নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে স্ট্রোকে প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটস এলাকার সুপরিচিত ও অত্যন্ত জনপ্রিয় মুখ প্রবাসী বাংলাদেশি রাহুল হঠাৎ স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। শনিবার রাতে তিনি আকস্মিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত তাকে ব্রুকলিনের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
পরিবার ও তার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে রাহুলের শারীরিক অবস্থার হঠাৎ মারাত্মক অবনতি ঘটে। পরিস্থিতি গুরুতর দেখে কালক্ষেপণ না করে তাকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালালেও শেষ পর্যন্ত সব চেষ্টা ব্যর্থ করে তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান।
জ্যাকসন হাইটসের প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে রাহুল ছিলেন এক অতি পরিচিত ও আপন নাম। নিজের আন্তরিক ব্যবহার, সদা হাস্যোজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের কারণে তিনি সবার কাছেই ভীষণ প্রিয় ছিলেন। এমন একজন প্রাণবন্ত ও পরোপকারী মানুষের আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে এক বিষাদময় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন্ধু, স্বজন এবং দীর্ঘদিনের পরিচিতজনরা গভীর শোক ও আবেগঘন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। পরিচিতরা তাকে একজন অত্যন্ত মানবিক, সদালাপী ও সহৃদয় মানুষ হিসেবেই স্মরণ করছেন। রাহুলের এই অকাল প্রয়াণে নিউইয়র্ক প্রবাসী কমিউনিটির বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সংগঠনের পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে। শোকবার্তায় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করার পাশাপাশি তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreমেক্সিকো থেকে আমদানি করা তাজা হ্যালোপিনো মরিচের সঙ্গে যুক্ত সালমোনেলা প্রাদুর্ভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ২৭ অঙ্গরাজ্যে অন্তত ৩৪৫ জন অসুস্থ হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন যৌথভাবে ঘটনাটি তদন্ত করছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আক্রান্ত হ্যালোপিনো মরিচগুলো মেক্সিকোর সিনালোয়া অঞ্চল থেকে উৎপাদিত এবং কোস্ট সিট্রাস ডিস্ট্রিবিউটরসের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট, পাইকারি বিক্রেতা ও ফুড সার্ভিস প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটি এখন সংশ্লিষ্ট পণ্য রিকল করছে এবং যেসব গ্রাহকের কাছে মরিচ পৌঁছেছে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালাচ্ছে। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের অসুস্থতা শুরু হয়েছে ১৯ জুন থেকে ২০ জুলাইয়ের মধ্যে। তদন্তকারীরা ১৯১ জন রোগীর সঙ্গে কথা বলেন। তাদের মধ্যে ১৭৭ জন, অর্থাৎ ৯৩ শতাংশ, অসুস্থ হওয়ার আগে কোনো না কোনো মেক্সিকান-স্টাইল রেস্টুরেন্টে খাওয়ার কথা জানিয়েছেন। এসব রেস্টুরেন্টের মধ্যে চিপোটলে মেক্সিকান গ্রিল ও কিউডোবার নামও এসেছে। তবে এফডিএ ও সিডিসি জানিয়েছে, চিপোটলে ও কিউডোবা বর্তমানে গ্রাহকদের জন্য চলমান ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে না। চিপোটলে ২০ জুলাই থেকে দেশব্যাপী তাদের হ্যালোপিনো সরবরাহকারী পরিবর্তন করেছে। কিউডোবা ২৮ জুলাই থেকে হ্যালোপিনো পরিবেশন বন্ধ করেছে এবং তাদের সব রেস্টুরেন্টে বর্তমানে এই মরিচ সরবরাহ স্থগিত রয়েছে। তদন্তে চিপোটলে ও কিউডোবার বিভিন্ন লোকেশনে ২৭টি অসুস্থতার ক্লাস্টার শনাক্ত করা হয়েছে। আক্রান্তরা হ্যালোপিনোর পাশাপাশি লাল পেঁয়াজ, ধনেপাতা ও অ্যাভোকাডো খাওয়ার কথাও জানিয়েছেন। তবে ট্রেসব্যাক তদন্তে সিনালোয়ার একটি সাধারণ উৎপাদন উৎস থেকে আসা **হ্যালোপিনো**কেই সম্ভাব্য মূল উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এফডিএ রেস্টুরেন্ট, ডিস্ট্রিবিউটর ও ফুড সার্ভিস প্রতিষ্ঠানগুলোকে রিকল করা হ্যালোপিনো বিক্রি বা পরিবেশন না করার নির্দেশ দিয়েছে। যেসব পাত্র, কাউন্টার বা রান্নাঘরের সরঞ্জাম এসব মরিচের সংস্পর্শে এসেছে, সেগুলো ভালোভাবে পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মরিচের উৎস নিশ্চিত না হলে সরবরাহকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ এখনো যাচাই করছে, আক্রান্ত হ্যালোপিনো মরিচ কোনো গ্রোসারি স্টোরে সরাসরি বিক্রি হয়েছিল কি না। প্রাথমিকভাবে এগুলো মূলত রেস্টুরেন্ট ও পাইকারি বাজারে সরবরাহ করা হয়েছিল। বাড়িতে থাকা হ্যালোপিনোর উৎস নিয়ে সন্দেহ থাকলে তা না খেয়ে ফেলে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সিডিসি। সালমোনেলায় আক্রান্ত হলে সাধারণত ডায়রিয়া, জ্বর ও পেটব্যথা দেখা দেয়। জীবাণু শরীরে প্রবেশের ছয় ঘণ্টা থেকে ছয় দিনের মধ্যে উপসর্গ শুরু হতে পারে এবং বেশির ভাগ মানুষ চার থেকে সাত দিনের মধ্যে চিকিৎসা ছাড়াই সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু, ৬৫ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তি এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধক্ষমতার মানুষের ক্ষেত্রে অসুস্থতা গুরুতর হতে পারে। তিন দিনের বেশি ডায়রিয়া, রক্তমিশ্রিত পায়খানা, ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি জ্বর, অতিরিক্ত বমি বা শরীরে পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ডাক্তার বা হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছে সিডিসি। তদন্ত চলমান থাকায় আক্রান্তের সংখ্যা ও রিকলের পরিধি আরও বাড়তে পারে।
ওয়ার্কিং ক্লাসের মানুষ এল-সায়েদের পাশে নেই', দাবি ভ্যান্সের
কস্টকোর এই ৫টি ট্রিক জানলে বাংলাদেশি পরিবার বছরে বাঁচাতে পারে ৮০০–১,২০০ ডলার
লাস ভেগাসে মঞ্চে পথ হারানো শিশুকে থামিয়ে ট্রাম্পের খোঁচা, “বাইডেনের মতো মঞ্চ থেকে পড়ে যেও না”
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বড় ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র তার সাবেক বাগদত্তা কিম্বার্লি গিলফয়েলের মালিকানার অংশ কিনে নিতে ৭.৬ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছেন। এর মাধ্যমে ফ্লোরিডার জুপিটারে অবস্থিত তাদের যৌথ মালিকানার বিলাসবহুল বাড়িটির পূর্ণ মালিকানা এখন ট্রাম্প জুনিয়রের হাতে চলে গেছে। সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া সম্পত্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত নথিতে দেখা যায়, গত ২৫ জুলাই এই লেনদেন চূড়ান্ত হয় এবং ৩ আগস্ট দলিলে তা নিবন্ধিত হয়। বাড়িটি ফ্লোরিডার পাম বিচ কাউন্টির অভিজাত অ্যাডমিরালস কোভ কমিউনিটিতে অবস্থিত। ট্রাম্প জুনিয়র ও গিলফয়েল ২০২১ সালে প্রায় ৯.৭ মিলিয়ন ডলারে বাড়িটি কিনেছিলেন। পরে এটি ব্যাপক সংস্কার করা হয়। ছয়টি শয়নকক্ষ, ১১টি বাথরুম, ব্যক্তিগত ডক, সুইমিং পুল, এলিভেটর এবং জলপথের মনোরম দৃশ্যসহ বাড়িটি ওই এলাকার অন্যতম বিলাসবহুল আবাসন হিসেবে পরিচিত। চলতি বছরের শুরুতে বাড়িটি প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলারে বিক্রির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প জুনিয়র নিজেই সাবেক বাগদত্তার অংশ কিনে নেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও কিম্বার্লি গিলফয়েল ২০১৮ সাল থেকে সম্পর্কে ছিলেন এবং পরে তাদের বাগদান হয়। ২০২৪ সালে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর গিলফয়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিসে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি গ্রিসে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে ট্রাম্প জুনিয়র চলতি বছর পাম বিচের সমাজসেবী বেটিনা অ্যান্ডারসনকে বিয়ে করেছেন। বিভিন্ন মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নবদম্পতি ভবিষ্যতে ওয়েস্ট পাম বিচ এলাকায় নতুন একটি বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা করছেন। এই লেনদেনের মাধ্যমে ট্রাম্প জুনিয়র ও গিলফয়েলের মধ্যে ফ্লোরিডার ওই সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের যৌথ মালিকানার আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটল।
আমেরিকার জাতীয় প্রতীক বল্ড ঈগল গুলি করে হত্যা করায় ওয়াশিংটনের বাসিন্দার বিরুদ্ধে ফেডারেল মামলা
আমেরিকায় এই ৫টি জিনিস কখনোই ফুল প্রাইসে কিনবেন না, সঠিক সময়ে কিনলেই বড় সাশ্রয়
আইসিইর জন্য বোস্টনে ২৫০ পার্কিং স্পেসের পরিকল্পনা, শুরু তীব্র বিরোধিতা
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার একটি কারাগারে প্রায় চার দশক ধরে বন্দি থাকা হামজা নামে পরিচিত এক ব্যক্তির মানবিক উদ্যোগ বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। ঘণ্টায় মাত্র ১৩ সেন্ট মজুরিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে ১৩৬ দশমিক ৫ ঘণ্টা কাজ করে তিনি যে ১৭ ডলার ৭৪ সেন্ট পেচেক পান, তার পুরো অর্থই গাজার বেসামরিক মানুষের জন্য মানবিক সহায়তা তহবিলে দান করেন। পরে তার এই আত্মত্যাগের গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের উদ্যোগে তার জন্য ১ লাখ ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ হয়। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হামজা ক্যালিফোর্নিয়ার একটি কারাগারে পরিচ্ছন্নতা ও পোর্টার হিসেবে কাজ করতেন। তার দীর্ঘ সময়ের শ্রমের বিনিময়ে পাওয়া সামান্য অর্থও নিজের কাছে না রেখে মানবিক সহায়তার উদ্দেশ্যে দান করার সিদ্ধান্ত নেন। লস অ্যাঞ্জেলেসভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাতা জাস্টিন মাশুফ, যিনি বহু বছর ধরে হামজার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হামজার কর্মঘণ্টার হিসাব এবং দানের চেকের ছবি প্রকাশ করেন। সেই পোস্ট দ্রুত ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং অসংখ্য মানুষ জানতে চান, কীভাবে তারা হামজাকে সহায়তা করতে পারেন। এরপর হামজার মুক্তির পর নতুন জীবন শুরুতে সহায়তা করার জন্য একটি তহবিল গঠন করা হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই সেখানে ১ লাখ ডলারের বেশি অনুদান জমা পড়ে। এই অর্থ তার আবাসন, পোশাক, দৈনন্দিন প্রয়োজন, চাকরির প্রশিক্ষণসহ সমাজে পুনর্বাসনের বিভিন্ন খাতে ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়। তবে অর্থ সংগ্রহ প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি হওয়ার পর হামজা নিজেই অনুরোধ জানান, তার জন্য আর অনুদান না দিয়ে গাজাসহ বিশ্বের অন্যান্য সংকটাপন্ন অঞ্চলের মানুষের পাশে দাঁড়াতে। তার মতে, যাদের মানবিক সহায়তার প্রয়োজন আরও বেশি, তাদের প্রতিই মানুষের মনোযোগ দেওয়া উচিত। আইনি নথি অনুযায়ী, হামজা ১৯৮৬ সালে দ্বিতীয় ডিগ্রির হত্যাকাণ্ডের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন। পরবর্তীতে কারাগারে থাকাকালে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে প্যারোলের চেষ্টা চালিয়ে যান। তার পরিচয় গোপন রাখার অনুরোধ করা হয়েছিল, যাতে তার প্যারোল প্রক্রিয়ায় কোনো প্রভাব না পড়ে। মাত্র ১৭ ডলার ৭৪ সেন্টের এই অনুদান অর্থমূল্যে ছোট হলেও মানবিক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। একজন বন্দির সামান্য উপার্জন নিঃস্বার্থভাবে দান করার ঘটনা অসংখ্য মানুষকে অনুপ্রাণিত করে, আর সেই অনুপ্রেরণার ফলেই তার নতুন জীবনের জন্য গড়ে ওঠে লক্ষাধিক ডলারের সহায়তা তহবিল।
অবসরের পর বসবাসের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে সাশ্রয়ী অঙ্গরাজ্য কোনটি? প্রকাশ পেল ২০২৬ সালের তালিকা
আমার নাচ আর অঙ্গভঙ্গি মেলানিয়ার একদম পছন্দ নয়:ট্রাম্প