বিমানবন্দর

জেএফকে বিমানবন্দরে অবতরণের আগে বিমানে ড্রোনের আঘাত। ছবি: সংগৃহীত
জেএফকে বিমানবন্দরে অবতরণের আগে ড্রোনের আঘাতের দাবি জেটব্লু পাইলটের, তদন্ত শুরু এফএএর

নিউইয়র্কের জন এফ. কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের ঠিক আগে একটি ড্রোনের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘর্ষের ঘটনা সামনে এসেছে। লাস ভেগাস থেকে আসা জেটব্লু এয়ারওয়েজের একটি যাত্রীবাহী বিমানের পাইলট দাবি করেছেন, অবতরণের সময় একটি ড্রোন বিমানের ককপিটের ওপরের অংশে আঘাত করে। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ)।   এফএএর তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকালে জেটব্লু ফ্লাইট ৯৪৮ জেএফকে বিমানবন্দরে অবতরণের জন্য প্রায় তিন হাজার ফুট উচ্চতায় নামছিল। এ সময় পাইলট এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে জানান, একটি ড্রোন বিমানের সামনের অংশে আঘাত করেছে বলে তার ধারণা। এরপরও বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করে এবং সব যাত্রী স্বাভাবিকভাবে বিমান ত্যাগ করেন।   অবতরণের পর বিমানটির বিস্তারিত কারিগরি পরীক্ষা চালানো হয়। তবে প্রাথমিক পরিদর্শনে বিমানের গায়ে দৃশ্যমান কোনো ক্ষতি কিংবা ড্রোনের সঙ্গে সংঘর্ষের নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। জেটব্লু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিমানটিকে সাময়িকভাবে সেবা থেকে সরিয়ে পরীক্ষা করা হয় এবং তদন্তে তারা এফএএর সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করছে।   এফএএ জানিয়েছে, ঘটনাটির সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে রাডার তথ্য, বিমানটির পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফল এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করা হবে, যাতে সত্যিই কোনো ড্রোনের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটেছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়।   মার্কিন বিমান চলাচল বিধিমালা অনুযায়ী, বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রিত আকাশসীমায় অনুমতি ছাড়া ড্রোন উড়ানো কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এ ধরনের নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের জরিমানা, ড্রোন নিবন্ধন বাতিল এবং গুরুতর পরিস্থিতিতে ফৌজদারি ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিমান ওঠানামার সময় ড্রোনের উপস্থিতি যাত্রীবাহী বিমানের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে বিমানবন্দরসংলগ্ন এলাকায় অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়নের ঘটনা নিয়ে কর্তৃপক্ষের উদ্বেগও বেড়েছে।   এর কয়েক দিন আগেই নিউয়ার্ক বিমানবন্দরের কাছে একটি ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের যাত্রীবাহী বিমানের খুব কাছ দিয়ে একটি ড্রোন উড়ে যাওয়ার ঘটনা জানানো হয়েছিল। ধারাবাহিক এসব ঘটনার পর বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ড্রোন পরিচালনার নিয়ম আরও কঠোরভাবে প্রয়োগের দাবি জোরালো হচ্ছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২৯, ২০২৬ ১৪:০
ডুলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে টিএসএ প্রি-চেক সাইনবোর্ড | ছবি: গেটি ইমেজেস
যুক্তরাষ্ট্রে বিমান ভ্রমণে বড় পরিবর্তন, বিমানবন্দরে অনেক যাত্রীর আর দেখাতে হবে না পরিচয়পত্র

ওয়াশিংটন: যুক্তরাষ্ট্রে বিমান ভ্রমণ আরও সহজ ও দ্রুত করতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটির পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসন (টিএসএ)। সংস্থাটি ঘোষণা করেছে, গুগল ওয়ালেটের সঙ্গে নতুন অংশীদারত্বের মাধ্যমে যোগ্য যাত্রীরা এখন সরাসরি অ্যাপ থেকেই টিএসএ প্রিচেক টাচলেস আইডি সেবায় নিবন্ধন করতে পারবেন। এর ফলে নির্ধারিত নিরাপত্তা তল্লাশি পয়েন্টে অনেক যাত্রীকে আর আলাদাভাবে পরিচয়পত্র বা বোর্ডিং পাস দেখাতে হবে না।   টিএসএ জানিয়েছে, গুগল ওয়ালেটই প্রথম ডিজিটাল ওয়ালেট, যেখানে সরাসরি টিএসএ প্রিচেক টাচলেস আইডি সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। এই প্রযুক্তিতে যাত্রীর পরিচয় মুখাবয়ব শনাক্তকরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে যাচাই করা হবে, যা নিরাপত্তা তল্লাশির সময় কমিয়ে আনবে এবং যাত্রীদের অভিজ্ঞতাকে আরও সহজ করবে।   নতুন সুবিধা ব্যবহার করতে হলে অংশগ্রহণকারী কোনো বিমান সংস্থায় চেক-ইন করার পর বোর্ডিং পাস গুগল ওয়ালেটে সংরক্ষণ করতে হবে। যাদের কাছে উপযুক্ত ডিজিটাল পরিচয়পত্র রয়েছে, তারা অ্যাপে “Get Started” অপশনের মাধ্যমে টাচলেস আইডি সেবায় নিবন্ধন করতে পারবেন। নিবন্ধনের সময় টিএসএর সঙ্গে ডিজিটাল পরিচয়পত্র ও বোর্ডিং পাসের তথ্য ভাগাভাগির সম্মতি দিতে হবে। এরপর গুগল ওয়ালেটে নিবন্ধন নিশ্চিত হওয়ার বার্তা এবং বোর্ডিং পাসে টাচলেস আইডি চিহ্ন যুক্ত হবে।   বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ৬৫টি বিমানবন্দরে এই সেবা চালু রয়েছে। টিএসএ জানিয়েছে, টিএসএ প্রিচেকে অংশগ্রহণকারী ১০০টিরও বেশি বিমান সংস্থার যোগ্য যাত্রীরা এসব বিমানবন্দরে টাচলেস আইডি সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন।   টিএসএর আধুনিকায়ন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত প্রধান উদ্ভাবন কর্মকর্তা শেলু প্যাটেল বলেন, উন্নত প্রযুক্তি ও কৌশলগত অংশীদারত্বের মাধ্যমে যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে টিএসএ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গুগলের সঙ্গে এই সহযোগিতা বিশ্বস্ত টিএসএ প্রিচেক সদস্যদের জন্য বিমানবন্দরের নিরাপত্তা প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও নির্বিঘ্ন করবে।   অন্যদিকে, গুগলের কনজিউমার পেমেন্টস বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট পি. জে. লিনারডুচি বলেন, গুগল ওয়ালেটের প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও নিরাপদ করতে পেরে তারা আনন্দিত। ব্যস্ত গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণ মৌসুমের আগে এই সেবা চালু হওয়ায় বিপুলসংখ্যক যাত্রী উপকৃত হবেন বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।   টিএসএ আরও জানিয়েছে, যাত্রীরা চাইলে আগের মতোই আলাস্কা, আমেরিকান, ডেল্টা, হাওয়াইয়ান, সাউথওয়েস্ট ও ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের প্রোফাইলে বৈধ পাসপোর্ট সংরক্ষণ করে পৃথকভাবে টাচলেস আইডি সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল পরিচয় যাচাই প্রযুক্তির সম্প্রসারণ যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও আধুনিক করার পাশাপাশি যাত্রীদের অপেক্ষার সময় কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে টিএসএ স্পষ্ট করেছে, টাচলেস আইডি সুবিধা ব্যবহার করলেও যাত্রীদের ভ্রমণের সময় বৈধ পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা উচিত, কারণ প্রয়োজনে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তা দেখতে চাইতে পারেন।

তাবাস্সুম জুন ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
দুবাই বা কাতার নয়, এবার বিশ্ব এভিয়েশনে রাজত্ব করতে নামছে ইথিওপিয়া!

আফ্রিকার আকাশপথের রাজা হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে বিশাল এক মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে ইথিওপিয়া। দেশটির রাজধানী আদ্দিস আবাবার অদূরে বিশোফতুতে ১২.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা) ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে মহাদেশটির বৃহত্তম বিমানবন্দর। সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন এই বিমানবন্দরটি বর্তমানে আফ্রিকার সবচেয়ে ব্যস্ত 'বোলে ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট'-এর ওপর চাপ কমাতে তৈরি করা হচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পের প্রথম ধাপ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে, যার মাধ্যমে বছরে ৬ কোটি যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন। পুরো প্রকল্প শেষ হলে এর সক্ষমতা দাঁড়াবে বছরে ১১ কোটি যাত্রীতে, যা বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দর আটলান্টার সক্ষমতার কাছাকাছি। ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের সিইও মেসফিন তাসিউ জানিয়েছেন, এই বিমানবন্দরে একই সাথে ২৭০টি বিমান পার্কিংয়ের সুবিধা থাকবে। বিশাল এই প্রকল্পে থাকবে চারটি রানওয়ে এবং অত্যাধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা। মূলত ট্রানজিট যাত্রীদের জন্য একটি বিশ্বমানের হাব তৈরি করাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। উল্লেখ্য যে, ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্স বর্তমানে আফ্রিকার বৃহত্তম বিমান সংস্থা এবং সম্প্রতি তারা ঢাকা থেকেও সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করেছে। এই নতুন বিমানবন্দরটি চালু হলে তা বিশ্ববাণিজ্য ও পর্যটনে আফ্রিকার অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ২৩, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরের অচলাবস্থা কাটাতে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ — বেতন পাচ্ছেন নিরাপত্তা কর্মকর্তারা
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরের অচলাবস্থা কাটাতে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ — বেতন পাচ্ছেন নিরাপত্তা কর্মকর্তারা

যুক্তরাষ্ট্রে চলমান সরকারি অচলাবস্থার কারণে দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে তৈরি হওয়া সংকট মোকাবিলায় নতুন পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, একটি নির্বাহী আদেশ জারি করে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের অধীনে কর্মরত বিমানবন্দর নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বেতন পরিশোধের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে নিরাপত্তা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা যায়।   সরকারি অর্থায়ন বন্ধ থাকায় অনেক কর্মচারীর বেতন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে বিভিন্ন বিমানবন্দরে কর্মীসংকট দেখা দেয় এবং যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। নিরাপত্তা তল্লাশি ধীর হয়ে পড়ায় যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই জরুরি ভিত্তিতে এই নির্বাহী আদেশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।   প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, বিমানবন্দরগুলোতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়ায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। তিনি এই পরিস্থিতির জন্য বিরোধী দলকে দায়ী করে বলেন, রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে।   বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি অচলাবস্থা দীর্ঘ হলে শুধু বিমানবন্দর নয়, সীমান্ত নিরাপত্তা, ভিসা কার্যক্রম এবং অন্যান্য সরকারি সেবাতেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। তাই গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা সচল রাখতে প্রশাসন বিকল্প উপায়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।   দুই দলের মধ্যে মতবিরোধ এখনো পুরোপুরি শেষ না হলেও, বিমানবন্দরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নেওয়া এই পদক্ষেপকে তাৎক্ষণিক স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নীলুফা নিশাত মার্চ ২৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
শাটডাউনের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের এয়ারপোর্টে আইস মোতায়েন, আতঙ্কে ভ্রমণকারীরা

চলমান সরকারি শাটডাউনের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিমানবন্দরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে ইউএস ইমিগ্রেশন এন্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইস এজেন্ট মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কর্মী সংকট মোকাবিলা এবং যাত্রীদের দীর্ঘ লাইনের চাপ কমাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   সরকারি সূত্র জানায়, ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)-এর আংশিক শাটডাউনের কারণে Transportation Security Administration  ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা টিএসএ এর অনেক কর্মকর্তা সীমিত সুবিধায় কাজ করছেন। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় এয়ারপোর্টে নিরাপত্তা তল্লাশিতে বিলম্ব এবং দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে।   সোমবার সকালে নিউইয়র্ক, আটলান্টা, শিকাগোসহ বিভিন্ন ব্যস্ত বিমানবন্দরে আইস এজেন্টদের যাত্রীদের লাইনের মধ্যে টহল দিতে দেখা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অনেক যাত্রী আইস উপস্থিতি দেখে অস্বস্তি ও ভয়ের মধ্যে পড়েন, বিশেষ করে অভিবাসী ও গ্রিনকার্ডধারীদের মধ্যে উদ্বেগ বেশি দেখা গেছে।   প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলেছেন, আইস এজেন্টদের মূল কাজ হলো ভিড় নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করা এবং নিরাপত্তা কার্যক্রমে সহযোগিতা করা। তারা সরাসরি নিরাপত্তা স্ক্যানার পরিচালনা করবে না এবং সাধারণ যাত্রীদের বিরুদ্ধে কোনো বিশেষ অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়নি।   তবে সমালোচকদের মতে, বিমানবন্দরের মতো সংবেদনশীল স্থানে অভিবাসন সংস্থার উপস্থিতি অনেক ভ্রমণকারীর মধ্যে অযথা আতঙ্ক তৈরি করতে পারে। তারা সতর্ক করে বলেছেন, শাটডাউন দীর্ঘ হলে বিমানবন্দরগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম আরও ব্যাহত হতে পারে।   এদিকে যাত্রীদের আগেভাগে এয়ারপোর্টে পৌঁছানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, কারণ নিরাপত্তা লাইনে অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ২২, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Top week

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
আমেরিকা

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

নীলুফা নিশাত জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০