নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি মনে করেন, নিউইয়র্কে তার রাজনৈতিক দর্শনের সাম্প্রতিক সাফল্য কেবল একটি শহর বা অঙ্গরাজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। তার ভাষায়, কর্মজীবী মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসন সংকট এবং অর্থনৈতিক চাপকে কেন্দ্র করে যে রাজনীতির কথা তিনি বলছেন, সেই বার্তা এখন সারা দেশেই প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। রোববার সম্প্রচারিত এবিসি নিউজের ‘দিস উইক’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিক জোনাথন কার্লকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মামদানি বলেন, একজন গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো অঙ্গরাজ্যে এবং যেকোনো নির্বাচিত পদে জয়ী হতে পারেন। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের বাস্তব সমস্যাকে সামনে রেখে রাজনীতি করলে সেটি কেবল নিউইয়র্কেই নয়, পুরো দেশেই গ্রহণযোগ্য হবে। সম্প্রতি নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ডেমোক্রেটিক কংগ্রেসনাল প্রাইমারিতে মামদানির সমর্থিত তিন প্রার্থী—ক্লেয়ার ভালদেজ, দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ার এবং ব্র্যাড ল্যান্ডার—নিজ নিজ আসনে বিজয়ী হন। এর মধ্যে দুইজন বর্তমান ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্যকে পরাজিত করেন। এই ফলাফলকে অনেক বিশ্লেষক নিউইয়র্কের প্রগতিশীল রাজনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখছেন। সাক্ষাৎকারে মামদানি বলেন, মানুষের প্রধান উদ্বেগ এখন রাজনীতি নয়, বরং প্রতিদিনের জীবনযাত্রার ব্যয়। কেন বাসাভাড়া বাড়ছে, কেন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে, কিংবা কঠোর পরিশ্রমের পরও কেন শিশু পরিচর্যার খরচ মেটানো কঠিন হয়ে পড়ছে—এসব প্রশ্নের উত্তরই মানুষ জানতে চায়। তার মতে, ডেমোক্রেটিক পার্টিরও এসব বাস্তব সমস্যাকে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসা উচিত। তিনি আরও বলেন, শুধু বর্তমান প্রশাসনের সমালোচনা করে ভোটারদের আস্থা অর্জন সম্ভব নয়। জনগণের সামনে এমন একটি ইতিবাচক ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরতে হবে, যা আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচন কিংবা ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ছাড়িয়ে দীর্ঘমেয়াদে মানুষের জীবনমান উন্নয়নের দিকনির্দেশনা দেবে। তবে ডেমোক্রেটিক পার্টির সবাই মামদানির মূল্যায়নের সঙ্গে একমত নন। দলের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা মনে করেন, নিউইয়র্কের মতো উদারপন্থী ভোটার অধ্যুষিত এলাকায় প্রগতিশীল প্রার্থীদের সাফল্য মিললেও, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোতে একই ধরনের রাজনৈতিক বার্তা সমানভাবে কার্যকর নাও হতে পারে। সাক্ষাৎকারে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যু নিয়েও কথা বলেন মামদানি। তিনি বলেন, ডেমোক্রেটিক পার্টির উচিত এ বিষয়ে নিজেদের ভোটারদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক আইন ও সকল মানুষের সমান অধিকারের ভিত্তিতে অবস্থান গ্রহণ করা। তবে ইসরায়েলকে একটি ‘ইহুদি রাষ্ট্র’ হিসেবে সমর্থন করেন কি না—এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, তিনি এমন একটি রাষ্ট্রকে সমর্থন করেন যেখানে সব নাগরিক ধর্ম নির্বিশেষে সমান অধিকার ভোগ করেন। সাম্প্রতিক প্রাইমারি নির্বাচনের ফলের পর জোহরান মামদানির রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নিউইয়র্কে তার সমর্থিত প্রার্থীদের সাফল্য ডেমোক্রেটিক পার্টির ভবিষ্যৎ কৌশলে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখন মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিটিয়া জেমস ডেমোক্রেটিক পার্টির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি নিউইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানির সাম্প্রতিক কিছু রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন। গত নভেম্বরের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর মামদানি রাজ্যব্যাপী একাধিক গণতান্ত্রিক সমাজতান্ত্রিক প্রার্থীকে সমর্থন দেন। জেমসের মতে, এই ধরনের কর্মকাণ্ড দলের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও ঐক্যকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। জেমস আমেরিকান সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন যে মামদানির সমর্থিত প্রার্থীরা নিউইয়র্ক সিটির প্রকৃত রাজনীতি বোঝেন না। বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকার সাংস্কৃতিক পার্থক্য ও দীর্ঘদিনের সংগ্রাম সম্পর্কে তাদের কোনো বাস্তব ধারণা নেই। এই নতুন প্রার্থীরা বর্ণবাদ ও শ্রেণীগত জটিল সমস্যাগুলো অনুধাবন করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে দলের ভেতরে এক ধরণের আদর্শিক দূরত্ব ও ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হচ্ছে। নির্বাচনী মাঠে মামদানির রাজনৈতিক প্রভাব ইতিমধ্যেই নিউইয়র্কের রাজ্য এবং কংগ্রেসের প্রাথমিক নির্বাচনে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তার সমর্থনে ক্লেয়ার ভালদেজ এবং দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ার বর্তমান আইনপ্রণেতাদের পরাজিত করে প্রতিনিধি পরিষদের দৌড়ে জয়ী হয়েছেন। এর পাশাপাশি রাজ্য সিনেটে দুটি এবং স্টেট অ্যাসেম্বলিতে চারটি আসনে মামদানি সমর্থিত সমাজতান্ত্রিক প্রার্থীরা বিশাল জয় পেয়েছেন। সহকর্মীদের বরাত দিয়ে জেমস জানান যে ডেমোক্রেটিক পার্টির এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনে অনেকেই হতাশ। তিনি বলেন যে দলের ওপর আমাদের সবারই কিছুটা ক্ষোভ থাকতে পারে, তবে তার মানে এই নয় যে পুরো দলকেই ধ্বংস করে দিতে হবে। তিনি এই প্রবণতাকে ট্রাম্পের অনুসারী মাগা বা এমএজিএ আন্দোলনের ধ্বংসাত্মক রাজনীতির সাথে তুলনা করেন। স্থানীয় বিনিয়োগকারী ও অন্য ডেমোক্র্যাট নেতাদের সাথে সম্পর্ক নষ্টের আশঙ্কাও করছেন অনেকে। তবে এই সমস্ত আশঙ্কার মাঝেও প্রতিনিধি পরিষদের সংখ্যালঘু নেতা হাকিম জেফ্রিজ বুধবার বিষয়টিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছেন। দল অতিরিক্ত বামপন্থার দিকে ঝুঁকে যাচ্ছে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে তিনি এই উদ্বেগ উড়িয়ে দেন। তিনি উল্টো প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে মেয়র মামদানির কার্যকরী সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন, যা ওভাল অফিসে তাদের বৈঠকের মাধ্যমে বারবার স্পষ্ট হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি ও নভেম্বর মাসে হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং মেয়র মামদানি এক বিশেষ বৈঠকে মিলিত হন। তাদের করমর্দন ও হাসিমুখে ছবি তোলার ঘটনা সমালোচকদের বেশ অবাক করেছিল। তবে এই সৌহার্দ্যপূর্ণ সাক্ষাতের পরেও ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় ডেমোক্রেটিক পার্টির এই প্রাথমিক নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন। তিনি সাফ জানান যে আমেরিকা কখনই একটি কমিউনিস্ট দেশ হবে না। সূত্র: দ্য হিল
নিউইয়র্কে ডেমোক্রেটিক পার্টির সাম্প্রতিক প্রাথমিক নির্বাচনে একের পর এক জয়ের মধ্য দিয়ে নিজের রাজনৈতিক প্রভাবের শক্তিশালী প্রমাণ দিলেন মেয়র জোহরান মামদানি। তার সমর্থন পাওয়া তিন প্রার্থীই নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ায় দলটির ভেতরে নতুন শক্তিকেন্দ্র হিসেবে মামদানির উত্থান নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মামদানির সমর্থিত প্রার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আসনে জয় পেয়েছেন। এর মধ্যে দুজন বর্তমান কংগ্রেস সদস্যকে পরাজিত করে জাতীয় পর্যায়েও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। নিউইয়র্কের ১৩তম কংগ্রেসনাল জেলায় মামদানির সমর্থন পাওয়া ডারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ার বিজয়ী হন। সপ্তম জেলায় জয় পান ক্লেয়ার ভালদেজ। আর ১০ম জেলায় মামদানির ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগী ব্র্যাড ল্যান্ডার বর্তমান কংগ্রেস সদস্য ড্যান গোল্ডম্যানকে পরাজিত করেন। এই সাফল্যের পর বিজয়ী প্রার্থীদের সঙ্গে উদযাপনে অংশ নিয়ে মামদানি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন চিন্তা, নতুন নেতৃত্ব এবং ভিন্নধর্মী নীতির প্রয়োজন রয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ফলাফল ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরে প্রগতিশীল ধারার ক্রমবর্ধমান প্রভাবের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে দলটির আদর্শিক অবস্থান ও নেতৃত্বের প্রশ্ন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এবারের নির্বাচনে ইসরাইল-ফিলিস্তিন ইস্যুও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কয়েকজন প্রার্থী যুক্তরাষ্ট্রের ইসরাইল-সংক্রান্ত নীতির প্রকাশ্য সমালোচনা করেন। বিজয়ী প্রার্থী ব্র্যাড ল্যান্ডার বলেন, এ বিষয়ে ডেমোক্রেটিক পার্টির আরও স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন। তবে সব আসনে প্রগতিশীল প্রার্থীরা সফল হননি। নিউইয়র্কের ১২তম কংগ্রেসনাল আসনে দলীয় মূলধারার সমর্থন পাওয়া মাইকা ল্যাশার বিজয়ী হয়েছেন। একইভাবে উটাহর একটি গুরুত্বপূর্ণ আসনেও মধ্যপন্থি প্রার্থী এগিয়ে রয়েছেন। এদিকে রিপাবলিকান পার্টিতেও নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে সাম্প্রতিক প্রাথমিক নির্বাচন। দক্ষিণ ক্যারোলিনার গভর্নর নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নির্বাচনের শুরুতে ট্রাম্প পাম এভেটকে সমর্থন দিলেও পরে দুই প্রার্থীর প্রতিই সমর্থন জানান। শেষ পর্যন্ত অ্যালান উইলসন বড় ব্যবধানে জয় পান। সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প সমর্থিত আরও কয়েকজন গভর্নর প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন পেতে ব্যর্থ হওয়ায় রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যে তার রাজনৈতিক প্রভাব আগের মতো শক্তিশালী আছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। অন্যদিকে ট্রাম্পবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত কয়েকজন প্রার্থীও প্রত্যাশিত ফল পাননি। বিভিন্ন নির্বাচনে তারা উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে পড়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এবারের প্রাথমিক নির্বাচনের ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলেই পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে নতুন নেতৃত্ব ও নতুন রাজনৈতিক ধারার উত্থান যেমন স্পষ্ট হচ্ছে, তেমনি রিপাবলিকানদের মধ্যেও ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ প্রভাব ও ভূমিকা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ নির্বাচনের আগে দলীয় প্রার্থী নির্ধারণের জন্য যে ভোট অনুষ্ঠিত হয়, তাকে প্রাথমিক নির্বাচন বা প্রাইমারি বলা হয়। বর্তমানে অনুষ্ঠিত এসব নির্বাচন ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির রাজনৈতিক প্রভাব দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ছয় মাসের মধ্যে ৩৪ বছর বয়সী এই ডেমোক্রেটিক সমাজতান্ত্রিক নেতা নিউইয়র্কের ডেমোক্রেটিক প্রাইমারি নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। নির্বাচনের কয়েক দিন আগে তিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অবস্থানের বাইরে গিয়ে একাধিক প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে ডেমোক্রেটিক পার্টির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছেন। খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, মামদানিকে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতারাই কঠোর সমালোচনার মুখে ফেলেছিলেন। তবে বামপন্থী মহলে আগে থেকেই জনপ্রিয় এই নেতা এখন বিভিন্ন মহল থেকে প্রশংসা পাচ্ছেন। অ্যালবানি থেকে ওয়াশিংটন পর্যন্ত ডেমোক্রেটিক পার্টিকে নতুনভাবে রূপ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই তিনি রাজনৈতিক প্রভাবের পরিধি আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা করছেন। এই লক্ষ্যেই তিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অবস্থানের বাইরে গিয়ে একাধিক প্রার্থীকে সমর্থন দিচ্ছেন। বৃহস্পতিবার ব্রুকলিনে ভোটারদের উৎসাহিত করতে আয়োজিত এক সমাবেশে স্বতন্ত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সের সঙ্গে উপস্থিত হওয়ার কথা রয়েছে তার। সেখানে মামদানির সমর্থিত কয়েকজন প্রার্থীও অংশ নেবেন। বার্নি স্যান্ডার্সের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ও মামদানির ঘনিষ্ঠ সহযোগী ফয়েজ শাকির বলেন, “তিনি মনে করেন ডেমোক্রেটিক পার্টিকে বদলে দেওয়ার সুযোগ এসেছে। তিনি নেতৃত্বের সমালোচনার জন্য এটি করছেন না। তিনি মনে করেন, যাদের সমর্থন করছেন তাদের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি আরও শক্তিশালী। প্রয়োজন হলে পরাজয় মেনেও তিনি সেই অবস্থানে অটল থাকবেন।” নিউইয়র্কের ১৩তম কংগ্রেসনাল জেলায় বর্তমান ডেমোক্রেটিক কংগ্রেসম্যান আদ্রিয়ানো এস্পাইয়াতের পরিবর্তে রাজনৈতিক সংগঠক দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়েরকে সমর্থন দিয়েছেন মামদানি। এ ছাড়া ১০তম জেলায় বর্তমান কংগ্রেসম্যান ড্যান গোল্ডম্যানের বিরুদ্ধে সাবেক সিটি কম্পট্রোলার ব্র্যাড ল্যান্ডারকে এবং সপ্তম জেলায় ডেমোক্রেটিক সমাজতান্ত্রিক অ্যাসেম্বলি সদস্য ক্লেয়ার ভালদেজকে সমর্থন করছেন তিনি। ক্লেয়ার ভালদেজ বলেন, “গত বছরের মেয়র নির্বাচনে মামদানি যেভাবে ভোটারদের উজ্জীবিত করেছিলেন, এখন সেই শক্তিকে আরও এগিয়ে নেওয়ার সময়।” তবে দলের মূলধারার নেতারা মামদানির এই অবস্থানে সন্তুষ্ট নন। প্রতিনিধিপরিষদে ডেমোক্রেটিক নেতা হাকিম জেফরিজ মামদানি-সমর্থিত সমাজতান্ত্রিক প্রার্থীদের বিরোধিতা করে বর্তমান নির্বাচিত প্রতিনিধিদের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। মামদানির সমর্থিত প্রার্থীরা গাজা যুদ্ধ এবং নিউইয়র্কের উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়কে নির্বাচনের প্রধান ইস্যু হিসেবে তুলে ধরছেন। তাদের অভিযোগ, কয়েকজন ডেমোক্রেটিক নেতা ইসরায়েলের প্রতি অতিমাত্রায় নমনীয় অবস্থান নিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা নিজেদের করপোরেট প্রভাবমুক্ত নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্ব হিসেবে তুলে ধরছেন। ওয়াশিংটনের অনেক ডেমোক্রেটিক নেতা মনে করছেন, মামদানি এখন দলের জন্য রাজনৈতিক সম্পদে পরিণত হয়েছেন। তাদের মতে, তিনি এমন অনেক ভোটারকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনতে পেরেছেন, যারা আগে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া থেকে দূরে সরে গিয়েছিলেন। তবে মধ্যপন্থী ডেমোক্রেটদের একটি অংশ আশঙ্কা করছে, তার বামপন্থী অবস্থান দলীয় রাজনীতিতে নতুন বিভাজন তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে রিপাবলিকানরা মামদানির জনপ্রিয়তাকে নিজেদের রাজনৈতিক কৌশলে ব্যবহার করতে চাইছে। ন্যাশনাল রিপাবলিকান কংগ্রেসনাল কমিটির মুখপাত্র মাইক মারিনেলা বলেন, “মামদানির সমাজতান্ত্রিক রাজনীতি অত্যন্ত বিতর্কিত এবং এটি ডেমোক্রেটিক পার্টির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেয়।” তবে ফয়েজ শাকির এসব সমালোচনাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। তার ভাষায়, “জোহরান মামদানি রাজনৈতিক বোঝা নন। তিনি ক্রমেই ডেমোক্রেটিক রাজনীতির একটি শক্তিশালী সম্পদে পরিণত হচ্ছেন।” সূত্র: এএফপি
ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে দেওয়ার’ হুমকিমূলক বক্তব্যের জেরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টি। দলটির শীর্ষ নেতারা ট্রাম্পের ভাষণকে ‘নিন্দনীয়’, ‘ভয়াবহ’ এবং ‘অশুভ মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। গত বুধবার ওয়াশিংটন ডিসিতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক টেলিভিশন ভাষণে ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলার হুমকি দেন। তবে চলমান যুদ্ধের অবসান কবে হবে—সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেননি তিনি। এ অবস্থায় মার্কিন সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ইরান নিয়ে ট্রাম্পের নীতি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে বড় ধরনের ভুল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তাঁর অভিযোগ, ট্রাম্প কৌশল নির্ধারণে ব্যর্থ হচ্ছেন, মিত্রদের দূরে সরিয়ে দিচ্ছেন এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকটকে উপেক্ষা করছেন। একই সুরে সমালোচনা করেছেন সিনেটর ক্রিস ভ্যান হলেন। তিনি ট্রাম্পকে ‘বিভ্রান্ত’ আখ্যা দিয়ে বলেন, তাঁর সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ব—উভয়ের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। কংগ্রেসওম্যান ইয়াসমিন আনসারি ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘অমানবিক’ উল্লেখ করে বলেন, একটি দেশের কোটি কোটি মানুষকে ধ্বংসের হুমকি দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অন্যদিকে Council on American-Islamic Relations ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘মুসলিমবিদ্বেষী ও বর্ণবাদী’ বলে সমালোচনা করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-সংকটকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের মধ্যেও অসন্তোষ বাড়ছে। এদিকে ট্রাম্প ইরানকে যুদ্ধবিরতির জন্য একাধিক সময়সীমা বেঁধে দিলেও এখনো কোনো সমঝোতা হয়নি। বরং পাল্টাপাল্টি হুমকি ও হামলার মধ্যে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।