যুক্তরাষ্ট্রে অস্ত্রোপচারে হার্টের ভালভ উল্টো বসানোর অভিযোগ, হাসপাতাল ও সার্জনের বিরুদ্ধে ২০৭ কোটি টাকার মামলা
যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য ওরেগনের একটি হাসপাতাল ও এক হৃদরোগ সার্জনের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৭০ লাখ ডলার (প্রায় ২০৭ কোটি টাকা) ক্ষতিপূরণের মামলা করেছেন এক কিশোরীর বাবা-মা।
তাদের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকের ভুলে ১৩ বছর বয়সী মেয়ের হৃদযন্ত্রের নতুন ভালভ উল্টোভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল। পরে অন্য একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা সেই ভুল শনাক্ত করে নতুন করে অস্ত্রোপচার করেন এবং মেয়েটির জীবন রক্ষা পায়।
মামলাটি করেছেন কিশোরীর বাবা-মা স্টিভেন স্টোকস ও লরি স্টোকস। তারা ওরেগন হেলথ অ্যান্ড সায়েন্স ইউনিভার্সিটি (ওএইচএসইউ) এবং হৃদরোগ সার্জন ডা. আশোক মুরালিধারনের বিরুদ্ধে চিকিৎসাগত অবহেলার অভিযোগ এনেছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৫ আগস্ট ওএইচএসইউ হাসপাতালে কিশোরীর উন্মুক্ত হৃদযন্ত্রের অস্ত্রোপচার করা হয়। জন্মগত ত্রুটিযুক্ত হৃদযন্ত্রের ভালভ প্রতিস্থাপনের জন্য এই অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। অপারেশনের সময় চিকিৎসকদের হৃদযন্ত্র সাময়িকভাবে বন্ধ করে হার্ট-লাং বাইপাস মেশিনের সহায়তা নিতে হয়।
তবে অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকেরা কিশোরীর হৃদযন্ত্র স্বাভাবিকভাবে চালু করতে পারেননি। তাকে তাৎক্ষণিকভাবে এক্সট্রাকরপোরিয়াল মেমব্রেন অক্সিজেনেশন (ইসিএমও) সহায়তায় রাখা হয়, যা কৃত্রিমভাবে রক্ত সঞ্চালন ও অক্সিজেন সরবরাহের কাজ করে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকেরা পরিবারকে জানিয়েছিলেন অপারেশন “খুব ভালোভাবে” সম্পন্ন হয়েছে এবং হৃদযন্ত্রের সমস্যাটি অস্ত্রোপচারজনিত ধাক্কার কারণে হয়েছে। কিন্তু দিন পেরিয়ে গেলেও অবস্থার উন্নতি হয়নি।
পরবর্তী কয়েক দিনে একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অনুসন্ধানমূলক অস্ত্রোপচার করা হলেও চিকিৎসকেরা সমস্যার কারণ খুঁজে পাননি। কিশোরীকে তিন দিন ধরে বুকের অস্ত্রোপচারের স্থান খোলা রেখেই নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয় এবং ইসিএমওর মাধ্যমে জীবিত রাখা হয়।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, পরে চিকিৎসকেরা পরিবারকে জানান, মেয়েটির বেঁচে থাকার জন্য স্থায়ী কৃত্রিম হৃদযন্ত্র বা হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু সে ধরনের চিকিৎসা তাদের হাসপাতালে সম্ভব নয়। এমনকি পরিবারকে বলা হয়, মেয়েটি অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে এবং অন্য হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হতে পারে।
তবুও বাবা-মা হাল ছাড়েননি। তারা কিশোরীকে ওয়াশিংটনের সিয়াটল চিলড্রেনস হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
সেখানে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকেরা নতুন করে পরীক্ষা করে দেখতে পান, ওএইচএসইউতে প্রতিস্থাপন করা কৃত্রিম হৃদযন্ত্রের ভালভটি উল্টোভাবে বসানো হয়েছে। ফলে ভালভটি সঠিকভাবে কাজ করতে পারছিল না এবং হৃদযন্ত্র স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহ বজায় রাখতে ব্যর্থ হচ্ছিল।
পরবর্তীতে চিকিৎসকেরা ভুলভাবে বসানো ভালভটি অপসারণ করে সঠিকভাবে নতুন ভালভ প্রতিস্থাপন করেন। মামলার নথি অনুযায়ী, নতুন ভালভ বসানোর পরপরই কিশোরীর হৃদযন্ত্র স্বাভাবিকভাবে কাজ শুরু করে। তাকে হার্ট-লাং বাইপাস মেশিন থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং আর ইসিএমও সহায়তার প্রয়োজন হয়নি।
কয়েক দিনের মধ্যে তার অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়। প্রায় এক মাস পর তাকে হাসপাতাল থেকে বাড়ি পাঠানো হয়।
মামলায় বলা হয়েছে, ওএইচএসইউতে ছয় দিনের চিকিৎসার বিল ছিল ১০ লাখ ডলারেরও বেশি। অন্যদিকে সিয়াটল চিলড্রেনস হাসপাতালে সংশোধনমূলক অস্ত্রোপচার ও ৩৫ দিনের চিকিৎসা বাবদ ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার। পরবর্তী চিকিৎসা ব্যয় এতে অন্তর্ভুক্ত নয়।
পরিবারটি মোট ১ কোটি ৭০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে। এর মধ্যে প্রায় ৫০ লাখ ডলার চিকিৎসাগত অবহেলার ক্ষতিপূরণ এবং ৩০ লাখ ডলার আর্থিক ক্ষতির জন্য দাবি করা হয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ চলতি সপ্তাহে সুদের হার নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। বাজারে এবার তিন বছরের মধ্যে প্রথমবার সুদের হার বাড়ানোর প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এমন সিদ্ধান্ত হলে ইতোমধ্যে উচ্চ মর্টগেজ রেটের চাপে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের হাউজিং মার্কেটে আরও চাপ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন রিয়েল এস্টেট সংশ্লিষ্টরা। ফেডের ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটি ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর দুই দিনের বৈঠকে বসেছে। ১৬ সেপ্টেম্বর সিদ্ধান্ত ঘোষণা ও ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশের সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে। জুলাইয়ের বৈঠকে ফেড ফেডারেল ফান্ডস রেট ৩ দশমিক ৫০ থেকে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশের মধ্যে অপরিবর্তিত রেখেছিল। সেপ্টেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনার পেছনে মূল্যস্ফীতি ও শ্রমবাজারের পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স বা CPI মাসিক হিসাবে ০ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। গত ১২ মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। খাদ্য ও জ্বালানি বাদ দিলে মূল মূল্যস্ফীতি ছিল ২ দশমিক ৪ শতাংশ। এদিকে মর্টগেজ রেটও ইতোমধ্যে বাড়ছে। ফ্রেডি ম্যাকের হিসাবে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩০ বছরের ফিক্সড মর্টগেজের গড় হার দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ। ১৫ বছরের ফিক্সড মর্টগেজের গড় হারও বেড়ে হয়েছে ৬ দশমিক ০৯ শতাংশ। রিয়েলটর ডটকমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যমান বাড়ি বিক্রির বার্ষিকীকৃত হার ১৪ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে এবং প্রথমবারের মতো ৪০ লাখের নিচে চলে গেছে। একই সময়ে পেন্ডিং হোম সেলসও কমেছে, ফলে আট মাসের ধারাবাহিক বৃদ্ধির অবসান হয়েছে। তবে ফেডের সুদের হার সরাসরি মর্টগেজ রেট নির্ধারণ করে না। ফেড মূলত ব্যাংকগুলোর মধ্যে স্বল্পমেয়াদি ঋণের সুদের হার নিয়ন্ত্রণ করে। অন্যদিকে মর্টগেজ রেট বন্ড মার্কেটসহ বিভিন্ন বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। তাই ফেড সুদের হার বাড়ালেই মর্টগেজ রেট একই হারে বাড়বে, এমন নিশ্চয়তা নেই। রিয়েলটর ডটকমের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড্যানিয়েল হেল মনে করেন, সেপ্টেম্বরে ফেড সুদের হার বাড়াক বা না বাড়াক, মর্টগেজ রেটের ওপর চাপ ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে। উচ্চ সুদের পরিবেশে ক্রেতা ও বিক্রেতারা তুলনামূলক সতর্ক হয়ে উঠছেন। রিয়েল এস্টেট এজেন্টদের মতে, সুদের হার দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়তে পারে ফার্স্ট টাইম হোমবায়ার ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের ওপর। অন্যদিকে উচ্চমূল্যের বাড়ির ক্রেতা এবং পর্যাপ্ত নগদ অর্থ থাকা সেকেন্ড হোমের ক্রেতাদের ওপর এর প্রভাব তুলনামূলক কম হতে পারে। উচ্চ মর্টগেজ রেট দীর্ঘস্থায়ী হলে বাড়ি বিক্রেতাদেরও দাম, মেরামতের খরচ এবং ক্লোজিংয়ের সময় বিভিন্ন কনসেশন নিয়ে ক্রেতাদের সঙ্গে বেশি সমঝোতা করতে হতে পারে বলে রিয়েলটর ডটকমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বাজার ধসে পড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে, এমনটা মনে করছেন না অনেক রিয়েল এস্টেট পেশাজীবী। ফলে ফেডের এবারের সিদ্ধান্ত শুধু সুদের হার নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বাড়ি কেনাবেচা, মর্টগেজ খরচ এবং নতুন বাড়ি কেনার সামর্থ্যের ওপরও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যারা বর্তমানে বাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য আগামী কয়েক দিনের সুদের হার ও মর্টগেজ মার্কেটের পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পেনসিলভানিয়ায় দুই গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে বাংলাদেশি আবুল কালাম নিহত
পেনসিলভানিয়ায় দুই গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে বাংলাদেশি আবুল কালাম নিহত
নারীকে বাঁচাতে গিয়ে নিজের মুখ হারান প্যাট্রিক, ১৪ বছর পর পেলেন নতুন চেহারা
করোনাকালীন সরকারি ঋণ কর্মসূচিতে জালিয়াতির সন্দেহে প্রায় ৮ লাখ ৭০ হাজার ঋণগ্রহীতাকে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ছোট ব্যবসা ও দুর্যোগকালীন ঋণ থেকে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। সোমবার মিসৌরির কানসাস সিটিতে এ ঘোষণা দেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ভ্যান্স বলেন, করদাতাদের অর্থ নিয়ে যারা প্রতারণা করেছে, তাদের আর সরকারি অর্থায়ন পাওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়। তিনি জানান, সন্দেহভাজন এসব ঋণগ্রহীতাকে ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তা-সমর্থিত ঋণ কর্মসূচিতে আবেদন করা থেকে বিরত রাখা হবে। মার্কিন ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রশাসন বা এসবিএর প্রশাসক কেলি লফলার জানান, নতুন করে স্থগিত করা প্রায় ৮ লাখ ৭০ হাজার ঋণগ্রহীতার সঙ্গে আনুমানিক ৩৯ বিলিয়ন ডলার বা ৩ হাজার ৯০০ কোটি ডলারের সন্দেহভাজন জালিয়াতির যোগসূত্র রয়েছে। এই অর্থ ৪৫টি অঙ্গরাজ্য ও অঞ্চলের সরকারি তহবিলের সঙ্গে সম্পর্কিত। আগের পদক্ষেপগুলোসহ দেশজুড়ে প্রায় ৪৯ বিলিয়ন ডলারের সন্দেহভাজন জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত ঋণগ্রহীতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে এসবিএ। এসবিএ জানিয়েছে, স্থগিত করা ঋণগ্রহীতারা ভবিষ্যতে সংস্থাটির ছোট ব্যবসা ও দুর্যোগকালীন ঋণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবেন না। পাশাপাশি এসবিএর ৮(এ) ফেডারেল ঠিকাদারি কর্মসূচিসহ কিছু সরকারি সুবিধাও তাদের জন্য বন্ধ থাকবে। সন্দেহভাজন ঋণের অর্থ ফেরত দেওয়ার জন্য চিঠিও পাঠানো হচ্ছে। অর্থ পরিশোধ না করলে বিষয়টি মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের ঋণ আদায় প্রক্রিয়ায় যেতে পারে এবং প্রয়োজন হলে ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার পদক্ষেপও হতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ভ্যান্সের ঘোষণার সঙ্গে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ করোনাকালীন ঋণ জালিয়াতির বিরুদ্ধে কয়েক মাসের একটি বড় তদন্ত ও মামলা পরিচালনার ফলাফল প্রকাশ করেছে। ১২ জুন থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা এই অভিযানে ৪০টির বেশি মার্কিন অ্যাটর্নির কার্যালয় এবং ২০টির বেশি ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের তদন্তকারী সংস্থা অংশ নেয়। বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে ১৬০ জনের বেশি আসামিকে ঘিরে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৪৫ মিলিয়ন ডলার। এই অভিযানে প্রায় ৮০ জনের বিরুদ্ধে নতুন করে গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব মামলায় সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার। আরও প্রায় ৪৩ জন এসবিএ-সংশ্লিষ্ট করোনাকালীন ঋণ জালিয়াতির মামলায় দোষ স্বীকার করেছেন, যেসব মামলায় সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪৪ মিলিয়ন ডলার। প্রায় ৪০ জনের সাজাও হয়েছে, যেসব মামলায় সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার। তদন্তকারীদের নজরে এসেছে বিভিন্ন ধরনের জালিয়াতির অভিযোগ। এর মধ্যে রয়েছে অস্তিত্বহীন ব্যবসা দেখিয়ে ঋণের আবেদন, কর্মী ও বেতন সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দেওয়া, আয় ও ব্যবসার হিসাব পরিবর্তন করা এবং অন্যের পরিচয় ব্যবহার করে ঋণ নেওয়া। করোনাভাইরাস মহামারির শুরুতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে টিকিয়ে রাখতে ২০২০ সালে পেচেক প্রোটেকশন প্রোগ্রাম বা পিপিপি চালু করেছিল মার্কিন সরকার। লকডাউন ও ব্যবসায়িক বিধিনিষেধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ছোট ব্যবসাগুলোকে কর্মীদের বেতনসহ নির্দিষ্ট খরচ মেটাতে এই কর্মসূচির মাধ্যমে ঋণ দেওয়া হয়। এসব ঋণের নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে পরে তা মওকুফ করার সুযোগও ছিল। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পিপিপির আওতায় প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ ঋণ দেওয়া হয়েছিল, যার মোট মূল্য ছিল প্রায় ৮০০ বিলিয়ন ডলার। তবে কর্মসূচি দ্রুত চালু করার কারণে ঋণ অনুমোদনের আগে আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বড় ধরনের দুর্বলতা তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে সরকারি নজরদারি সংস্থাগুলো বিপুল পরিমাণ অর্থ জালিয়াতির মাধ্যমে নেওয়ার সম্ভাবনার কথা জানায়। মার্কিন সরকারের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, পিপিপি এবং করোনাকালীন আরেকটি ঋণ কর্মসূচি, অর্থনৈতিক ক্ষতি দুর্যোগ ঋণ বা ইআইডিএল থেকে বিতরণ করা ২০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থে জালিয়াতির লক্ষণ পাওয়া গেছে। তবে এই পরিমাণকে সরাসরি প্রমাণিত জালিয়াতির অর্থ হিসেবে ধরা যায় না। এটি বিভিন্ন তথ্য, অসঙ্গতি ও জালিয়াতির সম্ভাব্য সংকেতের ভিত্তিতে করা সরকারি হিসাব। করোনাকালীন ঋণ জালিয়াতির অনেক ঘটনা এত বছর পরও কেন সামনে আসছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ সিবিএস নিউজকে বলেন, আগে যেসব মামলার তদন্ত বা বিচার করার মতো পর্যাপ্ত জনবল ও অর্থ ছিল না, এখন সেসব মামলা হাতে নেওয়ার মতো সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। দেশজুড়ে প্রায় ৫০০ প্রসিকিউটর এ ধরনের জালিয়াতির বিরুদ্ধে কাজ করছেন বলেও তিনি জানান। গত মাসে বিচার বিভাগ জাতীয় জালিয়াতি শনাক্তকরণ কেন্দ্র চালু করেছে। বিভিন্ন সরকারি সংস্থার আলাদা তথ্যভান্ডার থেকে তথ্য নিয়ে সন্দেহজনক লেনদেন ও আবেদন শনাক্ত করাই এর অন্যতম লক্ষ্য। ২০২৫ সালের মার্চে প্রকাশিত মার্কিন সরকারি জবাবদিহি দপ্তরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, করোনাকালীন ঋণ জালিয়াতি নিয়ে করা প্রায় ৩০ লাখ রেফারেলের মধ্যে প্রায় ২০ লাখেই অসম্পূর্ণ, ভুল অথবা পুনরাবৃত্ত তথ্য ছিল। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই তদন্ত এগিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। নতুন অভিযানে মিসৌরির একটি মামলাও বিশেষভাবে সামনে এসেছে। সেখানে জেমি গ্রে নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রায় ৫৬ মিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য ক্ষতির সঙ্গে যুক্ত তারের মাধ্যমে প্রতারণা ও অর্থপাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, গ্রে পিপিপি ও ইআইডিএল ঋণের আবেদনে এমন কয়েক ডজন ব্যবসার মালিকানা দাবি করেছিলেন, যেগুলোর বেশির ভাগই সংশ্লিষ্ট সময়সীমার আগে বাস্তবে চালু ছিল না। ব্যবসার মালিকানা, কর্মী, আয় এবং কার্যক্রম সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। আইওয়াতেও পৃথক একটি মামলায় দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৪৭টি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের দাবি, তারা আরও শতাধিক ব্যক্তির সঙ্গে মিলে প্রায় ৪৭০টি ভুয়া পিপিপি আবেদন জমা দিয়েছিলেন। এসব আবেদনের মাধ্যমে ৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণ নেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং প্রায় ২ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলার বিতরণও করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি বর্তমানে পলাতক বলে জানিয়েছে বিচার বিভাগ। তবে আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। মহামারির সময় দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দিতে গিয়ে সরকারি ব্যবস্থায় যে দুর্বলতা তৈরি হয়েছিল, নতুন অভিযান সেই পুরোনো প্রশ্নও সামনে এনেছে। সরকারি জবাবদিহি দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পিপিপির বিস্তৃত স্বয়ংক্রিয় যাচাই ও পর্যালোচনা ব্যবস্থা ২০২১ সালের জানুয়ারিতে কার্যকর করা হয়। তখন পর্যন্ত ৫২৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি পিপিপি ঋণ অনুমোদিত হয়ে গিয়েছিল। তদন্তের সময়সীমাও বাড়ানো হয়েছে। কংগ্রেস করোনাকালীন পিপিপি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি ঋণ কর্মসূচির সম্ভাব্য জালিয়াতির তদন্ত ও মামলা করার আইনি সময়সীমা ১০ বছর পর্যন্ত বাড়িয়েছে। ফলে কিছু ক্ষেত্রে ২০৩০ বা ২০৩১ সাল পর্যন্ত নতুন মামলা সামনে আসার সুযোগ রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি অর্থের অপচয় ও জালিয়াতি বন্ধের ওপর জোর দিচ্ছে। চলতি বছর বিচার বিভাগ জাতীয় জালিয়াতি দমন বিভাগ গঠন করেছে। পাশাপাশি ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের নেতৃত্বে সরকারি অর্থের অপচয়, অপব্যবহার ও জালিয়াতি শনাক্তে একটি আন্তঃসরকারি টাস্কফোর্সও কাজ করছে। বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, করোনাকালীন সহায়তা কর্মসূচির উদ্দেশ্য ছিল সংকটে থাকা ব্যবসাগুলোকে টিকিয়ে রাখা। এখন তদন্তকারীদের লক্ষ্য হলো যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সেই অর্থের অপব্যবহার করেছে বলে সন্দেহ রয়েছে, তাদের শনাক্ত করা এবং সম্ভব হলে সরকারি অর্থ ফেরত আনা। সূত্র: সিবিএস নিউজ, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ।
মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র, প্রথমবার স্বীকার করল ওয়াশিংটন
৪ বছর বয়সে চিকিৎসকরা বলেছিলেন সে কখনো স্বাবলম্বী হবে না, আজ তিনি হতে যাচ্ছেন ডাক্তার
নিউইয়র্কে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ব্যয় সামলাতে সর্বোচ্চ ২০০ ডলার করে পাচ্ছেন বাসিন্দারা
ক্যালিফোর্নিয়ার আরভাইনে ভয়াবহ গাড়ি দুর্ঘটনায় নিহত গাড়িপ্রেমী জেমস ওয়েহর ও ফ্লোরিডার তরুণী অ্যালেক্সিস ‘লেক্সি’ ক্র্যামার দুর্ঘটনার আগে দিনটি একসঙ্গেই কাটিয়েছিলেন। পরিবার সূত্রের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় এক মাস কথা বলার পর প্রথমবারের মতো দেখা করতে ফ্লোরিডা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ায় গিয়েছিলেন ২২ বছর বয়সী ক্র্যামার। ২৭ বছর বয়সী ওয়েহর ছিলেন দক্ষিণ অরেঞ্জ কাউন্টির জনপ্রিয় গাড়ি প্রদর্শনী ‘সাউথ ওসি কারস অ্যান্ড কফি’র সহপ্রতিষ্ঠাতা। ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ১৮ মিনিটের দিকে আরভাইনের কালভার ড্রাইভ ও ডিয়ারফিল্ড অ্যাভিনিউয়ের কাছে ২০১৯ সালের একটি ম্যাকলারেন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ধাক্কা দিলে গাড়িটিতে আগুন ধরে যায়। গাড়িটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায় এবং ভেতরে থাকা দুজনই মারা যান। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, ম্যাকলারেনটি একটি লাল বাতিতে থেমে ছিল। সংকেত সবুজ হওয়ার পর গাড়িটি উত্তর দিকে দ্রুতগতিতে চলতে শুরু করে। একপর্যায়ে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি রাস্তার পাশের কার্বে ধাক্কা খেয়ে একটি গাছে গিয়ে আঘাত করে। পরে গাড়িটি দুই ভাগে ভেঙে আগুন ধরে যায়। দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি ঠিক কত গতিতে চলছিল এবং কে গাড়ি চালাচ্ছিল, তা পুলিশ এখনো জানায়নি। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছে আরভাইন পুলিশের মেজর অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন টিম। দুর্ঘটনার পর ওয়েহরের পরিবার ও তার প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়। ওয়েহর সাউথ ওসি কারস অ্যান্ড কফির সহপ্রতিষ্ঠাতা হিসেবে অরেঞ্জ কাউন্টির গাড়িপ্রেমীদের মধ্যে পরিচিত ছিলেন। সান ক্লেমেন্টেতে আয়োজিত এই সাপ্তাহিক গাড়ি প্রদর্শনীতে প্রায়ই হাজারো গাড়িপ্রেমী ও বিভিন্ন ধরনের উচ্চক্ষমতার গাড়ি অংশ নিত। এদিকে ক্র্যামারের পরিবারের এক সদস্য নিউইয়র্ক পোস্টকে জানিয়েছেন, ওয়েহর তার সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত কথা বলতেন এবং প্রথমবার দেখা করার জন্য তাকে ফ্লোরিডার লেকল্যান্ড থেকে ক্যালিফোর্নিয়ায় উড়িয়ে আনেন। শুক্রবার ক্যালিফোর্নিয়ায় পৌঁছানোর পর শনিবার দুজন পুরো দিন একসঙ্গে কাটান বলে পরিবারের সদস্যটি জানিয়েছেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়েহর ক্র্যামারকে বলেছিলেন যে তিনি তার স্ত্রী থেকে আলাদা হয়ে আছেন এবং তাদের বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে অরেঞ্জ কাউন্টির আদালতে তখনও বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন জমা পড়েনি। পরিবারের একজন সদস্য ক্র্যামারকে বিষয়টি নিয়ে সতর্কও করেছিলেন বলে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে। শনিবার সকালে ওয়েহর ও ক্র্যামার একসঙ্গে নাশতা করেন। পরে তারা নোবু রেস্তোরাঁয় রাতের খাবার খান এবং এরপর পেনড্রি হোটেলে যান। দুর্ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগে ক্র্যামার পরিবারের এক সদস্যকে নাশতার সময়ের একটি ছবি পাঠিয়ে লিখেছিলেন, ‘At cute breakfast place’ বা সুন্দর একটি নাশতার জায়গায় আছি। পরিবারের সদস্যের ভাষ্য অনুযায়ী, ছবিতে একজন পুরুষের পাশের অবয়ব দেখা যাচ্ছিল এবং তার হাতে থাকা ট্যাটুর সঙ্গে ওয়েহরের ট্যাটোর মিল ছিল। ক্র্যামার এর আগে কখনো ওয়েহরের সঙ্গে সরাসরি দেখা করেননি। ইনস্টাগ্রামের বার্তার মাধ্যমে তাদের পরিচয় এবং প্রায় এক মাস ধরে যোগাযোগের পর এই প্রথম সাক্ষাৎ হয়। ওয়েহরের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও পরিবারের পক্ষ থেকে কিছু তথ্য সামনে এসেছে। পরিবারের একজন সদস্য দাবি করেছেন, ক্র্যামার জানতেন ওয়েহর বিবাহিত, তবে ওয়েহরের দেওয়া আশ্বাসের ওপর বিশ্বাস করেছিলেন যে তার বিবাহিত সম্পর্ক কার্যত শেষ হয়ে গেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে সতর্ক করা হলেও তিনি ওয়েহরের বক্তব্যকে বিশ্বাস করতে চেয়েছিলেন বলে ওই সদস্য জানিয়েছেন। দুর্ঘটনার তদন্ত এখনো চলছে। আরভাইন পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি একক গাড়ির দুর্ঘটনা এবং এ বিষয়ে যেকোনো তথ্য থাকলে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। দুর্ঘটনার সময় গাড়িতে থাকা দুজনের পরিচয় প্রাথমিকভাবে পুলিশ প্রকাশ করেনি। পরে ওয়েহরের পরিবার ও তার গাড়ি সংগঠনের পক্ষ থেকে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। ক্র্যামারের পরিচয় তার পরিবারের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে আসার পর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমও তা জানিয়েছে। ওয়েহরের মৃত্যুতে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার গাড়িপ্রেমী মহলে শোক নেমে এসেছে। গাড়ি প্রদর্শনী আয়োজনের পাশাপাশি তিনি গাড়ি সংস্কৃতি ও উচ্চক্ষমতার গাড়িকে ঘিরে একটি বড় সম্প্রদায় গড়ে তুলেছিলেন। তার মৃত্যুর পর সহকর্মী ও পরিচিতদের অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ছাড়ার সংখ্যা বাড়ছে
অভিবাসীদের সরকারি সুবিধা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নীতির বিরুদ্ধে নিউইয়র্ক সিটির মামলা