- প্রচ্ছদ
- Topic
পরিবেশ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক ‘এনডেঞ্জারড স্পিসিজ অ্যাক্ট’ (Endangered Species Act) বা বিপন্ন প্রাণী সংরক্ষণ আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা বিধান বাতিল করেছে। শুক্রবার চূড়ান্ত হওয়া এই সিদ্ধান্তের ফলে সংরক্ষিত বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস করে খনন, তেল-গ্যাস অনুসন্ধান, বন উজাড় এবং অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পথ আরও সহজ হবে বলে আশঙ্কা করছেন পরিবেশবিদরা। নতুন নিয়মে আইনের ‘ক্ষতি’ (harm) শব্দটির সংজ্ঞা পরিবর্তন করা হয়েছে। এতদিন কোনো বিপন্ন প্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস করাও আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতো। এখন থেকে শুধু প্রাণীকে সরাসরি হত্যা বা আহত করার ঘটনাই ‘ক্ষতি’ হিসেবে গণ্য হবে। ফলে আবাসস্থল ধ্বংসের বিরুদ্ধে যে আইনি সুরক্ষা ছিল, তা কার্যত তুলে নেওয়া হয়েছে। মার্কিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডগ বার্গাম বলেন, আগের সংজ্ঞা ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকার ক্ষুণ্ন করছিল এবং সাধারণ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক জটিলতার মধ্যে ফেলেছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জ্বালানি উৎপাদন ও অবকাঠামো উন্নয়নের গতি বাড়বে। তবে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর মতে, এই সিদ্ধান্ত বহু বিপন্ন প্রাণীকে বিলুপ্তির আরও কাছাকাছি ঠেলে দেবে। তাদের অভিযোগ, কয়েক দশকের সংরক্ষণ প্রচেষ্টাকে এক ধাক্কায় দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে ক্যালিফোর্নিয়ায়, যা যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ অঙ্গরাজ্য। সেখানে ৬ হাজার ৭০০-এর বেশি প্রজাতির প্রাণী ও উদ্ভিদ রয়েছে। এনডেঞ্জারড স্পিসিজ অ্যাক্টের আওতায় সুরক্ষাপ্রাপ্ত প্রায় ২ হাজার ৩০০ প্রজাতির মধ্যে প্রায় ৩০০টির আবাস ক্যালিফোর্নিয়ায়। এসবের মধ্যে রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া কনডর, ধূসর নেকড়ে, মরুভূমির কচ্ছপ, সবুজ সামুদ্রিক কচ্ছপ, উত্তরাঞ্চলের স্পটেড পেঁচা, বিভিন্ন প্রজাতির সালামান্ডার, প্রজাপতি, মৌমাছি ও বিরল মাছ। বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, ক্যালিফোর্নিয়া কনডর একসময় বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল। আবাসস্থল রক্ষা ও পুনরুদ্ধার কর্মসূচির মাধ্যমে বর্তমানে এ প্রজাতির সংখ্যা কয়েকশতে উন্নীত হয়েছে। নতুন নিয়মের ফলে সেই আবাসস্থল আবারও বন উজাড় ও উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য উন্মুক্ত হয়ে যেতে পারে। সেন্টার ফর বায়োলজিক্যাল ডাইভারসিটির তথ্য অনুযায়ী, লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং উপকূলীয় আবাসন নির্মাণের কারণে এল সেগুন্দো ব্লু বাটারফ্লাই তাদের প্রায় ৯০ শতাংশ আবাসস্থল হারিয়েছিল। সংরক্ষণ কর্মসূচির ফলে একসময় মাত্র এক হাজারে নেমে আসা এ প্রজাতির সংখ্যা এখন এক লাখ ২০ হাজারের বেশি হয়েছে। পরিবেশবাদী সংগঠন আর্থজাস্টিসের আইনজীবী ক্রিস্টেন বয়েলস বলেন, কোনো প্রাণীর বসবাস, প্রজনন ও খাদ্য সংগ্রহের স্থান ধ্বংস করেও তাকে আইনি সুরক্ষার আওতায় রাখা সম্ভব—এমন দাবি বৈজ্ঞানিক, আইনি বা জনসমর্থন—কোনোটিরই ভিত্তিতে টেকে না। তিনি জানান, এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে আইনি লড়াই করা হবে। সিয়েরা ক্লাবও ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপকে বেআইনি বলে আখ্যা দিয়েছে। সংগঠনটির মতে, চার দশকের বেশি সময় ধরে কার্যকর থাকা সংরক্ষণ নীতিকে দুর্বল করে করপোরেট উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য সংরক্ষিত এলাকাগুলো খুলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এটি পরিবেশনীতি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম বিতর্কিত পদক্ষেপ নয়। এর আগে প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে নতুন করে তেল অনুসন্ধানের পরিকল্পনা এবং ক্যালিফোর্নিয়ার মোহাভি মরুভূমি থেকে পুরোনো তেল পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ প্রকল্পও পরিবেশবাদীদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। তাদের আশঙ্কা, এসব উদ্যোগ একত্রে ক্যালিফোর্নিয়ার বহু বিরল প্রাণী ও তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থলের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত বিশাল আতশবাজির প্রদর্শনীর পর কয়েক ঘণ্টার জন্য বিশ্বের বড় শহরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহরে পরিণত হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি। বিশ্লেষকদের মতে, মাত্র ৪০ মিনিটের আতশবাজির প্রদর্শনী শহরজুড়ে বায়ুদূষণের মাত্রা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে কর্তৃপক্ষ জনস্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করতে বাধ্য হয়। বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ক্ল্যারিটি মুভমেন্ট মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে জানিয়েছে, স্বাধীনতা দিবসের আতশবাজি প্রদর্শনীর পর বাতাসে ক্ষুদ্র কণার (পার্টিকুলেট ম্যাটার বা পিএম) ঘনত্ব স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৬ দশমিক ৭ গুণ বেড়ে যায়। প্রতিষ্ঠানটি ওয়াশিংটনজুড়ে স্থাপিত ২৬টি বায়ুমান পর্যবেক্ষণ যন্ত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই ফলাফল প্রকাশ করেছে। এসব যন্ত্র স্থানীয় জ্বালানি ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগিতায় পরিচালিত হয়। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, শহরের প্রতিটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে বায়ুর মান এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল, যাকে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা (ইপিএ) 'সংবেদনশীল জনগোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর' হিসেবে বিবেচনা করে। কয়েকটি এলাকায় দূষণের মাত্রা এর চেয়েও বেশি ছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আতশবাজি প্রদর্শনী শেষ হওয়ার প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর, রোববার ভোর ৪টার দিকে দূষণের মাত্রা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। এরপর আরও প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বায়ুদূষণ উচ্চমাত্রায় স্থায়ী ছিল। পরিস্থিতির কারণে ওয়াশিংটন ডিসি কর্তৃপক্ষ 'কোড রেড' সতর্কতা জারি করে। সতর্কবার্তায় বলা হয়, প্রবীণ, শিশু এবং শ্বাসকষ্ট বা অন্যান্য শারীরিক সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্য বাইরের বাতাস স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ। এমনকি সাধারণ মানুষও স্বাস্থ্যগত সমস্যায় পড়তে পারেন। তাই অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাইরে অবস্থান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে দূষণের মাত্রা সবচেয়ে বেশি ছিল। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ওয়েস্ট পোটোম্যাক পার্কে আতশবাজি নিক্ষেপের একটি প্রধান স্থান থাকার পাশাপাশি রাতের আবহাওয়ার কারণে ধোঁয়া ওই এলাকায় আটকে থাকায় দূষণ বেশি হয়েছে। ক্ল্যারিটি মুভমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা ডেভিড লু বলেন, দূষিত বাতাস সম্ভবত প্রতিবেশী ভার্জিনিয়ার আর্লিংটন এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে সেখানে পর্যাপ্ত পর্যবেক্ষণ যন্ত্র না থাকায় বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তার ভাষায়, এই ঘটনাই দেখিয়ে দেয় কেন তাৎক্ষণিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা আরও বিস্তৃত করা জরুরি। পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকলে বড় ধরনের দূষণের ঘটনা অনেক সময় অজানাই থেকে যায়। বিশ্লেষকরা আরও বলেছেন, রোববার সন্ধ্যায় বজ্রসহ বৃষ্টিপাত না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারত। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে বাতাসের দূষণ কিছুটা কমে আসে এবং সম্ভাব্য আরও বড় সংকট এড়ানো সম্ভব হয়। এবারের স্বাধীনতা দিবসের বিশেষ আতশবাজি প্রদর্শনীর আয়োজন করে ট্রাম্প-সমর্থিত অলাভজনক সংস্থা ফ্রিডম ২৫০। আয়োজকদের দাবি, শনিবার রাত ১১টায় শুরু হওয়া প্রদর্শনীতে রাজধানীর ১০টি স্থান থেকে ৮ লাখ ৫০ হাজারের বেশি আতশবাজি ফোটানো হয়। তুলনামূলকভাবে ওয়াশিংটনে সাধারণ স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে প্রায় ১৭ হাজার আতশবাজি ব্যবহার করা হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই প্রদর্শনীকে 'তার দেখা সবচেয়ে দর্শনীয় আতশবাজির অনুষ্ঠান' বলে মন্তব্য করেন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার এয়ারনাউ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার তথ্য অনুযায়ী, আতশবাজি প্রদর্শনীর পর কিছু সময়ের জন্য বিশ্বের বড় শহরগুলোর মধ্যে ওয়াশিংটনের বায়ুমান ছিল সবচেয়ে খারাপ। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেইলর রজার্স বলেন, এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের সবচেয়ে বড় আতশবাজির প্রদর্শনী। তিনি আরও বলেন, প্রতি বছরই স্বাধীনতা দিবসের আতশবাজির পর যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে স্বল্প সময়ের জন্য বায়ুদূষণ বেড়ে যায়। এবারের ঘটনাও তার ব্যতিক্রম নয়। অন্যদিকে আমেরিকান লাং অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর প্রায় ৩০ কোটি পাউন্ড আতশবাজি ব্যবহার করা হয়। এসব আতশবাজি থেকে সালফার ডাই-অক্সাইড, কার্বন ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইডসহ ফুসফুসের জন্য ক্ষতিকর বিভিন্ন গ্যাস ও সূক্ষ্ম কণা বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় আকারের আতশবাজির প্রদর্শনী স্বল্প সময়ের জন্য হলেও বায়ুমানের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ, গর্ভবতী নারী এবং শ্বাসতন্ত্রের রোগীদের জন্য এ ধরনের দূষণ তাৎক্ষণিক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বিশ্বের মাত্র ১০ শতাংশ উচ্চ-ভোগকারী বা ‘মেগা-ভোক্তা’ মানুষের অতিরিক্ত খাদ্য ও জ্বালানি ব্যবহারের কারণে পৃথিবীর পরিবেশের বার্ষিক ক্ষতি হচ্ছে প্রায় ৫.৭ ট্রিলিয়ন ডলার। এই ক্ষতির পরিমাণ যুক্তরাষ্ট্র ও চীন ছাড়া বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির চেয়েও অনেক বড়। যুক্তরাজ্য ও নেদারল্যান্ডসের গবেষকদের যৌথ এক নতুন গবেষণায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে, যা বৈশ্বিক জলবায়ু ও জীববৈচিত্র্য সংকটের জন্য ধনী দেশগুলোর অতিরিক্ত ভোগবিলাসকে সরাসরি দায়ী করছে। বিশ্বখ্যাত অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং লাইডেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই অতি-ভোগকারী বা মেগা-ভোক্তাদের সিংহভাগই মূলত বাস করেন ‘গ্লোবাল নর্থ’ বা বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে। যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেকেরও বেশি জনসংখ্যা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ মানুষ অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। গবেষকরা এই বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতিকে নজিরবিহীন ও ভয়াবহ বলে বর্ণনা করেছেন, যা পৃথিবীর জীবন রক্ষাকারী প্রাকৃতিক ব্যবস্থাকে প্রতিনিয়ত ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, পরিবেশের জন্য সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক দুটি ক্ষেত্র হলো খাদ্য ও জ্বালানি। বিশেষ করে রেড মিট বা লাল মাংসের অতিরিক্ত চাহিদা বিশ্বজুড়ে বন উজাড়ের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে ঘন ঘন বিমান ভ্রমণ এবং বাড়িঘর অতিরিক্ত ঠান্ডা বা গরম রাখার জন্য কয়লা, গ্যাস ও তেলের মতো জীবাশ্ম জ্বালানির মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার পরিবেশের এই ক্ষতিকে বহুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এই বার্ষিক ক্ষতির সবচেয়ে বড় অংশটি (৪৭-৫৬ শতাংশ) হচ্ছে জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের কারণে এবং বাকি ৩৬-৪৫ শতাংশ ক্ষতি হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈশ্বিক শীর্ষ ১০ শতাংশের তালিকায় থাকা একজন মানুষের কারণে গড়ে বার্ষিক ২,৩০০ থেকে ৭,৫০০ ডলারের পরিবেশগত ক্ষতি হয়। তবে এই হিসাব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ক্ষেত্রে আরও কয়েকগুণ বেশি, যেখানে জনপ্রতি বার্ষিক ক্ষতির পরিমাণ ১৯,০০০ থেকে ৬৩,০০০ ডলার। এদিকে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর ধনী পরিবারগুলোও দ্রুত এই তালিকায় এগিয়ে আসছে, যার ফলে বর্তমানে চীনের শীর্ষ ১০ শতাংশ মানুষের পরিবেশগত ক্ষতির গড় পরিমাণ জার্মানির শীর্ষ ১০ শতাংশ মানুষকেও ছাড়িয়ে গেছে। গবেষকরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, প্রকৃত পরিবেশগত খরচের পরিমাণ এই ৫.৭ ট্রিলিয়ন ডলারের চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে, কারণ এই হিসাবে ধনীদের বিনিয়োগ বা শেয়ার বাজারের কার্বন ফুটপ্রিন্ট যুক্ত করা হয়নি। পরিবেশবাদী সংস্থা গ্রিনপিসের এক সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, বিশ্বের মাত্র ১ শতাংশ শীর্ষ ধনীর আর্থিক বিনিয়োগের কারণে প্রতি বছর প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলারের জলবায়ু বিপর্যয় ঘটছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গবেষকরা বিশ্বের সরকারগুলোকে ধনীদের বিলাসবহুল পণ্য, অতিরিক্ত সম্পদ এবং কার্বন ব্যবহারের ওপর বিশেষ ট্যাক্স বা কর আরোপের জোর সুপারিশ করেছেন। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
পরিবেশ রক্ষার লড়াইয়ে অদম্য সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের ‘গোল্ডম্যান এনভায়রনমেন্টাল প্রাইজ’ (Goldman Environmental Prize) ঘোষণা করা হয়েছে। এ বছর বিশ্বের ছয়টি মহাদেশ থেকে মনোনীত হয়ে ইতিহাস গড়েছেন ছয়জন নারী। এই পুরস্কারকে বিশ্বজুড়ে ‘গ্রিন নোবেল’ বা পরিবেশের নোবেল হিসেবে গণ্য করা হয়। সোমবার (২০ এপ্রিল) সান ফ্রান্সিসকোতে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে গোল্ডম্যান এনভায়রনমেন্টাল ফাউন্ডেশন। ৩৭ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবার মনোনীত সব বিজয়ীই নারী। বিজয়ীরা প্রত্যেকেই তৃণমূল পর্যায়ে জলবায়ু পরিবর্তন, দূষণ এবং প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষায় অভূতপূর্ব ভূমিকা রেখেছেন: ইরো তানশি (নাইজেরিয়া): তিনি বিপন্ন প্রজাতির বাদুড় রক্ষায় নাইজেরিয়ার বনাঞ্চলে দাবানল নিয়ন্ত্রণে স্থানীয়দের নিয়ে সফল এক আন্দোলন গড়ে তোলেন। বোরিম কিম (দক্ষিণ কোরিয়া): এশিয়ার প্রথম যুব নেতৃত্বাধীন জলবায়ু মামলায় দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের বিরুদ্ধে জয়লাভ করেন তিনি, যা দেশটিকে আরও শক্তিশালী জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে বাধ্য করে। সারাহ ফিঞ্চ (যুক্তরাজ্য): দীর্ঘ এক দশকের আইনি লড়াই শেষে তিনি যুক্তরাজ্যে একটি বড় তেল উত্তোলন প্রকল্প বন্ধ করতে সক্ষম হন। থিওনিলা রোকা মাতবব (পাপুয়া নিউ গিনি): বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ খনি কোম্পানিকে তাদের পরিত্যক্ত বিষাক্ত খনি পরিষ্কার করার চুক্তিতে বাধ্য করেছেন এই নারী নেতা। অ্যালানাহ আকাক হারলি (যুক্তরাষ্ট্র): আলাস্কায় বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম উন্মুক্ত খনি প্রকল্পের বিরুদ্ধে আদিবাসীদের সংগঠিত করে তা রুখে দিয়েছেন। ইউভেলিস মোরালেস ব্লাঙ্কো (কলম্বিয়া): কলম্বিয়ায় পরিবেশবিধ্বংসী ‘ফ্র্যাকিং’ (গ্যাস উত্তোলনের বিশেষ পদ্ধতি) বন্ধে সাধারণ মানুষকে সংগঠিত করে ঐতিহাসিক বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন। গোল্ডম্যান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জন গোল্ডম্যান বলেন, "এই ছয় নারী প্রমাণ করেছেন যে সাহস এবং দৃঢ় ইচ্ছা থাকলে সাধারণ মানুষও অসাধ্য সাধন করতে পারে। তাদের এই বিজয় বিশ্বব্যাপী পরিবেশ আন্দোলনে নারীদের কেন্দ্রীয় ভূমিকারই এক অনন্য প্রতিফলন।" ১৯৮৯ সাল থেকে প্রতি বছর তৃণমূল পর্যায়ের এই সংগঠকদের পুরস্কৃত করা হয়, যারা অনেক ক্ষেত্রে নিজেদের জীবন বাজি রেখে প্রকৃতি বাঁচাতে লড়াই করেন। এ বছর ছয়জন নারী বিজয়ীর এই রেকর্ড অর্জন বিশ্বজুড়ে নারী নেতৃত্ব ও পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের জন্য এক নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত জলসীমায় একটি চীনা জাহাজে বিষাক্ত সায়ানাইড পাওয়ার দাবি করেছে ফিলিপাইন, যা অঞ্চলটিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। ফিলিপাইন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, Second Thomas Shoal এলাকায় নৌ অভিযানের সময় জব্দ করা উপকরণ পরীক্ষার পর সায়ানাইডের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। এই এলাকাটি ফিলিপাইনে আইয়ুনগিন শোল নামে পরিচিত এবং দীর্ঘদিন ধরে চীন ও ফিলিপাইনের মধ্যে বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু। ফিলিপাইনের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মতে, এটি শুধু পরিবেশগত অপরাধ নয়, বরং একটি সম্ভাব্য নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড। তাঁদের আশঙ্কা, সায়ানাইড ব্যবহার সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করতে পারে, মাছের মজুত কমিয়ে দিতে পারে এবং প্রবাল প্রাচীরের কাঠামো দুর্বল করে ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওই প্রবাল প্রাচীর ফিলিপাইনের কৌশলগত অবস্থানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে তাদের একটি নৌজাহাজ অবস্থান করছে, যা ম্যানিলার আঞ্চলিক দাবিকে শক্তিশালী করে। ফলে প্রাচীর ক্ষতিগ্রস্ত হলে ফিলিপাইনের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। এই অভিযোগ এমন এক সময়ে এসেছে, যখন South China Sea এলাকায় চীন ও ফিলিপাইনের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিকবার দুই দেশের নৌবাহিনী মুখোমুখি হয়েছে। ২০২৪ সালে এক সংঘর্ষে ফিলিপাইনের এক নাবিক আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে। ফিলিপাইন অভিযোগ করে আসছে, চীন তাদের রসদ সরবরাহে বাধা দিচ্ছে। তবে বেইজিং এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বরং ফিলিপাইনকেই নিজেদের জলসীমা লঙ্ঘনের জন্য দায়ী করছে। উল্লেখ্য, দক্ষিণ চীন সাগর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ, যার মাধ্যমে প্রতি বছর প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য পরিচালিত হয়। ২০১৬ সালে একটি আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল চীনের বিস্তৃত দাবিকে অবৈধ ঘোষণা করলেও চীন সেই রায় প্রত্যাখ্যান করে। বিশ্লেষকদের মতে, সায়ানাইডের এই অভিযোগ সমুদ্রবিরোধে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এটি শুধু সামরিক বা কূটনৈতিক নয়, বরং পরিবেশগত নিরাপত্তাকেও এখন এই বিরোধের অংশ করে তুলছে।
কুখ্যাত ড্রাগ লর্ড পাবলো এসকোবারের ব্যক্তিগত চিড়িয়াখানা থেকে ছড়িয়ে পড়া 'কোকেন হিপো' বা জলহস্তীগুলো এখন কলম্বিয়ার পরিবেশের জন্য এক বিশাল মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কলম্বিয়া সরকার অন্তত ৮০টি জলহস্তীকে 'ইউথানাসিয়া' বা যন্ত্রণাহীন মৃত্যুর দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। আশির দশকে মাদক সম্রাট পাবলো এসকোবার তার ব্যক্তিগত চিড়িয়াখানার জন্য অবৈধভাবে চারটি জলহস্তী আফ্রিকা থেকে কলম্বিয়ায় নিয়ে আসেন। ১৯৯৩ সালে পুলিশের অভিযানে এসকোবার নিহত হওয়ার পর তার খামারের অন্যান্য প্রাণী সরিয়ে নেওয়া হলেও জলহস্তীগুলো রয়ে যায়। গত তিন দশকে এদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬৯-এ। বিজ্ঞানীদের মতে, কলম্বিয়ার ম্যাগডালেনা নদী অববাহিকায় এই জলহস্তীগুলোর কোনো প্রাকৃতিক শিকারি নেই। ফলে এরা অবাধে বংশবিস্তার করছে। এদের অতিরিক্ত মল নদীর পানির গুণমান নষ্ট করছে, যার ফলে স্থানীয় মাছ এবং অন্যান্য জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এখনই ব্যবস্থা না নিলে ২০৩০ সালের মধ্যে এদের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে যাবে। কলম্বিয়ার পরিবেশ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রতিটি জলহস্তীকে ইনজেকশনের মাধ্যমে যন্ত্রণাহীন মৃত্যু দিতে সরকারের খরচ হবে প্রায় ২ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া কিছু জলহস্তীকে ভারত ও মেক্সিকোর বিভিন্ন অভয়ারণ্যে স্থানান্তরের পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে বংশগত ত্রুটি এবং উচ্চ পরিবহন খরচের কারণে সব প্রাণীকে স্থানান্তর করা সম্ভব হচ্ছে না। এর আগে বন্ধ্যাকরণ বা জন্মনিরোধক ওষুধ দিয়ে এদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হলেও তা খুব একটা কার্যকর হয়নি। তাই পরিবেশ রক্ষায় এই কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছে কলম্বিয়া সরকার।
২০২৫ সালের বৈশ্বিক বায়ুমান সূচকে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত দেশের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে পাকিস্তান। মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা 'আইকিউএয়ার' (IQAir) প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এই তালিকায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে বাংলাদেশ ও তাজিকিস্তান। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানে বাতাসে ক্ষতিকারক সূক্ষ্ম কণা পিএম ২.৫ (PM2.5)-এর উপস্থিতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) নির্ধারিত সীমার চেয়ে ১৩ গুণ বেশি রেকর্ড করা হয়েছে। বায়ুদূষণের এই ভয়াবহ পরিস্থিতির কারণে দেশটির লাহোরসহ প্রধান শহরগুলো ঘন কুয়াশা ও ধোঁয়াশার (Smog) কবলে রয়েছে। আইকিউএয়ার জানায়, ২০২৫ সালে বিশ্বের ১৪৩টি দেশ ও অঞ্চলের ওপর এই গবেষণা চালানো হয়। যার মধ্যে ১৩০টি দেশই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত বায়ুমান বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। গত বছর মাত্র ১৩টি দেশ ও অঞ্চল ডব্লিউএইচও-এর মানদণ্ড (প্রতি ঘনমিটারে ৫ মাইক্রোগ্রামের কম পিএম ২.৫) বজায় রাখতে পেরেছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় কিছুটা উন্নত। তালিকায় দেখা গেছে, ২০২৪ সালে সবচেয়ে দূষিত দেশের তালিকায় শীর্ষে থাকা চাদ এবার চতুর্থ অবস্থানে নেমে এসেছে। তবে গবেষকদের মতে, এটি দূষণ কমার কারণে নয় বরং তথ্যগত ঘাটতির কারণে হতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বৈদেশিক দূতাবাসগুলো থেকে বায়ুমান পর্যবেক্ষণ কর্মসূচি বন্ধ করে দেওয়ায় অনেক দেশের প্রকৃত চিত্র পাওয়া সম্ভব হয়নি। শহরভিত্তিক দূষণেও দক্ষিণ এশিয়ার আধিপত্য বজায় রয়েছে। ২০২৫ সালে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ভারতের 'লোনি'। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চীনের 'হোটান'। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিশ্বের শীর্ষ ২৫টি দূষিত শহরের সবগুলোই ভারত, পাকিস্তান এবং চীনে অবস্থিত। জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রতিকূল আবহাওয়াকে দূষণের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে লাওস, কম্বোডিয়া এবং ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোতে বৃষ্টিপাত ও বায়ুপ্রবাহ বেশি হওয়ায় দূষণের মাত্রা আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে। অন্যদিকে, কানাডার ভয়াবহ দাবানলের ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুরু করে ইউরোপ পর্যন্ত বায়ুদূষণ বাড়িয়ে দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, পিএম ২.৫ কণা সরাসরি মানুষের ফুসফুস ও রক্তে মিশে দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে ক্রমবর্ধমান শিল্পায়ন এবং যানবাহন থেকে নির্গত ধোঁয়া এই পরিস্থিতির জন্য প্রধানত দায়ী।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।