কয়েক সপ্তাহের টানাপোড়েন আর অনিশ্চয়তার মেঘ কাটিয়ে অবশেষে মাঠে গড়ানোর অপেক্ষায় ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল)। শনিবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সিসিডিএম কার্যালয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে দলবদলের আনুষ্ঠানিকতা। প্রথম দিনেই অনলাইন ও সরাসরি মিলিয়ে মোট ৭৯ জন ক্রিকেটার তাদের নতুন ঠিকানা খুঁজে পেয়েছেন। বোর্ডের বৈধতা নিয়ে ক্লাবগুলোর বয়কট ও পাল্টাপাল্টি অবস্থানে লিগ হওয়া নিয়ে যে শঙ্কা জেগেছিল, তামিম ইকবালের নেতৃত্বে অস্থায়ী কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর তার অবসান ঘটে। ক্রিকেটারদের স্বার্থ রক্ষায় বিসিবি প্রতিটি ক্লাবকে ২৫ লাখ টাকা অনুদান প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে। তবে সময়ের স্বল্পতার কারণে এবারের লিগে থাকছে না কোনো সুপার লিগ বা রেলিগেশন পদ্ধতি; খেলা হবে কেবল একক রাউন্ড-রবিন ফরম্যাটে। দলবদলে বড় চমক যারা প্রথম দিনেই ঘরোয়া ক্রিকেটের শক্তিশালী দলগুলো তাদের তুরুপের তাস গুছিয়ে নিয়েছে: মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব: ডিপিএল ইতিহাসের সর্বোচ্চ সেঞ্চুরিয়ান এনামুল হক বিজয়কে দলে ভিড়িয়ে বড় চমক দেখিয়েছে তারা। এছাড়াও রিশাদ হোসেন, নাঈম শেখ ও পারভেজ হোসেন ইমনের মতো তরুণ তুর্কিদের নিশ্চিত করেছে সাদা-কালো শিবির। প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব: অভিজ্ঞ মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে মোহামেডান থেকে নিজেদের ডেরায় টেনেছে প্রাইম ব্যাংক। সঙ্গে নিয়েছে দুই তরুণ প্রতিভা তানজিদ হাসান তামিম ও তানজিম হাসান সাকিবকে। আবাহনী লিমিটেড: বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা তাদের কোর টিম ধরে রাখার পাশাপাশি দলে নিয়েছে সৌম্য সরকার, জাকের আলী অনিক ও সাব্বির রহমানকে। ঢাকা লিওপার্ডস: নবাগত এই দলটি অভিজ্ঞ মোমিনুল হক ও মোহাম্মদ মিঠুনকে নিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ দল গড়ার চেষ্টা করছে। স্বস্তিতে ক্রিকেটাররা লিগ শুরু হওয়া নিয়ে ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (কোয়াব)-এর সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন স্বস্তি প্রকাশ করে বলেন, "অবশেষে লিগটি অনুষ্ঠিত হওয়ায় আমরা বড় ধরণের ক্ষতি থেকে বেঁচে গেলাম। এটি না হলে ক্রিকেটাররা আর্থিকভাবে চরম বিপর্যয়ে পড়ত।" আগামীকাল রবিবার দলবদলের শেষ দিন। এরপরই নির্ধারিত হবে কোন দল কোন শক্তিতে মাঠে নামছে।
ক্রিকেট ইতিহাসের কিংবদন্তি লেগ স্পিনার শেন ওয়ার্নের অকাল মৃত্যু নিয়ে দীর্ঘ দুই বছর পর এক চাঞ্চল্যকর দাবি তুললেন তার ছেলে জ্যাকসন ওয়ার্ন। তার অভিযোগ, করোনা প্রতিরোধে ব্যবহৃত এমআরএনএ (mRNA) ভ্যাকসিনই তার বাবার হার্ট অ্যাটাক এবং মৃত্যুর জন্য দায়ী। ২০২২ সালের ৪ মার্চ থাইল্যান্ডে ছুটি কাটানোর সময় মাত্র ৫২ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান অস্ট্রেলিয়ান এই কিংবদন্তি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জ্যাকসন ওয়ার্ন বলেন, "আমার বাবার মৃত্যুর পেছনে ভ্যাকসিনের সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে বলে আমি মনে করি।" জ্যাকসন জানান, মৃত্যুর কয়েক মাস আগেই শেন ওয়ার্ন ভ্যাকসিনের বুস্টার ডোজ নিয়েছিলেন। তার দাবি, ওয়ার্ন অত্যন্ত সুস্বাস্থ্যের অধিকারী ছিলেন এবং নিয়মিত শরীরচর্চা করতেন। হঠাৎ করে এমন শক্তিশালী হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পেছনে টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়া অন্য কোনো কারণ দেখছেন না তিনি। এই প্রথম নয়, এর আগেও অস্ট্রেলিয়ার বেশ কিছু চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ শেন ওয়ার্নের মৃত্যুর সঙ্গে ‘অ্যাস্ট্রাজেনেকা’ বা নির্দিষ্ট কিছু ভ্যাকসিনের সম্ভাব্য যোগসূত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তবে জ্যাকসনের এই সরাসরি অভিযোগ ক্রীড়াঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও মেডিকেল রিপোর্ট অনুযায়ী শেন ওয়ার্নের মৃত্যু স্বাভাবিক হৃদরোগজনিত কারণেই হয়েছিল বলে জানানো হয়েছিল, তবে তার পরিবারের পক্ষ থেকে আসা এই অভিযোগ বিশ্বজুড়ে ভ্যাকসিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও উসকে দিল।
বিশ্ব ক্রিকেটে এক অভাবনীয় ও অবিশ্বাস্য ইতিহাস গড়লেন ব্রাজিলের ২১ বছর বয়সী পেসার লরা কার্দোসো। টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এক ইনিংসে ৯ উইকেট নেওয়ার বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন তিনি। নারী বা পুরুষ— ক্রিকেটের কোনো সংস্করণেই এর আগে এমন কীর্তি কেউ গড়তে পারেননি। লেসোথোর বিপক্ষে ম্যাচে মাত্র ৩ ওভার বোলিং করে মাত্র ৪ রান খরচায় ৯টি উইকেট তুলে নেন কার্দোসো। তার এই বিধ্বংসী স্পেলে ছিল একটি হ্যাটট্রিকও। লরার এই জাদুকরী পারফরম্যান্সে লেসোথো মাত্র ১৩ রানে অলআউট হয়ে যায় এবং ব্রাজিল ১৮৯ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পায়। এর আগে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সেরা বোলিং ফিগার ছিল ভুটানের সোনম ইয়োশের (৮/৭)। নারী ক্রিকেটে এই রেকর্ড ছিল ইন্দোনেশিয়ার রহমালিয়ার (৭/০)। লরা কার্দোসো আজ সেই সব রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে ক্রিকেট বিশ্বকে নতুন এক উচ্চতা দেখালেন।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়েছেন সাকিব আল হাসান। তাঁর ক্রিকেটে ফেরা ও রাজনীতিতে সম্পৃক্ততা নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। গত ৫ এপ্রিল দ্য ডেইলি স্টার-এ প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে সাকিব তাঁর ক্রিকেটে ফেরা এবং রাজনীতিতে ভবিষ্যৎ সম্পৃক্ততা নিয়ে কথা বলেন। বিশেষ করে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়। এই পরিস্থিতিতে ৬ এপ্রিল রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করেন সাকিব। পোস্টে তিনি লেখেন, সাম্প্রতিক বক্তব্য নিয়ে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি পরিষ্কার করতে চান—এই মুহূর্তে তাঁর পুরো মনোযোগ শুধুই ক্রিকেটে। ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে এসে জাতীয় দলের হয়ে নিজের সেরাটা দিতে চান এবং সুযোগ পেলে দেশকে আরও ভালো পারফরম্যান্স উপহার দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে তাঁর। রাজনীতি প্রসঙ্গে সাকিব বলেন, একটি দেশের উন্নয়নে রাজনীতির গুরুত্ব রয়েছে। তবে ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষ করার আগে তিনি কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রমে মনোযোগ দিতে চান না। ভবিষ্যতে দেশের জন্য কাজ করার ইচ্ছা থাকলেও সেটি শুধু রাজনীতির মাধ্যমেই করতে হবে—এমনটা নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পোস্টের শেষাংশে তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া ও ভালোবাসা কামনা করে বলেন, লাল-সবুজের জার্সিতে হাসিমুখে নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষ করতে চান।
বাংলাদেশি দুই ক্রিকেটার পারভেজ হোসেন ও মোস্তাফিজুর রহমানের দারুণ পারফরম্যান্সে জয়ের দেখা পেয়েছে লাহোর কালান্দার্স। মুলতান সুলতানসের বিপক্ষে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ২০ রানের জয় তুলে নেয় দলটি। সংক্ষিপ্ত হয়ে ১৩ ওভারে নামা ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে লাহোর কালান্দার্স ৫ উইকেটে ১৮৫ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে। জবাবে ব্যাট করতে নেমে মুলতান সুলতানস ৫ উইকেটে থেমে যায় ১৬৫ রানে। ব্যাট হাতে এদিন ঘুরে দাঁড়ান বাংলাদেশের বাঁহাতি ব্যাটসম্যান পারভেজ হোসেন। আগের দুই ম্যাচে ব্যর্থতার পর তিনি খেলেন ১৯ বলে ৪৫ রানের ঝোড়ো ইনিংস। শুরুটা ধীরগতির হলেও পরে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন তিনি। বিশেষ করে মোহাম্মদ নেওয়াজের এক ওভারে টানা দুই ছক্কা ও একটি চার হাঁকিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। এ ছাড়া ফয়সাল আকরামের ওভারে টানা তিন ছক্কা হাঁকিয়ে নিজের ইনিংসকে আরও সমৃদ্ধ করেন পারভেজ। তার ইনিংসে ছিল ৫টি ছক্কা ও ২টি চার। অল্পের জন্য ফিফটি মিস করলেও দলকে বড় সংগ্রহ পেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। বল হাতেও উজ্জ্বল ছিলেন আরেক বাংলাদেশি মোস্তাফিজুর রহমান। তিন ওভার বল করে ৩৭ রান দিয়ে তুলে নেন ২টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। তার শিকারদের মধ্যে ছিলেন ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান ও অধিনায়ক শান মাসুদ। ফারহান ২৪ রান করে আউট হন, আর দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৪ রান করা মাসুদ এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে পড়েন মোস্তাফিজের বলে। ব্যাট ও বল—দুই বিভাগেই বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের নৈপুণ্যে ভর করে ম্যাচে সহজ জয় তুলে নেয় লাহোর কালান্দার্স।
দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটে একটি নির্ভরযোগ্য ও মার্জিত অধ্যায়ের অবসান ঘটল। সব ধরনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে আনুষ্ঠানিক অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন প্রোটিয়া ব্যাটিং স্তম্ভ রাসি ফন ডার ডাসেন। আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তার মাধ্যমে ৩৭ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেন। সম্প্রতি ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার (সিএসএ) কেন্দ্রীয় চুক্তিতে জায়গা না পাওয়ার পরপরই এই অভিজ্ঞ ব্যাটার নিজের প্যাডজোড়া তুলে রাখার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলেন। তবে দেশের জার্সি তুলে রাখলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে লায়ন্সের হয়ে নিজের খেলা চালিয়ে যাবেন এবং ভবিষ্যতে কোচিং পেশায় যুক্ত হওয়ার দৃঢ় ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি। নিজের অবসরের বার্তায় ডাসেন বলেন, "অত্যন্ত গর্ব এবং কৃতজ্ঞতা নিয়ে আমি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিচ্ছি। প্রোটিয়া জার্সি গায়ে দেওয়াটা ছিল আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্মান। এই জার্সির মর্যাদা ধরে রাখতে যে ত্যাগ ও নিবেদনের প্রয়োজন হয়, তা আমাকে মানুষ হিসেবে অনেক কিছু শিখিয়েছে।" ২০১৮ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি দিয়ে আন্তর্জাতিক আঙিনায় পা রেখেছিলেন ডাসেন। ২৯ বছর বয়সে অনেকটা দেরিতে অভিষেক হলেও নিজের মেধা ও একাগ্রতায় দ্রুতই দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং লাইনআপের প্রাণভোমরা হয়ে ওঠেন তিনি। বিশেষ করে ওয়ানডে ফরম্যাটে তার অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা তাকে বিশ্বমানের ব্যাটারদের তালিকায় স্থান করে দেয়। একনজরে ডাসেনের বর্ণিল ক্যারিয়ার: ওয়ানডে: ৭১ ম্যাচে ৫০.১৩ গড়ে করেছেন ২,৬৫৭ রান। ৬টি সেঞ্চুরি ও ১৭টি হাফ-সেঞ্চুরিসহ তার এই গড় দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাসে এবি ডি ভিলিয়ার্সের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। টি-টোয়েন্টি: ৫৭ ম্যাচে ১০টি হাফ-সেঞ্চুরিসহ সংগ্রহ করেছেন ১,৪০৬ রান। টেস্ট: ১৮ ম্যাচে ৩০.১৬ গড়ে করেছেন ৯০৫ রান। ২০১৯ ও ২০২৩ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং অর্ডারের অন্যতম ভরসা ছিলেন তিনি। বিশেষ করে ২০২৩ বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তার দুর্দান্ত ১৩৩ রানের ইনিংসটি ক্রিকেট ভক্তদের হৃদয়ে আজীবন অম্লান হয়ে থাকবে। কেবল ব্যাটার হিসেবেই নয়, দলের ক্রান্তিলগ্নে নেতৃত্বের গুরুভারও সামলেছেন তিনি। ২০২৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর এবং ২০২৫ সালে জিম্বাবুয়ে সফরে টি-টোয়েন্টিতে প্রোটিয়াদের সফলভাবে নেতৃত্ব দেন ডাসেন। বিদায়বেলায় পরিবার, সতীর্থ এবং অগণিত সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, "আমার যাত্রা এখনই শেষ হয়ে যাচ্ছে না। লায়ন্সের হয়ে মাঠ মাতানোর পাশাপাশি আমি দক্ষিণ আফ্রিকার পরবর্তী প্রজন্মের ক্রিকেটারদের মেন্টর হিসেবে কাজ করতে চাই।" ডাসেনের এই আকস্মিক বিদায়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট মহলে বইছে বিষাদের ছায়া। ভক্ত ও বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন বড় টুর্নামেন্টগুলোতে ডাসেনের মতো একজন অভিজ্ঞ ও স্থিতধী ব্যাটারের শূন্যতা প্রোটিয়াদের জন্য পূরণ করা কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
বাংলাদেশ ক্রিকেটে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার মাঝেও বোর্ডের সহসভাপতি ফারুক আহমেদ জানিয়েছেন, জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি মুর্তজা বোর্ডে যোগ দিতে পারেন। বিসিবিতে সংকট চলছে। গত অক্টোবরে নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ গঠিত কমিটি কাজ শুরু করেছে। এরই মধ্যে পদত্যাগ করেছেন দুই পরিচালক ইশতিয়াক সাদেক ও আমজাদ হোসেন। বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল অস্ট্রেলিয়া থেকে অনুপস্থিত, যা নানা জল্পনার জন্ম দিয়েছে। মিরপুরে বৃহস্পতিবার ফারুক আহমেদ বলেন, “কারও সরে দাঁড়ানো তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। বোর্ডে ২৫ জন পরিচালক আছেন। ভালো হতো যদি তারা থাকতেন। তবে ওই দুজন না থাকলেও বোর্ডের কাজ চলমান থাকবে।” মাশরাফির অবদানকে অনস্বীকার্য হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “কোনো আইনি ইস্যু বাধা হয়ে না দাঁড়ালে মাশরাফি বোর্ডে পরিচালক হিসেবে আসতে পারেন। অধিনায়ক হিসেবে যা করেছেন, তা সবারই জানা। তার অবদান বাংলাদেশ ক্রিকেটে কখনো ভোলা যাবে না।”
ঈদের ছুটির মধ্যেও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হয়েছে। সোমবার (২৩ মার্চ) বিসিবির পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন আমজাদ হোসেন। পদত্যাগ চিঠি বিসিবি সভাপতির কাছে দিয়েছেন তিনি এবং এতে ব্যক্তিগত কারণ উল্লেখ করেছেন। একই সময়ে বিসিবির মিডিয়া কমিটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পান মোখছেদুল কামাল বাবু। এর আগে তিনি কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন এবং বর্তমানে বিসিবির ওয়েলফেয়ার কমিটির দায়িত্বও পালন করছেন। গত বছরের অক্টোবর মাসে আমজাদ হোসেনকে মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তবে সোমবার সন্ধ্যায় তাকে সরিয়ে মোখছেদুল কামাল বাবুকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। পদ পরিবর্তনের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি।
ক্রিকেট বিশ্ব আজ এক নতুন বিস্ময়বালিকার সাক্ষী হলো। মাত্র ১৫ বছর ২২৩ দিন বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়লেন রুয়ান্ডার ফ্যানি উতাগুশিমানিন্দে। নারী কিংবা পুরুষ—আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দীর্ঘ ইতিহাসে এত কম বয়সে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার ছোঁয়ার নজির আর দ্বিতীয়টি নেই। নাইজেরিয়া আমন্ত্রণমূলক নারী টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে ঘানার বিপক্ষে ওপেনিংয়ে নেমে রীতিমতো টর্নেডো বইয়ে দেন এই কিশোরী। ৬৫ বলের বিধ্বংসী ইনিংসে ১৭টি চারের সাহায্যে তিনি করেন ১১১ রান। এটি কেবল রেকর্ড বইয়ের নতুন পাতাই নয়, বরং অভিষেক ম্যাচে কোনো নারী ক্রিকেটারের করা সর্বোচ্চ রানের নতুন বিশ্বকীর্তিও বটে। এর আগে অভিষেক ম্যাচে সর্বোচ্চ ৯৬ রানের রেকর্ড ছিল অস্ট্রেলিয়ার কারেন রোল্টনের। উতাগুশিমানিন্দে ভেঙে দিয়েছেন আয়ারল্যান্ডের অ্যামি হান্টারের রেকর্ড। ২০২১ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নিজের ১৬তম জন্মদিনে হান্টার করেছিলেন ১২১ রান। এমনকি ছেলেদের ক্রিকেটে সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান শহীদ আফ্রিদির রেকর্ডও এখন এই রুয়ান্ডান কিশোরীর পেছনে। আফ্রিদি ১৬ বছর ২১৭ দিন বয়সে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেছিলেন। উতাগুশিমানিন্দের এই অতিমানবীয় ইনিংসের ওপর ভর করে রুয়ান্ডা নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ২১০ রানের বিশাল পুঁজি গড়ে। জবাবে মাত্র ৮৮ রানেই থমকে যায় ঘানার ইনিংস। ১২২ রানের বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে রুয়ান্ডা। বল হাতে দলটির বেলিসে মুরেকাতেতে শিকার করেন ৩টি উইকেট।
উগান্ডার রাজধানী কাম্পালা থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে জিনজা জেলার সবুজ ঘাসে ঘেরা এক পল্লী অঞ্চলে দেখা মিলল এক অভাবনীয় দৃশ্যের। হাতে ক্রিকেট ব্যাট, পরনে গোড়ালি সমান লম্বা পোশাক, আর চোখেমুখে অদম্য জেদ—এ যেন বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখানোর এক জীবন্ত উৎসব। ৫০ থেকে শুরু করে ৯০ বছর বয়সী একদল নারী মেতে উঠেছেন ক্রিকেটের উন্মাদনায়, যাদের এখন সবাই একনামে চেনেন ‘ক্রিকেট গ্র্যানিজ’ বা ‘ক্রিকেট দাদি-নানি’ হিসেবে। অধিকাংশের পায়ে জুতো নেই, নেই কোনো আধুনিক স্পোর্টস গিয়ার, কিন্তু তাদের একেকটি শট আর রানের জন্য ক্ষিপ্র দৌড় হার মানাবে যেকোনো তরুণকেও। সমাজ ও বার্ধক্যের চিরাচরিত ধারণা ভেঙে এই নারীরা প্রমাণ করছেন যে, জীবন কেবল বয়ে চলাই নয়, বরং জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে উপভোগ করাই আসল সার্থকতা। ক্রিকেট যখন মহৌষধ শুরুতে ক্রিকেট সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ধারণা না থাকলেও, আজ এটিই তাদের বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা, মানসিক অবসাদ এবং একাকিত্ব কাটানোর প্রধান হাতিয়ার। ৭২ বছর বয়সী জেনিফার ওয়াইবি নানিয়োঙ্গা, যিনি ২৯ জন নাতি-নাতনির দাদি, তিনি উচ্ছ্বাসের সাথে জানান, নিয়মিত ক্রিকেট খেলার সুবাদে তার দীর্ঘদিনের পায়ের ব্যথা উধাও হয়েছে। গত এক বছরে তাকে একবারও পিঠের ব্যথার জন্য ক্লিনিকের বারান্দায় পা রাখতে হয়নি। শিশুদের জন্য শুরু, দাদিদের হাতে শেষ ২০২৫ সালে কিভুবুকা গ্রামে মাত্র ১০ জন নারীকে নিয়ে এই পথচলা শুরু হয়েছিল। মজার বিষয় হলো, কোচ অ্যারন কুসাসিরা শুরুতে শিশুদের জন্য এই প্রশিক্ষণ শুরু করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু অভিভাবকরা খেলাধুলা সম্পর্কে সচেতন না হওয়ায় শিশুদের মাঠে পাঠাতে রাজি হচ্ছিলেন না। আর তখনই কোচ সিদ্ধান্ত নেন বড়দেরও খেলার মাঠে নামানোর। আজ সেই উদ্যোগ এক বিশাল আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। ২৬ বছর বয়সী কোচ কুসাসিরা বলেন, খেলাচ্ছলে জগিং আর স্ট্রেচিং তাদের শরীরকে সচল রাখছে, যা কোনো জিম বা ওষুধের চেয়েও বেশি কার্যকর। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে দেওয়া চ্যালেঞ্জ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্যমতে, অলস জীবনযাপন এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা অসংক্রামক ব্যাধিতে মৃত্যুর অন্যতম কারণ। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জনস্বাস্থ্য খাতে প্রতি বছর ব্যয় হয় প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি ডলার। উগান্ডার এই প্রত্যন্ত অঞ্চলের দাদিরা যেন তাদের প্রতিটি বাউন্ডারিতে সেই বিশাল পরিসংখ্যানকেই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।