ভেনেজুয়েলার তেলক্ষেত্রে মালিকানা চায় যুক্তরাষ্ট্র, চলছে গোপন আলোচনা
ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদের মালিকানায় অংশীদারত্ব নিতে দেশটির অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যমে উদ্ধৃত দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সম্ভাব্য এই চুক্তির আওতায় ভেনেজুয়েলার এক ডজনের বেশি উৎপাদনশীল তেলক্ষেত্র থাকতে পারে, যেখানে প্রমাণিত মজুত রয়েছে প্রায় ৯ হাজার কোটি ব্যারেল।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচনার বিষয়টি ভেনেজুয়েলার পুরো প্রমাণিত তেল মজুত নিয়ে নয়। দেশটির মোট প্রমাণিত তেল মজুত প্রায় ৩০ হাজার কোটি ব্যারেল হলেও সম্ভাব্য চুক্তিতে এক ডজনের বেশি উৎপাদনশীল তেলক্ষেত্র অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। তবে চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের তেল মজুতের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্ভাব্য ব্যবস্থার অধীনে যুক্তরাষ্ট্র এসব তেলক্ষেত্রে মালিকানার অংশ পাবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রসহ বেসরকারি কোম্পানিগুলো তেলক্ষেত্রগুলোর উন্নয়ন ও উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এর মাধ্যমে অতিরিক্ত তেল রাজস্ব তৈরি হবে, যা ভেনেজুয়েলা সরকারের আয় বাড়াতে সহায়তা করবে বলে আলোচনায় উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ নেতৃত্ব দিচ্ছেন। হোয়াইট হাউসের উপপ্রধান কর্মকর্তা স্টিফেন মিলারও আলোচনায় যুক্ত রয়েছেন। চুক্তির মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার জনগণ উপকৃত হবে, এমন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরতে চাইছে ট্রাম্প প্রশাসন।
ভেনেজুয়েলার প্রাকৃতিক সম্পদ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে দেশটির ভেতরে সমালোচনার আশঙ্কা রয়েছে। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ কারণে সম্ভাব্য ব্যবস্থাটির ক্ষেত্রে ভেনেজুয়েলার জনগণের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি সামনে রাখতে চাইছে মার্কিন প্রশাসন। তবে চূড়ান্ত চুক্তি কবে হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি জানা যায়নি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট আগামী সপ্তাহে ভেনেজুয়েলা সফর করতে পারেন। সেখানে দেশটির তেল উৎপাদন বাড়াতে মার্কিন কোম্পানিগুলো কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে, সে বিষয়ে আলোচনা করার কথা রয়েছে। বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে নানা কারণে চাপ তৈরি হওয়ার সময়েই এই আলোচনা সামনে এসেছে।
ইরান ও ইউক্রেনের যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে এবং এর প্রভাবে তেলের দাম বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল মজুতও চার দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। এমন পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন ও সরবরাহে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
ভেনেজুয়েলার কাছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণিত তেল মজুত রয়েছে। তবে দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ ঘাটতি, অব্যবস্থাপনা এবং উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণে দেশটির তেল শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন পশ্চিম গোলার্ধে জ্বালানি ও পররাষ্ট্রনীতির বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ভেনেজুয়েলার তেলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার বাড়ানোকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্য হলো আগামী প্রজন্মগুলোর জন্য পশ্চিম গোলার্ধের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ইরানের যুদ্ধের কারণে তৈরি মূল্যচাপ কমানো। এরই অংশ হিসেবে ভেনেজুয়েলার তেল খাতকে পুনর্গঠনে ওয়াশিংটনের বৃহত্তর উদ্যোগের সঙ্গে সাম্প্রতিক আলোচনাগুলো যুক্ত হয়েছে।
গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর দেশটির তেল খাত নিয়ে ওয়াশিংটনের সম্পৃক্ততা আরও বেড়েছে। এরপর ট্রাম্প প্রশাসন ডেলসি রদ্রিগেজের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন করেছে এবং দেশটির জ্বালানি খাতে যুক্তরাষ্ট্রের আরও বেশি সম্পৃক্ততার জন্য কাজ করছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের জাস্টাস কেলি মিস ইউএসএ ২০২৬-এর মুকুট জিতে ইতিহাস গড়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত ৭৫তম মিস ইউএসএ প্রতিযোগিতায় তাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। ৩১ বছর বয়সী কেলি এই খেতাব জেতার মধ্য দিয়ে প্রথম মা এবং প্রথম বিবাহিত নারী হিসেবে মিস ইউএসএ হওয়ার নজির তৈরি করেছেন। কেলি দুই শিশুর পালক মা, একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা এবং শিশুদের বইয়ের লেখক। মিস ইউএসএ প্রতিযোগিতার নিয়মে ২০২৩ সালে পরিবর্তন আনার পর বিবাহিত নারী ও মায়েদের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়। পরের বছর বয়সের সর্বোচ্চ সীমাও তুলে দেওয়া হয়। নতুন নিয়মের পর কেলিই প্রথম মা ও প্রথম বিবাহিত নারী হিসেবে মিস ইউএসএ খেতাব জিতলেন। মিয়ামির অ্যাড্রিয়েন আরশট সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টসে এবারের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ৫১ জন প্রতিযোগী মিস ইউএসএ হওয়ার জন্য অংশ নেন। প্রাথমিক প্রতিযোগিতায় সাঁতারের পোশাক, সন্ধ্যার পোশাক ও সাক্ষাৎকার পর্ব ছিল। সেখান থেকে ধাপে ধাপে সেরা প্রতিযোগীদের বাছাই করে চূড়ান্ত পাঁচজনের মধ্যে কেলি বিজয়ী হন। চূড়ান্ত পর্বে কেলিকে আমেরিকান নারীদের পরিবর্তিত পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। উত্তরে তিনি নিজের বয়স, বিবাহিত জীবন এবং দুই শিশুর পালক মা হওয়ার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, একজন নারীকে নিজের পেশাগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা, পরিবার ও স্বপ্নের মধ্যে কোনো একটি বেছে নিতে হবে না। বিজয়ের পর কেলি বলেন, প্রথম মা ও প্রথম বিবাহিত নারী হিসেবে মিস ইউএসএ হওয়ার সুযোগ তার জন্য বড় সম্মানের। তিনি এটিকে একটি দায়িত্ব হিসেবেও দেখছেন। তার বিশ্বাস, তিনি প্রথম হলেও শেষ নন এবং ভবিষ্যতে আরও মা ও বিবাহিত নারী এই প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জন করবেন। এবারের প্রতিযোগিতায় নতুন একটি বিচার বিভাগও যুক্ত করা হয়েছিল। বাণিজ্যিক আকর্ষণ নামের এই বিভাগে প্রতিযোগীদের পৃষ্ঠপোষক আকর্ষণের সক্ষমতা বিবেচনা করা হয়। চূড়ান্ত পর্বে দর্শকদের ভোট দেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছিল। তবে দর্শকদের ভোটের মোট ফলাফলে কতটা প্রভাব ছিল, তা স্পষ্ট করা হয়নি। কেলি আগামী নভেম্বর পুয়ের্তো রিকোতে অনুষ্ঠিতব্য মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করবেন। তার বিজয়ের মাধ্যমে ভার্জিনিয়া ১৯৭০ সালের পর আবার মিস ইউএসএ খেতাব পেল। এবারের মিস ইউএসএ প্রতিযোগিতাটি ছিল ৭৫তম আসর। প্রতিযোগিতাটিতে বিভিন্ন নিয়ম পরিবর্তনের পাশাপাশি সম্প্রচারের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এসেছে। এবারের আয়োজন সরাসরি সম্প্রচারের জন্য অনলাইনভিত্তিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করেছে।
গোপন তথ্য পাচারের দায় স্বীকার সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তার
ভেনেজুয়েলার তেলক্ষেত্রে মালিকানা চায় যুক্তরাষ্ট্র, চলছে গোপন আলোচনা
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে নিখোঁজ টেক্সাসের দম্পতি, উৎকণ্ঠায় দুই মেয়ে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেকেই দেশটির ইতিহাসের সেরা প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখিয়ে একটি তালিকা প্রকাশ করেছেন। অথচ ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের বিভিন্ন মূল্যায়নে ট্রাম্পকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে খারাপ প্রেসিডেন্টদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। নিজের প্রকাশ করা তালিকায় তিনি জর্জ ওয়াশিংটন ও আব্রাহাম লিংকনের মতো ঐতিহাসিক প্রেসিডেন্টদেরও ওপরে নিজেকে রেখেছেন। দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেসিডেন্টদের একটি তালিকার ছবি প্রকাশ করেন। এর আগে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে প্রকাশিত জরিপে রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যে কোন প্রেসিডেন্টকে তারা সবচেয়ে বেশি শ্রদ্ধা করেন, তা নিয়ে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছিল। ওই জরিপে ৫৩ শতাংশ রিপাবলিকান ট্রাম্পকে সবচেয়ে বেশি পছন্দের রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি আব্রাহাম লিংকন ও রোনাল্ড রিগ্যানকে পেছনে ফেলেন। এই প্রেক্ষাপটেই ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেসিডেন্টদের একটি ‘সেরা’ তালিকা তুলে ধরেন। সেখানে নিজের নাম একেবারে শীর্ষে রাখেন তিনি। তবে তালিকাটি প্রকাশের পর এর নানা দিক নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে তালিকায় রোনাল্ড রিগ্যান ও জর্জ ডব্লিউ বুশের মতো সাম্প্রতিক সময়ের জনপ্রিয় রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টদের নাম না থাকায় প্রশ্ন ওঠে। ইতিহাসবিদ ক্রিস্টোফার ডব্লিউ জোন্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মন্তব্য করেন, ট্রাম্প যেন রিগ্যান ও বুশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে অবস্থান নিয়েই কোনো মতামত দেননি। আরেক মন্তব্যে ইতিহাস ও ষড়যন্ত্রতত্ত্ব নিয়ে কাজ করা মাইক রথশিল্ড দাবি করেন, ট্রাম্পের প্রকাশ করা তালিকাটি আসলে ১৯৪৮ সালে লাইফ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত একটি তালিকার আদলে তৈরি। তার দাবি, ওই পুরোনো তালিকার ওপর ট্রাম্প নিজের নাম যোগ করেছেন এবং যেসব ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্টকে তিনি পছন্দ করেন না, তাদের নিচের দিকে রেখেছেন। তবে ট্রাম্প নিজেকে যতই ওপরে রাখুন, ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক বিজ্ঞানীদের মূল্যায়ন তার সঙ্গে একেবারেই মেলে না। জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক বিজ্ঞানী মাইকেল বেইলি সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ প্রেসিডেন্ট হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, ট্রাম্পের সময়ে দুর্নীতি এবং দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির যে ক্ষতি হয়েছে, তা অতীতের অন্য প্রেসিডেন্টদের সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। এর আগেও একই ধরনের মূল্যায়ন দেখা গেছে। ২০২৪ সালে ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক বিজ্ঞানীদের একটি জরিপে ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্টদের তালিকার একেবারে নিচে রাখা হয়েছিল। ওই জরিপে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ১৪তম অবস্থানে ছিলেন। শুধু বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নেই ট্রাম্প পিছিয়ে নেই। সাম্প্রতিক জনমত জরিপেও তার জনপ্রিয়তা নিয়ে চাপের চিত্র দেখা গেছে। দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে ট্রাম্পের অনুমোদন হার প্রায় এক-তৃতীয়াংশে নেমে আসে। ইতিহাস নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ অবশ্য নতুন নয়। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর হোয়াইট হাউসে তিনি সাবেক প্রেসিডেন্টদের ছবি ও তাদের কর্মকাণ্ডের বর্ণনা নিয়ে একটি ‘ওয়াক অব ফেম’ স্থাপন করেন। সেখানে বিভিন্ন প্রেসিডেন্টের অবদান তুলে ধরা হয়েছিল। তবে ইতিহাসবিদেরা ওই ফলকগুলোর তথ্যের পক্ষপাতদুষ্টতা ও নির্ভুলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। একজন ইতিহাসবিদ মন্তব্য করেছিলেন, ওই ফলক তৈরিতে যে ধরনের গবেষণা করা হয়েছে, তা অন্যের ছবিতে গোঁফ এঁকে দেওয়ার মতোই দুর্বল। ট্রাম্পের ইতিহাসচর্চার আগ্রহ শুধু সাবেক প্রেসিডেন্টদের মূল্যায়নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তার প্রশাসনের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠানে সংবেদনশীল ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে থাকা কিছু ফলক ও তথ্য সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। এসব বিষয়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বর্ণবাদ ও বৈষম্যের ইতিহাসও ছিল। এ ছাড়া ট্রাম্প প্রশাসন স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউশনের প্রদর্শনী ও সংগ্রহে থাকা বিভিন্ন তথ্য পর্যালোচনার উদ্যোগ নেয়। সমালোচকদের মতে, ইতিহাসের এমন অংশ বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেরা প্রেসিডেন্ট হিসেবে তুলে ধরে ট্রাম্পের প্রকাশ করা তালিকা তাই নতুন করে তার ইতিহাস দেখার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিতর্ক তৈরি করেছে। একদিকে রিপাবলিকানদের বড় একটি অংশের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা এখনো রয়েছে, অন্যদিকে ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নে তার অবস্থান একেবারেই বিপরীত। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট
যুক্তরাষ্ট্রে নগ্ন অবস্থায় খাবার পৌঁছে দিলেন ডেলিভারিম্যান, বাড়ির নিরাপত্তা ক্যামেরায় ধরা পড়ল দৃশ্য
জাকারবার্গের স্ত্রীর চেহারা নিয়ে কটাক্ষ, সামাজিক মাধ্যমে পাল্টা জবাব, ‘ভালোবাসা টাকা দিয়ে কেনা যায় না’
গ্যারাজে রান্নার ব্যবস্থা করার আগে জানুন, পারমিট ছাড়া জরিমানার মুখে পড়তে পারেন মালিকেরা
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার রিচমন্ডে ঘুমের মধ্যে অদ্ভুত এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন চিকিৎসক ক্রিস্টা এডেলম্যান। স্বপ্নে ছোট একটি ইঁদুর মুখের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছে মনে হলেও ঘুম ভাঙার পর তিনি বুঝতে পারেন, বিষয়টি কোনো স্বপ্ন নয়। সত্যিই একটি বাদুড় তার ঠোঁটের ফাঁক দিয়ে মুখের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছিল। ঘটনাটি ঘটে রিচমন্ডে এডেলম্যানের প্রায় ১০০ বছরের পুরোনো বাড়িতে। তিনি একজন পরিপাকতন্ত্র বিশেষজ্ঞ। সম্প্রতি নিজের ইনস্টাগ্রাম পোস্টে অভিজ্ঞতাটি তুলে ধরে মানুষকে বাদুড়ের সংস্পর্শে এলে কী ধরনের সতর্কতা নিতে হবে, সে বিষয়ে সচেতন করেছেন তিনি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউটিভিআরও ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এডেলম্যান জানান, প্রথমে তিনি স্বপ্ন দেখছিলেন একটি ছোট মাঠের ইঁদুর তার মুখের কাছে এসে মুখের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছে। ঘুম ভাঙার সময় তিনি মুখের কাছে হাত নিয়ে কিছু একটা স্পর্শ করেন। সেটি ছিল পিচ্ছিল, লোমশ এবং ঠান্ডা। কিছুক্ষণ পরই তিনি বুঝতে পারেন, সেটি ইঁদুর নয়, একটি বাদুড়। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তিনি বাদুড়টিকে ধরে ঘরের অন্যদিকে ছুড়ে দেন এবং চিৎকার শুরু করেন। তার চিৎকারে স্বামীও জেগে ওঠেন। প্রথমে বাদুড়টিকে মেরে ফেলার কথা মনে হলেও চিকিৎসক হিসেবে এডেলম্যান জানতেন, সেটি করা ঠিক হবে না। বাদুড়টিকে ধরে পরীক্ষা করানো প্রয়োজন, বিশেষ করে জলাতঙ্কের ভাইরাস রয়েছে কি না তা জানার জন্য। পরে দ্রুত কী করা উচিত তা জানতে তিনি ফোনে খোঁজ করেন এবং একজন সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ বন্ধুর সঙ্গে কথা বলেন। বন্ধুও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন। এরপর এডেলম্যান তার কর্মস্থল সেন্ট মেরিস হাসপাতালে জরুরি বিভাগে যান। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে জলাতঙ্কের সম্ভাব্য সংস্পর্শ হিসেবে বিষয়টি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন। এডেলম্যানের স্বামী শেষ পর্যন্ত বাদুড়টিকে একটি পাত্রে আটকে ফেলতে সক্ষম হন। এরপর প্রাণীটিকে জলাতঙ্ক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরীক্ষায় বাদুড়টির শরীরে জলাতঙ্কের ভাইরাস পাওয়া যায়নি। তবে সরাসরি সংস্পর্শের কারণে এবং আগে জলাতঙ্কের টিকা না নেওয়ায় এডেলম্যান সতর্কতামূলকভাবে জলাতঙ্কের টিকা ও ইমিউনোগ্লোবিউলিন গ্রহণ করেন। ঘটনার পর এডেলম্যানের মূল বার্তা ছিল, বাড়িতে বাদুড় পাওয়া গেলে বিষয়টিকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে ঘুমন্ত অবস্থায় কেউ বাদুড়ের সংস্পর্শে এলে তিনি আদৌ কামড় বা আঁচড়ের শিকার হয়েছেন কি না, তা সবসময় বোঝা সম্ভব নাও হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র, সিডিসি বলছে, বাদুড়ের কামড়ের দাগ খুব ছোট হতে পারে এবং অনেক সময় তা চোখে পড়েও না। কোনো ব্যক্তি ঘুম থেকে উঠে ঘরে বাদুড় দেখতে পেলে এবং সরাসরি সংস্পর্শ হয়েছিল কি না নিশ্চিত না হলে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে চিকিৎসা পরামর্শ নেওয়া উচিত। বাদুড়ের ক্ষেত্রে জলাতঙ্কের ঝুঁকি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে জলাতঙ্কে মানুষের মৃত্যুর ক্ষেত্রে বাদুড়ের সংস্পর্শ একটি প্রধান কারণ। দেশটিতে জলাতঙ্কে মারা যাওয়া অন্তত ১০ জনের মধ্যে সাতজনের সংক্রমণের সঙ্গে বাদুড়ের সম্পর্ক রয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে সব বাদুড় জলাতঙ্কে আক্রান্ত। বরং যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ বাদুড় সুস্থ এবং পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। জলাতঙ্কের চিকিৎসা সময়মতো শুরু করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভাইরাসটির লক্ষণ প্রকাশের আগে সংস্পর্শের পর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিলে রোগ প্রতিরোধ করা যায়। কিন্তু লক্ষণ প্রকাশের পর রোগটি প্রায় সবসময় প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাড়িতে বাদুড় ঢুকে পড়লে খালি হাতে সেটিকে ধরা উচিত নয়। নিরাপদে সম্ভব হলে উপযুক্ত সুরক্ষা নিয়ে পাত্রের মধ্যে আটকে রেখে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ বা প্রাণী নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। তারা বাদুড়টি পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে পারে এবং মানুষের চিকিৎসা প্রয়োজন কি না, সে বিষয়ে পরামর্শ দিতে পারে। বাদুড় সাধারণত মানুষের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলে। তবে বাড়ির ছাদ, চিমনি, চিলেকোঠা কিংবা দেয়ালের ছোট ফাঁক দিয়ে তারা ঘরে ঢুকতে পারে। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, বাদুড় প্রায় এক-চতুর্থাংশ ইঞ্চি বা ৬ মিলিমিটারের মতো ছোট ফাঁক দিয়েও ঢুকতে পারে। তাই পুরোনো বাড়ির ছাদ, দরজা, জানালা, চিমনি ও অন্যান্য সম্ভাব্য প্রবেশপথ নিয়মিত পরীক্ষা করে বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। নিজের অস্বাভাবিক অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের উদ্দেশ্যও এডেলম্যান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, চিকিৎসক হয়েও এমন পরিস্থিতিতে ঠিক কী করা উচিত, তা নিয়ে মুহূর্তের মধ্যে তাকে তথ্য খুঁজতে হয়েছিল। তাই অন্য কেউ যেন একই পরিস্থিতিতে পড়ে বিভ্রান্ত না হন, সে কারণেই তিনি ঘটনাটি প্রকাশ্যে এনেছেন। তার অভিজ্ঞতা এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। সূত্র: ডব্লিউটিভিআর
একাকিত্ব কাটাতে ২৯ বছর বয়সে কিশোরী সেজে হাইস্কুলে ভর্তি, চার দিন ক্লাসের পর ধরা পড়লেন নারী
দাম বাড়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার সুযোগ, রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞদের নজরে ৯ শহর