফলে একটি পুরো প্রজন্ম তাদের শৈশব ও কৈশোরের গুরুত্বপূর্ণ সময় যুদ্ধের মধ্যেই পার করছে। এই বাস্তবতার মধ্যেও কিয়েভের বিদায় অনুষ্ঠান শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আয়োজন ছিল না; এটি ছিল স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। শিক্ষার্থীরা বিশ্বাস করে, যুদ্ধ একদিন শেষ হবে এবং তারা আবার নির্ভয়ে পড়াশোনা, সংস্কৃতি ও স্বপ্নের পথে এগিয়ে যেতে পারবে।   আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইউক্রেনের হাজার হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং লাখো শিশু-কিশোর দীর্ঘ সময় স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তবুও বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করে শিক্ষা ও সামাজিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। মাশা পলস্কার গল্প কেবল একজন কিশোরীর অপূর্ণ নাচের স্বপ্নের গল্প নয়; এটি যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি প্রজন্মের হারিয়ে যাওয়া শৈশব, ভেঙে যাওয়া পরিকল্পনা এবং প্রতিকূলতার মধ্যেও ভবিষ্যতের প্রতি অটুট বিশ্বাসের প্রতিচ্ছবি। বিদায় অনুষ্ঠানের সেই মুহূর্তগুলো তাই আনন্দের পাশাপাশি যুদ্ধের মানবিক মূল্যও স্মরণ করিয়ে দেয়।

siddikur rahman জুন ৩০, ২০২৬ ১৪:০
রাতভর পাল্টাপাল্টি হামলায় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ আবারও উত্তপ্ত
রাতভর পাল্টাপাল্টি হামলায় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ আবারও উত্তপ্ত

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধ নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে। রাতভর পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় উভয় পক্ষই একে অপরের সামরিক স্থাপনায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির দাবি করছে।   রোববার (২৮ জুন) রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দক্ষিণ ইউক্রেনের মিকোলাইভ অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, এ হামলায় ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনীর দুটি মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে। রুশ কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি বিমান রানওয়ের পাশে অবস্থান করছিল, আর অন্যটি বাঙ্কারের ভেতরে জ্বালানি নেওয়ার সময় লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। হামলার একটি ভিডিও প্রকাশ করে মস্কো দাবি করেছে, তাদের আঘাত ‘সম্পূর্ণ সফল’ হয়েছে।   অন্যদিকে একই দিনে ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝিয়া এলাকায় রুশ হামলায় অন্তত দুজন নিহত এবং আরও ১৪ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। যুদ্ধের এই অংশে বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ক্রমেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।   এরই মধ্যে ইউক্রেন পাল্টা হামলার দাবিও জোরালো করেছে। কিয়েভ জানিয়েছে, তারা দূরপাল্লার ‘ফ্লেমিঙ্গো’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে রাশিয়ার ভলগোগ্রাদ অঞ্চলে অবস্থিত টাইটান বারিকাদি শিল্প কমপ্লেক্সে আঘাত হেনেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ওই কারখানায় কামান ব্যবস্থা এবং ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম তৈরি করা হয়। ফলে এটিকে বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবেই বিবেচনা করা হয়েছে।   এছাড়া ইউক্রেন আরও দাবি করেছে, তারা রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে। কিয়েভের মতে, রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা দুর্বল করতে জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে কৌশলগতভাবে লক্ষ্য করা হচ্ছে।   ইউক্রেনের এই দীর্ঘপাল্লার হামলা বাড়তে থাকায় রাশিয়াও নিজেদের নিরাপত্তা জোরদারে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ক্ষমতাসীন ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টির কংগ্রেসে বলেন, দেশের নিরাপত্তা, নাগরিকদের সুরক্ষা এবং সীমান্তের অখণ্ডতা রক্ষায় সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে। তিনি আরও জানান, রুশ ভূখণ্ড ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় দেশ প্রস্তুত রয়েছে।   বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলার ধারাবাহিকতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে যুদ্ধক্ষেত্রে কোনো পক্ষই এখনো পিছু হটার অবস্থায় নেই। বরং উভয় পক্ষই নিজেদের কৌশলগত সুবিধা বাড়াতে দূরপাল্লার অস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াচ্ছে।   সূত্র: মিলিটারি ওয়াচ ম্যাগাজিন

নীলুফা নিশাত জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
ইউক্রেন ফ্রন্টে রুশ সেনাদের গড় আয়ু মাত্র ২০ মিনিট, দাবি প্রতিবেদনের

ইউক্রেনের রণাঙ্গনে রুশ সেনাদের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত একজন সেনার যুদ্ধক্ষেত্রে বেঁচে থাকার গড় আয়ু এখন মাত্র ২০ থেকে ৩৫ মিনিট। সম্প্রতি ফরেন পলিসি ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এক নিবন্ধে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির গ্লোবাল হিস্ট্রির অধ্যাপক ও ইতিহাসবিদ পিটার ফ্রাঙ্কোপ্যান এই চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরেছেন। রুশ সামরিক ব্লগারদের উদ্ধৃত করে তিনি জানান, সেনাবাহিনীতে নাম লেখানোর পর প্রশিক্ষণ শিবির থেকে শুরু করে যুদ্ধক্ষেত্রে গিয়ে মৃত্যু পর্যন্ত একজন সেনার আয়ুষ্কাল দাঁড়াচ্ছে মাত্র ১০ দিন থেকে তিন সপ্তাহ। ড্রোন হামলায় রুশ বাহিনীর এমন দ্রুত পতনের চিত্রই এখন যুদ্ধক্ষেত্রের নির্মম বাস্তবতা।     ইউক্রেন সংঘাত সাড়ে চার বছরের কাছাকাছি পৌঁছানোর সাথে সাথে পুতিন প্রশাসন নতুন সেনা নিয়োগে মরিয়া হয়ে উঠেছে। ২০২৫ সালের শেষের দিকে রুশ কর্মকর্তারা এক বছর মেয়াদি চুক্তিতে ৪ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি নতুন সেনা নিয়োগের দাবি করলেও, রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো স্বীকার করেছে যে এ বছর সেই সংখ্যা প্রায় ৩০ শতাংশ কমে গেছে।   সামরিক ব্লগারদের মতে, রাশিয়া এখনো প্রতিদিন প্রায় ৮০০ থেকে ১,০০০ স্বেচ্ছাসেবক সেনা নিয়োগ করছে, যাদের মাত্র কয়েকদিনের নামমাত্র প্রশিক্ষণ দিয়েই সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হচ্ছে। পশ্চিমা বিভিন্ন সূত্রের মতে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত রাশিয়ার মোট হতাহতের সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়েছে এবং বর্তমানে প্রতি মাসে গড়ে ৩০ হাজারেরও বেশি রুশ সেনা হতাহত হচ্ছেন। ফ্রাঙ্কোপ্যানের হিসাব অনুযায়ী, ইউক্রেনের একজন সেনার বিপরীতে রাশিয়ার আটজন সেনা হতাহত হচ্ছেন।   চরম সেনা সংকটের কারণে স্বেচ্ছাসেবকদের আকৃষ্ট করতে রাশিয়া এখন ৮০ হাজার ডলার পর্যন্ত সাইন-আপ বোনাস এবং ১ লাখ ৪০ হাজার ডলার পর্যন্ত ঋণ মওকুফের লোভনীয় প্রস্তাব দিচ্ছে। অথচ রাশিয়ার গড় মাসিক বেতন মাত্র এক হাজার ডলারের কাছাকাছি। এত বিপুল আর্থিক সুবিধার পরও রুশ সেনাদের এই ভয়াবহ মৃত্যুহারের পেছনে মূল কারণ হিসেবে ইউক্রেনের সামরিক ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহারকে দায়ী করা হচ্ছে। ড্রোন এখন ইউক্রেনের সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্রে পরিণত হয়েছে।   এছাড়া ইউক্রেন ক্রমশ রাশিয়ার অভ্যন্তরেও হামলা জোরদার করছে। গত জুনে মস্কোর বৃহত্তম তেল শোধনাগারে ভয়াবহ হামলার পর তা আগামী বছর পর্যন্ত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। রয়টার্সের ধারণা, ইউক্রেনীয় ড্রোনের আঘাতে রাশিয়ার তেল পরিশোধন ক্ষমতা প্রতিদিন প্রায় ৭ লাখ ব্যারেল কমে গেছে, যার ফলে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম জ্বালানি উৎপাদনকারী দেশ হওয়া সত্ত্বেও রাশিয়ার অর্ধেকের বেশি অঞ্চলে এখন জ্বালানি রেশনিং করতে হচ্ছে।   সামরিক খাতে রাশিয়া বর্তমানে তাদের রাষ্ট্রীয় বাজেটের অর্ধেকেরও বেশি ব্যয় করছে, যা দেশটির অর্থনীতিকে পতনের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এরই মধ্যে আলেকজান্ডার লুনিন নামের এক ইউক্রেন যুদ্ধফেরত রুশ ব্লগার অভিযোগ করেছেন যে, রুশ কমান্ডাররা নিয়মিত তাদের নিজস্ব সেনাদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছেন। তিনি প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে সরাসরি বা সম্প্রচারিত বৈঠকের দাবি জানিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, অন্যথায় সেনাবাহিনী ক্রেমলিনের দিকেই তাদের অস্ত্র তাক করবে।   তবে ইতিহাসবিদ পিটার ফ্রাঙ্কোপ্যান মনে করেন, রাশিয়ায় এখনই কোনো বিপ্লবের বা সেনা বিদ্রোহের সম্ভাবনা নেই। বরং কোণঠাসা হয়ে পড়া পুতিন পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে করার চেষ্টা করতে পারেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, "একজন ডুবন্ত মানুষকে নিয়ে সাবধান। পুতিন টিকে থাকার জন্য মরিয়া চেষ্টা চালাবেন, তাই আগামী মাসগুলো রাশিয়ার ভেতরে ও বাইরে অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।"

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
মারিয়া জাখারোভা | ছবি: আনাদোলু এজেন্সি
ইউক্রেনকে ইউরেনিয়াম দিচ্ছে যুক্তরাজ্য, রাজনৈতিক চাল দেখছে রাশিয়া

ইউক্রেনের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরবরাহে যুক্তরাজ্যের নতুন পরিকল্পনাকে সন্দেহজনক এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ বলে তীব্র সমালোচনা করেছে রাশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেছেন, এই সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো বাণিজ্যিক স্বার্থ নেই। কিয়েভ সরকারকে অন্ধ সমর্থন দেওয়ার জন্য এই রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া হচ্ছে বলে মস্কো মনে করে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিশেষ বিবৃতিতে মারিয়া জাখারোভা এই মন্তব্য করেন।   রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, এই পরিকল্পনাটি সম্ভবত ইউক্রেনের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি তৈরিতে ব্যবহৃত নিম্ন-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরবরাহের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত. বর্তমানে ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান ইউরেনকো এ ধরনের পণ্যের অন্যতম প্রধান বৈশ্বিক সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করছে। তবে ইউক্রেনের নিজস্বভাবে পারমাণবিক জ্বালানি উৎপাদনের কোনো শিল্প সক্ষমতা রয়েছে বলে রাশিয়ার জানা নেই। তাই সরবরাহ করা ইউরেনিয়াম সরাসরি ইউক্রেনে নয়, বরং তৃতীয় কোনো দেশের পারমাণবিক জ্বালানি উৎপাদনকারী কারখানায় পাঠানো হবে।   রাশিয়ার ধারণা, এই ইউরেনিয়াম সম্ভবত ওয়েস্টিংহাউস নামের একটি কারখানায় পাঠানো হবে। জাখারোভা বলেন, লন্ডনের বক্তব্য অনুযায়ী এই চুক্তির সঙ্গে ডার্টি বোমা বা তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছড়িয়ে দেওয়ার মতো বিপজ্জনক অস্ত্র তৈরির কোনো সম্পর্ক নেই। তবে রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে যুক্তরাজ্যকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে ইউক্রেন পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটি অনুযায়ী তাদের আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা কঠোরভাবে পালন করবে। একই সাথে সরবরাহ করা উপাদান নির্ধারিত উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করবে।   বিবৃতিতে বলা হয়, এসব শর্ত পূরণ হলে এই সরবরাহ আন্তর্জাতিক পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ ব্যবস্থাকে দুর্বল করবে না। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পারমাণবিক উপাদানকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আইএইএ-এর পূর্ণ তত্ত্বাবধানে রাখতে হবে। তবে জাখারোভার মূল দাবি, যুক্তরাজ্যের এই সিদ্ধান্তের প্রধান উদ্দেশ্য বাণিজ্যিক সুবিধা লাভ করা নয়। বরং প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সরকারকে সব পরিস্থিতিতে সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে একটি রাজনৈতিক সুবিধা অর্জন করা।   তিনি অভিযোগ করে বলেন, ব্রিটিশ সরকারের এই অবস্থান এমন সময় এসেছে, যখন ইউক্রেনীয় বাহিনী জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং এর কর্মীদের আবাসস্থল এনারহোদার শহরে সরাসরি হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বলে রাশিয়ার কাছে তথ্য রয়েছে। এই চরম উসকানিমূলক বিষয়ে লন্ডনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো নিন্দা বা উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়নি। এই নীরবতাই পারমাণবিক নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাজ্যের আসল অবস্থানকে বিশ্বের কাছে স্পষ্ট করে দেয়। তাই ইউক্রেনকে দেওয়া ব্রিটিশ সহায়তার প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে রাশিয়ার কোনো বিভ্রম নেই।

তাবাস্সুম জুন ২৫, ২০২৬ ১৪:০
ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় মস্কোর তেল শোধনাগার অচল l ছবি: সংগৃহীত
ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় মস্কোর তেল শোধনাগার অচল, উৎপাদন বন্ধ অন্তত ছয় মাস

রয়টার্সের একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউক্রেনের ধারাবাহিক ড্রোন হামলার পর মস্কোর ঠিক দক্ষিণে অবস্থিত একটি বড় তেল শোধনাগারের উৎপাদন অন্তত ছয় মাসের জন্য বন্ধ থাকতে পারে। শিল্প খাতের সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে গত বুধবার এই তথ্য জানানো হয়। গ্যাজপ্রম নেফট-পরিচালিত এই স্থাপনাটিতে গত ১৬ জুন প্রথম হামলা চালানো হয়। এতে শোধনাগারটির ৫৩ শতাংশ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ডিস্টিলেশন (পাতন) ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানা গেছে। এরপর ১৮ জুন দ্বিতীয় হামলায় অপেক্ষাকৃত আধুনিক 'ইউরো+' ইউনিটটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা বাকি ৪৭ শতাংশ উৎপাদনের জন্য দায়ী ছিল।   সংশ্লিষ্ট শিল্প খাতের একজন সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছেন, মস্কোর এই শোধনাগারটির ক্ষয়ক্ষতি মেরামত করতে অন্তত ছয় মাস সময় লাগবে। রয়টার্সের দেওয়া তথ্যমতে, ২০২৪ সালে এই শোধনাগারটিতে ১১.৬ মিলিয়ন মেট্রিক টন তেল পরিশোধন করা হয়েছিল, যা থেকে ২.৯ মিলিয়ন টন পেট্রোল এবং ৩.২ মিলিয়ন টন ডিজেল উৎপাদিত হয়। তবে গ্যাজপ্রম নেফট-পরিচালিত এই স্থাপনার সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে রুশ কর্মকর্তারা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি।   চলতি বসন্তকাল থেকে রাশিয়ার তেল শোধনাগার এবং সরবরাহ লাইনগুলোকে লক্ষ্য করে ইউক্রেন তাদের হামলার মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়ে দিয়েছে। এসব ড্রোন হামলার কারণে রাশিয়ার পেট্রোল উৎপাদনের একটি বড় অংশের যোগানদাতা স্থাপনাগুলোতে উৎপাদন হয় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে, নতুবা ব্যাপক হারে হ্রাস পেয়েছে। ফলশ্রুতিতে রাশিয়ার বেশ কিছু অঞ্চলে বাধ্য হয়ে জ্বালানি রেশনিং বা সীমিতকরণ ব্যবস্থা চালু করতে হয়েছে।   এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে রাশিয়ার অর্থনীতিতে। চলতি বছরের শুরু থেকে দেশটিতে পেট্রোলের গড় দাম ৬.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৫ জুনের হিসাব অনুযায়ী, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে জাতীয় পর্যায়ে প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ৬৯.১১ রুবেলে (প্রতি গ্যালন ৩.৫৬ মার্কিন ডলার) গিয়ে দাঁড়িয়েছে। গত মঙ্গলবার রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেন, অভ্যন্তরীণ জ্বালানি বাজারের বর্তমান অবস্থা 'চ্যালেঞ্জিং হলেও তা এখনো কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে'। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে, পেট্রোল এবং জেট ফুয়েল রপ্তানির ওপর বর্তমানে যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তার পাশাপাশি এখন ডিজেল রপ্তানির ওপরও সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৪, ২০২৬ ১৪:০
সংলাপে বসতে প্রস্তুত রাশিয়া
ইউক্রেন ইস্যুতে ফের আলোচনার ইঙ্গিত, সংলাপে বসতে প্রস্তুত রাশিয়া

ইউক্রেনের সঙ্গে পুনরায় শান্তি সংলাপে বসতে প্রস্তুত থাকার ঘোষণা দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি জানিয়েছেন, কিয়েভের সদিচ্ছা ও বর্তমান বাস্তব পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করেই এই আলোচনা এগিয়ে নিতে চায় মস্কো। অতীতে তুরস্কের ইস্তাম্বুল এবং যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কার অ্যাঙ্কোরেজে হওয়া দ্বিপক্ষীয় সমঝোতাগুলোকে সম্ভাব্য আলোচনার ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।   মঙ্গলবার (২৪ জুন) ক্রেমলিনে অনুষ্ঠিত এক নীতিনির্ধারণী বৈঠকে শীর্ষ কর্মকর্তাদের সামনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পুতিন দাবি করেন, পূর্বের শান্তি প্রক্রিয়া ইউক্রেনের একতরফা সিদ্ধান্তে হঠাৎ থেমে যায়। তিনি বলেন, “রাশিয়া ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য প্রস্তুত—ইস্তাম্বুলে হওয়া চুক্তির ভিত্তিতে। সেই সঙ্গে অ্যাঙ্কোরেজে আলোচিত কাঠামো এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে বর্তমান মাটির বাস্তবতা বিবেচনায় রেখেই আমরা এগোতে চাই।”   পুতিনের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন রাশিয়ার ভেতরে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে সীমিত হামলা চালাচ্ছে, যার উদ্দেশ্য হতে পারে সম্ভাব্য আলোচনার আগে নিজেদের কৌশলগত অবস্থান শক্ত করা।   উল্লেখ্য, গত বছর ইস্তাম্বুলে দুই দেশের মধ্যে তিন দফা গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়—১৬ মে, ২ জুন এবং ২৩ জুলাই। এসব বৈঠকের ফল হিসেবে বড় পরিসরে যুদ্ধবন্দী বিনিময় এবং একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির খসড়াও তৈরি হয়েছিল।   পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট আলাস্কার অ্যাঙ্কোরেজে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন, যেখানে একটি বিস্তৃত শান্তি পরিকল্পনা প্রস্তাব করা হয়। প্রাথমিকভাবে ২৮ দফার ওই পরিকল্পনা পরে সংশোধন করে ২০ দফায় আনা হয়। তবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রের দাবি, ইউক্রেন তাদের ভূখণ্ড সংক্রান্ত কোনো ছাড় দিতে রাজি না হওয়ায় অগ্রগতি থমকে যায়।   চলতি বছরের শুরুতেও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে তিন দফা সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। জানুয়ারির শেষ ও ফেব্রুয়ারির শুরুতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে দুটি বৈঠক এবং ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আরেকটি বৈঠক হয়। এসব আলোচনা কিছুটা অগ্রগতি আনলেও পরে তা স্থবির হয়ে পড়ে।   বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অগ্রাধিকার বদলে যায়, যার প্রভাব পড়ে ইউক্রেন ইস্যুর শান্তি প্রক্রিয়ায়ও।   এর আগে ২০২২ সালের বসন্তেও ইস্তাম্বুলে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে একটি প্রাথমিক শান্তি চুক্তির খসড়া তৈরি হয়েছিল। তবে নানা কারণে সেটিও বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি।   আনাদোলু এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে আবারও সংলাপ শুরু হবে কি না, তা অনেকটাই নির্ভর করছে কিয়েভের অবস্থান ও যুদ্ধক্ষেত্রের পরিবর্তিত বাস্তবতার ওপর। তবে রাশিয়ার এই ঘোষণাকে সম্ভাব্য কূটনৈতিক উদ্যোগের একটি নতুন ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।

নীলুফা নিশাত জুন ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রকে আর নিরপেক্ষ মানতে নারাজ রাশিয়া, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে নতুন উত্তেজনা

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রকে আর 'নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী' হিসেবে দেখছে না রাশিয়া। মঙ্গলবার মস্কোর পক্ষ থেকে এই দাবি জানানোর পাশাপাশি, সামরিক খাতে ব্যয় বাড়ানোর ইউরোপীয় পরিকল্পনারও তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরানে হামলার নির্দেশ দেওয়ার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে নিজের মনোযোগ সরিয়ে নিয়েছেন। এর ফলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে ভয়াবহ এই সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন শান্তি আলোচনা কার্যত থমকে আছে।   মস্কোতে বিদেশি দূতদের উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তব্যে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড দেখে স্পষ্টতই মনে হচ্ছে, তারা নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা থেকে পুরোপুরি সরে এসেছে। এর বদলে তারা রাশিয়ার ওপর একের পর এক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার চাপ বাড়ানোর উসকানিমূলক পথ বেছে নিয়েছে।" উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুতে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে ট্রাম্পসহ বিশ্বনেতারা জ্বালানিখাতসহ নানা ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জোরদারের মাধ্যমে রাশিয়ার ‘যুদ্ধ অর্থনীতি’র ওপর চাপ বাড়াতে একমত হন।   ২০২৫ সালে পুনরায় হোয়াইট হাউসে ফেরার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই লক্ষ্যে তিনি উভয় পক্ষকেই আলোচনায় বসতে চাপ দিলেও, মার্কিন মধ্যস্থতার এই কূটনীতিতে এখন পর্যন্ত দৃশ্যত কোনো অগ্রগতি হয়নি। মূলত মস্কোর দাবি অনুযায়ী ইউক্রেনকে নিজ ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়া, সেনাবাহিনীর আকার সীমিত করা এবং পশ্চিমাদের সহায়তা প্রত্যাখ্যান করার মতো কঠিন শর্তগুলো কিয়েভ মেনে না নেওয়ায় এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে ইউক্রেনে এ পর্যন্ত লাখ লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন এবং গৃহহীন হয়ে পড়েছেন কোটি কোটি সাধারণ মানুষ।   এদিকে, যুদ্ধ থামাতে কিয়েভকে রাশিয়ার শর্ত মেনে নেওয়ার ব্যাপারে ট্রাম্পের চাপের মুখে ইউরোপের অবস্থান নিয়েও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মস্কো ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। মঙ্গলবার এক পৃথক অনুষ্ঠানে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অভিযোগ করেন, ইউরোপ ট্রাম্পের প্ররোচনায় বিপুল অস্ত্র প্রতিযোগিতার মাধ্যমে যুদ্ধের জন্য ‘প্রকাশ্যে’ প্রস্তুতি নিচ্ছে। সদ্য উত্তীর্ণ সামরিক ও আইনপ্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের এক অনুষ্ঠানে ক্রেমলিন প্রধান বলেন, "পশ্চিমারা এখন প্রকাশ্যে বলছে যে তারা আমাদের সঙ্গে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে এবং তাদের আক্রমণাত্মক সামরিক বাজেট ক্রমাগত বৃদ্ধি করছে।"   পুতিন তার বক্তব্যে ইউক্রেনকে পূর্ব দনবাস অঞ্চল থেকে পুরোপুরি সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, রুশ সেনারা বর্তমানে ওই অঞ্চলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শহর কস্তিয়ানতিনিভকা দখলের প্রায় দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। এছাড়া গত সপ্তাহে মস্কোর একটি তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলার পর এই প্রথম মুখ খুলে পুতিন বলেন, রাশিয়ার অবকাঠামোর ওপর ইউক্রেনের এই ক্রমবর্ধমান হামলা পশ্চিমা সহায়তায় পরিচালিত হচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য সাধারণ রুশ নাগরিকদের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে সমাজব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করে তোলা।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইউক্রেনের ‘ডাইনি বাহিনী’র প্রেমের ফাঁদে কুপোকাত রুশ সেনারা

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দেখতে দেখতে পঞ্চম বছরে পদার্পণ করেছে। যুদ্ধের শুরুর দিকে রুশ সেনাদের রুখে দিতে ইউক্রেনের সাধারণ মানুষের খালি হাতের প্রতিরোধ বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। তবে সময়ের সাথে সাথে এই যুদ্ধের কৌশল এখন অনেকটাই বদলে গেছে। রুশ অধিকৃত ও অবরুদ্ধ ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডে এই প্রতিরোধ এখন পুরোপুরি রূপ নিয়েছে এক রোমাঞ্চকর ‘ছায়া যুদ্ধে’। আর এই আড়ালে থাকা গোপন যুদ্ধের নেপথ্য চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে একদল নারী ও ছদ্মনামধারী পুরুষ গোয়েন্দা, যাদের প্রতিরোধ কমান্ডাররা আদর করে ডাকছেন ‘ভিদমা’ বা ‘ডাইনি’।   বিশ্বখ্যাত মার্কিন সাময়িকী দ্য আটলান্টিকের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ইউক্রেনের এই ‘ডাইনি বাহিনী’ এবং তাদের ভয়ংকর সব গোয়েন্দা জালের চাঞ্চল্যকর চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, অধিকৃত ইউক্রেনের এক রুশ সেনা বেশ কয়েক মাস ধরে ভাবছিলেন যে তিনি বুঝি এক নিঃসঙ্গ ইউক্রেনীয় গৃহবধূর প্রেমে পড়েছেন। হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন মেসেজিং অ্যাপে তাদের দীর্ঘদিনের আলাপচারিতা একসময় গভীর রোমান্সে রূপ নেয়। একদিন ওই নারী সেনাটির সামরিক ক্যাম্প দেখতে চাইলে তিনি একটি ছবি পাঠান, যার ব্যাকগ্রাউন্ডে খুব আবছাভাবে ঘাঁটির একটি মানচিত্র দেখা যাচ্ছিল।   বাস্তবে কিন্তু ওপাশে কোনো নারীর অস্তিত্বই ছিল না। অ্যাকাউন্টটি পরিচালনা করছিলেন ইউক্রেনীয় সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার (এইচইউআর) একজন পুরুষ কর্মকর্তা। ছবি পাঠানোর মাত্র ১৫ মিনিটের মাথায় সেই সুনির্দিষ্ট স্থানাঙ্ক বা কো-অর্ডিনেট লক্ষ্য করে নিখুঁত ড্রোন হামলা চালায় ইউক্রেনীয় বাহিনী। ইউক্রেনীয় লোকগাথায় 'ভিদমা' শব্দের অর্থ এমন এক নারী, যার কাছে বিশেষ কোনো গোপন জ্ঞান থাকে। বর্তমানে এই ডাইনিরা হলেন ইউক্রেনের সেই সাধারণ নারীরা, যাঁরা প্রতিদিন সকালে বাজার করার বাহানায় রুশ চেকপোস্ট পার হন এবং রুশ সেনাদের প্রতিটি গতিবিধি ডায়েরিতে টুকে রাখেন।   এই গুপ্তচরবৃত্তির কাজ কেবল যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই। জার্মানি বা পোল্যান্ডে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নেওয়া সাধারণ ইউক্রেনীয় গৃহিণীরাও এই কিল চেইনের অংশ হয়ে উঠেছেন। তারা বিদেশ থেকেই নিজেদের চেনা অঞ্চলের কোন গুদামঘরটি রুশ বাহিনী ব্যবহার করছে, তা ম্যাপ মিলিয়ে ড্রোনের টার্গেট নিশ্চিত করেন। তবে এই ডাইনি বাহিনীর মূল লক্ষ্য শুধু রুশ সেনাদের হত্যা করা নয়, বরং তাদের মনে এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক আতঙ্ক তৈরি করা। যাতে ইউক্রেনের মাটিতে পা রাখা প্রত্যেক রুশ সেনা বাজারে সবজি বিক্রি করা বয়স্ক নারী, বাসের ড্রাইভার কিংবা সাধারণ পথচারী—সবার দিকে তাকিয়েই নিজেদের নিশ্চিত মৃত্যু দেখতে পায়।

তাবাস্সুম জুন ২২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ার মূল লজিস্টিক হাব ক্রিমিয়ায় ইউক্রেনের ভয়াবহ হামলা, নিহত ৪; জ্বালানি বিক্রি স্থগিত

রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়া উপদ্বীপে ইউক্রেনের এক ভয়াবহ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত চারজন নিহত এবং ২৮ জন আহত হয়েছেন। এই হামলার পরপরই ক্রিমিয়াজুড়ে সাধারণ নাগরিকদের কাছে সব ধরনের জ্বালানি বিক্রি স্থগিত করেছে মস্কো-সমর্থিত স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। গত কয়েক মাসের মধ্যে ক্রিমিয়া উপদ্বীপে চালানো সবচেয়ে বড় এই হামলায় সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে মূল লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে কিয়েভ। রাশিয়ার চার বছর ধরে চলা সামরিক অভিযানের প্রধান রসদ সরবরাহ কেন্দ্র হিসেবে ক্রিমিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে, যে কারণে শুরু থেকেই এটি ইউক্রেনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।   ক্রিমিয়ার রুশ-সমর্থিত গভর্নর সের্গেই আকসিওনভ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, কার্চ উপদ্বীপে শত্রুদের ড্রোন হামলার কারণে দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। তিনি আরও জানান, ২১ জুন সকাল ৯টা থেকে ক্রিমিয়ার সব পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং এখন থেকে কেবল রাষ্ট্রীয় জরুরি পরিষেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকেই জ্বালানি সরবরাহ করা হবে। স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান 'ক্রিমএনারগো' জানিয়েছে, হামলার পর ২০১৪ সালে রাশিয়ার সংযুক্ত করা এই উপদ্বীপের বেশ কিছু এলাকা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।   এছাড়া ক্রিমিয়া সীমান্তবর্তী রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রাসনোদর অঞ্চলেও এই ব্যাপক হামলার প্রভাব পড়েছে। সেখানে একটি ফেরিতে হামলায় একজন নিহত হওয়ার পাশাপাশি একটি তেলের টার্মিনালেও আঘাত হানা হয়েছে। অন্যদিকে, পূর্ব ইউক্রেনে রাশিয়ার নৈশকালীন পাল্টা হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।   ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলাকে রাশিয়ার ওপর 'দূরপাল্লার নিষেধাজ্ঞা' হিসেবে অভিহিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি জানান, গত রাতে তাদের এই দূরপাল্লার হামলায় দখলদারদের সামরিক রসদ, তেল শিল্প এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সুনির্দিষ্টভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ইউক্রেনীয় নাগরিকদের ওপর রাশিয়ার নিষ্ঠুর ও ধারাবাহিক হামলার 'ন্যায্য জবাব' হিসেবেই এসব অভিযান চালানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।   এর পাশাপাশি ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত করা কৌশলগত ক্রিমিয়ান ব্রিজ, বেশ কয়েকটি রাডার এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাতেও আঘাত হানার কথা জানিয়েছে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী। দূরপাল্লার ড্রোনের সক্ষমতা বৃদ্ধির পর কিয়েভ এখন অবরুদ্ধ দক্ষিণ-পূর্ব ইউক্রেনের ভূমি ব্যবহার করে সহজেই রুশ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে বড় এই সংঘাত বন্ধের আলোচনা বর্তমানে পুরোপুরি স্থবির হয়ে আছে এবং যুদ্ধক্ষেত্রেও একধরনের অচলাবস্থা বিরাজ করছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
রাশিয়ার একেবারে হৃদপিণ্ডে ইউক্রেনের আঘাত, আগুনে জ্বলছে সাইবেরিয়ার তেল সাম্রাজ্য

রাশিয়ার ভূখণ্ডের অনেক গভীরে ঢুকে সাইবেরিয়ার তিউমেন তেল শোধনাগারে এক ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। শনিবার দিনের বেলার এই হামলাটিকে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়ার অভ্যন্তরে কিয়েভের সবচেয়ে গভীর ও ধ্বংসাত্মক সামরিক অভিযান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। মস্কোর গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংসের লক্ষ্যে ইউক্রেন যে কৌশল হাতে নিয়েছে, এই হামলা তারই একটি বড় অংশ।   স্থানীয়দের মতে, শনিবার দুপুরে শোধনাগারটিতে অন্তত দুটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এরপরই সেখান থেকে কর্মীদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয় এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে অন্তত দশটি ফায়ার সার্ভিস ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ১ হাজার ৫৫০ মাইল দূরে অবস্থিত পশ্চিম সাইবেরিয়ার এই বৃহত্তম তেল প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র থেকে কালো ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী উড়তে দেখা যায়।   ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শনিবার বিকেলে এক্সে দেওয়া এক বার্তায় একে একটি 'কার্যকরী হামলা' হিসেবে উল্লেখ করে জানান, কিয়েভের উন্নত ড্রোনগুলো এখন রাশিয়ার ১ হাজার ৮০০ মাইল ভেতর পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এক উপদেষ্টাও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, রাশিয়ায় এখন আর কোনো নিরাপদ অঞ্চল অবশিষ্ট থাকবে না।   তিউমেন মূলত রাশিয়ার অন্যতম প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ তেল উৎপাদনকারী অঞ্চল এবং এই শোধনাগারটি দেশের সবচেয়ে আধুনিক কেন্দ্রগুলোর একটি। এখান থেকে বছরে প্রায় ৪ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল (দৈনিক সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল) এবং বিপুল পরিমাণ ডিজেল ও গ্যাসোলিন উৎপাদিত হয়। এর মাত্র দুই দিন আগেই মস্কোর একটি তেল শোধনাগারে কিয়েভের ড্রোন হামলায় সেখানকার কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যায়।   ওই কেন্দ্রটি মস্কোর জ্বালানি বাজারের প্রায় ৪০ শতাংশ সরবরাহ করত। এছাড়া ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে রাশিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করে একটি 'দ্বীপে' পরিণত করার লক্ষ্যে সেখানেও রাতভর হামলা চালিয়েছে ইউক্রেনীয় বাহিনী।   অন্যদিকে, ইউক্রেনের এই আগ্রাসনের জবাবে নিজেদের পালটা হামলা জোরদার করেছে রাশিয়া। শনিবার জাপোরিঝিয়ায় রাশিয়ার গ্লাইড-বোমা হামলায় অন্তত পাঁচজন ইউক্রেনীয় নিহত এবং আরও দশজন মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।   এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় খারকিভের একটি আবাসিক ভবনে হামলায় ছয় বছর বয়সী এক শিশুসহ পুরো ইউক্রেন জুড়ে অন্তত আটজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৫৫ জন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। ধ্বংসস্তূপ থেকে হতাহতদের উদ্ধারের মর্মান্তিক চিত্রগুলো যুদ্ধের ভয়াবহতা নতুন করে সামনে এনেছে।   যুদ্ধক্ষেত্রে যখন এই চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, তখন দুই দেশের মধ্যকার শান্তি আলোচনার প্রক্রিয়া কার্যত থমকে আছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে ভয়াবহ এই সংঘাত অবসানে ইউরোপীয় নেতারা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসার বিষয়ে এখনো দ্বিধাবিভক্ত। ইরানে যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনার উদ্যোগ বর্তমানে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে।   ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মের্জও ইতোমধ্যে স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইউরোপীয়রা এই সংঘাতে সরাসরি কোনো মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করবে না।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
দুই বছরে সর্বোচ্চ ড্রোন হামলা, মস্কোকে লক্ষ্য করে ইউক্রেনের আক্রমণ—দাবি রুশ গণমাধ্যমের

ইউক্রেন রাশিয়ার রাজধানী মস্কোকে লক্ষ্য করে গত দুই বছরে সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা টাস। হামলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে অগ্নিকাণ্ড ও ধ্বংসাবশেষ পড়ে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ।   মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন বলেন, রাতভর অন্তত ১৯৪টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে, যেগুলো রাজধানীকে লক্ষ্য করে পাঠানো হয়েছিল। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হওয়া হামলার তুলনায় এই সংখ্যা অনেক বেশি, যেখানে সাধারণত ড্রোনের সংখ্যা কয়েক ডজনের মধ্যে সীমিত থাকত।   রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৫৫৫টি ড্রোন বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিহত করা হয়েছে, যার মধ্যে কিছু ড্রোন আজভ সাগরের ওপরেও ধ্বংস করা হয়। হামলার পর মস্কোর সব প্রধান বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করা হয় বলে জানিয়েছে রুশ বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।   রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী, ইউক্রেনের হামলার লক্ষ্য ছিল জ্বালানি অবকাঠামো। এর মধ্যে মস্কোর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় কাপোতনিয়া এলাকায় অবস্থিত একটি তেল শোধনাগারও রয়েছে, যেটি মঙ্গলবারও হামলার শিকার হয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শী ভিডিওতে দেখা যায়, ড্রোন আসার সময় আকাশে ঘন কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ছে এবং একটি বড় বিস্ফোরণ ঘটে।   এছাড়া মস্কোর সাদোভোদ ট্রেড সেন্টারের কাছে বড় ধরনের ধোঁয়ার কুণ্ডলি দেখা গেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম। একটি আবাসিক ভবন ও একটি ফিটনেস সেন্টারেও ধ্বংসাবশেষ পড়ে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। রুশ ও ইউক্রেনীয় সূত্রের বরাত অনুযায়ী, ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনী রাশিয়ার রোস্তভ অঞ্চলের একটি তেল ডিপোতেও হামলা চালিয়েছে।   অন্যদিকে ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া পাল্টা হামলায় সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ২৩৯টি ড্রোন ব্যবহার করেছে। এতে কিয়েভ ও পোলতাভা অঞ্চলের কয়েকটি স্থানে বাড়ি, জ্বালানি অবকাঠামো ও শিল্প স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার হামলার জবাবে এই আক্রমণ চালানো হয়েছে এবং এটি “সম্পূর্ণ ন্যায্য প্রতিক্রিয়া”। তিনি আরও দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের দূরপাল্লার হামলা রাশিয়ার জ্বালানি খাতকে লক্ষ্য করে কার্যকর প্রভাব ফেলছে।   ন্যাটো ও জি-৭ বৈঠকের সময় এই হামলা সংঘটিত হয়। ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে জানান, ইউক্রেনকে আরও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের বিষয়ে আলোচনা চলছে।   বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনের এই ধরনের হামলা রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে চাপ বাড়ানোর কৌশলের অংশ, যা যুদ্ধের গতিপথে নতুন মাত্রা যোগ করছে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০
এস-৩০০ভি ক্ষেপণাস্ত্র l ছবি: সংগৃহীত
ইউক্রেনের জোরালো হামলায় রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষায় মিসাইল ঘাটতি, যুদ্ধের মোড় ঘোরার ইঙ্গিত

সাড়ে চার বছর ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে এবার দৃশ্যপট পরিবর্তনের জোরালো ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের টানা ও গভীর হামলায় রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ এস-৩০০ মিসাইলের মজুতে চরম ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এই সংকটের সুযোগ নিয়ে ইউক্রেনীয় বাহিনী এখন আরও সহজে রাশিয়ার অভ্যন্তরে সফল আক্রমণ চালাতে সক্ষম হচ্ছে বলে দাবি করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।   ইউক্রেনের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত শতকের ষাট ও সত্তরের দশকে তৈরি সোভিয়েত আমলের এস-৩০০ মিসাইল রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। যুদ্ধক্ষেত্রে বর্তমানে রাশিয়া এস-৩৫০, এস-৪০০ এবং প্যান্টসির-এস১-এর মতো অত্যাধুনিক ব্যবস্থা ব্যবহার করলেও এস-৩০০ মিসাইলের ওপর তাদের নির্ভরতা একেবারেই কমেনি।   ইউক্রেনীয় গোয়েন্দাদের ২০২৫ সালের এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ওই সময়ে রাশিয়ার হাতে অন্তত ৪০০টির বেশি এস-৩০০ ও এস-৪০০ ইন্টারসেপ্টর ছিল। তবে বর্তমানে এই মজুত উদ্বেগজনক হারে কমে আসছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, রাশিয়া সম্প্রতি তাদের আকাশ প্রতিরক্ষার কাজে ব্যবহৃত এস-৩০০ মিসাইলগুলোকে ইউক্রেনে আক্রমণ চালানোর জন্য ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। পাশাপাশি, ইউক্রেনের জেট ইঞ্জিনযুক্ত অত্যাধুনিক ও দ্রুতগতির ড্রোনগুলোকে ঠেকাতেও রাশিয়াকে তাদের এই মূল্যবান মিসাইলগুলোর বিশাল একটি অংশ খরচ করতে হচ্ছে।   রাশিয়ার এই আকাশ প্রতিরক্ষা সংকটকে আরও ঘনীভূত করতে ইউক্রেন এখন সরাসরি তাদের মিসাইল সাইটগুলোতে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করছে। ফরেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রুশ সামরিক বিশেষজ্ঞ রব লি জানান, গত কয়েক মাসে ক্রিমিয়া, লুহানস্কসহ বিভিন্ন অধিকৃত অঞ্চলে রাশিয়ার বিপুল সংখ্যক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে কিয়েভ। পশ্চিমা দেশগুলোর কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়া এই মিসাইলগুলোর প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ, বিশেষ করে গাইডেন্স সিকার এবং কন্ট্রোল মডিউলের তীব্র সংকটে পড়েছে।   চীন বা পশ্চিমা বাজার থেকে এসব যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করতে না পারায় মস্কোর পক্ষে দ্রুত এই বিপুল ঘাটতি পূরণ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।   তবে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার (জিইউআর) ভারপ্রাপ্ত প্রধান ওলেহ চোরনি সতর্ক করে বলেছেন যে, ড্রোন হামলা মোকাবিলার জন্য রাশিয়ার হাতে এখনও বেশ কিছু অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সচল রয়েছে। অন্যদিকে, এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে ইউক্রেনও নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষা সংকটে ভুগছে। বিশেষ করে রুশ ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রতিহত করতে সক্ষম মার্কিন প্যাক-৩ ইন্টারসেপ্টরের তীব্র অভাব কিয়েভকে বেশ চিন্তায় ফেলেছে।   নরওয়েজিয়ান ইনস্টিটিউট ফর ডিফেন্স স্টাডিজের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, রাশিয়া যেখানে বছরে ৬০০ থেকে ৮০০ ব্যালিস্টিক মিসাইল তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে যাচ্ছে, সেখানে বিশ্বব্যাপী প্যাক-৩ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন গত বছর মাত্র ৬২০টি ইন্টারসেপ্টর সরবরাহ করেছে। তারপরও রাশিয়ার এই মিসাইল ঘাটতির খবর যুদ্ধক্ষেত্রে কিয়েভের অবস্থানকে মানসিকভাবে শক্তিশালী করেছে।   সম্প্রতি ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, রাশিয়ার অভ্যন্তরে দূরপাল্লার অস্ত্র দিয়ে এই ধরনের জোরালো হামলাই মূলত যুদ্ধ বন্ধে মস্কোকে বাধ্য করার অন্যতম প্রধান উপায়।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবিঃ রয়টার্স
মস্কোসহ রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় ইউক্রেনের ভয়াবহ ড্রোন হামলা, একাধিক স্থানে আগুন

রাতের আঁধারে ইউক্রেনের ভয়াবহ ড্রোন হামলায় রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর একটি বড় তেল শোধনাগার এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রাসনোদার অঞ্চলের একটি জ্বালানি তেলের ডিপোতে আগুন ধরে গেছে। এই হামলার ফলে রাশিয়ার জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানিয়েছেন, মধ্য মস্কো থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত গ্যাজপ্রম নেফ্ট পরিচালিত একটি তেল শোধনাগারে অন্তত একটি ড্রোন আঘাত হেনেছে। তাঁর মতে, ইউক্রেন রাতারাতি রুশ রাজধানীর দিকে প্রায় ৬০টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছিল। অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন, যেখানে দেখা যায় ড্রোনটি ওই শোধনাগারে আঘাত হানার সাথে সাথেই সেটি বিশাল অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হচ্ছে।   তিনি এই হামলাকে ইউক্রেনে রাশিয়ার অব্যাহত আক্রমণ এবং দীর্ঘস্থায়ী আগ্রাসনের একটি 'ন্যায্য জবাব' হিসেবে অভিহিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি লেখেন, "মস্কো অঞ্চল আজ ইউক্রেনের দূরপাল্লার সক্ষমতার আঁচ টের পেয়েছে।"   মেয়র সোবিয়ানিন জানান, এই ড্রোন হামলায় কেউ হতাহত হয়নি। তবে এই ঘটনার ফলে ওই তেল শোধনাগারের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়। উল্লেখ্য, পুরো মস্কোর প্রয়োজনীয় জ্বালানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশই সরবরাহ করে এই শোধনাগারটি। পরবর্তীতে জরুরি সেবার কর্মকর্তারা জানান, গ্যাজপ্রম নেফ্ট স্থাপনার আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়েছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে হামলার পর ওই এলাকায় যান চলাচল সীমিত করে দেন পরিবহন কর্মকর্তারা।   অন্যদিকে, ক্রাসনোদার অঞ্চলের স্থানীয় ক্রাইসিস রেসপন্স সেন্টার জানিয়েছে যে, একটি ড্রোনের আছড়ে পড়ার ফলে পোলতাভস্কায়া তেল ডিপোতে আগুন ধরে যায়। এই ডিপোটি মূলত ওই অঞ্চলের বিভিন্ন গ্যাস স্টেশনে জ্বালানি সরবরাহ করে থাকে। প্রায় সাত ঘণ্টা চেষ্টার পর সেখানকার আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এছাড়া রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকালের মধ্যে ১৪টি অঞ্চল এবং সংযুক্ত ক্রিমিয়ায় ইউক্রেনের নিক্ষেপ করা অন্তত ১৭২টি ড্রোন ধ্বংস করেছে।   চলতি বসন্তকাল থেকেই ইউক্রেন রাশিয়ার তেল শোধনাগার এবং সরবরাহ লাইনগুলোর ওপর তাদের আক্রমণ ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে। বিশ্ববাজারে তেলের ক্রমবর্ধমান দাম থেকে ক্রেমলিন যেন কোনো অতিরিক্ত মুনাফা বা সুবিধা নিতে না পারে, সেই লক্ষ্যেই এই কৌশল বেছে নিয়েছে কিয়েভ। অব্যাহত এই ড্রোন হামলার কারণে রাশিয়ার পেট্রোলিয়াম উৎপাদনের বড় অংশের জন্য দায়ী স্থাপনাগুলোতে উৎপাদন হয় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে, নয়তো উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে।   রাশিয়ান শোধনাগারগুলোতে হামলার পাশাপাশি ইউক্রেন সংযুক্ত ক্রিমিয়া উপদ্বীপে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্রাকগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে, যার ফলে ওই অঞ্চলে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ার ৭০০ কিলোমিটার গভীরে ইউক্রেনের ভয়াবহ হামলা, জ্বলছে তেল ডিপো ও কারখানা

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ময়দানে এবার দৃশ্যপট পাল্টাতে শুরু করেছে। সীমান্ত থেকে ৭০০ কিলোমিটারেরও বেশি গভীরে রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডে ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। রবিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন যে, তাদের বিশেষ বাহিনী রাশিয়ার ইয়ারোস্লাভল অঞ্চলে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তেলের মজুত বা রিজার্ভ স্থাপনা এবং তুলা অঞ্চলের 'আজোট' রাসায়নিক কারখানায় সফল ও সুনির্দিষ্ট আঘাত হেনেছে।   উল্লেখ্য, এই রাসায়নিক কারখানাটি রুশ সামরিক বাহিনীর জন্য গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক তৈরির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।   এই আকস্মিক ও দূরপাল্লার জোরালো হামলায় রীতিমতো কেঁপে উঠেছে রাশিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ও সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই নজিরবিহীন হামলার জেরে রাশিয়ার অন্তত ২৮টি অঞ্চলে জরুরি বিমান হামলার সতর্কতা (এয়ার রেইড অ্যালার্ট) জারি করতে বাধ্য হয় পুতিন প্রশাসন।   উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার স্বার্থে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ ছয়টি বিমানবন্দরে উড়ান চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। মূল ভূখণ্ডের পাশাপাশি, ইউক্রেনের ভেতরে রুশ বাহিনীর দখলকৃত অঞ্চলগুলোতে থাকা সামরিক লজিস্টিকস ও রসদ সরবরাহ কেন্দ্রগুলোতেও সফল আঘাত হেনেছে কিয়েভ। ইয়ারোস্লাভল ও তুলা অঞ্চলের স্থানীয় রুশ গভর্নররা হামলার বিষয়টি স্বীকার করে জানিয়েছেন, ড্রোনের আঘাতে শিল্পাঞ্চলে আগুন ধরে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি পরিষেবা দল কাজ করছে।   এই পরিকল্পিত সামরিক অভিযানকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের কার্যকর 'দূরপাল্লার নিষেধাজ্ঞা' বা 'লং-রেঞ্জ স্যাংশনস'-এর অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানান, যুদ্ধ বন্ধের জন্য কিয়েভের পক্ষ থেকে বারবার আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হলেও মস্কো তা বারবার প্রত্যাখ্যান করে উল্টো আগ্রাসন বাড়ানোর পথই বেছে নিয়েছে।   তারই সমুচিত জবাব হিসেবে এই দূরপাল্লার আঘাত হানা হচ্ছে। জেলেনস্কি তার বার্তায় দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, "যুদ্ধ এখন সেখানেই ফিরে যাচ্ছে, যেখান থেকে এর শুরু হয়েছিল।" যুদ্ধের ময়দানে নিজেদের শক্তিমত্তার প্রমাণ দেওয়ার পাশাপাশি ইউক্রেনের শান্তির প্রতি অবিচল অবস্থানের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের পথে ইউক্রেন, শুরু হচ্ছে আনুষ্ঠানিক আলোচনা

যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগদানের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। শুক্রবার ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত ২৭টি সদস্য রাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতদের এক বৈঠকে আগামী সপ্তাহে ইউক্রেন এবং মলদোভার সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে সদস্যপদ আলোচনা শুরুর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।   মলদোভাকেও রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের বলয়ে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে আসছিল। বিশ্বের বৃহত্তম এই ট্রেডিং ব্লকে যুক্ত হওয়ার দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই আলোচনাটি আগামী সোমবার লুক্সেমবার্গে শুরু হবে। ইউক্রেন মনে করে, রাশিয়ার সাথে চলমান সংঘাতের অবসানের পর একটি স্থিতিশীল ভবিষ্যতের জন্য ইইউ সদস্যপদ তাদের জন্য একটি বড় 'নিরাপত্তা গ্যারান্টি' হিসেবে কাজ করবে।   ন্যাটো সদস্যপদ ইউক্রেনের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয় হতে পারলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, আপাতত তা সম্ভব নয়। তাছাড়া, যুদ্ধ চলমান অবস্থায় ইউক্রেনকে ন্যাটোতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে অন্যান্য মিত্রদেরও ঘোর আপত্তি রয়েছে। রাশিয়া এর তীব্র বিরোধী এবং ২০২২ সালে তাদের পূর্ণ মাত্রায় আগ্রাসন চালানোর পেছনে ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগদানের চেষ্টাকেই অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরেছিল মস্কো।   তবে, কিয়েভের ইইউ সদস্যপদ লাভের ক্ষেত্রে রাশিয়া সরাসরি কোনো আপত্তি জানায়নি। ইইউ কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা এবং কমিশন প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন এক যৌথ বিবৃতিতে এই পদক্ষেপকে ইউরোপজুড়ে "শান্তি, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি" জোরদার করার একটি কৌশলগত পছন্দ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তারা উভয় দেশের দৃঢ়তা, সাহস ও পাহাড়সম চ্যালেঞ্জের মুখেও সংস্কারমূলক কাজ এগিয়ে নেওয়ার ভূয়সী প্রশংসা করেন।   ইউরোপীয় ইউনিয়নে যুক্ত হতে ইচ্ছুক দেশগুলোকে কৃষি থেকে শুরু করে বাণিজ্য পর্যন্ত মোট ৩৫টি নীতিগত ক্ষেত্রে (যাকে 'চ্যাপ্টার' বলা হয়) দীর্ঘ আলোচনা সম্পন্ন করতে হয়, যা অনেক সময়সাপেক্ষ একটি প্রক্রিয়া। সোমবারের আন্তঃসরকারি সম্মেলনে এই ব্লকের প্রতিষ্ঠা ও মূল নীতি-সম্পর্কিত প্রধান চ্যাপ্টার বা 'ক্লাস্টার'গুলোর দ্বার উন্মোচন করা হবে।   ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার আগ্রাসনের এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে ইউক্রেন আনুষ্ঠানিকভাবে ইইউতে যোগদানের আবেদন করেছিল। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতেও ইউক্রেন বেশ কিছু সংস্কার কাজ এগিয়ে নিতে সক্ষম হওয়ায় ইইউ কমিশন দেশটির প্রশংসা করেছে, তবে দুর্নীতি ও বিচার ব্যবস্থার মান নিয়ে এখনো কিছু গভীর উদ্বেগ রয়ে গেছে।   এদিকে, জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিক মার্জ সম্প্রতি তার ইইউ মিত্রদের প্রতি ইউক্রেনকে 'অ্যাসোসিয়েট মেম্বারশিপ' বা সহযোগী সদস্যপদ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে করে চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধের অবসানে একটি নতুন গতি আনা যায়। ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডসও পূর্ণ সদস্যপদের বদলে দ্রুত ইউক্রেনকে ব্লকের আওতায় আনার বিকল্প পথের প্রস্তাব দিয়েছে।   মার্জের প্রস্তাবনা অনুযায়ী, ইউক্রেন ভোটাধিকার ছাড়াই ইইউর বিভিন্ন বৈঠক, ইউরোপীয় কমিশন এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টে অংশগ্রহণ করতে পারবে। বর্তমানে আমেরিকার মনোযোগ ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধের দিকে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলা শান্তি আলোচনা অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে।   এমন পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে সরাসরি নিজস্ব আলোচনা শুরুর বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। ইইউর নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনো নতুন নীতিগত চ্যাপ্টার খোলা ও বন্ধ করার ক্ষেত্রে ২৭টি সদস্য রাষ্ট্রের সর্বসম্মত সম্মতি প্রয়োজন।   উল্লেখযোগ্যভাবে, হাঙ্গেরি দীর্ঘদিন ধরে এই আলোচনার পথ আটকে রেখেছিল, তবে বুদাপেস্টে নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর তাদের সেই কঠোর অবস্থানে নমনীয়তা এসেছে, যা ইউক্রেন ও মলদোভার জন্য এই ঐতিহাসিক আলোচনার পথ সুগম করেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইতালিতে নেওয়া ইউক্রেনীয় শিশুদের ফেরাতে কিয়েভের কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার

রাশিয়ার আগ্রাসনের পর ইউক্রেন থেকে নিরাপত্তার কারণে ইতালিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নেওয়া শত শত শিশুর ভবিষ্যৎ ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক ও আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। কিয়েভ সরকার বলছে, আদালতের সিদ্ধান্ত ও দত্তক প্রক্রিয়ার কারণে এসব শিশুদের দেশে ফেরানোর প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।   ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর রাষ্ট্রীয় তত্ত্বাবধানে থাকা শিশু এবং এতিমসহ প্রায় ৪ হাজার ৮০০ শিশুকে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র থেকে ইতালি ও ইউরোপের কয়েকটি দেশে সরিয়ে নেওয়া হয়। বর্তমানে অন্তত কয়েক ডজন শিশুর ইউক্রেনে প্রত্যাবর্তন ইতালির আদালতের রায়ের কারণে আটকে আছে বলে দাবি কিয়েভের।   এর মধ্যে কিছু শিশু ইতালিতে দত্তক প্রক্রিয়ার আওতায় চলে গেছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে এপ্রিল মাসে, যখন ইউক্রেন জানায় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর ‘সাশা’কে ইতালির একটি পরিবার আইনগতভাবে দত্তক নিয়েছে। ইউক্রেনের দাবি, ওই কিশোরের মা এখনও তাকে দেশে ফিরিয়ে নিতে চান।   ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ধীরে ধীরে কিছু এলাকায় নিরাপদ পরিবেশ তৈরি হচ্ছে এবং শিশুদের দেশে ফেরানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে সময় যত গড়াচ্ছে, বিদেশে থাকা শিশুদের স্থায়ীভাবে অন্য দেশে থেকে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কিয়েভ।   ইউক্রেনের মানবাধিকার বিষয়ক প্রতিনিধি দিমিত্রো লুবিনেতস অভিযোগ করেছেন, ইতালীয় কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে সহযোগিতা করছে না এবং শিশুদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ইউক্রেনকে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তার মতে, এটি শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি স্থানান্তরের মতো পরিস্থিতি তৈরি করছে।   অন্যদিকে ইতালি বলছে, দেশটির বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করে এবং আদালতের সিদ্ধান্তে সরকারের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। ইতালির আইন অনুযায়ী, অভিভাবকহীন নাবালকদের সুরক্ষায় কঠোর বিধান রয়েছে, যার ফলে আদালতের অনুমতি ছাড়া তাদের ফেরত পাঠানো সম্ভব নয়।   ইতালিতে আশ্রয় পাওয়া শিশুদের অনেককে শুরুতে যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে সুরক্ষার জন্য নেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়। পরবর্তী সময়ে তাদের জন্য নতুন আইনি অভিভাবক নিয়োগ করা হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে ইউক্রেনীয় তত্ত্বাবধানের পরিবর্তে ইতালীয় তত্ত্বাবধান কার্যকর হয়।   কয়েকটি ঘটনায় দেখা গেছে, কিছু শিশু ধীরে ধীরে জন্মভূমির ভাষা ও পরিচয় থেকে দূরে সরে যাচ্ছে এবং তাদের ভবিষ্যৎ ইতালিকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, দীর্ঘ সময় বিদেশে অবস্থান করলে শিশুদের স্থায়ীভাবে দেশে ফিরিয়ে আনা আরও কঠিন হয়ে পড়বে, যা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের জন্য জনমিতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।   অন্যদিকে কিছু ইতালীয় অভিভাবক পরিবার বলছে, তারা শিশুদের নিরাপদ জীবন ও শিক্ষা নিশ্চিত করছে এবং যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের ফেরত না নেওয়াই যুক্তিযুক্ত। বর্তমানে ইতালির বিভিন্ন অঞ্চলে থাকা ইউক্রেনীয় শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আদালতভিত্তিক একাধিক মামলা চলমান রয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যে মানবাধিকার ও অভিভাবকত্ব ইস্যুতে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১১, ২০২৬ ১৪:০
ছবিঃ নিউইয়র্ক পোস্ট
হানিপট ট্র্যাপ পেতে ইউক্রেনীয় সেনাদের টার্গেট করছে রাশিয়া, অভিযোগ কিয়েভের

ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীর সদস্যদের গুপ্তহত্যা করতে রাশিয়া অভিনব ও ভয়ংকর এক 'হানিপট' বা প্রলোভনের ফাঁদ তৈরি করেছে। ইউক্রেনের জাতীয় পুলিশ প্রধান ইভান ভিহিভস্কি চাঞ্চল্যকর এক অভিযোগে জানিয়েছেন, রাশিয়ান গোয়েন্দারা এই জঘন্য কাজে ইউক্রেনের তরুণী এবং উঠতি বয়সি কিশোরীদের নিয়োগ করছে।   মূলত টেলিগ্রাম অ্যাপের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের অর্থের লোভ দেখিয়ে এসব নারীদের ফাঁদে ফেলা হচ্ছে এবং দূর থেকে পুরো হত্যা মিশনটি সুকৌশলে পরিচালনা করা হচ্ছে।   ইউক্রেন পুলিশের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত টেলিগ্রামের মাধ্যমে কমপক্ষে ছয়টি চুক্তিবদ্ধ হত্যার ঘটনা সামনে এসেছে, যার মধ্যে মাত্র একটি প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।   পুলিশ প্রধান ভিহিভস্কি জানান, রাশিয়ান এজেন্টরা এই নারীদের প্রাপ্তবয়স্কদের ডেটিং সাইটগুলোতে গিয়ে ইউক্রেনীয় সামরিক সদস্যদের খুঁজে বের করার নির্দেশ দেয়। এরপর সেনাদের সাথে একান্তে দেখা করার জন্য বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়ার টাকাও সরাসরি সরবরাহ করে তারা।   সাক্ষাতের আগে মেয়েদের কাছে পার্সেলের মাধ্যমে মেথাডোন নামের উচ্চমাত্রার সিন্থেটিক ওপিওড বা ব্যথানাশক ওষুধ পাঠানো হয়, যা অতিরিক্ত মাত্রায় প্রয়োগ করলে মানুষের মৃত্যু হতে পারে।   পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে ডেটিংয়ে আসা ওই সেনাদের পানীয়ের সাথে সেই বিষাক্ত ওষুধ মিশিয়ে দেওয়ার প্রশিক্ষণও দেওয়া হয় তাদের।   সম্প্রতি ইউক্রেনের জাইতোমির অঞ্চলে এমনই এক মর্মান্তিক হত্যার ঘটনা ঘটেছে। গত সপ্তাহে সেখানকার একটি বাড়ি থেকে ২৭ বছর বয়সী এক ইউক্রেনীয় সেনার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়, যার ব্যবহৃত পাত্রে পাউডার জাতীয় পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া যায়। এই ঘটনার তদন্তে নেমে গত ৪ জুন বারদিচিভ শহরের ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।   ওই কিশোরী পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে যে, সে টেলিগ্রামে এক সন্দেহভাজন রাশিয়ান এজেন্টের নির্দেশে ওই সেনার অ্যালকোহলের সাথে মেথাডোন মিশিয়েছিল।   সেনা সদস্যটি অচেতন হয়ে পড়ার পরপরই সে ওই অ্যাপার্টমেন্ট থেকে পালিয়ে যায়। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত এক হাজার একশরও বেশি ইউক্রেনীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে নিজ দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা এবং রাশিয়ার হয়ে অগ্নিসংযোগ, সন্ত্রাসবাদ বা নাশকতামূলক কাজে যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইউক্রেনে রুশ ড্রোন হামলায় নিহত ৫, চেরনোবিল পারমাণবিক স্থাপনাতেও হামলার দাবি

ইউক্রেনে রাশিয়ার ভয়াবহ ড্রোন হামলায় অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। চার বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে মস্কোর ওপর আরও চাপ প্রয়োগের বিষয়ে আলোচনার জন্য বিশ্বনেতারা যখন লন্ডনে জড়ো হয়েছেন, ঠিক তখনই রোববার এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটল। এদিকে, রুশ বাহিনীর সাম্প্রতিক সামরিক বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে যুদ্ধের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করতে এদিন ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।   ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় জাপোরিঝিয়া এলাকায় একটি বাস স্টপেজে রুশ বোমা হামলায় অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। এর কাছাকাছি এলাকায় আরেকটি ড্রোন হামলায় ৫৬ বছর বয়সী এক মিনিবাস চালক প্রাণ হারান। অন্যদিকে, মধ্যাঞ্চলীয় দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে রাশিয়ার পৃথক হামলায় আরও দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে বলে টেলিগ্রামে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় গভর্নর ওলেক্সান্ডার গাঞ্জা।   হামলার তীব্রতা থেকে বাদ যায়নি চেরনোবিলও। ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা এনার্গোঅ্যাটম জানিয়েছে, চেরনোবিলের এক্সক্লুশন জোনে ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি সংরক্ষণের একটি স্থাপনা রুশ হামলায় 'আংশিকভাবে ধ্বংস' হয়েছে। তবে ভবনটি খালি থাকায় বিকিরণের মাত্রা স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিগা এক্সে (সাবেক টুইটার) বলেন, রুশ বাহিনী এর আগেও পারমাণবিক নিরাপত্তাকে চরম হুমকিতে ফেলেছে।   ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর তথ্যমতে, রাতভর দেশটিতে ২৩৬টি ড্রোন ছুড়েছে রাশিয়া, যার মধ্যে ২১৫টিই প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে কিয়েভ।   ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার-এর তথ্যের ভিত্তিতে এএফপি জানিয়েছে, মে মাসে টানা দ্বিতীয় মাসের মতো হারানোর চেয়ে বেশি ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার করেছে ইউক্রেন। অন্যদিকে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে সর্বাত্মক হামলার পর এই মুহূর্তে সবচেয়ে কঠিন অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে রাশিয়া। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, কর বৃদ্ধি, দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ ঋণের সুদ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ও চরম শ্রমিক সংকটে ভুগছে মস্কো।   এমন পরিস্থিতিতে গত বৃহস্পতিবার রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনকে লেখা এক খোলা চিঠিতে সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছেন জেলেনস্কি। তিনি জানিয়েছেন যে, একটি 'পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি'র জন্যও তিনি প্রস্তুত রয়েছেন। যদিও শুক্রবার রাশিয়ার প্রধান অর্থনৈতিক ফোরামে অংশ নিয়ে পুতিন রুশ অর্থনীতি ভেঙে পড়ার দাবি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা
১,০০০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে রুশ নৌঘাঁটিতে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা

রাশিয়ার বার্ষিক আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামের সমাপনী দিনে সেন্ট পিটার্সবার্গ ও এর আশপাশের এলাকায় এক নজিরবিহীন ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। হামলার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে প্রথমবারের মতো সেন্ট পিটার্সবার্গের গভর্নর আলেকজান্ডার বেগলোভ স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে থাকার জরুরি নির্দেশ দিয়েছেন।   রাশিয়ার লেলিনগ্রাদ অঞ্চলের গভর্নর আলেকসান্দর দ্রোজদেন্দো জানিয়েছেন, ওই অঞ্চলে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ১৪০টিরও বেশি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে এই ব্যাপক হামলার কারণে একটি সামরিক স্থাপনায় আগুন ধরে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।   এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ড্রোন ও বিস্ফোরণের ভিডিও প্রকাশ করে এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ইউক্রেনীয় ড্রোনগুলো প্রায় ১,০০০ কিলোমিটার (৬২০ মাইল) পথ পাড়ি দিয়ে সেন্ট পিটার্সবার্গ অঞ্চলের ক্রনশটাদে অবস্থিত রুশ নৌবাহিনীর বাল্টিক ফ্লিটের প্রধান ঘাঁটি এবং অস্ত্রাগারে নিখুঁতভাবে আঘাত হেনেছে। রুশ আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দিতেই দূরপাল্লার বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে।   এছাড়া ক্রাসনোদার অঞ্চলের একটি তেল ডিপোতেও সফলভাবে আঘাত করা হয়েছে বলে ইউক্রেন দাবি করেছে। ইউক্রেনের চালকবিহীন বিমান বাহিনীর ৪১৩তম রেজিমেন্টের কমান্ডার ইয়েভহেন কারাস জানান, রুশ আকাশসীমায় তারা এখন প্রায় কোনো প্রতিরোধ ছাড়াই অনায়াসে প্রবেশ করতে পারছেন। রাশিয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ফোরাম চলাকালীনই ভলোদিমির জেলেনস্কি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে সরাসরি আলোচনা ও যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে একটি খোলা চিঠি পাঠিয়েছিলেন। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কারণে মার্কিন মনোযোগ এখন সেদিকে থাকায়, কেবল ওয়াশিংটনের ওপর ভরসা না করে সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন জেলেনস্কি।   তবে ফোরামের বক্তব্যে পুতিন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের এই আলোচনার প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এই মুহূর্তে যুদ্ধবিরতি দিলে ইউক্রেন নিজেদের সামরিকভাবে নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবে। রুশ লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত এই যুদ্ধ থামবে না বলে পুতিন তার আগের অবস্থানেই অনড় রয়েছেন। মস্কোর দাবি, ইউক্রেনকে দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝিয়া অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে এবং ন্যাটোতে যোগদানের প্রক্রিয়া ত্যাগ করতে হবে, যা মানতে পরিষ্কার অস্বীকৃতি জানিয়েছে কিয়েভ।   সেন্ট পিটার্সবার্গের পাশাপাশি ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে রুশ নিয়ন্ত্রিত লুহানস্কেও ইউক্রেনীয় ড্রোন বাহিনী ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে। রাশিয়ার সামরিক রসদ সরবরাহের পথগুলো লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চলায় নিরাপত্তার স্বার্থে লুহানস্কের দুটি প্রধান মহাসড়কে বাস চলাচল এবং যাত্রীবাহী ট্রেন পরিষেবা স্থগিত করেছে মস্কো-মনোনীত স্থানীয় প্রশাসন।   সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, গত মে মাসের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ইউক্রেনীয় হামলায় রাশিয়ার ২০০টিরও বেশি লরি এবং ৩০টির বেশি তেলের ট্যাংকার ধ্বংস হয়েছে। ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ আক্রমণের পর গত চার বছরে ইউক্রেন নিজস্ব প্রতিরক্ষা খাতকে ব্যাপকভাবে শক্তিশালী করেছে। ফলে তারা এখন নিয়মিতভাবেই রাশিয়ার অভ্যন্তরে জ্বালানি অবকাঠামো ও সামরিক লজিস্টিকস লক্ষ্য করে সফলভাবে দূরপাল্লার হামলা চালাতে সক্ষম হচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
গাজা বা ইউক্রেনের মতো কেন ইরানে আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ দেখা যাচ্ছে না পশ্চিমা বিশ্বের রাজপথে?

ইসরায়েল ও আমেরিকার সঙ্গে ইরানের চলমান উত্তেজনা যখন চরম শিখরে, তখন একটি প্রশ্ন বিশ্বজুড়ে ঘুরপাক খাচ্ছে—গাজা বা ইউক্রেন যুদ্ধের সময় পশ্চিমা বিশ্বের রাজপথ যেভাবে প্রতিবাদে উত্তাল হয়েছিল, ইরানের ক্ষেত্রে কেন তা অনুপস্থিত? আল জাজিরার এক বিশেষ বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এই 'নীরবতার' নেপথ্য কারণ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক বছর ধরে গাজা এবং ইউক্রেন ইস্যুতে ক্রমাগত আন্দোলন করতে করতে পশ্চিমা অ্যাক্টিভিস্টদের মধ্যে এক ধরনের 'ক্লান্তি' (Protest Fatigue) চলে এসেছে। এছাড়া, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক জটিলতা এবং দেশটির শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে পশ্চিমা সাধারণ মানুষের মধ্যে থাকা নেতিবাচক ধারণা বা ভীতি অনেক ক্ষেত্রে যুদ্ধবিরোধী অবস্থানকে বাধাগ্রস্ত করছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ওপর চলমান সামরিক চাপ এবং অবরোধের ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়লেও, পশ্চিমা জনমতে ইরানের প্রতি সহমর্মিতার অভাব স্পষ্ট। অনেক ক্ষেত্রে পশ্চিমা সরকারগুলোর কঠোর অবস্থান এবং গণমাধ্যমের একপাক্ষিক প্রচারণা সাধারণ মানুষকে দ্বিধাগ্রস্ত করে তুলেছে। ফলে গাজার গণহত্যার বিরুদ্ধে যে বিশাল গণজোয়ার দেখা গিয়েছিল, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের দামামা বাজলেও রাজপথে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। এই নীরবতাকে 'হতাশা' এবং 'ভয়ের' সংমিশ্রণ হিসেবে দেখছেন সমাজবিজ্ঞানীরা। তাদের মতে, একদিকে যুদ্ধের ভয়াবহতা নিয়ে আতঙ্ক, অন্যদিকে নিজ দেশের রাজনৈতিক অবস্থানের বিরুদ্ধে গিয়ে ইরানের পক্ষে দাঁড়ানোর ঝুঁকি—সব মিলিয়ে স্তিমিত হয়ে পড়েছে পশ্চিমা যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Top week

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
আমেরিকা

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

নীলুফা নিশাত জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০