বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। প্রচলিত ট্যাংক, কামান বা যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি এখন যুদ্ধক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর ও নির্ধারক অস্ত্র হিসেবে উঠে এসেছে ড্রোন। এই বাস্তবতায় নিজেদের সামরিক সক্ষমতা আরও আধুনিক করতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটি পরিকল্পনা করেছে, তাদের প্রায় পাঁচ লাখ সেনাসদস্যকে ড্রোন পরিচালনায় দক্ষ করে তোলা হবে। শুক্রবার দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ-ব্যাক এক ঘোষণায় জানান, সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে এমনভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে যাতে তারা ব্যক্তিগত অস্ত্রের মতোই সহজভাবে ড্রোন ব্যবহার করতে পারেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের সমন্বিতভাবে ‘ড্রোন যোদ্ধা’ হিসেবে গড়ে তোলার এই উদ্যোগ ভবিষ্যৎ যুদ্ধের প্রস্তুতির অংশ। আন গিউ-ব্যাক বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত দেখিয়ে দিয়েছে—ড্রোন এখন শুধু সহায়ক প্রযুক্তি নয়, বরং যুদ্ধের ফলাফল বদলে দেওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন একটি প্রধান অস্ত্র। বিশেষ করে তুলনামূলক কম খরচে বিপুলসংখ্যক ড্রোন ব্যবহারের কৌশল যুদ্ধের প্রচলিত ধারণাকেই পাল্টে দিচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার এই পরিকল্পনার পেছনে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিও বড় ভূমিকা রাখছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, উত্তর কোরিয়া ধারাবাহিকভাবে তাদের সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে, যা দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য ক্রমবর্ধমান হুমকি তৈরি করছে। নতুন কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে প্রায় ১১ হাজার বাণিজ্যিক ড্রোন সংগ্রহ করা হবে। পরবর্তী সময়ে, ২০২৯ সালের মধ্যে এই সংখ্যা বাড়িয়ে ৬০ হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ হাজারের বেশি স্বল্পমূল্যের একবার ব্যবহারযোগ্য যুদ্ধ ড্রোন সংগ্রহের পরিকল্পনাও রয়েছে। শুধু ড্রোন ব্যবহার নয়, দেশীয় প্রযুক্তিতে উন্নত ড্রোন তৈরির দিকেও জোর দিচ্ছে সিউল। এর অংশ হিসেবে ‘কে-লুকাস’ নামের দূরপাল্লার আক্রমণাত্মক ড্রোন দ্রুত উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রযুক্তির ধারণা নেওয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ড্রোন মডেল থেকে, যার নকশা আবার ইরানের বহুল আলোচিত আত্মঘাতী ড্রোনের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। ইউক্রেন যুদ্ধে এ ধরনের ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহার বিশ্বজুড়ে সামরিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি কেড়েছে। ড্রোনের পাশাপাশি প্রতিরোধব্যবস্থা শক্তিশালী করতেও কাজ করছে দক্ষিণ কোরিয়া। লেজার এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মাইক্রোওয়েভ অস্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে শত্রুপক্ষের ড্রোন দ্রুত শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করা যায়। উত্তর কোরিয়ার ড্রোন সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ নতুন নয়। ২০২২ সালে উত্তর কোরিয়ার পাঁচটি ছোট ড্রোন দক্ষিণ কোরিয়ার আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করেছিল। এর মধ্যে একটি রাজধানী সিউলে প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের সংরক্ষিত এলাকাতেও ঢুকে পড়ে। ওই সময় দক্ষিণ কোরিয়ার বাহিনী যুদ্ধবিমান ও আক্রমণ হেলিকপ্টার মোতায়েন করে প্রায় ১০০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে, কিন্তু কোনো ড্রোন ভূপাতিত করতে পারেনি। ঘটনাটি দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তোলে। বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামরিক সম্পর্কের ফলে উত্তর কোরিয়ার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বেড়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত কৌশল থেকে তারা সরাসরি অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছে, যা সাধারণ অবস্থায় অর্জন করতে দীর্ঘ সময় লাগত। এদিকে উত্তর কোরিয়া জানিয়েছে, তাদের নেতা কিম জং-উন সম্প্রতি কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং উন্নত রকেট আর্টিলারি ব্যবস্থার পরীক্ষানিরীক্ষা তদারক করেছেন। সব মিলিয়ে কোরীয় উপদ্বীপে সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ কোরিয়ার এই ড্রোন-কেন্দ্রিক পরিকল্পনাকে ভবিষ্যৎ যুদ্ধের প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
ইরানে যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর উদ্ধার হওয়া এক মার্কিন পাইলট এক অভাবনীয় ও চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। তার দাবি, আকাশে তিনি একঝাঁক ইরানি ড্রোনের মুখোমুখি হয়েছিলেন, যেগুলো অনেকটা ‘জেলিফিশের’ মতো দলবদ্ধভাবে উড়ছিল। সিএনএন-এর এক সূত্র জানিয়েছে, বড় ড্রোনের নিচে পায়ের মতো ছোট ছোট ড্রোন যুক্ত হয়ে এগুলো একেবারে সমন্বিতভাবে কাজ করছিল। ওই সূত্রটি পাইলটের অভিজ্ঞতাকে সরাসরি ‘ভিনগ্রহের প্রযুক্তি’ বা ‘এলিয়েন টেকনোলজি’-এর সাথে তুলনা করেছে। গত ৩ এপ্রিল ‘গুড ফ্রাইডে’-তে ঘটা এই ঘটনার পর গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কাছে দেওয়া এক ব্রিফিংয়ে এফ-১৫ (F-15) পাইলট এই অদ্ভুত ড্রোনের কথা জানান। সিএনএন-এর মতে, এটি ইরানের সামরিক ড্রোন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধির একটি সুস্পষ্ট ইঙ্গিত। যুদ্ধবিমানটি ঠিক কীভাবে ভূপাতিত হয়েছিল তা এখনও তদন্তাধীন রয়েছে। তবে পাইলটের বর্ণনাকৃত আকাশে ভাসমান এই ‘ড্রোনের মাইনফিল্ড’ মার্কিন বিমানটিকে নামাতে সাহায্য করে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, চলমান এই সংঘাতে ইরানের আকাশে মার্কিন বিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম। একাধিক ড্রোন একে অপরের সাথে যুক্ত হয়ে এমনভাবে নড়াচড়া করছিল যেন তারা একটাই সত্তা, আর বড় ড্রোনগুলোর নিচে থাকা ছোট ড্রোনগুলোকে পায়ের মতো দেখাচ্ছিল। বিমানটি ভূপাতিত হওয়ার মুহূর্তে পাইলট এবং একজন ওয়েপন সিস্টেমস অফিসার (ডব্লিউএসও) ইজেক্ট করে বেরিয়ে আসেন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাইলটকে উদ্ধার করা হলেও, গুরুতর আহত ওয়েপন অফিসারকে জগ্রোস পর্বতমালার গভীরে আশ্রয় নিতে হয়। ইরান তার মাথার দাম ৬০ হাজার ডলার ঘোষণা করায় পরিস্থিতি আরও ভয়ংকর রূপ নেয়। নিজের কাছে থাকা একটিমাত্র হ্যান্ডগান সম্বল করে প্রায় ৩৬ ঘণ্টা তিনি দুর্গম পাহাড়ে আত্মগোপনে ছিলেন। এ সময় মার্কিন ড্রোনগুলো তার কাছাকাছি আসা ইরানি বাহিনীকে লক্ষ্য করে ক্রমাগত মিসাইল হামলা চালিয়ে তাকে সুরক্ষা দেয়। এই ওয়েপন অফিসারকে উদ্ধারে মার্কিন নেভি সিল টিম সিক্স এবং সিআইএ-র সমন্বয়ে একটি শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান পরিচালিত হয়। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিআইএ ভুয়া গোয়েন্দা তথ্য ছড়িয়ে ইরানি বাহিনীকে বিভ্রান্ত করে যে, ওই অফিসারকে ইতিমধ্যেই উদ্ধার করা হয়েছে। এরপর ইসফাহান শহরের দক্ষিণে শত্রু অঞ্চলের একেবারে ভেতরে একটি অস্থায়ী রানওয়ে তৈরি করে দুটি এমসি-১৩০জে (MC-130J) পরিবহন বিমান নামানো হয়। তবে রানওয়েতে আটকে যাওয়ায় প্রতিটি প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের বিমান দুটিকে শত্রুর হাত থেকে বাঁচাতে মার্কিন বাহিনী নিজেরাই ধ্বংস করে দেয়। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এই দুঃসাহসিক অভিযানে কোনো মার্কিন সেনার প্রাণহানি ঘটেনি এবং সবাই নিরাপদে ফিরে এসেছেন। তবে দুর্ঘটনায় মাথায় আঘাত পাওয়া ওই পাইলটের ‘জেলিফিশ ড্রোন’-এর স্মৃতি কতটা নির্ভুল, তা নিয়ে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মধ্যে এখনও বিতর্ক চলছে। প্রসঙ্গত, গত ২ মার্চ কুয়েতেও এই একই পাইলট একটি ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ বা মিত্রবাহিনীর ভুল হামলার শিকার হয়েছিলেন, যেখানে তাদের বিমান ধ্বংস হলেও ক্রুরা নিরাপদে রক্ষা পান।
বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে চীনের তৈরি জে-১০ সিই মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান কেনার উদ্যোগ নতুন করে গতি পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শুরু হওয়া এই প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারও বহাল রেখেছে এবং বিষয়টি নিয়ে চীনের সঙ্গে আলোচনা এগোচ্ছে। সরকারি একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পাঁচ দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে চীনে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সফরকালে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং এবং প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার পৃথক বৈঠকের কথা রয়েছে। এসব বৈঠকে দুই দেশের সামগ্রিক সহযোগিতার পাশাপাশি জে-১০ সিই যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে। তবে সরকারের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ সফরে চূড়ান্ত কোনো চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তিনি বলেন, “এখনো আলোচনা পর্যায়েই বিষয়টি রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরে এ নিয়ে কথা হবে, তবে মূলত দরকষাকষি বা আলোচনাই হবে। আমরা আশা করছি, খুব শিগগিরই একটি চুক্তিতে পৌঁছানো যাবে।” গত শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফরের সার্বিক দিক তুলে ধরা হয়। সেখানে সামরিক ক্রয়সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেন, এ ধরনের ক্রয়প্রক্রিয়া মূলত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পর্যায়ে সম্পন্ন হয়। তিনি উল্লেখ করেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সামরিক সহযোগিতা দীর্ঘদিনের এবং এ বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। এর আগে গত বছরের মার্চে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার চীন সফরের সময়ও মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্র্যাফট কেনার বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ২০টি জে-১০ সিই যুদ্ধবিমান কিনতে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয় হতে পারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই উদ্যোগটি মূলত বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর দীর্ঘমেয়াদি ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’ পরিকল্পনার অংশ। বর্তমানে বিমান বাহিনীর বহরে থাকা এফ-৭ সিরিজের পুরোনো যুদ্ধবিমান এবং সীমিত সংখ্যক মিগ-২৯ ধীরে ধীরে অপ্রচলিত হয়ে পড়ছে। এসবের পরিবর্তে আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন যুদ্ধবিমান যুক্ত করা জরুরি হয়ে উঠেছে, যাতে দেশের আকাশসীমার নিরাপত্তা এবং সমুদ্রসীমায় নজরদারি আরও শক্তিশালী করা যায়। নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আ ন ম মুনীরুজ্জামান বলেন, “বাংলাদেশের বর্তমান যুদ্ধবিমানগুলোর বেশিরভাগই পুরোনো মডেলের। আধুনিকায়নের জন্য নতুন যুদ্ধবিমান প্রয়োজন। চীন থেকে যুদ্ধবিমান কেনার আলোচনা চলছে—এটা ইতিবাচক দিক।” জে-১০ সিই মূলত চীনের বিমান বাহিনীতে ব্যবহৃত জে-১০সি মডেলের রপ্তানি সংস্করণ। গত বছর ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার সময় পাকিস্তান এই মডেলের যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে ভারতের ফরাসি নির্মিত রাফায়েল বিমান ভূপাতিত করার দাবি করায় এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে। বাংলাদেশে যুদ্ধবিমান কেনার আলোচনা অবশ্য নতুন নয়। ২০১৬ সাল থেকেই এ বিষয়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ চলছিল। ফ্রান্সের রাফায়েল, ইউরোপীয় কনসোর্টিয়ামের ইউরোফাইটার টাইফুন এবং যুক্তরাষ্ট্রের এফ-১৬—এই তিন ধরনের যুদ্ধবিমান নিয়ে দীর্ঘদিন আলোচনা হয়েছে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর ঢাকা সফরকালে রাফায়েল কেনার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। তবে আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে সেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়নি। সামগ্রিকভাবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, চীনের সঙ্গে চলমান আলোচনা সফল হলে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে।
নতুন করে পররাষ্ট্র নীতি সাজানোর অংশ হিসেবে সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্কে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নের লক্ষ্যে চীন থেকে অত্যাধুনিক ২৪টি জে-১০সিই মাল্টি-রোল যুদ্ধবিমান ক্রয়ের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে ঢাকা। সোমবার থেকে শুরু হওয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বহুল আলোচিত বেইজিং সফরকালে এই সামরিক চুক্তিটি বড় ধরনের গতি পাবে বলে উচ্চপর্যায়ের সরকারি সূত্রে জানা গেছে। এই সফরের মধ্য দিয়ে ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে প্রতিরক্ষা, অবকাঠামো, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও গভীর হবে, যা আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আগামী আগস্ট মাসের মধ্যে এই যুদ্ধবিমান ক্রয়ের চূড়ান্ত চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হতে পারে। এই চুক্তির আওতায় প্রতিটি অত্যাধুনিক চীনা যুদ্ধবিমানের আনুমানিক বাজারমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৪ কোটি বা ৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই সামরিক আলোচনার গতি বাড়াতে গত সপ্তাহে চীনের একটি বিশেষ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করেছে। চলমান বেইজিং সফরকালে বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা এই ক্রয়ের খুঁটিনাটি চূড়ান্ত করতে চীনের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের সাথে পৃথক বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। এই বিশেষ প্রতিরক্ষা আলোচনাটি মূলত দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার একটি বৃহত্তর অংশ। সরকারি কর্মকর্তারা আশা করছেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং চীনা প্রিমিয়ার লি ছিয়াংয়ের মধ্যকার আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর একটি যৌথ ইশতেহার প্রকাশ করা হবে। এর মাধ্যমে দুই দেশের বর্তমান কৌশলগত সম্পর্ককে একধাপ উন্নীত করে ‘শেয়ার্ড ফিউচার’ বা অভিন্ন ভবিষ্যৎ এর অংশীদারিত্ব হিসেবে ঘোষণা করার জোর প্রস্তুতি চলছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই গুরুত্বপূর্ণ সফরকালে দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও অর্থনীতিসহ বিভিন্ন খাতে প্রায় ১৭টি চুক্তি, সমঝোতা স্মারক ও ইশতেহার স্বাক্ষরিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। দুই দেশের এই অর্থনৈতিক সহযোগিতার অন্যতম প্রধান উদ্যোগ হিসেবে বহুল আলোচিত তিস্তা নদী ব্যারাজ প্রকল্পের একটি যৌথ সম্ভাব্যতা যাচাই বা ফিজিবিলিটি স্টাডি নিয়ে আলোচনা হবে। এর পাশাপাশি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মংলার আধুনিকীকরণ প্রকল্পের কাজ যৌথভাবে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও দুই পক্ষ একমত হয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে নানাবিধ অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার ভুগছিল। এই বন্দরের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বাড়াতে বাংলাদেশ সরকার মংলায় চীনকে একটি বিশেষ ১১০ একরের অর্থনৈতিক অঞ্চল বা স্পেশাল ইকোনমিক জোন দেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। মংলার এই বিশেষ শিল্প পার্কটি মূলত এর আগে ভারতের বিনিয়োগের জন্য নির্ধারিত ছিল এবং একটি মুম্বাই-ভিত্তিক কোম্পানির মাধ্যমে এটি বাস্তবায়নের জন্য অতীতে একটি সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) নিশ্চিত করেছে যে, ঢাকা সম্প্রতি ভারতের সাথে হওয়া ওই চুক্তিটি সম্পূর্ণ বাতিল ঘোষণা করেছে, যার ফলে মংলার এই কৌশলগত জমিটি এখন সরাসরি চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্মুক্ত হলো। এর ঠিক এক সপ্তাহ আগেই সরকার চট্টগ্রামের একটি এক্সক্লুসিভ চীনা শিল্প পার্কের অনুমোদন দিয়েছে, যেখানে বেইজিং ইতোমধ্যে ৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারের কথা উল্লেখ করে সরকারের ওই শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, তাদের তাৎক্ষণিক ও প্রধান লক্ষ্য হলো নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। চীন থেকে বড় বড় উৎপাদনকারী শিল্প বা ম্যানুফ্যাকচারিং খাত বাংলাদেশে স্থানান্তরিত করতে পারলে তা দেশের হাজার হাজার বেকার যুবকের জন্য নতুন কাজের সুযোগ তৈরি করবে বলে সরকার আশা করছে। তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, বেইজিংয়ের সাথে ঢাকার এই সম্পর্কের দ্রুত সম্প্রসারণ প্রতিবেশী দেশ ভারতের অত্যন্ত নিবিড় নজরদারিতে থাকবে। বাংলাদেশ ও ভারত পরস্পরের সাথে ৪ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ সীমান্ত শেয়ার করে এবং দুই দেশ বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও অভিন্ন নদীর পানি বন্টন ব্যবস্থার মাধ্যমে গভীরভাবে সংযুক্ত। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সীমান্তে পুশব্যাক করার চেষ্টা বৃদ্ধি এবং নয়া দিল্লি বিমানবন্দরে বাংলাদেশের উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানের দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকার মতো ঘটনাগুলোকে বিশ্লেষকেরা দুই দেশের বর্তমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের টানাপোড়েনের স্পষ্ট লক্ষণ হিসেবে দেখছেন। অতীতে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর যেকোনো প্রধান বৈদেশিক সফরের প্রথম গন্তব্য হিসেবে সবসময় ভারতকে বেছে নিতেন, যা দিল্লির সাথে তাঁর বিশেষ সম্পর্কের গভীরতা প্রকাশ করত। তবে এর বিপরীতে বর্তমান বিএনপি-নেতৃত্বাধীন সরকার একটি বহু-পাক্ষিক বা ব্যালেন্সড পররাষ্ট্র নীতি অনুসরণ করছে, যার মূল লক্ষ্য হলো একই সাথে ওয়াশিংটন, বেইজিং, মস্কো এবং নয়া দিল্লির সাথে সমানভাবে সক্রিয় সম্পর্ক বজায় রাখা। বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর নানাবিধ সমালোচনা থাকা সত্ত্বেও বর্তমান সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পারস্পরিক শুল্ক চুক্তিটি সচল রেখেছে। সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে যে, ঢাকা মূলত আমেরিকার শক্তিশালী কৃষি লবিকে কাজে লাগিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন, ভুট্টা এবং তুলা আমদানি বৃদ্ধি করার মাধ্যমে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির সাথে দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও মজবুত করতে চাইছে। ঢাকার এই বিশেষ কূটনৈতিক তৎপরতা রাশিয়ার মস্কো পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে এবং চলতি মাসের শুরুতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান রাশিয়া সফর করে দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক পুনর্ব্যক্ত করেছেন। কর্মকর্তারা আশা করছেন যে, বিশ্বের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক জোট ব্রিকস-এ বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির প্রচেষ্টাকে মস্কো পূর্ণ সমর্থন জানাবে, যেখানে চীন অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করছে। তাত্ত্বিকভাবে পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের যে কিছুটা অবনতি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অদূর ভবিষ্যতে ভারত সফরের পরিকল্পনা করছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে নয়া দিল্লির সাথে এই সম্পর্ক মেরামতের পথটি যে বেশ জটিল ও সংবেদনশীল, তা সংশ্লিষ্ট সকলেই স্বীকার করছেন।
ইরানের ভেতরে ভূপাতিত যুদ্ধবিমানের দুই ক্রুকে উদ্ধারে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সামরিক অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই অভিযানে অংশ নেয় কয়েকশ বিশেষ বাহিনীর সদস্য, হারাতে হয় উচ্চপ্রযুক্তির দুটি পরিবহন বিমান ও একটি হেলিকপ্টার। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম জটিল উদ্ধার অভিযান এটি।' ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম Daily Mail-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শত্রুপক্ষের হামলায় বিধ্বস্ত F-15E Strike Eagle যুদ্ধবিমান থেকে ইজেক্ট করার পর দুই ক্রু ভিন্ন ভিন্ন স্থানে অবতরণ করেন। পাইলটকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, অন্য ক্রুকে উদ্ধারে শুরু হয় দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান। ঘটনাটি ঘটে দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের একটি দুর্গম পার্বত্য এলাকায়। আহত অবস্থায় পড়া ওই বিমান সেনা ‘সারভাইভাল, ইভেইশন, রেজিস্ট্যান্স অ্যান্ড এস্কেপ (SERE)’ কৌশল অনুসরণ করে আত্মগোপনে যান। নিজের সঙ্গে থাকা সীমিত সরঞ্জাম—পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, মানচিত্র, কম্পাস ও একটি বিশেষ যোগাযোগ যন্ত্রের সাহায্যে তিনি টিকে থাকার চেষ্টা চালান। ওই যোগাযোগ যন্ত্র ‘কমব্যাট সারভাইভার ইভেশন লোকেটর (CSEL)’ ব্যবহার করে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কমান্ডে সংকেত পাঠান। পরে তার অবস্থান শনাক্ত করতে আকাশে নজরদারি শুরু করে মার্কিন বাহিনী। চালকবিহীন ড্রোন ও A-10 Thunderbolt II যুদ্ধবিমান দিয়ে এলাকাটি নিরাপদ রাখার চেষ্টা করা হয়। এদিকে ইরানি কর্তৃপক্ষ তাকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। বিভিন্ন মিলিশিয়া ও স্থানীয়রা তার খোঁজে নামে বলে দাবি করা হয়। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী—নেভি সিলস, ডেল্টা ফোর্সসহ অন্যান্য ইউনিট—একটি সমন্বিত উদ্ধার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে। কমান্ডোদের C-130J Super Hercules বিমানে করে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি আনা হয় এবং হেলিকপ্টারের মাধ্যমে পাহাড়ি এলাকায় নামানো হয়। উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য ইরানের ভেতরে একটি পরিত্যক্ত এয়ারফিল্ড দখল করে সেটিকে অস্থায়ী ঘাঁটিতে পরিণত করা হয়। প্রায় ২৪ ঘণ্টা ধরে এই ঘাঁটি ব্যবহার করে উদ্ধার কার্যক্রম চালানো হয়। তবে অভিযানের সময় জটিলতা তৈরি হয়, যখন দুটি পরিবহন বিমান নরম মাটিতে আটকে পড়ে। ফলে বিকল্প হিসেবে আরও তিনটি বিমান পাঠাতে হয়। নিরাপত্তাজনিত কারণে আটকে পড়া বিমান ও একটি হেলিকপ্টার পরে ধ্বংস করে দেওয়া হয়, যাতে সেগুলো শত্রুপক্ষের হাতে না পড়ে। সবশেষে, প্রায় দেড় দিনের টানটান উত্তেজনার পর আহত বিমান সেনাসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে সক্ষম হয় মার্কিন বাহিনী।
পারস্য উপসাগরের তপ্ত ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে আগুনের হলকা। ইরানি আকাশসীমায় ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমান এফ-১৫-এর নিইরানের খোঁজ ক্রু সদস্যকে খুঁজে বের করতে এবার সরাসরি ইরানের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের এলিট স্পেশাল ফোর্সেস। শুক্রবার দিবাগত রাতে এক রুদ্ধশ্বাস অভিযানের মাধ্যমে বিমানে থাকা দুই ক্রুর মধ্যে একজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, দ্বিতীয়জনের সন্ধানে এখনো ইরানি ভূখণ্ডে তল্লাশি চালাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ ও বিবিসি-র প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন সামরিক পরিভাষায় অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ‘কমব্যাট সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ’ অভিযানে নেমেছে পেন্টাগন। এই অভিযানে দুটি হেলিকপ্টার ও একটি রিফুয়েলিং বিমান অংশ নেয়। উদ্ধারকাজ চলাকালীন স্থানীয় ইরানি মিলিশিয়াদের হালকা অস্ত্রের গুলিতে মার্কিন হেলিকপ্টারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একটি হেলিকপ্টার থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত সেগুলো ইরাকের ঘাঁটিতে নিরাপদে ফিরতে সক্ষম হয়েছে। সাবেক প্যারারেস্কিউ কমান্ডারদের মতে, এই অভিযান কতটা ভয়াবহ হতে পারে তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। নিখোঁজ পাইলটকে খুঁজে পেতে ইরানের গহীন এলাকায় এখন চলছে মার্কিন কমান্ডো আর ইরানি বাহিনীর লুকোচুরি। এদিকে, নিখোঁজ ওই মার্কিন ক্রুকে খুঁজে বের করতে বা ধরিয়ে দিতে ৬০ হাজার মার্কিন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে ইরান। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালির কাছে একটি এ-১০ ওয়ার্টহগ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও সেটির পাইলটকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমান উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ঘটনা শান্তি আলোচনায় কোনো প্রভাব ফেলবে না। তার ভাষ্যমতে, "এটি যুদ্ধ, আর আমরা এখন যুদ্ধের মাঝেই আছি।"
ইরানের আকাশসীমায় ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের পাইলটকে উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো একটি বিশেষ অভিযান ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানি সংবাদমাধ্যম তসনিম নিউজ। শুক্রবার ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় কোহগিলুয়েহ ও বোয়ের-আহমদ প্রদেশে এই উদ্ধার তৎপরতা চালানো হয় বলে জানা গেছে। তসনিম নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার ভোরে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দেশটির মধ্যাঞ্চলে একটি উন্নতমানের মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে। বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর পাইলট প্যারাস্যুটের সাহায্যে ইরানের অভ্যন্তরে অবতরণ করেন। এর পরপরই ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার এবং সি-১৩০ হারকিউলিস বিমানের সমন্বয়ে একটি মার্কিন উদ্ধারকারী দল ওই এলাকায় তল্লাশি শুরু করে। তবে ইরানি বাহিনীর তৎপরতার মুখে তাদের সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়। আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের নতুন এবং উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে লেকেনহিথ স্কোয়াড্রনের এই অনুপ্রবেশকারী যুদ্ধবিমানটিকে পুরোপুরি ধ্বংস করা হয়েছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, বিমানটি ধ্বংস হওয়ার পর পাইলট বর্তমানে ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পাইলট উদ্ধারে ব্যর্থ হওয়াকে বড় ধরনের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি সংকট হিসেবে দেখছে ওয়াশিংটন। তসনিম নিউজের দাবি, এই পরাজয় ঢাকতে পরবর্তী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র অন্য কোনো ব্যক্তিকে ‘উদ্ধারকৃত পাইলট’ হিসেবে প্রচার করার সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনি এবং বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তার ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর পাল্টা জবাব হিসেবে ইরানও মার্কিন ও ইসরায়েলি ঘাঁটি লক্ষ্য করে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে। পাইলটের বর্তমান অবস্থান বা উদ্ধারে ব্যর্থতার বিষয়ে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে এই ঘটনা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাতকে নতুন মাত্রা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির ওপর স্মরণীয় এক আঘাত হানার দাবি করেছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, সৌদি আরবে অবস্থানরত ২০০ জন মার্কিন পাইলট এবং ফাইটার জেট ক্রুদের আবাসিক এলাকায় সরাসরি হামলা চালানো হয়েছে। তেহরানের দাবি অনুযায়ী, এটি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্থাপনার ওপর তাদের অন্যতম বড় এবং বিধ্বংসী অভিযান। আইআরজিসি-র অ্যারোস্পেস ফোর্সের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মজিদ মুসাভি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এই বিশেষ অভিযানে একটি মার্কিন 'অ্যাওয়াকস' (AWACS) নজরদারি বিমান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। এছাড়া হামলায় আরও বেশ কিছু মার্কিন যুদ্ধবিমান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। সম্প্রতি আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পাল্টাপাল্টি জবাব হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইরান। ক্রমাগত এই হামলার মুখে নিরাপত্তা শঙ্কায় মার্কিন সেনারা তাদের নিয়মিত ব্যারাক ও ঘাঁটি ছেড়ে বিভিন্ন হোটেল এবং অফিস স্পেসে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে বলে জানা গেছে। এই সংঘাতের ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে এখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে মার্কিন যুদ্ধবিমানে হামলার এক চাঞ্চল্যকর দাবিকে কেন্দ্র করে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণ উপকূলীয় সিস্তান-বালুচিস্তান প্রদেশের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ চাবাহার বন্দর এলাকায় তারা একটি মার্কিন এফ-১৮ যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। বিবিসি ফার্সির বরাত দিয়ে জানা গেছে, গতকাল ইরানি গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বেশ কিছু ভিডিওতে মার্কিন এই শক্তিশালী যুদ্ধবিমানটিকে চাবাহারের আকাশে উড়তে দেখা যায়। বিবিসির ফ্যাক্ট-চেকিং বিভাগ ভিডিওগুলো যাচাই করে নিশ্চিত করেছে যে, এর মধ্যে অন্তত একটি ভিডিও চাবাহার বন্দর এলাকার টিস সেতুর কাছে ধারণ করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, উড়ন্ত এফ-১৮ বিমানটিকে লক্ষ্য করে প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হচ্ছে এবং এক পর্যায়ে বিমানটির লেজের অংশে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। তবে বিস্ফোরণের পর বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো অকাট্য প্রমাণ বা ভিডিও ফুটেজ সামনে আসেনি। এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের এই দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। এক পাল্টা বিবৃতিতে তারা জানায়, ওই অঞ্চলে তাদের কোনো যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়নি। আকাশসীমার এই সংঘাতের খবরটি নিয়ে বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক জল্পনা শুরু হয়েছে।
ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড করপস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তাদের আকাশসীমায় একটি ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানে আঘাত হানা হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা এই তথ্য প্রকাশ করেছে। ইসরায়েল এই দাবিটি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের আকাশসীমায় একটি যুদ্ধবিমান বিমানবিধ্বংসী হামলার মুখোমুখি হলেও এটি সফলভাবে হুমকি শনাক্ত করে নিরাপদে অভিযান শেষ করেছে এবং কোনো ক্ষতি হয়নি। এটি ঘটেছে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে তৃতীয়বারের মতো। আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তারা ইরানের আকাশে ২০০টির বেশি আকাশযান ধ্বংস করেছে। এর মধ্যে ড্রোন, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, জ্বালানি বহনকারী উড়োজাহাজ এবং যুদ্ধবিমান অন্তর্ভুক্ত। বিশ্লেষকরা বলছেন, উভয় পক্ষের পরস্পরবিরোধী দাবি চলমান সংঘাতের তথ্যযুদ্ধকে আরও জটিল করে তুলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।