ভয়াবহ সৈন্য সংকটের কারণে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বর্তমানে এক চরম অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বর্তমান পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি অসহনীয় হয়ে উঠেছে। এই সংকট মোকাবিলায় অবিলম্বে নতুন আইন প্রণয়ন করে আরও বেশি জনবল নিয়োগের দাবি জানিয়েছে সামরিক কর্তৃপক্ষ। সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ইফতি দেফরিন এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন যে, বর্তমানে তাদের প্রায় ১২ থেকে ১৫ হাজার সৈন্যের ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে কট্টরপন্থী ইহুদিদের সামরিক বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের ওপর অনবরত বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। এর পাশাপাশি দক্ষিণ লেবাননে তাদের চারটি শক্তিশালী সামরিক ডিভিশন মোতায়েন করা হয়েছে যা বাহিনীর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। কেবল ইরান বা লেবানন নয়, অধিকৃত পশ্চিম তীর এবং গাজা উপত্যকায়ও ইসরায়েলের বিশাল একটি বাহিনী সার্বক্ষণিক মোতায়েন রয়েছে। এতগুলো ফ্রন্টে একসাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া সেনাবাহিনীর জন্য এখন অসম্ভব হয়ে পড়ছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর চিফ অফ স্টাফ জেনারেল ইয়াল জামির নিরাপত্তা ক্যাবিনেটের এক গোপন বৈঠকে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, জনবল সংকটের এই সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে পুরো সামরিক কাঠামো যে কোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে। সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে কট্টরপন্থী হারেদি ইহুদিদের অনীহা এবং আইনি জটিলতা এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই বিরোধ এখন জাতীয় নিরাপত্তা ও যুদ্ধের ময়দানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, একসাথে একাধিক রণাঙ্গনে লড়াই করার সামর্থ্য হারিয়ে ফেলছে ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স। অতিরিক্ত ডিউটি এবং দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের ফলে সাধারণ সৈন্যদের মধ্যে ক্লান্তি ও মানসিক অবসাদ চরম আকার ধারণ করেছে। ইসরায়েলি চ্যানেল টুয়েলভের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় জনবল ছাড়া গাজা ও লেবাননের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা কঠিন হবে। যুদ্ধের এই পর্যায়ে নতুন করে সৈন্য সংস্থাপন করা না গেলে রণকৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হতে পারে। এদিকে বিরোধী দলগুলো সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলছে যে, সঠিক পরিকল্পনার অভাবে আজ সেনাবাহিনীকে এই বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই মুহূর্তেই সব পক্ষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলে এই ঘটনাটি ইসরায়েলের সামরিক দুর্বলতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, অতিমাত্রায় প্রযুক্তিনির্ভরতা সত্ত্বেও যুদ্ধের ময়দানে পর্যাপ্ত জনবলের অভাব কোনোভাবেই পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সামগ্রিকভাবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এখন তাদের ইতিহাসের অন্যতম কঠিন সময় পার করছে। এই সংকট উত্তরণে সরকারের নতুন আইন তৈরির পদক্ষেপ যুদ্ধের মোড় কোন দিকে ঘোরায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
লেবানন সীমান্ত দিয়ে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় শহরগুলোতে ভয়াবহ রকেট হামলা চালিয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। বুধবার উত্তর ইসরায়েলের সীমান্তবর্তী শহর কিরিয়াত শমোনায় হিজবুল্লাহর ছোড়া রকেটে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, হামলার কিছুক্ষণ আগেই সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলোতে সতর্ক সংকেত বা সাইরেন বাজানো হয়। তবে সাইরেন বাজার অল্প সময়ের মধ্যেই একের পর এক রকেট এসে আঘাত হানে। এতে কিরিয়াত শমোনার বেশ কিছু স্থাপনা ও ঘরবাড়ি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকারী দলগুলো জানিয়েছে, এই হামলায় অন্তত একজন ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিস্ফোরক দাবির মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনার ঝড় তুলেছেন। তার দাবি, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাঠিয়েছে। তবে ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ 'হরমুজ প্রণালী' সম্পূর্ণরূপে উন্মুক্ত এবং নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত এই অনুরোধে কোনোভাবেই সাড়া দেবে না ওয়াশিংটন। আজ নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই তথ্য প্রকাশ্যে আনেন। বর্তমান ইরানি প্রেসিডেন্টকে আগের শাসকদের তুলনায় 'অত্যন্ত বুদ্ধিমান ও কম উগ্র' হিসেবে অভিহিত করে ট্রাম্প লিখেন, “ইরানের নতুন জান্তা প্রেসিডেন্ট আমাদের কাছে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত ও চলাচলের উপযোগী হচ্ছে না, ততক্ষণ আমরা এটি নিয়ে ভাবছি না।” শুধু তাই নয়, আলোচনার পরিবর্তে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প আরও বলেন, “শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা ইরানকে ধূলিসাৎ করে দেব এবং দেশটিকে প্রস্তর যুগে পাঠিয়ে দেব।” যদিও তেহরানের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির এই প্রস্তাবের বিষয়ে এখনও কোনো দাপ্তরিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। এমনকি বর্তমান শাসন ব্যবস্থায় ইরানের প্রেসিডেন্টের এককভাবে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আছে কি না, তা নিয়েও কূটনৈতিক মহলে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য খুব বেশি কঠিন কোনো কাজ নয়। চলমান এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে আজ রাত ৯টায় (ইএসটি) মার্কিন প্রেসিডেন্ট জাতির উদ্দেশে টেলিভিশনে ভাষণ দেবেন। ধারণা করা হচ্ছে, সেখান থেকেই ইরান সংকটের পরবর্তী গতিপথ স্পষ্ট হবে।
বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন এক নাটকীয় মোড়! মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার শীর্ষ পর্যায় থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যুদ্ধবিরতির জন্য আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশাল’-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প এই চাঞ্চল্যকর তথ্য শেয়ার করেন। বিবৃতিতে ট্রাম্প ইরানের সেই নির্দিষ্ট কর্মকর্তার নাম প্রকাশ না করলেও তাকে ‘পূর্বসূরিদের তুলনায় অনেক কম উগ্র এবং অত্যন্ত বুদ্ধিমান’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে যুদ্ধবিরতির এই প্রস্তাব গ্রহণ করার ক্ষেত্রে কড়া শর্ত জুড়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী যখন পুরোপুরি উন্মুক্ত, অবাধ ও নিরাপদ হবে, কেবল তখনই যুক্তরাষ্ট্র এই বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে। ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি আরও কঠোর ছিল। তিনি যোগ করেন, শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ইরানকে এমনভাবে আঘাত করা হচ্ছে যা দেশটিকে কার্যত ‘পাথর যুগে’ ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। মধ্যপ্রাচ্যে যখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, তখন ট্রাম্পের এমন দাবি বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি হিজবুল্লাহর প্রধান নাঈম কাসেমের কাছে একটি বিশেষ কৃতজ্ঞতা বার্তা পাঠিয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইসনা কর্তৃক প্রকাশিত এক লিখিত বিবৃতিতে খামেনি উল্লেখ করেন যে, হিজবুল্লাহর নেতৃত্ব বর্তমান সময়ে এই আন্দোলনের অগ্রসেনানী হিসেবে কাজ করছে। বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, হিজবুল্লাহর নেতারা "ইসলামি বিশ্বের চরম শত্রুদের" বিরুদ্ধে আপসহীন নীতি, অটল মনোবল এবং ধৈর্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে হিজবুল্লাহর এই অবস্থানকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং অনুপ্রেরণামূলক হিসেবে অভিহিত করেন।
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা আজ বুধবার সকালে দক্ষিণ ইসরায়েলে তৃতীয়বারের মতো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দায় স্বীকার করেছে। তারা দাবি করেছে, এই অভিযান চালানো হয়েছে ইরান ও লেবাননের হিজবুল্লাহর সঙ্গে সমন্বয় করে। হুতিরা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা একঝাঁক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে “ইসরায়েলি শত্রুদের স্পর্শকাতর লক্ষ্যবস্তু” নিক্ষেপ করেছে। যদিও হামলা চালানো হলেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এই গোষ্ঠী আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে, লেবানন, ইরান, ইরাক এবং দখলকৃত পশ্চিম তীর ও গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছেন, ইয়েমেন থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথে ধ্বংস করা সম্ভব হয়, তবে তিন ঘণ্টার মধ্যে হুতির বিবৃতি প্রকাশিত হয়েছে। এই ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ ও অস্থির হয়ে উঠেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ বাড়াতে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধের হুমকি দিয়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। সানা থেকে আল জাজিরা-এর সংবাদদাতা ইউসেফ মাওরি জানিয়েছেন, হুতিরা বর্তমানে দক্ষিণ ইসরায়েল লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে। হুতি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই হামলা অব্যাহত থাকবে। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর করা এবং ইরান-এর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-এর সামরিক অভিযানে ইসরায়েলের অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকা। হুতিদের প্রভাবশালী নেতা মোহাম্মদ আল-বুখাইতি বলেন, সামরিক সংঘাত আরও বিস্তৃত করার জন্য তাদের কাছে বিভিন্ন কৌশলগত বিকল্প রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হতে পারে বাব আল-মান্দেব প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ। এটি বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে হুতিদের এই হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধমনী হরমুজ প্রণালিতে সৃষ্ট অচলাবস্থা কাটাতে এবার সরাসরি হস্তক্ষেপে নামছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমার ঘোষণা করেছেন, এই রুটে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়েভেট কুপারের নেতৃত্বে লন্ডনে একটি উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি অবরুদ্ধ করে রাখায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় হু হু করে বাড়ছে জ্বালানির দাম, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ে। প্রধানমন্ত্রী স্টারমার স্পষ্ট জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সরাসরি কোনো সামরিক সংঘাতে জড়ানোর ইচ্ছা যুক্তরাজ্যের নেই। বরং কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে ১০ ডাউনিং স্ট্রিট। তিনি বলেন, "জীবনযাত্রার অসহনীয় ব্যয় কমানোর একমাত্র উপায় হলো উত্তেজনা প্রশমন করা এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্য চলাচল স্বাভাবিক নিশ্চিত করা।" এই সংকট নিরসনে সম্ভাব্য সকল ধরনের কূটনৈতিক চ্যানেলে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির ওপর স্মরণীয় এক আঘাত হানার দাবি করেছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, সৌদি আরবে অবস্থানরত ২০০ জন মার্কিন পাইলট এবং ফাইটার জেট ক্রুদের আবাসিক এলাকায় সরাসরি হামলা চালানো হয়েছে। তেহরানের দাবি অনুযায়ী, এটি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্থাপনার ওপর তাদের অন্যতম বড় এবং বিধ্বংসী অভিযান। আইআরজিসি-র অ্যারোস্পেস ফোর্সের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মজিদ মুসাভি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এই বিশেষ অভিযানে একটি মার্কিন 'অ্যাওয়াকস' (AWACS) নজরদারি বিমান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। এছাড়া হামলায় আরও বেশ কিছু মার্কিন যুদ্ধবিমান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। সম্প্রতি আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পাল্টাপাল্টি জবাব হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইরান। ক্রমাগত এই হামলার মুখে নিরাপত্তা শঙ্কায় মার্কিন সেনারা তাদের নিয়মিত ব্যারাক ও ঘাঁটি ছেড়ে বিভিন্ন হোটেল এবং অফিস স্পেসে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে বলে জানা গেছে। এই সংঘাতের ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে এখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে কাতারে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় একটি তেল ট্যাঙ্কার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া তিনটি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে একটি লক্ষ্যভেদ করে ট্যাঙ্কারটিতে আঘাত হানে। মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, ছোড়া তিনটি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে দুটি সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। তবে তৃতীয় ক্ষেপণাস্ত্রটি কাতারএনার্জি-এর ইজারা নেওয়া একটি তেলবাহী জাহাজে আঘাত করে। হামলার পর ট্যাঙ্কারটির ২১ জন ক্রু সদস্যকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর আগে যুক্তরাজ্যের ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানায়, জাহাজটির বাম পাশে আঘাত লাগে। তবে জাহাজে থাকা সকল নাবিক নিরাপদে আছেন। সংস্থাটি আরও জানায়, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে এবং এতে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবেশগত ক্ষতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এই হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরান থেকে সামরিক অভিযান গুটিয়ে নেবে যুক্তরাষ্ট্র। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেওয়ার যে লক্ষ্য নিয়ে ওয়াশিংটন এগোচ্ছিল, তা প্রায় অর্জিত হয়েছে। ট্রাম্পের মতে, বর্তমানে ইরানের আকাশসীমা যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার পতনের ফলে তেহরানের শাসনব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এসেছে। তিনি আরও যোগ করেন, ইরান বর্তমানে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য মরিয়া হয়ে আছে। তবে কোনো চুক্তি হোক বা না হোক, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই মার্কিন বাহিনী অভিযান শেষ করবে বলে তিনি আশাবাদী। বক্তব্যে ট্রাম্প কেবল ইরান নয়, নিজের মিত্র দেশগুলোর প্রতিও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালী থেকে নিজেদের তেল সংগ্রহের দায়িত্ব এখন তাদেরই নিতে হবে; যুক্তরাষ্ট্র আর এ কাজে কাউকে পাহারাদার হিসেবে সাহায্য করবে না। ট্রাম্পের দাবি, যুদ্ধ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত কমতে শুরু করবে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই উত্তেজনা প্রশমনে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে চীন ও পাকিস্তান। বেইজিংয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র মধ্যে এক বৈঠকের পর পাঁচ দফার একটি শান্তি প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে দ্রুত যুদ্ধবিরতি কার্যকরের আহ্বান জানিয়েছে দেশ দুটি। যদিও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আলোচনা চলমান থাকার কথা নিশ্চিত করেছেন, তবে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমার কথা উল্লেখ করেননি। ট্রাম্পের এই ঝটিকা সিদ্ধান্তে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন কোনো মোড় আসতে যাচ্ছে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান সংঘাত নিয়ে বিশ্বজুড়ে যখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, ঠিক তখনই এক সাহসী ও দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। দেশটির সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের আশঙ্কা ছিল- আমেরিকা ও ইসরায়েলের এই যুদ্ধে হয়তো অনিচ্ছাসত্ত্বেও জড়িয়ে পড়তে পারে ব্রিটেন। তবে সেই শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে স্টারমার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ব্রিটেন কোনোভাবেই ইরানের যুদ্ধে পা বাড়াবে না। তিনি বলেন, “ব্রিটেনের সাধারণ নাগরিকরা উদ্বিগ্ন যে যুক্তরাজ্য হয়তো এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে। কিন্তু আমি কথা দিচ্ছি, আমরা তা করব না।” তিনি আরও যোগ করেন, বর্তমান অস্থির বিশ্ব পরিস্থিতিতে ব্রিটেন কেবল ‘সুস্পষ্ট এবং শান্ত নেতৃত্ব’ দিতেই প্রস্তুত। এই বক্তব্যের মাধ্যমে স্টারমার মধ্যপ্রাচ্যে ব্রিটিশ হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের পথেই হাঁটার ইঙ্গিত দিলেন।
দীর্ঘ প্রতীক্ষিত শান্তির বার্তার আভাসে বিশ্ব অর্থনীতিতে স্বস্তির হাওয়া বইতে শুরু করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ শেষ করার ইঙ্গিত এবং ইরানের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ায় বুধবার বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে, বিপরীতে বড় ধরনের উত্থান দেখা গেছে শেয়ারবাজারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার জানিয়েছেন, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। এই মন্তব্যের পরপরই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমতে শুরু করে। আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ১০১.৮ ডলারে নেমে এসেছে, যা দিনের শুরুতে ১০০ ডলারের নিচেও স্পর্শ করেছিল। অন্যদিকে, মার্কিন বেঞ্চমার্ক ডব্লিউটিআই-এর দাম ২.৫ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯৮.৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে তেহরানও যুদ্ধ বন্ধ করতে প্রস্তুত। তবে এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অন্তত ছয় মাস যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছিলেন, যা কিছুটা ধোঁয়াশা তৈরি করেছিল। শান্তির এই সম্ভাবনায় বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বুধবার এশিয়ার বাজারে দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক রেকর্ড ৮.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। জাপানের নিক্কেই ৫.২ শতাংশ এবং হংকংয়ের হ্যাং সেং ২ শতাংশ বেড়েছে। ইউরোপের প্রধান বাজার লন্ডন, প্যারিস এবং ফ্রাঙ্কফুর্টের সূচকগুলোও ১.৫ থেকে ২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বাজার বিশ্লেষকরা এখনো কিছুটা সতর্ক। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ হয়, যা বর্তমানে যুদ্ধাবস্থার কারণে বিঘ্নিত। স্পার্টা-র বাজার বিশ্লেষক নিল ক্রসবি সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধবিরতি মানেই দ্রুত তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়া নয়। অবকাঠামোগত ও কারিগরি কারণে সরবরাহ পরিস্থিতি আগের অবস্থায় ফিরতে আরও কয়েক সপ্তাহ বা মাস সময় লেগে যেতে পারে।
আজ সকালে ইসরায়েলের অন্তত ২০টি স্থানে অতর্কিত হামলায় কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়েছেন। এই হামলায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত স্থানগুলোতে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, বেনি ব্রাক এলাকায় হামলায় গুরুতর আহত ১০ বছর বয়সী এক বালক এবং ১১ বছর বয়সী এক কিশোরীর অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাদের জীবন বাঁচাতে জরুরি অস্ত্রোপচারসহ সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। হামলার পর থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প মনে করছেন, ইরান-এর সঙ্গে চলমান সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে এবং দ্রুতই এর সমাপ্তি ঘটতে পারে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম The New York Post-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপে ইরানের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণে ওই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর দীর্ঘ সময় অবস্থান করার প্রয়োজন নাও হতে পারে। ট্রাম্পের ভাষ্য, “আমরা সেখানে আর খুব বেশিদিন থাকব না।” তবে তিনি স্বীকার করেন, ইরানের অবশিষ্ট সামরিক শক্তি মোকাবিলায় এখনো কিছু কার্যক্রম বাকি রয়েছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হওয়ার সম্ভাবনাও দেখছেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, এই নৌপথ ব্যবহারকারী দেশগুলো চাইলে নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে এটি সচল করতে পারে। তিনি আরও মন্তব্য করেন, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে প্রণালিটি “স্বয়ংক্রিয়ভাবে” খুলে যেতে পারে। তার দাবি, ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ায় তারা আর আগের মতো নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারছে না। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাস্তব পরিস্থিতি এখনো জটিল এবং সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা অনিশ্চিত।
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-এর অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো দেশটির ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে বি-৫২ বোমারু বিমানের মিশন শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার মার্কিন জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলু’র বরাত দিয়ে মিডল ইস্ট মনিটর জানায়, আকাশপথে নিজেদের আধিপত্য বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে জেনারেল কেইন বলেন, “আমরা সফলভাবে প্রথম ওভারল্যান্ড (স্থলভাগের ওপর দিয়ে) বি-৫২ মিশন শুরু করেছি। এর মাধ্যমে আমরা আগের চেয়ে আরও শক্তিশালীভাবে শত্রুর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারছি।” মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের উপস্থিতিতে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে জেনারেল কেইন আরও জানান, গত ৩০ দিনে মার্কিন বাহিনী ইরানের ১১,০০০-এর বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। তিনি দাবি করেন, ইরানের শক্তি খর্ব করতে এবং দেশটির সীমান্ত ছাড়িয়ে অস্থিতিশীলতা ছড়ানোর সক্ষমতা ধ্বংস করতে মার্কিন যৌথ বাহিনী পদ্ধতিগতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মার্কিন বাহিনীর অভিযানে এখন পর্যন্ত ইরানি নৌবাহিনীর ১৫০টিরও বেশি জাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ বলেন, ইরান এখনও কিছু ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে পারে, তবে সেগুলো প্রতিহত করার সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইরান থেকে ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সংখ্যা ছিল সর্বনিম্ন। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার মাধ্যমে এই সংঘাতের সূচনা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ ১,৩৪০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানও ইসরায়েল, জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, যার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি এবং বিমান চলাচল খাতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ খুব বেশিদিন স্থায়ী হবে না। তবে মধ্যপ্রাচ্যে এই ক্রমবর্ধমান উত্তজনা বিশ্বজুড়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা প্রশমনে এবং ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবার একযোগে সোচ্চার হয়েছে এশিয়ার দুই শক্তিধর দেশ চীন ও পাকিস্তান। বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে দেশ দুটি অবিলম্বে "কার্যকর যুদ্ধবিরতি" এবং অর্থবহ শান্তি আলোচনার জোরালো আহ্বান জানিয়েছে। যৌথ বিবৃতিতে দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সংঘাত ছড়িয়ে পড়া রুখতে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির অন্যতম প্রধান পথ 'হরমুজ প্রণালী' দিয়ে বাণিজ্যিক ও বেসামরিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। বেইজিং ও ইসলামাবাদ স্পষ্ট করে বলেছে, ইরানের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তাকে অবশ্যই সম্মান জানাতে হবে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর মধ্যকার এই বৈঠকটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন পুরো মধ্যপ্রাচ্য এক অস্থির পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, এই সংকটে পাকিস্তান একটি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ইরানের সঙ্গে সুসম্পর্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফার শান্তি পরিকল্পনা তেহরানের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ইসলামাবাদ সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। বিবৃতিতে দুই পক্ষই বেসামরিক নাগরিক এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পারমাণবিক স্থাপনা ও পানি শোধনাগারের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা বন্ধের জোর দাবি জানিয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী শান্তির জন্য জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রাধান্য বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে চীন ও পাকিস্তান।
মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে এবার দক্ষিণ লেবাননের বিশাল অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার প্রকাশ্য ঘোষণা দিল ইসরায়েল। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, লিতানি নদী পর্যন্ত পুরো এলাকাটি ইসরায়েল একটি স্থায়ী 'বাফার জোন' হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। কাটজের বক্তব্য অনুযায়ী, উত্তর ইসরায়েলের নিরাপত্তা শতভাগ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত দক্ষিণ লেবানন থেকে বাস্তুচ্যুত হওয়া প্রায় ৬ লক্ষ মানুষ আর তাদের ঘরে ফিরতে পারবেন না। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, সীমান্ত সংলগ্ন লেবানিজ গ্রামগুলোর সমস্ত ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে লিতানি নদীর ওপর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলোতে মুহুর্মুহু বিমান হামলা চালানো হচ্ছে। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এই আক্রমণগুলোকে একটি 'পূর্ণাঙ্গ স্থল অভিযানের পূর্বাভাস' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। লিতানি নদী পর্যন্ত ইসরায়েলের এই নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক দীর্ঘস্থায়ী ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পথ প্রশস্ত হবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ কোনো একক দেশের সিদ্ধান্তে নয়, বরং এই অঞ্চলের সকল দেশের সম্মিলিত মতামতের ভিত্তিতে নির্ধারিত হওয়া উচিত। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আজ এক সংবাদ সম্মেলনে এই আহ্বান জানান। বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান রুট হিসেবে হরমুজ প্রণালীর স্থিতিশীলতা বজায় রাখা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। কাতার মনে করে, এই জলপথের নিরাপত্তা এবং এর ব্যবস্থাপনা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি দেশের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা প্রয়োজন। মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি রক্ষায় এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে গঠনমূলক সংলাপ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে দোহা।
ইরান থেকে উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দ করতে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা বিবেচনা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম The Wall Street Journal-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প এই পরিকল্পনার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছেন। নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অভিযানে অংশ নেওয়া মার্কিন বাহিনীকে কয়েক দিন বা তারও বেশি সময় ইরানের ভেতরে অবস্থান করতে হতে পারে। এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ইরান যাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে White House ও Pentagon-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে BBC। অন্যদিকে, The New York Times জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের ইসফাহান পারমাণবিক স্থাপনায় থাকা উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দের অভিযানে ব্যবহার করা হতে পারে। পাশাপাশি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খারগ দ্বীপ দখল বা হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। এর আগে একই সংবাদমাধ্যম জানায়, ইসফাহানের একটি পাহাড়ের নিচে গভীরে সংরক্ষিত পারমাণবিক সরঞ্জাম ধ্বংস বা জব্দ করার বিষয়টিও ট্রাম্প গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছেন। তবে সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের সামরিক অভিযান অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে এবং এর ফলে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে, Financial Times-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানের তেল সম্পদ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার আগ্রহের কথাও জানিয়েছেন। বিশেষ করে দেশটির প্রধান জ্বালানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপ দখলের বিষয়টি তিনি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের এক মাস পূর্ণ হয়েছে গত ২৮ মার্চ। এই রক্তক্ষয়ী এক মাসে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি আমূল বদলে গেছে। ঢাকা পোস্টের এক বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য—গত ৩০ দিনে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের ৭টি দেশ (সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, ওমান, বাহরাইন ও জর্ডান)-এ মোট ৫ হাজার ৪৭১ বার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে চালানো এই মুহুর্মুহু হামলা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে তাসের ঘরের মতো গুঁড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, এই হামলাগুলোর মূল লক্ষ্য ছিল ওই দেশগুলোতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। ইরানের দাবি, যারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সুযোগ করে দিচ্ছে, তারা সবাই তেহরানের লক্ষ্যবস্তু। সবচেয়ে বেশি হামলার শিকার হয়েছে সৌদি আরব ও জর্ডান, যেখানে মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘প্যাট্রিয়ট’ অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র রুখতে হিমশিম খেয়েছে। এই এক মাসে কেবল হামলাই নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে বিমান চলাচল এবং সমুদ্রপথে বাণিজ্যিকভাবে পণ্য পরিবহনও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই ব্যাপক মাত্রার হামলা প্রমাণ করে যে তারা দীর্ঘমেয়াদী এবং বহুমুখী যুদ্ধের জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়েছে, তবে ইরানের ড্রোন ও মিসাইল প্রযুক্তির নিখুঁত লক্ষ্যভেদ পেন্টাগনকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে। এই সংঘাতের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা গত কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। এক মাস শেষেও যুদ্ধের সমাপ্তির কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না, বরং ইরানের এই হার্ডলাইন অবস্থান পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক মহাপ্রলয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।