যুক্তরাজ্যের (ইউকে) ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে ঐতিহাসিক বের হয়ে যাওয়ার বা 'ব্রেক্সিট' গণভোটের ১০ বছর পূর্ণ হয়েছে। এক দশক পর এসে এখন ব্রিটেনের সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিকই মনে করছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছেড়ে দেওয়াটা তাদের একটি মস্ত বড় ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। স্বাধীন জনমত জরিপ সংস্থা 'ইউগভ'-এর সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ব্রেক্সিটের পর থেকে অর্থনৈতিক মন্দা এবং স্বাধীনভাবে চলাচলের অধিকার হারানোর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। গত ১০ বছর ধরে ব্রিটেন তীব্র রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই এক দশকে দেশটিতে সাতজন প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন হয়েছেন, যারা ব্রেক্সিটের পরবর্তী ধাক্কা এবং বিশেষ করে অর্থনৈতিক ক্ষতি সামাল দিতে হিমশিম খেয়েছেন। যুক্তরাজ্যের বাজেট বিষয়ক দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ইইউ ছাড়ার কারণে ব্রিটেনের উৎপাদনশীলতা, আমদানি ও রপ্তানি ব্যাপক হারে হ্রাস পেয়েছে। সরকারি নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ব্রেক্সিটের ফলে ব্রিটেনের অর্থনীতি প্রায় ৬ শতাংশ বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে। লন্ডনের মেয়র সাদিক খানও সম্প্রতি বলেছেন, ব্রেক্সিটের পরিণতি তাদের আশঙ্কার চেয়েও অনেক বেশি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ২০১৬ সালের সেই ঐতিহাসিক গণভোটে ব্রেক্সিটের পক্ষে ৫১ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছিলেন। তবে গত ১০ বছরে ব্রিটেনের জনমিতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। ব্রেক্সিটের পক্ষে ভোট দেওয়া বয়স্ক নাগরিকদের একটি বড় অংশ ইতিমধ্যে মারা গেছেন এবং নতুন প্রজন্মের তরুণ ভোটাররা যুক্ত হয়েছেন, যারা মূলত ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষে। বর্তমানে সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রায় ৬০ শতাংশ তরুণ ভোটার পুনরায় ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দেওয়ার জন্য নতুন করে গণভোট চান। তবে ব্রিটেনের বেশ কিছু ডানপন্থী রাজনৈতিক দল এখনো ব্রেক্সিটের পক্ষেই সাফাই গেয়ে যাচ্ছেন। যদিও সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ ইইউ-তে ফিরে যাওয়ার পক্ষে মত দিচ্ছেন, তবুও ব্রিটেনের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারা এখনই নতুন কোনো গণভোটের আয়োজন করতে রাজী নন। তারা মনে করছেন, এই মুহূর্তে ব্রেক্সিট নিয়ে নতুন কোনো রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করলে দেশের অভ্যন্তরীণ বিভেদ ও বিশৃঙ্খলা আরও বাড়বে। তবে ব্রেক্সিট যে ব্রিটেনের সাধারণ মানুষের জীবনে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারেনি, বরং তাদের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলেছে—তা এখন দেশটির অধিকাংশ মানুষই অকপটে স্বীকার করছেন।
যুক্তরাজ্যের (ইউকে) বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার খুব দ্রুতই তার রাষ্ট্রীয় পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন বলে এক চাঞ্চল্যকর ও বিস্ফোরক দাবি করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মূলত দেশের অত্যন্ত সংবেদনশীল অভিবাসন নীতি এবং অভ্যন্তরীণ জ্বালানি নীতি পরিচালনায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর চরম ও ধারাবাহিক ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। রোববার (২১ জুন) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সকালে ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক বিশেষ পোস্টে এই দাবি করেন, যা বিশ্ব রাজনীতির অঙ্গনে এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে মুহূর্তের মধ্যে ব্যাপক তোলপাড় ও নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। নিজের অফিশিয়াল ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি লিখেছেন, স্যার কিয়ার স্টারমার খুব শীঘ্রই যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হবেন বা নিজে থেকেই সরে দাঁড়াবেন। ট্রাম্প তার পোস্টে আরও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, কিয়ার স্টারমার দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি প্রধান বিষয়ে সম্পূর্ণ ও মারাত্মকভাবে ব্যর্থ হয়েছেন—যার একটি হলো দেশের সামগ্রিক অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং অন্যটি হলো জ্বালানি নীতি, বিশেষ করে উত্তর সাগরের উন্মুক্ত তেল উত্তোলন সংক্রান্ত নীতি। এই ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করার পাশাপাশি ট্রাম্প তার লেখার শেষে স্টারমারের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য শুভকামনাও জানিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্যের ঠিক কিছু সময় আগে রোববার সকালে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক বিশেষ ও অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে জানায়, যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন সরকারের ভেতরে সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তনের কারণে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার আগামী সোমবারের মধ্যেই তার পদত্যাগের একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি বা রূপরেখা ঘোষণা করতে পারেন। দেশের চলমান অর্থনৈতিক মন্দা ও বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকটের কারণে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্তাদের মনোভাব এবং দলীয় সমর্থন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে, যার ফলে প্রধানমন্ত্রীর ওপর চাপ ক্রমশ তীব্র হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির ওই বিশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের বর্তমান ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির সরকারের বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় অভ্যন্তরীণ নীতি-নির্ধারক ও বিশ্বস্ত সূত্র এখন দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে এবং দলের ভাবমূর্তি রক্ষা করতে আগামী সোমবারের মধ্যেই তার চূড়ান্ত পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক সময়সূচি বিশ্ববাসীর সামনে ঘোষণা করতে পারেন। সরকারের ভেতরের এই চরম অস্থিরতার খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই মূলত ট্রাম্প আন্তর্জাতিকভাবে এই বিষয়টি নিয়ে স্ট্যাটাস দিয়ে স্টারমারের তীব্র সমালোচনা করেন। বর্তমান আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাজ্যের অভিবাসন সংকট এবং উত্তর সাগরের তেল ক্ষেত্রগুলো উন্মুক্ত করার বিষয়ে কিয়ার স্টারমার সরকারের নেওয়া সাম্প্রতিক কিছু বিতর্কিত পদক্ষেপের কারণে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিরোধী দলগুলোও দীর্ঘদিন ধরে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিল। ট্রাম্পের এই প্রকাশ্য ভবিষ্যদ্বাণী এবং বিবিসির এই আগাম প্রতিবেদন সত্যি হলে, তা যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে এক বিশাল বড় ধরণের বড় পরিবর্তন ও চরম সাংবিধানিক সংকট নিয়ে আসবে। তবে এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত ডাউনিং স্ট্রিট বা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে কোনো ধরণের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত হরমুজ প্রণালির নৌ-অবরোধে সমর্থন দেবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। সোমবার (১৩ এপ্রিল) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, চাপের মুখে পড়ে ব্রিটেন ইরানের সঙ্গে কোনো সামরিক সংঘাতে জড়াবে না। স্টারমার জোর দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ এবং এটি উন্মুক্ত রাখা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য অপরিহার্য। তিনি জানান, এই জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এই অবস্থান বজায় রাখবে। এদিকে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জার্মানি বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশটির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ ঘোষণা দিয়েছেন, সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের স্বস্তি দিতে আগামী দুই মাসের জন্য পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর কর কমানো হবে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেলে প্রায় ১৭ ইউরো সেন্ট কর কমানো হবে। অন্যদিকে চীনও এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, হরমুজ প্রণালির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, ড্রোন ও যুদ্ধবিমানের হামলায় একাধিক শহরে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহ উদ্ধারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংগঠনগুলো অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল আদালতে একটি আবেদন করেছে, যাতে ইসরায়েলে অস্ত্র রপ্তানি সংক্রান্ত নথি প্রকাশে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে বাধ্য করা যায়। জাপানও এই সংকট নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। দেশটির মন্ত্রিসভার মুখ্য সচিব মিনোরু কিহারা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে সামরিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি টোকিও। বরং তারা সংঘাত প্রশমন ও নৌ চলাচলের নিরাপত্তায় গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান–সংকটের ৪৫তম দিনে আন্তর্জাতিক অঙ্গন ক্রমেই মেরুকরণের দিকে যাচ্ছে। একদিকে মার্কিন অবরোধের ঘোষণা তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে, অন্যদিকে ব্রিটেন ও চীনের মতো দেশগুলো উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানাচ্ছে।
উপসাগরীয় দেশগুলোতে তিন দিনের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সফর শেষ করে কাতার ত্যাগ করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার। আজ দোহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে বিদায় জানান কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ আল-খুলাইফি। এরপরই তিনি লন্ডনের উদ্দেশ্যে বিমান যোগে রওয়ানা হন। এই ত্রিদেশীয় সফরে স্টারমার অঞ্চলের প্রভাবশালী নেতাদের সাথে দ্বিপাক্ষিক ও কৌশলগত বিষয়ে আলোচনা করেন। গত বুধবার জেদ্দায় সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সাথে তার ফলপ্রসূ বৈঠক হয়। এরপর বৃহস্পতিবার তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন এবং সর্বশেষ কাতার সফর করেন। এই সফরের মূল লক্ষ্য ছিল মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে ব্রিটেনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
১১ হাজার বছর আগের এক বিষাদময় উপাখ্যান! শেষ তুষারযুগের বরফ যখন গলতে শুরু করেছে, ঠিক সেই সময়ে উত্তর ব্রিটেনের এক অন্ধকার গুহায় সমাহিত করা হয়েছিল তিন বছরের এক ছোট্ট শিশুকে। দীর্ঘ গবেষণার পর বিজ্ঞানীরা উন্মোচন করেছেন মানব ইতিহাসের এক বিস্ময়কর অধ্যায়। কামব্রিয়ার ‘হিনিং উড বোন কেভ’ থেকে উদ্ধার হওয়া এই দেহাবশেষটি বর্তমানে উত্তর ব্রিটেনের ইতিহাসে আবিষ্কৃত প্রাচীনতম মানুষের নিদর্শন। বিজ্ঞানীদের তথ্যানুযায়ী, শিশুটি খ্রিস্টপূর্ব ৯২৯০ থেকে ৮৯২৫ অব্দের মাঝামাঝি সময়ে মারা গিয়েছিল। আধুনিক ডিএনএ বিশ্লেষণ এবং রেডিওকার্বন ডেটিং প্রযুক্তির মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, শিশুটির বয়স ছিল মাত্র আড়াই থেকে সাড়ে তিন বছর। স্থানীয়ভাবে তাকে ‘অসিক ল্যাস’ নামে অভিহিত করা হয়েছে। গবেষণায় উঠে এসেছে এক আবেগঘন সত্য। আজ থেকে হাজার হাজার বছর আগেকার সেই আদিম মানুষগুলোও যে তাদের প্রিয়জনদের প্রতি কতটা যত্নশীল ছিল, তার প্রমাণ মেলে এই সমাধিতে। শিশুটিকে গুহার ভেতর অত্যন্ত সম্মানের সাথে সমাহিত করা হয়েছিল। তার দেহের সাথে পাওয়া গেছে পাঁচটি ছিদ্রযুক্ত ঝিনুকের পুঁতি, যা তৎকালীন সময়ের গয়না বা বিশেষ উপহার হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এটি প্রমাণ করে, প্রাচীনকালেও মৃতদেহ সৎকারে শোক এবং ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটানো হতো। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে এই গুহায় খননকাজ চালিয়েছেন প্রত্নতাত্ত্বিক মার্টিন স্টেবেলস। তার মতে, গুহাটি সম্ভবত তৎকালীন মানুষের কাছে কোনো পবিত্র বা আধ্যাত্মিক স্থান ছিল। ল্যাঙ্কাশায়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গবেষক ডক্টর রিক পিটারসন এই আবিষ্কারকে বিজ্ঞানের এক অভাবনীয় জয় হিসেবে দেখছেন। তিনি জানান, এত প্রাচীন দেহাবশেষ থেকে লিঙ্গ ও বয়স নির্ভুলভাবে শনাক্ত করা ব্রিটেনের আদিম জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা বুঝতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় সচল করার লক্ষ্যে যুক্তরাজ্যের উদ্যোগে শুরু হয়েছে এক গুরুত্বপূর্ণ ভার্চুয়াল শীর্ষ সম্মেলন। এতে অংশ নিয়েছেন বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধি। সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেত কুপার ইরানের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডকে "কাণ্ডজ্ঞানহীনতা" বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার গতকাল এই বৈঠকের ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছিলেন, তেহরানের বাধার কারণে অবরুদ্ধ হয়ে পড়া এই নৌপথটি পুনরায় চালুর কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক উপায় খুঁজতেই এই জরুরি আয়োজন। মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের জেরে ইরান বর্তমানে এই কৌশলগত জলপথটি কার্যত অচল করে রেখেছে। উল্লেখ্য যে, এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র উপস্থিত নেই।পররাষ্ট্রমন্ত্রী কুপার তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, "ইরানের এই অবিবেচকের মতো আচরণ এমন সব দেশকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে যারা এই সংঘাতের সঙ্গে মোটেও জড়িত নয়।" তিনি আরও যোগ করেন যে, এই পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বর্তমানে চরম হুমকির মুখে। আলোচনার পাশাপাশি কুপার জানান, একটি সম্মিলিত প্রতিরক্ষামূলক সামরিক ব্যবস্থা কীভাবে গড়ে তোলা যায়, তা পর্যালোচনার জন্য শিগগিরই সামরিক পরিকল্পনাবিদদেরও এক টেবিলে বসানো হবে।
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান সংঘাত নিয়ে বিশ্বজুড়ে যখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, ঠিক তখনই এক সাহসী ও দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। দেশটির সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের আশঙ্কা ছিল- আমেরিকা ও ইসরায়েলের এই যুদ্ধে হয়তো অনিচ্ছাসত্ত্বেও জড়িয়ে পড়তে পারে ব্রিটেন। তবে সেই শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে স্টারমার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ব্রিটেন কোনোভাবেই ইরানের যুদ্ধে পা বাড়াবে না। তিনি বলেন, “ব্রিটেনের সাধারণ নাগরিকরা উদ্বিগ্ন যে যুক্তরাজ্য হয়তো এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে। কিন্তু আমি কথা দিচ্ছি, আমরা তা করব না।” তিনি আরও যোগ করেন, বর্তমান অস্থির বিশ্ব পরিস্থিতিতে ব্রিটেন কেবল ‘সুস্পষ্ট এবং শান্ত নেতৃত্ব’ দিতেই প্রস্তুত। এই বক্তব্যের মাধ্যমে স্টারমার মধ্যপ্রাচ্যে ব্রিটিশ হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের পথেই হাঁটার ইঙ্গিত দিলেন।
সাইপ্রাসকে সুরক্ষা দিতে ব্রিটিশ নৌবাহিনীর শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ 'ড্রাগন' পৌঁছাতে দীর্ঘ বিলম্ব হওয়ায় লন্ডনের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত আন্দ্রেই কেলিন। তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ব্রিটেনের তথাকথিত 'মিলিটারি আমব্রেলা' বা সামরিক সুরক্ষা বলয় পুরোপুরি অকার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। রাশিয়ান সংবাদ সংস্থা তাস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কেলিন জানান, ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়া সংঘাতের মুখে ব্রিটিশ পরিকল্পনাকারীরা কার্যত অপ্রস্তুত ছিলেন। স্থানীয় রাজনীতিকরাও সরকারের এই সামরিক অদূরদর্শিতার কড়া সমালোচনা করছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাইপ্রাসের মতো দেশগুলো ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের সুযোগ দেয় এই আশায় যে, সংকটের সময় লন্ডন তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি প্রমাণ করেছে, প্রয়োজনের সময় ব্রিটিশদের এই সুরক্ষা ব্যবস্থা কোনো কাজেই আসছে না। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকারের এই 'সতর্ক অবস্থান' মূলত তাদের সামরিক সীমাবদ্ধতাকেই বিশ্বমঞ্চে উন্মোচিত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।