যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের ইভশাম টাউনশিপ পুলিশ সদর দপ্তরের সেইফ এক্সচেঞ্জ জোনে ২৪ হাজার ২০০ ডলারের একটি বিরল পোকেমন সংগ্রহযোগ্য কার্ড কেনার সময় ভুয়া ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করার অভিযোগে ফিলাডেলফিয়ার এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ইভশাম টাউনশিপ পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী ব্যক্তি ফেসবুক মার্কেটপ্লেসে ২৪ হাজার ২০০ ডলারে একটি বিরল পোকেমন কার্ড বিক্রির জন্য বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন। পরে ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগের পর উভয় পক্ষ নিরাপদ লেনদেনের উদ্দেশ্যে পুলিশ সদর দপ্তরের সেইফ এক্সচেঞ্জ জোনে দেখা করেন। লেনদেনের সময় ক্রেতা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করেছেন বলে দাবি করেন। তবে পরে যাচাই করে দেখা যায়, অর্থ পরিশোধে ব্যবহৃত ক্রিপ্টোকারেন্সি ভুয়া ছিল। বিষয়টি বুঝতে পেরে ভুক্তভোগী পুলিশকে অভিযোগ জানান। তদন্তের মাধ্যমে পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে ২৬ বছর বয়সী ফিলাডেলফিয়ার বাসিন্দা ক্রিশ্চিয়ান এলামকে শনাক্ত করে। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে চুরি এবং কম্পিউটার-সংশ্লিষ্ট চুরির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইভশাম টাউনশিপ পুলিশ বিভাগ জানায়, তাদের সেইফ এক্সচেঞ্জ জোনটি নিউ জার্সির মার্লটন এলাকার ৯৮৪ টাকারটন রোডে অবস্থিত পুলিশ সদর দপ্তরের লবিতে রয়েছে। এটি দিনে ২৪ ঘণ্টা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকে এবং পুরো এলাকা সার্বক্ষণিক ভিডিও নজরদারির আওতায় রয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ জনগণকে সতর্ক করে বলেছে, নিরাপদ স্থানে লেনদেন করলেও উচ্চমূল্যের পণ্য কেনাবেচার ক্ষেত্রে অর্থ পরিশোধ নিশ্চিত না হয়ে কোনো পণ্য হস্তান্তর করা উচিত নয়। বিশেষ করে ক্রিপ্টোকারেন্সি বা অন্যান্য ডিজিটাল পেমেন্টের ক্ষেত্রে লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা একাধিকবার যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে তারা। পুলিশ আরও জানিয়েছে, সেইফ এক্সচেঞ্জ জোনের উদ্দেশ্য হলো নিরাপদ পরিবেশে ক্রেতা ও বিক্রেতার সাক্ষাতের সুযোগ করে দেওয়া। তবে পুলিশ সদস্যরা কোনো লেনদেনে অংশ নেন না, সাক্ষী হিসেবে থাকেন না কিংবা আইনি পরামর্শও দেন না। এছাড়া অস্ত্র বা মাদক-সংক্রান্ত কোনো লেনদেন সেখানে অনুমোদিত নয়।
মাত্র ১৪০০ ডলার সমমূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সির বিনিময়ে ইরানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ইসরায়েলে এক মার্কিন নাগরিককে অভিযুক্ত করা হয়েছে। শুক্রবার ইসরায়েলের স্টেট অ্যাটর্নি অফিস এই অভিযোগ গঠন করে। ইসরায়েলে সাম্প্রতিক গুপ্তচরবৃত্তির মামলাগুলোর মধ্যে এই প্রথম কোনো মার্কিন নাগরিককে এমন গুরুতর অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ২১ বছর বয়সী অভিযুক্ত এলি লাভন জেরুজালেমের একটি ইহুদি সেমিনারির শিক্ষার্থী ছিলেন। প্রসিকিউটরদের দেওয়া তথ্যমতে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের কাছে ঘুরতে গিয়ে টেলিগ্রাম অ্যাপে একটি চাকরির বিজ্ঞাপনে সাড়া দেন লাভন। এর এক মাস পর তিনি যখন ইসরায়েলে ফিরে আসেন, তখন ইরানের গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করা এক বিদেশি এজেন্ট টেলিগ্রামে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে। এরপর থেকে তাকে বিভিন্ন কাজ দেওয়া শুরু হয়। লাভন জেরুজালেমের একটি ধর্মীয় এলাকার একটি পরিত্যক্ত ভবন এবং একটি মুদি দোকানের ভেতরের ভিডিও ধারণ করে পাঠান। এমনকি নির্দেশ মোতাবেক জেরুজালেমের হাদার মলের একটি বাথরুমের ডাস্টবিনে একটি সিগারেটের প্যাকেটে "কাজ শেষ" লেখা চিরকুটও লুকিয়ে রাখেন তিনি। এসব কাজের জন্য লাভনকে শত শত ডলার ক্রিপ্টোকারেন্সিতে পরিশোধ করা হয়। এজেন্টদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য তিনি দুটি ভিন্ন টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্ট ও তিনটি ফোন ব্যবহার করতেন। প্রথম এজেন্টকে ব্লক করে দিলেও পরবর্তীতে তিনি ইরানি গোয়েন্দাদের আরেক এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে লাভন ৫০ শেকেলের নোটে মোড়ানো একটি ইউএসবি ফ্ল্যাশ ড্রাইভ জেরুজালেমের একটি রেস্তোরাঁয় লুকিয়ে রাখেন এবং নিজের পাসপোর্টের ছবি তুলে পাঠান। দ্বিতীয় এজেন্টটি তার সহপাঠীদের নাম জানতে চাইলে তিনি বন্ধুদের জড়াতে অস্বীকৃতি জানান। এসব কাজের জন্য তিনি মোট ১,৩৭৯ ডলারের ক্রিপ্টো পান। গত ৯ জুন লাভনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং বর্তমানে তার বিরুদ্ধে বিদেশি এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ ও শত্রুকে তথ্য সরবরাহের মোট ১৬টি অভিযোগ আনা হয়েছে। জেরুজালেমের ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিসের কর্মকর্তা রনিত শেন্টজার ইয়াকোবি জানান, বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কীভাবে ডিজিটাল জগতকে কাজে লাগিয়ে ইসরায়েলের ভেতর থেকে মানুষ নিয়োগ করছে, এই মামলাই তার একটি বড় প্রমাণ। তবে লাভনের আইনজীবী রাজ বার জভি দাবি করেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করলেই তাকে 'ভয়ংকর গুপ্তচর' বলা যায় না। তিনি মনে করেন, আইনি বাস্তবতাকে প্রযুক্তিগত বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া উচিত এবং এই অভিযোগগুলো পুরোপুরি বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে পারিবারিক ক্রিপ্টো কারেন্সি বা ডিজিটাল মুদ্রা ব্যবসা থেকে ১ বিলিয়নেরও বেশি (১০০ কোটি ডলারের বেশি) আয় করার বিষয়টিকে সম্পূর্ণ আইনসংগত বলে দাবি করেছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত আর্থিক বিবরণীতে এই বিপুল আয়ের তথ্য সামনে আসার পর গত বৃহস্পতিবার সিএনবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তাঁর এই ব্যবসায়িক আয়ের মধ্যে অবৈধ বা ভুল কিছুই নেই। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, তাঁর সমস্ত সম্পত্তি ও ব্যবসা একটি ট্রাস্টের অধীনে রয়েছে, যা তাঁর সন্তান এবং স্বাধীন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালনা করে। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে তাঁর নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং এমনকি তাঁর অর্থ ব্যবস্থাপকেরা কারা, সেটিও তিনি জানেন না। তবে সমালোচকেরা এবং ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা এই বিপুল আয়ের পেছনে স্বার্থের সংঘাত ও প্রভাব বিস্তারের রাজনীতির অভিযোগ এনেছেন। প্রতিবেদনে জানা গেছে, ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার ঠিক আগে তাঁর পারিবারিক ক্রিপ্টো ব্যবসার ৫০০ মিলিয়ন ডলারের শেয়ার আবুধাবির এক রাজপরিবারের সদস্যের কাছে গোপনে বিক্রি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ওই রাজপরিবারের একটি প্রতিষ্ঠান ট্রাম্পের নিজস্ব ক্রিপ্টো কয়েন ব্যবহার করে ২ বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি করে। একই সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চিপ ব্যবহারের আলোচনার বিষয়টিও গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্প ক্রিপ্টো শিল্পের প্রতি জোরালো সমর্থন দেখান এবং এই খাতের বড় বড় প্রতিষ্ঠান থেকে বিপুল নির্বাচনী অনুদান পান। ক্ষমতায় আসার পর তিনি ক্রিপ্টো খাতের সুরক্ষায় একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছেন, যার মধ্যে ক্রিপ্টো সংক্রান্ত মামলার সংখ্যা কমানো এবং জাতীয় বিটকয়েন মজুদ গড়ে তোলার আহ্বান অন্যতম। এছাড়া গত অক্টোবরে তিনি ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ প্ল্যাটফর্ম বাইন্যান্সের প্রতিষ্ঠাতা চ্যাংপেং ঝাও-কে প্রেসিডেন্টশিয়াল ক্ষমাও ঘোষণা করেন। ক্রিপ্টো কারেন্সির পাশাপাশি ট্রাম্পের অন্যান্য আয়ের খাত নিয়েও ব্যাপক আলোচনা চলছে। সরকারি নথি অনুযায়ী, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রধান কোম্পানির শেয়ারে ২২০ মিলিয়ন ডলারের বেশি লেনদেন করেছেন। পাশাপাশি ফ্লোরিডায় অবস্থিত তাঁর মার-এ-লাগো ক্লাব থেকে ২০২৫ সালে প্রায় ৭৭.৫ মিলিয়ন ডলার আয় হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেশি। এই ক্লাবের সদস্যপদ ফি বাড়িয়ে বর্তমানে ১০ লাখ ডলার করা হয়েছে এবং এটি এখন ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্রিপ্টো কারেন্সি বা ডিজিটাল মুদ্রা খাত থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয়ের বিষয়টি বিতর্কিত বা সমস্যাযুক্ত নয় বলে দাবি করেছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। গত বৃহস্পতিবার সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। সম্প্রতি প্রকাশিত এক আর্থিক বিবৃতিতে জানা যায়, দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব ক্রিপ্টো ব্যবসা থেকে প্রায় ১.৪ বিলিয়ন ডলার আয় করেছেন। বিরোধী ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা এই আয়ের তীব্র সমালোচনা করে একে স্বার্থের সংঘাত বলে দাবি করেছেন। তাদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন ক্রিপ্টো কারেন্সির ওপর থেকে সরকারি নিয়মকানুন শিথিল করার চেষ্টা করার কারণেই এই বিপুল মুনাফা এসেছে। তবে হোয়াইট হাউস এবং অর্থমন্ত্রী উভয়ই এই দাবি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। অর্থমন্ত্রী এটিকে একটি উদ্ভাবনী প্রেসিডেন্সি হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন যে দেশের প্রযুক্তিগত উন্নয়নের সুবিধা সব আমেরিকানই পাচ্ছেন। সাক্ষাৎকারে অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট চলমান ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক সংকট ও মূল্যস্ফীতি নিয়েও বিশদ আলোচনা করেন। গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধের প্রভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পায়। এর ফলে মে মাসে আমেরিকার বার্ষিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৪.২ শতাংশে পৌঁছায়, যা বিগত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে অর্থমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন যে মার্কিন পরিবারগুলোর ওপর তৈরি হওয়া এই চরম অর্থনৈতিক চাপ খুব দ্রুতই কেটে যাবে। can যুদ্ধের সর্বোচ্চ সময়ে প্রতি গ্যালন গ্যাসের দাম ৪.৫০ ডলার ছাড়িয়ে গেলেও বর্তমানে তা ৩.৮৩ ডলারে নেমে এসেছে। আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে তেলের দাম প্রতি গ্যালনে ৩ ডলারে নেমে আসবে বলে অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করছেন। একই সঙ্গে দেশের শেয়ার বাজারের শক্তিশালী অবস্থান আগামী দিনগুলোতে অর্থনীতিকে আরও চাঙ্গা করবে বলে তিনি মনে করেন। জুনের কর্মসংস্থান রিপোর্টে প্রত্যাশার চেয়ে কম চাকরি তৈরি হলেও বেকারত্বের হার ৪.২ শতাংশে স্থিতিশীল রয়েছে। সাক্ষাৎকারের শেষ অংশে অর্থমন্ত্রী ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন চালু করা সঞ্চয়ী প্রকল্প ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। আগামী ৪ জুলাই থেকে এই প্রকল্পের আওতায় সুবিধাভোগীদের অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা হওয়া শুরু হবে। মূলত ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুদের শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করা এবং আর্থিক জ্ঞান বাড়ানোর লক্ষ্যে এই ফেডারেল প্রোগ্রামটি চালু করা হয়েছে। ২০২৫ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া যোগ্য শিশুরা সরকারের কাছ থেকে ১,০০০ ডলার অনুদান পাবে এবং ইতিমধ্যে ৬০ লাখেরও বেশি এই অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আয়রনডেকোয়েট (Irondequoit) এলাকার বাসিন্দা ৩৭ বছর বয়সী ক্যাথরিন বেথ ওয়াশবার্নকে প্যালেস্টাইন ইসলামিক জিহাদ (পিআইজে) নামে যুক্তরাষ্ট্রের তালিকাভুক্ত একটি বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির বিচার বিভাগ। মার্কিন বিচার বিভাগ (DOJ) জানিয়েছে, ওয়াশবার্নের বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে এমন এক ব্যক্তির কাছে অর্থ পাঠিয়েছেন, যিনি নিজেকে গাজায় সক্রিয় প্যালেস্টাইন ইসলামিক জিহাদের একজন সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত কোনো গোষ্ঠীকে জেনেশুনে অর্থ বা অন্য ধরনের সহায়তা দেওয়া কিংবা দেওয়ার চেষ্টা করা ফেডারেল অপরাধ। বিচার বিভাগের অভিযোগ অনুযায়ী, ওয়াশবার্ন ডাইরেক্ট অ্যাকশন মুভমেন্ট ফর প্যালেস্টিনিয়ান লিবারেশন (DAMPL) নামে একটি উগ্রপন্থী সংগঠনের নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সংস্থাটি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েলে হামলার পর গঠিত হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, সংগঠনটি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির পরিবর্তে নাশকতা ও সম্পত্তি ধ্বংসের মতো কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে এফবিআইয়ের যৌথ সন্ত্রাসবিরোধী টাস্কফোর্স (JTTF) তল্লাশি চালিয়ে ওয়াশবার্নের ইলেকট্রনিক বার্তা উদ্ধার করে। এসব বার্তায় তিনি নিজেকে পিআইজের যোদ্ধা পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, এক বার্তায় ওয়াশবার্ন লিখেছিলেন, তিনি গাজায় থাকলে সশস্ত্র প্রতিরোধে অংশ নিতেন। এছাড়া ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশংসাসূচক মন্তব্যও করেছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। বিচার বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া আরও কিছু বার্তায় ইসরায়েল ও ইহুদিদের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক মন্তব্যও পাওয়া গেছে। আর্থিক লেনদেনের বিশ্লেষণে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, ওয়াশবার্ন প্রায় ৮০টি পৃথক ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনের মাধ্যমে মোট ৩০ হাজার ১১৬ ইউএসডিসি (USDC), অর্থাৎ সমপরিমাণ মার্কিন ডলার, ওই ব্যক্তির ব্যবহৃত একটি অ্যাকাউন্টে পাঠিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগ প্রকাশিত মামলার নথিতে ওয়াশবার্নের একটি ছবিও রয়েছে, যেখানে তাকে হামাসের একটি পতাকার সামনে দুটি হ্যান্ড গ্রেনেড হাতে দেখা যায়। তবে ছবিটি তদন্তের নথির অংশ হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে; এটি নিজেই কোনো অপরাধ প্রমাণ করে না। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জন এ. আইজেনবার্গ বলেন, বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনকে সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে এফবিআই জানিয়েছে, সন্ত্রাসী সংগঠনের অর্থায়নের পথ বন্ধ করতে তারা বিচার বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে ওয়াশবার্নের সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড এবং ২ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানার বিধান রয়েছে। তবে এটি একটি ফৌজদারি অভিযোগ (Criminal Complaint) মাত্র। এখনো আদালতে ক্যাথরিন বেথ ওয়াশবার্নের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।
ওয়াশিংটন: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম ব্যবহার করে চালু হওয়া অফিশিয়াল ট্রাম্প (Official TRUMP) মিম কয়েনে বিনিয়োগকারীদের বড় ধরনের লোকসানের চিত্র সামনে এসেছে। বাজার বিশ্লেষণ বলছে, কয়েনটি সর্বোচ্চ দামে কিনে কেউ যদি এক লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করে থাকেন, তবে বর্তমানে সেই বিনিয়োগের মূল্য নেমে এসেছে মাত্র প্রায় ২ হাজার ২০০ ডলারে। অর্থাৎ, বিনিয়োগের প্রায় ৯৮ শতাংশ মূল্য হারিয়েছে। বাজার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৭ জানুয়ারি বাজারে আসার পর অল্প সময়ের মধ্যেই Official TRUMP কয়েনের দাম সর্বোচ্চ প্রায় ৭৫.৩৫ ডলারে পৌঁছায়। পরে ধারাবাহিকভাবে এর দাম কমতে থাকে। বর্তমানে কয়েনটির বাজারমূল্য সর্বোচ্চ দামের তুলনায় অনেক নিচে অবস্থান করছে। সেই হিসাবে, সর্বোচ্চ দামে কেনা এক লাখ ডলারের বিনিয়োগ এখন প্রায় ২ হাজার ২০০ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, ট্রাম্পের সর্বশেষ আর্থিক বিবরণীতে দেখা গেছে, তাঁর পরিবারের বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সি উদ্যোগ থেকে গত এক বছরে ১৪০ কোটি ডলারেরও বেশি আয় হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই আয়ের মধ্যে ট্রাম্প-সংশ্লিষ্ট মিম কয়েনের লাইসেন্সিং ও রয়্যালটি এবং ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়াল (World Liberty Financial)-এর টোকেন বিক্রি থেকে উল্লেখযোগ্য অর্থ এসেছে। এছাড়া রয়টার্সের পৃথক এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প-সংশ্লিষ্ট মিম কয়েন থেকে ট্রাম্প পরিবারের শত শত মিলিয়ন ডলার আয় হলেও একই সময়ে অনেক সাধারণ বিনিয়োগকারী বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কয়েনটির মূল্য দ্রুত কমে যাওয়ায় বিপুলসংখ্যক বিনিয়োগকারীর সম্মিলিত ক্ষতির পরিমাণ কয়েকশ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে নৈতিকতা, স্বচ্ছতা এবং সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক উদ্যোগ থেকে বিপুল আয়ের বিষয়টি জনমনে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। তবে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে বরাবরই বলা হয়েছে, তাঁর ব্যবসায়িক সম্পদ স্বাধীন ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হয় এবং সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণে এসব ব্যবসার কোনো প্রভাব নেই। বিশ্লেষকদের মতে, ক্রিপ্টোকারেন্সির মতো উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে বিনিয়োগের আগে বাজারের অস্থিরতা, সম্ভাব্য লাভ-লোকসান এবং সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি সম্পর্কে ভালোভাবে ধারণা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত এক বছরে ক্রিপ্টোকারেন্সি-সংশ্লিষ্ট ব্যবসা থেকে প্রায় ১ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রকাশিত সর্বশেষ আর্থিক বিবরণীতে এই তথ্য উঠে এসেছে। এ আয় তাঁর পরিবারের সদস্যদের পরিচালিত বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সি উদ্যোগে অংশগ্রহণ ও লাইসেন্সিং চুক্তির মাধ্যমে এসেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের নৈতিকতা বিষয়ক সরকারি দপ্তর ৯২৭ পৃষ্ঠার একটি আর্থিক বিবরণী প্রকাশ করে। এতে দেখা যায়, ট্রাম্প ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইনানশিয়াল নামের একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি স্টার্টআপের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থেকে ৫৫০ মিলিয়ন ডলার আয় করেছেন। ডব্লিউএলএফ নামে পরিচিত এই প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে রয়েছেন ট্রাম্পের তিন ছেলে এবং তাঁর মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের ছেলে। এ ছাড়া $TRUMP নামে পরিচিত ক্রিপ্টোকারেন্সির লাইসেন্সিং চুক্তি থেকে ট্রাম্প আরও ৬৩৫ মিলিয়ন ডলার আয় করেছেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ নেওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি এই ক্রিপ্টোকারেন্সিকে নিজের নাম ব্যবহারের অনুমতি দেন। ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, ক্রিপ্টোকারেন্সি থেকে পাওয়া বিপুল আয়ের কারণে ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। বর্তমানে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ফোর্বসের বিশ্বের ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় তাঁর অবস্থান ৬৯২তম। রাজনীতিতে আসার আগে ট্রাম্প একজন আবাসন ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আশির দশকেই তিনি বিলিয়নিয়ার হিসেবে পরিচিতি পান। তবে প্রেসিডেন্ট থাকাকালেই ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতে বিনিয়োগ এবং একই সময়ে এ খাতের নিয়ন্ত্রণ শিথিল করতে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ উঠেছে। সমালোচকদের দাবি, এসব সিদ্ধান্তের ফলে ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজারমূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যদিও এ ধরনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে হোয়াইট হাউস। এএফপিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউসের প্রধান উপপ্রেস সচিব আনা কেলি বলেন, প্রেসিডেন্ট বা তাঁর পরিবারের সদস্যরা কখনোই স্বার্থের সংঘাতে জড়াননি এবং ভবিষ্যতেও জড়াবেন না। তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের ক্রিপ্টো রাজধানীতে পরিণত করতে কাজ করেছেন। তাঁর প্রশাসনের প্রতিটি সিদ্ধান্তই মার্কিন জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে নেওয়া হয়েছে। আনা কেলির দাবি, ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনায় যেসব প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে, সেগুলোর মাধ্যমে কিছু গণমাধ্যম ডেমোক্র্যাটদের রাজনৈতিক বক্তব্যকেই পুনরায় প্রচার করছে। যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭৮ সালের একটি আইন অনুযায়ী, দেশটির প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্টকে নিয়মিতভাবে তাঁদের আয়, সম্পদ ও আর্থিক স্বার্থের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে হয়।
ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারে বড় ধরনের বিনিয়োগ করে উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিবার। এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিটকয়েনে বিনিয়োগের ফলে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার লোকসান হয়েছে তাদের। ফোর্বস সাময়িকীর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক বছরে বাজারের অস্থিরতা এবং বিনিয়োগসংক্রান্ত কিছু ভুল সিদ্ধান্তের কারণে এই ক্ষতি হয়েছে। ট্রাম্পের দুই ছেলে—এরিক ট্রাম্প ও ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের নেতৃত্বে পরিবারটি ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বড় পরিসরে বিনিয়োগ করে। তাদের প্রত্যাশা ছিল, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে উচ্চ অবস্থানে থাকা বিটকয়েনের দাম বছর শেষে আরও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। এই ধারণার ভিত্তিতে তারা নিজেদের একটি প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও রূপান্তরযোগ্য ঋণপত্র বিক্রি করে বিপুল অর্থ বিটকয়েনে বিনিয়োগ করে। শুরুর দিকে বাজার তাদের অনুকূলে থাকলেও পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। কয়েক মাসের মধ্যে বিটকয়েনের দাম দ্রুত কমে গেলে বিনিয়োগের মূল্যও কমতে থাকে। ফলে কোম্পানির ক্রিপ্টো সম্পদের মোট মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। ক্ষতি কমানোর জন্য পরবর্তীতে বিনিয়োগের একটি অংশ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা হলেও তাতে বড় ধরনের প্রভাব পড়েনি। এরপর সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার ঘোষণার পর বাজারে আরও চাপ তৈরি হয় এবং বিটকয়েনের দাম আবারও কমে যায়। বর্তমানে বিটকয়েনের দর আগের তুলনায় অনেক নিচে অবস্থান করায় ট্রাম্প পরিবারের বিনিয়োগের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শুরুতে যে পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছিল, তার তুলনায় প্রায় এক বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধির প্রত্যাশার কারণে ব্যক্তিগত বিনিয়োগ থেকেও বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ এবং স্বল্পমেয়াদি বাজার ওঠানামার ভিত্তিতে এর সাফল্য বা ব্যর্থতা মূল্যায়ন করা ঠিক নয়।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর ইরানে ক্রিপ্টোকারেন্সির লেনদেন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে এই ডিজিটাল মুদ্রা ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি, তেলের মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে সাধারণ মানুষদের জন্য এটি একটি আংশিক আর্থিক নিরাপত্তার মাধ্যম হিসেবেও কাজ করছে। ডাটা অ্যানালিটিক্স প্রতিষ্ঠান চায়নালিসিসের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র কয়েক দিনে ইরানের এক্সচেঞ্জ প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রায় ১০ মিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি স্থানান্তরিত হয়েছে। মূলত এটি ঘটেছে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২ মার্চের মধ্যে, সেই সময়কালের হিসাব অনুযায়ী যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে ইরানকে লক্ষ্য করে হামলা শুরু হয়েছে। চায়নালিসিস আরও জানিয়েছে, এই লেনদেনে ব্যবহৃত ডিজিটাল ওয়ালেটগুলোর মধ্যে কিছু সরাসরি আইআরজিসির সঙ্গে সম্পর্কিত। গত বছরের হিসাব অনুযায়ী, এই ধরনের ওয়ালেটে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি ক্রিপ্টোকারেন্সি জমা হয়েছে, যা দেশের মোট ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনের অর্ধেকেরও বেশি। প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখ করেছে, আইআরজিসি সম্পর্কিত এই অংশীদারিত্ব ক্রমেই বাড়ছে। সূত্র: আল জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।