বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় সরকারি চাল আত্মসাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে নিয়ামতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ূন কবিরের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে নিয়ামতি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। প্রচারিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একদল ব্যক্তি চেয়ারম্যান হুমায়ূন কবির ও তাঁর সহযোগীদের ওপর হামলা চালায় এবং মারধর করতে করতে তাদের পরিষদ কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে চেয়ারম্যান দৌড়ে ইউনিয়ন পরিষদের ভেতরে আশ্রয় নেন। এ সময় অন্যরা সেখান থেকে সরে যান। স্থানীয়রা জানান, সম্প্রতি নিয়ামতি ইউনিয়নে দুস্থ নারীদের জন্য সরকারের ভিডব্লিউবি কর্মসূচির চাল আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগের তদন্তে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইউনিয়ন পরিষদে একটি দল পাঠানো হয়। তদন্তে নেতৃত্ব দেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা খান শামীম পারভেজ। তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাল আত্মসাতের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে তদন্ত চলাকালেই পরিষদ কার্যালয়ের সামনে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় তিনি নিজেও সামান্য আহত হয়েছেন বলে জানান। ঘটনার পর অভিযুক্তরা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ মিছিলও করেন। পরে খবর পেয়ে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম বাকেরগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি জিয়াউল হক আকন বলেন, সাংবাদিক ও প্রশাসনের উপস্থিতিতে চেয়ারম্যানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। প্রসঙ্গত, চেয়ারম্যান হুমায়ূন কবির বরিশাল জেলা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একজন সদস্য। এ ঘটনায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও নিন্দা জানানো হয়েছে। সংগঠনের নেতারা দাবি করেছেন, বিএনপির স্থানীয় নেতাদের নেতৃত্বে হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং এতে কয়েকজন রাজনৈতিক কর্মী জড়িত ছিলেন। তবে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামরুজ্জামান মিজান মিয়া বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন। দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্ত ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোহেল সিকদার বলেন, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাল আত্মসাতের অভিযোগের খবর পেয়ে তিনি পরিষদে গিয়েছিলেন। তবে পরিস্থিতি কীভাবে উত্তেজনায় রূপ নেয়, তা তিনি বুঝতে পারেননি। বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ জানান, ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ দেখা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার সোহেল রানা বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদকে নিয়ে মানহানিকর বক্তব্য ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে মামলা করার আবেদন করা হয়েছে। রোববার (৮ মার্চ) সকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাতের আদালতে এ আবেদন করেন রাজধানীর রমনা থানার বিএনপির বর্তমান সভাপতি মো. আশরাফুল ইসলাম। বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আমিরুল ইসলাম আমির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আদালতে মামলার আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে এবং বেলা ১১টার দিকে এ আবেদনের ওপর শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। মামলার আবেদনে অভিযোগ করা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মির্জা আব্বাসের কাছে পরাজিত হন। নির্বাচনের আগে ও পরে তিনি বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং অনলাইন সংবাদমাধ্যমে মির্জা আব্বাসকে নিয়ে মিথ্যা ও মানহানিকর বক্তব্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। আবেদনে আরও বলা হয়, গত ৫ মার্চ ফেসবুকে দেওয়া একটি বক্তব্য বিভিন্ন অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পায়, যেখানে মির্জা আব্বাসকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। বাদীপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় মির্জা আব্বাসের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব মন্তব্য প্রচার করে মির্জা আব্বাসের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এসব বক্তব্যকে মানহানিকর এবং শিষ্টাচারবহির্ভূত বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার পদে কারা আসছেন এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এখন এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদ নিয়ে পর্যালোচনা চলছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্র ও সংসদের শীর্ষ পদগুলোতে অভিজ্ঞ এবং রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের দায়িত্ব দিতে চায় বিএনপি। সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের পাশাপাশি আইন পেশায় অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নামও আলোচনায় রয়েছে। রাষ্ট্রপতি পদে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি দীর্ঘদিন বিএনপির নীতিনির্ধারণী রাজনীতিতে সক্রিয় এবং সরকারের মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন। রাজনৈতিক জ্যেষ্ঠতা ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার কারণে তাঁকে এই পদের জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। এ ছাড়া বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর–এর নামও আলোচনায় উঠেছিল। তবে তিনি বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান রাষ্ট্রপতির মেয়াদ এখনো শেষ হয়নি, তাই এখনই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে আলোচনা অপ্রয়োজনীয়। অন্যদিকে স্পিকার পদে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। এ তালিকায় আছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ওসমান ফারুক, মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। দলীয় সূত্র বলছে, সংসদ পরিচালনার অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্ব দিয়ে স্পিকার নির্বাচনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আগামী ১২ মার্চ বসতে যাচ্ছে জাতীয় সংসদ–এর ত্রয়োদশ অধিবেশন। ওই অধিবেশনের শুরুতেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সরকারি দল বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিরোধী দলের জন্য ডেপুটি স্পিকার পদ বিবেচনার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। এ ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ–কে নাম প্রস্তাব করতে বলা হয়েছে বলে জানা গেছে। সংবিধান অনুযায়ী, সংসদের প্রথম বৈঠকে সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হয়। নির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে রাষ্ট্রপতি শপথবাক্য পাঠ করান। তবে বিএনপি নেতৃত্ব এখনই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে না বলে দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে। অভিজ্ঞতা, জ্যেষ্ঠতা ও রাজনৈতিক কৌশল বিবেচনায় রাষ্ট্র ও সংসদের শীর্ষ পদে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।