আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক, যুদ্ধ অবসানসহ ৪ বিষয়ে বড় ঐকমত্য

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ১৫, ২০২৬ ১০:৪৪
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের সংঘাত ও সামরিক উত্তেজনার অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি প্রাথমিক দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে পৌঁছানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের উপস্থিতিতে আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে এই ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক সই হতে যাচ্ছে। চুক্তি সইয়ের পর ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি আনুষ্ঠানিকভাবে এর বিস্তারিত প্রকাশ করবেন। দুই দেশের এই সমঝোতা স্মারকে মূলত সামরিক অভিযান বন্ধ, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্তকরণ, পরমাণু কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মতো চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

 

প্রথমত, সামরিক অভিযানের সমাপ্তি ও লেবানন পরিস্থিতির বিষয়ে উভয় পক্ষই তাৎক্ষণিক এবং স্থায়ীভাবে সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, সোমবার রাত থেকেই লেবাননসহ অন্যান্য অঞ্চলে তাদের সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, চুক্তির পর লেবাননে ইসরায়েলের আর কোনো হামলা হবে না এবং ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহও ইসরায়েলে পাল্টা কোনো হামলা চালাবে না। তবে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ স্পষ্ট করেছেন যে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী লেবানন, সিরিয়া ও গাজার দখলকৃত নিরাপত্তা অঞ্চলগুলোতে আপাতত অবস্থান করবে।

 

দ্বিতীয়ত, হরমুজ প্রণালি ও বন্দর অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী শুক্রবার থেকে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ খুলে দেওয়া হবে এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে। একজন ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তার মতে, স্মারক সই হওয়ার পর সব বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য এই আন্তর্জাতিক জলপথ খুলে দেওয়া হবে। ইরানের আধা-সরকারি বার্তাসংস্থা ফারস জানিয়েছে, চুক্তির অধীনে ওমানের সঙ্গে সমন্বয় করে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক নৌ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করবে ইরান।

 

তৃতীয়ত, পরমাণু কর্মসূচিতে লাগাম টানতে ইরান পুনরায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জন করবে না। চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরান তাদের সব ধরনের পারমাণবিক কার্যক্রম স্থগিত রাখবে এবং নতুন করে কোনো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করবে না। এর বিনিময়ে ইরানে একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক পরিদর্শন ব্যবস্থা চালু করা হবে। তবে মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম জানিয়েছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যেকোনো চূড়ান্ত চুক্তি অবশ্যই মার্কিন কংগ্রেসের মাধ্যমে পর্যালোচনা ও অনুমোদিত হতে হবে।

 

চতুর্থত, নিষেধাজ্ঞা শিথিল ও অর্থ ছাড়ের বিষয়ে চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ওপর নতুন করে কোনো নিষেধাজ্ঞা দেবে না যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইরানের আটকে থাকা ২৫ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছাড় করা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে স্পষ্ট দ্বিমত ও ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে। একজন ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তার দাবি, এই নগদ অর্থ আঞ্চলিক দেশগুলোর সহযোগিতা ও ফাইন্যান্সিয়াল ক্রেডিট লাইনের মাধ্যমে ছাড় করা হবে। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানকে এখনই কোনো নগদ অর্থ দেওয়া হবে না, তবে তাদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা সম্ভাব্যভাবে প্রত্যাহার করা হতে পারে।

 

সর্বশেষ চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদের সঙ্গে নিয়ে ইরানের জন্য একটি বিশেষ পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রস্তুত করবে। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে ইরানের সঙ্গে আলোচনা করে এই পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত করা হবে। এই প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পর, আগামী ৬০ দিন ধরে পরমাণু ইস্যু ও নিষেধাজ্ঞার মতো অপেক্ষাকৃত জটিল ও সংবেদনশীল বিষয়গুলো নিয়ে একটি চূড়ান্ত ও স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে নিবিড় আলোচনা চলবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আরও ২৩ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র
অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আরও ২৩ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আরও ২৩ জন বাংলাদেশি নাগরিককে বিশেষ চার্টার ফ্লাইটে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ভোরে ওমনি এয়ার ইন্টারন্যাশনালের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তারা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।   সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশে ফিরে আসা এসব বাংলাদেশি বিভিন্ন সময়ে উন্নত কর্মসংস্থানের আশায় বাংলাদেশ ছেড়েছিলেন। পরবর্তীতে তারা দুবাই, কাতার, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল ও পেরুসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থান করেন এবং সেখান থেকে সীমান্ত অতিক্রম করে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।   সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করলেও বৈধ অভিবাসন-সংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে পারেননি। পরে মার্কিন অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।   বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক প্রত্যেক প্রত্যাবর্তনকারীকে ৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেয়। পাশাপাশি তাদের জন্য খাবারেরও ব্যবস্থা করা হয়। ইমিগ্রেশন ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর দুপুর দেড়টার দিকে তারা বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।   সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া অবস্থান বা অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম জোরদার হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশি নাগরিকদেরও পর্যায়ক্রমে বিশেষ ফ্লাইটে দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।   অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বরাবরই সতর্ক করে আসছেন, বিদেশে কর্মসংস্থান বা স্থায়ীভাবে বসবাসের উদ্দেশ্যে যাত্রার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের অভিবাসন আইন ও বৈধ ভিসা প্রক্রিয়া অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় গ্রেপ্তার, আটক এবং শেষ পর্যন্ত নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৩০, ২০২৬ ১৪:৪৭
জর্জিয়ায় মিল্কশেক পছন্দ না হওয়ায় ফাস্টফুড কর্মীর ওপর হামলার অভিযোগ

জর্জিয়ায় মিল্কশেক পছন্দ না হওয়ায় ফাস্টফুড কর্মীর ওপর হা মলার অভিযোগ

৬৫ কোটি ডলারের ক্ষতিপূরণের রায় স্থগিত চেয়ে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে ফিলিস্তিনের আবেদন। ছবি সংগৃহীত

৬৫ কোটি ডলারের রায় স্থগিত চেয়ে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে ফিলিস্তিনের আবেদন

লেক তাহোতে সাঁতার কাটতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন অ্যামাজনের সফটওয়্যার প্রকৌশলী ইয়াদেসা আগা। ছবি: সংগৃহীত

লেক তাহোতে সাঁতার কাটতে গিয়ে প্রাণ হারালেন অ্যামাজনের তরুণ প্রকৌশলী

নিউইয়র্কে হোমলেস জীবন কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা ১৩০ জনকে বিশেষ সংবর্ধনা। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে হোমলেস থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা ১৩০ জনকে বিশেষ সংবর্ধনা

নিউইয়র্কে গৃহহীনতা বা হোমলেস জীবন কাটিয়ে দীর্ঘমেয়াদি আবাসন এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা ১৩০ জনেরও বেশি মানুষকে সম্প্রতি একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। 'দ্য ডো ফান্ডের' উদ্যোগে পরিচালিত ‘রেডি, উইলিং অ্যান্ড এবল’ কর্মসূচির মাধ্যমে এই গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যা মানুষের স্থায়ী আবাসন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে কাজ করে।   ১৯৮০-এর দশকে জর্জ টি ম্যাকডোনাল্ড এই সংস্থাটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল টার্মিনালে একটানা ৭০০ দিন অনাহারী মানুষদের খাবার বিতরণের মধ্য দিয়ে এই উদ্যোগের সূচনা হয়েছিল। পরবর্তীতে হোমলেস মানুষদের শুধু খাবার দেওয়াই নয়, বরং তাদের জীবন পুনর্গঠন এবং আত্মনির্ভরশীল করে তোলার লক্ষ্যে এই দাতব্য সংস্থাটি বড় পরিসরে কাজ শুরু করে।   অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া গ্র্যাজুয়েট ইমানি আবদুস-সাবির জানান যে অতীতে তিনি মাদকাসক্তি ও কারাভোগের মতো কঠিন লড়াই পার করেছেন, কিন্তু এই সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পরই তার জীবন সম্পূর্ণ বদলে যায়। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা অবস্থায় কর্মসংস্থানের সুযোগ পাওয়ার মতো এমন কার্যকরী প্রোগ্রাম আর কোথাও নেই বলে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।   সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, তাদের সহায়তাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের একটি বড় অংশই অতীতে কারাভোগ করেছেন, যারা কাজের আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও সমাজে নানা বাধার মুখে পড়েন। প্রিজন পলিসি ইনিশিয়েটিভের পরিসংখ্যান অনুসারে, সাধারণ মানুষের তুলনায় সাবেক বন্দীদের হোমলেস বা গৃহহীন হওয়ার ঝুঁকি প্রায় দশ গুণ বেশি থাকে।   আরেক গ্র্যাজুয়েট রিকি উইলিস অতীতে শেল্টারে জীবন কাটালেও বর্তমানে ব্রুকলিনে বসবাস করছেন এবং একজন পেশাদার চালক হিসেবে কর্মরত আছেন। অতীতের সংগ্রাম পেরিয়ে নিজের আজকের অর্জন দেখে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত ও স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।   দ্য ডো ফান্ড মূলত সাবেক বন্দীদের জীবন সহজ করতে বিভিন্নমুখী সহায়তা প্রদান করে থাকে। যার মধ্যে চাকরির ইন্টারভিউর জন্য প্রস্তুত হওয়া থেকে শুরু করে সহায়ক আবাসন খুঁজে দেওয়া এবং সমাজে পুনর্বাসনের যাবতীয় প্রক্রিয়া অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের পুনর্বাসন কর্মসূচিগুলো প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দীর্ঘমেয়াদি এই উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষগুলো নতুন করে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বাঁচার স্বপ্ন দেখছে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ৩০, ২০২৬ ১২:৫
ক্যালিফোর্নিয়ায় এআইয়ের যুগে ডেটাসেন্টার বৃদ্ধি পাওয়ায় বিদ্যুৎ খরচ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্বেগ। ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ার ডেটাসেন্টার নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্বেগ, এআইয়ের যুগে বাড়ছে বিদ্যুৎ খরচ নিয়ে শঙ্কা

লস অ্যাঞ্জেলেসে বেসবল ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালানো ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করেছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

লস অ্যাঞ্জেলেসে ব্যাট হাতে হামলার অভিযোগ, পুলিশের গুলিতে মৃত্যু

মার্কিন বিমানবন্দরে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া বিদেশি নাগরিকদের গ্রেপ্তার শুরু। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন নজরদারি কার্যক্রমে বিমানবন্দরে যাত্রী গ্রেপ্তার শুরু, বিতর্কে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি

চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়িয়েছে ১.৫ শতাংশে। ছবি: সংগৃহীত
ধীর গতিতে চলছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি: দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়িয়েছে ১.৫ শতাংশে

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির গতি উল্লেখযোগ্যভাবে মন্থর হয়ে এসেছে। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি বার্ষিক হিসেবে ১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বাজার বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসের চেয়ে বেশ কম। এর আগে বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) প্রবৃদ্ধির হার ছিল সংশোধিত ২.১ শতাংশ।   বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের অন্তর্ভুক্ত বিউরো অব ইকোনমিক অ্যানালাইসিসের প্রকাশিত প্রাথমিক প্রাক্কলন বা অ্যাডভান্স এস্টিমেটে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে অর্থনীতিবিদরা দ্বিতীয় প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ২.১ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। মূলত সরকারি ব্যয় কমে যাওয়া এবং ব্যবসায়িক বিনিয়োগ ও রপ্তানির গতি মন্থর হওয়ায় সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে এই ধীরগতি দেখা দিয়েছে। যদিও এই সময়ের মধ্যে ভোক্তাদের ব্যয় এবং ব্যক্তিগত খাতের অভ্যন্তরীণ চাহিদা ইতিবাচক অবস্থানে ছিল।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্বিতীয় প্রান্তিকে অর্থনৈতিক কার্যকলাপের মূল চালিকাশক্তি ছিল ভোক্তা ব্যয়, বিনিয়োগ ও রপ্তানি বৃদ্ধি, যা সরকারি খাতের ব্যয়ের পতনের কারণে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্যক্তিগত খাতের অভ্যন্তরীণ চাহিদার মূল পরিমাপক ‘রিয়েল ফাইনাল সেলস টু প্রাইভেট ডমেস্টিক পারচেজার্স’ ৩.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা প্রথম প্রান্তিকে ছিল মাত্র ১.৭ শতাংশ। অন্যদিকে, জিডিপি গণনার সময় আমদানি ব্যয় বাদ দেওয়া হয়, এবং এই প্রান্তিকে আমদানির পরিমাণ আগের তুলনায় বেশি ছিল।   এদিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শ্লথ হলেও এই প্রান্তিকে মূল্যস্ফীতির চাপ বেশ অনেকটাই বেড়েছে। দেশটির গ্রস ডমেস্টিক পারচেসেস প্রাইস ইনডেক্স ৫.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগের তিন মাসের সময়সীমায় ছিল ৩.৬ শতাংশ। পাশাপাশি, ব্যক্তিগত খরচ বা পিসিই মূল্যসূচক বেড়ে ৫.১ শতাংশ হয়েছে, যা প্রথম প্রান্তিকে ছিল ৪.৬ শতাংশ। তবে স্বস্তির বিষয় হলো—খাদ্য ও জ্বালানির মতো অস্থিতিশীল খাতগুলো বাদ দিয়ে পরিমাপ করা মূল পিসিই মূল্যস্ফীতি ৪.৪ শতাংশ থেকে কমে ৩.৪ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সাথে বর্তমান ডলারে হিসাবকৃত জিডিপি এই প্রান্তিকে বার্ষিক ৭.৯ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে, তা সামনের দিনগুলোতে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। বাণিজ্য বিভাগ পরবর্তীতে এই প্রবৃদ্ধির আরও দুটি সংশোধিত প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৩০, ২০২৬ ১০:৩৯
অ্যামাজনের ডেলিভারি কর্মী ভেবে দরজা খুলে জরিমানার নোটিশ পেলেন গৃহবধূ। ছবি: সংগৃহীত

অ্যামাজনের ডেলিভারি কর্মী ভেবে দরজা খুললেন, হাতে পেলেন ২৫০ ডলারের স্পিডিং টিকিট

বিরল 'এলিয়েন টেররিস্ট রিমুভাল কোর্ট'-এ প্রথমবারের মতো মামলার শুনানি শুরু। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ আদালতে প্রথমবার আফগান নারীকে বহিষ্কারের চেষ্টা

অভিযুক্ত দম্পতি। ছবি:সংগৃহীত

ই-বে'র বিরুদ্ধে তেলাপোকা ও রক্তমাখা শূকরের মুখোশ পাঠানোর অভিযোগ, দম্পতিকে ৫ কোটি ৫৭ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ

0 Comments