ইরানে প্রবেশের চেষ্টা করলে মার্কিন সেনাদের উপসাগরের হাঙরের খাবারে পরিণত হতে হবে—এমন কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইব্রাহিম জোলফাগারি, খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র। রোববার (২৯ মার্চ) তিনি এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জেনেশুনেই মার্কিন সৈন্যদের চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিচ্ছেন। জোলফাগারি ট্রাম্পকে ‘অস্থির ও মিথ্যাবাদী নেতা’ আখ্যা দিয়ে বলেন, তিনি বিশ্বজুড়ে ক্ষতি ডেকে এনেছেন এবং বর্তমানে নেতানিয়াহুর হাতের ‘পুতুলে’ পরিণত হয়েছেন। তিনি একই সঙ্গে মার্কিন সামরিক কমান্ডের প্রতি আহ্বান জানান, প্রেসিডেন্টকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে যেন সাধারণ সৈনিকদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে না ফেলা হয়। অন্যদিকে, ইরানের নৌবাহিনী প্রধান শাহরাম ইরানি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের রণতরী ‘আব্রাহাম লিংকন’ যদি তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় আসে, তবে সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। পারস্য উপসাগর ও কৌশলগত হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে, এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সীমিত স্থল অভিযানের খবর পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। যদিও ওয়াশিংটন এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি, তেহরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে আলোচনার কথা বললেও অন্যদিকে গোপনে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই দ্বিমুখী অবস্থানের কারণে পুরো অঞ্চলে সরাসরি সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে। সূত্র: রিপাবলিক ওয়ার্ল্ড
হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি ওমান উপসাগরও এখন ইরানের সামরিক বাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। রোববার (২৯ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে নৌবাহিনীর একজন কমান্ডারের বরাত দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে। ওই অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি জানান, বর্তমানে ওমান উপসাগরীয় এলাকা ইসলামি প্রজাতন্ত্রের নিশ্ছিদ্র নজরদারি ও কর্তৃত্বের অধীনে রয়েছে। ইরানি কমান্ডারের দাবি অনুযায়ী, ইরানের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র তৎপরতা ও কঠোর সামরিক অবস্থানের মুখে টিকতে না পেরে মার্কিন রণতরী 'ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন' ইরানি জলসীমা থেকে শত শত মাইল দূরে পিছিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ইরানি সেনারা এখন শুধু মার্কিন সৈন্যদের তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের নাগালে আসার অপেক্ষা করছে। নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে প্রবেশ করা মাত্রই উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার মাধ্যমে তাদের ওপর ভয়াবহ হামলা চালানো হবে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ওমান উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির পূর্ব অংশে ইরানের এই একচ্ছত্র আধিপত্য ঘোষণার ফলে ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির ওপর বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হলো। ইরানের এই কঠোর অবস্থান এবং মার্কিন রণতরীর পিছু হটার খবর পুরো মধ্যপ্রাচ্যের রণকৌশলে নতুন মোড় নিতে পারে। তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তাদের জলসীমায় যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশের দাঁতভাঙা জবাব দিতে তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি
ইরান ও মার্কিন-ইসরাইল সংঘাতের ৩০তম দিনে এসে তেহরানের পক্ষ থেকে নজিরবিহীন এক কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। ইরানের ‘খাতাম আল-আনবিয়া’ সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি আজ রোববার (২৯ মার্চ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, মার্কিন সেনারা যদি ইরানি ভূখণ্ডে প্রবেশের দুঃসাহস দেখায়, তবে তাদের 'পারস্য উপসাগরের হাঙরের খাবারে' পরিণত হতে হবে। বিবৃতিতে জোলফাগারি অভিযোগ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জেনেশুনেই মার্কিন সৈন্যদের চরম বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছেন। তিনি ট্রাম্পকে একজন 'অস্থির ও মিথ্যাবাদী' নেতা হিসেবে আখ্যায়িত করে দাবি করেন যে, ট্রাম্প বর্তমানে নেতানিয়াহুর হাতের 'পুতুলে' পরিণত হয়েছেন। মার্কিন সামরিক কমান্ডের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কেবল প্রেসিডেন্টকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে যেন সাধারণ সৈনিকদের মৃত্যু বা বন্দিত্বের মুখে ঠেলে দেওয়া না হয়। একই সময়ে ইরানের নৌবাহিনী প্রধান শাহরাম ইরানি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, মার্কিন রণতরী 'আব্রাহাম লিঙ্কন' যদি তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের নাগালে আসে, তবে সেটিকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হবে। ওয়াশিংটন মুখে আলোচনার কথা বললেও গোপনে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে দাবি তেহরানের। পারস্য উপসাগর ও কৌশলগত হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনা পুরো অঞ্চলে এক সরাসরি ও ভয়াবহ সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করেছে। সূত্র: ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও আল জাজিরা
মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান। তেহরানের দাবি, তাদের ক্রমাগত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে আরব সাগর থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের গর্ব হিসেবে পরিচিত বিমানবাহী রণতরী 'ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন'। রোববার (২৯ মার্চ) ইরানি সামরিক সূত্রের বরাতে জানানো হয়, ইরানি সেনাদের আক্রমণের মুখে টিকতে না পেরে রণতরীটি বর্তমানে ইরানের জলসীমা থেকে শত শত মাইল দূরে অবস্থান করছে। ইরানের নৌবাহিনীর প্রধান শাহরাম ইরানি আজ রোববার এক হুঁশিয়ারিতে জানিয়েছেন, 'ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন' ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ যদি তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লার (ফায়ারিং রেঞ্জ) মধ্যে আসে, তবে সেটিকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হবে। তিনি আরও জানান, এই পদক্ষেপ হবে গত ৪ মার্চ লঙ্কান উপকূলে মার্কিন হামলায় ডুবে যাওয়া ইরানি ফ্রিগেট ‘আইআরআইএস ডেনা’র শহীদ নাবিকদের রক্তের প্রতিশোধ। উল্লেখ্য, সেই হামলায় ইরানের অন্তত ৮০ জন নাবিক প্রাণ হারিয়েছিলেন। ইরানি নৌ-কমান্ডারদের মতে, তারা বর্তমানে মার্কিন বাহিনীকে তাদের উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার নাগালে আসার জন্য অপেক্ষা করছেন। সমুদ্রের দানব খ্যাত এই মার্কিন যুদ্ধজাহাজটি আরব সাগরে মোতায়েন করে ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালানো হচ্ছিল। তবে ইরানের দাবি অনুযায়ী, তেহরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সামনে টিকতে না পেরে মার্কিন বাহিনী কৌশলগতভাবে পিছু হটেছে। এই ঘটনার ফলে হরমুজ প্রণালিসহ ওই অঞ্চলে ইরানের সামরিক আধিপত্য আরও জোরালো হলো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সূত্র: মিডল ইস্ট আই
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চলমান সংঘাত বন্ধে একটি সমঝোতার সুযোগ এখনো রয়েছে। তবে তা নির্ভর করছে ইরানের সিদ্ধান্তের ওপর। তিনি ইরানকে ‘দক্ষ আলোচক, কিন্তু দুর্বল যোদ্ধা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। বৃহস্পতিবার দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানের সামরিক সক্ষমতা অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। তাঁর ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক হামলায় ইরানের সামরিক কাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মজুত ধ্বংস করছে এবং তাদের প্রতিরক্ষা শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। পাশাপাশি ইরানের নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীকেও কার্যত অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার বড় অংশ ধ্বংস করা হয়েছে এবং যুদ্ধের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাশার চেয়েও এগিয়ে রয়েছে। ট্রাম্পের মতে, যেখানে ধারণা করা হয়েছিল ইরান কয়েক সপ্তাহ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে, সেখানে বাস্তবে তারা দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়েছে। তবে এই পরিস্থিতির মধ্যেও কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ইরানের সামনে এখনো একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সুযোগ রয়েছে, তবে সেই সিদ্ধান্ত তাদেরই নিতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ট্রাম্পের এ বক্তব্য নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। সূত্র: আল–জাজিরা
ভারত মহাসাগরের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়া লক্ষ্য করে মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। এতে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে এবং দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্রের একটি মাঝপথেই ভেঙে পড়ে এবং অন্যটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভূপাতিত করা হয়। দিয়েগো গার্সিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের একটি যৌথ সামরিক ঘাঁটি, যা যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রণাধীন। ইরান থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার। অথচ এত দিন ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের সর্বোচ্চ পাল্লা ২ হাজার কিলোমিটার বলে দাবি করে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলার চেষ্টা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরানের ঘোষিত সীমার বাইরে আরও উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা থাকতে পারে। এটি মধ্যপ্রাচ্য থেকে শুরু করে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত যুদ্ধের পরিসর বিস্তারের বার্তাও বহন করছে।ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ এজেন্সি বলেছে, এই হামলা ইরানের কৌশলগত শক্তি প্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সামরিক পরিকল্পনাকে জটিল করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চল ও ইসরায়েলকে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুনর্মূল্যায়নে বাধ্য করতে পারে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র এ হামলা প্রতিহত করতে এসএম-৩ ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও এর কার্যকারিতা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকদের ভাষ্য, এই হামলার সামরিক ফলাফল যতটা না গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হলো রাজনৈতিক বার্তা—ইরান দেখাতে চেয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের দূরবর্তী ঘাঁটিগুলোও তাদের নাগালের বাইরে নয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই ঘটনার মাধ্যমে যুদ্ধের ভৌগোলিক বিস্তৃতি আরও বেড়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যে ভারত মহাসাগরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি উঠেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম The Wall Street Journal–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান Diego Garcia দ্বীপে অবস্থিত যৌথ সামরিক ঘাঁটিতে অন্তত দুটি মধ্যমপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর একটি মাঝপথেই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। অন্যটি যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ থেকে ছোড়া ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে আকাশেই ধ্বংস করা হয়। ভারত মহাসাগরের বিষুবরেখার দক্ষিণে অবস্থিত দিয়াগো গার্সিয়া দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি। দূরবর্তী অঞ্চলে সামরিক অভিযান পরিচালনা এবং ভারী বোমারু বিমান মোতায়েনের ক্ষেত্রে এটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। বার্তা সংস্থা Reuters জানায়, এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলেও হোয়াইট হাউস, ওয়াশিংটনে অবস্থিত ব্রিটিশ দূতাবাস এবং যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। একই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে CNN–ও জানিয়েছে, একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে এই হামলার খবর পাওয়া গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান থেকে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করার সক্ষমতা দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির নতুন মাত্রা নির্দেশ করে। যদিও এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দাবি করেছিলেন, তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ইচ্ছাকৃতভাবে ২ হাজার কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা, দ্য গার্ডিয়ান
যুক্তরাষ্ট্রের দুটি যুদ্ধবিমানকে নিজেদের ভূখণ্ডে অবতরণের অনুমতি দেয়নি শ্রীলঙ্কা। নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতির অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকে। শুক্রবার পার্লামেন্টে বক্তব্যে তিনি বলেন, চলতি মাসের ৪ থেকে ৮ মার্চের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কার দক্ষিণাঞ্চলের মত্তলা রাজাপাকসে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ দুটি যুদ্ধবিমান অবতরণের অনুমতি চেয়েছিল। বিমানগুলো জিবুতিতে অবস্থিত একটি সামরিক ঘাঁটি থেকে আসার কথা ছিল এবং সেগুলোতে জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র বহনের সক্ষমতা ছিল। প্রেসিডেন্ট জানান, দেশের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার স্বার্থেই এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। এ সময় তাঁর বক্তব্যে সংসদ সদস্যরা করতালি দেন। একই সময়ে ইরানও ৯ থেকে ১৩ মার্চের মধ্যে তাদের তিনটি যুদ্ধজাহাজ শ্রীলঙ্কায় ভেড়ানোর অনুমতি চেয়েছিল। ভারতের আয়োজিত একটি নৌমহড়ায় অংশ নেওয়ার পর জাহাজগুলো শ্রীলঙ্কায় আসতে চেয়েছিল। তবে সেই অনুরোধও নাকচ করে দেয় কলম্বো। প্রেসিডেন্ট দিশানায়েকে বলেন, “আমরা যদি একটি পক্ষকে অনুমতি দিতাম, তবে অন্য পক্ষকেও একই সুযোগ দিতে হতো”—এই যুক্তিতেই উভয় অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরান-এর মধ্যে চলমান সংঘাত আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে জ্বালানি সরবরাহসহ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। যুদ্ধ শুরুর পর শ্রীলঙ্কার জলসীমার কাছাকাছি একটি ইরানি সামরিক জাহাজে হামলার ঘটনাও ঘটে। এতে হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী কয়েকজন ক্রুকে উদ্ধার করেছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গর শ্রীলঙ্কা সফর করছেন। তিনি সম্প্রতি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ২০২২ সালের অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠার পথে থাকা শ্রীলঙ্কা নতুন করে বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাবের মুখে পড়েছে। দেশটির জন্য যুক্তরাষ্ট্র অন্যতম বড় রপ্তানি বাজার, অন্যদিকে ইরান শ্রীলঙ্কার চায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রেতা।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর দেশজুড়ে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। এ ঘটনার জবাবে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বিধ্বংসী সামরিক অভিযানের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক একটি সংবাদমাধ্যম রোববার (১ মার্চ) সকালে এ তথ্য জানিয়েছে। শনিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পরই পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান। এবার আরও বড় পরিসরে হামলার প্রস্তুতির ঘোষণা দিল আইআরজিসি। ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, আইআরজিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, “ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ইতিহাসে সবচেয়ে বিধ্বংসী সামরিক অভিযান শুরু হতে যাচ্ছে।” বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অল্প সময়ের মধ্যেই এ অভিযান শুরু হবে এবং তা অঞ্চলজুড়ে অধিকৃত ভূখণ্ড ও মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে পরিচালিত হবে। রোববার সকালে তাসনিম ও ফার্স সংবাদ সংস্থা আলি খামেনির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। ফার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার ভোরে তেহরানে নিজ কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় তাকে হত্যা করা হয়। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, রাজধানী তেহরানে খামেনির কার্যালয় লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত স্যাটেলাইট ছবিতে ভবনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা গেছে, যা বড় ধরনের বিস্ফোরণের ইঙ্গিত দেয়। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরানে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার শাসনব্যবস্থা চালু হয়। রেজা শাহ পাহলভীর রাজতন্ত্র উৎখাতের মাধ্যমে দেশটিতে ধর্মীয় প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে দেশটি দুজন সর্বোচ্চ নেতা পেয়েছে, যাঁরা ‘আয়াতুল্লাহ’ উপাধি ধারণ করেন। সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আলি খামেনি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ ছিলেন। সাম্প্রতিক হামলা ও পাল্টা হুঁশিয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও আঞ্চলিক প্রভাব খর্ব করতে একটি নতুন ও আক্রমণাত্মক সামরিক রণকৌশল গ্রহণের পথে এগোচ্ছেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট নিউজ-এর এক বিশেষ বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে, ওয়াশিংটন এখন আর সীমিত বা স্বল্পমেয়াদী হামলার পরিকল্পনায় আটকে নেই; বরং কয়েক সপ্তাহব্যাপী একটি দীর্ঘমেয়াদী ‘ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধ’ বা ‘অ্যাট্রিশন ক্যাম্পেইন’-এর প্রস্তুতি চলছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেন্টাগনের আগের পরিকল্পনায় ছিল ইরানের নির্দিষ্ট কিছু সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনায় এক বা দুই দিনের ঝটিকা হামলা চালানো। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক পরিকল্পনাকারীরা মনে করছেন, স্বল্পমেয়াদী অভিযানে ইরানের মূল শক্তি কাঠামো ভাঙা সম্ভব নয়। সে কারণে এখন ধারাবাহিক ও দীর্ঘস্থায়ী সামরিক অভিযানের ছক আঁকা হচ্ছে, যার উদ্দেশ্য হবে ইরানের শাসনব্যবস্থাকে কৌশলগতভাবে দুর্বল করা এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করা। এই কঠোর অবস্থানের অন্যতম বড় ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে ভূ-মধ্যসাগরে বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড’-এর মোতায়েন। এই রণতরী থেকে দৈনিক ১৫০টিরও বেশি বিমান হামলা চালানো সম্ভব। পাশাপাশি রয়েছে স্টিলথ ফাইটার এফ-৩৫ এবং টমাহক ক্রুজ মিসাইল সজ্জিত একাধিক ডেস্ট্রয়ার ও সাবমেরিন। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, এই বিশাল সামরিক সমাবেশ কেবল সতর্কবার্তা নয়, বরং একটি দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের পূর্ণ প্রস্তুতির অংশ। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য অভিযানের চারটি প্রধান লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোর ও বাসিজ মিলিশিয়াদের সক্ষমতা কমিয়ে শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করা, ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে হামলার মাধ্যমে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম কয়েক বছর পিছিয়ে দেওয়া, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানা ও মজুদ ধ্বংস করা এবং সামরিক চাপের মাধ্যমে কঠোর আন্তর্জাতিক পরিদর্শন মেনে নিতে ইরানকে বাধ্য করা। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযানটি কয়েক ধাপে পরিচালিত হতে পারে। শুরুতে টমাহক মিসাইল দিয়ে ইরানের রাডার ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অকার্যকর করা হবে, এরপর চলবে ধারাবাহিক বিমান হামলা। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালাতে পারে, যার জন্য অঞ্চলজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে। এদিকে কাতার, তুরস্ক ও মিশরের মতো দেশগুলো সম্ভাব্য এই সংঘাত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় তারা যুক্তরাষ্ট্রকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। তবে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন এবার আলোচনার টেবিলে সীমাবদ্ধ থাকতে রাজি নয়; বরং সামরিক শক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণ বদলে দিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।