হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখলে ‘ইরানকে ধ্বংস’ করার হুমকি ট্রাম্পের, তেলের ওপর ২০ শতাংশ টোলের ইঙ্গিত
হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখলে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র ওই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেখানে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজের ওপর ২০ শতাংশ পর্যন্ত টোল আরোপ করতে পারে।
ফক্স নিউজের সাংবাদিক ট্রে ইংস্টের উদ্ধৃতি অনুযায়ী, ট্রাম্প বলেন, “তোমরা যদি এটি বন্ধ করো, তাহলে তোমাদের আর কোনো দেশ থাকবে না।” তিনি আরও বলেন, “প্রয়োজন হলে আমরা হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারি। তারা যদি কোনো সমঝোতায় না আসে, তাহলে আমরা টোল আদায় করব।”
ট্রাম্পের এ মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে সংঘাত বৃদ্ধি পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পূর্বে হওয়া সমঝোতা কার্যত ভেঙে পড়ার মুখে রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরান হরমুজ প্রণালিতে নতুন টোল ব্যবস্থা কার্যকর করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। এর আগে বিভিন্ন খবরে বলা হয়েছিল, প্রণালি অতিক্রমকারী তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর কাছ থেকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত ফি আদায়ের বিষয় বিবেচনা করছে তেহরান।
তবে সাম্প্রতিক অস্থায়ী শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে শনিবার ৬৭টি এবং শুক্রবার ৫৫টি জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট। ফক্স নিউজকে তিনি বলেন, “তেল ও তেলজাত পণ্যের পরিবহন সংঘাত শুরুর আগের পর্যায়ের কাছাকাছি অবস্থায় রয়েছে।”
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সংঘাতের আগে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন হতো। প্রতিদিন ১৩০টিরও বেশি জাহাজ এ সংকীর্ণ জলপথ ব্যবহার করত।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ইরানকে লেবাননে তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম বন্ধ করার আহ্বান জানান।
তিনি লেখেন, “ইরানকে অবিলম্বে লেবাননে তাদের অর্থায়ন করা প্রক্সিগুলোকে সমস্যা সৃষ্টি করা থেকে বিরত রাখতে হবে। তা না হলে আমরা আবারও ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেব, আগেরবারের চেয়েও বেশি কঠোরভাবে।”
হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনা বিশ্ব জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনের ওপর নতুন করে প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreমিশিগান স্টেট হাউসের ডিস্ট্রিক্ট-১৪ আসনের ডেমোক্রেটিক প্রাইমারি নির্বাচনে বর্তমান স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ মাইক ম্যাকফলের কাছে পরাজয়ের পর ভোটার, বাংলাদেশি কমিউনিটি, সাংবাদিক এবং নির্বাচনী প্রচারণায় সহযোগিতাকারীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন প্রার্থী মিনহাজ চৌধুরী। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর দেওয়া এক বিবৃতিতে মিনহাজ চৌধুরী বলেন, গতকাল ৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত প্রাইমারি নির্বাচনে ওয়ারেন, সেন্টার লাইন, ম্যাডিসন হাইটস ও হেজেল পার্ক নিয়ে গঠিত মিশিগানের ডিস্ট্রিক্ট-১৪-এর ভোটাররা তাকে যে ভালোবাসা, আস্থা ও সমর্থন দিয়েছেন, তার জন্য তিনি চিরকৃতজ্ঞ। তিনি বিশেষভাবে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক, বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রবীণ ও নবীন নেতৃবৃন্দ, স্বেচ্ছাসেবক এবং নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্ত সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তাদের সহযোগিতা, পরামর্শ ও নিরলস সমর্থন তার প্রচারণাকে আরও শক্তিশালী করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এবারের নির্বাচনে মিনহাজ চৌধুরী নিজেকে একজন কমিউনিটি-কেন্দ্রিক প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরেন। তার নির্বাচনী প্রচারণায় স্থানীয় জনগণের কার্যকর প্রতিনিধিত্ব, জননিরাপত্তা, শিক্ষা, ছোট ব্যবসার উন্নয়ন, পরিবারভিত্তিক সামাজিক মূল্যবোধ এবং বাংলাদেশিসহ অভিবাসী কমিউনিটির অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। নির্বাচনী প্রচারণাজুড়ে তিনি কমিউনিটির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও জনসম্পৃক্ততার ওপরও জোর দেন। বিবৃতিতে মিনহাজ চৌধুরী বলেন, অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই নির্বাচনে কাঙ্ক্ষিত ফল না এলেও ভোটারদের প্রতিটি সমর্থন তার কাছে অত্যন্ত মূল্যবান। তিনি বলেন, একটি নির্বাচনের ফলাফল মানুষের জন্য কাজ করার অঙ্গীকারকে থামিয়ে দিতে পারে না; বরং কমিউনিটির প্রতি দায়বদ্ধতা আরও বাড়িয়ে দেয়। তিনি আরও বলেন, আগামী দিনেও দল-মত নির্বিশেষে কমিউনিটির উন্নয়ন, ঐক্য এবং জনকল্যাণে কাজ করে যাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। মানুষের ভালোবাসা ও বিশ্বাসই তার ভবিষ্যৎ পথচলার সবচেয়ে বড় শক্তি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। মিশিগানের ডিস্ট্রিক্ট-১৪ আসনে বর্তমান স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ মাইক ম্যাকফলের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মিনহাজ চৌধুরী বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির পক্ষ থেকে নির্বাচনে অংশ নেন। যদিও তিনি ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে মনোনয়ন অর্জন করতে পারেননি, তবে তার প্রচারণা বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কমিউনিটির অংশগ্রহণ বাড়াতে ভূমিকা রাখে।
বেতন না কেটেই জমবে সঞ্চয়! যুক্তরাষ্ট্রে আসছে নতুন ৪০১(কে) পরিকল্পনা, মিলতে পারে বাড়ি কেনার সুযোগ
যুক্তরাষ্ট্রে সাশ্রয়ী আবাসনের জন্য ৭৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে জেপিমরগান, কী সুবিধা পাবেন বাড়ির ক্রেতারা?
মিশিগানে ডেমোক্র্যাট মুসলিম প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদের স্ত্রী কে? জানুন তার পরিবার ও রাজনৈতিক পথচলা
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের কুইন্স থেকে অ্যাসেম্বলি সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হতে যাওয়া ডেমোক্র্যাট নেতা ব্রায়ান রোমেরোকে ঘিরে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের আগেই ব্যক্তিগত ভাড়া ও জীবনযাত্রার খরচ মেটাতে অনলাইনে অনুদান চাওয়াকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে নৈতিকতা তদন্তের দাবি উঠেছে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোমেরোর নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী ও ডেমোক্র্যাটিক ডিস্ট্রিক্ট লিডার রোজা সানচেজ গত ৩ আগস্ট অঙ্গরাজ্যের লেজিসলেটিভ এথিকস কমিশন এবং কমিশন অন এথিকস অ্যান্ড লবিং ইন গভর্নমেন্টের (COELIG) কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে তিনি বলেন, নির্বাচনে জয়ের পর নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করেছেন রোমেরো। চিঠিতে সানচেজের অভিযোগ, "অ্যাসেম্বলি আসনে জয়ের বিষয়টি ব্যবহার করে তিনি মানুষের কাছ থেকে নগদ অর্থ সংগ্রহে উৎসাহিত করেছেন।" তার দাবি, এ ধরনের উদ্যোগ "অত্যন্ত অনুপযুক্ত, অনৈতিক এবং আইনের পরিপন্থী।" ব্রায়ান রোমেরো ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকার (DSA) সদস্য। তিনি গত জুনে ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে বিজয়ী হন। ৩৪তম অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্টে রিপাবলিকান দলের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় কার্যত তিনিই ওই আসনের নবনির্বাচিত আইনপ্রণেতা। এই আসনের আওতায় কুইন্সের অ্যাস্টোরিয়া, করোনা ও ইস্ট এলমহার্স্ট এলাকার অংশ রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোমেরো অনলাইন তহবিল সংগ্রহের প্ল্যাটফর্ম গোফান্ডমিতে একটি প্রচারণা চালু করে ভাড়া, মুদি পণ্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে সহায়তা চান। বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনা শুরু হলে এবং গণমাধ্যমের অনুসন্ধান বাড়ার পর তিনি সেই প্রচারণা সরিয়ে নেন। তবে তার আগে এক হাজার ডলারেরও বেশি অনুদান সংগ্রহ হয়েছিল। নিউইয়র্কের পাবলিক অফিসার্স আইনে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য এমন অনুদান বা উপহার চাওয়ার ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে। তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, রোমেরো তখনও আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেননি। ফলে ঘটনাটি আইন লঙ্ঘনের পরিবর্তে একটি "ধূসর ক্ষেত্র" বা ব্যাখ্যাসাপেক্ষ পরিস্থিতি তৈরি করেছে। অভিজ্ঞ নির্বাচন আইনজীবী কিথ করবেট বলেন, ফেডারেল, অঙ্গরাজ্য বা স্থানীয় পর্যায়ের কোনো প্রার্থীকে ব্যক্তিগত বিল পরিশোধের জন্য গোফান্ডমি খুলতে তিনি আগে দেখেননি। তবে তার মতে, এটি সরাসরি আইন ভঙ্গের শামিল নয়। অন্যদিকে স্বচ্ছতা ও সুশাসনবিষয়ক সংগঠন রিইনভেন্ট অ্যালবানির জ্যেষ্ঠ নীতিবিষয়ক উপদেষ্টা রেচেল ফস বলেন, বিষয়টি আইনের ধূসর এলাকায় পড়তে পারে। তবে ভবিষ্যতে এমন স্বার্থের সংঘাত এড়াতে আগেই স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা উচিত। তিনি নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের জন্য এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় নৈতিকতা বিষয়ক নির্দেশিকা তৈরিরও আহ্বান জানান। অভিযোগের বিষয়ে কমিশন অন এথিকস অ্যান্ড লবিং ইন গভর্নমেন্ট এক বিবৃতিতে জানায়, আইনি গোপনীয়তার বাধ্যবাধকতার কারণে তারা কোনো অভিযোগ পেয়েছে কি না কিংবা কোনো তদন্ত চলছে কি না সে বিষয়ে মন্তব্য করতে পারবে না। অন্যদিকে ব্রায়ান রোমেরো আগেই স্বীকার করেছিলেন যে গোফান্ডমি খোলা ছিল একটি "ভুল" সিদ্ধান্ত। তার দাবি, সমালোচনার মুখে প্রচারণাটি সরিয়ে নেওয়ার পর তিনি সংগৃহীত অর্থ নিজের কাছে রাখেননি। রোমেরো এর আগে জানান, অ্যাসেম্বলি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার কারণে নৈতিকতা-সংক্রান্ত পরামর্শ মেনে মার্চ মাসে তাকে অঙ্গরাজ্যের সিনেটর ক্রিস্টেন গনজালেজের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টার পদ ছাড়তে হয়। এরপর দীর্ঘদিন নিয়মিত আয়ের উৎস না থাকায় সঞ্চয় শেষ হয়ে যায় এবং ভাড়া পরিশোধে সমস্যায় পড়েন। গোফান্ডমি পাতায় তিনি লিখেছিলেন, অস্থায়ী কর্মসংস্থানের কারণে নতুন কাজ খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। তিনি বেকার ভাতার জন্য আবেদন করলেও তখনও তা পাননি। পরে একটি ছোটখাটো কাজ পেলেও নিয়মিত পারিশ্রমিক পাওয়ার আগ পর্যন্ত ভাড়া পরিশোধে সহায়তা প্রয়োজন ছিল বলে উল্লেখ করেন। রোমেরোকে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি, অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস এবং কংগ্রেস সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ সমর্থন দিয়েছিলেন। তবে নতুন এই বিতর্কের বিষয়ে তদন্তের দাবিতে তিনি আর কোনো মন্তব্য করেননি।
বাড়িতে আগুন লাগার সময় গাড়ির সিটে বন্দি শিশু, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ঘুমিয়ে ছিলেন মা
যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে বন্দুকধারীর অতর্কিত হামলায় নিহত হোয়াইট হাউস কর্মকর্তার পুলিশ-ভাই
নিউইয়র্কে অবৈধ ই-বাইক বিক্রি বন্ধে মেয়রের নির্দেশ, সমালোচকদের তীব্র ক্ষোভ
যুক্তরাষ্ট্রে মুদিপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের খাদ্যাভ্যাস ও কেনাকাটার ধরনে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। সাম্প্রতিক একটি জরিপে দেখা গেছে, বাজেটের ওপর চাপ পড়ায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ (৩১ শতাংশ) আমেরিকান আগের বছরের তুলনায় বর্তমানে বাড়িতে অনেক বেশি রান্না করছেন। অন্তত ২ হাজার আমেরিকানের ওপর পরিচালিত এই জরিপে উঠে এসেছে, ২৬ শতাংশ মানুষ এখন এমন সব উপাদান কিনছেন যা দিয়ে একাধিক বেলার খাবার তৈরি করা সম্ভব। ভোক্তারা জানিয়েছেন, ১০০ ডলারের মুদি বাজেটে তাদের প্রত্যাশার চেয়ে অন্তত দুটি মিল বা খাবার কম হচ্ছে। তাদের বাজেটের সবচেয়ে বড় অংশ, অর্থাৎ ৬০ শতাংশ খরচ হচ্ছে মাংস ও পোলট্রি জাতীয় পণ্যের পেছনে। এরপরই রয়েছে দুগ্ধজাত পণ্য ও ডিম (৩০ শতাংশ) এবং ফ্রোজেন বা হিমায়িত খাবার (২২ শতাংশ)। আইডাহো পটেটো কমিশনের পক্ষে 'টকার রিসার্চ'-এর করা এই জরিপে দেখা গেছে, কেনাকাটার ক্ষেত্রে আমেরিকানরা এখন কয়েকটি বিষয়কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে খাদ্যের অপচয় রোধ (৭৩ শতাংশ), দীর্ঘ মেয়াদ বা শেলফ লাইফ (৭২ শতাংশ) এবং অর্থের বিনিময়ে সঠিক পুষ্টিমান (৭১ শতাংশ)। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৬০ শতাংশই তাদের সাপ্তাহিক খাবারের তালিকা এমনভাবে তৈরি করেন, যেন একটি উপাদান দিয়েই একাধিক পদ রান্না করা যায়। তাছাড়া ৬৩ শতাংশ মানুষ মনে করেন, কোনো একটি উপাদান সকাল, দুপুর ও রাতের খাবারে ব্যবহার করার উপযোগী হওয়াটা কেনাকাটার ক্ষেত্রে একটি বড় মানদণ্ড। বহুমুখী ও সাশ্রয়ী উপাদান হিসেবে এক্ষেত্রে আলুর নাম উঠে এসেছে তালিকার শীর্ষে। গত এক বছরে আমেরিকানরা ডিম, আলু, চাল ও পাস্তা এবং মটরশুঁটির মতো খাবারের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। আইডাহো পটেটো কমিশনের প্রেসিডেন্ট ও সিইও জেমি হাইহ্যাম বলেন, আমেরিকানদের মুদি কেনাকাটার ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। মানুষ এখন শুধু খরচ কমাতেই চাইছে না, বরং তারা আরও বুদ্ধিমানের মতো রান্না করার চেষ্টা করছে এবং এমন উপাদান খুঁজছে যা দিয়ে কম খরচে বেশি খাবার তৈরি করা যায়। জরিপে আরও দেখা গেছে, ৩৩ শতাংশ মানুষ আগে এড়িয়ে চলতেন এমন খাবারগুলোও পুনরায় খাদ্যতালিকায় যুক্ত করেছেন, যার মধ্যে রেড মিট, সাদা চাল, আলু এবং ডিম অন্যতম। মূলত বাড়িতে বেশি রান্না শুরু করার পর সাশ্রয়ী বিকল্পের খোঁজ করতে গিয়েই ভোক্তাদের এই দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রতি ১০ জনে আটজন আলু ক্রেতা জানিয়েছেন, বহুমুখী ব্যবহার, সাশ্রয়ী বাজেট এবং পুষ্টিগুণের দিক থেকে এই সবজিটি অত্যন্ত চমৎকার। সব মিলিয়ে, নিত্যপণ্যের বাড়তি দাম আমেরিকানদের শুধু খরচের লাগাম টানতেই বাধ্য করেনি, বরং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা সাশ্রয়ী ও পুষ্টিকর খাবারগুলোর কদর আবারও বাড়িয়ে দিয়েছে। উল্লেখ্য, টকার রিসার্চ কর্তৃক এই অনলাইন জরিপটি ২০২৬ সালের ১২ জুন থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত পরিচালিত হয়।
সিটবেল্ট ত্রুটিতে যুক্তরাষ্ট্রে ১০ লাখের বেশি র্যাম গাড়ি মেরামতের নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ
লস অ্যাঞ্জেলেসবাসীর জন্য সুখবর, ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে গণপরিবহন ব্যবহারেই মিলবে ৬০০ ডলার পুরস্কার