- প্রচ্ছদ
- Topic
বিমানবন্দর
বাংলাদেশে ফেরার আগে প্রত্যেক প্রবাসীকে অনলাইনে ব্যাগেজ ডিক্লারেশন ফর্ম পূরণ করতে হবে, তা না হলে ঢাকার বিমানবন্দরে লাগেজ আটকে যাবে—এমন দাবি বিভ্রান্তিকর। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রকাশিত নির্দেশনায় শুল্কযোগ্য পণ্য বহনকারী যাত্রীর ব্যাগেজ ঘোষণা দেওয়ার কথা রয়েছে। প্রত্যেক যাত্রীর জন্য ফ্লাইটে ওঠার আগেই অনলাইনে ফর্ম পূরণ বাধ্যতামূলক, এমন নিয়ম সরকারি নির্দেশনায় পাওয়া যায়নি। খসড়ায় ২০২৪ সালের বিধিমালাকে ‘নতুন নিয়ম’ বলা হয়েছে। তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তালিকায় ২০২৫ সালের ৩ জুনের ‘অপর্যটক যাত্রী ব্যাগেজ বিধিমালা, ২০২৫’ও রয়েছে। তাই ভ্রমণের প্রস্তুতিতে শুধু ২০২৪ সালের তথ্যের ওপর নির্ভর করা ঠিক হবে না। যাত্রীর সঙ্গে শুল্কযোগ্য পণ্য থাকলে তার বিবরণ ও পরিমাণ কাস্টমসকে জানাতে হবে। কোনো পণ্য ঘোষণা করতে হবে কি না বা সেটির জন্য শুল্ক দিতে হবে কি না, তা পণ্যের ধরন ও প্রযোজ্য ব্যাগেজ বিধির ওপর নির্ভর করে। শুধু ফর্ম পূরণ না করার কারণে সব যাত্রীর মোবাইল, স্বর্ণ ও লাগেজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে আটকে যাবে—এমন দাবি সরকারি নির্দেশনার সঙ্গে মেলে না। বৈদেশিক মুদ্রার ঘোষণা ব্যাগেজ ঘোষণার আলাদা বিষয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৫ সালের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো যাত্রী ১০ হাজার মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার বেশি সঙ্গে আনলে আগমনের সময় কাস্টমসের কাছে নির্ধারিত ফর্মে ঘোষণা দিতে হবে। খসড়ায় ৫ হাজার ডলার থেকে ঘোষণা বাধ্যতামূলক বলা হলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই নির্দেশনায় সীমা ১০ হাজার ডলার। দেশে ফেরার সময় শুল্কযোগ্য পণ্য বা ঘোষণাযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সঙ্গে থাকলে কাস্টমসের কাছে সঠিক তথ্য দেওয়া জরুরি। আর ভ্রমণের আগে ব্যাগেজ সুবিধা ও ঘোষণার সর্বশেষ সরকারি নিয়ম দেখে নেওয়াই বিভ্রান্তি এড়ানোর উপায়।
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এ বছর হামে আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ৪০০ ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যেই ফিলাডেলফিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হাম আক্রান্ত এক যাত্রী অবস্থান করায় সম্ভাব্য সংক্রমণের বিষয়ে সতর্ক করেছে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। গত ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ৫ মিনিট পর্যন্ত ওই যাত্রী বিমানবন্দরে ছিলেন। ফিলাডেলফিয়া জনস্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ওই ব্যক্তি বিমানবন্দরের বি ও এফ টার্মিনালে ছিলেন। পাশাপাশি সি, ডি ও ই টার্মিনালের সঙ্গে সংযুক্ত কিছু এলাকাতেও তার চলাচল ছিল। তবে তিনি বিমানবন্দরের বাইরে যাননি। ওই সময় এসব এলাকায় থাকা যাত্রী ও কর্মীদের নিজেদের হাম প্রতিরোধী কি না, তা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বিশেষ করে যাদের টিকা নেওয়া হয়নি বা টিকার বিষয়ে নিশ্চিত নন, শিশু, গর্ভবতী নারী এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাদের সতর্ক থাকতে বলেছেন। সম্ভাব্য সংক্রমণের পর ৫ অক্টোবর পর্যন্ত কারও হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। চিকিৎসাকেন্দ্রে যাওয়ার আগে সম্ভাব্য সংক্রমণের বিষয়টি জানাতেও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই সতর্কবার্তার আগে ১১ সেপ্টেম্বর ফিলাডেলফিয়ার চিলড্রেনস হসপিটালেও হামের সম্ভাব্য সংক্রমণের ঘটনা সামনে আসে। তবে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হাসপাতাল ও বিমানবন্দরের এই দুটি ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) তথ্য অনুযায়ী, ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ৩ হাজার ৪৭১টি নিশ্চিত হামের ঘটনা রেকর্ড হয়েছে। ২০২৫ সালের পুরো বছরে যেখানে ২ হাজার ২৮৯টি আক্রান্তের ঘটনা ছিল, চলতি বছর এরই মধ্যে সেই সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে। ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ৩৯টি হামের প্রাদুর্ভাবও শনাক্ত করেছে সিডিসি। অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে পেনসিলভেনিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি—৭৪৫। এরপর রয়েছে সাউথ ক্যারোলাইনা ৬৭০ এবং ইউটাহ ৫২৭। এছাড়া টেক্সাস, ভার্জিনিয়া, উইসকনসিন, ফ্লোরিডা, ওহাইও ও অ্যারিজোনাতেও ১০০টির বেশি আক্রান্তের ঘটনা রেকর্ড হয়েছে। তবে কিছু অঙ্গরাজ্যে গত বছরের তুলনায় আক্রান্তের সংখ্যা কমেছে। টেক্সাসে ২০২৫ সালে ৮০৩টি আক্রান্তের ঘটনা থাকলেও এ বছর এখন পর্যন্ত ১৯২টি হয়েছে। অ্যারিজোনায় গত বছর ২২২টি আক্রান্তের বিপরীতে চলতি বছর এখন পর্যন্ত ১১০টি ঘটনা পাওয়া গেছে। অন্যদিকে আরকানসাস, হাওয়াই, মিসিসিপি, নিউ হ্যাম্পশায়ার ও নেভাডায় এ বছর এখন পর্যন্ত কোনো আক্রান্তের ঘটনা রেকর্ড হয়নি। হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত সংক্রমণের ৭ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং চোখ লাল ও পানি পড়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। পরে মুখের ভেতরে ছোট সাদা দাগ এবং শরীরে র্যা শ দেখা দিতে পারে। র্যা শ সাধারণত প্রথম উপসর্গের তিন থেকে পাঁচ দিন পর দেখা দিয়ে মাথা থেকে শরীরের নিচের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। গুরুতর ক্ষেত্রে হাম থেকে নিউমোনিয়া ও মস্তিষ্কে প্রদাহের মতো জটিলতা হতে পারে। বিশেষ করে শিশু, গর্ভবতী নারী এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার মানুষদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি। আক্রান্ত ব্যক্তি কাশি বা হাঁচি দিলে বাতাসের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়াতে পারে এবং কোনো বদ্ধ জায়গায় ভাইরাস প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, হাম প্রতিরোধে এমএমআর টিকার একটি ডোজ প্রায় ৯৩ শতাংশ এবং দুটি ডোজ প্রায় ৯৭ শতাংশ কার্যকর। টিকা নেওয়ার পরও বিরল ক্ষেত্রে সংক্রমণ হতে পারে, তবে সাধারণত উপসর্গ ও জটিলতার মাত্রা কম থাকে এবং অন্যদের মধ্যে ভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকিও কমে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের মধ্যে এমএমআর টিকা নেওয়ার হারও কমেছে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে এই হার ৯২ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে এসেছে। প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীর এমএমআর টিকা সম্পন্ন করার প্রমাণপত্র ছিল না বলে সিডিসির তথ্য জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আকাশপথে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত বিপর্যয়ের পর নিউইয়র্ক এলাকার তিন প্রধান বিমানবন্দর—নিউয়ার্ক লিবার্টি, জন এফ কেনেডি (জেএফকে) ও লাগার্ডিয়ায় আবার ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়েছে। তবে মঙ্গলবারও কিছু ফ্লাইটে বিলম্ব ও বাতিলের প্রভাব রয়ে গেছে। সোমবার সমস্যার সূত্রপাত হয় ফিলাডেলফিয়ায় অবস্থিত ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) একটি গুরুত্বপূর্ণ এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল স্থাপনায়। সেখানে প্রধান যোগাযোগ লাইন বিকল হয়ে যায়। একই সময়ে ব্যাকআপ ফাইবার অপটিক লাইনও কেটে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে ওঠে। এতে নিয়ন্ত্রকেরা কয়েক ঘণ্টার জন্য প্রয়োজনীয় রাডার ও যোগাযোগব্যবস্থা ব্যবহারে সমস্যায় পড়েন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় নিউয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এপি জানিয়েছে, সেখানে সোমবার সকাল প্রায় ৯টা ৪০ মিনিট থেকে বিকেল ৫টা ২০ মিনিট পর্যন্ত বাণিজ্যিক বিমান চলাচল কার্যত বন্ধ ছিল। শত শত ফ্লাইট বাতিল হয়। একই সমস্যার প্রভাব জেএফকে, লাগার্ডিয়া ও ফিলাডেলফিয়াসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্যান্য বিমানবন্দরেও ছড়িয়ে পড়ে। মার্কিন পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি জানিয়েছেন, প্রধান যোগাযোগ লাইনে সমস্যা হওয়ার পাশাপাশি নিউ জার্সিতে নির্মাণকাজের সময় একটি ব্যাকআপ ফাইবার লাইন কেটে যায়। পরে ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামত করা হয় এবং সোমবার রাত থেকে বিমান চলাচল পুনরায় শুরু হয়। এফএএর নথিতেও দেখা যাচ্ছে, জেএফকে, লাগার্ডিয়া ও নিউয়ার্কের জন্য চালু করা বিলম্ব নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি পরে বাতিল করা হয়েছে। ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটেছে যখন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ঘিরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। ফলে বিমান চলাচলের এই বিপর্যয় আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের যাতায়াতেও প্রভাব ফেলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামে আক্রান্ত এক ব্যক্তির যাতায়াতের কারণে সম্ভাব্য সংক্রমণের সতর্কতা জারি করেছে শহরের জনস্বাস্থ্য বিভাগ। ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর রাত পর্যন্ত বিমানবন্দরের কয়েকটি টার্মিনাল ও সংযোগ এলাকায় ওই ব্যক্তি অবস্থান করেন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাটি সম্প্রতি ফিলাডেলফিয়ার শিশু হাসপাতালে শনাক্ত হওয়া হামের সম্ভাব্য সংস্পর্শের ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। ফিলাডেলফিয়ার জনস্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য সংস্পর্শের সময় ছিল ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ৭টা ২৫ মিনিট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ৫ মিনিট পর্যন্ত। এ সময় ওই ব্যক্তি বি ও এফ টার্মিনাল এবং সি, ডি ও ই টার্মিনালের সংযোগ এলাকায় ছিলেন। তিনি বিমানবন্দর থেকে বাইরে যাননি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এই সময়ে বিমানবন্দরে থাকা যাত্রী ও অন্যদের নিজেদের হামের বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং টিকা নেওয়ার তথ্য যাচাই করতে বলা হয়েছে। যাদের টিকা নেওয়ার তথ্য নিশ্চিত নয় বা যারা হামের বিরুদ্ধে সুরক্ষিত নন, তাদের দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ১২ মাসের কম বয়সী শিশু, হামের বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নেই এমন গর্ভবতী নারী এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল তাদের। যারা মাত্র এক ডোজ হামের টিকা নিয়েছেন, তাদের দ্বিতীয় ডোজ প্রয়োজন কি না তা চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করতে বলা হয়েছে। হামের প্রাথমিক লক্ষণের মধ্যে জ্বর, নাক দিয়ে পানি পড়া, কাশি এবং চোখ লাল ও পানি পড়ার মতো উপসর্গ থাকতে পারে। পরে শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে। সম্ভাব্য সংস্পর্শে আসা কেউ ৫ অক্টোবর পর্যন্ত এসব উপসর্গে আক্রান্ত হলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আগে সম্ভাব্য হামের সংস্পর্শে আসার বিষয়টি জানাতেও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি, হাঁচি বা কথা বলার মাধ্যমে এটি ছড়াতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তি কোনো স্থান ছেড়ে যাওয়ার পরও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বাতাসে ভাইরাস কিছু সময় থাকতে পারে। ফিলাডেলফিয়ার স্বাস্থ্য কমিশনার ডা. পালাক রাভাল-নেলসন জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক হামের সংস্পর্শের ঘটনাগুলো সবার টিকাদান হালনাগাদ রাখার গুরুত্ব আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে। পূর্ণ টিকা নেওয়া ব্যক্তিদের সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম বলে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এদিকে বিমানবন্দরের এই ঘটনা এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন পেনসিলভানিয়ায় হামের সংক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজ্যে ৭৬৭টি হাম শনাক্ত এবং হামের সঙ্গে সম্পর্কিত চারটি মৃত্যুর খবর জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফিলাডেলফিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এই সম্ভাব্য সংস্পর্শের ঘটনা শিশু হাসপাতালের সাম্প্রতিক ঘটনার থেকে আলাদা। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, দুটি ঘটনাকে একই সংক্রমণ হিসেবে দেখার কোনো ভিত্তি নেই। বিমানবন্দরে নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত থাকা ব্যক্তিদের নিজেদের টিকাদানের তথ্য যাচাই এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানবন্দরে ভারতগামী ফ্লাইটের আগে হুইলচেয়ারে বসা যাত্রীদের দীর্ঘ সারির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ছবিটি ঘিরে হুইলচেয়ার সহায়তা প্রকৃত প্রয়োজন নাকি সুবিধা নেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে—এ নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। ছবিটি ভ্রমণবিষয়ক মন্তব্যকারী প্রিয়েশ শর্মা এক্সে শেয়ার করেন। এতে বিমানবন্দরের একটি গেটের কাছে একাধিক যাত্রীকে হুইলচেয়ারে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। তাদের অনেকেই বয়স্ক হলেও কয়েকজনকে তুলনামূলক কম বয়সী মনে হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন ওঠে, সবাই কি সত্যিই হুইলচেয়ার সহায়তার প্রয়োজনীয়তা পূরণ করেন? ছবিটি প্রকাশের পর অনেকে অভিযোগ করেন, কেউ কেউ দীর্ঘ পথ হাঁটা এড়ানো, বিমানবন্দরে সহজে চলাচল কিংবা দ্রুত বোর্ডিংয়ের সুবিধার জন্য হুইলচেয়ার চাইতে পারেন। সমালোচকদের একটি অংশের দাবি, এ ধরনের ব্যবহার বাড়লে সীমিত সহায়তা-সেবা প্রকৃতভাবে প্রয়োজন এমন যাত্রীদের জন্য কম পাওয়া যেতে পারে। অন্যদিকে, ছবিটি দেখে কোনো যাত্রীর প্রকৃত প্রয়োজন বিচার করা সম্ভব নয় বলে পাল্টা মতও এসেছে। সব ধরনের শারীরিক সমস্যা বা প্রতিবন্ধকতা বাইরে থেকে দেখা যায় না। বিশেষ করে বয়স্ক যাত্রীদের দীর্ঘ টার্মিনাল, গেট পরিবর্তন, নিরাপত্তা তল্লাশি ও সংযোগ ফ্লাইট সামলাতে সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে। বিমানবন্দরের জটিলতা ও ভাষাগত সমস্যার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। নিয়মিত আন্তর্জাতিক ভ্রমণ না করা যাত্রীদের জন্য টার্মিনাল পরিবর্তন, গেট বদল, দেরি, সংযোগ ফ্লাইট ও পুনরায় বুকিংয়ের মতো বিষয় সামলানো কঠিন হতে পারে। ফলে কোনো কোনো যাত্রী শারীরিক প্রতিবন্ধকতা না থাকলেও বিমানবন্দরে চলাচলের সহায়তা চাইতে পারেন—এমন মতও এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবন্ধী যাত্রীদের জন্য বিমানবন্দরে সহায়তা দেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। মার্কিন পরিবহন বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, প্রয়োজন অনুযায়ী হুইলচেয়ার, মোটরচালিত কার্ট, গেট পরিবর্তনের সময় সহায়তা এবং বিমান ওঠা-নামার ক্ষেত্রে সহায়তা দিতে হয়। ফলে ভাইরাল ছবিটি মূলত বিমানবন্দরের হুইলচেয়ার সহায়তা ব্যবস্থাকে ঘিরে একটি পুরোনো প্রশ্নকে আবার সামনে এনেছে—সুবিধার জন্য সেবার ব্যবহার আর প্রকৃত প্রয়োজনের মধ্যে সীমারেখা কোথায়? তবে শুধু কোনো যাত্রীর বয়স বা চেহারা দেখে তার হুইলচেয়ার প্রয়োজনীয় নয়—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। Source: ইন্ডিয়া টুডে, হিন্দুস্তান টাইমস
ইন্দোনেশিয়ার আনাক ক্রাকাতাউ আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত ছাইয়ের কারণে দু'দিন বন্ধ থাকার পর দেশটির প্রধান প্রধান বিমানবন্দরগুলো আবার চালু হয়েছে। তবে মঙ্গলবার নতুন করে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হওয়ায় পুনরায় ফ্লাইট চলাচলে ফের বিঘ্নের আশঙ্কা রয়েছে। রোববার থেকে শুরু হওয়া বিমানবন্দর বন্ধের ঘটনায় ২ হাজার ৯৬১টি ফ্লাইট বাতিল বা বিঘ্নিত হয়, যার মধ্যে ৬২২টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট। এতে ৩ লাখ ৪১ হাজারের বেশি যাত্রী দুর্ভোগে পড়েন। যোগাযোগমন্ত্রী দুদি পুরওয়াগান্ধি জানান, ‘রাজধানী জাকার্তার সুকর্ণ-হাত্তা ও হালিম পারদানা কুসুমা বিমানবন্দর, পশ্চিম জাভার বান্দুংয়ের হুসেইন সাস্ত্রানেগারা বিমানবন্দর এবং বানতেন প্রদেশের দুটি ছোট বিমানবন্দর মঙ্গলবার মধ্যরাতের পর পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে সুমাত্রার ল্যাম্পুংয়ের রাদিন ইন্তেন ২-সহ তিনটি বিমানবন্দর মঙ্গলবার সকাল ১০টা পর্যন্ত বন্ধ ছিল। এর আগে গত রবিবার থেকে বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় ৬২২টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটসহ মোট ২,৯৬১টি ফ্লাইট বাতিল হয় এবং প্রায় ৩ লাখ ৪১ হাজারের বেশি যাত্রী আটকা পড়েন।‘ তিনি আরও বলেন,’বাতাসের দিক পরিবর্তনশীল হওয়ায় কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে। রানওয়ে, ট্যাক্সিওয়ে ও বিমানে ছাই জমা হয়েছে কি না তা পরীক্ষা এবং রানওয়ে পরিষ্কার করার জন্য বাড়তি সময় নেওয়া হয়। এছাড়া সুকর্ণ-হাত্তা বিমানবন্দরে আটকে থাকা ১৭৮টি বিমানের উড্ডয়নযোগ্যতা পরীক্ষা করা হচ্ছে।‘ সান্দা প্রণালীতে অবস্থিত আনাক ক্রাকাতাউ আগ্নেয়গিরিটি গত রবিবার থেকে একটানা অগ্ন্যুৎপাত ঘটানোর পর মঙ্গলবার সকালেও সক্রিয় ছিল। সকাল ৫টা ০৮ মিনিট ও ৫টা ৩৪ মিনিটে দুটি ছোট অগ্ন্যুৎপাত রেকর্ড করা হয়। ভূতাত্ত্বিক সংস্থার প্রধান লানা সারিয়া জানান, পরিস্থিতি আগের মতো ভয়াবহ না হলেও সতর্ক নজরদারি চালানো হচ্ছে। আগ্নেয়গিরিটিকে সতর্কতার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্তরে রাখা হয়েছে এবং ৩ কিলোমিটারের মধ্যে পর্যটক, স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলেদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার ভূতাত্ত্বিক সংস্থার প্রধান লানা সারিয়া বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এসব অগ্ন্যুৎপাতের প্রভাব আগের তুলনায় কম। তবে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।‘ বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় যাত্রীদেরও চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। জাভার মালাং থেকে রোববার সকাল থেকে জাকারিয়া ফেরার চেষ্টা করা ৪৬ বছর বয়সী ফিন্না জানান, ‘বারবার ফ্লাইটের সময় পরিবর্তন হওয়ায় বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা না করে তিনি দুটি আন্তঃনগর ট্রেনে রাতভর যাত্রা করে সোমবার ভোর ৩টায় জাকারিয়ায় পৌঁছান।‘ উল্লেখ্য, ১৮৮৩ সালে বিখ্যাত ক্রাকাতাউ আগ্নেয়গিরির ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর সমুদ্র থেকে উঠে আসে এই 'আনাক ক্রাকাতাউ' (ক্রাকাতাউয়ের সন্তান)। এর আগে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে এই আগ্নেয়গিরির একাংশ ধসে পড়ে সৃষ্ট সুনামিতে চার শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। প্রশান্ত মহাসাগরীয় 'রিং অব ফায়ার' এলাকায় অবস্থিত ইন্দোনেশিয়ায় ১২০টিরও বেশি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি রয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার আনাক ক্রাকাতাউ আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ও ছাইয়ের কারণে দুই দিন বন্ধ থাকার পর জাকার্তার প্রধান বিমানবন্দরসহ পাঁচটি বিমানবন্দর আবার চালু হয়েছে। তবে আগ্নেয়গিরিটি এখনো সক্রিয় থাকায় নতুন করে ফ্লাইটে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার পরিবহনমন্ত্রী দুডি পুরওয়াগান্ধি জানিয়েছেন, সুকর্ণো-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর মঙ্গলবার আবার বিমান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। জাকার্তার আরেকটি বিমানবন্দর হালিম পেরদানাকুসুমা, পশ্চিম জাভার বান্দুংয়ের বিমানবন্দর এবং বানতেন প্রদেশের আরও দুটি বিমানবন্দরও পুনরায় চালু হয়েছে। আগ্নেয়গিরির ছাইয়ের কারণে রোববার থেকে বিমানবন্দরগুলো বন্ধ রাখতে হয়েছিল। এ ঘটনায় ২ হাজার ৯৬১টি ফ্লাইট বাতিল, বিলম্বিত বা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয় এবং ৩ লাখ ৪১ হাজারের বেশি যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হন। এর মধ্যে ৬২২টি ছিল আন্তর্জাতিক ফ্লাইট। জাকার্তার প্রধান বিমানবন্দরে বন্ধ থাকার সময় ১৭৮টি বিমান মাটিতে আটকে ছিল। বিমান চলাচল স্বাভাবিক করার আগে এসব বিমানের উড্ডয়নযোগ্যতা পরীক্ষা করা হচ্ছে। রানওয়ে, ট্যাক্সিওয়ে ও অন্যান্য স্থাপনাও পরিষ্কার করা হয়েছে। তবে বিপদ পুরোপুরি কাটেনি। আনাক ক্রাকাতাউ থেকে মঙ্গলবার ভোরেও নতুন কয়েকটি ছোট অগ্ন্যুৎপাতের খবর পাওয়া গেছে। দেশটির ভূতাত্ত্বিক সংস্থা জানিয়েছে, ছাইয়ের উচ্চতা ও বাতাসের গতিপথের ওপর নির্ভর করে এসব অগ্ন্যুৎপাত আবারও বিমান চলাচলে প্রভাব ফেলতে পারে। আনাক ক্রাকাতাউ জাভা ও সুমাত্রা দ্বীপের মাঝামাঝি সুন্দা প্রণালিতে অবস্থিত। আগ্নেয়গিরিটি জুলাই থেকেই ইন্দোনেশিয়ার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সতর্কতা স্তরে রয়েছে। কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটক ও জেলেদের সক্রিয় জ্বালামুখ থেকে অন্তত ৩ কিলোমিটার দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। আনাক ক্রাকাতাউ মূল ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরির ধ্বংসাবশেষের ওপর গড়ে ওঠা নতুন আগ্নেয় দ্বীপ। ১৮৮৩ সালের ভয়াবহ ক্রাকাতোয়া অগ্ন্যুৎপাতে প্রায় ৩৬ হাজার মানুষ নিহত হয়। পরে ২০১৮ সালে আনাক ক্রাকাতাউয়ের একটি অংশ ধসে পড়ে সুনামি সৃষ্টি হলে ৪৩০ জনের বেশি মানুষ মারা যান। এবারের অগ্ন্যুৎপাতে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি এবং কোনো গণউচ্ছেদের নির্দেশও দেওয়া হয়নি। তবে ছাই ছড়িয়ে পড়ায় কিছু এলাকায় স্কুল কার্যক্রম অনলাইনে নেওয়া হয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অ্যামাজন প্রাইম এয়ারের একটি বোয়িং ৭৬৭ কার্গো বিমান রানওয়ে ছাড়িয়ে দুর্ঘটনায় পড়েছে। স্থানীয় সময় রোববার দুপুর ২টার দিকে অবতরণের পর বিমানটি রানওয়ের শেষ প্রান্ত পেরিয়ে যায়। ভয়াবহ দুর্ঘটনার ভিডিওতে বিমান থেকে আগুন ও ঘন কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) জানিয়েছে, এটি ২১ এয়ার ফ্লাইট ৭৫৯৮, একটি বোয়িং ৭৬৭-৩০০ কার্গো বিমান। বিমানটি পুয়ের্তো রিকোর সান হুয়ান থেকে মিয়ামির উদ্দেশে উড়েছিল। অবতরণের সময় বিমানটি রানওয়ে ছাড়িয়ে বিমানবন্দরের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে গিয়ে অচল হয়ে পড়ে। মিয়ামি-ডেড ফায়ার রেসকিউ জানিয়েছে, রানওয়ে ছাড়িয়ে যাওয়ার পর বিমানটি একাধিক গাড়িতে আঘাত করে এবং আগুন ধরে যায়। দুর্ঘটনাস্থলে ৬০টির বেশি ফায়ার-রেসকিউ ইউনিট পাঠানো হয়। একাধিক ব্যক্তি আহত হওয়ার কথা জানানো হলেও, তাদের আঘাতের মাত্রা বা প্রাণহানির বিষয়ে প্রাথমিক প্রতিবেদনে বিস্তারিত নিশ্চিত করা হয়নি। দুর্ঘটনার পর মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব রানওয়ে ও ট্যাক্সিওয়ে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং উড্ডয়ন-অবতরণে গ্রাউন্ড স্টপ জারি করা হয়। এতে বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং ফ্লাইটে বিলম্বের আশঙ্কা তৈরি হয়। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বিমানটিকে সড়কের পাশে আগুনে জ্বলতে এবং আকাশে ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। দুর্ঘটনার কারণ এখনো জানা যায়নি। এফএএ ঘটনাটি তদন্ত করছে। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট | রয়টার্স| অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের র্যাম্পে ওঠার সময় দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর তিন সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও চারজন আহত হয়েছেন। আহতদের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল - সিএমএইচে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে থার্ড টার্মিনালের র্যাম্প এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। দুর্ঘটনায় নিহত তিনজন হলেন - সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মাহমুদ, করপোরাল মনিরুজ্জামান ও এলএসি জোবায়দুল। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, থার্ড টার্মিনালের র্যাম্পে ওঠার সময় তারা দুর্ঘটনার শিকার হন। ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। আহত চারজনকে দ্রুত উদ্ধার করে সিএমএইচে নেওয়া হয়। তাদের পরিচয় ও শারীরিক অবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। সোর্স: যুগান্তর প্রতিবেদন
২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার ফিনিক্সে মাত্র চার দিনের নবজাতক মেয়েকে নিয়ে বিপাকে পড়েছিলেন রুবিন সুইফট। মেয়ের হেফাজত পাওয়ার পর তাকে নিয়ে ক্লিভল্যান্ডে ফিরতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ফ্রন্টিয়ার এয়ারলাইন্সের নিয়ম অনুযায়ী, সাত দিনের কম বয়সী শিশু বিমানে ভ্রমণ করতে পারে না। ফলে হাসপাতালের ভ্রমণ উপযোগী ছাড়পত্র থাকা সত্ত্বেও বিমানবন্দর থেকে তাকে ও তার মেয়েকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। হঠাৎ করেই ফিনিক্সে নবজাতক মেয়েকে নিয়ে আটকে যান সুইফট। হোটেলে থাকার বা গাড়ি ভাড়া করার মতো পর্যাপ্ত অর্থও তার হাতে ছিল না। কী করবেন বুঝতে না পেরে তার মনে পড়ে হাসপাতালে পরিচিত হওয়া ৭৮ বছর বয়সী স্বেচ্ছাসেবী জয় রিংহোফারের কথা। রিংহোফার ব্যানার ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারের এনআইসিইউতে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করতেন। সুইফটের মেয়ে সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার সময় তাদের পরিচয় হয়েছিল। বিপদের কথা জানিয়ে ফোন করতেই রিংহোফার তাকে সাহায্যের আশ্বাস দেন। তিনি নিজেই বিমানবন্দরে গিয়ে সুইফট ও তার নবজাতক মেয়েকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। পরবর্তী কয়েক দিন নিজের বাড়িতেই বাবা-মেয়েকে থাকার ব্যবস্থা করেন তিনি। শিশুটির বয়স সাত দিন না হওয়া পর্যন্ত তাদের খাবার, থাকার জায়গা ও প্রয়োজনীয় যত্ন দেন। রিংহোফার পরে জানান, সুইফটকে সাহায্য করার তীব্র তাগিদ তিনি অনুভব করেছিলেন। সুইফটের কাছেও ঘটনাটি হয়ে ওঠে মানবিকতার এক অনন্য উদাহরণ। তাদের বয়স ও বর্ণের পার্থক্য কোনো বিষয় হয়ে দাঁড়ায়নি বলেও তিনি জানান। বরং রিংহোফারের আন্তরিকতায় তিনি তাকে নিজের মেয়ের ‘দাদি’ হিসেবেই ভাবতে শুরু করেন। সাত দিন বয়স পূর্ণ হওয়ার পর সুইফট ও তার মেয়ে আবার ফ্লাইটে করে ক্লিভল্যান্ডে ফিরতে পারেন। ফ্রন্টিয়ার এয়ারলাইন্স তাদের নতুন ফ্লাইটে পুনরায় বুক করে এবং এ জন্য পরিবর্তন ফি নেয়নি। বিমানযাত্রার একটি নিয়মের কারণে শুরু হওয়া এই বিপদ শেষ পর্যন্ত রক্তের সম্পর্কের বাইরেও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক স্মরণীয় গল্প হয়ে ওঠে। অপরিচিত একজন বাবা ও তার নবজাতক মেয়ের জন্য নিজের ঘরের দরজা খুলে দিয়েছিলেন একজন বৃদ্ধা, আর সেই মানবিকতা তাদের জীবনে তৈরি করেছিল এক অপ্রত্যাশিত পারিবারিক বন্ধন।
ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলার নিনয় অ্যাকুইনো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইসরায়েলি ও মার্কিন এক নাগরিকের মধ্যে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডার পর শারীরিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ইসরায়েলি নাগরিককে উদ্দেশ করে মার্কিন নাগরিকের কথিত আপত্তিকর মন্তব্যের জেরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনাটি ম্যানিলার নিনয় অ্যাকুইনো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে ছড়িয়ে পড়া তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন নাগরিক ওই ইসরায়েলি ব্যক্তিকে ‘শিশুহত্যাকারী’ বলে আখ্যা দেন। এরপর তিনি ইসরায়েলি ব্যক্তিকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘দুঃখের বিষয়, হিটলার কাজটা শেষ করতে পারেনি।’ হলোকাস্টের প্রসঙ্গ টেনে এমন মন্তব্যের পর দুই ব্যক্তির মধ্যে উত্তেজনা দ্রুত বেড়ে যায়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিমানবন্দরের কর্মী ও আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে দুজনকে আলাদা করেন। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দুই ব্যক্তির মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি এবং পরে তাদের আলাদা করার দৃশ্য দেখা গেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ঘটনাটির সুনির্দিষ্ট সময়, দুই ব্যক্তির পরিচয় এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনকে ঘিরে চলমান সংঘাত এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন দেশে এ নিয়ে বিক্ষোভ, বিতর্ক ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটলেও বিমানবন্দরের মতো জনসমাগমপূর্ণ স্থানে এমন বিরোধ দ্রুত শারীরিক সংঘাতে রূপ নেওয়ার ঘটনা নতুন করে নিরাপত্তা ও পারস্পরিক সহনশীলতার বিষয়টি সামনে এনেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন অভিবাসী ও বিদেশ থেকে ফেরা যাত্রীদের জন্য দৈনন্দিন জীবনের কিছু সাধারণ বিষয়ও বড় ধরনের আইনি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে বিমানবন্দরে খাবার, নগদ অর্থ ও ওষুধ ঘোষণা না করা, ঠিকানা পরিবর্তনের তথ্য না দেওয়া কিংবা সময়মতো ট্যাক্স রিটার্ন জমা না দেওয়ার মতো ভুলে জরিমানা বা অন্য শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে। তবে এসব ক্ষেত্রে সারা যুক্তরাষ্ট্রে একই অঙ্কের জরিমানা প্রযোজ্য নয়। কোন ভুলের জন্য কত জরিমানা হবে, তা নির্ভর করে ফেডারেল আইন, অঙ্গরাজ্যের আইন, স্থানীয় বিধি, অপরাধের ধরন এবং পরিস্থিতির ওপর। নতুন অভিবাসীদের তাই যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি নিয়ম সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরি। ১. বিমানবন্দরে খাবার ঘোষণা না করা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় ব্যাগে খাবার, ফল, সবজি, মাংস, গাছপালা বা অন্যান্য কৃষিপণ্য থাকলে তা কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন কর্মকর্তাকে জানাতে হয়। কোনো খাবার ঘোষণা করলেই সেটি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাবে এমন নয়। নিষিদ্ধ বা অগ্রহণযোগ্য হলে সেটি জব্দ বা ফেলে দেওয়া হতে পারে। তবে খাবার থাকার বিষয়টি গোপন না করে ঘোষণা করা গুরুত্বপূর্ণ। কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন জানিয়েছে, কৃষিপণ্য বা খাবার ঘোষণা না করলে জরিমানা হতে পারে। কিছু গুরুতর ক্ষেত্রে এই জরিমানা ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে। একই নিয়ম গ্লোবাল এন্ট্রি ব্যবহারকারী যাত্রীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তাই ব্যাগে সামান্য খাবার থাকলেও সন্দেহ হলে তা ঘোষণা করাই নিরাপদ। ২. ১০ হাজার ডলারের বেশি নগদ বা আর্থিক উপকরণ ঘোষণা না করা যুক্তরাষ্ট্রে ১০ হাজার ডলারের বেশি নগদ অর্থ বা নির্দিষ্ট ধরনের আর্থিক উপকরণ নিয়ে প্রবেশ করা নিজে বেআইনি নয়। তবে নির্ধারিত সীমার বেশি অর্থ সঙ্গে থাকলে তা ঘোষণা করতে হয়। ঘোষণা না করলে অর্থ জব্দ হওয়ার পাশাপাশি দেওয়ানি ও ফৌজদারি শাস্তির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে ৫ লাখ ডলার পর্যন্ত ফৌজদারি জরিমানার বিধান রয়েছে। তাই বড় অঙ্কের নগদ অর্থ, ট্রাভেলার্স চেক বা নির্দিষ্ট আর্থিক উপকরণ সঙ্গে থাকলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় সঠিকভাবে তথ্য দেওয়া জরুরি। ৩. ওষুধ খোলা প্যাকেটে বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া আনা বিদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধ আনার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। ব্যক্তিগত ব্যবহারের ওষুধ সাধারণত মূল প্যাকেটে রাখা এবং প্রেসক্রিপশন বা চিকিৎসকের নোট সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। সাধারণভাবে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত, বিশেষ করে ৯০ দিনের বেশি ওষুধ বহন না করার পরামর্শ রয়েছে। ঘুমের ওষুধ, শক্তিশালী ব্যথানাশক বা নিয়ন্ত্রিত ওষুধের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বিধিনিষেধ থাকতে পারে। এসব ওষুধ সঙ্গে আনার আগে সংশ্লিষ্ট নিয়ম যাচাই করা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নথি সঙ্গে রাখা নিরাপদ। ৪. বিদেশ থেকে আনা পণ্যের মূল্য ভুলভাবে ঘোষণা করা বিদেশ থেকে কেনা পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে আনার সময় তার মূল্য ও প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে জানানো জরুরি। ইচ্ছাকৃতভাবে পণ্যের দাম কম দেখানো বা প্রয়োজনীয় তথ্য গোপন করলে শুল্ক, পণ্য জব্দ এবং অন্যান্য জরিমানার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে ৮০০ ডলারের বেশি কেনাকাটা করলেই প্রত্যেক যাত্রীকে একই হারে শুল্ক দিতে হবে এমন সরল নিয়ম নেই। পণ্যের ধরন, কোথা থেকে কেনা হয়েছে, যাত্রীর পরিস্থিতি এবং প্রযোজ্য শুল্ক বিধির ওপর হিসাব নির্ভর করতে পারে। তাই কেনাকাটার রসিদ সঙ্গে রাখা এবং কাস্টমস কর্মকর্তাকে সঠিক তথ্য দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। ৫. ঠিকানা পরিবর্তনের পর অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে না জানানো যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অনেক বিদেশি নাগরিকের বাসার ঠিকানা পরিবর্তন হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ইউএসসিআইএসকে জানানো আইনগতভাবে প্রয়োজন। সাধারণভাবে যোগ্য ব্যক্তিদের ঠিকানা পরিবর্তনের ১০ দিনের মধ্যে তথ্য হালনাগাদ করতে হয়। ইউএসসিআইএস অনলাইনে ঠিকানা পরিবর্তনের সুবিধা দিয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে এআর-১১ ফরমও ব্যবহার করা যায়। ঠিকানা পরিবর্তনের তথ্য না দিলে গুরুত্বপূর্ণ ইমিগ্রেশন নোটিশ বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পুরোনো ঠিকানায় চলে যেতে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী এর ফলে জরিমানা বা অন্যান্য ইমিগ্রেশন জটিলতাও তৈরি হতে পারে। ৬. লাইসেন্স বা প্রয়োজনীয় গাড়ির ইন্স্যুরেন্স ছাড়া গাড়ি চালানো যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি চালানোর নিয়ম অঙ্গরাজ্যভেদে আলাদা। কোথাও বৈধ ড্রাইভার লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানোর জন্য জরিমানা হতে পারে, আবার কোথাও প্রয়োজনীয় গাড়ির ইন্স্যুরেন্স না থাকলেও শাস্তির মুখে পড়তে হয়। কিছু ক্ষেত্রে ড্রাইভার লাইসেন্স স্থগিতও হতে পারে। নতুন অভিবাসীদের মনে রাখা দরকার, এক অঙ্গরাজ্যের ড্রাইভিং আইন অন্য অঙ্গরাজ্যে একইভাবে প্রযোজ্য নাও হতে পারে। তাই যে স্টেটে বসবাস করছেন, সেখানে গাড়ির লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন এবং ইন্স্যুরেন্সের নিয়ম আগে থেকেই জেনে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। ৭. ট্রাফিক ও পথচারী আইন অমান্য করা রাস্তা পারাপার, ট্রাফিক সিগন্যাল, সিটবেল্ট এবং গাড়ি চালানোর অন্যান্য নিয়ম অমান্য করলেও জরিমানা হতে পারে। কিছু এলাকায় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে রাস্তা পারাপারের নিয়ম ভাঙার জন্য টিকিট দেওয়া হয়। আবার লাল বাতি অমান্য করা বা সিটবেল্ট না পরার মতো অপরাধেও জরিমানা হতে পারে। এসব নিয়ম অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সরকারভেদে আলাদা। বিশেষ করে স্কুল জোন, পথচারী পারাপারের নির্ধারিত স্থান এবং ট্রাফিক সিগন্যালযুক্ত এলাকায় নিয়ম মেনে চলা জরুরি। ৮. সময়মতো ট্যাক্স রিটার্ন জমা না দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রে যাদের ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা দেওয়া উচিত। অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগ বা আইআরএসের নিয়ম অনুযায়ী, কর বকেয়া থাকা অবস্থায় রিটার্ন দেরিতে জমা দিলে সাধারণত প্রতি মাসে বা মাসের অংশবিশেষে বকেয়া করের ৫ শতাংশ হারে বিলম্বের জরিমানা আরোপ হতে পারে। এই জরিমানা সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত যেতে পারে। ২০২৬ সালে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে রিটার্ন ৬০ দিনের বেশি দেরিতে জমা হলে ন্যূনতম জরিমানাও প্রযোজ্য হতে পারে। তবে দেরির পেছনে গ্রহণযোগ্য কারণ থাকলে কিছু ক্ষেত্রে জরিমানা কমানো বা মওকুফের সুযোগ থাকতে পারে। ৯. প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া বাড়িতে নির্মাণকাজ করা বাড়ির বেজমেন্ট পরিবর্তন, নতুন ডেক বা বেড়া নির্মাণ, প্লাম্বিং কিংবা বৈদ্যুতিক কাজসহ বিভিন্ন ধরনের নির্মাণকাজের জন্য অনেক শহর ও কাউন্টিতে অনুমতি প্রয়োজন হতে পারে। এসব নিয়ম স্থানীয় সরকার নির্ধারণ করে বলে জরিমানার অঙ্কও জায়গাভেদে ভিন্ন হয়। তাই বাড়িতে বড় ধরনের পরিবর্তন বা নির্মাণকাজ শুরু করার আগে স্থানীয় শহর বা কাউন্টি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি প্রয়োজন কি না তা যাচাই করা উচিত। ১০. পাবলিক প্লেসে স্থানীয় আইন ভঙ্গ করা পার্ক, রাস্তা বা অন্যান্য পাবলিক প্লেসে আবর্জনা ফেলা, নিষিদ্ধ স্থানে ধূমপান বা অ্যালকোহল পান কিংবা স্থানীয় আচরণবিধি ভাঙার জন্য জরিমানা হতে পারে। এসব নিয়মও শহর, কাউন্টি ও অঙ্গরাজ্যভেদে আলাদা। কোনো এলাকায় যে কাজ বৈধ, অন্য এলাকায় সেটিই নিষিদ্ধ হতে পারে। তাই নতুন অভিবাসীদের স্থানীয় নিয়ম সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রয়োজন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রে একই ধরনের কাজের জন্য পুরো দেশে একই অঙ্কের জরিমানা নেই। ফেডারেল আইন, অঙ্গরাজ্যের আইন এবং স্থানীয় বিধি অনুযায়ী নিয়ম ও শাস্তি পরিবর্তিত হতে পারে। নতুন অভিবাসীদের জন্য নিরাপদ পদ্ধতি হলো কোনো নিয়ম সম্পর্কে নিশ্চিত না হলে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তথ্য নেওয়া। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় খাবার, নগদ অর্থ, ওষুধ বা অন্য কোনো নিয়ন্ত্রিত পণ্য সঙ্গে থাকলে তা গোপন না করে সঠিকভাবে ঘোষণা করা উচিত। কোনো পণ্য শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি না পেলেও সেটি ঘোষণা করার বিষয়টি আলাদা। কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্য গোপন করলে পরিস্থিতি অনেক বেশি জটিল হয়ে যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে টিএসএ চেকপয়েন্টে বাড়তি তল্লাশির কারণে অনেক সময় যাত্রীদের নিরাপত্তা প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত সময় ব্যয় হয়। যাত্রীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা বিভিন্ন কারণে বিমান দেরি হতে পারে, তবে ক্যারি-অন ব্যাগে কী রাখা হচ্ছে এবং কীভাবে তা গুছিয়ে রাখা হচ্ছে, সেদিকে সতর্ক থাকলে নিরাপত্তা চেকিং কিছুটা সহজ হতে পারে। বিশেষ করে এমন কিছু সাধারণ জিনিস রয়েছে, যেগুলো বৈধভাবে বিমানে নেওয়া গেলেও এক্স-রে স্ক্যানে সেগুলোর গঠন স্পষ্টভাবে বোঝা কঠিন হতে পারে। ফলে টিএসএ কর্মকর্তা ব্যাগ খুলে জিনিসটি আলাদাভাবে পরীক্ষা করতে পারেন। ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে শার্লট ডগলাস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের টিএসএ সুপারভাইজরি ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি অফিসার ম্যাথিউ শিলারের বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, কিছু সাধারণ জিনিস এক্স-রে ছবিতে শনাক্ত করা কঠিন হওয়ায় বাড়তি পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে। আবার কিছু জিনিসের গঠন বা ঘনত্ব বিস্ফোরকের মতো দেখাতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। খাবার এমন একটি জিনিস, যা অনেক সময় বাড়তি তল্লাশির কারণ হতে পারে। ঘন বা ভারী খাবার ব্যাগের ভেতরের অন্যান্য জিনিসকে আড়াল করতে পারে। এ কারণে টিএসএ কর্মকর্তারা খাবার আলাদাভাবে দেখতে বা পরীক্ষা করতে পারেন। টিএসএর নিজস্ব নির্দেশনাতেও ক্যারি-অন ব্যাগে থাকা খাবার প্রয়োজনে আলাদা করে স্ক্রিনিংয়ের জন্য বের করে রাখতে বলা হয়েছে। প্লে-ডো বা এ ধরনের ঘন পদার্থও এক্স-রে স্ক্যানে সন্দেহ তৈরি করতে পারে। জিনিসটি অনুমোদিত হলেও এর গঠন স্ক্যানারে পরিষ্কারভাবে শনাক্ত করা না গেলে বাড়তি পরীক্ষা হতে পারে। বেবি ওয়াইপসসহ কিছু ভেজা পণ্যও অতিরিক্ত পরীক্ষার জন্য আলাদা করা হতে পারে। একইভাবে একসঙ্গে অনেকগুলো বই বা ঘনভাবে সাজানো জিনিস থাকলে ব্যাগের ভেতরের অংশ পরিষ্কারভাবে দেখা কঠিন হতে পারে। ফলে টিএসএ কর্মকর্তা ব্যাগ খুলে আরও ভালোভাবে পরীক্ষা করতে পারেন। স্নো গ্লোবের ক্ষেত্রেও যাত্রীদের সতর্ক থাকতে হয়। এতে তরল থাকায় ক্যারি-অন ব্যাগে নেওয়ার ক্ষেত্রে টিএসএর তরল সংক্রান্ত নিয়ম প্রযোজ্য। সাধারণভাবে ক্যারি-অন ব্যাগে তরল, জেল ও অ্যারোসোলের প্রতিটি কন্টেইনার ৩ দশমিক ৪ আউন্স বা প্রায় ১০০ মিলিলিটারের বেশি হতে পারে না, যদিও নির্দিষ্ট কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে। লোশন, ক্রিম, জেল এবং অন্যান্য তরলজাত পণ্যও নিয়মের আওতায় পড়ে। তাই এসব পণ্য ক্যারি-অন ব্যাগে নেওয়ার আগে কন্টেইনারের পরিমাণ যাচাই করা জরুরি। পাউডারজাত পণ্যের ক্ষেত্রেও বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। টিএসএর নিয়ম অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের যাত্রীদের ক্যারি-অন ব্যাগে ১২ আউন্স বা প্রায় ৩৫০ গ্রাম-এর বেশি পরিমাণ পাউডারজাত পদার্থ থাকলে অতিরিক্ত স্ক্রিনিং হতে পারে। কর্মকর্তা পদার্থটি শনাক্ত করতে না পারলে সেটি বিমানে নেওয়ার অনুমতি নাও মিলতে পারে। বই, খাবার বা শিশুর ব্যবহারের জিনিসের মতো অনুমোদিত কোনো সামগ্রী বাড়তি তল্লাশির জন্য নির্বাচিত হলেই যে সেটি নিষিদ্ধ, এমন নয়। অনেক সময় ব্যাগের ভেতরের জিনিস পরিষ্কারভাবে শনাক্ত করার জন্যই অতিরিক্ত স্ক্রিনিং করা হয়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক বিমানবন্দরে উন্নত সিটি এক্স-রে স্ক্যানার ব্যবহার করা হচ্ছে। এই প্রযুক্তি সাধারণ এক্স-রের তুলনায় ব্যাগের ভেতরের জিনিসের আরও বিস্তারিত ত্রিমাত্রিক ছবি তৈরি করতে পারে। এতে কিছু ক্ষেত্রে ম্যানুয়াল ব্যাগ চেকের প্রয়োজন কমতে পারে। তবে সব বিমানবন্দরের সব চেকপয়েন্টে একই প্রযুক্তি বা একই ধরনের ব্যবস্থা নেই। ফলে এক বিমানবন্দরে যে নিয়ম বা প্রক্রিয়া দেখা যায়, অন্য বিমানবন্দরে সেটি কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। এদিকে ক্যারি-অন ব্যাগে নিষিদ্ধ জিনিস নেওয়ার ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি। ছুরি, আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ সামগ্রী নিরাপত্তা চেকপয়েন্টে ধরা পড়লে শুধু তল্লাশিই নয়, আইনগত জটিলতাও তৈরি হতে পারে। টিএসএ নিয়ম অনুযায়ী আগ্নেয়াস্ত্র ক্যারি-অন ব্যাগে নেওয়া যায় না। নিরাপত্তা চেকিং দ্রুত শেষ করতে টিএসএ যাত্রীদের আগে থেকেই ব্যাগের ভেতরের জিনিস সম্পর্কে সচেতন থাকার পরামর্শ দেয়। স্ট্যান্ডার্ড স্ক্রিনিং লেনে সাধারণত ৩-১-১ তরল ব্যাগ আলাদা করে দিতে হতে পারে। সেলফোনের চেয়ে বড় ইলেকট্রনিক ডিভাইস যেমন ল্যাপটপ, ট্যাবলেট ও ই-রিডারও নির্দিষ্ট চেকপয়েন্টে ব্যাগ থেকে বের করে আলাদাভাবে স্ক্রিনিং করতে হতে পারে। তবে টিএসএ প্রিচেক যাত্রীদের ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম ভিন্ন হতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোনো জিনিস অনুমোদিত হলেও সেটি বাড়তি স্ক্রিনিংয়ের জন্য নির্বাচিত হতে পারে। আবার বাড়তি তল্লাশি হলে সেটিকে যাত্রীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ হিসেবেও দেখা উচিত নয়। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা প্রক্রিয়ায় ব্যাগের ভেতরের কোনো বস্তু পরিষ্কারভাবে শনাক্ত করা প্রয়োজন হলে টিএসএ কর্মকর্তারা সেটি পরীক্ষা করার অধিকার রাখেন। তাই বিমানে ওঠার আগে ক্যারি-অন ব্যাগ গুছিয়ে নেওয়ার সময় শুধু কী নেওয়া যাবে সেটিই নয়, কোন জিনিস নিরাপত্তা স্ক্যানে অস্পষ্টতা তৈরি করতে পারে, সেটিও মাথায় রাখা ভালো। টিএসএর নিয়ম অনুযায়ী ব্যাগ গুছিয়ে, তরল ও জেলজাত পণ্যের সীমা মেনে এবং নিষিদ্ধ সামগ্রী এড়িয়ে চললে নিরাপত্তা চেকপয়েন্টে অপ্রত্যাশিত ঝামেলার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে অভিবাসন প্রয়োগকারী সংস্থা ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)-এর উপস্থিতি ও অভিযান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে বিমানবন্দরগুলোতে নজরদারি এবং গ্রেপ্তার অভিযান সম্প্রসারণের ফলে ভ্রমণকারী অভিবাসী ও তাদের পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১৫টি বড় বিমানবন্দরে আইসিই কর্মকর্তারা অভিযান পরিচালনা করেছেন। কোথাও তারা চেক-ইন কাউন্টার, কোথাও আগমন টার্মিনাল, আবার কোথাও জেটওয়ে এলাকায় অবস্থান নিয়ে অভিবাসন-সংক্রান্ত অভিযানে অংশ নিয়েছেন। কিছু ক্ষেত্রে সাধারণ পোশাকে থাকা কর্মকর্তারাও অভিযান পরিচালনা করেছেন বলে জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে এমনও ছিলেন যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকের সঙ্গে বিবাহিত ব্যক্তি, কর্মভিসা নবায়নের অপেক্ষায় থাকা বিদেশি কর্মী এবং আশ্রয়প্রার্থীও রয়েছেন। সব ক্ষেত্রে ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ ছিল না; অনেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল মূলত অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের। ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও কঠোর করার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই দেশজুড়ে আইসিইর কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে। প্রশাসনের লক্ষ্য অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের শনাক্ত ও বহিষ্কার কার্যক্রম জোরদার করা। এ উদ্দেশ্যে আইসিইর জনবল, অবকাঠামো এবং অভিযান সম্প্রসারণে অতিরিক্ত অর্থায়নের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। এদিকে বিমানবন্দরে আইসিইর উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন নাগরিক অধিকার সংগঠন ও অভিবাসন আইনজীবীরা। তাদের দাবি, বিমানবন্দর ভ্রমণকারীদের জন্য নিরাপদ ও নিরপেক্ষ স্থান হওয়া উচিত। অতিরিক্ত অভিবাসন অভিযান বৈধ কাগজপত্রধারী অনেক মানুষের মধ্যেও ভীতি তৈরি করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন এবং আদালতের বহিষ্কার আদেশ কার্যকর করতেই এসব অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তাদের দাবি, এটি দেশের সীমান্ত ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদারের অংশ। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, যেসব বিদেশি নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস বা ভ্রমণ করছেন, তারা যেন সব সময় বৈধ পরিচয়পত্র, ভিসা বা অভিবাসন-সংক্রান্ত নথিপত্র সঙ্গে রাখেন। ভ্রমণের আগে নিজের আইনি অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া এবং প্রয়োজনে অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা মনে করছেন।
তুরস্কের কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় বগুড়ায় একটি আধুনিক ড্রোন তৈরির কারখানা স্থাপন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। জেলাটিতে নির্মিতব্য আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশেই এই কারখানা স্থাপনের চূড়ান্ত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন এই উদ্যোগটি দেশের সামরিক ও প্রযুক্তিগত খাতের উন্নয়নে এক বড় মাইলফলক হতে যাচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) সভাপতি মাসুদুল হকের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিমন্ত্রী জানান, গত বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, তুরস্কের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে বগুড়া বিমানঘাঁটির পাশে এই আধুনিক ড্রোন তৈরির কারখানা নির্মাণ করা হবে। এই কারখানায় তৈরি ড্রোন দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত প্রয়োজনে ব্যবহার করা হবে। উত্তরাঞ্চলের আকাশপথের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, দেশের উত্তরাঞ্চলে বর্তমানে কোনো আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর নেই। সেই অভাব পূরণে বগুড়া বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কাজ এখন পুরোদমে চলছে। তিনি আরও জানান, কেবল বিমানবন্দরই নয়, উত্তরাঞ্চলকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি পূর্ণাঙ্গ প্রথম বিমানঘাঁটি স্থাপনের অনুমোদনও এরমধ্যে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে বিমানবাহিনীর বহরে যেসব নতুন ও আধুনিক যুদ্ধবিমান যুক্ত হবে, সেগুলো মূলত এই ঘাঁটিতেই রাখা হবে। উল্লেখ্য, পাকিস্তান আমলে নির্মিত বগুড়া বিমানবন্দরটি দেশের অন্যতম পুরোনো বিমানবন্দর। পরবর্তীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে বিমানবন্দরটির আধুনিকায়নে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও নানা রাজনৈতিক জটিলতার কারণে অতীতে প্রকল্পটি আর এগোতে পারেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আটলান্টা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রথম শ্রেণীর যাত্রীদের জন্য একটি বিলাসবহুল 'ডেল্টা ওয়ান লাউঞ্জ' তৈরি হতে যাচ্ছে। আটলান্টা সিটি কাউন্সিল এই প্রকল্পের জন্য ডেল্টা এয়ারলাইন্সের সাথে ৬ কোটি ২৯ লাখ ডলারের একটি বিশাল চুক্তি অনুমোদন করেছে। গত সোমবার সিটি কাউন্সিলের সভায় এই প্রস্তাবটি ১৩-১ ভোটে পাস হয়। এই চুক্তির আওতায় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ডেল্টা এয়ারলাইন্সকে লাউঞ্জ তৈরির প্রাথমিক অবকাঠামোগত কাজের জন্য ৬ কোটি ২৯ লাখ ডলার পর্যন্ত খরচ ফেরত বা পরিশোধ করবে। তবে লাউঞ্জের ভেতরের সাজসজ্জা, আসবাবপত্র এবং অন্যান্য অভ্যন্তরীণ নকশার সমস্ত খরচ ডেল্টা এয়ারলাইন্স সম্পূর্ণ নিজস্ব তহবিল থেকে বহন করবে। নতুন এই লাউঞ্জটি বিমানবন্দরের কনকোর্স ই-তে প্রায় ৩৯ হাজার ২১০ বর্গফুট এলাকা জুড়ে তৈরি করা হবে। ডেল্টা এয়ারলাইন্স বর্তমানে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি, লস অ্যাঞ্জেলেস, বোস্টন এবং সিয়াটেল বিমানবন্দরে এই ধরণের বিশেষ লাউঞ্জ পরিচালনা করছে। আটলান্টা ডেল্টার প্রধান কেন্দ্র এবং সদর দফতর হওয়ায় এখানে একটি বড় লাউঞ্জ করা বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। এই প্রিমিয়াম লাউঞ্জে যাত্রীদের জন্য থাকবে উচ্চমানের ডাইনিং বা রেস্তোরাঁ ব্যবস্থা, স্পা সুবিধা এবং ব্যক্তিগতভাবে কাজ করার জন্য নিরিবিলি জোন। তবে সরকারি নথিতে লাউঞ্জটি ঠিক কবে নাগাদ সাধারণ যাত্রীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ উল্লেখ করা হয়নি।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মালয়েশিয়াগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে চাঞ্চল্যকর এক ঘটনা ঘটেছে। চেক-ইন ও ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করে বোর্ডিং পাস নেওয়ার পরও বিমানে ওঠেননি ৭৬ জন যাত্রী। বোর্ডিং গেটে পাঁচ যাত্রীর ভিসা জাল ও অসঙ্গতিপূর্ণ হিসেবে শনাক্ত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বাকি ৭১ জন সুকৌশলে বিমানবন্দর ছেড়ে পালিয়ে যান। শনিবার (৪ জুলাই) রাতে ঢাকা-মালয়েশিয়া রুটের বিজি-৩৮৬ ফ্লাইটে এই অভিনব ঘটনাটি ঘটে। বিমানবন্দর ও সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনারটিতে মোট ২৪৫ জন যাত্রীর ভ্রমণের কথা ছিল। কিন্তু বোর্ডিং গেটে প্রবেশের সময় পাঁচজন যাত্রীর পাসপোর্টের তথ্যের সঙ্গে ভিসার বড় ধরনের অসঙ্গতি ধরা পড়ে এবং তাদের তাৎক্ষণিকভাবে অফলোড করা হয়। এই অফলোডের খবর মুহূর্তের মধ্যে ওই ফ্লাইটের অন্যান্য যাত্রীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে গ্রেপ্তার বা আটকের ভয়ে একই ফ্লাইটের আরও ৭১ জন যাত্রী বিমানে ওঠার বদলে তড়িঘড়ি করে বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। এই ঘটনায় বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। ভিসা যথাযথভাবে যাচাই না করেই বিমান সংস্থার চেক-ইন কাউন্টার থেকে কীভাবে তাদের ‘ভেরিফায়েড’ সিলসহ বোর্ডিং পাস দেওয়া হলো এবং তারা কীভাবে ইমিগ্রেশন পুলিশের নজরদারি পেরিয়ে বোর্ডিং গেট পর্যন্ত পৌঁছে গেলেন, তা নিয়ে বিস্ময় তৈরি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এই ৭৬ জন যাত্রীই ট্যুরিস্ট ভিসায় মালয়েশিয়া যাচ্ছিলেন এবং একটি অসাধু ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে সেখানে অবৈধভাবে থেকে যাওয়ার গোপন পরিকল্পনা ছিল তাদের। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বোর্ডিং চলাকালে সন্দেহভাজন কয়েকজনকে আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তাদের ভিসার ত্রুটি ধরা পড়ে। এর কিছুক্ষণ পরই লাইনে থাকা অন্য যাত্রীদের একটি বড় অংশকে আর দেখা যায়নি। বিমানবন্দর সূত্র আরও জানায়, এদের মধ্যে কয়েকজন মালয়েশিয়া হয়ে সৌদি আরবে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে যাওয়ার কথা বললেও তাদের ভ্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ তৈরি হওয়ায় ইমিগ্রেশন পুলিশ আগেই কয়েকজনকে অফলোডের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে এই পুরো ঘটনাটি নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিউইয়র্কের জন এফ. কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের ঠিক আগে একটি ড্রোনের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘর্ষের ঘটনা সামনে এসেছে। লাস ভেগাস থেকে আসা জেটব্লু এয়ারওয়েজের একটি যাত্রীবাহী বিমানের পাইলট দাবি করেছেন, অবতরণের সময় একটি ড্রোন বিমানের ককপিটের ওপরের অংশে আঘাত করে। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ)। এফএএর তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকালে জেটব্লু ফ্লাইট ৯৪৮ জেএফকে বিমানবন্দরে অবতরণের জন্য প্রায় তিন হাজার ফুট উচ্চতায় নামছিল। এ সময় পাইলট এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে জানান, একটি ড্রোন বিমানের সামনের অংশে আঘাত করেছে বলে তার ধারণা। এরপরও বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করে এবং সব যাত্রী স্বাভাবিকভাবে বিমান ত্যাগ করেন। অবতরণের পর বিমানটির বিস্তারিত কারিগরি পরীক্ষা চালানো হয়। তবে প্রাথমিক পরিদর্শনে বিমানের গায়ে দৃশ্যমান কোনো ক্ষতি কিংবা ড্রোনের সঙ্গে সংঘর্ষের নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। জেটব্লু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিমানটিকে সাময়িকভাবে সেবা থেকে সরিয়ে পরীক্ষা করা হয় এবং তদন্তে তারা এফএএর সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করছে। এফএএ জানিয়েছে, ঘটনাটির সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে রাডার তথ্য, বিমানটির পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফল এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করা হবে, যাতে সত্যিই কোনো ড্রোনের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটেছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়। মার্কিন বিমান চলাচল বিধিমালা অনুযায়ী, বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রিত আকাশসীমায় অনুমতি ছাড়া ড্রোন উড়ানো কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এ ধরনের নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের জরিমানা, ড্রোন নিবন্ধন বাতিল এবং গুরুতর পরিস্থিতিতে ফৌজদারি ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিমান ওঠানামার সময় ড্রোনের উপস্থিতি যাত্রীবাহী বিমানের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে বিমানবন্দরসংলগ্ন এলাকায় অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়নের ঘটনা নিয়ে কর্তৃপক্ষের উদ্বেগও বেড়েছে। এর কয়েক দিন আগেই নিউয়ার্ক বিমানবন্দরের কাছে একটি ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের যাত্রীবাহী বিমানের খুব কাছ দিয়ে একটি ড্রোন উড়ে যাওয়ার ঘটনা জানানো হয়েছিল। ধারাবাহিক এসব ঘটনার পর বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ড্রোন পরিচালনার নিয়ম আরও কঠোরভাবে প্রয়োগের দাবি জোরালো হচ্ছে।
ওয়াশিংটন: যুক্তরাষ্ট্রে বিমান ভ্রমণ আরও সহজ ও দ্রুত করতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটির পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসন (টিএসএ)। সংস্থাটি ঘোষণা করেছে, গুগল ওয়ালেটের সঙ্গে নতুন অংশীদারত্বের মাধ্যমে যোগ্য যাত্রীরা এখন সরাসরি অ্যাপ থেকেই টিএসএ প্রিচেক টাচলেস আইডি সেবায় নিবন্ধন করতে পারবেন। এর ফলে নির্ধারিত নিরাপত্তা তল্লাশি পয়েন্টে অনেক যাত্রীকে আর আলাদাভাবে পরিচয়পত্র বা বোর্ডিং পাস দেখাতে হবে না। টিএসএ জানিয়েছে, গুগল ওয়ালেটই প্রথম ডিজিটাল ওয়ালেট, যেখানে সরাসরি টিএসএ প্রিচেক টাচলেস আইডি সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। এই প্রযুক্তিতে যাত্রীর পরিচয় মুখাবয়ব শনাক্তকরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে যাচাই করা হবে, যা নিরাপত্তা তল্লাশির সময় কমিয়ে আনবে এবং যাত্রীদের অভিজ্ঞতাকে আরও সহজ করবে। নতুন সুবিধা ব্যবহার করতে হলে অংশগ্রহণকারী কোনো বিমান সংস্থায় চেক-ইন করার পর বোর্ডিং পাস গুগল ওয়ালেটে সংরক্ষণ করতে হবে। যাদের কাছে উপযুক্ত ডিজিটাল পরিচয়পত্র রয়েছে, তারা অ্যাপে “Get Started” অপশনের মাধ্যমে টাচলেস আইডি সেবায় নিবন্ধন করতে পারবেন। নিবন্ধনের সময় টিএসএর সঙ্গে ডিজিটাল পরিচয়পত্র ও বোর্ডিং পাসের তথ্য ভাগাভাগির সম্মতি দিতে হবে। এরপর গুগল ওয়ালেটে নিবন্ধন নিশ্চিত হওয়ার বার্তা এবং বোর্ডিং পাসে টাচলেস আইডি চিহ্ন যুক্ত হবে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ৬৫টি বিমানবন্দরে এই সেবা চালু রয়েছে। টিএসএ জানিয়েছে, টিএসএ প্রিচেকে অংশগ্রহণকারী ১০০টিরও বেশি বিমান সংস্থার যোগ্য যাত্রীরা এসব বিমানবন্দরে টাচলেস আইডি সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন। টিএসএর আধুনিকায়ন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত প্রধান উদ্ভাবন কর্মকর্তা শেলু প্যাটেল বলেন, উন্নত প্রযুক্তি ও কৌশলগত অংশীদারত্বের মাধ্যমে যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে টিএসএ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গুগলের সঙ্গে এই সহযোগিতা বিশ্বস্ত টিএসএ প্রিচেক সদস্যদের জন্য বিমানবন্দরের নিরাপত্তা প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও নির্বিঘ্ন করবে। অন্যদিকে, গুগলের কনজিউমার পেমেন্টস বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট পি. জে. লিনারডুচি বলেন, গুগল ওয়ালেটের প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও নিরাপদ করতে পেরে তারা আনন্দিত। ব্যস্ত গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণ মৌসুমের আগে এই সেবা চালু হওয়ায় বিপুলসংখ্যক যাত্রী উপকৃত হবেন বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। টিএসএ আরও জানিয়েছে, যাত্রীরা চাইলে আগের মতোই আলাস্কা, আমেরিকান, ডেল্টা, হাওয়াইয়ান, সাউথওয়েস্ট ও ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের প্রোফাইলে বৈধ পাসপোর্ট সংরক্ষণ করে পৃথকভাবে টাচলেস আইডি সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল পরিচয় যাচাই প্রযুক্তির সম্প্রসারণ যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও আধুনিক করার পাশাপাশি যাত্রীদের অপেক্ষার সময় কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে টিএসএ স্পষ্ট করেছে, টাচলেস আইডি সুবিধা ব্যবহার করলেও যাত্রীদের ভ্রমণের সময় বৈধ পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা উচিত, কারণ প্রয়োজনে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তা দেখতে চাইতে পারেন।
আফ্রিকার আকাশপথের রাজা হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে বিশাল এক মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে ইথিওপিয়া। দেশটির রাজধানী আদ্দিস আবাবার অদূরে বিশোফতুতে ১২.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা) ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে মহাদেশটির বৃহত্তম বিমানবন্দর। সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন এই বিমানবন্দরটি বর্তমানে আফ্রিকার সবচেয়ে ব্যস্ত 'বোলে ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট'-এর ওপর চাপ কমাতে তৈরি করা হচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পের প্রথম ধাপ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে, যার মাধ্যমে বছরে ৬ কোটি যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন। পুরো প্রকল্প শেষ হলে এর সক্ষমতা দাঁড়াবে বছরে ১১ কোটি যাত্রীতে, যা বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দর আটলান্টার সক্ষমতার কাছাকাছি। ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের সিইও মেসফিন তাসিউ জানিয়েছেন, এই বিমানবন্দরে একই সাথে ২৭০টি বিমান পার্কিংয়ের সুবিধা থাকবে। বিশাল এই প্রকল্পে থাকবে চারটি রানওয়ে এবং অত্যাধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা। মূলত ট্রানজিট যাত্রীদের জন্য একটি বিশ্বমানের হাব তৈরি করাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। উল্লেখ্য যে, ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্স বর্তমানে আফ্রিকার বৃহত্তম বিমান সংস্থা এবং সম্প্রতি তারা ঢাকা থেকেও সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করেছে। এই নতুন বিমানবন্দরটি চালু হলে তা বিশ্ববাণিজ্য ও পর্যটনে আফ্রিকার অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
যুক্তরাষ্ট্রে চলমান সরকারি অচলাবস্থার কারণে দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে তৈরি হওয়া সংকট মোকাবিলায় নতুন পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, একটি নির্বাহী আদেশ জারি করে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের অধীনে কর্মরত বিমানবন্দর নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বেতন পরিশোধের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে নিরাপত্তা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা যায়। সরকারি অর্থায়ন বন্ধ থাকায় অনেক কর্মচারীর বেতন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে বিভিন্ন বিমানবন্দরে কর্মীসংকট দেখা দেয় এবং যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। নিরাপত্তা তল্লাশি ধীর হয়ে পড়ায় যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই জরুরি ভিত্তিতে এই নির্বাহী আদেশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, বিমানবন্দরগুলোতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়ায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। তিনি এই পরিস্থিতির জন্য বিরোধী দলকে দায়ী করে বলেন, রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি অচলাবস্থা দীর্ঘ হলে শুধু বিমানবন্দর নয়, সীমান্ত নিরাপত্তা, ভিসা কার্যক্রম এবং অন্যান্য সরকারি সেবাতেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। তাই গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা সচল রাখতে প্রশাসন বিকল্প উপায়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। দুই দলের মধ্যে মতবিরোধ এখনো পুরোপুরি শেষ না হলেও, বিমানবন্দরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নেওয়া এই পদক্ষেপকে তাৎক্ষণিক স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।