আমেরিকা

মামদানির সমর্থনে নতুন মোড় নিচ্ছে নিউইয়র্কের প্রাইমারি লড়াই

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৮, ২০২৬ ১৩:৫৮
নিউইয়র্ক শহরের মেয়র জোহরান মামদানি। ফাইল ছবি: এএফপি
নিউইয়র্ক শহরের মেয়র জোহরান মামদানি। ফাইল ছবি: এএফপি

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির রাজনৈতিক প্রভাব দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ছয় মাসের মধ্যে ৩৪ বছর বয়সী এই ডেমোক্রেটিক সমাজতান্ত্রিক নেতা নিউইয়র্কের ডেমোক্রেটিক প্রাইমারি নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। নির্বাচনের কয়েক দিন আগে তিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অবস্থানের বাইরে গিয়ে একাধিক প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে ডেমোক্রেটিক পার্টির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছেন।

 

খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, মামদানিকে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতারাই কঠোর সমালোচনার মুখে ফেলেছিলেন। তবে বামপন্থী মহলে আগে থেকেই জনপ্রিয় এই নেতা এখন বিভিন্ন মহল থেকে প্রশংসা পাচ্ছেন। অ্যালবানি থেকে ওয়াশিংটন পর্যন্ত ডেমোক্রেটিক পার্টিকে নতুনভাবে রূপ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই তিনি রাজনৈতিক প্রভাবের পরিধি আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা করছেন।

 

এই লক্ষ্যেই তিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অবস্থানের বাইরে গিয়ে একাধিক প্রার্থীকে সমর্থন দিচ্ছেন। বৃহস্পতিবার ব্রুকলিনে ভোটারদের উৎসাহিত করতে আয়োজিত এক সমাবেশে স্বতন্ত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সের সঙ্গে উপস্থিত হওয়ার কথা রয়েছে তার। সেখানে মামদানির সমর্থিত কয়েকজন প্রার্থীও অংশ নেবেন।

 

বার্নি স্যান্ডার্সের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ও মামদানির ঘনিষ্ঠ সহযোগী ফয়েজ শাকির বলেন, “তিনি মনে করেন ডেমোক্রেটিক পার্টিকে বদলে দেওয়ার সুযোগ এসেছে। তিনি নেতৃত্বের সমালোচনার জন্য এটি করছেন না। তিনি মনে করেন, যাদের সমর্থন করছেন তাদের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি আরও শক্তিশালী। প্রয়োজন হলে পরাজয় মেনেও তিনি সেই অবস্থানে অটল থাকবেন।”

 

নিউইয়র্কের ১৩তম কংগ্রেসনাল জেলায় বর্তমান ডেমোক্রেটিক কংগ্রেসম্যান আদ্রিয়ানো এস্পাইয়াতের পরিবর্তে রাজনৈতিক সংগঠক দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়েরকে সমর্থন দিয়েছেন মামদানি।

 

এ ছাড়া ১০তম জেলায় বর্তমান কংগ্রেসম্যান ড্যান গোল্ডম্যানের বিরুদ্ধে সাবেক সিটি কম্পট্রোলার ব্র্যাড ল্যান্ডারকে এবং সপ্তম জেলায় ডেমোক্রেটিক সমাজতান্ত্রিক অ্যাসেম্বলি সদস্য ক্লেয়ার ভালদেজকে সমর্থন করছেন তিনি।

 

ক্লেয়ার ভালদেজ বলেন, “গত বছরের মেয়র নির্বাচনে মামদানি যেভাবে ভোটারদের উজ্জীবিত করেছিলেন, এখন সেই শক্তিকে আরও এগিয়ে নেওয়ার সময়।”

 

তবে দলের মূলধারার নেতারা মামদানির এই অবস্থানে সন্তুষ্ট নন। প্রতিনিধিপরিষদে ডেমোক্রেটিক নেতা হাকিম জেফরিজ মামদানি-সমর্থিত সমাজতান্ত্রিক প্রার্থীদের বিরোধিতা করে বর্তমান নির্বাচিত প্রতিনিধিদের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। মামদানির সমর্থিত প্রার্থীরা গাজা যুদ্ধ এবং নিউইয়র্কের উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়কে নির্বাচনের প্রধান ইস্যু হিসেবে তুলে ধরছেন।

 

তাদের অভিযোগ, কয়েকজন ডেমোক্রেটিক নেতা ইসরায়েলের প্রতি অতিমাত্রায় নমনীয় অবস্থান নিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা নিজেদের করপোরেট প্রভাবমুক্ত নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্ব হিসেবে তুলে ধরছেন।

 

ওয়াশিংটনের অনেক ডেমোক্রেটিক নেতা মনে করছেন, মামদানি এখন দলের জন্য রাজনৈতিক সম্পদে পরিণত হয়েছেন। তাদের মতে, তিনি এমন অনেক ভোটারকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনতে পেরেছেন, যারা আগে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া থেকে দূরে সরে গিয়েছিলেন।

 

তবে মধ্যপন্থী ডেমোক্রেটদের একটি অংশ আশঙ্কা করছে, তার বামপন্থী অবস্থান দলীয় রাজনীতিতে নতুন বিভাজন তৈরি করতে পারে।

 

অন্যদিকে রিপাবলিকানরা মামদানির জনপ্রিয়তাকে নিজেদের রাজনৈতিক কৌশলে ব্যবহার করতে চাইছে। ন্যাশনাল রিপাবলিকান কংগ্রেসনাল কমিটির মুখপাত্র মাইক মারিনেলা বলেন, “মামদানির সমাজতান্ত্রিক রাজনীতি অত্যন্ত বিতর্কিত এবং এটি ডেমোক্রেটিক পার্টির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেয়।”

 

তবে ফয়েজ শাকির এসব সমালোচনাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। তার ভাষায়, “জোহরান মামদানি রাজনৈতিক বোঝা নন। তিনি ক্রমেই ডেমোক্রেটিক রাজনীতির একটি শক্তিশালী সম্পদে পরিণত হচ্ছেন।”

 

সূত্র: এএফপি

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব সীমিত করার নির্বাহী আদেশ সুপ্রিম কোর্টে বাতিলের পর ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা। ছবি: সংগৃহীত
জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব নিয়ে ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে? উদ্বেগে অভিবাসী পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার উদ্যোগে সুপ্রিম কোর্টে পরাজয়ের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে এখন কী কী আইনি ও রাজনৈতিক পথ খোলা রয়েছে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালতের রায়ে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ বাতিল হলেও প্রশাসনের হাতে এখনও কিছু সীমিত বিকল্প রয়েছে।   গত ৩০ জুন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ৬-৩ ভোটে ট্রাম্পের সেই নির্বাহী আদেশ বাতিল করে, যেখানে অবৈধভাবে বা অস্থায়ী ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অভিভাবকদের সন্তানদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব না দেওয়ার প্রস্তাব ছিল। আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা রায়ে বলেন, সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া প্রায় সব শিশুই নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকারী।   রায়ের পর ট্রাম্প শুরুতে সুপ্রিম কোর্টে পুনর্বিবেচনার আবেদন করার ঘোষণা দিলেও নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তার প্রশাসন কোনো আবেদন জমা দেয়নি। ফলে আদালতের রায় কার্যকরভাবে বহাল থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সুপ্রিম কোর্টে পুনর্বিবেচনার আবেদন গ্রহণের নজির অত্যন্ত বিরল।   তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে এখনও কয়েকটি সম্ভাব্য পথ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কংগ্রেসের মাধ্যমে নতুন আইন প্রণয়নের চেষ্টা, ভবিষ্যতে ভিন্ন আইনি যুক্তিতে নতুন মামলা করা অথবা সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া। তবে সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী পরিবর্তন করতে হলে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন এবং অঙ্গরাজ্যগুলোর তিন-চতুর্থাংশের অনুমোদন প্রয়োজন, যা বাস্তবে অত্যন্ত কঠিন একটি প্রক্রিয়া।   জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর মাধ্যমে ১৮৬৮ সাল থেকে কার্যকর রয়েছে। ১৮৯৮ সালে ঐতিহাসিক মামলায় সুপ্রিম কোর্টও এই নীতিকে সাংবিধানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করে। সাম্প্রতিক রায়ে আদালত সেই দীর্ঘদিনের সাংবিধানিক ব্যাখ্যাই পুনর্ব্যক্ত করেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ৪, ২০২৬ ৯:৫৬
অবশেষে ‘২৫ বছরের নিচে’ প্রেমিকার ধারা ভাঙলেন হলিউড তারকা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও। ছবি: সংগৃহীত

অবশেষে ‘২৫ বছরের নিচে’ প্রেমিকার ধারা ভাঙলেন লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও, বর্তমান প্রেমিকার বয়স ২৭

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

১০ বিলিয়ন ডলারের মামলা চললেও বিবিসির প্রশংসায় ট্রাম্প, বললেন— ‘এবিসির চেয়ে ভালো’

দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধী ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের আমলে আইসিইর গ্রেপ্তার বেড়েছে, তবে কমেছে দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীর অনুপাত

অ্যাপার্টমেন্টে বসবাসরত তরুণী
বাথরুমে নেই ওয়াশবেসিন, তবু নিউইয়র্কের ৩৮০ বর্গফুটের এই ফ্ল্যাট ছাড়তে চান না তিনি

নিউইয়র্ক শহরের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এলাকাগুলোর একটি ওয়েস্ট ভিলেজে মাত্র ৩৮০ বর্গফুটের একটি ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত (রেন্ট-স্ট্যাবিলাইজড) অ্যাপার্টমেন্টে বসবাস করেন এক তরুণী। ফ্ল্যাটটিতে বাথরুমে ওয়াশবেসিন নেই, আলাদা ক্লোজেটও নেই। জায়গা কম, শীতকালে পর্যাপ্ত সূর্যের আলোও মেলে না। তবু তিনি বলছেন, এই বাসা ছেড়ে যাওয়ার কথা তিনি ভাবতেই পারেন না।   বিজনেস ইনসাইডারে প্রকাশিত এক ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় তিনি জানান, নিউইয়র্কের ওয়েস্ট ভিলেজের মতো এলাকায় যেখানে একই ধরনের এক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া প্রায়ই ৪ হাজার ডলার বা তারও বেশি, সেখানে তিনি ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার কারণে প্রায় ২ হাজার ডলারে এই বাসায় থাকতে পারছেন। এই অর্থনৈতিক সুবিধাই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় কারণ।    তরুণীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ছোটবেলা থেকেই এই অ্যাপার্টমেন্টে বড় হয়েছেন। পরিবারের স্মৃতি, দীর্ঘদিনের প্রতিবেশী এবং এলাকার সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ক তাঁর কাছে বাসাটিকে শুধু একটি থাকার জায়গা নয়, বরং নিজের পরিচয়ের অংশে পরিণত করেছে।   ফ্ল্যাটটিতে পুরোনো ইটের দেয়াল, ঐতিহ্যবাহী নকশা এবং পুরোনো নিউইয়র্কের আবহ থাকলেও বাস্তব সমস্যার শেষ নেই। ছোট জায়গার কারণে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রাখাও কঠিন। তবে এসব সীমাবদ্ধতার চেয়ে নিরাপদ ও তুলনামূলক কম ভাড়ায় শহরের অন্যতম অভিজাত এলাকায় বসবাসের সুযোগকে তিনি অনেক বেশি মূল্য দেন।   নিউইয়র্কে রেন্ট-স্ট্যাবিলাইজড অ্যাপার্টমেন্ট দীর্ঘদিন ধরেই আবাসন নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করা এসব ভবনের ভাড়ার বৃদ্ধির ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ থাকে, ফলে বাজারদরের তুলনায় অনেক কম খরচে বাস করার সুযোগ পান ভাড়াটিয়ারা।    সম্প্রতি নিউইয়র্ক সিটির প্রায় ১০ লাখ রেন্ট-স্ট্যাবিলাইজড অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া নির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্থির রাখার সিদ্ধান্তও আলোচনায় এসেছে। সমর্থকদের মতে, এটি উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ কমাতে সহায়তা করবে। অন্যদিকে বাড়ির মালিকদের একটি অংশের দাবি, দীর্ঘ সময় ভাড়া না বাড়ালে ভবন রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা ব্যয় সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে।    তবে ওই তরুণীর কাছে বিতর্কের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজের বাস্তবতা। তাঁর বিশ্বাস, এত কম ভাড়ায় ওয়েস্ট ভিলেজে একই ধরনের আরেকটি বাসা পাওয়া প্রায় অসম্ভব। তাই ছোট জায়গা, অস্বস্তিকর বিন্যাস কিংবা কিছু দৈনন্দিন অসুবিধা মেনে নিয়েই তিনি এই অ্যাপার্টমেন্টকে নিজের ভবিষ্যতের ঠিকানা হিসেবে ধরে রাখতে চান।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৪, ২০২৬ ৭:৪০
ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্প প্রশাসনের সহায়তা চাওয়ার খবর ‘সম্পূর্ণ মনগড়া’ বলে উড়িয়ে দিল ফিফা

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা

দশ বছরে প্রথমবার অর্থনীতিতে রিপাবলিকানদের ছাড়িয়ে ডেমোক্র্যাটদের প্রতি বেশি আস্থা মার্কিন ভোটারদের

ডোনাল্ড ট্রাম্প

' ব্রিটেন আসলে দেউলিয়া' উত্তর সাগরের তেল-গ্যাস উত্তোলন বাড়ানোর পরামর্শ ট্রাম্পের

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা! ট্রাম্পের ‘শেষ সুযোগ’ হুঁশিয়ারিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া ইরানের
তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা! ট্রাম্পের ‘শেষ সুযোগ’ হুঁশিয়ারিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া ইরানের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে এবং উত্তেজনা কমাতে ইরানের হাতে এখন ‘শেষ সুযোগ’ রয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, সমঝোতা হলে খুব শিগগিরই গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ আবারও চালু হতে পারে।    তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পরই ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা চলছে না এবং এ ধরনের দাবির বাস্তব ভিত্তি নেই। ইরান বলছে, তাদের বর্তমান যোগাযোগ কেবল ওমানের মাধ্যমে সামুদ্রিক চলাচল সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সীমাবদ্ধ।   হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট। এই পথ দিয়ে বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) বড় একটি অংশ পরিবাহিত হয়। ফলে প্রণালিটি বন্ধ বা অচল থাকলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, তেলের দাম এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় প্রভাব পড়তে পারে।    এদিকে সোমবার প্রণালির কাছে একটি বাণিজ্যিক জাহাজ অজ্ঞাত উৎসের একটি প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।    বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প ও ইরানের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত অনিশ্চিত। কূটনৈতিক সমাধান হবে, নাকি নতুন করে সংঘাত বাড়বে— সেটিই এখন আন্তর্জাতিক মহলের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৪, ২০২৬ ৪:৪৮
ইরানকে ট্রাম্পের শেষ কড়া সতর্কবার্তা

ইরানকে ট্রাম্পের শেষ কড়া সতর্কবার্তা, ‘এখনই চুক্তি না হলে সুযোগ শেষ’

নতুন আইন নিয়ে তুমুল আলোচনা

নিউইয়র্কে এখন নিজের মৃত্যুর সিদ্ধান্তও নেওয়া যাবে? নতুন আইন নিয়ে তুমুল আলোচনা

নতুন বিতর্কে মুখ খুললেন নিউইয়র্কের মামদানি

নিউইয়র্কের সরকারি খাদ্যসামগ্রীর দোকানে কেনাকাটায় কি পরিচয়পত্র লাগবে? বিতর্কে মুখ খুললেন মামদানি

0 Comments