কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে। বুধবার (১ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ কোনোভাবেই শত্রুদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে না। আইআরজিসি মার্কিন প্রেসিডেন্টের কর্মকাণ্ডকে 'হাস্যকর কার্যকলাপ' হিসেবে অভিহিত করে স্পষ্ট করেছে যে, বর্তমানে এই প্রণালির ওপর তাদের দৃঢ় ও দাপুটে নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। আইআরজিসির এই হুঁশিয়ারির কিছুক্ষণ আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক চাঞ্চল্যকর দাবি উত্থাপন করেন। ট্রাম্প জানান, ইরানের রাষ্ট্রপতি তার কাছে যুদ্ধবিরতির জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে এই প্রস্তাব বিবেচনার ক্ষেত্রে তিনি শর্ত জুড়ে দিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালি যখন পুরোপুরি "উন্মুক্ত, বাধামুক্ত ও নিরাপদ” হবে, কেবল তখনই তিনি যুদ্ধবিরতি নিয়ে ভাববেন। যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থানকে তেহরান সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। দুই দেশের এমন বিপরীতমুখী অবস্থানে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। একদিকে ইরান তাদের সার্বভৌমত্ব ও সামরিক কর্তৃত্ব বজায় রাখার অঙ্গীকার করছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এই জলপথকে কেন্দ্র করে তেহরানের ওপর কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের ফলে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের আশঙ্কা আরও ঘনীভূত হচ্ছে। সূত্র: আলজাজিরা
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে চ্যালেঞ্জ জানানো ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) প্রভাবশালী কমান্ডার আলিরেজা তাংসিরি নিহত হয়েছেন। সোমবার (৩০ মার্চ) আইআরজিসি এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, গুরুতর আঘাতের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ দাবি করেছেন, বন্দর আব্বাসে তাদের বাহিনীর একটি ‘নির্ভুল ও প্রাণঘাতী অভিযানে’ তাংসিরি ও আরও কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। কমান্ডার তাংসিরির মৃত্যু এমন এক সময়ে ঘটল যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য এক মাসব্যাপী যুদ্ধের পর সরাসরি স্থল অভিযানের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও মার্কিন বাহিনী যেকোনো মুহূর্তে আক্রমণের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে বলে জানা গেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, হামলা শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে ইরানের রাডার ও যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল করতে ইলেকট্রনিক যুদ্ধ চালাবে এবং এরপর বিমান হামলা চালিয়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করার চেষ্টা করবে। এই যুদ্ধের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে শীর্ষ তালিকায় রয়েছে খারগ দ্বীপ, যেখান থেকে ইরান তার ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি করে। এছাড়া কেশম দ্বীপ এবং আবু মুসা দ্বীপও মার্কিন নিশানায় রয়েছে। তবে সাবেক সামরিক কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, পারস্য উপসাগরীয় এই দ্বীপগুলো দখল করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সেখানে যাতায়াত সহজ হলেও মার্কিন সেনারা ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের সহজ লক্ষ্যবস্তু হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সূত্র: সিএনবিসি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে যুদ্ধের অবসানে সরাসরি চুক্তিতে আসার জন্য কঠোর আল্টিমেটাম দিয়েছেন। সোমবার (৩০ মার্চ) নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, ইরানের একটি ‘নতুন এবং আরও যুক্তিবাদী’ গোষ্ঠীর সঙ্গে বর্তমানে আলোচনা চলছে। তবে যদি দ্রুত কোনো সমঝোতা না হয় এবং হরমুজ প্রণালি ব্যবসার জন্য খুলে দেওয়া না হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের সমস্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, তেলকূপ এবং কৌশলগত খারগ দ্বীপ উড়িয়ে দিয়ে দেশটিকে 'নিশ্চিহ্ন' করে দেবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উল্লেখ করেন, এর আগে ইরানকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল, যে কারণে যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট কিছু স্থানে আঘাত করা থেকে বিরত রয়েছে। তিনি দাবি করেন, গত ৪৭ বছরের ‘সন্ত্রাসের রাজত্বে’ মার্কিন সেনা ও নাগরিকদের হত্যার প্রতিশোধ নিতেই এই চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার জন্য তেহরানের হাতে মাত্র ১০ দিন সময় আছে। উল্লেখ্য, এই প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে গেছে। উত্তেজনাকর এই পরিস্থিতির মধ্যেই প্রায় সাড়ে তিন হাজার মার্কিন নৌসেনা ইউএসএস ত্রিপোলিতে চড়ে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছেন। এদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ মার্কিন এই হুঁশিয়ারিকে গুরুত্ব না দিয়ে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, আমেরিকা আলোচনার কথা বললেও গোপনে স্থল হামলার পরিকল্পনা করছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকটময় মুহূর্তে মিসর, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। সূত্র: নিউ ইয়র্ক পোস্ট
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল অভিযানের আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনকে দেওয়া কঠোর হুঁশিয়ারির পর আজ সোমবার (৩০ মার্চ) আন্তর্জাতিক বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই তেলের দাম লাফিয়ে বাড়তে শুরু করেছে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার দাবি করেছিলেন, কিন্তু তেহরানের অনমনীয় অবস্থান বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বড় ধরনের উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে আজ সকালে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৩.১৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৬ ডলার ১০ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে ডব্লিউটিআই (WTI) ক্রুডের দাম ২.৬৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১০২ ডলার ৩০ সেন্টে কেনাবেচা হচ্ছে। অয়েল প্রাইজ ডটকমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতাই মূলত বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। এর আগে গত রোববার ইরানের সংসদের স্পিকার এক বক্তব্যে জানান যে, তাদের বাহিনী মার্কিন সেনাদের মোকাবিলা করার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে অপেক্ষা করছে। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা পার হলেও গত শুক্রবার ট্রাম্প জানান যে আলোচনার পথ এখনও খোলা রয়েছে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা এবং হরমুজ প্রণালিতে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার শঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা। সূত্র: অয়েল প্রাইজ ডটকম ও আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান আরও জোরদার করতে এবং দেশটিতে সরাসরি মার্কিন স্থলসেনা মোতায়েনের জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উৎসাহিত করছেন সৌদি আরবের প্রভাবশালী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে ট্রাম্পের সঙ্গে একাধিকবার ফোনালাপে সালমান বর্তমান ইরানি শাসনব্যবস্থার পতন না হওয়া পর্যন্ত সামরিক তৎপরতা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সৌদি যুবরাজের আশঙ্কা, ইরানের বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকলে মধ্যপ্রাচ্য দীর্ঘমেয়াদে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকবে। এমনকি বর্তমান সংঘাত থেমে গেলেও ইরান ভবিষ্যতে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো ও নৌপথে হুমকি অব্যাহত রাখতে পারে। জনসম্মুখে রিয়াদ কূটনৈতিক সমাধানের কথা বললেও পর্দার আড়ালে সালমানের অবস্থান বেশ কঠোর। তিনি চান, মার্কিন বাহিনী ইরানের জ্বালানি কেন্দ্রগুলো দখল করে এবং সরাসরি স্থল অভিযানের মাধ্যমে বর্তমান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে তাদের শক্তি চিরতরে নিঃশেষ করে দিক। নিউ ইয়র্ক টাইমসের সূত্রমতে, ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর এই চাপ ওয়াশিংটনের নীতি-নির্ধারকদের মধ্যে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একদিকে যখন ট্রাম্প ইরানের ওপর হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন, অন্যদিকে সৌদি আরবের এই কঠোর অবস্থান পরিস্থিতিকে আবারও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘস্থায়ী শত্রুতা নিরসনে ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত সালমানের পরিকল্পনায় সাড়া দেন কি না, সেটিই এখন বিশ্ব রাজনীতির বড় প্রশ্ন।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান সামরিক অভিযানের মুখে নতুন করে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে রাশিয়া। ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সোমবার (২৩ মার্চ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আশেপাশে মার্কিন-ইসরাইলি হামলাগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ড ‘অপূরণীয় পরিণতির’ কারণ হতে পারে। রাশিয়া ইতিমধ্যে এ বিষয়ে ওয়াশিংটনের কাছে তাদের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। পেসকভ জোর দিয়ে বলেন, পারমাণবিক স্থাপনায় যেকোনো ধরনের সামরিক আঘাত সম্ভাব্য চরম বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়ে সমাধানের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “অঞ্চলে বর্তমানে যে ভয়াবহ উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা প্রশমিত করতে কূটনৈতিক পথই একমাত্র কার্যকর উপায়।” উল্লেখ্য, গত ১৭ মার্চ রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা ‘রোসাটম’ জানিয়েছিল যে, বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অভ্যন্তরে চালু থাকা ইউনিটের অত্যন্ত কাছে একটি হামলা চালানো হয়েছে। যদিও ওই ঘটনায় কোনো তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়েনি বা কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, তবে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থাও (IAEA) এই ঘটনাকে ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করার শামিল বলে বর্ণনা করেছে। রাশিয়ার মতে, পারমাণবিক স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার স্বার্থেই অপরিহার্য।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে কয়েকটি ভারতীয় জাহাজকে নিরাপদে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে ইরান বলে জানিয়েছেন ভারতে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ফাতহালি। শনিবার (১৪ মার্চ) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নয়াদিল্লিতে ইন্ডিয়া টুডে আয়োজিত এক সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ইরান কয়েকটি ভারতীয় জাহাজকে হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার জন্য নিরাপদ পথ দিয়েছে। তবে ঠিক কতটি জাহাজকে এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। এদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রথম দুই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন ডলারের সামরিক ক্ষতি হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর তথ্য বিশ্লেষণে এই হিসাব উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রাডার ধ্বংস হওয়ার কারণে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান ও সৌদি আরবে থাকা থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চারটি রাডার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার। এ ছাড়া কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটিতে থাকা একটি সতর্কতামূলক রাডার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মূল্য প্রায় ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১১টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত হয়েছে। প্রতিটি ড্রোনের মূল্য প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলার, ফলে মোট ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৩৩০ মিলিয়ন ডলার। এ ছাড়া কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভুলবশত হামলায় তিনটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে, যার ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৮২ মিলিয়ন ডলার। ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে একটি কেসি-১৩৫ জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ছয় মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। বিমানটির মূল্য প্রায় ৮০ মিলিয়ন ডলার। এ ছাড়া বাহরাইনের মানামায় যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরেও ইরানের হামলায় কিছু যোগাযোগ সরঞ্জাম ও স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। সব মিলিয়ে চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন ডলারের সামরিক ক্ষতি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাত এক বিধ্বংসী রূপ নিয়েছে। সম্প্রতি সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে ইরানের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মার্কিন বিমান বাহিনীর ৫টি রিফুয়েলিং (জ্বালানি সরবরাহকারী) বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও রয়টার্স জানিয়েছে, বিমানগুলো পুরোপুরি ধ্বংস না হলেও সেগুলোর বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন। তবে এই হামলায় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) পশ্চিম ইরাকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি কেসি-১৩৫ (KC-135) রিফুয়েলিং বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ভেতরে থাকা ৬ জন ক্রু সদস্যই নিহত হয়েছেন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে জানিয়েছে, অন্য একটি বিমানের সঙ্গে সংঘর্ষের ফলে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, যা কোনো শত্রুভাবাপন্ন হামলার ফল নয়। পেন্টাগনের সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এই ঘটনাকে ‘মর্মান্তিক’ বলে অভিহিত করেছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র (Operation Epic Fury) অধীনে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে এ পর্যন্ত মোট ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ১৫০ জন আহত হয়েছেন। ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠী এই বিমানটি ভূপাতিত করার দাবি করলেও মার্কিন বাহিনী তা নাকচ করে দিয়েছে। সংঘাতের এই আবহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, তেহরান পাল্টা আঘাত অব্যাহত রাখলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার (১৪ মার্চ) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ তেল এই দ্বীপ থেকে রপ্তানি হয়। ইরান ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার দ্বীপটিতে একাধিক দফায় হামলা চালানো হয় এবং অন্তত ১৫টিরও বেশি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, মার্কিন বাহিনী খার্গ দ্বীপের সব সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করেছে, তবে তেলের অবকাঠামোতে কোনো হামলা চালানো হয়নি। স্থানীয় সূত্রগুলোও জানিয়েছে, ব্যাপক বিস্ফোরণ ও ধোঁয়া দেখা গেলেও দ্বীপের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনাগুলো এখন পর্যন্ত অক্ষত রয়েছে। তবে ট্রাম্প কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা দেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র পরবর্তী ধাপে সরাসরি তাদের তেল স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে। এদিকে যুদ্ধের উত্তেজনায় বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত ২ হাজার ৫০০ মেরিন সেনা এবং যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস ট্রিপোলি’ মোতায়েন করছে। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই যুদ্ধে ইতোমধ্যে অন্তত দুই হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। অন্যদিকে, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার অঙ্গীকার করে প্রতিবেশী দেশগুলোকে মার্কিন ঘাঁটি সরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া সামরিক অভিযানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খরচের এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’ (CSIS)-এর সাম্প্রতিক এক গবেষণা অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম ১০০ ঘণ্টাতেই পেন্টাগনের ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩.৭ বিলিয়ন (৩৭০ কোটি) মার্কিন ডলার। অর্থাৎ, প্রতিদিন গড়ে খরচ হচ্ছে প্রায় ৯০ কোটি ডলার। গবেষক মার্ক কানসিয়ান এবং ক্রিস পার্কের বিশ্লেষণ বলছে, এই বিশাল ব্যয়ের সিংহভাগই (প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন ডলার) নিয়মিত বাজেটের বাইরে। মূলত অত্যাধুনিক স্টিলথ বোমারু বিমান পরিচালনা এবং বিপুল পরিমাণ উন্নতমানের যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহারের কারণেই এই উচ্চ ব্যয় হচ্ছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুদ্ধের প্রথম চার দিনে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন ধরনের ২ হাজারেরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমা ব্যবহার করেছে, যা পুনরায় মজুত করতে খরচ হবে আরও ৩.১ বিলিয়ন ডলার। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, যুদ্ধের এই উচ্চ ব্যয় ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। পেন্টাগনকে শীঘ্রই অতিরিক্ত তহবিলের জন্য কংগ্রেসের দ্বারস্থ হতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি এবং তেলের দাম বাড়তে থাকায় এই যুদ্ধ দেশীয় রাজনীতিতে জনরোষ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির অনুসারীরা, যারা বিদেশের যুদ্ধে জড়ানোর বিরোধী, তাদের মধ্যেও এই ব্যয় নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিচ্ছে। আল জাজিরার ওয়াশিংটন প্রতিনিধি রোজিল্যান্ড জর্ডান জানিয়েছেন, টমাহক (Tomahawk), প্যাট্রিয়ট (Patriot) এবং থাড (THAAD) ইন্টারসেপ্টরের মতো ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি মেটাতে পেন্টাগন ইতিমধ্যে ৫০ বিলিয়ন ডলারের একটি সম্পূরক বাজেট অনুরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। অর্থনৈতিক ব্যয়ের পাশাপাশি এই যুদ্ধের মানবিক ক্ষয়ক্ষতির চিত্রও অত্যন্ত ভয়াবহ। ইরানের রেড ক্রিসেন্টের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার হামলা শুরুর পর থেকে ইরানে শিশুসহ অন্তত ১,৩৩২ জন নিহত হয়েছেন। লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১২৩ জন। এছাড়া যুদ্ধে ৬ মার্কিন সেনাসহ ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতেও বেশ কিছু প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। সামরিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ ইরানের ওপর হামলা আরও জোরালো করার ঘোষণা দেয়ায় আগামী দিনগুলোতে যুদ্ধের খরচ এবং ক্ষয়ক্ষতি আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।