আমেরিকা

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগ করবেন বলে দাবি ডোনাল্ড ট্রাম্পের

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২১, ২০২৬ ১০:৫৩
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের (ইউকে) বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার খুব দ্রুতই তার রাষ্ট্রীয় পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন বলে এক চাঞ্চল্যকর ও বিস্ফোরক দাবি করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মূলত দেশের অত্যন্ত সংবেদনশীল অভিবাসন নীতি এবং অভ্যন্তরীণ জ্বালানি নীতি পরিচালনায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর চরম ও ধারাবাহিক ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। রোববার (২১ জুন) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সকালে ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক বিশেষ পোস্টে এই দাবি করেন, যা বিশ্ব রাজনীতির অঙ্গনে এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে মুহূর্তের মধ্যে ব্যাপক তোলপাড় ও নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।

 

নিজের অফিশিয়াল ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি লিখেছেন, স্যার কিয়ার স্টারমার খুব শীঘ্রই যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হবেন বা নিজে থেকেই সরে দাঁড়াবেন। ট্রাম্প তার পোস্টে আরও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, কিয়ার স্টারমার দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি প্রধান বিষয়ে সম্পূর্ণ ও মারাত্মকভাবে ব্যর্থ হয়েছেন—যার একটি হলো দেশের সামগ্রিক অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং অন্যটি হলো জ্বালানি নীতি, বিশেষ করে উত্তর সাগরের উন্মুক্ত তেল উত্তোলন সংক্রান্ত নীতি। এই ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করার পাশাপাশি ট্রাম্প তার লেখার শেষে স্টারমারের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য শুভকামনাও জানিয়েছেন।

 

মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্যের ঠিক কিছু সময় আগে রোববার সকালে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক বিশেষ ও অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে জানায়, যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন সরকারের ভেতরে সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তনের কারণে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার আগামী সোমবারের মধ্যেই তার পদত্যাগের একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি বা রূপরেখা ঘোষণা করতে পারেন। দেশের চলমান অর্থনৈতিক মন্দা ও বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকটের কারণে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্তাদের মনোভাব এবং দলীয় সমর্থন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে, যার ফলে প্রধানমন্ত্রীর ওপর চাপ ক্রমশ তীব্র হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির ওই বিশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের বর্তমান ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির সরকারের বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় অভ্যন্তরীণ নীতি-নির্ধারক ও বিশ্বস্ত সূত্র এখন দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে এবং দলের ভাবমূর্তি রক্ষা করতে আগামী সোমবারের মধ্যেই তার চূড়ান্ত পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক সময়সূচি বিশ্ববাসীর সামনে ঘোষণা করতে পারেন। সরকারের ভেতরের এই চরম অস্থিরতার খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই মূলত ট্রাম্প আন্তর্জাতিকভাবে এই বিষয়টি নিয়ে স্ট্যাটাস দিয়ে স্টারমারের তীব্র সমালোচনা করেন।

 

বর্তমান আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাজ্যের অভিবাসন সংকট এবং উত্তর সাগরের তেল ক্ষেত্রগুলো উন্মুক্ত করার বিষয়ে কিয়ার স্টারমার সরকারের নেওয়া সাম্প্রতিক কিছু বিতর্কিত পদক্ষেপের কারণে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিরোধী দলগুলোও দীর্ঘদিন ধরে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিল। ট্রাম্পের এই প্রকাশ্য ভবিষ্যদ্বাণী এবং বিবিসির এই আগাম প্রতিবেদন সত্যি হলে, তা যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে এক বিশাল বড় ধরণের বড় পরিবর্তন ও চরম সাংবিধানিক সংকট নিয়ে আসবে। তবে এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত ডাউনিং স্ট্রিট বা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে কোনো ধরণের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে আমেরিকানদের খাদ্যাভ্যাস ও কেনাকাটায় আসছে ব্যাপক পরিবর্তন
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে আমেরিকানদের খাদ্যাভ্যাস ও কেনাকাটায় আসছে ব্যাপক পরিবর্তন

যুক্তরাষ্ট্রে মুদিপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের খাদ্যাভ্যাস ও কেনাকাটার ধরনে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। সাম্প্রতিক একটি জরিপে দেখা গেছে, বাজেটের ওপর চাপ পড়ায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ (৩১ শতাংশ) আমেরিকান আগের বছরের তুলনায় বর্তমানে বাড়িতে অনেক বেশি রান্না করছেন।   অন্তত ২ হাজার আমেরিকানের ওপর পরিচালিত এই জরিপে উঠে এসেছে, ২৬ শতাংশ মানুষ এখন এমন সব উপাদান কিনছেন যা দিয়ে একাধিক বেলার খাবার তৈরি করা সম্ভব। ভোক্তারা জানিয়েছেন, ১০০ ডলারের মুদি বাজেটে তাদের প্রত্যাশার চেয়ে অন্তত দুটি মিল বা খাবার কম হচ্ছে। তাদের বাজেটের সবচেয়ে বড় অংশ, অর্থাৎ ৬০ শতাংশ খরচ হচ্ছে মাংস ও পোলট্রি জাতীয় পণ্যের পেছনে। এরপরই রয়েছে দুগ্ধজাত পণ্য ও ডিম (৩০ শতাংশ) এবং ফ্রোজেন বা হিমায়িত খাবার (২২ শতাংশ)।   আইডাহো পটেটো কমিশনের পক্ষে 'টকার রিসার্চ'-এর করা এই জরিপে দেখা গেছে, কেনাকাটার ক্ষেত্রে আমেরিকানরা এখন কয়েকটি বিষয়কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে খাদ্যের অপচয় রোধ (৭৩ শতাংশ), দীর্ঘ মেয়াদ বা শেলফ লাইফ (৭২ শতাংশ) এবং অর্থের বিনিময়ে সঠিক পুষ্টিমান (৭১ শতাংশ)। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৬০ শতাংশই তাদের সাপ্তাহিক খাবারের তালিকা এমনভাবে তৈরি করেন, যেন একটি উপাদান দিয়েই একাধিক পদ রান্না করা যায়। তাছাড়া ৬৩ শতাংশ মানুষ মনে করেন, কোনো একটি উপাদান সকাল, দুপুর ও রাতের খাবারে ব্যবহার করার উপযোগী হওয়াটা কেনাকাটার ক্ষেত্রে একটি বড় মানদণ্ড। বহুমুখী ও সাশ্রয়ী উপাদান হিসেবে এক্ষেত্রে আলুর নাম উঠে এসেছে তালিকার শীর্ষে।   গত এক বছরে আমেরিকানরা ডিম, আলু, চাল ও পাস্তা এবং মটরশুঁটির মতো খাবারের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। আইডাহো পটেটো কমিশনের প্রেসিডেন্ট ও সিইও জেমি হাইহ্যাম বলেন, আমেরিকানদের মুদি কেনাকাটার ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।   মানুষ এখন শুধু খরচ কমাতেই চাইছে না, বরং তারা আরও বুদ্ধিমানের মতো রান্না করার চেষ্টা করছে এবং এমন উপাদান খুঁজছে যা দিয়ে কম খরচে বেশি খাবার তৈরি করা যায়। জরিপে আরও দেখা গেছে, ৩৩ শতাংশ মানুষ আগে এড়িয়ে চলতেন এমন খাবারগুলোও পুনরায় খাদ্যতালিকায় যুক্ত করেছেন, যার মধ্যে রেড মিট, সাদা চাল, আলু এবং ডিম অন্যতম।   মূলত বাড়িতে বেশি রান্না শুরু করার পর সাশ্রয়ী বিকল্পের খোঁজ করতে গিয়েই ভোক্তাদের এই দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রতি ১০ জনে আটজন আলু ক্রেতা জানিয়েছেন, বহুমুখী ব্যবহার, সাশ্রয়ী বাজেট এবং পুষ্টিগুণের দিক থেকে এই সবজিটি অত্যন্ত চমৎকার।   সব মিলিয়ে, নিত্যপণ্যের বাড়তি দাম আমেরিকানদের শুধু খরচের লাগাম টানতেই বাধ্য করেনি, বরং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা সাশ্রয়ী ও পুষ্টিকর খাবারগুলোর কদর আবারও বাড়িয়ে দিয়েছে। উল্লেখ্য, টকার রিসার্চ কর্তৃক এই অনলাইন জরিপটি ২০২৬ সালের ১২ জুন থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত পরিচালিত হয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৫, ২০২৬ ১৮:৪৮
সিটবেল্ট ত্রুটিতে যুক্তরাষ্ট্রে ১০ লাখের বেশি র‍্যাম গাড়ি মেরামতের নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ

সিটবেল্ট ত্রুটিতে যুক্তরাষ্ট্রে ১০ লাখের বেশি র‍্যাম গাড়ি মেরামতের নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ

লস অ্যাঞ্জেলেসের বাসিন্দাদের জন্য সুখবর, গাড়ি ব্যবহার না করলেই মিলবে ৬০০ ডলার পুরস্কার

লস অ্যাঞ্জেলেসবাসীর জন্য সুখবর, ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে গণপরিবহন ব্যবহারেই মিলবে ৬০০ ডলার পুরস্কার

ক্যালিফোর্নিয়ার হাসপাতালগুলোর জন্য দুঃসংবাদ, বাতিল হচ্ছে ঋণ মওকুফের গুরুত্বপূর্ণ বিল

ক্যালিফোর্নিয়ার হাসপাতালগুলোর জন্য দুঃসংবাদ, বাতিল হচ্ছে ঋণ মওকুফের গুরুত্বপূর্ণ বিল

মিশিগানে ডেমোক্র্যাটিক সেনেট প্রাইমারি নির্বাচনে জয়ী হলেন মুসলিম নেতা আব্দুল এল-সায়েদ
মিশিগানে ডেমোক্র্যাটিক সেনেট প্রাইমারি নির্বাচনে জয়ী হলেন মুসলিম নেতা আব্দুল এল-সায়েদ

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সেনেট প্রাইমারি নির্বাচনে ঐতিহাসিক এক জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন প্রগতিশীল পপুলিস্ট নেতা আব্দুল এল-সায়েদ। দলটির প্রথাগত ধারা ও ইসরায়েলপন্থী লবিং গ্রুপ 'আইপ্যাক' (AIPAC)-এর সমর্থনপুষ্ট শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী রিপ্রেজেন্টেটিভ হ্যালি স্টিভেন্সকে অত্যন্ত কঠিন লড়াইয়ে পরাজিত করেন ৪১ বছর বয়সী এই সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) তথ্য অনুযায়ী, ৯৫ শতাংশের বেশি কেন্দ্রের ভোট গণনার পর এল-সায়েদ ৪৮.৫ শতাংশ ভোট পেয়ে জয় নিশ্চিত করেন, যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্টিভেন্স পান ৪৭.৫ শতাংশ ভোট।   মিশরীয় অভিবাসী দম্পতির সন্তান আব্দুল এল-সায়েদ পেশায় একজন সম্মানীয় চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। রোর্ডস স্কলার হিসেবে অক্সফোর্ডে পড়াশোনার পর কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিকিৎসাশাস্ত্রে ডিগ্রি অর্জন করে ডিনারের বয়সে ডেট্রয়েট শহরের স্বাস্থ্য বিভাগে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। এর আগে ২০১৮ সালে মিশিগানের গভর্নর পদের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূলধারার রাজনীতিকদের কাছে হেরে যান। তবে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নিজ নীতিতে অটল থেকে আবারও জোরালোভাবে উঠে এলেন তিনি।   আগামী নভেম্বরের মূল নির্বাচনে অবসর নেওয়া সেনেটর গ্যারি পিটার্সের আসনে তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের মুখোমুখি হবেন। সাধারণ নির্বাচনে জয় পেলে এল-সায়েদ হবেন মার্কিন সেনেটের দুই শতকের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সেনেটর।   এল-সায়েদের এই রাজনৈতিক উত্থানের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে গাজায় সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে তার আপসহীন অবস্থান। গাজার ধ্বংসযজ্ঞকে সরাসরি 'গণহত্যা' হিসেবে অভিহিত করে যুক্তরাষ্ট্রের নিঃশর্ত সামরিক সহায়তা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের করের টাকা বিদেশে যুদ্ধ বা বোমার পেছনে না ঢেলে দেশের স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষায় বিনিয়োগের পক্ষে জোরালো সওয়াল করেছেন এই প্রগতিশীল নেতা।   শুধু বৈদেশিক নীতিই নয়, তিনি মার্কিন রাজনীতি থেকে করপোরেট অর্থের প্রভাব হঠানো, সবার জন্য সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা (মেডিকেয়ার ফর অল) চালু করা এবং কঠোর মার্কিন অভিবাসন সংস্থা 'আইস' (ICE) পুনর্গঠনের মতো প্রগতিশীল ইশতেহার নিয়ে মাঠে নেমেছেন।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মিশিগানের মতো একটি সুইং স্টেটে—যেখানে ২০১৬ এবং ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প জয়ী হয়েছিলেন—সেখানে একজন প্রগতিশীল মুসলিম প্রার্থীর জয় পাওয়া বেশ চ্যালেঞ্জিং। তবে এল-সায়েদ মনে করেন, সাধারণ আমেরিকানরা এখন করপোরেট-বান্ধব রাজনীতিকদের চেয়ে জনঘনিষ্ঠ এবং সাহসী নেতাদেরই বেশি পছন্দ করেন। নভেম্বরের মূল নির্বাচনে রিপাবলিকানদের হারিয়ে ডেমোক্র্যাটদের সেনেট ধরে রাখার লড়াইয়ে এল-সায়েদ জয়ী হতে পারেন কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে পুরো আমেরিকা।

মিশিগান প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ৫, ২০২৬ ১৭:২৭
বিচ্ছেদের পর যৌথ মালিকানার অবসান, ৭৬ লাখ ডলারে ফ্লোরিডার প্রাসাদের একক মালিক হলেন ট্রাম্প জুনিয়র

বিচ্ছেদের পর যৌথ মালিকানার অবসান, ৭৬ লাখ ডলারে ফ্লোরিডার প্রাসাদের একক মালিক হলেন ট্রাম্প জুনিয়র

নিউ জার্সিতে ইসলাম গ্রহণের পর অঙ্গদাতার তালিকা থেকে নাম সরিয়েছিলেন কেইথ, কিন্তু মৃত্যুর পর অঙ্গ নিতে মরিয়া সংস্থা

নিউ জার্সিতে ইসলাম গ্রহণের পর অঙ্গদাতার তালিকা থেকে নাম সরিয়েছিলেন কেইথ, কিন্তু মৃত্যুর পর অঙ্গ নিতে মরিয়া সংস্থা

নিউইয়র্কে ৫০০ ডলারেরও কম রেন্টে অ্যাপার্টমেন্ট

নিউইয়র্কে ৫০০ ডলারেরও কম রেন্টে অ্যাপার্টমেন্ট! শুরু হলো নতুন হাউজিং লটারি

জর্জিয়া টেকের সমাবর্তনে ইরফান আল-হুসাইনী ও তার স্ত্রী ফ্যাবিয়া ফারলিন অ্যাথেনা
সাবেক বুয়েট শিক্ষার্থী ও এনভিডিয়া ডেটা সায়েন্টিস্ট ইরফানের মৃত্যু ঘিরে নতুন প্রশ্ন, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বাংলাদেশি প্রযুক্তিবিদ ও সাবেক বুয়েট শিক্ষার্থী ইরফান আল-হুসাইনীর মৃত্যুকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন তার একদল বন্ধু ও ঘনিষ্ঠ পরিচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি যৌথ বিবৃতিতে তারা ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তবে বিবৃতিতে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয়নি।   বন্ধুদের দাবি অনুযায়ী, গত ২২ জুলাই ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড এলাকার নিজ বাসায় ইরফানকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে প্রায় নয় দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি আত্মহত্যার চেষ্টার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করা হলেও, ঘটনার সময়রেখা, ৯১১-এ ফোন করার সময় এবং চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু বিষয় নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছেন।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ঘটনার দিন সকালে ইরফান কর্মস্থলের একটি প্রেজেন্টেশন শেষ করেন। এরপর সহকর্মীদের গ্রুপ চ্যাটে তিনি জানান, তার স্ত্রী অসুস্থ থাকায় দিনের বাকি সময় তিনি ছুটি নিচ্ছেন। বন্ধুদের দাবি, পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ এবং ৯১১-এ ফোন করার সময় নিয়ে কিছু অসঙ্গতি রয়েছে, যা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া উচিত।   ইরফান আল-হুসাইনী বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন। উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে এসে তিনি জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (জর্জিয়া টেক) থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। পরে তিনি বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ায় ডেটা সায়েন্টিস্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন।    জর্জিয়া টেকের প্রকাশিত একটি ফিচার অনুযায়ী, ইরফান ও তার স্ত্রী ফ্যাবিয়া ফারলিন অ্যাথেনা দুজনই বুয়েটের শিক্ষার্থী ছিলেন, তবে তাদের পরিচয় হয় যুক্তরাষ্ট্রে জর্জিয়া টেকে পিএইচডি করার সময়। তারা ২০২২ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ইরফান ২০২৩ সালে পিএইচডি সম্পন্ন করলেও স্ত্রীর সঙ্গে একসঙ্গে সমাবর্তনে অংশ নেওয়ার জন্য ২০২৪ সালের অনুষ্ঠান পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। সেই গল্প নিয়েই ২০২৪ সালে জর্জিয়া টেক তাদের দুজনকে নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, পিএইচডির পর ইরফান এনভিডিয়ায় এবং অ্যাথেনা স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা কার্যক্রম শুরু করেন।    বন্ধুদের যৌথ বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ইরফান দীর্ঘদিন ধরে পরিবার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন। সেখানে তার বৈবাহিক জীবন নিয়ে মানসিক নির্যাতন, নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ এবং পারিবারিক বিচ্ছিন্নতার মতো গুরুতর অভিযোগও তোলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি।   বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যদি ঘটনাটি আত্মহত্যা হয়ে থাকে, তাহলে কী পরিস্থিতি একজন পেশাগতভাবে সফল মানুষকে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছে দিল, সেটিও তদন্তের অংশ হওয়া উচিত। আর যদি ঘটনাটির পেছনে অন্য কোনো কারণ থেকে থাকে, তাহলে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের জন্য পূর্ণাঙ্গ তদন্ত আরও জরুরি।   এদিকে বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশি প্রযুক্তি ও প্রবাসী কমিউনিটিতে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকেই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানালেও, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো ব্যক্তি বা পক্ষ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন।   এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা বা তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশিত হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তদন্তে নতুন তথ্য প্রকাশিত হলে সেই অনুযায়ী ঘটনাটির পরবর্তী অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট প্রকাশ করবে আমেরিকা বাংলা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৫, ২০২৬ ১৬:৫
ক্যালিফোর্নিয়ায় ফেডারেল বাধায় থমকে গেল ৭০০ মিলিয়ন ডলারের ক্যাসিনো প্রকল্প

ক্যালিফোর্নিয়ায় ফেডারেল বাধায় থমকে গেল ৭০০ মিলিয়ন ডলারের ক্যাসিনো প্রকল্প

নিউইয়র্কে আশ্রয়প্রার্থী ৫৯ বছর বয়সী রুশ নারীকে শিকল পরিয়ে বন্দিশিবিরে পাঠানোর অভিযোগ

নিউইয়র্কে আশ্রয়প্রার্থী ৫৯ বছর বয়সী রুশ নারীকে শিকল পরিয়ে বন্দিশিবিরে পাঠানোর অভিযোগ

আমেরিকানদের জন্য ২,০০০ ডলারের স্টিমুলাস চেক

আমেরিকানদের জন্য ২,০০০ ডলারের স্টিমুলাস চেক, গুজব নাকি সত্য?

0 Comments