রাশিয়ার বন্দরে চীনা যুদ্ধজাহাজ, জোরদার হচ্ছে বেইজিং-মস্কো সামরিক সম্পর্ক
রাশিয়া ও চীনের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা আরও গভীর হচ্ছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে এবার রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর শহর ভ্লাদিভস্তকে পৌঁছেছে চীনের নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজ বহর।
মঙ্গলবার চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভির (পিএলএ নেভি) টাস্ক ফোর্স-৮৩ রাশিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের সদর দপ্তর ভ্লাদিভস্তকে পৌঁছায়। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার প্রকাশিত ছবি ও তথ্য অনুযায়ী, বন্দরে পৌঁছানো জাহাজগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রশিক্ষণ জাহাজ ‘চি জিগুয়াং’ এবং উভচর অবতরণ জাহাজ ‘কুনলুনশান’।
রুশ নৌবাহিনীর আমন্ত্রণে চার দিনের এই সফরে চীনা নাবিকরা রুশ নৌ কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রশিক্ষণ, পেশাগত অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং বিভিন্ন যৌথ কার্যক্রমে অংশ নেবেন। বন্দরে জাহাজ দুটি পৌঁছালে স্থানীয় বাসিন্দা ও নৌবাহিনীর সদস্যরা পতাকা নাড়িয়ে তাদের স্বাগত জানান।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর শুধু একটি নিয়মিত সামরিক বিনিময় কর্মসূচি নয়; বরং এটি বেইজিং ও মস্কোর ক্রমবর্ধমান কৌশলগত ঘনিষ্ঠতারও প্রতীক।
ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর চীন আনুষ্ঠানিকভাবে নিরপেক্ষ অবস্থানের কথা বললেও বাস্তবে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে। সীমান্ত বাণিজ্য বৃদ্ধি, রাশিয়ার জ্বালানি আমদানি বাড়ানো এবং বিভিন্ন ধরনের দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য পণ্যের রপ্তানির মাধ্যমে চীন রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রভাব কিছুটা কমাতে সহায়তা করেছে বলে অভিযোগ করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো।
যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ভাষ্য, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের যুদ্ধ প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে চীন একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।
গত মাসে বেইজিং সফরকালে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আবারও তাদের কৌশলগত অংশীদারত্বের প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। সে সময় উভয় দেশ প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, প্রযুক্তি এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দেয়।
চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সোমবার এক বিবৃতিতে জানায়, দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে হওয়া সমঝোতা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সামরিক বাহিনীগুলো বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাস্তবধর্মী সহযোগিতা আরও বাড়াবে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাশিয়া ও চীন নিয়মিত যৌথ নৌ ও বিমান মহড়া পরিচালনা করছে। যদিও ২০২৫ সালে দুই দেশের যৌথ মহড়ার সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় কম ছিল, তবুও ওই বছর প্রথমবারের মতো যৌথ সাবমেরিন মহড়া অনুষ্ঠিত হয়, যা সামরিক সহযোগিতার নতুন মাত্রা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, যৌথ মহড়ার সংখ্যা কিছুটা কমলেও দুই দেশের নৌ সহযোগিতার গভীরতা আগের তুলনায় বেড়েছে।
মার্কিন কংগ্রেসের গবেষণা সংস্থা কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিস সম্প্রতি এক বিশ্লেষণে বলেছে, রাশিয়া তার নৌবাহিনীকে বৈশ্বিক প্রভাব বিস্তার এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শক্তির ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে দেখে। সে কারণেই রাশিয়া-চীন নৌ সহযোগিতা স্থলবাহিনীর যৌথ কার্যক্রমের তুলনায় বেশি বিস্তৃত হয়ে উঠেছে।
এদিকে চীন ও রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া।
বিশেষ করে আলাস্কার কাছাকাছি এলাকায় চীন ও রাশিয়ার যৌথ টহল কার্যক্রম বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে মার্কিন কোস্ট গার্ড। একই সঙ্গে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের সামরিক উপস্থিতি বাড়তে দেখছে।
গত ডিসেম্বরে জাপান সাগর এবং ওকিনাওয়া ও মিয়াকো দ্বীপপুঞ্জের মধ্যবর্তী আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় চীন ও রাশিয়ার যৌথ বোমারু বিমান টহল পরিচালনার ঘটনায় জাপান তাদের যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন করেছিল।
জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি সে সময় মন্তব্য করেন, ওই অভিযান ছিল জাপানের বিরুদ্ধে শক্তি প্রদর্শনের স্পষ্ট বার্তা এবং এটি তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের বিষয়।
যদিও চীন ও রাশিয়ার মধ্যে আনুষ্ঠানিক সামরিক জোট নেই, তবে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের প্রভাব ও সামরিক আধিপত্যের বিকল্প একটি বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রশ্নে দুই দেশ একই অবস্থানে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ভ্লাদিভস্তকে চীনা যুদ্ধজাহাজের এই সফর শুধু দুই দেশের সামরিক সম্পর্কের প্রতীক নয়, বরং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক সমীকরণেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreযুক্তরাজ্যের কর্নওয়ালে ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টারে হামলার পর ক্ষতিগ্রস্ত ফটক মেরামত ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে এগিয়ে এসেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। হামলার কয়েক দিনের মধ্যেই স্বেচ্ছাসেবীরা কেন্দ্রটিতে গিয়ে ক্ষয়ক্ষতি পরিষ্কার করতে এবং মেরামতের কাজে সহায়তা শুরু করেন। কর্নওয়াল ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টারটি ট্রুরোর কাছে কার্নন ডাউনস এলাকায় কুয়েঞ্চওয়েল রোডে অবস্থিত। গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে কেন্দ্রটির প্রবেশপথের লোহার ফটকে একটি গাড়ি দিয়ে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে দুই ব্যক্তি সেখানে ঢুকে তেলসদৃশ একটি পদার্থ কেন্দ্রের চত্বর ও ভবনের বাইরের দেয়ালে ছড়িয়ে দেন বলে পুলিশ ও কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করছে ডেভন অ্যান্ড কর্নওয়াল পুলিশ। অবস্থান ও ঘটনার ধরন বিবেচনায় পুলিশ এটিকে আপাতত জাতিগত বিদ্বেষপ্রসূত অপরাধমূলক ক্ষতিসাধন হিসেবে তদন্ত করছে। তবে তদন্তের তথ্য অনুযায়ী প্রয়োজন হলে ঘটনার শ্রেণিবিন্যাস পরিবর্তন করা হতে পারে। সন্দেহজনক কোনো গাড়ি বা ব্যক্তির বিষয়ে তথ্য থাকলে পুলিশকে জানাতে বলা হয়েছে। হামলার পর কেন্দ্রটির ক্ষতিগ্রস্ত ফটক মেরামতে এগিয়ে আসেন পাশের পেরানওয়েল স্টেশন এলাকার দুই বাসিন্দা রব ও জেমস। তারা কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই ফটকটি মেরামত করেন। কেন্দ্রটির ট্রাস্টি ও পরিচালক টিপু চৌধুরী বলেন, ঘটনার পর কীভাবে ক্ষয়ক্ষতি সামাল দেবেন তা নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় ছিলেন। স্থানীয় দুই বাসিন্দার এই উদ্যোগ তাদের জন্য বড় সহায়তা হয়েছে। কেন্দ্রটির স্বেচ্ছাসেবী ইমাম হাসান কিলিক জানান, হামলার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে যে সহায়তা এসেছে, তা তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কেউ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সামগ্রী নিয়ে এসেছেন, কেউ ক্ষতিগ্রস্ত স্থান পরিষ্কার করেছেন, আবার কেউ আর্থিক সহায়তা ও ফুল পাঠিয়েছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ভয়েস নিউজপেপার্সকে হাসান কিলিক বলেন, ঘটনার পর কমিউনিটির মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলেও স্থানীয় মানুষের প্রতিক্রিয়া ছিল অসাধারণ। শনিবার কয়েকজন এসে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে সহযোগিতা করেন এবং পরদিন দুই ব্যক্তি এসে ফটকটি মেরামত করে দেন। কেন্দ্রটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলার পর কর্নওয়ালসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যাপক সমর্থন ও সহমর্মিতার বার্তা এসেছে। স্থানীয় রাজনীতিকরাও ঘটনাটির নিন্দা জানিয়েছেন এবং কেন্দ্রটির পাশে থাকার কথা বলেছেন। কার্নন ডাউনসের এই ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টারটি প্রায় দুই দশক ধরে মুসলিম ও অমুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। কেন্দ্রটির নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, এটি শুধু নামাজের স্থান নয়, বরং শিক্ষা, দাতব্য কার্যক্রম, সামাজিক যোগাযোগ ও বিভিন্ন কমিউনিটি সেবারও কেন্দ্র। প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯৭ সালে নিবন্ধিত দাতব্য সংস্থা হিসেবে কার্যক্রম শুরু করে এবং বর্তমানে কর্নওয়ালের একমাত্র মসজিদ হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেয়। হামলার ঘটনায় কেন্দ্রটির ক্ষয়ক্ষতি মেরামত এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য অর্থ সংগ্রহ শুরু হয়েছে। কেন্দ্রটির তহবিল সংগ্রহের পাতায় বলা হয়েছে, প্রায় ১৮ বছর ধরে এমন ঘটনার মুখোমুখি হওয়ার পর এবার ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা মেরামতের পাশাপাশি ভবিষ্যতে নিরাপত্তা জোরদার করাও তাদের লক্ষ্য। পুলিশ জানিয়েছে, হামলার সময় আশপাশে কোনো সন্দেহজনক গাড়ি বা ব্যক্তিকে দেখে থাকলে স্থানীয় বাসিন্দারা তথ্য দিতে পারেন। ডেভন অ্যান্ড কর্নওয়াল পুলিশের প্রধান সুপারিনটেনডেন্ট স্কট ব্র্যাডলি বলেছেন, তদন্ত চলাকালে এলাকায় অতিরিক্ত টহল দেওয়া হবে। এর আগে ২০০৮ সালেও একই ইসলামিক কেন্দ্রকে ঘিরে জাতিগত বিদ্বেষের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তখন ভবনটির দরজায় একটি শূকরের মাথা পেরেক দিয়ে আটকানো এবং বর্ণবাদী লেখা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। সর্বশেষ ঘটনার পর কেন্দ্রটির ইমাম হাসান কিলিক বলেন, হামলার ঘটনায় কমিউনিটি উদ্বিগ্ন হলেও তারা ঐক্য ও ইতিবাচকতার মাধ্যমে পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে চান। স্থানীয় মানুষের এই সহায়তাকে কেন্দ্রটির পক্ষ থেকে শুধু ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার সহযোগিতা হিসেবে দেখা হচ্ছে না, বরং হামলার পর মুসলিম সম্প্রদায়ের পাশে বৃহত্তর স্থানীয় সমাজের অবস্থানেরও একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পাওয়া সহায়তা তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন করে আস্থা জোগাচ্ছে। সূত্র: ভয়েস নিউজপেপার্স
জাতিসংঘকে ‘অকার্যকর সংস্থা’ বললেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট মিলেই
ফ্রান্সের সহায়তা না নিয়ে ৩০ ঘণ্টা সাগরে কাটিয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছাল ৫১ অভিবাসী
'ভারতের ট্যাক্স আমেরিকার মতো, সুবিধা বাংলাদেশের মতো’ :আশনীার গ্রোভারের
জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে জোরালো সমর্থন ব্যক্ত করেছে ফ্রান্স, কানাডা এবং যুক্তরাজ্য। পাশাপাশি গাজায় ত্রাণ প্রবেশে ইসরায়েলের বাধা দেওয়ার বিষয়টিকে বিশ্বের জন্য লজ্জাজনক বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। মঙ্গলবার সাধারণ অধিবেশনে দেওয়া এক আবেগঘন ভাষণে ম্যাক্রোঁ এই মন্তব্য করেন। তিনি এমন সময় এই ভাষণ দিলেন যখন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজা সিটিতে অন্তত তিন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। ২০২৩ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া ইসরায়েলের আগ্রাসনে গাজায় এ পর্যন্ত ৭৩ হাজার ৯০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর প্রাণ হারিয়েছেন ১ হাজার ৩৯৯ জন। ভাষণে ফরাসি প্রেসিডেন্ট স্মরণ করিয়ে দেন যে এক বছর আগে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া দেশগুলোর মধ্যে ফ্রান্সও ছিল। গাজার পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে বলেন, গাজার ভয়াবহ অবস্থার সামনে আমরা যদি নিষ্ক্রিয় থাকি তবে আমাদের আর কী গ্রহণযোগ্যতা থাকে। তথাকথিত শান্তির কথা অনেকেই বলেন, কিন্তু এই শান্তি এক সেকেন্ডের জন্যও মানবিক সহায়তার পথ খুলে দিতে পারেনি। তিনি আরও বলেন, এই লজ্জাজনক দৃশ্য কি আমাদের শুধু চেয়ে চেয়ে দেখতে হবে, কখনোই নয়। দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের প্রাত্যহিক নিয়ম লঙ্ঘনেরও কঠোর সমালোচনা করেন ম্যাক্রোঁ। তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা মনে করেন প্রতিবেশীদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করলেই ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, তারা মারাত্মক ভুল করছেন। এর ফলে ইসরায়েল বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য আরও বেশি হুমকিতে পড়বে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ফাঁকে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা নিয়ে আয়োজিত একটি বিশেষ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ম্যাক্রোঁ। তার সঙ্গে ছিলেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মাইক কার্নি এবং সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান। বৈঠকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম উপস্থিত কয়েক ডজন দেশের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বলেন, দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধান বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে তা রাজনীতিবিদদের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাকে ধ্বংস করবে। তিনি জানান, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের অবৈধ বসতির সঙ্গে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করেছে যুক্তরাজ্য। ইসরায়েলের ইওয়ান বসতি সম্প্রসারণ প্রকল্পকে দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধান আটকে দেওয়ার একটি পরিকল্পিত চেষ্টা বলে আখ্যা দেন তিনি। এই প্রকল্পের ফলে দখলকৃত পশ্চিম তীর পূর্ব জেরুজালেম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে যা ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডকে খণ্ডিত করবে। বার্নহ্যাম বলেন, আমরা এমন এক যুগে বাস করছি যেখানে রাজনীতির ওপর মানুষের আস্থা অনেক কম। দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধান নিয়ে দশকের পর দশক কথা হলেও তা বাস্তবায়নে ব্যর্থতা শুধু রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আস্থাই কমাবে। অন্যদিকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মাইক কার্নি ফিলিস্তিনিদের জন্য দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রাখতে ১০০ মিলিয়ন কানাডীয় ডলার বা ৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, এই তহবিলের ৮০ শতাংশ সরাসরি মানবিক সহায়তা হিসেবে দেওয়া হবে। বাকি ২০ শতাংশ শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যয় করা হবে যার মধ্যে দখলকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কানাডার দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গাজায় ফিলিস্তিনিদের অবর্ণনীয় মানবিক দুর্দশা এবং ইসরায়েলের ওপর হামাস ও ইরানের হুমকির কথাও উল্লেখ করেন কার্নি। যুক্তরাজ্যের মতো তিনিও ইসরায়েলের ইওয়ান বসতি প্রকল্পের সমালোচনা করেন এবং অবৈধ বসতি থেকে উৎপাদিত পণ্যের ওপর বাণিজ্য বিধিনিষেধ আরোপের কানাডার পরিকল্পনার কথা জানান। অবৈধ বসতির পণ্যের ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা দেওয়া ১২টি দেশের মধ্যে কানাডা অন্যতম। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরুর পর থেকে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের জন্য অটোয়া এখন পর্যন্ত ৬০০ মিলিয়ন কানাডীয় ডলার বা ৪২৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা
সম্মতি ছাড়া জন্ম দেওয়ায় নিজের মা-বাবার বিরুদ্ধে মামলা করার পরিকল্পনা ছেলের
মানসিক শান্তি পেতে ২০ বছরের ডাক্তারি পেশা ছেড়ে দিলেন নারী, খুললেন বান রুটির দোকান
আটক মার্কিন ডুবো ড্রোনের প্রযুক্তি রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে নকল করবে ইরান
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যেই জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে পেজেশকিয়ান ও তাঁর প্রতিনিধিদলের চলাচল কঠোরভাবে সীমিত রাখা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের বিধিনিষেধ অনুযায়ী, তাদের চলাচল মূলত জাতিসংঘ সদরদপ্তর, নির্ধারিত কূটনৈতিক স্থাপনা, নির্দিষ্ট আবাসন এবং বিমানবন্দরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। ইরানি প্রেসিডেন্টকে জাতিসংঘের অধিবেশনে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গে এই চলাচল বিধিনিষেধও রাখা হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাতিসংঘের আয়োজনে অংশ নিতে বিদেশি নেতাদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের কাজের বাইরে তাদের চলাচল সীমিত করার সুযোগও রয়েছে। এবার ইরানি প্রতিনিধিদল আগের বছরের তুলনায় ছোট রাখা হয়েছে। পেজেশকিয়ান ও তাঁর প্রতিনিধিদের নিউইয়র্কে অবাধে ঘোরাফেরা, বিভিন্ন স্থানে যাওয়া বা ব্যক্তিগতভাবে কেনাকাটার সুযোগ থাকছে না। বিশেষ করে বিলাসী পণ্য কেনার ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ইরানি কর্মকর্তাদের নিউইয়র্কে চলাচলের ওপর এমন বিধিনিষেধ নতুন নয়। ২০২৪ সালে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল, ইরানি প্রতিনিধিদলের চলাচল জাতিসংঘ সদরদপ্তর, নিউইয়র্কে ইরানের মিশন, ইরানি রাষ্ট্রদূতের বাসভবন এবং জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মধ্যে সীমিত করা হয়েছিল। চলতি বছর পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক সংঘাতের কারণে। এর মধ্যেই পেজেশকিয়ানের জাতিসংঘ সফরকে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাব্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। রয়টার্স জানিয়েছে, ইরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে এবং জাতিসংঘের অধিবেশনের সময় কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মঙ্গলবার জানিয়েছেন, জাতিসংঘের অধিবেশনের সময় ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে ওয়াশিংটন উন্মুক্ত রয়েছে। তবে এ মুহূর্তে কোনো বৈঠক নির্ধারিত হয়নি। রুবিও বলেছেন, এমন আলোচনা তখনই অর্থবহ হবে যখন তা বাস্তব কোনো ফলাফলের দিকে এগোতে পারে। পেজেশকিয়ান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ইরানের অবস্থান তুলে ধরবেন। ইরানি প্রেসিডেন্ট নিউইয়র্কে যাওয়ার আগে বলেছেন, আন্তর্জাতিক ফোরামে তাঁর দেশ নিজেদের অবস্থান দৃঢ়ভাবে তুলে ধরবে। একই সময়ে ইরানের প্রতিনিধিদল বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের সুযোগও খুঁজছে। জাতিসংঘের এবারের অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। ফলে কঠোর চলাচল বিধিনিষেধের মধ্যেও পেজেশকিয়ানের নিউইয়র্ক সফরকে ঘিরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক নজর রয়েছে।
কানাডায় টিউটরের শেষ পাবলিক শো শেষ, ক্যালগেরিতে শেষবার দেখা দেবে স্নোবার্ডস
ইরান যুদ্ধ ও কূটনীতির টানাপোড়েনে বিশ্ববাজারে ওঠানামা করছে তেলের দাম