আন্তর্জাতিক

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপ, যে বার্তা দিল চীন

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: মার্চ ২৪, ২০২৬ ০:২০
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তজনা প্রশমনে আবারও কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়েছে চীন। সম্প্রতি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সাথে এক ফোনালাপে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই স্পষ্ট জানিয়েছেন, যুদ্ধের চেয়ে আলোচনা সবসময়ই উত্তম। 


বেইজিংয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ওয়াং ই সব পক্ষকে সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ে শান্তি আলোচনা শুরু করার সুযোগ লুফে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।


ফোনালাপে ওয়াং ই গুরুত্বারোপ করেন যে, সব ধরনের জটিল ইস্যু বা 'হটস্পট' বিষয়গুলো শক্তিপ্রয়োগের পরিবর্তে সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা উচিত। চীনের এমন অবস্থানের জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি জানান, তেহরান কেবল একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, বরং চলমান সংঘাতের একটি ব্যাপক ও স্থায়ী সমাপ্তি নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেই সাথে তিনি চীনের মানবিক সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানান।


উল্লেখ্য যে, ইরানের পক্ষ থেকেই এই ফোনালাপের অনুরোধ জানানো হয়েছিল। চীন ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হলেও বেইজিং ইতিমধ্যে স্পষ্ট করেছে যে, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে তারা তেহরানের সাথে একমত নয়। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনতে বেইজিং এখন নিরবচ্ছিন্নভাবে যুদ্ধবিরতির ওপর জোর দিচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

আন্তর্জাতিক

View more
ছবিঃ ডেইলি মেইল
শিক্ষার্থীদের ঋণের সুদ কমালে ভাতার টাকা কোথায় পাবো? প্রশ্ন ব্রিটিশ মন্ত্রীর

যুক্তরাজ্যের এক শীর্ষ মন্ত্রী শিক্ষার্থীদের ঋণের সুদের হারের বিষয়ে একটি অভাবনীয় যুক্তি দাঁড় করিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, স্নাতকদের ঋণের চাপ কমানোর বদলে সরকারের জনকল্যাণমূলক ভাতা (বেনেফিট) পরিশোধের জন্য সরকারি তহবিলের অর্থ বেশি প্রয়োজন। যুক্তরাজ্যের ট্রেজারি চিফ সেক্রেটারি লুসি রিগবি সম্প্রতি তরুণদের 'প্ল্যান বি' লোনের ওপর নির্ধারিত ৬ শতাংশ সুদের হারের পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন। তিনি জানান, দুই-সন্তান নীতির ভাতা সীমা বাতিলের মতো খাতে অর্থায়নের জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   সম্প্রতি স্কিলস মিনিস্টার ব্যারনেস স্মিথের সাথে এমপিদের সামনে উপস্থিত হয়ে ট্রেজারি চিফ সেক্রেটারি গত এপ্রিলে চ্যান্সেলর র‍্যাচেল রিভসের আনা এই সুদের হারের সীমার পক্ষে অবস্থান নেন। আগের ব্যবস্থার তুলনায় বর্তমানে সুদের হার কিছুটা কম হলেও সমালোচকরা বলছেন, এটি এখনও অনেক বেশি এবং এর ফলে দরিদ্র পরিবারের চেয়ে আর্থিকভাবে সচ্ছল স্নাতকরাই বেশি লাভবান হবেন। এ বিষয়ে ট্রেজারি কমিটিকে লুসি রিগবি বলেন, "সামগ্রিকভাবে করদাতাদের প্রতি ন্যায্যতার বিষয়টি আমাদের মাথায় রাখতে হবে, কারণ দেশের বেশিরভাগ তরুণই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে যায় না।" তিনি আরও বলেন, রাজনীতি হলো মূলত অগ্রাধিকার বেছে নেওয়ার বিষয়; আর বর্তমান চ্যান্সেলর দুই-সন্তান নীতির ভাতা সীমা তুলে নেওয়া, ফ্রি ব্রেকফাস্ট ক্লাবে অর্থায়ন এবং এসইএনডি (SEND) সংস্কারের মতো বিষয়গুলোকে বেশি অগ্রাধিকার দিয়েছেন।   যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে কল্যাণ ভাতা এবং কর ব্যবস্থা নিয়ে বর্তমানে ব্যাপক অস্থিরতা চলছে। লেবার পার্টির ব্যাকবেঞ্চারদের বড় ধরনের বিদ্রোহের পর চলতি বছরের শুরুতে দুই-সন্তান সীমার ভাতা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ওয়ার্ক অ্যান্ড পেনশন সেক্রেটারি প্যাট ম্যাকফ্যাডেন সম্প্রতি অভিযোগ করেছেন যে, দলীয় এমপিরা আরও বেশি ভাতার ব্যবস্থা করতে নতুন কর আরোপের দাবি জানিয়ে তাকে রীতিমতো অতিষ্ঠ করে তুলছেন। এর পাশাপাশি, সামরিক খাতে ব্যয় বাড়াতে কল্যাণ ভাতার বাজেট কমানোর যে দাবি উঠেছিল, নতুন করে বিদ্রোহের আশঙ্কায় সরকার তা-ও প্রত্যাখ্যান করেছে। এর প্রতিবাদে কনজারভেটিভ নেতা কেমি ব্যাডেনক প্রতিরক্ষা খাতে অর্থায়নের জন্য ভাতা সংকোচনের দাবি জানিয়েছেন এবং কর বাড়ানোর সরকারি ইঙ্গিতের তীব্র নিন্দা করেছেন।   প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু করে ২০২৩ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের নেওয়া ঋণগুলো 'প্ল্যান টু' (Plan 2) লোন হিসেবে পরিচিত। এই ঋণগুলোর ওপর খুচরা মূল্য সূচকের (আরপিআই) মুদ্রাস্ফীতির সাথে আয়ের ওপর ভিত্তি করে অতিরিক্ত ৩ শতাংশ পর্যন্ত সুদ দিতে হতো। নতুন সীমার আগে সর্বোচ্চ সুদের হার ছিল ৬.২ শতাংশ। তবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট মূল্যস্ফীতির জেরে সেপ্টেম্বরে এটি ৭.১ শতাংশে পৌঁছানোর কথা থাকলেও, শেষ পর্যন্ত সরকারের হস্তক্ষেপে তা ৬ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: জুন ১০, ২০২৬ ১:২৭
ছবিঃ যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার

খোদ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর গাড়িতে মিলল চীনের গোপন ট্র্যাকিং ডিভাইস

প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান | ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের আগ্রাসন পুরো বিশ্বের জন্য হুমকি বললেন এরদোয়ান

ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপে যাওয়ার পথে ৫ মাসে সাগরে প্রাণ গেল ১৩০০ মানুষের

ছবি: সংগৃহীত
পশ্চিমবঙ্গে ১৫ বছরের শাসনে প্রথমবার নজিরবিহীন রাজনৈতিক সংকটে মমতা ব্যানার্জি

তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনকালে এই প্রথম এক অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। দলটির অন্যতম প্রধান ও বিশ্বস্ত ভোটব্যাংক হিসেবে পরিচিত মুসলিম সম্প্রদায়ের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা ও বিধায়ক হয় দল থেকে দূরত্ব বজায় রাখছেন, না হয় প্রকাশ্য বিদ্রোহ ঘোষণা করে তৃণমূল-বিরোধী শিবিরের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির দীর্ঘদিনের চেনা সমীকরণ ভেঙে ভেতরের এই নীরব অসন্তোষ এখন প্রকাশ্য রূপ নিতে শুরু করেছে।   এই সংকটের সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি এসেছে তৃণমূলের অন্যতম শীর্ষ এবং মমতার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ নেতা ফিরহাদ হাকিমকে কেন্দ্র করে। গত ৮ জুন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত ব্যানার্জির কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর সাথে প্রায় ৭০ মিনিটের একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন ফিরহাদ হাকিম। মমতা ব্যানার্জির রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত ‘৩০বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট’-এর অন্দরে যে বড় ধরনের ফাটল ধরেছে, এই দীর্ঘ বৈঠক তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। সম্প্রতি কলকাতার মেয়রের পদ থেকে ফিরহাদ হাকিমের পদত্যাগ এবং এরপর বিরোধী শিবিরের সাথে তাঁর এই গোপন বৈঠক রাজ্য রাজনীতিতে দলবদলের জল্পনাকে তীব্র করে তুলেছে। ঋতব্রত ব্যানার্জির ঘনিষ্ঠ মহল থেকে ইতোমধ্যেই দাবি করা হচ্ছে যে ফিরহাদ হাকিমের আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধী জোটে যোগ দেওয়া এখন কেবল সময়ের ব্যাপার।   ফিরহাদ হাকিম কেবল একজন সাধারণ নেতাই ছিলেন না, বরং বিগত বছরগুলোতে তৃণমূলের ভেতরে মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মুখ এবং রক্ষাকর্তা হিসেবে বিবেচিত হতেন। ফলে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে তাঁর এই পদক্ষেপ তৃণমূলের জন্য বড় ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ধাক্কা। তবে ববি হাকিম একাই নন; তাঁর পাশাপাশি মুর্শিদাবাদ, মালদহ এবং বীরভূমের মতো মুসলিম-অধ্যুষিত অঞ্চলের একঝাঁক প্রভাবশালী নেতা ও বিধায়ক মমতার পাশ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন হরিহরপাড়ার নিয়ামত শেখ, সমসেরগঞ্জের মোহাম্মদ নূর আলম, সুজাপুরের সাবেক মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন, রঘুনাথগঞ্জের আখরুজ্জামান, মোথাবাড়ির গুলশান মালিক এবং কলকাতার কাসবার বিধায়ক জাভেদ খান। এমনকি লোকসভার বিদ্রোহীদের মধ্যেও জঙ্গিপুরের খলিলুর রহমান, গয়েশপুরের ইউসুফ পাঠান, মুর্শিদাবাদের আবু তাহের ও ফুলবাড়িয়ার সাজেদা আহমেদের মতো প্রথম সারির মুসলিম সংসদ সদস্যদের নাম রয়েছে, যা তৃণমূলের অন্দরে মুসলিম নেতৃত্বের এক বড়সড় বিদ্রোহকে সামনে এনেছে।   পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এতদিন একটি দৃঢ় ধারণা প্রচলিত ছিল যে মুসলিম ভোটার বা নেতারা কখনোই বিজেপির দিকে যাবেন না বা মমতার বিরোধিতা করবেন না। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সেই মানসিক বাধা ভেঙে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। দশকের পর দশক ধরে রাজ্যের মুসলিম জনগোষ্ঠীর কাছে বিজেপি রাজনৈতিকভাবে ‘অস্পৃশ্য’ থাকলেও, এখন খোদ মুসলিম নেতারাই এনডিএ বা বিজেপি-সমর্থিত political মঞ্চের সাথে যোগাযোগের পথ উন্মুক্ত করছেন। এর ফলে প্রশ্ন উঠছে, বিজেপির প্রতি মুসলিম সম্প্রদায়ের দৃষ্টিভঙ্গি কি আসলেই পাল্টাচ্ছে? ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে যেখানে বিজেপি কোনো মুসলিম প্রার্থী দেয়নি এবং উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যেও এই কৌশল নিয়েছিল, সেখানে সংখ্যালঘু নেতাদের এই অবস্থান বিজেপির ভবিষ্যৎ কৌশলেও বদল আনতে পারে।   তৃণমূলের অভ্যন্তরে এই বিদ্রোহের পেছনে কেবল ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং রাজ্যের সংখ্যালঘু উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান এবং কমিশনগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশের মধ্যে জমতে থাকা দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও হতাশা কাজ করছে। সঠিক প্রতিনিধিত্ব, সুশাসন এবং উন্নয়নের সুষম বণ্টন না পাওয়ার কারণে তৃণমূলের প্রতি এই ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ফলে মমতার পাশ থেকে মুসলিম নেতাদের এই সরে যাওয়াকে আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে যে সংখ্যালঘু ভোটব্যাংক তৃণমূলের ক্ষমতার মূল ভিত্তি ছিল, এটি কি সাময়িক কোনো অসন্তোষ নাকি পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী মেরুকরণের সূচনা, তা এখন কোটি টাকার প্রশ্ন।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ১০, ২০২৬ ০:৩
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ওয়ার্ক পারমিটে বড় সংস্কার আনল আমিরাত সরকার

ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন রিপার ড্রোন ভূপাতিত করে যুদ্ধের ৭০ শতাংশ লক্ষ্য অর্জনের দাবি ইরানের

ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমারে মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তা খুন, থাই নারী আটক

আফগানিস্তানে পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে বিক্ষোভ!
আফগানিস্তানে পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে বিক্ষোভ, তালেবানের গুলিবর্ষণ

আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাত প্রদেশে নারীদের কঠোর পোশাকবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে সাম্প্রতিক ধরপাকড়ের প্রতিবাদে আয়োজিত এক বিরল বিক্ষোভে সরাসরি গুলি চালিয়েছে তালেবান বাহিনী। গত মঙ্গলবার সংঘটিত এই বর্বরোচিত হামলায় অন্তত এক নারী ও এক শিশু নিহত হয়েছেন বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির বরাত দিয়ে নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, প্রায় পাঁচ বছর আগে ক্ষমতা দখলের পর থেকে তালেবান যেকোনো ধরনের ভিন্নমতের ওপর কঠোর দমন-পীড়ন চালিয়ে আসছে, তবে এদিন মৃত্যুভয় উপেক্ষা করেই অধিকার আদায়ের দাবিতে রাজপথে নেমেছিলেন সাধারণ নারী-পুরুষ।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, তালেবান নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ওপর লাঠিচার্জ করছে এবং সরাসরি গুলি ছুড়ছে। এর জবাবে বিক্ষোভকারীরাও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন এবং কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাধীনতার দাবিতে স্লোগান দেন। হেরাতের একটি স্থানীয় হাসপাতালের এক চিকিৎসক তালেবানের রোষানলে পড়ার ভয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় অন্তত তিনজনকে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবং চিকিৎসকদের তথ্যমতে, এই ভয়াবহ সংঘর্ষে এক ডজনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।   এই বিক্ষোভের মূল কারণ ছিল মূলত তালেবানের 'নীতি পুলিশ' বা মোরালিটি পুলিশ কর্তৃক সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হেরাতের প্রায় ৩০ জন নারী ও বালিকাকে আটক করা। নারীদের চুল ও মুখ ঢেকে রাখার কঠোর নিয়ম অমান্য করার অভিযোগে তাদের আটক করা হয় বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। আফগানিস্তানে নিযুক্ত জাতিসংঘের বিশেষ দূত রিচার্ড বেনেট এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর এই মাত্রার বলপ্রয়োগ অত্যন্ত আশঙ্কাজনক এবং এই সহিংসতার জন্য দায়ীদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। এছাড়া, জাতিসংঘের ভারপ্রাপ্ত মিশন প্রধান জর্জেট গ্যাগনন অভিযোগ করেছেন যে, তালেবান প্রশাসন নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও জনসমক্ষে চলাচলের মতো মৌলিক অধিকারগুলো কেড়ে নিয়েছে; এমনকি নারীদের কণ্ঠস্বর ও মুখমণ্ডল দেখানোকেও অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।   তবে তালেবান প্রশাসন সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালানোর বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। হেরাত প্রদেশের পুলিশের মুখপাত্র সৈয়দ মাসুদ হুসাইনি দাবি করেছেন, নিরাপত্তা বাহিনী কেবল জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের আইনি দায়িত্ব পালন করেছে এবং পুলিশের গুলিতে কোনো বেসামরিক নাগরিক আহত হননি। তার মতে, হিজাব পালনের মতো ধর্মীয় বাধ্যবাধকতার বিরোধিতা করে কিছু মানুষ উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করছিল। অন্যদিকে, হেরাতের নীতি পুলিশের প্রধান শেখ আজিজুর রহমান সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো এক অডিও বার্তায় নারীদের আটকের বিষয়টি অস্বীকার করে দাবি করেন, ওই প্রদেশের সব নারীই তালেবানের পোশাকবিধি সঠিকভাবে মেনে চলছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৯, ২০২৬ ২০:৫৬
ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত ইসরায়েলি সেনা ভারতে নিশ্চিন্তে ছুটি কাটাচ্ছেন, গ্রেপ্তারের দাবি মানবাধিকার সংস্থার

ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টারে হামলার জবাবে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা আঘাত

ছবিঃ মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে ৭০ বিলিয়ন ডলারের অভিবাসন ও সীমান্ত নিরাপত্তা বিল পাস

0 Comments