যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টের বিচারক হিসেবে হ্যারিস এম সৈয়দ নামের এক মুসলিম আইনজীবীকে নিয়োগ দিয়েছেন গভর্নর গ্যাভিন নিউসম। এই নিয়োগের পর দেশটির বিচারব্যবস্থায় শরিয়াহ আইনের প্রভাব এবং একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর এবং মুসলিম আমেরিকান অধিকার সংগঠন ‘কেয়ার’ (CAIR) এই নিয়োগকে স্বাগত জানালেও কট্টরপন্থীদের পক্ষ থেকে তীব্র সমালোচনা করা হচ্ছে। বিচারক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার আগে হ্যারিস এম সৈয়দ লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে আলোচনায় এসেছিলেন। কাউন্টির অবসরকালীন বা রিটায়ারমেন্ট তহবিলগুলোর বিনিয়োগ সুদ-ভিত্তিক হওয়ার কারণে তিনি এই আইনি পদক্ষেপ নেন, যা ইসলামিক শরিয়াহ অর্থায়নের নিয়মের (সুদ বা রিবা নিষিদ্ধকরণ) পরিপন্থী। তিনি সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে তাঁর ধর্মীয় বিশ্বাসের সুরক্ষায় শরিয়াহ-সম্মত বিনিয়োগের বিকল্প সুবিধা দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন এবং এটিকে তাঁর বিশ্বাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। এই নিয়োগের পর কলোরাডোভিত্তিক ডানপন্থী ও রক্ষণশীল বিভিন্ন ফোরাম এবং সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্টরা দাবি করছেন, এটি মার্কিন আদালত ব্যবস্থার ওপর একটি সুপরিকল্পিত প্রভাব বিস্তারের অংশ। তারা ২০২৪ সালে ‘কেয়ার’-এর নির্বাহী পরিচালক নিহাদ আওয়াদ-এর দেওয়া একটি বক্তব্যের সূত্র ধরে এই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। সে সময় আওয়াদ মুসলিম শিক্ষার্থীদের আইন, সাংবাদিকতা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান এবং চলচ্চিত্র নির্মাণে স্কলারশিপ দিয়ে আগামী ১৫-২০ বছরের মধ্যে হাজার হাজার আইনজীবী ও নীতিনির্ধারক তৈরির একটি কৌশলগত পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন। সমালোচকদের দাবি, এই ধরনের নিয়োগের মাধ্যমে আমেরিকার বিচারব্যবস্থায় একটি বড় পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। উগ্রপন্থী ও বর্ণবাদবিরোধী গবেষক দল ‘রেয়ার ফাউন্ডেশন’-এর প্রধান অ্যামি মেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, যিনি সরকারি সুযোগ-সুবিধাকে শরিয়াহ আর্থিক নিয়মের সাথে মেলাতে মামলা লড়েছেন, তিনি এখন আমেরিকার অন্যতম বড় আদালত ব্যবস্থার বিচারকের আসনে বসেছেন। টেক্সাস ও ফ্লোরিডার মতো রাজ্যের গভর্নরদের দ্বারা সমালোচিত সংগঠন ‘কেয়ার’ এই নিয়োগকে স্বাগত জানানোয় তারা একে বিচারব্যবস্থায় অনুপ্রবেশ হিসেবে দেখছেন। তবে এই সমস্ত সমালোচনার বিপরীতে ক্যালিফোর্নিয়া প্রশাসন এবং নাগরিক অধিকার কর্মীরা এই নিয়োগকে মেধা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। ‘কেয়ার-এলএ’ হ্যারিস সৈয়দকে একজন অত্যন্ত সৎ ও দক্ষ ‘আমেরিকান মুসলিম আইনজীবী’ হিসেবে প্রশংসা করেছে। মার্কিন নীতিনির্ধারকদের একাংশের মতে, বিচার বিভাগে বৈচিত্র্য আনা এবং সব ধর্মের নাগরিকদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করাই এই নিয়োগের মূল লক্ষ্য, যা মার্কিন সংবিধানের ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকারকে আরও সমুন্নত করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে স্বাধীনতা দিবসের উদযাপনের সময় অবৈধ আতশবাজির বিস্ফোরণে ৮ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় প্রায় এক বছর পর অভিযুক্ত এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অরেঞ্জ কাউন্টি প্রসিকিউটরস অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ৪৭ বছর বয়সী আর্ল ডিকাস্ত্রোর বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ, ২০২৫ সালের ৪ জুলাই ক্যালিফোর্নিয়ার বুয়েনা পার্কে প্রতিবেশীদের নিয়ে আয়োজিত স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে তার ছোড়া অবৈধ আতশবাজির বিস্ফোরণেই মারা যায় ৮ বছর বয়সী জেসমিন এনগুয়েন। তদন্তে জানা গেছে, জেসমিন, তার মা হ্যালি এনগুয়েন এবং ৭ বছর বয়সী বোন ডিকাস্ত্রোর বাড়ির ড্রাইভওয়েতে দাঁড়িয়ে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আতশবাজির প্রদর্শনী দেখছিলেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ডিকাস্ত্রো প্রায় ৪০০ ডলারের একটি অবৈধ ‘কেক’ ধরনের আতশবাজি জ্বালান। পেশাদার মানের বিস্ফোরকযুক্ত এই আতশবাজি ব্যবহারের জন্য বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হয়। তবে সেটি বিকল হয়ে মর্টার শেল সরাসরি ড্রাইভওয়ের দিকে ছুটে আসে। এতে উপস্থিত লোকজন প্রাণ বাঁচাতে বাড়ির ভেতরে ছুটে যান। জেসমিনের মা হ্যালি এনগুয়েন অরেঞ্জ কাউন্টি রেজিস্টারকে বলেন, “সবকিছু এত দ্রুত ঘটেছিল। বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দের দিন মুহূর্তেই দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। অনেকের জুতার ভেতর দিয়েও রক্ত বের হচ্ছিল।” জেসমিন পরিবারের সঙ্গে এমন একটি টেবিলের পাশে বসেছিল, যেখানে আরও কিছু অব্যবহৃত আতশবাজি রাখা ছিল। বিস্ফোরণের ফলে সেগুলোতেও আগুন ধরে যায়। বাড়ির ভেতরে আশ্রয় নেওয়ার আগেই গুরুতর আহত হয় শিশুটি। পরে তাকে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া আরভিন মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাকে বাঁচাতে পারেননি। হ্যালি এনগুয়েন নিজেও ওই বিস্ফোরণে আহত হন। তিনি বলেন, “আমি ভাবতেই পারিনি ও আর থাকবে না। আমি কিছুই করতে পারিনি। মাসের পর মাস শুধু বসে থেকেছি। এখন আমি তাকে জড়িয়ে ধরতে পারি না, তার কণ্ঠও শুনতে পাই না। সবকিছু অনেক বেশি নীরব।” শোকের মধ্যেও হ্যালি এনগুয়েন আগে জানিয়েছিলেন, তিনি ডিকাস্ত্রোর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ চান না। তার ভাষায়, “আমি কোনো অভিযোগ আনার পক্ষে নই। এটা সত্যিই একটি দুর্ঘটনা ছিল।” তবে প্রসিকিউটররা ভিন্ন অবস্থান নেন। ডিকাস্ত্রোর বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড, বেপরোয়াভাবে আগুন লাগিয়ে গুরুতর শারীরিক ক্ষতি এবং ১০০ পাউন্ডের বেশি অবৈধ আতশবাজি রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। কেন ঘটনার প্রায় এক বছর পর অভিযোগ গঠন করা হলো, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। দোষী সাব্যস্ত হলে ডিকাস্ত্রোর সর্বোচ্চ ছয় বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। অরেঞ্জ কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি টড স্পিটজার বলেন, “অবৈধ আতশবাজি কেনা ও ব্যবহার করার মধ্যে কোনো দুর্ঘটনা নেই। আট বছরের একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং যার কারণে এই মৃত্যু ঘটেছে, তাকে আইনের মুখোমুখি হতে হবে। কয়েক সেকেন্ডের আনন্দ কোনো শিশুর জীবন বা আজীবনের শোকের বিনিময়ে হতে পারে না।”
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলপন্থি দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি সমাবেশের সময় পল কেসলার (৬৯) নামে এক ইহুদি বিক্ষোভকারীকে পিটিয়ে হত্যার দায়ে এক আরব বংশোদ্ভূত কলেজ শিক্ষককে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত ওই শিক্ষকের নাম লোয়ায় আবদেল ফাত্তাহ আলনাজি (৫৩)। তিনি জর্ডানিয়ান বংশোদ্ভূত এবং ক্যালিফোর্নিয়ার একটি কমিউনিটি কলেজের কম্পিউটার বিজ্ঞানের শিক্ষক। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। আদালতের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ শুরু হওয়ার এক মাস পর ক্যালিফোর্নিয়ার থাউজেন্ড ওকস এলাকায় এই সহিংসতার ঘটনা ঘটে। সেখানে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ চলাকালীন আলনাজি ক্ষুব্ধ হয়ে অবসরপ্রাপ্ত ইহুদি নাগরিক কেসলারের মাথায় একটি মেগাফোন (মাইক) দিয়ে আঘাত করেন। এতে কেসলার সজোরে পেছনের দিকে উল্টে পাকা রাস্তার ওপর পড়ে যান এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পান। পরদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আদালতে আলনাজি অনিচ্ছাকৃত নরহত্যা এবং মারাত্মক শারীরিক আঘাতের অপরাধ স্বীকার করেন। আদালত তাঁকে এক বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি দুই বছরের প্রবেশন (নজরদারি) মঞ্জুর করেছে। আগামী ৭ আগস্ট থেকে তাঁর এই সাজা কার্যকর শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এই রায়কে অত্যন্ত ‘নমনীয়’ ও ‘লঘু শাস্তি’ আখ্যা দিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছে বিভিন্ন ইহুদি সংগঠন। মামলার ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ও আদালতের এই রায়ের বিরোধিতা করেছে। তাদের মতে, প্রকাশ্য দিবালোকে একজন প্রবীণ নাগরিকের ওপর এমন সহিংস হামলার ঘটনায় রাজ্য কারাগারে আরও দীর্ঘমেয়াদি সাজাই ছিল উপযুক্ত শাস্তি। অন্যদিকে, ‘অ্যান্টি-ডিফেমেশন লিগ’সহ একাধিক ইহুদি মানবাধিকার সংস্থার দাবি, এই রায় অপরাধের ভয়াবহতার তুলনায় কিছুই নয় এবং এটি সমাজে ভুল বার্তা দেবে যে মতাদর্শগত পার্থক্যের কারণে ইহুদিদের ওপর হামলা করেও পার পাওয়া যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় সদ্য কেনা একটি বাড়ির পেছনের উঠান থেকে মানুষের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছে। সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাপল ভ্যালি এলাকায় ঘটা এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় শেরিফ ডিপার্টমেন্ট। বাড়ির আঙিনায় এমন অপ্রত্যাশিত কিছু মেলায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ক্রেস্ট ড্রাইভ এলাকার ওই বাড়ির নতুন মালিক জানান, গত সপ্তাহান্তে তার ১৯ বছর বয়সী ছেলে বাড়ির পেছনের উঠানে কঙ্কালটি প্রথম দেখতে পায়। আশ্চর্যের বিষয় হলো, বাড়িটি কেনার আগে নিয়ম অনুযায়ী যাবতীয় পরিদর্শন ও মূল্যায়ন (ইন্সপেকশন ও অ্যাপ্রাইজাল) সম্পন্ন করা হয়েছিল। সে সময় কারও চোখেই এমন কিছু পড়েনি। খবর পেয়ে সান বার্নার্ডিনো কাউন্টি শেরিফ ডিপার্টমেন্টের অ্যাপল ভ্যালি ডেপুটুরা ঘটনাস্থলে এসে একাধিক হাড়গোড় উদ্ধার করেন। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, কঙ্কালে আঘাতের বা ট্রমার কোনো স্পষ্ট চিহ্ন প্রাথমিকভাবে পাওয়া যায়নি। নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করতে এবং মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে করোনার ময়নাতদন্ত করবেন। পাশাপাশি ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করছে পুলিশ। দীর্ঘদিনের প্রতিবেশী এডওয়ার্ড ও পামেলা সানচেজ জানান, বাড়িটি অন্তত এক বছর ধরে খালি পড়ে ছিল। সম্প্রতি সেখানে পুরোনো জিনিসপত্র বিক্রির (এস্টেট সেল) জন্য লোকজনের আনাগোনা শুরু হয়। পামেলা বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, "মাত্র দুই সপ্তাহ আগেই এখানে এস্টেট সেল হয়েছে, তখন কেউ কিছু দেখল না, এটা সত্যিই অবাক করার মতো।" প্রতিবেশীদের তথ্যমতে, আগে এই বাড়িতে এক বয়স্ক দম্পতি থাকতেন। স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রীও বাড়িটি ছেড়ে চলে যান বলে ধারণা করা হয়। অন্তত এক বছর আগে পুলিশ ওই দম্পতির খোঁজ নিতে (ওয়েলফেয়ার চেক) একবার ওই বাড়িতে এসেছিল বলেও জানান প্রতিবেশীরা। এই কঙ্কালটি কার, তা নিয়ে পুরো এলাকায় রহস্য ও আতঙ্ক দানা বেঁধেছে। নতুন মালিকের নিয়োগ করা কর্মী আব্রাহাম নেগ্রেট জানান, কাজ করতে গিয়ে তিনি রীতিমতো নার্ভাস বোধ করছেন। ওই গাছে বা আশপাশে আরও কিছু লুকিয়ে থাকতে পারে ভেবে তিনি অস্বস্তিতে আছেন। শেরিফ ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, ওই সম্পত্তি থেকে এর আগে কেউ নিখোঁজ হয়েছিলেন কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে কারও কাছে কোনো তথ্য থাকলে তাদের হোমিসাইড ব্যুরোতে যোগাযোগের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অর্থাভাবে হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে গেল ১৩৮ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী ক্যাথলিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান 'সেন্ট ব্রিজিড একাডেমি'। সান ফ্রান্সিসকো আর্চডায়োসিস তাদের যাজকদের দ্বারা যৌন নিপীড়নের শিকার শত শত ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। ইতিহাসে অন্যতম বড় এই ক্ষতিপূরণ চুক্তির মাত্র কয়েক দিনের মাথায় স্কুলটি স্থায়ীভাবে বন্ধের ঘোষণা এলো। ১৮৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই স্কুলটি সম্প্রতি কে-৮ (কিন্ডারগার্টেন থেকে অষ্টম গ্রেড) মাইক্রোস্কুলে রূপান্তরিত হয়েছিল। নিউরোডাইভারজেন্ট এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষায়িত এই স্কুলটিতে প্রতি চারজন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক বরাদ্দ ছিল। বার্ষিক ২০,৯৫০ ডলার বেতনের এই স্কুলটি বন্ধের খবরে হতবাক হয়ে পড়েছেন অভিভাবকরা। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রীষ্মের শেষদিকে তাদের জমার টাকা ফেরত দেওয়া হবে। তবে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে সন্তানদের জন্য সমমানের বিশেষায়িত স্কুল খুঁজে পাওয়া নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অভিভাবকরা। আর্চডায়োসিসের ক্যাথলিক স্কুলগুলোর সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস ফিশার এক চিঠিতে অভিভাবকদের জানান, স্কুলের আর্থিক দিকগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনার পর এবং সব ধরনের বিকল্প শেষ হয়ে যাওয়ায় স্কুলটি আর পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। সান ফ্রান্সিসকো ক্রনিকলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্কুল বন্ধের এই ঘোষণার ঠিক আগেই আর্চডায়োসিস প্রায় ৩৯৫ মিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল ক্ষতিপূরণ চুক্তির কথা জানায়। এর মাধ্যমে যাজকদের হাতে শৈশবে যৌন হেনস্থার শিকার হওয়া প্রায় ৫৩০ জন ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। ক্যালিফোর্নিয়ার 'চাইল্ড ভিকটিমস অ্যাক্ট'-এর কারণে বহু দশকের পুরনো যৌন নিপীড়নের মামলা পুনরুজ্জীবিত করার সুযোগ তৈরি হয়। এর ফলে ২০২৩ সালের আগস্টে চ্যাপ্টার ১১-এর অধীনে দেউলিয়া সুরক্ষার আবেদন করেছিল আর্চডায়োসিস। বাদীপক্ষের আইনজীবীদের মতে, ক্যালিফোর্নিয়ায় সান ফ্রান্সিসকো আর্চডায়োসিসই একমাত্র ক্যাথলিক ডায়োসিস ছিল, যারা ২০২৩ সাল পর্যন্ত অভিযুক্ত যাজকদের তালিকা প্রকাশ করেনি। তবে নতুন এই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো আপস-রফার ক্ষেত্রে গোপনীয়তার চুক্তি নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত যাজকদের বিষয়ে বৃহত্তর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। যৌন নিপীড়নের মামলার আর্থিক চাপের কারণে ক্যাথলিক প্রতিষ্ঠানগুলোর এমন পরিণতি এটাই প্রথম নয়। সেন্ট ব্রিজিড একাডেমি বন্ধ হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগেই ওকল্যান্ডের রোমান ক্যাথলিক ডায়োসিসও তাদের নিজস্ব যাজকদের বিরুদ্ধে ওঠা শত শত শিশু যৌন নিপীড়নের মামলার কারণে সৃষ্ট আর্থিক সংকটের কথা উল্লেখ করে ১৩টি ইস্ট বে প্যারিশ বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসের ভেনিস এলাকায় দ্রুতগতির একটি ট্রাকের ধাক্কা থেকে দুই বছর বয়সী মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে নিজের একটি পায়ের নিচের অংশ হারিয়েছেন ৩৮ বছর বয়সী জর্ডান স্ট্যানার্ড। গুরুতর আহত হওয়ার পর চিকিৎসকদের তাঁর হাঁটুর নিচ থেকে পা কেটে ফেলতে হয়েছে। বর্তমানে তিনি পুনর্বাসন চিকিৎসা নিচ্ছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম KABC-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক সপ্তাহ আগে পরিবারের সঙ্গে একটি মুদি দোকান থেকে কেনাকাটা শেষে গাড়ির কাছে ফিরেছিলেন জর্ডান স্ট্যানার্ড। তখন তিনি তাঁর দুই বছরের মেয়ে স্যাডিকে গাড়িতে বসাচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ট্রাক দ্রুতগতিতে তাদের দিকে ছুটে আসে। ঘটনার আকস্মিকতায় তিনি মেয়েকে দ্রুত গাড়ির ভেতরে ছুড়ে দেন। পরের মুহূর্তেই ট্রাকটি তাঁকে সজোরে ধাক্কা দেয়। জর্ডান বলেন, "আমি শুধু মেয়েকে গাড়ির ভেতরে ছুড়ে দিয়েছিলাম। এরপর পুরো ট্রাকটি আমার শরীরে আঘাত করে এবং আমাকে ঘুরিয়ে ফেলে দেয়।" এই দুর্ঘটনায় তাঁর বাঁ পা ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নিজের আঘাতের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, "দেখে মনে হচ্ছিল যেন আমি কোনো বোমার ওপর পা দিয়েছিলাম। আমার পা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল।" গুরুতর আঘাতের কারণে চিকিৎসকদের তাঁর হাঁটুর নিচের অংশ কেটে ফেলতে হয়। তবে সবচেয়ে স্বস্তির বিষয়, পুরো ঘটনায় তাঁর ছোট মেয়ে স্যাডি সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে। মেয়েকে রক্ষা করতে পা হারানোর বিষয়ে জর্ডানের কোনো আক্ষেপ নেই। আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, "যদি কেউ আমাকে বলে, বাকি জীবন মেয়েদের সঙ্গে থাকার জন্য শুধু একটি পা হারাতে হবে, তাহলে আমি বিনা দ্বিধায় সেই সিদ্ধান্তই নেব।" তিনি বলেন, দুর্ঘটনার কথা যতই মনে পড়ছে, ততই কৃতজ্ঞ বোধ করছেন যে তাঁর মেয়ের কোনো ক্ষতি হয়নি। "ওর যদি কিছু হতো, সেই চিন্তাও আমি করতে পারি না," বলেন তিনি। দুর্ঘটনার আগে জর্ডান ছিলেন অত্যন্ত সক্রিয় জীবনযাপনে অভ্যস্ত। নিয়মিত ম্যারাথনে অংশ নিতেন এবং মেয়েদের সঙ্গে খেলাধুলা করতেন। কিন্তু দুর্ঘটনার পর তাঁর জীবন পুরোপুরি বদলে গেছে। এখন বেশির ভাগ সময় তাঁকে বিছানায় কাটাতে হচ্ছে এবং কৃত্রিম পা ব্যবহারের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পুনর্বাসন চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যয় মেটাতে তাঁর পরিবারের সদস্যরা একটি GoFundMe তহবিল সংগ্রহ কর্মসূচি চালু করেছেন। সেই অর্থ দিয়ে ভবিষ্যতে তাঁর জন্য কৃত্রিম পা সংগ্রহ এবং চিকিৎসার খরচ বহনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। জর্ডান বলেন, এই দুর্ঘটনা তাঁকে জীবনের একটি বড় শিক্ষা দিয়েছে। তাঁর ভাষায়, কঠিন সময়ে পরিবার ও বন্ধুদের পাশে পাওয়া সবচেয়ে বড় শক্তি। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে তাঁকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া জরুরি সেবাকর্মীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। এত বড় দুর্ঘটনার পরও ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী জর্ডান। তাঁর লক্ষ্য, কৃত্রিম পা নিয়ে সুস্থ হয়ে আগামী বছরের লস অ্যাঞ্জেলেস ম্যারাথনে আবার অংশ নেওয়া।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিতব্য ৪০তম ফোবানা কনভেনশনকে সফল ও সার্থক করার লক্ষ্যে রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আসন্ন এই বৃহৎ আয়োজনকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সম্পৃক্ততা বাড়াতেই মূলত এই প্রস্তুতি সভার আয়োজন করা হয়। উক্ত আলোচনা সভায় ওয়াশিংটন ডিসি, মেরিল্যান্ড ও ভার্জিনিয়া (ডিএমভি) অঞ্চলের বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং ফোবানাপ্রেমীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় ৪০তম ফোবানা কনভেনশনের সার্বিক প্রস্তুতি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা এবং প্রবাসীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়। উপস্থিত বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, ফোবানা কেবল একটি বার্ষিক সম্মেলন নয়; এটি উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের ঐক্য, সংস্কৃতি ও আবহমান ঐতিহ্যের অন্যতম বৃহৎ মিলনমেলা। তাই এবারের এই ঐতিহাসিক আয়োজনকে স্মরণীয় করে তুলতে সকলের সম্মিলিত সহযোগিতা ও অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সভায় উপস্থিত সকলেই লস অ্যাঞ্জেলেসের এই আয়োজনকে সর্বাত্মকভাবে সফল করার লক্ষ্যে একযোগে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে প্রবাসীদের ব্যাপক উপস্থিতি নিশ্চিত করার বিষয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। পরিশেষে, আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে আলোচনা সভায় অংশগ্রহণকারী সকল অতিথি, কমিউনিটি নেতা ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা হয়। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ৪০তম ফোবানা কনভেনশন প্রবাসী বাংলাদেশিদের ইতিহাসে একটি অনন্য ও সফল আয়োজনে পরিণত হবে বলে দৃঢ় প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।
ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজ জন্মদাতা বাবার বিকৃত লালসার শিকার হয়ে এক কিশোরীর আত্মহত্যার ঘটনায় অপরাধী নামমাত্র শাস্তি পাওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের মা। অভিযুক্ত বাবা মাত্র এক বছর কাউন্টি জেলে থাকার সাজা পাওয়ায় ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ আইনের কঠোর সমালোচনা করে রাজ্যের গভর্নর গ্যাভিন নিউসমের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তিনি। জানা গেছে, ১৮ বছর বয়সী মাকায়লা রেনে সেটেলস নর্থ ক্যারোলিনায় তার শৈশবের বাড়ি ছেড়ে লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে প্রায় ৪০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে মুরপার্কে বাবার সঙ্গে থাকতে এসেছিলেন। গত বছরের (২০২৫) জুলাই মাসে ৪১ বছর বয়সী বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শ্যাভেজ তাকে মদ্যপান করিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। এই মর্মান্তিক ঘটনার পাঁচ মাস পর বিষণ্ণতায় ভুগে মাকায়লা আত্মহত্যা করেন। আদালতে প্রসিকিউটররা শ্যাভেজের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হন, কারণ তথ্য-প্রমাণ অনুযায়ী কেবল 'অজাচার' বা ইনসেস্ট-এর বিষয়টিই নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছিল। অন্যদিকে শ্যাভেজ নির্লজ্জভাবে দাবি করেছিলেন যে এই সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মতিক্রমেই হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত শ্যাভেজকে মাত্র এক বছরের কাউন্টি জেল, তিন বছরের প্রবেশন এবং ২০ বছরের জন্য যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার সাজা দেওয়া হয়। এই রায়ে চরম হতাশা প্রকাশ করে মাকায়লার ৪০ বছর বয়সী মা ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, "এটি সম্পূর্ণ হাস্যকর, এটি কোনো বিচার হতে পারে না। আমি এই আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে অন্য কোনো পরিবারকে আমাদের মতো এমন ভয়ানক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।" তিনি তার মেয়ের নামে নতুন আইন পাসেরও দাবি জানান। ক্যারোলিনা আক্ষেপ করে বলেন, মেয়ে জীবিত থাকতে গোয়েন্দাদের কাছে ভিডিও সাক্ষাৎকারে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিলেও, তার মৃত্যুর পর প্রসিকিউটররা জানান যে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণের জন্য ওই তথ্যগুলো আইনিভাবে আর বৈধ নয়। এমনকি কাজিনকে দেওয়া মাকায়লার একটি হৃদয়বিদারক অডিও রেকর্ডিং থাকলেও সেটি বিচার প্রক্রিয়ায় যথেষ্ট ছিল না বলে জানানো হয়। লস অ্যাঞ্জেলেস-ভিত্তিক সাবেক ফেডারেল প্রসিকিউটর নেমা রহমানি এই ঘটনাকে 'বিচারের নামে প্রহসন' বলে আখ্যায়িত করে বলেন, "দুর্ভাগ্যবশত শ্যাভেজ তার মেয়ের মর্মান্তিক আত্মহত্যার সুযোগ নিয়েছে। ভুক্তভোগীর অনুপস্থিতিতে তার অসম্মতি প্রমাণ করতে না পারায় ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি ধর্ষণের অভিযোগ গঠন করতে পারেননি।" এদিকে, স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বা আদালতের সিদ্ধান্তের বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও গভর্নর নিউসমের কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, গভর্নর যৌন নির্যাতনের বিষয়গুলোকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন এবং ভুক্তভোগীদের সুরক্ষায় তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। তবে ক্যারোলিনার মতে, ক্যালিফোর্নিয়ার এই আইনি কাঠামো ভুক্তভোগীদের চেয়ে অপরাধীদেরই বেশি সুরক্ষা দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি প্রশিক্ষণ মাঠে ২৭ টন ওজনের একটি সাঁজোয়া যানের (ট্যাংক) নিচে চাপা পড়ে এক মার্কিন সেনার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, গত ১০ জুন ভোরে সামরিক মহড়া চলাকালীন 'এম২ ব্র্যাডলি' নামের একটি ফাইটিং ভেহিকল বা সাঁজোয়া যানের নিচে চাপা পড়েন ২৯ বছর বয়সী আদ্রিয়ান বনসে। জানা গেছে, ওই মহড়া চলাকালীন সময়ে সাঁজোয়া যানটি থেকে চালকের দৃষ্টিসীমা বা ভিজিবিলিটি বেশ সীমিত ছিল, যার ফলে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত আদ্রিয়ান বনসে মূলত জর্জিয়ার ফোর্ট স্টুয়ার্টে মোতায়েন থাকা মার্কিন সেনাবাহিনীর থার্ড ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের একজন কমব্যাট ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে থার্ড ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের কমান্ডার মেজর জেনারেল জন লুবাস এক বিবৃতিতে বলেন, "এটি আমাদের পুরো ডিভিশনের জন্য একটি বিধ্বংসী ক্ষতি। আদ্রিয়ান ছিলেন একজন অসাধারণ সেনা, যিনি আমাদের মিশন এবং গর্বের সাথে দেশের সেবা করার প্রতি সম্পূর্ণরূপে নিবেদিত ছিলেন। আমরা গভীরভাবে শোকাহত এবং এই কঠিন সময়ে তার পরিবার, প্রিয়জন ও সহকর্মীদের পাশে আছি।" নিউইয়র্কের বাসিন্দা স্পেশালিস্ট আদ্রিয়ান ২০২৩ সালে মার্কিন সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। জানা গেছে, মোহাভি মরুভূমির ন্যাশনাল ট্রেনিং সেন্টারে আদ্রিয়ান সাঁজোয়া যানগুলোর সাথে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন। বিদেশে মোতায়েনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত ঘোষণার আগে সেনা ইউনিটগুলো সাধারণত এক মাস ধরে এই প্রশিক্ষণ মাঠে বড় পরিসরে মহড়া পরিচালনা করে থাকে। থার্ড ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশন তাদের ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছে, ফোর্ট স্টুয়ার্টে নতুন যোগ দিলেও আদ্রিয়ান ইতিমধ্যেই তার সহকর্মীদের মাঝে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছিলেন। উল্লেখ্য, গত বছর মার্কিন সেনাবাহিনীতে প্রশিক্ষণ চলাকালীন দুর্ঘটনা বা বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ৩১ জন সেনার মৃত্যু হয়েছিল, যার বেশিরভাগই ছিল সামরিক যান উল্টে যাওয়ার মতো গ্রাউন্ড দুর্ঘটনা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের শতকোটিপতি বা ধনকুবেরদের ওপর সাময়িকভাবে অতিরিক্ত কর আরোপের একটি বিতর্কিত প্রস্তাবের ভাগ্য নির্ধারণ হতে যাচ্ছে আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে। এই প্রস্তাবের পক্ষে থাকা শ্রমিক ইউনিয়ন সমালোচকদের তীব্র চাপ উপেক্ষা করে চূড়ান্ত লড়াইয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর বিষয়টি ব্যালটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। 'বিলিয়নিয়ার ট্যাক্স' বা ধনকুবের কর নামে পরিচিত এই প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হলো ক্যালিফোর্নিয়ার স্বাস্থ্যসেবা খাতে বড় অঙ্কের তহবিল নিশ্চিত করা। প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছে সার্ভিস এমপ্লয়িজ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন হেলথকেয়ার ওয়ার্কার্স ওয়েস্ট নামক একটি প্রভাবশালী সংগঠন। এই নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাসকারী যেসব ব্যক্তির মোট সম্পদের পরিমাণ ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ডলারের বেশি, তাদের ওপর এককালীন ৫ শতাংশ কর আরোপ করা হবে। এর মাধ্যমে রাজ্য সরকার প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যা মূলত কেন্দ্রীয় অনুদান হ্রাসের পর ক্যালিফোর্নিয়ার মেডিকেড স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ব্যয় করা হবে। ইউনিয়নের এই প্রস্তাবের পক্ষে ক্যালিফোর্নিয়ার সাধারণ মানুষের ব্যাপক সমর্থন থাকলেও খোদ ডেমোক্র্যাট দলীয় গভর্নর গ্যাভিন নিউজম এবং ইউনিয়নের অনেক পুরনো মিত্র এর তীব্র বিরোধিতা করছেন। তাদের যুক্তি, এটি একটি স্থায়ী সমস্যার সাময়িক সমাধান মাত্র। এর ফলে অতি-ধনী ব্যক্তিরা ক্যালিফোর্নিয়া ছেড়ে অন্য রাজ্যে চলে যেতে পারেন, যার ফলে রাজ্য সরকার নিয়মিত আয়কর বাবদ কোটি কোটি ডলারের স্থায়ী রাজস্ব হারাবে। এছাড়া ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর পদের দুই সম্ভাব্য পদপ্রার্থীও এই করের বিরোধিতা করেছেন। ইতিমধ্যেই ক্যালিফোর্নিয়ার চিকিৎসা, শিক্ষা এবং আবাসন খাতের বিভিন্ন সংগঠন একত্রিত হয়ে এই করের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী জোট গঠন করেছে। তাদের মতে, এই বিপজ্জনক কর ব্যবস্থা রাজ্যের রাজস্ব পরিস্থিতিকে আরও ভঙ্গুর করে তুলবে। এতে স্কুল, ক্লিনিক, জননিরাপত্তা এবং বিভিন্ন অবকাঠামোগত প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়ন সরাসরি হুমকির মুখে পড়বে। অদলীয় আইনসভা বিশ্লেষক অফিসও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে প্রথম কয়েক বছর ভালো রাজস্ব এলেও পরবর্তী সময়ে বার্ষিক আয়কর কমতে শুরু করবে। অন্যদিকে সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ধনীরা এই বিলিয়নিয়ার কর ঠেকাতে ইতিমধ্যেই কোটি কোটি ডলারের তহবিল গঠন করেছেন। গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা সের্গেই ব্রিন এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে প্রচারণার জন্য একাই ৮২ মিলিয়ন ডলার অনুদান দিয়েছেন। ক্যালিফোর্নিয়া মূলত তার শীর্ষ ১ শতাংশ ধনীর আয়করের ওপর প্রায় অর্ধেক নির্ভরশীল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভোটারদের একটি অংশ এই করের পক্ষে থাকলেও নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে এবং আইনি জটিলতা তৈরি হবে, এর সমর্থন তত কমে যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় তিনটি হিংস্র কুকুরের আক্রমণ থেকে বাঁচতে লেকে ঝাঁপ দিয়ে ১২ বছর বয়সী এক কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। কার্ন কাউন্টির সেন্ট্রাল পার্ক লেকে ঘটে যাওয়া এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় ফার্নান্দো টোরেস মোরেনো নামের ওই কিশোর প্রাণ হারায়। ক্যালিফোর্নিয়া সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, গত ১৮ জুন পানিতে ডুবে যাওয়ার একটি জরুরি খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। জানা যায়, কুকুরের তাড়া খেয়ে ফার্নান্দো লেকে ঝাঁপ দেওয়ার পর আর ভেসে ওঠেনি। পুলিশ লেকের পানি থেকে তাকে উদ্ধার করে এবং ঘটনাস্থল থেকে কুকুরের কামড়ে আহত আরেক কন্যাশিশুকেও উদ্ধার করে। উদ্ধারের পরপরই ফার্নান্দোকে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে নিয়ে জীবন বাঁচানোর সব রকম চিকিৎসা শুরু করা হয়। অন্যদিকে, আহত কন্যাশিশুটিকেও স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে হাসপাতালের চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে ১৯ জুন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে ফার্নান্দো। এমন অকালমৃত্যুতে ওই কিশোরের পরিবার চরম শোক ও বেদনায় ভেঙে পড়েছে। এই ঘটনার তদন্তে নেমে প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণের ভিত্তিতে পুলিশ ৬৮ বছর বয়সী কেনেথ ডবিন্স নামের এক ব্যক্তির সন্ধান পায়। ডবিন্স প্রাথমিকভাবে দাবি করেছিলেন যে তিনি তার তিনটি কুকুর নিয়ে পার্কেই ছিলেন এবং কুকুরগুলো সারাক্ষণ তার সঙ্গেই ছিল। সে সময় পুলিশ তাকে আটক করেনি। কিন্তু পরবর্তীতে পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, হামলাকারী ওই কুকুরগুলো আসলে ডবিন্সেরই। এই মর্মান্তিক মৃত্যু ও হামলার ঘটনায় তল্লাশি পরোয়ানা নিয়ে পুলিশ ডবিন্সের ঠিকানায় গেলে তাকে বা তার কুকুরগুলোকে আর পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি থেকে একটি কুকুর উদ্ধার করা হলেও ডবিন্স এবং বাকি দুটি কুকুরের সন্ধানে জনসাধারণের সহায়তা চেয়েছে পুলিশ। ডবিন্স একজন ভবঘুরে এবং পূর্বদণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধী। ৬ ফুট ৬ ইঞ্চি উচ্চতা এবং প্রায় ২৫০ পাউন্ড ওজনের এই ব্যক্তির ধূসর চুল ও বাদামি চোখ রয়েছে। এদিকে, এমন অকালমৃত্যুতে দিশেহারা ফার্নান্দোর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এবং অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার খরচ জোগাতে একটি 'গোফান্ডমি' (GoFundMe) পেজ খোলা হয়েছে। সেখানে লেখা হয়েছে, ফার্নান্দো ছিল অত্যন্ত উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত এক কিশোর, যে সবসময় তার ভাইবোনদের সঙ্গে খেলতে এবং নতুন বন্ধু বানাতে ভালোবাসত। তার এই অকাল প্রস্থান পরিবার ও সমাজের মানুষের হৃদয়ে এক গভীর শূন্যতা তৈরি করেছে।
আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের নতুন একটি বিতর্কিত প্লাস্টিক ও রিসাইক্লিং আইনের বিরুদ্ধে একাট্টা হয়ে মামলা করেছে জর্জিয়াসহ দেশের ১৭টি অঙ্গরাজ্য। ক্যালিফোর্নিয়ার এই আইনটি কার্যকর হলে জর্জিয়াসহ পুরো আমেরিকার সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যাবে—এমন আশঙ্কা থেকেই ফেডারেল আদালতে এই যৌথ মামলা দায়ের করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে ‘প্লাস্টিক পলিউশন প্রিভেনশন অ্যান্ড প্যাকেজিং প্রডিউসার রেসপন্সিবিলিটি অ্যাক্ট’ নামের এই আইনটি মূলত ২০২২ সালে পাস হয়েছিল, যার চূড়ান্ত নিয়মাবলী সম্প্রতি চূড়ান্ত করা হয়েছে। সোমবার ফেডারেল আদালতে দায়ের করা এই মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়ার নতুন নিয়ম অনুযায়ী কোম্পানিগুলোকে পর্যায়ক্রমে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক (সিঙ্গেল-ইউজ প্লাস্টিক) ব্যবহার বন্ধ করতে হবে এবং সব ধরনের প্যাকেজিং রিসাইকেল বা পচনশীল করা বাধ্যতামূলক হবে। বাদীপক্ষ এই নিয়মগুলোকে ‘অতিরিক্ত ও শাস্তিমূলক বাধ্যবাধকতা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাদের দাবি, এর ফলে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যাবে এবং সেই বাড়তি খরচের বোঝা পরোক্ষভাবে সাধারণ ভোক্তাদের পকেট থেকেই কাটা হবে। জর্জিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল ক্রিস কার ক্যালিফোর্নিয়ার এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, "জর্জিয়ায় আমরা কীভাবে আমাদের ব্যবসা পরিচালনা করব, তা বলে দেওয়ার কোনো অধিকার ক্যালিফোর্নিয়ার নেই। কিন্তু এই প্লাস্টিক আইনটি ঠিক সেই কাজটিই করার চেষ্টা করছে।" তিনি আরও বলেন, এটি পশ্চিম উপকূলের (ওয়েস্ট কোস্ট) এলিটদের একটি অসাংবিধানিক চাপ। তারা নিজেদের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য সাধারণ আমেরিকানদের পকেট থেকে বাড়তি টাকা খসাতে দ্বিধা করছে না। জর্জিয়ার উৎপাদক এবং সাধারণ ক্রেতাদের স্বার্থ রক্ষার্থেই তারা এই আইনি লড়াইয়ে নেমেছেন। ১৭টি অঙ্গরাজ্যের এই জোট এবং ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অফ হোলসেলার-ডিস্ট্রিবিউটরস দাবি করেছে যে, এই আইনটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ক্যালিফোর্নিয়া উভয়ের সংবিধান লঙ্ঘন করে। তাই তারা আদালতের কাছে আইনটিকে অবৈধ এবং অকার্যকর ঘোষণার দাবি জানিয়েছে। জর্জিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই আইনের অর্থনৈতিক প্রভাব হবে মারাত্মক, যা বিশেষ করে কম আয়ের ও সুবিধাবঞ্চিত সাধারণ মানুষকে সবচেয়ে বেশি সংকটে ফেলবে। মামলায় ক্যালিফোর্নিয়ার রিসাইক্লিং সংস্থা ‘ক্যালরিসাইকেল’-এর পরিচালক জো হেলার এবং আইনটি বাস্তবায়নে নিয়োজিত অলাভজনক সংস্থা ‘সার্কুলার অ্যাকশন অ্যালায়েন্স’-কে বিবাদী করা হয়েছে। অবশ্য ক্যালিফোর্নিয়ার পরিবেশ সুরক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী ইয়ানা গার্সিয়া মে মাসে এক বিবৃতিতে এই আইনের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেছিলেন, "ক্যালিফোর্নিয়া মূলত একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ও প্যাকেজিংয়ের দায়িত্ব উৎপাদনকারীদের ওপরই চাপিয়ে দিচ্ছে। এই সংস্কারের ফলে স্থানীয় সরকার ও সাধারণ মানুষের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার খরচ কমবে এবং দূষণ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।" তবে এই আইনের বিরোধিতা শুধু ব্যবসায়ীরাই করছেন না, বরং কিছু পরিবেশবাদী সংগঠনও এর চূড়ান্ত নিয়মাবলীকে ‘দুর্বল’ আখ্যা দিয়ে ইতিমধ্যে পৃথক মামলা করেছে। জর্জিয়ার সাথে এই মামলায় যোগ দেওয়া অন্য ১৬টি রাজ্য হলো—অ্যালাবামা, ফ্লোরিডা, আইডাহো, ইন্ডিয়ানা, আইডাহো, লুইজিয়ানা, মিসৌরি, মন্টানা, নেব্রাস্কা, নর্থ ডাকোটা, ওকলাহোমা, সাউথ ক্যারোলিনা, সাউথ ডাকোটা, টেক্সাস, ইউটা এবং ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার চিকো শহরের একটি লাইব্রেরিতে গত সোমবার এক কিশোর বন্দুকধারীর এলোপাতাড়ি গুলিতে দুজন নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহত ৪৬ বছর বয়সী জ্যাকব হালের ভাই বেঞ্জামিন হেনেবেরি কান্নাজড়িত কণ্ঠে সাংবাদিকদের কাছে সেদিনের ভয়ংকর ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি জানান, জ্যাকব সেদিন তার সাবেক প্রেমিকার মেয়েকে দেখাশোনা করছিলেন এবং তাকে নিয়ে লাইব্রেরিতে গিয়েছিলেন। বেঞ্জামিনের আক্ষেপ, তার ভাই সম্পূর্ণ ভুল সময়ে ভুল একটি জায়গায় উপস্থিত ছিলেন, যার খেসারত তাকে নিজের জীবন দিয়ে দিতে হয়েছে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের বরাত দিয়ে জানা যায়, ব্র্যাডলি স্কট সায়ার নামের ১৮ বছর বয়সী ওই হামলাকারী হঠাৎ করেই লাইব্রেরিতে প্রবেশ করে নির্বিচারে গুলি চালাতে শুরু করে। বেঞ্জামিন জানান, প্রবেশপথের কাছে থাকায় তার ভাই জ্যাকব সবার আগেই এই নির্মম বুলেটের শিকার হন। জ্যাকবকে হত্যার পর হামলাকারী ডেস্কে বসে থাকা ৭৪ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকেও গুলি করে হত্যা করে। এ সময় একটি শিশুও আহত হয়, যাকে পরবর্তীতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বর্তমানে সে আশঙ্কামুক্ত। সৌভাগ্যক্রমে জ্যাকবের সাথে থাকা তার সাবেক প্রেমিকার মেয়েটি এই ভয়াবহ হামলা থেকে সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় রক্ষা পায়। তবে এই প্রাণহানির সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারত, যদি না লাইব্রেরির কর্মীরা অসীম সাহসিকতার পরিচয় দিতেন। বুট কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মাইক র্যামসি জানিয়েছেন, গুলির শব্দ শোনা মাত্রই কর্মীরা লাইব্রেরিতে উপস্থিত সাধারণ পাঠক ও শিশুদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন এবং দরজাগুলো ভেতর থেকে আটকে দেন। তাদের এই বীরত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কারণেই সেদিন বড় ধরনের কোনো হত্যাযজ্ঞ ঘটেনি। অন্যদিকে, হামলাকারী সায়ার লাইব্রেরির পেছনের দরজা দিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ দ্রুত তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। সম্প্রতি চিকো হাইস্কুল থেকে স্নাতক সম্পন্ন করা এই তরুণের বিরুদ্ধে বর্তমানে হত্যার দুটি অভিযোগ দায়ের করে তাকে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। নিহত ভাইয়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বেঞ্জামিন বলেন, জ্যাকব অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন এবং প্রচুর বই পড়তেন। গত ২৪ ঘণ্টা ধরে নির্ঘুম এই ভাই বলেন, "আমি একবার কাঁদছি, আবার পরক্ষণেই শোকে পাথর হয়ে যাচ্ছি।" কেন তার ভাইকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হলো, তা তিনি কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছেন না। তার ধারণা, এটি সম্পূর্ণ এলোপাতাড়ি একটি হামলা ছিল এবং হামলাকারী জ্যাকবকে আগে থেকে চিনত না। হামলাকারী সায়ারের প্রতি কোনো ক্ষোভ প্রকাশ না করে একরাশ হতাশা নিয়ে বেঞ্জামিন শুধু বলেন, "ছেলেটির দিকে তাকিয়ে আমার ভেতরে কোনো অনুভূতিই কাজ করেনি। সে অযথাই নিজের জীবনটা পুরোপুরি ধ্বংস করে দিল। কী এক অর্থহীন অপচয়!"
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত সেকুইয়া ন্যাশনাল পার্কে বেড়াতে গিয়ে নদীর স্রোতে ভেসে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আন্দ্রেয়া দিয়াজ মন্ড্রাগন নামের ওই কিশোরীর আজীবন স্বপ্ন ছিল একজন সেবিকা বা নার্স হওয়ার। সান্তা মারিয়ার বাসিন্দা আন্দ্রেয়া গত শুক্রবার তার বড় ভাই এবং বন্ধুদের একটি দলের সাথে জীবনের প্রথমবারের মতো এই ন্যাশনাল পার্কে ঘুরতে গিয়েছিলেন। কিন্তু আনন্দঘন এই সফরটি যে মুহূর্তেই তার জীবনের শেষ যাত্রায় পরিণত হবে, তা কেউ ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেনি। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পার্কে ঘোরার সময় হঠাৎ পা পিছলে নদীতে পড়ে যায় আন্দ্রেয়া। মুহূর্তের মধ্যেই তাকে নদীর তীব্র স্রোত ভাসিয়ে নিয়ে যেতে থাকে। তাকে বাঁচাতে তার বড় ভাই ও এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু সঙ্গে সঙ্গে পানিতে ঝাঁপ দিলেও স্রোতের কাছে তারা অসহায় হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে উপস্থিত লোকজন কাপড় বেঁধে দড়ি তৈরি করে উদ্ধারকারী ওই দুজনকে কোনোমতে তীরে তুলে আনতে পারলেও, আন্দ্রেয়াকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। সবার চোখের সামনেই তীব্র স্রোতে তলিয়ে যায় তার নিথর দেহ। আগামী আগস্ট মাসেই সান্তা মারিয়ার পাইওনিয়ার ভ্যালি হাইস্কুলে সিনিয়র বর্ষে ওঠার কথা ছিল সদ্য জুনিয়র বর্ষ শেষ করা আন্দ্রেয়ার। অর্থ সংগ্রহের জন্য খোলা একটি ‘গোফান্ডমি’ (GoFundMe) পেজে তার পরিবার জানিয়েছে, মানুষের সেবা করার নীতিকেই সে জীবনের ব্রত হিসেবে বেছে নিয়েছিল। অত্যন্ত প্রাণবন্ত, সাহসী ও যত্নশীল এই কিশোরী অবসর সময়ে নাচতে এবং পরিবার ও বন্ধুদের সাথে সময় কাটাতে ভালোবাসত। মা, বাবা ও বড় ভাইদের পাশাপাশি ছোট বোনকে সবসময় আগলে রাখা এই মেয়েটির আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো পরিবার ও বন্ধুমহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। উল্লেখ্য, এই বছর ফ্রেসনো ফায়ার ডিপার্টমেন্ট এখন পর্যন্ত নদীতে ১৫টি উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছে, যেখানে পানিতে ডুবে মোট ৬ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার প্লেসার কাউন্টিতে সোমবার গভীর রাতে শূকর বোঝাই একটি বিশাল ট্রাক বা বিগ রিগ উল্টে যাওয়ার পর সিয়েরা নেভাদা অঞ্চলের ওয়েস্টবাউন্ড ইন্টারস্টেট-৮০ মহাসড়কটি পুরোপুরি অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণে মহাসড়কের প্রধান দুটি লেনই সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে ওই রুটে চলাচলকারী শত শত যানবাহন আটকা পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে এবং পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে ভেঙে পড়েছে। স্থানীয় পুলিশ ও হাইওয়ে প্রশাসন জানিয়েছে, সোমবার রাত ঠিক ১২টার কিছু সময় আগে কোলফ্যাক্স এলাকার উত্তর দিকে অবস্থিত মাগ্রা নামক স্থানের কাছাকাছি এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঠিক কী কারণে বা কীভাবে এই বিশাল ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের ওপর উল্টে গেল, তা এখনও সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি। তবে দুর্ঘটনার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে ট্রাকটি একপাশে পুরোপুরি কাত হয়ে পুরো রাস্তাটি আটকে ফেলে। দুর্ঘটনার পর পরই দুর্ঘটনাকবলিত ওই ট্রাকের ভেতর থেকে ভেতরে থাকা শূকরগুলোর বিকট চিৎকার ও গোঙানির শব্দ শোনা যাচ্ছিল। উদ্ধারকারী দল এবং পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। এই মারাত্মক দুর্ঘটনায় বেশ কিছু প্রাণী ঘটনাস্থলেই মারা গেছে বলে কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। তবে ভাগ্যক্রমে কিছু শূকর অলৌকিকভাবে বেঁচেও গেছে, যেগুলোকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার কারণে মহাসড়কে তীব্র জটলা তৈরি হওয়ায় পুলিশ দ্রুত ট্রাফিকের রুট পরিবর্তন করে দেয়। বর্তমানে সিক্রেট টাউন রোডের দিক দিয়ে সব ধরনের যানবাহন ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বা বিকল্প পথে ডাইভারশন দেওয়া হয়েছে। তবে অবরুদ্ধ হয়ে থাকা ইন্টারস্টেট-৮০ মহাসড়কটি ঠিক কখন নাগাদ পুনরায় সাধারণ যাতায়াতের জন্য সম্পূর্ণ খুলে দেওয়া সম্ভব হবে, সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত কোনো সময় বা আনুমানিক সময় ঘোষণা করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান ডিয়েগোর একটি বিশিষ্ট মসজিদে ভয়াবহ এক গণগুলিবর্ষণের ঘটনার ঠিক এক মাস পূর্তির দিনে আবারও হামলার চেষ্টা চালানো হয়েছে। তবে সেখানে নিয়োজিত একজন অত্যন্ত সতর্ক নিরাপত্তা প্রহরীর বুদ্ধিমত্তা এবং দূরদর্শিতার কারণে এবার এক বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী ট্র্যাজেডি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। গত মে মাসে কেইনি ক্লার্ক এবং ক্যালেব ভাজকুয়েজ নামের দুই কিশোর উগ্রবাদীর ভয়াবহ বন্দুক হামলায় ওই উপাসনালয়ে তিনজন মুসল্লি নিহত হয়েছিলেন। সেই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকে মসজিদটিতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জারি রাখা হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) মার্কিন গণমাধ্যমের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ইসলামিক সেন্টার অব সান ডিয়েগো নামের ওই মসজিদে গত বৃহস্পতিবার এই উদ্বেগজনক ঘটনাটি ঘটে। মসজিদের ইমাম তাহা হাসান জানান, তাদের একজন ব্যক্তিগত নিরাপত্তা প্রহরী লক্ষ্য করেন যে একটি সন্দেহভাজন গাড়ি মসজিদের চারপাশ দিয়ে বারবার চক্কর দিচ্ছে। বিষয়টি দেখে তার মনে সন্দেহ জাগলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবহিত করেন। ক্যালিফোর্নিয়ার স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে তথ্যটি দেওয়ার সাথে সাথেই মসজিদের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে অ্যাকশনে যান এবং আশেপাশের অন্যান্য পুলিশ ইউনিটকে ওই নির্দিষ্ট গাড়ির বিবরণ ও নম্বর জানিয়ে দেন। সান ডিয়েগো পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, মসজিদ থেকে কিছুটা দূরেই পুলিশ কর্মকর্তারা সন্দেহভাজন ওই গাড়িটিকে আটক করতে সক্ষম হন এবং গাড়ির চালককে তাৎক্ষণিকভাবে হেফাজতে নেন। আটককৃত চালকের গাড়িটির ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ সদস্যরা একটি নাৎসি উগ্রবাদী আদর্শের পতাকা এবং অত্যন্ত রহস্যময় একটি ক্যানিস্টার বা সিলিন্ডার পাত্র উদ্ধার করেন। বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়ে এবং জনসাধারণের নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশের বিশেষ বোমা ও অগ্নিসংযোগ বিষয়ক তদন্তকারী দল ‘মেট্রো আর্সন স্ট্রাইক টিম’-কে ঘটনাস্থলে ডাকা হয়। ক্যানিস্টারটি পরীক্ষার সময় নিরাপত্তার খাতিরে আশেপাশের সমস্ত বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে খালি করে দেওয়া হয়েছিল। মসজিদের ইমাম তাহা হাসান এই ঘটনার পর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, "ঠিক এক মাস আগের হামলার বার্ষিকীর দিনে এই ঘটনাটি ঘটায় আমাদের পুরো মুসলিম কমিউনিটি এবং আশেপাশের সব মানুষ চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তবে আমরা সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞ যে সেই সময় পুলিশ কর্মকর্তারা মসজিদের ভেতরেই উপস্থিত ছিলেন এবং তারা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে সাড়া দিয়েছেন।" গত মে মাসের ১৮ তারিখে ঘটে যাওয়া ওই প্রথম হামলায় মসজিদের বীর নিরাপত্তা প্রহরী এবং আট সন্তানের জনক আমিন আবদুল্লাহ নিজের জীবন দিয়ে অনেক মুসল্লির প্রাণ রক্ষা করেছিলেন। ওই হামলায় নাদের আওয়াদ এবং মনসুর কাজিহা নামের আরও দুই মুসল্লি নিহত হন। পূর্বের ওই হামলায় দুই বন্দুকধারী কিশোর নিজেরা একটি উগ্রবাদী ইশতেহার লিখেছিল এবং হামলার ঘটনাটি অনলাইনে সরাসরি সম্প্রচার বা লাইভস্ট্রিম করেছিল। সেই লাইভ ভিডিওতে হামলাকারী ক্লার্কের গায়ে নাৎসি প্রতীক দেখা গিয়েছিল এবং শেষ মুহূর্তে সে তার সহযোগী ভাজকুয়েজকে গুলি করার পর নিজে আত্মহত্যা করে। পুলিশ পরবর্তীতে তাদের গাড়ি থেকে ইসলামভীতি বা মুসলিম বিদ্বেষী বিভিন্ন ধরণের লেখা উদ্ধার করেছিল। পূর্বের সেই ভয়াবহ স্মৃতি কাটিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার এই মুসলিম সমাজ যখন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছিল, ঠিক তখনই এই নাৎসি পতাকাসহ নতুন করে গাড়ি আটকের ঘটনাটি পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সান ডিয়েগো পুলিশ বিভাগ এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে বর্তমানে ইসলামিক সেন্টার অব সান ডিয়েগোর ওপর আর কোনো সরাসরি বা সক্রিয় হুমকি নেই এবং পুরো ঘটনার তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে। এদিকে মসজিদের পরিচালনা কমিটি জানিয়েছে, তারা বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে নিরাপত্তার স্বার্থে একটি বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার সাথে কাজ শুরু করেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার এই মসজিদে আসা সমস্ত দর্শনার্থীদের জন্য এখন থেকে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে শরীর তল্লাশি করা এবং মসজিদে প্রবেশের পূর্বে সমস্ত ব্যাগ বা বড় ব্যক্তিগত জিনিসপত্র বাইরে নির্দিষ্ট স্থানে জমা রাখার মতো কঠোর নিয়মাবলী কার্যকর করার বিষয়ে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের বহু স্কুলে শ্রেণিকক্ষের বেঞ্চ ধীরে ধীরে খালি হয়ে যাচ্ছে। কোথাও কমছে নতুন শিক্ষার্থীর ভর্তি, কোথাও ছোট হয়ে আসছে স্নাতক ব্যাচ, আবার কোথাও শিক্ষার্থী সংকটের কারণে বন্ধ করে দিতে হচ্ছে পুরো স্কুল। শিক্ষা গবেষকরা বলছেন, এটি সাময়িক কোনো সমস্যা নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি জনমিতিক পরিবর্তনের প্রতিফলন, যার প্রভাব আগামী বছরগুলোতে আরও স্পষ্ট হবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্যালিফোর্নিয়ার সরকারি স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থী সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমছে। অঙ্গরাজ্যের তথ্য অনুযায়ী, চলতি শিক্ষাবর্ষে কিন্ডারগার্টেন থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সরকারি স্কুলে আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৭৫ হাজার শিক্ষার্থী কম ভর্তি হয়েছে। গত এক দশকে সরকারি স্কুলের শিক্ষার্থী সংখ্যা কমেছে প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার। শিক্ষাবিদদের মতে, এই প্রবণতার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে জন্মহার হ্রাস, উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়ের কারণে পরিবারগুলোর অন্য এলাকায় স্থানান্তর এবং অভিবাসন নীতির পরিবর্তনের প্রভাব। একসময় যেসব অঞ্চল দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য পরিচিত ছিল, সেখানেও এখন শিক্ষার্থী সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষা বোর্ড সভাপতি ও অধ্যাপক মাইকেল কার্স্ট বলেন, ক্যালিফোর্নিয়ার খুব কম স্কুল জেলা আছে যেখানে এই সংকট দেখা যাচ্ছে না। তার মতে, এটি এখন প্রায় পুরো দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার একটি সাধারণ বাস্তবতা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতির মূল কারণ যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা জন্মহার হ্রাস। দেশটির রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালে যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম হয়েছিল প্রায় ৪৩ লাখ শিশুর, সেখানে ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে ৩৬ লাখে। অর্থাৎ প্রায় ১৬ শতাংশ কমেছে জন্মহার। গবেষকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় এর প্রভাব কয়েক বছর পর দৃশ্যমান হয়। কারণ আজ যারা কিন্ডারগার্টেনে ভর্তি হচ্ছে, তাদের জন্ম হয়েছে পাঁচ বা ছয় বছর আগে। ফলে কম জন্মহার এখন সরাসরি স্কুলের ভর্তি সংখ্যায় প্রতিফলিত হচ্ছে। করোনাভাইরাস মহামারি এই সংকটকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। যদিও শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল, অনেক পরিবার সাময়িকভাবে সন্তানদের বেসরকারি স্কুল বা ঘরে শিক্ষার দিকে নিয়ে যাওয়ায় ভর্তি কমেছে। কিন্তু পরবর্তী তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মূল কারণ জনমিতিক পরিবর্তনই। বিশেষ করে সান ফ্রান্সিসকো, ওকল্যান্ড, সান হোসে এবং উপকূলীয় ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থী কমার হার সবচেয়ে বেশি। গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাবলিক পলিসি ইনস্টিটিউট অব ক্যালিফোর্নিয়ার (পিপিআইসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের পর থেকে বে এরিয়া অঞ্চলে সরকারি স্কুলে ভর্তি কমেছে ১০ দশমিক ৪ শতাংশ। ২০৩৫ সালের মধ্যে এই সংখ্যা আরও প্রায় ১০ শতাংশ কমতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আবাসন ব্যয় বৃদ্ধিও এ পরিস্থিতির অন্যতম কারণ। সান ফ্রান্সিসকো ও সান হোসের মতো শহরে বসবাসের খরচ এতটাই বেড়েছে যে অনেক তরুণ পরিবার সেখান থেকে স্যাক্রামেন্টো বা সেন্ট্রাল ভ্যালির মতো তুলনামূলক সাশ্রয়ী এলাকায় চলে যাচ্ছে। ফলে বড় শহরগুলোর স্কুলে শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে যাচ্ছে।y তবে বর্তমানে কিছু অঞ্চলে জনসংখ্যা ও শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়লেও গবেষকরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে সেখানেও একই প্রবণতা দেখা যেতে পারে। আগামী এক দশকে ক্যালিফোর্নিয়ার কোনো অঞ্চলেই ধারাবাহিক শিক্ষার্থী বৃদ্ধি বজায় থাকবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিবাসন নীতির পরিবর্তনও পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করছে। গবেষণায় দেখা গেছে, বহু ভাষাভাষী ও অভিবাসী পরিবারের সন্তানদের মধ্যে শিক্ষার্থী হ্রাসের হার তুলনামূলক বেশি। ২০১৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ায় বহু ভাষাভাষী শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে প্রায় ৩ লাখ ৭২ হাজার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্যালিফোর্নিয়ার শিক্ষা ব্যবস্থার বিকাশে অভিবাসী পরিবারগুলো দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ফলে অভিবাসন প্রবাহ কমে যাওয়ার প্রভাবও এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে স্কুলগুলোর আর্থিক ব্যবস্থাপনায়। যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি স্কুলের অর্থায়নের একটি বড় অংশ শিক্ষার্থী উপস্থিতি ও ভর্তি সংখ্যার ওপর নির্ভরশীল। ফলে শিক্ষার্থী কমলে কমে যায় বাজেটও। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৫ সালের পর থেকে ক্যালিফোর্নিয়ায় ৬৩০টি স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে সান হোসে ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্ট পাঁচটি স্কুল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এসব সিদ্ধান্ত নিয়ে অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। শিক্ষকরা বলছেন, এর প্রভাব শুধু শিক্ষার্থীদের ওপর নয়, শিক্ষকদের কর্মসংস্থানের ওপরও পড়ছে। ভর্তি কমে যাওয়ার কারণে অনেক জেলায় নিয়োগ স্থগিত, কর্মী ছাঁটাই এবং শিক্ষক সংখ্যা কমানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে এই সংকটের মধ্যেও কিছু ইতিবাচক সম্ভাবনার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, যদি শিক্ষা খাতে অর্থায়ন স্থিতিশীল থাকে, তাহলে শিক্ষার্থী কমে যাওয়ায় প্রতি শিক্ষার্থীর পেছনে বেশি সম্পদ ব্যয় করা সম্ভব হবে। ছোট শ্রেণিকক্ষ, ব্যক্তিগত সহায়তা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে এটি কাজে লাগানো যেতে পারে। এদিকে গবেষকরা সতর্ক করছেন, এই প্রবণতা শুধু স্কুল পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থাকবে না। আগামী বছরগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোও একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে aপারে। ইতোমধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় কমে যাওয়া শিক্ষার্থী এবং বাজেট সংকট মোকাবিলায় প্রশাসনিক কার্যক্রম একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে। শিক্ষাবিদদের মতে, শিক্ষার্থী সংকট মোকাবিলায় শুধু ব্যয় কমানো যথেষ্ট হবে না। বরং নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন, সাশ্রয়ী আবাসন বৃদ্ধি এবং পরিবারবান্ধব নীতি গ্রহণের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খুঁজতে হবে। তাদের ভাষায়, এটি কেবল স্কুলের ভর্তি কমার গল্প নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা, অর্থনীতি এবং সামাজিক কাঠামোর একটি বড় পরিবর্তনের প্রতিচ্ছবি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের বহু স্কুলে শ্রেণিকক্ষের বেঞ্চ ধীরে ধীরে খালি হয়ে যাচ্ছে। কোথাও কমছে নতুন শিক্ষার্থীর ভর্তি, কোথাও ছোট হয়ে আসছে স্নাতক ব্যাচ, আবার কোথাও শিক্ষার্থী সংকটের কারণে বন্ধ করে দিতে হচ্ছে পুরো স্কুল। শিক্ষা গবেষকরা বলছেন, এটি সাময়িক কোনো সমস্যা নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি জনমিতিক পরিবর্তনের প্রতিফলন, যার প্রভাব আগামী বছরগুলোতে আরও স্পষ্ট হবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্যালিফোর্নিয়ার সরকারি স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থী সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমছে। অঙ্গরাজ্যের তথ্য অনুযায়ী, চলতি শিক্ষাবর্ষে কিন্ডারগার্টেন থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সরকারি স্কুলে আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৭৫ হাজার শিক্ষার্থী কম ভর্তি হয়েছে। গত এক দশকে সরকারি স্কুলের শিক্ষার্থী সংখ্যা কমেছে প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার। শিক্ষাবিদদের মতে, এই প্রবণতার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে জন্মহার হ্রাস, উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়ের কারণে পরিবারগুলোর অন্য এলাকায় স্থানান্তর এবং অভিবাসন নীতির পরিবর্তনের প্রভাব। একসময় যেসব অঞ্চল দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য পরিচিত ছিল, সেখানেও এখন শিক্ষার্থী সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষা বোর্ড সভাপতি ও অধ্যাপক মাইকেল কার্স্ট বলেন, ক্যালিফোর্নিয়ার খুব কম স্কুল জেলা আছে যেখানে এই সংকট দেখা যাচ্ছে না। তার মতে, এটি এখন প্রায় পুরো দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার একটি সাধারণ বাস্তবতা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতির মূল কারণ যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা জন্মহার হ্রাস। দেশটির রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালে যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম হয়েছিল প্রায় ৪৩ লাখ শিশুর, সেখানে ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে ৩৬ লাখে। অর্থাৎ প্রায় ১৬ শতাংশ কমেছে জন্মহার। গবেষকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় এর প্রভাব কয়েক বছর পর দৃশ্যমান হয়। কারণ আজ যারা কিন্ডারগার্টেনে ভর্তি হচ্ছে, তাদের জন্ম হয়েছে পাঁচ বা ছয় বছর আগে। ফলে কম জন্মহার এখন সরাসরি স্কুলের ভর্তি সংখ্যায় প্রতিফলিত হচ্ছে। করোনাভাইরাস মহামারি এই সংকটকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। যদিও শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল, অনেক পরিবার সাময়িকভাবে সন্তানদের বেসরকারি স্কুল বা ঘরে শিক্ষার দিকে নিয়ে যাওয়ায় ভর্তি কমেছে। কিন্তু পরবর্তী তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মূল কারণ জনমিতিক পরিবর্তনই। বিশেষ করে সান ফ্রান্সিসকো, ওকল্যান্ড, সান হোসে এবং উপকূলীয় ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থী কমার হার সবচেয়ে বেশি। গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাবলিক পলিসি ইনস্টিটিউট অব ক্যালিফোর্নিয়ার (পিপিআইসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের পর থেকে বে এরিয়া অঞ্চলে সরকারি স্কুলে ভর্তি কমেছে ১০ দশমিক ৪ শতাংশ। ২০৩৫ সালের মধ্যে এই সংখ্যা আরও প্রায় ১০ শতাংশ কমতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আবাসন ব্যয় বৃদ্ধিও এ পরিস্থিতির অন্যতম কারণ। সান ফ্রান্সিসকো ও সান হোসের মতো শহরে বসবাসের খরচ এতটাই বেড়েছে যে অনেক তরুণ পরিবার সেখান থেকে স্যাক্রামেন্টো বা সেন্ট্রাল ভ্যালির মতো তুলনামূলক সাশ্রয়ী এলাকায় চলে যাচ্ছে। ফলে বড় শহরগুলোর স্কুলে শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে যাচ্ছে। তবে বর্তমানে কিছু অঞ্চলে জনসংখ্যা ও শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়লেও গবেষকরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে সেখানেও একই প্রবণতা দেখা যেতে পারে। আগামী এক দশকে ক্যালিফোর্নিয়ার কোনো অঞ্চলেই ধারাবাহিক শিক্ষার্থী বৃদ্ধি বজায় থাকবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিবাসন নীতির পরিবর্তনও পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করছে। গবেষণায় দেখা গেছে, বহু ভাষাভাষী ও অভিবাসী পরিবারের সন্তানদের মধ্যে শিক্ষার্থী হ্রাসের হার তুলনামূলক বেশি। ২০১৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ায় বহু ভাষাভাষী শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে প্রায় ৩ লাখ ৭২ হাজার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্যালিফোর্নিয়ার শিক্ষা ব্যবস্থার বিকাশে অভিবাসী পরিবারগুলো দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ফলে অভিবাসন প্রবাহ কমে যাওয়ার প্রভাবও এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে স্কুলগুলোর আর্থিক ব্যবস্থাপনায়। যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি স্কুলের অর্থায়নের একটি বড় অংশ শিক্ষার্থী উপস্থিতি ও ভর্তি সংখ্যার ওপর নির্ভরশীল। ফলে শিক্ষার্থী কমলে কমে যায় বাজেটও। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৫ সালের পর থেকে ক্যালিফোর্নিয়ায় ৬৩০টি স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে সান হোসে ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্ট পাঁচটি স্কুল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এসব সিদ্ধান্ত নিয়ে অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। শিক্ষকরা বলছেন, এর প্রভাব শুধু শিক্ষার্থীদের ওপর নয়, শিক্ষকদের কর্মসংস্থানের ওপরও পড়ছে। ভর্তি কমে যাওয়ার কারণে অনেক জেলায় নিয়োগ স্থগিত, কর্মী ছাঁটাই এবং শিক্ষক সংখ্যা কমানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে এই সংকটের মধ্যেও কিছু ইতিবাচক সম্ভাবনার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, যদি শিক্ষা খাতে অর্থায়ন স্থিতিশীল থাকে, তাহলে শিক্ষার্থী কমে যাওয়ায় প্রতি শিক্ষার্থীর পেছনে বেশি সম্পদ ব্যয় করা সম্ভব হবে। ছোট শ্রেণিকক্ষ, ব্যক্তিগত সহায়তা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে এটি কাজে লাগানো যেতে পারে। এদিকে গবেষকরা সতর্ক করছেন, এই প্রবণতা শুধু স্কুল পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থাকবে না। আগামী বছরগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোও একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। ইতোমধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় কমে যাওয়া শিক্ষার্থী এবং বাজেট সংকট মোকাবিলায় প্রশাসনিক কার্যক্রম একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে। শিক্ষাবিদদের মতে, শিক্ষার্থী সংকট মোকাবিলায় শুধু ব্যয় কমানো যথেষ্ট হবে না। বরং নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন, সাশ্রয়ী আবাসন বৃদ্ধি এবং পরিবারবান্ধব নীতি গ্রহণের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খুঁজতে হবে। তাদের ভাষায়, এটি কেবল স্কুলের ভর্তি কমার গল্প নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা, অর্থনীতি এবং সামাজিক কাঠামোর একটি বড় পরিবর্তনের প্রতিচ্ছবি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ইরউইন্ডেল এলাকায় ২১০ ফ্রিওয়েতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি সেমি ট্রাক একাধিক গাড়িতে সজোরে ধাক্কা দিলে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। শনিবার সকালে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় একজন নারী নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ৩২ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ঘটনাস্থলে ব্যাপক ধ্বংসস্তূপ ও যানজট তৈরি হয় এবং কয়েক ঘণ্টা ফ্রিওয়ের উভয় দিকের লেন বন্ধ থাকে। ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পেট্রোল (CHP) জানায়, দুর্ঘটনার সময় ট্রাকটি হঠাৎ করে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। প্রাথমিকভাবে এটি ডান পাশের কাঁধের দিকে সরে যায়, এরপর হঠাৎ করে কেন্দ্রীয় বিভাজক অতিক্রম করে বিপরীত দিকের লেনে ঢুকে পড়ে এবং একের পর এক একাধিক গাড়িকে ধাক্কা দেয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও ABC-র হাতে আসা ড্যাশক্যাম ফুটেজে দেখা যায়, দুর্ঘটনার কিছু মুহূর্ত আগে ট্রাকটি প্রথমে রাস্তার ডান পাশে ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছিল। এরপর হঠাৎ করেই এটি পুরো ফ্রিওয়ে পার হয়ে বিপরীত দিকের যানবাহনের ওপর গিয়ে পড়ে, যা মুহূর্তেই বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নেয়। দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি জ্যাকনাইফ অবস্থায় চলে যায়। এতে ফ্রিওয়ের দুই দিকেই যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে অচল হয়ে পড়ে। পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে গাড়ির ধ্বংসাবশেষ, ভাঙা অংশ এবং বিভিন্ন যানবাহনের ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা অংশ, যা উদ্ধারকাজকে আরও জটিল করে তোলে। কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, দুর্ঘটনায় ৫৮ বছর বয়সী এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া মোট ৩২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১০ জনকে দ্রুত স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ছয়জন শিশু রয়েছে বলে জানিয়েছে সিএইচপি। সিএইচপি আরও জানায়, অন্তত তিনটি যানবাহন সরাসরি এই দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল। তবে কতগুলো গাড়ি পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা সংঘর্ষের সম্পূর্ণ পরিধি কী ছিল, তা এখনও তদন্তাধীন রয়েছে। দুর্ঘটনার পর ২১০ ফ্রিওয়ের উভয় দিকেই দীর্ঘ সময় ধরে যান চলাচল বন্ধ থাকে। উদ্ধার ও পরিষ্কার কার্যক্রম শেষে বিকেল ৩টার কিছু পর ধীরে ধীরে সব লেন খুলে দেওয়া হয়। তদন্তকারীরা এখনও নিশ্চিত করতে পারেননি ট্রাকটি কেন নিয়ন্ত্রণ হারায়। বিষয়টি নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পেট্রোল তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
ক্যালিফোর্নিয়ায় অন্য যেকোনো বয়সী জনগোষ্ঠীর তুলনায় সবচেয়ে দ্রুত হারে বাড়ছে প্রবীণ গৃহহীন মানুষের সংখ্যা। বিশেষজ্ঞ ও অধিকারকর্মীরা বলছেন, রাজ্যের বর্তমান আবাসন ব্যবস্থা এমন বহু প্রবীণ মানুষের প্রয়োজন মেটাতে পারছে না, যারা আশ্রয়কেন্দ্রের চেয়ে বেশি সহায়তা চান, কিন্তু হাসপাতাল বা নার্সিং হোমে থাকার প্রয়োজন নেই। সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়া কমিশন অন এজিংয়ের এক শুনানিতে এই সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন আবাসন ও প্রবীণ কল্যাণ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, রাজ্যে ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবার খরচ এবং সাশ্রয়ী আবাসনের ঘাটতি হাজারো প্রবীণকে অনিশ্চিত জীবনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। স্যাক্রামেন্টোভিত্তিক সামাজিক সেবা প্রতিষ্ঠান এল হোগার কমিউনিটি সার্ভিসেসের প্রধান নির্বাহী জেনেল কাজারেস বলেন, বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে অনেক মানুষের দীর্ঘমেয়াদি রোগ, স্মৃতিশক্তি হ্রাস, চলাফেরার সীমাবদ্ধতা বা শারীরিক প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয়। এসব কারণে স্থায়ী আবাসন খুঁজে পেতে তাদের অনেক সময় অপেক্ষা করতে হয়। তিনি বলেন, অনেক প্রবীণ এমন এক ধরনের সহায়তা চান, যা স্বাধীনভাবে বসবাস এবং প্রাতিষ্ঠানিক সেবার মাঝামাঝি অবস্থানে পড়ে। কিন্তু এই ধরনের আবাসন ব্যবস্থারই সবচেয়ে বেশি ঘাটতি রয়েছে। শুনানিতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ায় বর্তমানে গৃহহীন একক প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় অর্ধেকের বয়স ৫০ বছর বা তার বেশি। তাদের মধ্যে অনেকেই জীবনের প্রথমবারের মতো গৃহহীনতার অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হচ্ছেন। রাজ্যজুড়ে ৫০ বছরের বেশি বয়সী প্রায় ৮৫ হাজার মানুষ বর্তমানে গৃহহীন অবস্থায় রয়েছেন। অন্যদিকে সান ফ্রান্সিসকো উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন কাউন্টিতে গৃহহীন জনগোষ্ঠীর ২৫ থেকে ২৯ শতাংশই প্রবীণ। ক্যালিফোর্নিয়ার আবাসন নীতিবিষয়ক সংগঠন লিডিংএজ ক্যালিফোর্নিয়ার সহকারী পরিচালক হ্যারিসন লিন্ডার বলেন, এটি একটি বিশাল জনগোষ্ঠী এবং তাদের জন্য কী ধরনের সমাধান প্রয়োজন, তা নিয়ে এখনই গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রবীণদের গৃহহীন হয়ে পড়ার পেছনে একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মক্ষমতা কমে যায়, আয় সীমিত হয়, চিকিৎসা ব্যয় বাড়ে এবং একই সময়ে আবাসনের খরচও নাগালের বাইরে চলে যায়। লিন্ডারের উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ায় আরও প্রায় ৩২ লাখ প্রবীণ ব্যক্তি তাদের মোট আয়ের ৩০ শতাংশের বেশি শুধু বাসস্থানের পেছনে ব্যয় করেন। অর্থনীতিবিদদের ভাষায়, এটি আবাসন-সংকটের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। চাহিদা বাড়লেও সাশ্রয়ী প্রবীণ আবাসনের সরবরাহ সেই তুলনায় খুবই কম। বিশেষজ্ঞদের হিসাবে, পুরো ক্যালিফোর্নিয়ায় বর্তমানে সাশ্রয়ী প্রবীণ আবাসনের ইউনিট রয়েছে মাত্র ৯০ হাজারের মতো। অথচ নতুন একটি ভর্তুকিপ্রাপ্ত আবাসন ইউনিট নির্মাণে ব্যয় হতে পারে ৭ লাখ ডলারেরও বেশি। সান্তা ক্লারা কাউন্টির সর্বশেষ গৃহহীনতা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, শিশু থাকা পরিবারগুলো তুলনামূলকভাবে আশ্রয়কেন্দ্র বা অস্থায়ী বাসস্থানে জায়গা পেয়ে যায়। কিন্তু একা বসবাসকারী প্রবীণরা অনেক ক্ষেত্রেই সেই সুযোগ পান না। ফলে তাদের বড় অংশকে খোলা আকাশের নিচে বা অনিরাপদ পরিবেশে থাকতে হয়। এই সংকটের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন ৬১ বছর বয়সী স্টিভ গ্যাসকিল। তিনি স্যাক্রামেন্টোর একটি প্রবীণ আবাসনে বসবাস করেন। কমিশনের শুনানিতে তিনি জানান, খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গ্রাবহাবে কাজ করে কোনোমতে ১ হাজার ৩০০ ডলারের ভাড়া পরিশোধ করতেন। কিন্তু ভাড়া বাড়ার পর তিনি আর তা বহন করতে পারেননি। পরে দীর্ঘ সময় আবেদন করার পর একটি সাশ্রয়ী প্রবীণ আবাসনে জায়গা পান তিনি। গ্যাসকিল বলেন, “আমরা এখনো বেঁচে আছি। শুধু মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার জন্য একটু সহায়তা প্রয়োজন।” তবে সব প্রবীণের ভাগ্যে গ্যাসকিলের মতো সুযোগ জোটে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেকেই আবাসনের অনুমোদন পাওয়ার আগেই রাস্তায় নেমে যেতে বাধ্য হন। আর একবার গৃহহীন হয়ে গেলে তাদের স্বাস্থ্যগত অবস্থা দ্রুত অবনতি হতে থাকে। ক্যালিফোর্নিয়া কমিশন অন এজিংয়ের চেয়ারম্যান এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলির স্বাস্থ্য উদ্যোগের দীর্ঘদিনের পরিচালক ডেভিড লিন্ডেম্যান বলেন, রাস্তায় বসবাস করলে বয়সজনিত সমস্যাগুলো আরও দ্রুত ও তীব্র আকার ধারণ করে। গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ, প্রতিকূল আবহাওয়া, অপুষ্টি, চিকিৎসার অভাব এবং অনিরাপদ জীবনযাপনের কারণে গৃহহীন মানুষদের মধ্যে ‘দ্রুত বার্ধক্য’ দেখা দেয়। ফলে ৫০ বছর বয়সী একজন গৃহহীন ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা অনেক সময় ৭০ বছর বয়সী কোনো নিরাপদ বাসস্থানে থাকা মানুষের মতো হয়ে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, উপযুক্ত আবাসনের অভাবে বহু প্রবীণকে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সময় হাসপাতাল, আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা অস্থায়ী আবাসনে থাকতে হয়। এতে যেমন তাদের জীবনমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তেমনি সরকারি ব্যয়ও বেড়ে যায়। তাদের মতে, ক্যালিফোর্নিয়ার ক্রমবর্ধমান প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সহায়তাসম্পন্ন সাশ্রয়ী আবাসন দ্রুত সম্প্রসারণ করা না হলে আগামী বছরগুলোতে গৃহহীনতার সংকট আরও গভীর হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।