শান্তি

ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ লিও চতুর্দশ।
ধর্মকে যুদ্ধের হাতিয়ার করবেন না: পোপ লিও

বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা সংঘাত আর বারুদের গন্ধের মাঝে শান্তির বার্তা নিয়ে হাজির হলেন ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ লিও চতুর্দশ।  সেন্ট পিটার্স স্কয়ারে কয়েক হাজার পুণ্যার্থীর উপস্থিতিতে পাম সানডে’র বিশেষ প্রার্থনায় তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ঈশ্বর কখনোই যুদ্ধকে সমর্থন করেন না। ধর্মকে ব্যবহার করে রক্তক্ষয়ী সংঘাতকে বৈধতা দেওয়ার যে প্রবণতা বর্তমানে বিশ্বজুড়ে চলছে, তার তীব্র নিন্দা জানান তিনি। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল সংঘাত যখন পঞ্চম সপ্তাহে পা রেখেছে, ঠিক তখনই পোপের এই কড়া বার্তা বিশ্বনেতাদের বিবেকের দুয়ারে নাড়া দিয়েছে।  পোপ লিও বলেন, "যিশু শান্তির রাজা, তিনি যুদ্ধকে ঘৃণা করেন। কেউ নিজের রাজনৈতিক স্বার্থে বা যুদ্ধকে জায়েজ করতে তাঁর নাম ব্যবহার করতে পারেন না।" তিনি আরও যোগ করেন, যারা যুদ্ধের ডাক দেয়, ঈশ্বর তাদের প্রার্থনা শোনেন না, বরং তাদের প্রত্যাখ্যান করেন। উল্লেখ্য যে, বর্তমান বিশ্বরাজনীতিতে ধর্মকে যুদ্ধের ঢাল হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। একদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ সহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ইরান সংঘাতকে 'খ্রিস্টীয় জাতির শ্রেষ্ঠত্ব' প্রমাণের লড়াই হিসেবে চিত্রিত করছেন।  অন্যদিকে, রুশ অর্থোডক্স চার্চ ইউক্রেন আক্রমণকে পশ্চিমের 'শয়তানি শক্তির' বিরুদ্ধে 'পবিত্র যুদ্ধ' হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে পোপের এই অবস্থান কেবল একটি ধর্মীয় ভাষণ নয়, বরং বিশ্ব শান্তির পথে এক শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তাও বটে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান
উত্তেজনা প্রশমনে ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এক ঘণ্টা ফোনালাপ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর

আঞ্চলিক অস্থিরতা নিরসনে এক বড় কূটনৈতিক উদ্যোগ নিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে টানা এক ঘণ্টা গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন তিনি।  একটি উচ্চপদস্থ পাকিস্তানি সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে মার্কিন বার্তা সংস্থা সিএনএন। আগামীকাল ইসলামাবাদে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি হাই-প্রোফাইল বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তুরস্ক, মিশর এবং সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এই বৈঠকে অংশ নেবেন। তার ঠিক আগের দিন পাকিস্তান ও ইরানের শীর্ষ নেতার এই দীর্ঘ কথোপকথন আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা কমিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন। শাহবাজ-পেজেশকিয়ান আলাপচারিতায় এই আসন্ন বৈঠকের এজেন্ডা এবং দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৮, ২০২৬ 0
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপ, যে বার্তা দিল চীন

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তজনা প্রশমনে আবারও কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়েছে চীন। সম্প্রতি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সাথে এক ফোনালাপে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই স্পষ্ট জানিয়েছেন, যুদ্ধের চেয়ে আলোচনা সবসময়ই উত্তম।  বেইজিংয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ওয়াং ই সব পক্ষকে সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ে শান্তি আলোচনা শুরু করার সুযোগ লুফে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ফোনালাপে ওয়াং ই গুরুত্বারোপ করেন যে, সব ধরনের জটিল ইস্যু বা 'হটস্পট' বিষয়গুলো শক্তিপ্রয়োগের পরিবর্তে সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা উচিত। চীনের এমন অবস্থানের জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি জানান, তেহরান কেবল একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, বরং চলমান সংঘাতের একটি ব্যাপক ও স্থায়ী সমাপ্তি নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেই সাথে তিনি চীনের মানবিক সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানান। উল্লেখ্য যে, ইরানের পক্ষ থেকেই এই ফোনালাপের অনুরোধ জানানো হয়েছিল। চীন ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হলেও বেইজিং ইতিমধ্যে স্পষ্ট করেছে যে, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে তারা তেহরানের সাথে একমত নয়। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনতে বেইজিং এখন নিরবচ্ছিন্নভাবে যুদ্ধবিরতির ওপর জোর দিচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মের্জ। ছবি: সংগৃহীত
অস্ত্র বিরতির আগে মধ্যপ্রাচ্যে কোনো হস্তক্ষেপ নয়, সাফ জানালেন জার্মান চ্যান্সেলর

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝে জার্মানির অবস্থান স্পষ্ট করলেন চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মের্জ। বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে ইউরোপীয় নেতাদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনি জানান, যতক্ষণ না এই অঞ্চলে সামরিক সংঘাত বা 'অস্ত্রের গর্জন' থামছে, ততক্ষণ জার্মানি সরাসরি কোনো হস্তক্ষেপে জড়াবে না। চ্যান্সেলর মের্জ সাংবাদিকদের বলেন, "শান্তি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরই কেবল আমরা আমাদের ভূমিকা পালন করতে পারি। যুদ্ধ চলাকালীন জার্মানি কোনো পদক্ষেপ নেবে না।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ভবিষ্যতে জার্মানি যদি কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তা অবশ্যই ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর সাথে আলোচনার ভিত্তিতেই করা হবে। সমুদ্রপথ উন্মুক্ত রাখা এবং নৌ-নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে জার্মানির সক্ষমতা রয়েছে স্বীকার করেও মের্জ জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে তা সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক ম্যান্ডেট বা আইনগত বৈধতা ছাড়া জার্মানি সেখানে কোনো সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করবে না বলেও তিনি সাফ জানিয়ে দেন। উল্লেখ্য, সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে মিত্র দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করার পর জার্মানির পক্ষ থেকে এই কড়া বার্তা এলো। ট্রাম্পের দাবি ছিল, যেহেতু মিত্র দেশগুলো এই পথ দিয়ে তেল আমদানি করে, তাই এর নিরাপত্তার দায়িত্বও তাদের নিতে হবে।  তবে চ্যান্সেলর মের্জের বক্তব্যে এটি স্পষ্ট যে, চাপের মুখে নয় বরং আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি এবং শান্তি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই জার্মানি তার পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ইরানে যুদ্ধের প্রতিবাদে বিক্ষোভে উত্তাল তেল আবিব

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই যুদ্ধের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছেন ইসরায়েলের একদল শান্তিকামী সাধারণ নাগরিক। সম্প্রতি তেল আবিবের হাবিমা স্কয়ারে প্রায় ২০০ জন মানুষ একত্রিত হয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সম্ভাব্য যুদ্ধের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান। বিক্ষোভকারীরা 'স্কুলছাত্রীদের লাশের ওপর গণতন্ত্র গড়া যায় না' এবং 'পাইলটরা, বোমা ফেলা বন্ধ করো'—এরকম হূদয়স্পর্শী ও যুদ্ধবিরোধী স্লোগানে মুখরিত করে তোলেন রাজপথ। আরব-ইসরায়েলি সাংবাদিক ইয়ানাল জাবারিনের শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা যায়, সাধারণ মানুষ যুদ্ধের ভয়াবহতা নিয়ে কতটা উদ্বিগ্ন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতেও এই ধরনের একাধিক সমাবেশ আয়োজিত হয়েছিল, যা পুলিশি অ্যাকশনে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।  ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের এক সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, দেশটির ৯৩ শতাংশ ইহুদি নাগরিক যুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নিলেও, মাত্র ২৬ শতাংশ আরব-ইসরায়েলি এই সংঘাতকে সমর্থন করছেন। জনমতের এই বিশাল পার্থক্যের মাঝেই হাবিমা স্কয়ারের এই প্রতিবাদ একটি ভিন্ন বার্তা বহন করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৪, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

Top week

ফাইল ফটো।
আমেরিকা

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৮, ২০২৬ 0